Author: banglarmukh official

  • বিশ্বকাপের প্রাথমিক দল ঘোষণা রাশিয়ার

    বিশ্বকাপের প্রাথমিক দল ঘোষণা রাশিয়ার

    বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে রাশিয়া। স্বাগতিকদের কোচ স্তানিসলাভ চেরচেসভ শুক্রবার ৩৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন। ভিক্টোর ভাসিন ও জর্জি জিকিয়াকে বাদ দিয়েই তালিকা তৈরি করতে হয়েছে রুশ কোচকে। ইনজুরিতে থাকায় এ দুই ডিফেন্ডার ছিটকে গেছেন বিশ্বকাপের প্রাথমিক দল থেকে।

    স্বাগতিক ফুটবলাররা তাদের ৫৪ বছর বয়সী কোচ স্তানিসলাভ চেরচেসভের অধীনে অনুশীলন শুরু করবেন ১৮ মে নভোগরস্কে। তবে ৩৫ জনের মধ্যে ২৮ জন নিয়ে অনুশীলন শুরু করবেন কোচ। বাকি ৭ জনকে তিনি রেখেছেন রিজার্ভ হিসেবে।

    বিশ্বকাপের আগে রাশিয়া দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ৩০ মে অস্ট্রিয়ার এবং ৫ জুন তুরস্কের বিরুদ্ধে। বিশ্বকাপে রাশিয়া আছে ‘এ’ গ্রুপে। প্রতিপক্ষ সৌদি আরব, মিশর ও উরুগুয়ে। সৌদি আরব আর রাশিয়ার ম্যাচ দিয়েই বিশ্বকাপ উদ্বোধন হবে ১৪ জুন মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে।

    বিশ্বকাপে রাশিয়ার প্রাথমিক দল

    গোলরক্ষক : ইগোর আকিনফেভ, ভ্লাদিমির গাবুলভ, সসলান জাহানায়েভ, আন্দ্রে লুনিয়ভ।

    রক্ষণভাগ : ভ্লাদিমির গ্রানাত, রুসলান কামবলভ, ফেদর কুদরিয়াসভ, লিয়া কুতেপভ, রোমান নিউসতাদতের, কনস্টান্টিন রাউস, আন্দ্রে সেমেনভ, ইগোর স্মলনিকভ, মারিও ফার্নান্দেস।

    মধ্যমাঠ : ইউরি গাজিনস্কি, আলেকজান্ডার গলোভিন, অ্যালান জাগোয়েভ, আলেকজান্ডার ইরোখিন, ইউরি ঝিরকভ, দালের কুজইয়ায়েভ, রোমান জবনিন, আলেকজান্ডার সামেদভ, অ্যান্তন মিরানচুখ, আলেকজান্ডার তাশায়েভ, ডেনিস চেরিশেভ।

    আক্রমণভাগ : আর্তেম জুভা, আলেক্সে মিরানচুক, ফেদর স্মলভ ও ফেদর সালভ।

    রিজার্ভ : মার্তেল্লো গুইলহেরমে, ভ্লাদিস্লাভ ইগনাতায়েভ, দিমিত্রি কমবারভ, ডেনিস গ্লুশাকভ, অ্যান্তন শভেটস, অ্যান্তন জাবোলোনতি ও দ্রিমিত পোলোজ।

  • খুলনায় প্রচারণার অস্ত্র পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

    খুলনায় প্রচারণার অস্ত্র পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

    পাল্টাপাল্টি অভিযোগে জমে উঠেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা।

    বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করে বলেছেন, পুলিশি নির্যাতন, অপ্রচারের মাধ্যমে আরও একবার সরকারের দানবীয় চেহারা ফুটে উঠেছে। নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে শেখ হাসিনার পরিবারের লোক নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে বসে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের ডেকে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। প্রতিদিনই নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশির নামে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। ডিবি পুলিশ, থানা পুলিশ ও আওয়ামী লীগ একই সুরে কথা বলছে।

    শুক্রবার সকাল ৮টায় নগরীর মিয়াপাড়ায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ করেন মঞ্জু।

