Category: জাতীয়

  • একটি মামুনুল হক ভবিষ্যত দেশ ও জাতির জন্য হুমকিস্বরূপ

    একটি মামুনুল হক ভবিষ্যত দেশ ও জাতির জন্য হুমকিস্বরূপ

    তানজিম হোসাইন রাকিবঃ শনিবার সন্ধায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক কে সোনারগাঁয়ের একটি রিসোর্টে নারী সহ আটক করা হয়।তবে কথিত এই হেফাজত নেতা মামুনুল হক সেই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করলেও এ ব্যাপারে তিনি কোনো অকাট্য প্রমাণ দিতে পারিনি।

    মামুনুল হকের দাবি করা দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা জান্নাত ওরফে ঝরনার পরিচয় মিলেছে। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কামারগ্রাম-কুলধর গ্রামে। তার বাবার নাম ওয়ালিয়ার রহমান। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও কামারগ্রাম ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

    আলফাডাঙ্গা উপজেলাজুড়ে এখন ঝরনাকে নিয়েই চলছে আলোচনার ঝড়। তবে জান্নাতের আগে বিয়ে হয়েছে ও দুটি সন্তান আছে। এ কথা সবাই জানলেও দ্বিতীয় বিয়ের কোনো খবরই জানে না এলাকাবাসী।

    সংবাদ পেয়ে সংবাদকর্মীরা শনিবার রাতে ঝরনার গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বাবা-মায়ের মোবাইল ফোনগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। রাত সোয়া ১২টার দিকে বাড়িতে গিয়েও যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

    কামারগ্রামের বাসিন্দা ও আলফাডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘আমাদের আলফাডাঙ্গা’ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সেকেন্দার আলম জানান, এ ঘটনা প্রচারের পর অনেকেই জানার জন্য মোবাইলে ফোন করেন। জান্নাত আরা নাম হলেও আমাদের এলাকায় তিনি ঝরনা নামে পরিচিত। বিয়ে হয়েছে খুলনায়। দুটি ছেলেও আছে। তবে পরের বিয়ের খবর জানা নেই। আজ শুনলাম ও খবরে দেখলাম।

    শনিবার বিকালে রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ ও সংবাদকর্মীরা তাকে নারীসহ অবরুদ্ধ করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। জিঞ্জাসাবাদের এক পর্যায়ে সোনারগাঁয়ের ঐ রিসোর্টে হামলা ভাংচুর চালিয়ে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়েছে তার অনুসারী এবং স্থানীয় হেফাজত নেতাকর্মীরা।

    এরপরে একের পর এক অডিও বার্তায় মামুনুল হকের অপকর্ম বেড়িয়ে আসে।

    দেশে অরাজকতা বিরাজকারী এই হেফাজত  নেতা মামুনুল হক এর উষ্কানিতে বঙ্গবন্ধুর ভাষ্কর্য ভাংচুর, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আগুন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলাসহ বিভিন্ন অপকর্ম সংগঠিত হয়েছে।

    মরহুম শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক এর কনিষ্ঠ পুত্র, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিশের মহাসচিব এবং যুব মজলিশের সভাপতি মামুনুল হক হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের নতুন কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ঢাকার সাতমসজিদ রোডে অবস্থিত জামি’আ রহমানিয়া আরাবিয়া কওমী মাদ্রাসা একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু, এই মাদ্রাসা বর্তমানে দখল করে আছে অবৈধ দখলদার, যার মূল ক্রীড়ানক মাওলানা মামুনুল হক গং। দীর্ঘদিন ধরেই মাদ্রাসার মোতওয়াল্লীসহ মালিকগণের মামলা ও দাবির প্রেক্ষিতে ওয়াকফ্; প্রশাসন অবৈধ দখলদারকে স্থান ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ জারি করে। কিন্তু মামুনুল হক গং উক্ত মাদ্রাসাটিতে জোর করেই দখলদারিত্ব বজায় রেখেছে এবং অন্যান্য মাদ্রাসা দখলের সুক্ষ্ম পায়ঁতারা করছে। অথচ দখলদার মামুনুল হকই বর্তমান সময়ের একজন নীতিবাগিশ এবং ইসলামী মোটিভেশনাল বক্তা।

