Author: Banglarmukh24

  • দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করবো-সাদিক আবদুল্লাহ

    দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করবো-সাদিক আবদুল্লাহ

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেছেন, বরিশালবাসী তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। নগরের প্রত্যেকটি পরিবার এখন তার পরিবার, তিনি সব নাগরিকের প্রতিনিধি। দলমত নির্বিশেষে তিনি সবার হয়ে কাজ করবেন। নগর ভবনে সবাই সমান সেবা পাবেন।

    বিএনপির দুর্গে দীর্ঘ প্রায় ৩৪ বছর পর ২০০৮ সালের সিটি নির্বাচনে বরিশালে জয় পেয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক প্রয়াত মেয়র শওকত হোসেন হিরন। পাঁচ বছর পর ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে আবার নগর ভবনের প্রধান চেয়ারটি চলে যায় বিএনপির দখলে। সোমবারের ভোটে ফের নগরপিতা হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    ২০১৬ সালে বরিশাল মহানগর কমিটিতে পদ পান সাদিক আবদুল্লাহ। মূলত তখন থেকেই তিনি মেয়র পদে প্রার্থিতার প্রস্তুতি শুরু করেন। এর আগেই নগর রাজনীতিতে গড়ে তোলেন শক্ত অবস্থান। বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সেরনিয়াবাত পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের এই প্রতিনিধি স্থানীয় রাজনীতিতে ‘যুবরত্ন’ হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনের মাঠে ‘নতুন মুখ’ হলেও গত কয়েক বছরে দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ঝলক দেখিয়ে সাদিক আবদুল্লাহ ছিলেন বরিশাল নগরীর সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাতসহ ‘৭৫-এর ১৫ আগস্টের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, বিজয়ের সব কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। গোটা দক্ষিণাঞ্চলসহ সারাদেশে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে উন্নয়ন হয়েছে, সে উন্নয়নে আস্থা রেখে বরিশাল নগরবাসী নৌকায় ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করেছে। নগরবাসীর এ রায়কে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে তিনি নগরীর উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন বলেও অঙ্গীকার করেন। নবনির্বাচিত এ মেয়র বলেন, সাবেক মেয়র মরহুম শওকত হোসেন হিরন বরিশাল নগরীতে যে উন্নয়ন করেছেন তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করে পরিকল্পিত উন্নয়ন করা হবে। এ ব্যাপারে তিনি নগরীর অভিজ্ঞ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণ করবেন অকাতরে।

    গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর কালীবাড়ি সড়কের বাসভবনে বসে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, ২০১৩ সালে শওকত হোসেন হিরনকে ভোট না দিয়ে গত পাঁচ বছর নগরবাসী যে দুর্ভোগ পেয়েছেন সে জন্য এখন তারা দুঃখ প্রকাশ করছেন। আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নগরবাসীর মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান করা। বিশেষ করে পানি সংকট ও জলাবদ্ধতা দূর করা। নগর পরিকল্পনাবিদদের পরামর্শ নিয়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে টেকসই উন্নয়ন করতে চাই।

    নগর ভবনের নানাবিধ অনিয়ম-দুর্নীতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, আমি সোজা ও সৎ পথে চলি। নিজে কখনও দুর্নীতি করিনি, ভবিষ্যতেও করব না। নগর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আমার আহ্বান, তারাও যেন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করেন। অতীতে কাউন্সিলররা করপোরেশনের উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারি করতেন, সে সুযোগ কাউন্সিলররা পাবেন কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলীয় কাউন্সিলরদের প্রতিও আমার অনুরোধ থাকবে কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যাতে নবনির্বাচিত নগরপরিষদ জড়িত না হয়। এ প্রসঙ্গে সাদিক বলেন, বিজয়ী অভিজ্ঞ এবং পুরনো কাউন্সিলরদের পরামর্শ নিয়ে এবং তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নগর ভবনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই। করপোরেশন পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনি যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা ষোলোআনা অনুসরণ করা হবে। এর বাইরে কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না। কেউ বাড়তি কোনো সুযোগও পাবে না।

    দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভোলার গ্যাস বরিশালে সরবরাহের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী বরিশালের জনসভায় ভোলার গ্যাস বরিশালে সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ওই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বরিশালে গ্যাস আনার জন্য পাইপলাইনের কাজও শুরু হয়েছে। বরিশালে যাতে অল্প সময়ের মধ্যে বাণিজ্যিক এবং আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয় সে জন্য সংশ্নিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরগুলোতে তিনি যোগাযোগ করবেন।

    সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়- এ কথা ভোটারদের বলে নির্বাচনের প্রধান প্রতিপক্ষ সরোয়ার কাকু নগরীতে হৈচৈ তুলেছিলেন। ওই প্রচারণায় নগরবাসীর সহমর্মিতা তার প্রতি আরও বেড়েছে; পাশাপাশি প্রত্যাশাও বেড়েছে বহুগুণ। নগরবাসী মনে করেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় বিধায় তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বেশি পূরণ করতে পারব। সাদিক আবদুল্লাহ তার বাবার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে আওয়ামী রাজনীতির অভিভাবক কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর পরামর্শ ও নির্দেশনা নিয়ে বরিশাল বিভাগীয় শহরকে তথ্যপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ ডিজিটাল নগরীতে পরিণত করা হবে। দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে সর্বদা এ অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশার প্রতি আকাত্ম থাকব এবং যে কোনো অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরিক হবো।

    নাগরিক সুবিধা না পেয়েও নগরের বর্ধিত এলাকার বাসিন্দারা অসহনীয় করের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে কী উদ্যোগ নেবেন জানতে চাইলে নবনির্বাচিত মেয়র বলেন, মাঠ পর্যায়ে জরিপ না করে বর্তমান মেয়র নগরীতে বিভিন্ন ধরনের কর ৩০ থেকে ৫০ গুণ বৃদ্ধি করেছেন। স্থান ও অবস্থান ভেদে ওই কর যথাযথভাবে নির্ধারণ হয়নি। মাঠ পর্যায়ে জরিপ করিয়ে কর ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করা হবে। সাদিক বলেন, নতুন কোনো কর আরোপ করব না। নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত নগরবাসীকে বাড়তি করের বোঝা থেকে মুক্ত করা হবে। যারা পানি পান না, তারা কেন পানির ট্যাক্স দেবেন। করপোরেশন নগরবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করতে পারে না।

    প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশাল নগরীর খাল ও পুকুর রক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানতে চাইলে সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, বরিশাল নগরের পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা করব। নগরের খালগুলো ভরাট এবং দখলের সঙ্গে অনেক রাঘববোয়াল জড়িত। মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করে খালগুলো দখলমুক্ত করা হবে। জলাধার রক্ষার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নগরী গড়তে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল গড়িয়ার পাড়ে স্থানান্তর করা হবে। নগরীতে দিন দিন জনবসতি বাড়ছে জানিয়ে সাদিক বলেন, বর্ধিত জনসংখ্যার বিষয়টি পরিকল্পনায় রেখে সব উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে, যাতে নগরীর প্রকৃত চরিত্র বজায় থাকে। যত্রতত্র দালানকোঠা তৈরি করতে দেওয়া হবে না। নগরীর পূর্বাংশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কীর্তনখোলা নদীর তীর যতটুকু সিটির আওতায় পড়েছে তার ওপর ‘মেরিন ড্রাইভের’ আদলে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে নগরবাসীর সহায়-সম্পদ রক্ষা এবং বিনোদনের ব্যবস্থা করা হবে।

    সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল নগরীর কলোনিগুলোর (বস্তি) বাসিন্দাদের উন্নত জীবনযাপন নিশ্চিত করতে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, বরিশাল নগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য ‘নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ নেই। দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই সংশ্নিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলে যোগাযোগ করব বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের জন্য, যাতে সব ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পিত ও টেকসইভাবে করা সম্ভব হয়। সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ তাকে ভোট দিয়ে নগরবাসীর সেবা করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বরিশাল নগরের সর্বস্তরের বাসিন্দার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমি নগরবাসীর এ রায়কে সর্বদা মর্যাদার আসনে রাখব।

  • পাথরঘাটায় সেই ৫ জেলেকে ফেরত দিয়েছে জলদস্যুরা

    পাথরঘাটায় সেই ৫ জেলেকে ফেরত দিয়েছে জলদস্যুরা

    সমুদ্রে ডুবে যাওয়া জেলেদের মধ্যে পাঁচ জেলেকে উদ্ধার করে তাদের দিয়ে সুন্দরবনকেন্দ্রিক সাগরে দস্যুতা করানো সেই জেলেদের ফেরত দিয়েছে জলদস্যু বাহিনী। ফেরত আসা জেলেরা হলেন, পাথরঘাটা উপজেলার বাদুরতলা গ্রামের খাইরুল ইসলাম, মাসুম মিয়া, রিপন, রাসেল ও বাগেরহাটের সেরাজ মিস্ত্রী।

    মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সুন্দরবন থেকে মোংলা এলাকার নদীর পাড়ে তাদের রেখে যায় ছোটভাই বাহিনী।

    বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    মোস্তফা চৌধুরী জানান, ২১ জুলাই সাগরে ঝড়ের কবলে ডুবে যাওয়া ট্রলারের মধ্যে ওই পাঁচ জেলেকে ভাসমান অবস্থায় জলদস্যু ছোট ভাই বাহিনী উদ্ধার করে, পরে তাদের দ্বারা অপর জেলেদের মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করে। পরে র‌্যাব-৬ এর অভিযানের টের পেয়ে ওই বাহিনী ৫ জেলেকে মংলার কাছাকাছি নদীর পাড়ে তাদের ছেড়ে দেয়। এ সময় ওই জলদস্যু বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কথা না বলার জন্য জেলেদের ১০ হাজার টাকা দিয়ে দেয়।

  • বিসিসি নির্বাচনে বাঘা বাঘা কাউন্সিলররা নতুন প্রার্থীর কাছে ধরা

    বিসিসি নির্বাচনে বাঘা বাঘা কাউন্সিলররা নতুন প্রার্থীর কাছে ধরা

    বরিশাল সিটি নির্বাচন-২০১৮তে দুই-তিনবারের বাঘা বাঘা কাউন্সিলররা নতুন নতুন প্রার্থীদের কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন। কোথায়ও কোথায়ও চারবারের জনপ্রতিনিধিও নব্য প্রার্থীদের কাছে হার মেনেছেন। তবে শক্তিশালী এসব জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সিল মেরে তারা জয়ী হয়েছেন। যদিও নতুন কাউন্সিলররা বলছেন, এ প্রজন্ম পুরনো প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করছেন। যার কারণে তাদের এই পরাজয়।

    নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের পরাজিত কাউন্সিলর বিএনপির প্রার্থী আলতাফ মাহমুদ সিকদার ১৯৯৫ সাল থেকে এই ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি।

    কিন্তু এবার এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী যুবলীগ নেতা শেখ সাঈদ আহম্মেদ মান্নার কাছে হেরে গেছেন। ঘুড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা আলতাফ মাহমুদ সিকদার বলেন, ‘আমি ১৯৯৫ সাল থেকে এখানকার জনপ্রতিনিধি। জনগণের সুখে দুঃখে তাদের পাশে থাকার কারণে এমনটি হয়েছে।

    কিন্তু ভোট ডাকাতি ও সন্ত্রাসীপনার কাছে আমিসহ এই ওয়ার্ডের ভোটাররা পরাজিত হয়েছে। তবে ঠেলাগাড়ি প্রতীক নিয়ে জয়ী হওয়া শেখ সাঈদ আহম্মেদ মান্না বলেন, রাজনীতি ও নিজস্ব ব্যবসা বাণিজ্যের কারণে এই ওয়ার্ডের জনগণ তাকে কাছে পায়নি।

    ওয়ার্ডের আশা আকাক্সক্ষা পূরণের লক্ষ্যে জনগণের রায়ে আমি কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছি। নতুন প্রজন্ম পুরাতন প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করেছে। একইভাবে নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হওয়া কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিএনপি নেতা আলহাজ কেএম শহীদুল্লাহ এবারের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। সেখানে তার পূর্বের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. জাকির হোসেন ভুলু এবার নির্বাচিত হয়েছেন। আলহাজ কেএম শহীদুল্লাহ বলেন, আমি এই ওয়ার্ডটিকে একটি মডেল ওয়ার্ডে পরিণত করেছি।

    কিন্তু আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী ভোট ডাকাতি করে আমার নিশ্চিত জয়কে হারিয়ে দিয়েছে। কিশোর মজলিসের একটি কেন্দ্রে ইভিএম নষ্ট হওয়ার পর সেখানে ব্যালটে নির্বাচন হয়। আর ব্যালট পিটিয়ে ভোট নিয়ে গেছে। তবে নবনির্বাচিত কাউন্সিলর মো. জাকির হোসেন ভুলু বলেছেন, জনগণের ভোটে আমি নির্বাচিত হয়েছি। কোনো ভোট ডাকাতি হয়নি।