    তিনি বলেন, আমি একজন মেয়র প্রার্থী। আমার কাজ হচ্ছে ভোট প্রার্থনা করা। এই মুহূর্তে আমার ভোটারের কাছে থাকার কথা ছিল। তা না করে আমাকে আবারও সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করতে হয়েছে। কারণ এই সিটি নির্বাচনে সরকারের দানবীয় চেহারা আবারও ফুটে উঠেছে।

    বিএনপির মেয়র প্রার্থী বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে পুলিশ আবারও নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান পারিচালনা করছে। গভীর রাত পর্যন্ত আমাকে মহানগরীর থানায় থানায় ঘুরতে হয়েছে। একদিকে ডিবি নামক আতঙ্ক, অন্যদিকে থানা পুলিশ। তিনি বলেন, আমাদের মিছিল বড় হচ্ছে, জমায়েত বড় হচ্ছে। এটাই সরকারের মাথা ব্যাথার কারণ।

    তিনি গ্রেফতারকৃত বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান।

    আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে খুলনায় ভোট পর্যবেক্ষণে আসার আহ্বান জানান তিনি।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ প্রচার সম্পাদক কৃষিবীদ শামীমুর রহমান শামীম, বিজেপির মহানগর সভাপতি এ্যাড. লতিফুর রহমান লাবু জামায়াতের মহানগর শাখার সহকারি সেক্রেটারি এড. শাহ আলম, নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফকরুল আলম, বিএনপি নেতা এহতেশামুল হক শাওন উপস্থিত ছিলেন।

    অপরদিকে মঞ্জুর অভিযোগের জবাবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়কারী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এসএম কামাল বলেছেন, নজরুল ইসলাম মঞ্জুর বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে তিনি নিজেই জঙ্গি এবং জামায়াত-শিবিরের পৃষ্ঠপোষক।

    তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি প্রার্থী নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারদের জড়ো করছেন।

    বেলা ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসএম কামাল বলেন, বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু আমাকে জঙ্গির হুমকি দিয়েছেন। এতেই বোঝা যায় তারাই জঙ্গির পৃষ্ঠপোষক আর বিএনপি আমলেই খুলনা সন্ত্রাসের নগরীতে পরিণত হয়েছিল।

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি দীর্ঘ সময় ধরে দেশের ক্ষমতায় ছিল। কিন্তু তারা দেশবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। বিএনপি এখন বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো একটি অকার্যকর দেশে পরিণত করতে চাইছে।

  • গায়ের চামড়া খসে পড়ছে জাহাঙ্গীরের

    গায়ের চামড়া খসে পড়ছে জাহাঙ্গীরের

    সারা গায়ের চামড়া-মাংস শক্ত হয়ে খসে খসে পড়ছে জাহাঙ্গীরের। অর্থাভাবে চিকিৎসা নেই। বিরল এই রোগের কারণে স্ত্রীও তাকে ত্যাগ করে চলে গেছে। এখন অসহায় অবস্থায় বৃদ্ধা মায়ের আঁচলের তলে মৃত্যুর অপেক্ষা করছেন তিনি।

    চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা করা হলে হয়তো সুস্থ হতে পারে জাহাঙ্গীর। কিন্তু সেই চিকিৎসা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। তাই বেঁচে থাকার দুয়ার যেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে তার।

    যশোর শহরের রেলগেট পশ্চিমপাড়ায় রেললাইনের পাশেই টিনের একটি ঘরের মধ্যেই দিন কাটে জাহাঙ্গীরের (৩৬)। ওই এলাকার মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর ছিলেন যশোর-বেনাপোল রুটের বাসের চালক।

    তিনি জানান, প্রায় ১২ বছর আগে তার বাম হাতে কালো একটি স্পট দেখা দেয়। এরপর আস্তে আস্তে সেটি বড় ও শক্ত হয়ে যায়। প্রথম পর্যায়ে এই অবস্থা হাতে ও পিঠে থাকলেও গত ৩/৪ বছর হলো তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। এখন সারা শরীরের চামড়া ও মাংস শক্ত হয়ে পচন ধরেছে। গোটা শরীরেই তার দগদগে ঘা। এই অবস্থায় গত এক বছর ধরে ওই ছোট্ট ঘরই তার দুনিয়া। কষ্ট ও যন্ত্রণা নিয়ে ওই ঘরেই জীবন কাটে তার।