    মামুনুল হক বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সাম্প্রদায়িক, সরকারবিরোধী, উস্কানিমূলক এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান করে সাধারণ মানুষজন, বিশেষ করে তরুণ সমাজকে ক্ষেপিয়ে তুলছেন। এক্ষেত্রে সরকারের সহনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে দিন দিন লাগামহীন হয়ে যাচ্ছেন। আলেম সমাজের চোখে ধুলা দেওয়া বর্ণচোরা মামুনুল হক আলেম সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতি কখনোই কামনা করেন না, বরঞ্চ নিজের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য নানাবিধ কৌশল অবলম্বন করছেন। এক্ষেত্রে, তার মরহুম পিতা শায়খুল হাদিস মাওলানা আজিজুল হক এর প্রতি সহানুভূতিশীল লোকজনকেও বিভিন্নভাবে ব্যবহার করছেন এবং তার দলে ভিড়াচ্ছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তিনি পাশে পেয়েছেন কিছু অসাধু ব্যক্তিবর্গ ও অনুসারীদের। একদিকে, তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নামাজের ছবি পোস্ট করেন, অন্যদিকে, প্রশিক্ষিত ও সুসংগঠিত সাইবার ইউনিট গড়ে তোলার মাধ্যমে বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমে মেতে থাকেন ।

    আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ইন্তেকালের পর জানাযার দিন লক্ষাধিক অনুসারীর মধ্যে জামায়াত-শিবিরের কৌশলী উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। জানাযার সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। এছাড়া, আহমদ শফীর লাশ বহনকারী খাটিয়া জামায়াতের আমীর ও সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী, সাবেক শিবির নেতা ও বর্তমান এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, শিবিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আইয়ুবি, শিবিরের সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুল আলিমসহ আনুমানিক ৩০/৪০ জন বেষ্টন করে রাখে। বিষয়টি নিয়ে ক্বওমী আলেমসহ সারাদেশের মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। জানা যায়, মাওলানা মামুনুল হক সুকৌশলে জামায়াত-শিবিরের নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়ে জামায়াতের সাথে হেফাজতের একটি সেতুবন্ধন তৈরির প্রচেষ্টা চালায়। শুধু তাই নয়, বর্তমান সময়ে হেফাজতে ইসলামের সাথে জামায়ত-শিবিরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে হেফজতে ইসলামকে জামায়াতের ছত্রছায়ায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। মামুনুল হকের স্ত্রী একসময় শিবিরের সক্রিয় সদস্য ছিল। শুধু তাই নয়, তার শ্বশুরকুলের আত্মীয় স্বজনদের অনেকেই এখনো জামায়াত শিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।

    অতি সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন মামুনুল হক। কথিত আছে যে, বর্তমান কমিটির আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী এবং মহাসচিব নূর হোসেন কাসেমীকে ব্যবহার করে তিনি অনেক বয়োজ্যৈষ্ঠ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিত হেফাজত নেতাদের ডিঙ্গিয়ে এ পদটি বাগিয়ে নেন। এ নিয়ে অনেক হেফাজত নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এছাড়াও, নিজ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য বাবুনগরী ও কাসেমীকে ব্যবহার করছেন। বাবুনগরী ও কাসেমীকে সামনে রেখে হেফাজতের ব্যানারে বিভিন্ন জেলায় বিচরণ করলেও তার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজেকে হেফাজতের শক্তিশালী নেতা হিসেবে জাহির করা।

    শায়খুল হাদীসের বড় ছেলে মাওলানা মাহফুজুল হক সম্প্রতি বেফাকের মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিশ এর মহাসচিব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। যে পদে বর্তমানে মামুনুল হক দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে যে, দলের মহাসচিবের পদটি দখল করতে তার ভাইকে শর্তানুযায়ী দলীয় পদ ছেড়ে বেফাকের মহাসচিব পদে বসাতে কলকাঠি নাড়েন। মাহফুজুল হক সাম্প্রদায়িক এবং ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমে নিরব ভূমিকা রাখলেও মামুনুল হক যেন ঠিক তার উল্টোটি।

    গতবছর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বার্ষিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সরকারি অনুমোদনের প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণ না করে অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করে সে নিজ দল ও সমর্থকদের কাছে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মামুনুল হক সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিয়ে সবশেষে অনুমতি প্রাপ্ত হন। অথচ, এই মামুনুল হকই সরকার এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষদগার করে বেড়াচ্ছেন।