    বরিশাল সিটি এলাকার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ১৭ বছরের বিএনপির প্রার্থী মো. হুমায়ুন কবিরকে হারিয়ে সেখানে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী (ঠেলাগাড়ি প্রতীক) মহানগর আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।

    বিএনপি নেতা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি ২০০১ সাল থেকে এখানকার জনপ্রতিনিধি। ভোট পিটিয়ে আমাকে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে নবনির্বাচিত কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমি দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হয়েছি। পরাজিত হয়ে আমার প্রতিপক্ষ নানা কুৎসা রটনা করছেন। বরিশাল সিটির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির শক্ত প্রার্থী ফরিদ উদ্দিন হাওলাদারকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির। বিএনপি নেতা মো. ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার বলেন, আমি তিনবারে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি এই ওয়ার্ডে। কিন্তু সরকারদলীয় প্রার্থীর ভোট জালিয়াতিতে আমাকে হারতে হয়েছে।

    নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির ২৭ বছরের কাউন্সিলর প্রার্থী ফিরোজ আহমেদকে হারিয়ে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগ নেতা শরীফ মো. আনিছুর রহমান। বিএনপি নেতা ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘আমি ২৭ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি আছি। রাস্তাঘাট উন্নয়ন করে ওয়ার্ডকে উন্নত করেছি। কিন্তু আওয়ামী লীগ ভোট পিটিয়ে আমাকে হারিয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ নেতা ও নব্য কাউন্সিলর শরীফ মো. আনিছুর রহমান বলেন, ভোটযুদ্ধে হেরেছে বিএনপি। এখন আবলতাবল বলছে।

    নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নতুন মুখ হিসেবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা কেফায়েত হোসেন রনি। এখানে ১৫ বছরের পুরাতন প্রার্থী মো. মাইনুল হককে হারিয়ে তিনি জয়ী হয়েছেন। যদিও এখানেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু তার পরও ভোটযুদ্ধে রনি জয়ী হয়েছেন। নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডেও বিএনপির একধিকবার নির্বাচিত কাউন্সিলর সৈয়দ সাইদুল হাসান মামুনকে হারিয়ে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী আমির হোসেন বিশ্বাস।

  • প্রথম নির্বাচনেই ঐতিহাসিক বিজয় নগর পিতার আসন অলঙ্কিত করলেন বরিশালের সাদিক

    প্রথম নির্বাচনেই ঐতিহাসিক বিজয় নগর পিতার আসন অলঙ্কিত করলেন বরিশালের সাদিক

    অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনা ও হিসাব-নিকাষ পাল্টে দিয়ে জনগনের অকুণ্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রাজনীতির “যোগ্য উত্তরাধিকার” “যুবরত্ন” সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ প্রায় লাখো ভোটের ব্যবধানে প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদ অলঙ্কিত করেছেন। সাদিক আবদুল্লাহর জীবনের প্রথম নির্বাচনেই ঐতিহাসিক এ বিজয়ের ফলে তার বিজয়ের ব্যাপরে আজকের র্বাতায় “নগর পিতার আসনে বসছেন সাদিক” শিরোণামে সরেজমিন জরিপের বরাত দিয়ে প্রকাশিত আগাম সেই সংবাদটি সত্য হলো।

    আগামী ৫ বছরের জন্য তিনিই বসলেন নগরবাসীর অবিভাভকের আসনে। আর তার এ বিজয়ের পথ কুসুমাস্তির্ণ করে দেয় মূলত দলীয় নেতাকর্মী,সুশীল সমাজ,সাংবাদিক,সংস্কৃতিকর্মী ও শ্রমজীবী সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সাধারণ মানুষ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট কালরাতে বাবা ও বুলেট বিদ্ধ মায়ের সঙ্গে অলৌকিক ভাবে বেঁচে যাওয়া ভাই সহ স্বজনের রক্তে ভেজা সেই সময়ের দেড় বছরের শিশু আজকের “রাজনীতির আইকন” সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বিজয়ের যে “দ্বার প্রান্তে “ রয়েছিলেন এ বিষয়টি ভোটারদের মুখে মুখে আগেই ছড়িয়ে পড়েছিলো।

