Category: জাতীয়

  • আবারো বাড়তে পারে লকডাউন

    আবারো বাড়তে পারে লকডাউন

    করোনাভাইরাস সংক্রমণে চলতি মাসে দৈনিক একশোর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে সরকারের দেওয়া কঠোর লকডাউনে ধাপে ধাপ বাড়িয়ে আগামী ৫ মে পর্যন্ত করায় করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করেন, ঈদের আগমুহূর্তে সরকারি কর্মদিবস মাত্র তিন দিন রয়েছে। এ মুহূর্তে লকডাউন তুলে নেওয়া ঠিক হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতোই লকডাউনের বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসায়ীদের কথা ভেবে দোকানপাট ও মার্কেট খুলে দেওয়া হয়েছে। ঈদের আগে তিনটি কর্মদিবস থাকলে কিছুটা শিথিল করে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।

    জানা গেছে, আগামী ৫ মে পর্যন্ত লকডাউনের মেয়াদ রয়েছে। এই লকডাউনের পরবর্তী মাত্র তিন দিন কর্মদিবস রয়েছে। বৃহস্পতিবার ৬ মে প্রথম কর্মদিবস। এরপর ৭ ও ৮ মে শুক্র-শনিবার দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি। ৯ মে রোববার এক দিন কর্মদিবস থাকলেও পরেরদিন ১০ মে সোমবার শবে কদরের ছুটি। এর পরদিন ১১ মে মঙ্গলবার কর্মদিবস হলেও ১২ মে বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে ঈদের ছুটি। সে হিসেবে ঈদের আগে কর্মদিবস পাওয়া যাবে মাত্র তিন দিন।

    এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান বিধিনিষেধ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে। তবে পরবর্তীতে বিধিনিষেধের সময় বাড়বে কিনা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নামপ্রকাশ না করে বলেন, ঈদের আগে তিনটি কর্মদিবস থাকায় লকডাউন তুলে দেয়ার সম্ভাবনা কম। সেক্ষেত্রে ১৫ মে পর্যন্ত বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়তে পারে। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন সীমিত পরিসরে খুলে দেয়া হতে পারে।

  • ভ্যাকসিনের জন্য ৩ দেশে যোগাযোগ করা হচ্ছে :স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    ভ্যাকসিনের জন্য ৩ দেশে যোগাযোগ করা হচ্ছে :স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    ভারতের ভ্যাকসিন অনিশ্চয়তায় রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। চীন পাঁচ লাখ টিকা দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় মহাখালীর বিসিপিএস প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালগুলোর আইসিইউতে থাকা প্রতিটি করোনা রোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা। আর একজন সাধারণ রোগীর জন্য ব্যয় হচ্ছে ১৫ হাজার টাকা।

    তিনি বলেন, ঢাকায় করোনা রোগীর জন্য আড়াই হাজার বেড ছিল। এখন সাত হাজার বেড আছে। এটা আমরা রাতারাতি করতে সক্ষম হয়েছি। প্রতিটি হাসপাতালেই করোনা চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। টিবি হাসপাতাল, গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল ও শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটেও করোনা চিকিৎসা হচ্ছে।

  • মামুনুল ফের ৭ দিনের রিমান্ডে

    মামুনুল ফের ৭ দিনের রিমান্ডে

    হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় দায়ের করা মামলায় চার দিন ও মতিঝিল থানার মামলায় তিনদিনসহ মোট সাতদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২৬ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী শুনানি শেষে রিমান্ডের এ আদেশ দেন। 
    গত ২৬ মার্চ বায়তুল মোকাররমের ঘটনায় পল্টন থানার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক কামরুল ইসলাম আসামি মামুনুল হককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদনসহ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।
    এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ জয়নাল আবেদীন মেজবাহ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক রিমান্ডের এ আদেশ দেন।
    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি জেলায় তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম। ব্যাপক সহিসংতা চালানো হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। টার্গেট করে হামলা চালনো হয় সরকারি স্থাপনায়। করা হয় অংগ্নিসংযোগ। নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত করে হেফাজত নেতাকর্মীরা। আক্রোশ থেকে বাদ যায়নি গণমাধ্যমও।
    সহিংসতার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় শতাধিক মামলা হয়। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও চট্টগ্রাম জেলার ২৩টি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিআইডিকে।
    ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার সহিসংতার ঘটনায় মামুনুল হকের সম্পৃক্ততা পেয়েছে সিআইডি।
    সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে এ ঘটনায় মামুনুলের সম্পৃক্ততা পেয়েছি। আমরা অপেক্ষা করছি একটা কেস চলমান আছে। সেটার রিমান্ড চলছে এটা শেষ হলেই আমরা আবার তাকে রিমান্ডে নিয়ে আসব।
    সিআইডির তদন্তাধীন মামলাগুলোর মধ্যে বিশেষ ক্ষমতা আইন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে।
    সিআইডি প্রধান জানান, নিবিড় তদন্ত এবং প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক প্রমাণের জন্য মামলাগুলো সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে।
    সিআইডি প্রধান বলেন, আমাদের ফরেনসিক আছে, সাইবার পুলিশ আছে। যত ধরনের বিষেশজ্ঞ তদন্তের কাজে ব্যবহৃত হয় এগুলো সবই সিআইডির আছে। এর ফলে আমরা আমাদের কাজগুলো করে বাকি পুলিশদের সাপোর্ট দিতে পারি।
    আরও বেশকিছু মামলার তদন্তভার নিতে যাচ্ছে সংস্থাটি।
    এর আগে ১৯ এপ্রিল মামুনুলকে আদালতে তোলা হয়। আগেই তার বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারী ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
    গত ১৮ এপ্রিল দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
  • ঈদের জামাত ঈদগাহে নয়, এবারও হতে পারে মসজিদে