    Jessore-birol-disase-1

    কিন্তু দিন এমন ছিল না জাহাঙ্গীরের। তিনি জানান, যশোর-বেনাপোল রুটের বাস চালিয়ে তাদের জীবন ও সংসার ভালোই কেটে যেতো। এরই মধ্যে ৮ বছর আগে একই এলাকার শিউলি খাতুনকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর তাদের ছেলেও হয়। তার নাম রাখেন পরশ। কিন্তু এরই মধ্যে জাহাঙ্গীরের দেহে বিরল এই রোগ আরও বিস্তার লাভ করতে শুরু করে। রোগের কারণে বছর চারেক আগে স্ত্রী শিউলিও তাকে ত্যাগ করে ছেলে নিয়ে চলে গেছে। নতুন করে সে (স্ত্রী) বিয়েও করেছে। এখন মা জয়গুন নেছাই তার শেষ আশ্রয়।

    জয়গুন নেছা জানান, সারা গায়ে এই রোগের কারণে জাহাঙ্গীর নড়াচড়াও করতে পারে না। সারাদিন এভাবেই বসে থাকে। খাটের উপরেই তার বাথরুম করতে হয়।

    কান্না কণ্ঠে বাংলার মুখকে  তিনি বলেন, আগে ছেলের আয়ে সংসার চলতো। এখন সে বিছানায়। আরেক মেয়ে বাসা-বাড়িতে কাজ করে যে আয় করে তার সঙ্গে আত্মীয়-স্বজন প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাদের কোনো মতে দিন চলে। তাই চিকিৎসা আর করা হয়ে ওঠে না জাহাঙ্গীরের।

    ওই এলাকার সমাজকর্মী তোফাজ্জেল হোসেন মানিক জানান, ডা. সৈয়দ আল-আমিন, ডা. লতিফ উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ’র কাছে জাহাঙ্গীরকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারা বলেছেন, এই রোগের চিকিৎসা যশোরে হবে না। তাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে হবে। সেটি ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। এরপর আর অর্থাভাবে চিকিৎসা হয়নি তার।

    কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাংলার মুখকে জাহাঙ্গীর বলেন, ভালো মানুষগুলো যদি সাহায্য সহযোগিতা করে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতো তাহলে হয়তো আমাকে এভাবে যন্ত্রণায় দিন কাটাতে হতো না। এজন্য তিনি সকলের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে এই ০১৭৬২-৬১২৮৯১ নম্বরে।

  • ধানমন্ডিতে গাছচাপায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা নিহত

    ধানমন্ডিতে গাছচাপায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা নিহত

    রাজধানীর ধানমন্ডি লেকে একটি গাছের চাপায় মোস্তাফিজুর রহমান নামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

    শুক্রবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মোহাম্মদপুরের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কেটে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে।

    ফুলবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার কামরুল হাসান এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

    এদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, মোস্তাফিজুর রহমান বিআইডিএ’র প্রকৌশলী। তিনি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অ্যাটাচমেন্টে ছিলেন।

  • পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর কন্যার পাশে থাকা পরিবারের সন্তান আমি : জাকির

    পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর কন্যার পাশে থাকা পরিবারের সন্তান আমি : জাকির

    ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেছেন, ‘১৯৭৫ এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারকে হত্যা করা হয়। সেসময় বিদেশে বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে ছিল আমার পরিবার। আমি সিলেটের সেই পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। সে পরিবারের সন্তান হিসেবে আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন কর্মী থেকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।’

    শুক্রবার রাজধানীতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পেশের সময় এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে মঞ্চে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    জাকির বলেন, ‘জননেত্রীর দেয়া দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের চেষ্টা করেছি। জানি না আমরা কতটুকু সফল হয়েছি। ছাত্রলীগকে গ্রাম-গঞ্জে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করেছি। যে কাজ করেছি তার সব কর্তৃত্ব আপনাদের (ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের)। তারপরও যদি কোনো ভুল থাকে তা আমি ও আমার সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ মাথা পেতে নিচ্ছি।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর ৯ মাসের মধ্যে ১০৯টি শাখার কমিটি গঠন করি। প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলায় কমিটি গঠন করেছি। নতুন করে ৭০২টি পৌরসভার কমিটি দিয়েছি।