    প্রচার-প্রচারণায় প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এটা বুঝাতে সম্মত হয়েছিলেন যে নৌকা জিতলে নগরীতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়িত হবে।তাদের কাছ থেকে এ উন্নয়ন বার্তা পেয়ে নগরবাসী উন্নয়নের স্বার্থে শেষ পর্যন্ত দলমত নির্বিশেষে সবাই নৌকার পক্ষে ঝুঁকে পড়েন। একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা ও একটি বেসরকারী এনজিওর রির্পোটেও সাদিকের বিজয়ী হওয়ার আগাম বার্তা ছিলো। এবার সিটি নির্বাচনে ২ লক্ষ ৪২ হাজার ১৬৬ ভোট। নতুন ভোটার যোগ হয়েছে প্রায় ৩১ হাজার। নতুন এই তরুন ভোটারদের আশা আকাঙ্খার প্রতীক হয়ে ওঠেন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ।

    অপরদিকে এর আগে বিএনপি প্রার্থীকে মেয়র নির্বাচিত করে গত ৫ বছর যে খেসারত নগরবাসী দিয়েছেন আগামীতে তারা আর সেই খোসারত দিতে চাননি। অতীতের ভুল সিদ্ধান্তের আর পুনরাবৃত্তি করতে না চাওয়ায় দলমত নির্বিশেষ সকল শ্রেণীর ভোটার নৌকার পক্ষে রায় দেয়। গত ৫ বছর বিএনপি‘র মেয়র আহসান হাবিব কামাল উন্নয়ন কর্মকান্ডে ব্যর্থ হওয়ায় শ্রীবৃদ্ধি হারিয়ে বরিশাল শহর আবারও পুরনো খানাখন্দের শহরের রূপে ফিরে যায়। ফলে নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত নগরবাসীকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিএনপির এ মেয়রের সীমাহীন ব্যর্থতায় শ্রী হীন হয়ে পড়া বরিশাল শহরকে উন্নত ও আধুনিক শহরে রূপান্তর করতে নগরবাসী একজন যোগ্য নগর অভিভাবক দীর্ঘদিন ধরে খুঁেজ ফিরছিলেন ও অভাববোধ করছিলেন। অবশেষে ব্যালটের মাধ্যমে তারা তাদের যোগ্য অভিভাবক খুঁজে নিলেন। ফুফ প্রধানমন্ত্রী, বাবা মন্ত্রী ও নিজে মেয়র এ তিন রক্তের বন্ধনের যৌথ উদ্যোগ ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় বরিশাল শহর শুধু “প্রাচ্যের ভেনিস” নয় “আধুনিক সিঙ্গাপুৃর” শহরে রূপ নেবে বিজয়ের এ মাহেন্দ্রক্ষনে এমনটিই আশা প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।

  • বিসিসি নির্বাচনঃ ভালোবাসায় সিক্ত নবনির্বাচিত মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

    বিসিসি নির্বাচনঃ ভালোবাসায় সিক্ত নবনির্বাচিত মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

    নেতাকর্মী-সমর্থক ও ভক্তদের ভালোবাসায় সিক্ত বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার সকাল থেকে নেতাকর্মী-সমর্থকরা দলে দলে তার বাসায় আসছেন এবং ফুলের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তাদের ভালোবাসায় কৃতজ্ঞ বরিশালের নবনির্বাচিত মেয়র সাদিক। আগত সবাইকে মিষ্টিমুখ করিয়ে বিদায় দিচ্ছেন তিনি। এছাড়াও আগামী দিনগুলোতে বরিশাল নগরীকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত করতে সকলের সহযোগিতা চাচ্ছেন বরিশালর তরুণ মেয়র সাদিক। একই সাথে এই জয় শেখ হাসিনার জয়, আওয়ামী লীগের জয় বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

    গত সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে রিটার্নিং কর্মকর্তা যখন ফল ঘোষণা করেন। তখন সাদিক আবদুল্লাহ ছিলেন নগরীর কালীবাড়ি রোডে তার নিজ বাসভবনে। ওই রাতে ফল জানার পর নেতাকর্মীদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করেন তিনি। এ সময় তাদের মিষ্টিমুখ করানো হয়। ওই রাতেই এই নির্বাচনের মূল কারিগর তার বাবা আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির পদধূলি এবং তার দোয়া নেন সাদিক। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে কালীবাড়ি রোডের বাসায় আগত নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধায়ীদের ভালোবাসা এবং ফুলের শুভেচ্ছায় সিক্ত হন সাদিক। বাসায় আগত সকলকে করানো হয় মিষ্টিমুখ। বেলা আড়াইটার দিকে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির একটি দল সাদিককে তার বাসায় গিয়ে ফুলের নৌকা দিয়ে অভিনন্দিত করেন। এ সময় তাদেরও মিষ্টিমুখ করানো হয়। এ সময় আগন্তুকদের উদ্দেশ্যে নবনির্বাচিত মেয়র সাদিক বলেন, এই জয় শেখ হাসিনার জয়, এই জয় আওয়ামী লীগের বিজয়, এই জয় উন্নয়নের জয়। সিটি নির্বাচনের এই জয়কে ১৫ আগস্টের শহিদদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন তিনি। এ সময় সাদিক আবদুল্লাহ পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার পাশাপাশি বরিশাল নগরীকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি মুক্ত করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