  • সোমবার থেকে দেশে ফের লকডাউন শুরু

    সোমবার থেকে দেশে ফের লকডাউন শুরু

    করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশে আবারও লকডাউনের ঘোষণা করছে সরকার। সোমবার (০৫ এপ্রিল) থেকে এক সাপ্তাহের জন্য এ লকডাউন শুরু হবে।

    শনিবার (৩ এপ্রিল) সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের- এমপি তাঁর সরকারি বাসভবনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।

    তিনি বলেন, সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করছে সরকার। তাছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও একই কথা জানানো হয়েছে।

    সেখানে জানানো হয়েছে, দ্রুত ছড়াতে থাকা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার দুই-তিন দিনের মধ্যে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের চিন্তা করছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

  • আবেদনের সময় বাড়ানো হলো ৪৩তম বিসিএসের

    আবেদনের সময় বাড়ানো হলো ৪৩তম বিসিএসের

    ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার অনলাইনে আবেদনের সময় বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৩০ জুন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। সোমবার (২৯ মার্চ) সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি টেস্ট আগামী ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।

    পরীক্ষার হল, আসন ব্যবস্থা এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা যথাসময়ে সংবাদ মাধ্যমে এবং পিএসসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে।

  • নিপুণ রায় গ্রেপ্তার ‘নাশকতার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে: র‌্যাব

    নিপুণ রায় গ্রেপ্তার ‘নাশকতার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে: র‌্যাব

    বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ শাখার সভাপতি নিপুণ রায়কে ‘নাশকতার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

    এ বাহিনীর মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক আশিক বিল্লাহ বলছেন, আরমান নামে কেরানীগঞ্জের এক বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার বিকাল ৪টায় নিপুণ রায়কে তার রায়েরবাজারর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এর আগে পরিবারের বরাত দিয়ে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছিলেন, নিপুণ রায়কে বিকালে তার রায়েরবাজারের বাসা থেকে আটক করে নিয়ে গেছে ‘সাদা পোশাকের পুলিশ’। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা সে সময় এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।

    পরে সন্ধ্যায় র‌্যাবের পক্ষ থেকে নিপুণ রায়কে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়; বলা হয়, হেফাজতে ইসলাম হরতাল ডাকার পর আরমানকে ‘বাসে আগুন দিতে’ বলেছিলেন নিপুণ

    আশিক বিল্লাহ বলেন, “হেফাজত হরতাল ঘোষণার পর রাজধানীতে বাসে আগুনের ঘটনা ঘটলে র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এর ভিত্তিতে আজ সকালে কেরানীগঞ্জ থেকে আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিপুণ রায়কে গ্রেপ্তার করা হয়।”

    নিপুণ ও আরমানের কথিত ‘টেলি কথোপকথনের’ একটি অডিও ইন্টারনেটেও ছড়িয়েছে। সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে র‌্যাব কর্মকর্তা আশিক বিল্লাহ বলেন, “আমরা এই অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুনেছি। তবে এটা আমাদের সূত্র নয়। আমরা গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করি।”