    ঈদের জামাত ঈদগাহে নয়, এবারও হতে পারে মসজিদে

    করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে এবারও ঈদের জামাত উন্মুক্ত স্থান বা ঈদগাহে পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে সরকার। গত বছরের মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদুল ফিতরের জামাত মসজিদে আদায়ের সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

    তবে ঈদ জামাতের বিষয়ে আগামী মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সভা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

    চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৩ বা ১৪ মে দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ঈদের দিন মুসলমানরা মসজিদ কিংবা ঈদগাহে ২ রাকাত ঈদের ওয়াজিব নামাজ আদায় করে থাকেন।

    ঈদ জামাতের বিষয়ে জানতে চাইলে রোববার দুপুরে ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান বলেন, ‘আমি মনে করি ঈদের জামাতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গত বছরের মতোই থাকবে। আরও কঠিন হয়তো হবে না। আমরাও চাই গত বছরের সিদ্ধান্তটাই থাক। তবে সবকিছুই আলোচনা করে আমরা ফাইনাল করবো।’

    তিনি বলেন, ‘আগামী পরশু দিন আমরা একটা সিদ্ধান্তে যাব। আমাদের একটি অফিসিয়াল মিটিং হবে, সেখানে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত বছর যে পরিস্থিতি ছিল, এবার এর চেয়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ। আমাদের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সবাইকে বলেছি বসে একটা সিদ্ধান্ত নিন। গত বছর যে সিদ্ধান্ত ছিল সেটা ঠিক রাখবেন নাকি, আরও কঠিন করবেন নাকি কিছুটা রিল্যাক্স করবেন, বসেই সেই সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।’

    কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে গত ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে আট দিনের কঠোর লকডাউন (বিধিনিষেধ) শুরু হয়। লকডাউনের মধ্যে পালনের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। সেই মেয়াদ শেষ হয় গত বুধবার (২১ এপ্রিল) মধ্যরাতে। পরে লকডাউনের মেয়াদ আগামী ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

    যদিও ২৯ এপ্রিল থেকে লকডাউনের মেয়াদ আর বাড়ছে না, বিধিনিষেধ শিথিল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

  • মুভমেন্ট পাস নিতে হবে কেনাকাটা করতে গেলে

    মুভমেন্ট পাস নিতে হবে কেনাকাটা করতে গেলে

    কঠোর বিধিনিষেধের (সর্বাত্মক লকডাউন) মধ্যেই রোববার (২৫ এপ্রিল) থেকে দোকানপাট ও শপিংমল খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। ওইদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিংমল খোলা থাকবে। আর শপিং মলে কেনাকাটা করতে যাওয়ার জন্য সবাইকে মুভমেন্ট পাস নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।

    পুলিশ সদর দফতর থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, শপিং মলে কেনাকাটা কোনো জরুরি সেবার মধ্যে পড়ে না, তাই মার্কেটের উদ্দেশে বের হওয়া সবাইকে মুভমেন্ট পাস নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. সোহেল রানা  বলেন, দেশজুড়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ চলমান রয়েছে। যারা জরুরি সেবাদানের কাজে জড়িত, শুধুমাত্র তাদেরই মুভমেন্ট পাস লাগবে না। এরইমধ্যে সরকার ও পুলিশ জরুরি সেবার মধ্যে অন্তর্ভুক্তদের তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকার বাইরে যারা তাদের সবাইকে মুভমেন্ট পাস নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    এর আগে গত শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দোকান ও শপিং মল খোলার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

    করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত এক সপ্তাহের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। পরে তা শিথিল করে শুধুমাত্র সিটির মধ্যে সীমিত আকারে যান চলাচল ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খুলে দেওয়া হয় শপিংমল।