  • বরিশালে সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হলেন যারা

    বরিশালে সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হলেন যারা

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নারীদের জন্য ১০ সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মধ্যে ৭টিতে জয় লাভ করেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। একটিতে বিএনপি ও দুটিতে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

    বেসরকারি ফলাফলে ১ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী (বই প্রতীক) মিনু রহমান, ২ নং ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র (গ্লাস) জাহানারা বেগম, ৩ নং ওয়ার্ডে (বই) আওয়ামী লীগের কোহিনুর বেগম, ৪ নং ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের আয়শা তৌহিদ লুনা, ৫ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের (মোবাইল ফোন) ইসরাত জাহান লাভলী, ৬ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের (বই) গায়ত্রী সরকার পাখি, ৭ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের (বই) সালমা আক্তার শিলা, ৮ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের (চশমা) রেশমী বেগম, ৯ নং ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র (চশমা) সেলিনা বেগম এবং ১০ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির (আনারস) রাশিদা পারভীন।

  • বরিশালে ইভিএমে ধানের শীষের প্রায় তিন গুণ নৌকা

    বরিশালে ইভিএমে ধানের শীষের প্রায় তিন গুণ নৌকা

    বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএমে যে ১১ কেন্দ্রে ভোট নেয়া হয়েছে তার মধ্যে ১০টি কেন্দ্রের ফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নৌকা প্রতীকে ভোট পড়েছে সাত হাজার ২২৪টি। আর ধানের শীষে পড়েছে দুই হাজার ৩৮৮ ভোট। অর্থাৎ বিএনপির চেয়ে তিন গুণের বেশি ভোট পেয়েছে আওয়ামী লীগ।

    সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত একটানা ভোট হয় নগরীতে। তবে বেলা ১২টার দিকে কারচুপির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জন করেন বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার।

    আজ যে তিনটি সিটি করপোরেশনে ভোট হয়, তার মধ্যে ইভিএম সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে বরিশালে। এখনকার ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১টিতেই ভোট গ্রহণ ব্যবহার করা হয়েছে এই যন্ত্র।

    মোট দুই লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ ভোটের মধ্যে প্রায় ২৫ হাজার ভোটই নেয়া হয়েছে এই যন্ত্রে।

    ১২, ২০, ২১ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ১১টি কেন্দ্রের মোট ৭৮টি বুথে ইভিএমে ভোট নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

    ২১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি নারী কেন্দ্রে নৌকা পেয়েছে ৬৮২ এবং ধানের শীষ পেয়েছে ২২৮ ভোট।

    একই ওয়ার্ডের একটি পুরুষ কেন্দ্রে নৌকা পেয়েছে ৭৯১ ভোট, আর ধানের শীষ পেয়েছে ২৬৯ ভোট।

    ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কেন্দ্রে নৌকা পেয়েছে এক হাজার ৯৪ এবং ধানের শীষ পেয়েছে ১০৮ ভোট।

    ২০ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিএম কলেজের কলা বিভাগ কেন্দ্র (পুরুষ) ও বিএম কলেজের বাণিজ্য বিভাগ কেন্দ্র (নারী)।

    ২০ নম্বর ওয়ার্ডে একটি কেন্দ্রে নৌকা প্রথীকে পড়েছে এক হাজার ২৬৩ ভোট আর ধানের শীষের পক্ষে পড়েছে ৬৯৬ ভোট।

    ২০ নম্বর ওয়ার্ডের আরেকটি কেন্দ্রে নৌকায় পড়েছে ৬৫৯ ভোট, আর ধানের শীষে ২১১ ভোট।

    ব্যালটে ভোটের তুলনায় ইভিএমে ভোটের স্বচ্ছতা বেশি। এখানে একজনের ভোট অন্যজনের দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ স্মার্টকার্ড পাঞ্চ করে এরপর আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে পরিচয় নিশ্চিত হলেই তিনি ভোট দিতে পারেন।