  • সেইদিন ৭ কোটি মুক্তিপিপাসু বাঙালির মনে জেগেছিল স্বাধীনতার ঢেউ

    সেইদিন ৭ কোটি মুক্তিপিপাসু বাঙালির মনে জেগেছিল স্বাধীনতার ঢেউ

    তানজিম হোসাইন রাকিবঃ

    আজ ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। আজ ২৬ শে মার্চ বাঙ্গালির শৃঙ্খল মুক্তির দিন। আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বিশ্বের বুকে লাল সবুজের পতাকা উড়ানোর দিন আজ।১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে ইতিহাসের পৃষ্ঠা রক্তে রাঙ্গিয়ে আত্মত্যাগের অতুলনীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে যে সংগ্রামে ঝাপিয়ে পরেছিল এ দেশের মানুষ দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জন করা স্বাধীনতা তার চূড়ান্ত ফলাফল। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ সূচনার সেই গৌরব ও অহংকারের দিন আজ। ভয়াল কালরাত্রীর পোড়া কাঠ, লাশ আর জননীর কান্না নিয়ে রক্তে রাঙ্গা নতুন সূর্য উঠেছিল ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ।সারি সারি স্বজনের মৃত দেহ, আকাশে কুন্ডলী পাকিয়ে উঠছে ধোয়া, জ্বলে উঠলো মুক্তিকামী মানুষের চোখ, গড়ল প্রতিরোধ, মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে জয় বাংলা স্লোগান তুলে ট্যাংকের সামনে এগিয়ে দিল সাহসী বুক। পাক বাহিনীর গনহত্যার বিরুদ্ধে বাংঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষনা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর ডাকে জীবন বাজি রেখে ঝাপিয়ে পরল বীর বাঙ্গালী। গুরুতর অমানিশা বেদ করে দেশের আকাশে উদিত হয় স্বাধীন সেই লাল টুকটুকে সূর্য। বাংলার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই শুনতে হয়েছিলো আজকের এই দিনে। ৩০ লাখ শহিদ আর ৩ লক্ষ নারীর সমভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত ৫৫ হাজার বর্গমাইলের এই স্বাধীন বাংলাদেশ।

    সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দুইশ’ বছরের ব্রিটিশ-বেনিয়া শাসনের অবসানের পর ২৪ বছর ধরে চলে বিজাতীয় ভাষাভাষী গোষ্ঠীর শাসন-শোষণ ও আগ্রাসন। ’৪৭-এর দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকদের নানা কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাঙালির সংগ্রামের চেতনার উন্মেষ ঘটতে থাকে। মাতৃভাষার দাবিতে ’৪৮ সাল থেকে শুরু করে ’৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারির রক্তদান, সংগ্রাম-আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে রায়, ’৫৬-তে এসে সংবিধানে রাষ্ট্রভাষা বাংলার স্বীকৃতি আদায়, ’৬২-এর শিক্ষা কমিশন আন্দোলন, ’৬৬-এর ৬ দফার মধ্য দিয়ে বাঙালির মুক্তির সনদ ঘোষণা, ’৬৯-এর ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের বিদায় এবং ’৭০-এ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের ধারাবাহিকতায়ই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এসেছে স্বপ্নের স্বাধীনতা।

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস একটি ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। আমাদের জীবনে এ দিনটির গুরুত্ব অপরিসীম। এটি নব প্রত্যয় ও শপথ গ্রহণের দিন। ১৯৭১ সালের ২৬-এ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘােষণা করেন। দেশকে স্বাধীন করার জন্য বাঙালি নিয়েছিল দৃপ্ত শপথ। পশ্চিম পাকিস্তানের শােষণের নাগপাশ থেকে নিজেদের মুক্ত করার জন্য এবং আপন পরিচয় খোঁজার নিমিত্তে সেদিন বাঙালি গর্জে উঠেছিল। দীর্ঘদিনের শােষণ ও নিপীড়ন ভেঙে আবহমানকালের গৌরবময় সাহসিকতার ইতিহাস যেন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেদিন এ জাতির ভেতরে। তাই সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করে সেদিন বাঙালি অর্জন করেছিল স্বাধীনতার সােনালি সূর্য।

    বাংলাদেশের জন্য স্বাধীনতা দিবস আত্মত্যাগ ও আত্ম-অহংকারের একটি দিন। ১৯৭১ সালের ২৬-এ মার্চ এদেশের মানুষ পৃথিবীর বুকে নতুন একটি মানচিত্রের সৃষ্টি করে। বাঙালির মুক্তির সমস্ত আকাঙ্ক্ষা সমন্বিত হয়েছিল সেদিন। আকাশের নক্ষত্ররাজির মতাে ছােটো-বড়াে হাজারাে ঘটনার জন্ম হয়েছিল সেদিন। সমস্ত জাতি যেন একই অঙ্গীকারে শপথ নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে। রক্তস্নাত হয়ে এ সবুজ-শ্যামল বাংলা অন্যরূপ পেয়েছিল সে সময়। বাঙালির সে ক্ষণের বীরত্বের ইতিহাস চর্চিত হয়েছে বহুভাবে বহুস্থানে। এ ইতিহাস আজন্মকাল ধরে বাঙালির হৃদয়ে জাগরূক থাকবে।