    এর মধ্যে সংক্রমণ বাড়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে আবারও সাতদিনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পরে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশক্রমে এর মেয়াদ ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বর্ধিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

  • রোববার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শপিং মল–দোকানপাট খোলা: প্রজ্ঞাপন জারি

    রোববার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শপিং মল–দোকানপাট খোলা: প্রজ্ঞাপন জারি

    শপিংমল ও দোকানপাট আগামী রোববার (২৫ এপ্রিল) থেকে খোলা রাখা যাবে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিং মল খোলা থাকবে। এ বিষয়ে আজ শুক্রবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

    প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খোলা রাখা যাবে।

    করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে সারা দেশে দ্বিতীয় দফায় লকডাউন শুরু হয় গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে। আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত এটি চলবে।

  • বিস্ফোরক মামলায় শিশু বক্তার একদিনের রিমান্ড

    বিস্ফোরক মামলায় শিশু বক্তার একদিনের রিমান্ড

    উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় আসা ‘শিশু বক্তা’ মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীর একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল হাই।

    বুধবার (২১ এপ্রিল) সকালে পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চাইলে ভার্চ্যুয়াল শুনানী শেষে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

    মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানীর রিমান্ড মঞ্জুরের সত্যতা নিশ্চিত করে কোর্ট ইন্সপেক্টর প্রসূন কান্তি দাস বলেন, গত ২৯ মার্চ হরতালের নামে নাশকতা, নগরীর চড়পাড়া মোড়ে পুলিশ বক্স ভাঙচুর, বাসে আগুন ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়। এ ঘটনায় সকালে ভার্চ্যুয়াল আদালতে কোতোয়ালী থানা পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত রফিকুল ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    রফিকুল ইসলাম নেত্রকোণা জেলার পশ্চিম বিলাশপুর সাওতুল হেরা মাদরাসার পরিচালক। তিনি ‘শিশু বক্তা’ হিসেবে পরিচিতি। সরকার বিরোধী ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে গত ৭ এপ্রিল (বুধবার) দিনগত রাতে নেত্রকোণা থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব। পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

  • লকডাউন বাড়ল ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত : প্রজ্ঞাপন জারি

    লকডাউন বাড়ল ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত : প্রজ্ঞাপন জারি

    করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান লকডাউনের (বিধিনিষেধের) মেয়াদ একই শর্তে আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ল।

    আগামী বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) থেকে আরও এক সপ্তাহ লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়ে মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
    এতে বলা হয়, করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক বিশেষ ফ্লাইট চলাচল, ব্যাংকিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখাসহ আগের সব বিধিনিষেধের আরোপের সময়সীমা ২১ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ২৮ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।

    করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে গত ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে আটদিনের কঠোর লকডাউন শুরু হয়। সেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামীকাল বুধবার মধ্যরাতে। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির এখনও উন্নতি হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে রোববার (১৮ এপ্রিল) ৩১তম সভায় সংক্রমণরোধে আরও এক সপ্তাহের জন্য ‘কঠোর লকডাউন’ আরোপের সুপারিশ করে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। লকডাউনের মেয়াদ বাড়াতে সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়। সেখানে লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।

    কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে গত ১২ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। লকডাউনের মধ্যে পালনের জন্য ১৩টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। নতুন মেয়াদেও এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।

    ১. সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস/আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ও সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন। তবে বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থলবন্দর এবং এ সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে। (ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে ১৩ এপ্রিল আরেকটি নির্দেশনা জারি করা হয়)।

    ২. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে। (আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ এবং দেশের অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে ভার্চুয়ালি সীমিত পরিসরে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট)

    ৩. সকল প্রকার পরিবহন (সড়ক, নৌ, রেল, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে। তবে, পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না।

    ৪. শিল্প-কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। তবে শ্রমিকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেয়া নিশ্চিত করতে হবে।

    ৫. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন- কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে।

    ৬. অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ঔষধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। তবে টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।

    ৭. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোরর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ (সরাসরি/অনলাইন) করা যাবে। শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে।

    ৮. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ/স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

    ৯. বোরো ধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে কৃষি শ্রমিক পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন সমন্বয় করবে।

    ১০. সারাদেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে।

    ১১. স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেবেন।

    ১২. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুম্মা ও তারাবি নামাজের জমায়েত বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা জারি করবে।

    ১৩. এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ প্রয়োজনে সম্পূরক নির্দেশনা জারি করতে পারে।

    সর্বশেষ সোমবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটিই বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। একই সময়ে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ২১৭ জন।