    এ সময় সংগঠনটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে গেছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রলীগ পাশে ছিল। মাদক ও জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করার জন্য কাজ করেছি। পাশাপাশি ছাত্রলীগকে সচেতন করার জন্য চেষ্টা করেছি।’

    ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি শেখার পাঠশালা হচ্ছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তিনটি কাজ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা। এই তিনটি কাজ করলে আপনারা পরাজিত হবেন না। ভালো ছাত্র হয়ে ছাত্রলীগ পরিচালনা করতে হবে।’

  • ফের সরব গাজীপুরের নির্বাচনী মাঠ

    ফের সরব গাজীপুরের নির্বাচনী মাঠ

    চারদিনের থমথমে পরিবেশ কাটিয়ে ফের সরগরম হয়ে উঠেছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মাঠ। গত চারদিন সর্বত্র বিরাজ করছিল এক শোকাবহ অবস্থা। মেয়র, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের কর্মী-সমর্থকরা ভেঙে পড়েছিলেন অনেকটাই।

    জানা যায়, অনেক প্রার্থী তাদের নির্বাচনী বাজেট প্রায় খরচ করে ফেলেছিলেন। এমন সময় নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণায় তাদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। পরে মেয়র প্রার্থীরা উচ্চ আদালতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে গেলে সব প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের দৃষ্টি ছিল সুপ্রিম কোর্টের দিকে। চারদিনের প্রতীক্ষা শেষ হয় বৃহস্পতিবার দুপুরে। সুপ্রিম কোর্ট ২৮ জুনের মধ্যে ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিলে সবার মনে স্বস্তি ফিরে আসে।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী জানান, নির্বাচনে যে বাজেট নিয়ে নেমেছিলেন তার বেশিরভাগই খরচ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে তারিখ দিলে ফের নতুন করে খরচ করতে হবে।

    আবার কয়েকজন প্রার্থী জানান, তাদের নতুন করে নির্বাচনী খরচ জোগাড় করতে হবে। কী করবেন বুঝে উঠতে পারছেন না। তবে সব প্রার্থীই নির্বাচনী মাঠে থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

    আদালতের রায় শোনার পর থেকে অনেকে বিভিন্ন মিডিয়া, নিজ ফেসবুক ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মন্তব্য দিতে শুরু করেন। তবে কেউ কেউ ২৮ জুনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছেন। কারণ হিসেবে ওই সময়ে তারা আসন্ন নির্বাচনের সময় বৃষ্টিপাত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

    এদিকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক স্থগিত হলে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে আবার সরব হয়ে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও ভোটাদের মাঝে দেখা দেয় আনন্দের ঝিলিক। আদেশকে স্বাগত জানিয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা, বোর্ড বাজার ও টঙ্গীতে মিছিল বের করেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে নগরীর কোথাও কোনো প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা করতে দেখা না গেলেও কোনো কোনো ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীরা ঘরোয়া প্রচারণা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

    আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম আদালতের আদেশকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নির্বাচন বন্ধের গভীর ষড়যন্ত্র হয়েছিল। গাজীপুরের মানুষ নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে ষড়যন্ত্রকারী ও অপপ্রচারকীদের বিরুদ্ধে দাঁতভাঙা জবাব দেবে।

    সন্ধ্যায় মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম গাজীপুর জেলা শহরে দলীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য বক্তব্য রাখেন। নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণার পর তিনি পুরোদমে, নতুন উদ্যামে নির্বাচনী কাজে নেমে যাওয়ার আহ্বান জানান।

    অপরদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার আদেশে সন্তোষ প্রকাশ করে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন। এসব দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের নামে গত রোববার করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গণগ্রেফতার বন্ধ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি। এছাড়াও তিনি নতুন ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় কর্মী সমর্থক ও ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

    গাজীপুর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মন্ডল জানান, আগামী ১৩ মে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ওই দিন বিকেল তিনটায় এ বিষয়ে কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হবে।

    তিনি জানান, এ নির্বাচনের জন্য নতুন করে তফসিলের প্রয়োজন হবে না। কেবলমাত্র ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।