    আমাদের জন্য স্বাধীনতা দিবসের মূল তাৎপর্য হলাে— এটি আমাদের ত্যাগ ও মুক্তিসংগ্রামের গৌরবময় একটি দিন। এদিন আমাদের আত্মপরিচয়ের গৌরবে উজ্জ্বল; ত্যাগে ও বেদনায় মহীয়ান। এই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ দেশের বতি নিপীড়িত সাধারণ মানুষ মুক্তির নতুন দিশা অর্জন করেছিল। স্বাধীনতা অর্জনের জন্যে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে ইতিহাস রচিত হয়েছে তা এদেশের মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সােচ্চার হতে যুগে যুগে প্রেরণা জোগাবে। তাই প্রতিবছর ২৬-এ মার্চ এলেই বাঙালি নতুন শপথ গ্রহণের মাধ্যমে উজ্জীবিত হয়।

    স্বাধীনতার মূল অর্থ হলাে অধীনতা থেকে মুক্তি; আত্মােন্নয়নের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে নিজেকে বিকশিত করার সুযােগ লাভ । প্রতিটি স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে এনে দেয় নতুন সম্ভাবনা। আমরা নিজেদের ভেতরে স্বাধীনতার স্বাদ কতটা অনুভব করতে সমর্থ হচ্ছি তা মূল্যায়ন করি। স্বাধীনতার সুফল আমরা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে পারছি কিনা তাও আমরা ভেবে দেখি।

    মানুষ জন্মগতভাবে স্বাধীনতার অধিকারপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু বর্তমানে দেশে ও বিশ্বে পরাধীনতাই যেন সবাইকে ধীরে ধীরে গ্রাস করছে। আমাদের সমাজেও সুপ্তভাবে এই প্রক্রিয়াটি লক্ষ করা যায়। কিন্তু ভুললে চলবে না আমাদের স্বাধীনতা অনেক রক্তের দামে কেনা; শহিদদের এই পবিত্র রক্তের দায় জাতি হিসেবে আমাদের সবারই। সেই দায় শােধ হতে পারে কেবল স্বাধীনতাকে সবার জন্য ভােগ্য করে তােলার মাধ্যমে। এই প্রত্যয় নিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে ভবিষ্যৎকালের পথে ।

    তানজিম হোসাইন রাকিব 

     01742-165941

  • নবীন লীগের সত্যতা এবং অন্যান্য সংগঠনের ধাপ্পাবাজি।।

    নবীন লীগের সত্যতা এবং অন্যান্য সংগঠনের ধাপ্পাবাজি।।

    প্রতিষ্টাতা ও সভাপতি লুৎফুর রহমান সুইটের নেতৃত্বে তরুন ও নবীন সমাজকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ধারনা দিতে এবং ৭১’এর চেতনা শিখাতে বাংলাদেশ আওয়ামী নবীন লীগের জন্ম। আপামর নবীন সমাজকে মাদকমুক্ত এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারে দীক্ষিত করতে নবীন লীগ তার পথচলা শুরু করে। এ পথচলা দু’এক বছরের নয়। এগার বছরের বর্ণিল অগ্রগন্য সাংগঠনিক পথচলা। বাংলাদেশ আওয়ামী নবীন লীগ ০৫-০৩-২০১০ ইং তারিখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ভিত্তিতে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একঝাক সংগঠন প্রিয় তরুনকে নিয়ে পথচলা শুরু করে। ২০১০- ২০১৫ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক পথচলা শুরু করে। সংগঠনকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ৩১-০৩-২০১৫ ইং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ সাহেব বরাবর সংগঠনকে প্রাথমিক পর্যায়ে সহযোগী সংগঠনে অন্তর্ভুক্তিকরনের আবেদন করা হয়। সংগঠনকে এগিয়ে দ্রুত সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সারা বাংলাদেশ ব্যাপী সংগঠনকে ত্বরান্বিত করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ সাহেবের বিশেষ তাগিদ রয়েছে। এ সংগঠনটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজরদারীতে আছে।