    আবার ইভিএমে ভোট গণনাও সহজ। ভোট শেষে বাটন টিপ দিলেই ফলাফল জানা যায়। ফলে অন্যান্য কেন্দ্রে যখন গণনা কেবল শুরু হচ্ছে, ততক্ষণে ইভিএমে ফলাফল পাওয়া যায়।

  • বরিশাল সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন যারা

    বরিশাল সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন যারা

    স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদেও আ.লীগের জয়জয়কার। বিএনপি সমর্থিত ১৮ নং ওয়ার্ডের মীর জাহিদুল কবির ও ৩ নং ওয়ার্ডের সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক মৃধা এবং জাতীয় পার্টির একে এম মর্তুজা আবেদীন ছাড়া সব কয়টি ওয়ার্ডে আ.লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তবে বরিশাল সিটির ১৫ টি কেন্দ্রের ফলাফল রাতে স্থগিত ঘোষনা করেছে। এসব কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত হলেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে আ.লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তবে এ বছর সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীসহ অন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মেয়র প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেছে এবং অনেক জনপ্রিয় কাউন্সিল প্রার্থীও পরাজিত হয়েছে।

    বেসরকারীভাবে যে ৩০ টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে বিজয়ী হয়েছেন তারা হচ্ছেন- ১ নং ওয়ার্ড; আমির হোসেন বিশ্বাস, ২ নং ওয়ার্ড; অ্যাড. একেএম মর্তুজা আবেদীন, ৩ নং ওয়ার্ড; বিএনপি নেতা আলহাজ্ব সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক মৃধা, ৪ নং ওয়ার্ড; তৌহিদুল ইসলাম বাদশা, ৫ নং ওয়ার্ড; কেফায়েত হোসে রনি, ৬ নং ওয়ার্ড; খান মো জামাল হোসেন, ৭ নং ওয়ার্ড; রফিকুল ইসলাম খোকন, ৮ নং ওয়ার্ড; সেলিম হাওলাদার, ৯ নং ওয়ার্ড; হারুণ অর রশিদ, ১০ নং ওয়ার্ড; এটিএম শহিদুল্লাহ, ১১ নং ওয়ার্ড; মজিবর রহমান, ১২ নং ওয়ার্ড; জাকির হোসেন ভুলু, ১৩ নং ওয়ার্ড; মেহেদী পারভেজ খান আবির, ১৪ নং ওয়ার্ড; তৌহিদুল ইসলাম ছাবিদ, ১৫ নং ওয়ার্ড; লিয়াকত হোসেন খান, ১৬ নং ওয়ার্ড; মোশাররফ আলী খান বাদশা, ১৭ নং ওয়ার্ড; আক্তারুজ্জামান গাজি হিরু, ১৮ নং ওয়ার্ড; মীর জাহিদুল কবির, ১৯ নং ওয়ার্ড; গাজী নঈমুল হোসেন লিটু, ২০ নং ওয়ার্ড; জিয়াউল রহমান বিপ্লব, ২১ নং ওয়ার্ড; শেখ সাঈদ আহমেদ মান্না, ২২ নং ওয়ার্ড; আনিচুর রহমান, ২৩ নং ওয়ার্ড; এনামুল হক বাহার, ২৪ নং ওয়ার্ড; শরীফ আনিচুর রহমান, ২৫ নং ওয়ার্ড; এসএম সাইদুর রহমান মোল্লা, ২৬ নং ওয়ার্ড; হুমায়ুন কবির, ২৭ নং ওয়ার্ড; নুরুল ইসলাম, ২৮ নং ওয়ার্ড; জাহাঙ্গীর হোসেন, ২৯ নং ওয়ার্ড; ফরিদ আহমেদ, ৩০ নং ওয়ার্ড; আজাদ হোসেন কালাম মোল্লা।

    এছাড়াও সংরক্ষিত মহিলা কউন্সিলর পদে বেসরকারীভাবে বিজয়ী হয়েছেন যারা-
    সংরক্ষিত (১, ২ ও ৩) নম্বর ওয়ার্ডে মিনু রহমান। সংরক্ষিত (৭, ৮ ও ৯) নম্বর ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলর কহিনুর বেগম । সংরক্ষিত ৪ আসনে (১০, ১১ ও ১২) নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক প্যানেল মেয়র আয়শা তৌহিদ লুনা।  সংরক্ষিত (১৬, ১৭ ও ১৮) ওয়ার্ডে মজিদা বোরহান। সংরক্ষিত ৭ আসনে (১৯, ২০ ও ২১) নম্বর ওয়ার্ডে সালমা আক্তার শিলা। সংরক্ষিত ১০ আসনে (২৮, ২৯ ও ৩০) নম্বর ওয়ার্ডে রাশিদা পারভীন।’