  • মামুনুল হক ৭ দিনের রিমান্ডে

    মামুনুল হক ৭ দিনের রিমান্ডে

    রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে করা মামলায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

    সোমবার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১টা ৯ মিনিটের দিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এদিন ২০২০ সালের মোহাম্মদপুর থানার একটি ভাঙচুর ও নাশকতার মামলায় তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

     

    অপরদিকে মামুনুলের আইনজীবী তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মো. জয়নুল আবেদীন মেসবাহ জানান, আসামি নিজেই আদালতকে বলেছেন, গতকালই তাকে নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। রমজান মাস, তিনি নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত ও ইবাদত করেন। গতকাল যে জায়গায় রাখা হয়েছে, সেটা ইবাদতের উপযোগী না। খুব মানবেতরভাবে রাত কেটেছে। জবাবে আদালত বলছেন, আপনার ইবাদতে বিঘ্ন হবে না।

    আইনজীবী মেসবাহ জানান, আসামির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন৷ এমন অভিযোগে রিমান্ডও নজিরবিহীন।

    রোববার (১৮ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ জাগো নিউজকে বলেন, ২০২০ সালের মোহাম্মদপুর থানার একটি ভাঙচুর ও নাশকতার মামলায় তদন্ত চলছিল। তদন্তে হেফাজত নেতা মামুনুলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সুস্পষ্ট হওয়ায় আমরা তাকে গ্রেফতার করেছি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

     

    রোববার দুপুর ১২ টা ৫০ মিনিটের দিকে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে মামুনুল হককে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ।

  • সড়কে বেড়েছে গাড়ির চাপ,চেকপোস্টে কড়াকড়ি

    সড়কে বেড়েছে গাড়ির চাপ,চেকপোস্টে কড়াকড়ি

    করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজধানীসহ সারাদেশে চলছে কঠোর লকডাউন। লকডাউনের ৫ম দিন রোববার (১৮ এপ্রিল) ঢাকা মহানগরীতে ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল শুক্র ও শনিবারের তুলনায় বেশি।

    রাজধানী মিরপুরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের অহেতুক বাইরে ঘোরাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতে কাজ করছে পুলিশ।

    মিরপুর ১৪ থেকে ১ নাম্বার পর্যন্ত চারটি চেকপোস্টো যাত্রী পথচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়। এসময় বিভিন্ন জায়গায় রিকশা উল্টে রেখে চালকদের শাস্তি দিতে দেখা যায়।

    সকাল ৯টায় মিরপুর ১০ নাম্বারে গন্তব্যে যাওযার জন্য চাকরিজীবিদের বিভিন্ন পরিবহন খুঁজতে দেখা যায়। বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, ‘মিরপুর ১ নাম্বার থেকে ১০ নাম্বার এসেছি ৬০ টাকায়। উত্তরা যাবো সিএনজি পাচ্ছি না। খেপের মোটরসাইকেল ২৫০ টাকা ভাড়া বলছে।’

    মিরপুর ১০ নাম্বারে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য বিকাশ জানান, সড়কে গাড়ির চাপ থাকায় পুলিশ চেকপোস্টের সংখ্যা বেড়েছে। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ও জরুরি সেবা নিতে যাওয়া যাত্রীর সংখ্যা বেশি। তবে উপযুক্ত কাগজপত্র দেখালে যেতে দেয়া হচ্ছে।

     

    দুপুর ১২ টার দিকে মিরপুর ১০ নাম্বারের পাশের গলিতে কিছু রিকশা উল্টে রাখে পুলিশ। এ সময় ক্ষোভ ঝেড়ে রিক্সা চালক শামসুল বলেন, ‘এই রিকশা আটকে রাখার আইন কই পাইছে। গাড়ি চলতেছে রোডে, তাদের তো ধরতে পারে না।’

     

    দুপুর সাড়ে ১২ টায় মিরপুর ১৩ নাম্বার হারমান মাইনর স্কুল সংলগ্ন রাস্তায় উল্টানো রিকশার ছবি তুলতে গেলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য দৌড়ে আসেন। সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরও মোবাইল থেকে ছবি মুছতে বলেন পুলিশ সদস্যরা।

    পুলিশ সদস্য কামরুল বলেন, ‘কোন চ্যানেল, কার্ড কই। যাই হোক ছবি তোলা যাবে না। মুছে ফেলেন।’ পরে পুলিশের সামনে ছবি মুছে ফেলতে হয়।

     

    প্রধান সড়কে কড়াকড়ি থাকলেও অলি-গলিতে অনবরত চলাফেরা করছেন সাধারণ মানুষ। খোলা আছে সব ধরনের দোকান, চলছে বারোয়ারি গাড়ি। বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে অস্থায়ী ভ্যানবাজার। বেশকিছু মহল্লায় বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দেয়া হলেও মানছেন না জনসাধারণ।