    সাংগঠনিক পরিচিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং স্থানীয়, জাতীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সর্বদা এ সংগঠন সম্পর্কে সকলে অবগত। ‘ বাংলাদেশ আওয়ামী নবীন লীগ’ ভূঁইফোড় কোন সংগঠন নয়। এ সংগঠনের সত্যতা, ভিত্তি এবং সামগ্রিক কার্যক্রম সারাদেশব্যাপী বিদ্যমান। এই করোনা কালীন সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী নবীন লীগের প্রতিটি সাংগঠনিক ইউনিট মাস্ক বিতরণ, সামাজিক কার্যক্রম এবং মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। মুজিবীয় আদর্শ বুকে ধারন এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী নবীন লীগ। আমরাও ভূঁইফোড় সংগঠনের বিরুদ্ধে। যারা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর আদর্শ বিক্রি করে খায়। এদের সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী নবীন লীগকে মেলাতে যাবেন না, সাধু সাবধান! বাংলাদেশ আওয়ামী নবীন লীগ নবীন নবীন প্রজন্মকে একাত্তরের চেতনা শেখায়, বঙ্গবন্ধুকে শিখতে শেখায়।

    আমরা দোকানদারীর সংগঠন করি না। যেসব নামে-বেনামে দোকানদারীর সংগঠন আছে,যাদের আদৌ কোন সত্যতা নেই তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী নবীন লীগ সর্বদা সোচ্চার। আমরা কারও প্রতিপক্ষ নয়। বাংলাদেশ আওয়ামী নবীন লীগ নেতৃত্বের প্রতিযোগিতার রাজনীতি শেখায়, প্রতিহিংসার নয়। তবে ভূঁইফোড়, ধাপ্পাবাজি সংগঠনের বিরুদ্ধে সর্বদা আমরা। তবে, সবচেয়ে খুশির খবর হলো আপামর নবীন সমাজ বাংলাদেশ আওয়ামী নবীন লীগকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে। ‘ এসো নবীন দলে দলে নবীন লীগের পতাকা তলে।’ জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু জয়তু শেখ হাসিনা। জয় হোক নবীনদের। আগামী হোক নবীনের।

  • গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত বঙ্গবন্ধু

    গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত বঙ্গবন্ধু

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গান্ধী শান্তি পুরস্কার-২০২০ এ ভূষিত করেছে ভারত সরকার। সোমবার (২২ মার্চ) দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে।

    ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছে, ঠিক সেই সময় তাকে এমন সম্মান দিতে পেরে ভারতের সরকার ও জনগণ সম্মানিত রোধ করছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত এক সভায় এই পুরস্কারের জুরি বোর্ড সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২০ সালের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গান্ধী শান্তি পুরস্কারের জন্য নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেন।

    এতে আরও বলা হয়েছে, গান্ধী শান্তি পুরস্কারের জন্য এক কোটি টাকা, একটি পদক ও একটি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প দেয়া হবে।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানবাধিকার ও মানুষের মুক্তির কাণ্ডারি ছিলেন। ভারতীয়দের কাছেও নায়ক তিনি।

    তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার ও অনুপ্রেরণা দুই দেশের ঐতিহ্যকে বিস্তীর্ণ ও শক্তিশালী করেছে। তার দেখানো পথেই গত দুই দশকে বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্ব, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তি আরও পোক্ত হয়েছে।

    ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতিবছর গান্ধী শান্তি পুরস্কার দিয়ে আসছে ভারত সরকার। মহাত্মা গান্ধীর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ওই বছর থেকে তার মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই পুরস্কার চালু করা হয়।  জাতীয়তা, জাতি, ধর্ম-মত ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সবাইকে এই পুরস্কার দেয় ভারত সরকার।

  • ৪১তম বিসিএস প্রিলিতে অনুপস্থিত ১ লাখ পরীক্ষার্থী

    ৪১তম বিসিএস প্রিলিতে অনুপস্থিত ১ লাখ পরীক্ষার্থী

    শুক্রবার অনুষ্ঠিত ৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রায় ১ লাখ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। অনুপস্থিতির হার প্রায় ২৫ শতাংশ। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    পিএসসি সূত্রের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪১তম বিসিএসে আবেদন করেছিলেন ৪ লাখ ৪ হাজার ৫১৩ জন চাকরিপ্রার্থী। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তিন লাখ চার হাজার ৯০৭ জন। অর্থাৎ প্রবেশপত্র ডাউনলোড করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি ৯৯ হাজার ৬০৬ জন পরীক্ষার্থী। অনুপস্থিতির হার ২৪ দশমিক ৬২ শতাংশ।

    এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, ৪০তম বিসিএস থেকে ৪১তম বিসিএসের মধ্যে এক বছরের ব্যবধান। এসময়ের মধ্যে অনেকেই অন্য পেশায় যুক্ত হয়ে গিয়েছেন। তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। তাছাড়া করোনার একটা প্রভাবতো ছিলই।

    তিনি বলেন, ৪০তম পরীক্ষায় প্রায় ২১ শতাংশ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। সে হিসেবে অনুপস্থিতির হার অস্বাভাবিক না। প্রায় এক বছর পর একটি পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। উপস্থিতির হার সন্তোষজনক। এ জন্য তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।

    শুক্রবার (১৯ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহের ৩৫৯টি কেন্দ্রে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়।

    বিভিন্ন ক্যাডারে দুই হাজার ১৬৬ শূন্য পদে নিয়োগ দিতে ৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় ২০১৯ সালের নভেম্বরে। ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে আবেদন জমা নেওয়া হয় ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থীদের মধ্য থেকে প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার পদে ৩২৩ জনসহ সাধারণ ক্যাডারে ৬৪২ জন, প্রফেশনাল ও টেকনিক্যাল ক্যাডারে ৬১৯ জন, সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ৮৯২ জন, সহকারী শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য ১৩ জনসহ মোট দুই হাজার ১৬৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।

  • বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ

    বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জনগণ নির্বাচিত করেছে বলেই আজ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের সুযোগ পেয়েছি। এ কারণে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমি আমার দল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞ।’

    রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন তিনি। আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সময়টাকে আমরা এমনভাবে উদযাপন করব যাতে সাধারণ মানুষ সুফলটা পায়।

    নতুন করে করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন। বলেন, ‘করোনাভাইরাস আবার নতুন করে দেখা দিয়েছে। আমি সবাইকে অনুরোধ করব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে। এ সময় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যেন মানুষ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’

    সভা সঞ্চালনায় ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।

    ১৫ আগস্ট জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডের নির্মম বর্বরতার কথা উল্লেখ করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি বলেন, ‘এভাবে তাকে হত্যা করা হবে, এটা বোধ হয় তিনি কখনও কল্পনাও করতে পারেননি, বিশ্বাসও করতে পারেননি। তার কারণ ছিল, বাংলাদেশের মানুষকে তিনি গভীরভাবে ভালোবেসেছিলেন।’

    বঙ্গবন্ধুর শৈশবস্মৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বড় মেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, সেই দীর্ঘ সংগ্রামের পথ বেয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের যে স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, অথচ সেই স্বাধীন দেশেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। শুধু হত্যা করে নয়, হত্যার পর ইতিহাস থেকে তার নামটা মুছে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা হলো। এখানে স্বাধীনতার ঘোষক দাঁড় করানো হলো। স্বাধীনতার নায়ক বানানো হলো। স্বাধীনতার ইতিহাস পাল্টে দেওয়া হলো।’

    ‘এই বাংলাদেশে এমন একটা সময় ছিল যে তার নামটা পর্যন্ত নেওয়া যেত না। তার নাম নেওয়া যেন নিষিদ্ধ ছিল। যে মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখো শহীদ রক্ত দিয়েছেন, কত মা-বোন ইজ্জত দিয়েছেন, কত মানুষ আপনজন হারিয়েছেন, গৃহহারা হয়েছেন; এই যে এত বড় একটা বিশাল অবদান, সেই অবদানের মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছিলাম স্বাধীনতা। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে ৭৫-এর পর এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল যে, যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল তারা নিজেরা যে বলবে আমি মুক্তিযুদ্ধ করেছি; সেই কথাটা বলার মতো সাহস তাদের ছিল না। সেই সাহসটাও হারিয়ে ফেলেছিল। কারণ তাহলে নির্যাতনের শিকার হতে হতো।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র জাতির পিতাকে হত্যা করে অবৈধভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে যারা ক্ষমতা দখল করেছিল, তাদের চাটুকারিতা যারা করতে পারত শুধু তারাই সবকিছুই বলতে পারত। তাদের জন্য যেন সবকিছু বলার একটা অধিকার ছিল। কিন্তু সত্যকে সত্য বলা, সত্য ইতিহাস তুলে ধরা নিষিদ্ধ ছিল।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ, যে ভাষণ এ দেশের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যে ভাষণের মধ্য দিয়ে অসহযোগ আন্দোলন, সেই অসহযোগ আন্দোলনকে সশস্ত্র বিপ্লবে রূপ দিয়েছিল; সেই ভাষণও নিষিদ্ধ ছিল। আজ জাতির পিতার জন্মদিন আমরা পালন করছি। আমি বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি আমার দল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞ।’

    তিনি আরও বলেন, আজ আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পেরেছি। এ কারণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করার সুযোগ পেয়েছি।

    ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি পালন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে গৃহীত কর্মসূচিগুলো বাতিল করে শুধুমাত্র ভার্চুয়ালি কিছু কর্মসূচি পালন করা হয়। এখন ১৭ থেকে ২৬ মার্চ ১০ দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান-সরকারপ্রধানসহ বিশ্বনেতৃবৃন্দের আগমন এবং ভিডিওতে শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করছেন। আজ এই অনুষ্ঠানগুলো করার সুযোগ পেয়েছি জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছিল বলেই। যেখানে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল, আজ আর সেই নাম মুছতে পারবে না কেউ। যেখানে মিথ্যা ঘোষক হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, আজ আন্তর্জাতিকভাবেও আপনারা দেখেন, সেই ঘোষকের আর কোনো ঠিকানা থাকবে না। কারণ, আজ বিশ্বনেতৃবৃন্দ নিজেরাই প্রচার করছেন এবং অনেক জায়গায় রেজুলেশনও হচ্ছে যে, ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

    ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্ম এই মাটিতে হয়েছিল বলেই তার মতো একজন বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আমরা পেয়েছিলাম। তিনি ছোটবেলা থেকেই খুব সংবেদনশীল ছিলেন, মানুষের প্রতি দরদি ছিলেন। তার কোনো অহমিকা ছিল না। তিনি সাধারণ মানুষকে সাহায্য করতে পছন্দ করতেন। মানুষের পাশে থাকতেন। দরিদ্র ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে তিনি সহযোগিতা করতেন।’

    প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি (বঙ্গবন্ধু) মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কারও কাছে কখনও মাথা নত করেননি— বলেন প্রধানমন্ত্রী।

  • সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা হলেই প্রতিরোধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা হলেই প্রতিরোধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    দেশের সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা হলেই তা প্রতিরোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সুনামগঞ্জের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে আর ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

    বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) রাজধানীতে এ কথা বলেন তিনি।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হামলার শিকার যারা তারা মামলা করে কি না-সে জন্য সুনামগঞ্জের এসপি অপেক্ষা করছিল, পরে তারা না করায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এ মামলা চলবে, আর যারা ক্ষতিগ্রস্ত বেশি হয়েছে সরকার তাদের ব্যবস্থা অবশ্যই করবে। এটা অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ, এখানে কেউ সাম্প্রদায়িক চেতনার উসকানি দিয়ে রক্ষা পাবে এমনটা হবে না।

    এদিকে সুনামগঞ্জের শাল্লায় হামলা-লুটপাটের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও মামলা ও আটক করা হয়নি কাউকে। ঘটনার পর থেকে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নোয়াগাঁও গ্রামবাসীর।

    এরই মধ্যে সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় হামলার শিকার ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন তারা।

    ফেসবুকে পোস্টকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জে হিন্দুবাড়িতে হামলার ঘটনায় এলাকা পরিদর্শন করে র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রাম পরিদর্শন শেষে বেলা ১১টায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশ থেকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ লড়াই করে হটিয়ে দিয়েছে।

    নোয়াগাঁওয়ে হিন্দুদের ঘরবাড়িতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। যারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা করছে তাদের অতিদ্রুত আইনের আওয়তায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হবে। যাতে আগামীতে এ ধরনের আর কোনো ঘটনা না ঘটে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা।

    এদিকে হামলার পর গতরাতে র‌্যাবের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় বুধবার সকালে শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে হিন্দুপল্লিতে হামলা চালায় তার কট্টরপন্থি সমর্থকরা। এ সময় ৮৮টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুট করে বলে জানান স্থানীয়রা। এতে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।