  • বিসিসি নির্বাচনঃ বরিশাল সিটির মেয়র হচ্ছেন সাদিক আবদুল্লাহ

    বিসিসি নির্বাচনঃ বরিশাল সিটির মেয়র হচ্ছেন সাদিক আবদুল্লাহ

    বিপুল ভোটের ব্যবধানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নতুন মেয়র নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। ১২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯৯টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ভোট অনুযায়ী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১২ হাজার ৭৬৭ ভোট। আর সাদিক আবদুল্লাহ পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৪৪০ ভোট।

    এর আগে সোমবার সকাল ৮টা থেকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্র দখল, ভোটারদের মারধর ও ব্যালট পেপারে সিল মারাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ঘটনা ঘটে।

    এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপুর ১২টায় তিনি ভোট কারচুপি, এজেন্টদের মারধর ও কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ তুলে বরিশাল প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার।

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মেয়র প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগের সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বিএনপির মো. মজিবর রহমান সরওয়ার, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মনিষা চক্রবর্তী, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র ওবাইদুর রহমান (মাহাবুব)। এ সিটিতে মোট ভোটার দুই লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন এক লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন।

    নগরীর ১২৩টি কেন্দ্রের ৭৫০টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে ৪টি ওয়ার্ডের ১টি কেন্দ্রে ৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ হয় ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)।

  • বিসিসি নির্বাচনঃ ভোট দিলেন সাদিক আবদুল্লাহ

    বিসিসি নির্বাচনঃ ভোট দিলেন সাদিক আবদুল্লাহ

    বরিশালে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে একাধিক কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কাউনিয়ার সৈয়দা মজিদুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বের হয়ে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার এ অভিযোগ করেন।

    এ সময় বিএনপি প্রার্থী বলেন, একাধিক কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দিয়ে নৌকা প্রার্থীর সমর্থকদের ধানের শীষের এজেন্ট সাজিয়ে কেন্দ্রে বসানো হয়েছে। কাউনিয়ার সৈয়দা মজিদুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এরকম একজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলার কথাও জানান সরোয়ার। পরে প্রশাসন তাকে ছেড়ে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    তিনি বলেন, কেন্দ্রের বাইরে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডার বাহিনী পাহারা দিচ্ছে। এতে সাধারণ ভোটারদের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নীরব ভূমিকা পালন করছে প্রশাসন। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী যেকোনো ভাবে ভোটের ফলাফল তার পক্ষে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে ভোটাররা যদি ৪টা পর্যন্ত ভোট দিতে পারেন ভোট গণনায় তিনি এগিয়ে থাকবেন বলেও জানান বিএনপির এ মেয়র প্রার্থী।

    এদিকে সকাল ৮টায় সরকারি বরিশাল কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। কেন্দ্রের প্রথম ভোটটি দেন তিনি।

    ভোট প্রদান শেষে সাদিক আবদুল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন তা মেনে নেব। নির্বাচনে যেই জয়লাভ করবে তাকে সহায়তা করব।’

    তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দেখে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে। জাতীয় পার্টি এরই মধ্যে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে। ভোট সুষ্ঠু হবে না এমন অভিযোগ ঠিক নয়। জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছে। বিজয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী।

    অপরদিকে বাসদ মেয়র প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, সরকারি বলিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে একাধিক ব্যালটে আগে থেকেই সিল মারা দেখে প্রতিবাদ করলে তাকে লাঞ্ছিত করে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।

    এছাড়া নগরীর দিয়াপাড়া, দত্তপাড়া ও বিসিক এলাকার কয়েকটি কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বাসদ মেয়র প্রার্থী ডা. মনীষা। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কমিউনিস্ট পার্টির মেয়র প্রার্থী একে আজাদ।

    তবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, নির্বাচন কমিশন এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনও পায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    উল্লেখ্য সোমবার সকাল ৮টা থেকে বরিশালে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন নগরবাসী।

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    এবার ২ লাখ ৪২ হাজার ১৬৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২১ হাজার ৪৩৬ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৭৩০ জন।

    নগরীতে ১২৩টি কেন্দ্রের ৭৫০টি বুথে বিরামহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। এরমধ্যে ৪টি ওয়ার্ডের ১টি কেন্দ্রে ৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হবে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম পদ্ধতিতে।