    উল্লেখ্য, আগামী ১৫ মে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি এগিয়ে নেয় নির্বাচন কমিশন। সে অনুযায়ী প্রার্থীরাও প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন। জমেও উঠেছিল প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীদের রাত-দিন প্রচারণার পাশাপাশি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন নিয়ে ব্যস্ত ছিল নির্বাচন কমিশনের কর্তা-ব্যক্তিরা। এরই মধ্যে সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবিএম আজহারুল ইসলাম সুরুজ একটি রিট আবেদন করলে হাইকোর্ট গত ৬ মে এ সিটির নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করে দেন। আদালতের ওই আদেশে হঠাৎ করে থেমে যায় প্রার্থীদের সকল ব্যস্ততা।

  • আদর্শহীন রাজনীতি কোনো রাজনীতি নয় : প্রধানমন্ত্রী

    আদর্শহীন রাজনীতি কোনো রাজনীতি নয় : প্রধানমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম ও অর্জনে ছাত্রলীগের ভূমিকা রয়েছে। আদর্শহীন রাজনীতি কোনো রাজনীতি নয়। আদর্শ নিয়ে এগিয়ে গেলে অবশ্যই তাতে দেশের মানুষের কল্যাণ হবে। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেশকে ভালোবাসতে হবে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। তিনি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে মেনে চলতে এবং নিজ নিজ ক্যাম্পাসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

    শুক্রবার বিকেলে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথমে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী দ্বি-বার্ষিক এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

    ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী ২০১৫-২০১৮ বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করেন শেখ হাসিনা। পরে ছাত্রলীগের দুই নেত্রী প্রধানমন্ত্রীকে ব্যাজ পরিয়ে দেন। এরপরে সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করা হয়, “ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এ বসুন্ধরা”গানটি।

    ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মনে রাখতে হবে, ছাত্র রাজনীতি আমরা করব। কিন্তু শিক্ষা গ্রহণ করাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় এবং সবার আগের কাজ। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ বই দু’টি পড়ার পরামর্শ দেন এবং দেশকে ভালাবাসার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেয়ার কথা বলেন।

  • আজ রাতে আবার যাত্রা

    আজ রাতে আবার যাত্রা

    দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের জন্য নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিনগত রাত ২টা ১৪মিনিট থেকে পরবর্তী দুই ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে।

    এর আগে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড-৩৯ এ থেকে কক্ষপথে উড়াল দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও প্রাথমিক কাজ শুরুর পর কারিগরি ত্রুটির কারণে একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে তা একদিনের জন্য পিছিয়ে দেয় স্পেসএক্স।

    স্পেসএক্স বলছে, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪মিনিট থেকে পরবর্তী দুই ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের কাজ আবারও শুরু হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও একই কথা জানিয়েছেন। তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘উৎক্ষেপণের শেষ মুহূর্তগুলো কম্পিউটার দ্বারা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। হিসেবে যদি একটুও এদিক সেদিক পাওয়া যায়, তাহলে কম্পিউটার উৎক্ষেপণ থেকে বিরত থাকে। আজ যেমন নির্ধারিত সময়ের ঠিক ৪২ সেকেন্ড আগে নিয়ন্ত্রণকারী কম্পিউটার উৎক্ষেপণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। স্পেসএক্স সবকিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আগামীকাল একই সময়ে আবারও আমাদের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বহনকারী রকেটটি উৎক্ষেপণের চেষ্টা চালাবে। যেহেতু এই ধরণের বিষয়ে কোনো ঝুঁকি নেয়া যায় না, সেহেতু উৎক্ষেপণের মোক্ষম সময়ের জন্য অপেক্ষা করা খুবই সাধারণ বিষয়, চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।’

    এদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর এক মিনিটেরও কম সময় আগে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর কাউন্টডাউন স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ ব্লক ফাইভ রকেটের মহাকাশে প্রথম যাত্রার কাউন্টডাউন পুনরায় শুরু অথবা অন্যদিনের জন্য উৎক্ষেপণ বাতিল করবে কি না তা এখনো পরিষ্কার নয়।

    গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ ঠিক করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে হারিকেন আরমা আঘাত হানে। এতে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দেয়া হয়।

    পরে ৫ মে উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এবারও তারিখ পিছিয়ে ৭ মে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এদিনও আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকতে পারে এমন আশঙ্কায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয়া হয়। তার আগে ৪ মে (শুক্রবার) বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর পরীক্ষামূলক সফল উৎক্ষেপণ চালানো হয়।

    ওইদিন অরল্যান্ডোর কেনেডি স্পেস সেন্টারে সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালানো হয় ফ্যালকন-৯ রকেটের। এসময় কেনেডি স্পেস সেন্টারের ব্লক ৫ থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।

    পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পর তথ্য পর্যালোচনা করে স্পেসএক্স। ফলাফল ইতিবাচক হওয়ায় ১০ মে বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে ডানা মেলবে বলে জানায়।

    উল্লেখ্য, স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে পাঠানোর লক্ষ্যে রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাশিয়ার কাছ থেকে মহাকাশের ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমায় দুই কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি প্রায় ২১৯ কোটি টাকায়) কেনা হয়েছে এ স্লট।

  • বঙ্গবন্ধু-১ এর আওতায় থাকবে মুম্বাই থেকে মিন্দানাও

    বঙ্গবন্ধু-১ এর আওতায় থাকবে মুম্বাই থেকে মিন্দানাও

    কারিগরি সমস্যার কারণে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ এর উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হলেও আজ (শুক্রবার) ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় ৪টা ২০ মিনিটে আবারও উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে কেনেডির স্পেস সেন্টার। সব কিছু ঠিক থাকলে নির্দিষ্ট সময়েই ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইট বহনকারী রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হবে।

    বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি মহাকাশে ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করবে। ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাশিয়ান ইন্টারস্পুটনিকের আওতাধীন কক্ষপথটি (অরবিটাল স্লট) ভাড়া নেয়ার বিষয়ে রাশিয়ার সাথে চুক্তি করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ১৫ বছরের জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে এ অরবিটাল স্লট ভাড়া নেয়ার পর ওই বছরই ‘বঙ্গবন্ধু-১’ উৎক্ষেপণে মূল পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল (এসপিআই) কাজ শুরু করে।

    থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটির জন্য কেনা কক্ষপথটি ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে হলেও বাংলাদেশের অবস্থান ৯০ ডিগ্রির আশপাশ ঘিরে। এ কারণে বঙ্গবন্ধু-১ উপগ্রহের কভারেজ অঞ্চল হবে কিছুটা পূর্বমুখী। ফলে স্যাটেলাইটটির আওতায় থাকবে ভারতের মুম্বাই থেকে ফিলপিনের মিন্দানাও দ্বীপ পর্যন্ত।

    বঙ্গোপসাগরের পুরো এলাকাসহ এ সীমানার ভেতরে থাকবে ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়ায় ও ফিলিপাইনের বিস্তির্ণ এলাকা। এছাড়া তুর্কিমেনিস্থান ও কাজাখাস্থানের কিছু অংশও বঙ্গবন্ধু-১ এর কভারেজ অঞ্চল হিসেবে পরিগণিত হবে। এসব এলাকায় বঙ্গবন্ধু-১ ‘কিউ-ব্যান্ড’ কভারেজ এবং ‘সি-ব্যান্ড’ সুবিধা প্রদান করবে।

    ব্যবসায়িক কারণে স্যাটেলাইটটি পূর্বমুখী অবস্থানের স্লট কেনা হয়েছে বলা হলেও একটি নির্ভরযোগ্য  সূত্র বাংলার মুখকে জানায়, বাংলাদেশের অবস্থানকে ঘিরে কোনো স্লট খালি না থাকায় পূর্ব দিকে সরে গিয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে স্লটটি নেয়া হয়। এছাড়া অবস্থানগত কারণে মধ্যপ্রাচ্য দেশগুলোর সাথে যোগাযোগে সমস্যা হলেও কোনো উপায়ও ছিল। কারণ, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্লট নেয়ার প্রস্তাব করা হলে সে সময় বিভিন্ন দেশ থেকে আপত্তি তোলা হয়।

    ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নে (আইটিইউ) অরবিটাল পজিশন ৬৯ ও ১০২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে পাওয়ার জন্য ২০০৭ সালে আবেদন করেছিল বাংলাদেশ। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল, জাপান, সাইপ্রাস, আর্মেনিয়া ও উজবেকিস্তান তাতে আপত্তি জানায়। প্রক্রিয়াগত কারণে এ ধরনের আপত্তি অস্বাভাবিক না হওয়ায় ইন্টারস্পুটনিকের সঙ্গে সমঝোতায় আসে বাংলাদেশ।

    থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস বলছে, স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্দু-১’ থেকে রাজস্ব আয় করে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে বাংলাদেশ। বর্তমানে ব্রডকাস্টিং সেবা পেতে বিদেশি উপগ্রহ থেকে ট্রান্সপন্ডার ভাড়া নিতে হয়। বঙ্গবন্ধু-১ চালু হলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার পরিষেবার দেশের কর্তৃত্ব অর্জন করবে। একই সঙ্গে নেপাল, মিয়ানমার বা ভুটানের মতো বিভিন্ন বিদেশি দেশগুলোতে সরবরাহের সুবিধা প্রদান করতে পারবে।

    media

    মহাকাশ গবেষক মো. আব্দুল বাকী চৌধুরী নবাব জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে। মিয়ানমার সম্প্রতি বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট নিয়ে কাজ শুরু করেছে। নেপাল ও ভুটানও কাজ করছে ন্যানো স্যাটেলাইট নিয়ে। এছাড়া অনেক দেশেরই নিজস্ব স্যাটেলাইট নেই। মহাকাশে ৪০টি দেশের হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট থাকলেও এর মধ্যে অব্যবহৃতই রয়েছে শ’খানেক। মহাকাশে এখন পর্যন্ত ছয় হাজার ৬শ’ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপিত হয়েছে। আর এর সাথে যোগ হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’।

    তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে চলমান টেলিভিশন চ্যানেল, টেলিফোন ও রেডিওগুলোর ক্ষেত্রে বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে। এ কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশকে প্রায় ১১০ কোটি টাকা ভাড়া গুণতে হয়। বঙ্গবন্ধু-১ চালু হলে দেশের এ টাকা সাশ্রয় হবে এবং একই সঙ্গে নিজস্ব স্যাটেলাইট ব্যবহার করে টিভি ও রেডিও চ্যানেল, টেলিফোন, মোবাইল, ইন্টারনেট সেবা, নেভিগেশন জ্যোতিবিজ্ঞান গবেষণা, সামরিক প্রয়োজনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুফল পাবে বাংলাদেশ।

    এছাড়া মাটি বা পানির নিচে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজ, ছবি তোলা, সংবেদনশীল তথ্যাদি, ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস,
    পারমাণবিক বিস্ফোরণ ও আসন্ন হামলা ছাড়াও সেনাবাহিনী ও অন্যান্য ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা, খনিজ পদার্থ ডিজিটাল ম্যাপ তৈরি করাসহ অত্যাধুনিক অনেক কাজে বাড়তি সুবিধা বয়ে নিয়ে আসবে দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১।

  • বরিশালে ইয়াবা ও মরফিন সহ কমিশনারের মেয়ে আটক

    বরিশালে ইয়াবা ও মরফিন সহ কমিশনারের মেয়ে আটক

    বরিশালে ইয়াবা,মরফিন সহ সাবেক কাউন্সিলর হান্নুর মেয়ে ফাবিহা মিনহা বর্ষ কে আটক করেছে পুলিশ।

    আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে নগরীর ফলপট্টি মোড় থেকে ১০ পিচ ইয়াবা ও ২ টি মরফিন ইনজেকশন সহ বর্ষ কে আটক করে কোতয়ালি মডেল থানার এস আই মহিউদ্দিন (পিপিএম)।

    এস আই মহিউদ্দিন জানান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালালে বর্ষ ‘র ব্যাগে ইয়াবা ও মরফিন পাওয়া যায়। এর আগেও একাধিক বার মাদক সহ আটক হয় বর্ষ ও হান্নু কমিশনারের অপর দুই কন্যা।

    এ ঘটনায় এস আই মহিউদ্দিন বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন।