Category: জাতীয়

  • নিজেকে সুরক্ষিত রেখে বইমেলায় যাবেন : প্রধানমন্ত্রী

    নিজেকে সুরক্ষিত রেখে বইমেলায় যাবেন : প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বইমেলায় যাবেন, বইও দেখবেন। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন। বই পড়ার অভ্যাসটা যেন থাকে, এটা সবাইকে দেখতে হবে।

    বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘টিকা দিয়েই কেউ ভাববেন না যে সুরক্ষিত হয়ে গেছি। এই কথাটি আমি বারবার বলছি। টিকা দেওয়ার পরও হাত ধোয়া, মাস্ক পরা থেকে শুরু করে সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন।’

    বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য ‍পুরস্কার-২০২১ গ্রহণ করেছেন ১০ সাহিত্যিক। ১০টি ক্যাটাগরিতে তাদেরকে এ পুরস্কার দেওয়া করা হয়।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বিজয়ী সাহিত্যিকদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

    পুরস্কার পাওয়া সাহিত্যিকরা হলেন- কবিতায় কবি মুহাম্মদ সামাদ, কথাসাহিত্যে ইমতিয়াজ শামীম, প্রবন্ধ সাহিত্যে বেগম আখতার কামাল, অনুবাদে সুরেশ রঞ্জন বসাক, নাটকে রবিউল আলম, শিশুসাহিত্যে আনজীর লিটন, মুক্তিযুদ্ধে সাহিদা বেগম, বিজ্ঞান ও কল্পবিজ্ঞানে অপরেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা ও ভ্রমণকাহিনী বিভাগে ফেরদৌসী মজুমদার এবং ফোকলোর বিভাগে হাবিবুল্লাহ পাঠান।

  • স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মার্চপাস্ট-র‌্যালি বন্ধের নির্দেশ

    স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মার্চপাস্ট-র‌্যালি বন্ধের নির্দেশ

    স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় দেশের সব মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মার্চপাস্ট ও র‌্যালি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

    বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত নির্দেশনা অধিদপ্তরের সব উপ-পরিচালক, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক, সব জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা/থানা শিক্ষা অফিসারকে পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন সব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে করোনা পরিস্থিতির কারণে শ্রেণিকক্ষে সরাসরি পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ আছে। কিন্তু ইতোমধ্যে কিছু কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মার্চপাস্ট ও র‌্যালির আয়োজন করছে মর্মে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি গোচর হয়েছে। যা এ মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ।

    ‘এমতাবস্থায় পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত আগের ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ে- এমন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। ’

    গত বছরের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণের পর ১৮ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এছাড়া মার্চপাস্ট, র‌্যালি বা এ ধরনের সব সহশিক্ষা কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছে।

    আগামী ৩০ মার্চ স্কুল-কলেজ এবং ২৪ মে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সরকার সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী নবীন লীগের সারাদেশব্যাপি কর্মসূচি পালন করা হয়

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী নবীন লীগের সারাদেশব্যাপি কর্মসূচি পালন করা হয়

    নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ-

    ১৭ই মার্চ আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী নবীনলীগের সারাদেশ ব্যাপি বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। এর মধ্যে দোয়া মাহফিল, বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ,খাদ্য বিতরণ,বৃক্ষরোপন কর্মসূচি,কেক কাটা সহ,বঙ্গবন্ধু বিষয়ক আলোচনার মাধ্যেমে এটি সম্পূর্ণ করা হয়।
    এতে অংশ গ্রহণ করেন বাংলাদেশ আওয়ামী নবীনলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সকল নেতাকর্মী ও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ সহ সকল থানা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এবং ৬০ টি জেলা ও উপজেলা সহ সকল ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে এই কর্মসূচি পালন করেন।

    বাংলাদেশ আওয়ামী নবীনলীগ প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় নিউইয়র্ক আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লুৎফুর রহমান সুইটের হাত ধরে,তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি,

    বাংলাদেশ আওয়ামী নবীনলীগের প্রথম যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালের ৫ই মার্চ এবং ইতি মধ্যে এই সংগঠনটি বেপক পরিশরে জনপ্রিয়তা এবং তাদের কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রমান করেছেন,,তারা মুজিব আর্দশের সৈনিক,এরি ধারাবাহিকতায় লুৎফুর রহমান সুইটের এর নেতৃত্বে ৬০ টি জেলা কমিটি এবং ২০০ টির অধিক উপজেলা এবং ২০০ ইউনিয়ন পর্যায় কমিটি সম্পূর্ণ হয়েছে।

    মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে এই সংগঠনটি ভূমিকা ছিলো অকল্পনীয় তারা ৬৪ টি জেলায় মসজিদ মাদ্রাসায় কুরআন শরীফ বিতরন মাস্ক বিতরণ খাদ্য সামগ্রী এবং বিভিন্ন পরিবারকে সাময়িক নিজ অর্থায়নের কিছু অর্থ প্রদান করেন এবং শীতকালেও তাদের কম্বল বিতরণ কমসূচি তারা যথাযথ ভাবে সম্পূর্ণ করেন।

    এই সংগঠনটি ৩১-০৩-১৫ তারিখে প্রথম সহযোগী সংগঠন রূপে অন্তর্ভুক্ত করণ প্রসঙ্গে একটি আবেদন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কার্যালয়ে এবং তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মরহুম সৈয়দ আশরাফুলের নিকট জমা দেওয়া হয়।

  • সেদিন জন্ম হয়েছিল একটি মুজিবের

    সেদিন জন্ম হয়েছিল একটি মুজিবের

    তানজিম হোসাইন রাকিবঃ

    দিনটি ছিল ১৭ই মার্চ ১৯২০। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফুর রহমান এবং সায়রা বেগমের ঘরে জন্ম নেন একটি শিশু।তখনও বাংলাদেশ নামক দেশটি ছিল পরাধীন। সেদিন কে ভেবেছিলো একদিন এই শিশু হবে একটি স্বাধীন মানচিত্রের কর্নধর। কে ভেবেছিলো একদিন এই শিশুর হাত ধরে আসবে বাংলার স্বাধীনতা। কে ভেবেছিলো একদিন এই শিশুর তর্জনীর ইশারায় ৭ কোটি স্বাধীনতা পিপাসু বাঙালি ছিনিয়ে আনবে স্বাধীনতা। সেই শিশুটি একদিন পরিনত হবে একজন শেখ মুজিবুর রহমানে।

    ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুল ও কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে পড়াশনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাশ করেন। ১৮ বছর বয়সে বেগম ফজিলাতুন্নেসার সাথে তাঁর বিয়ে হয়। তাদের ২ মেয়ে – শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তিন ছেলে- শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল। অল্পবয়স থেকেই তাঁর রাজনৈতিক প্রতিভার প্রকাশ ঘটতে থাকে। ১৯৪০ সালে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম লীগের ছাত্র সংগঠন নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দেন। কট্টরপন্থী এই সংগঠন ছেড়ে ১৯৪৩ সালে যোগ দেন উদারপন্থী ও প্রগতিশীল সংগঠন বেঙ্গল মুসলিম লীগে। এখানেই সান্নিধ্যে আসেন হুসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে রক্ষণশীল কট্টরপন্থী নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের কর্তৃত্ব খর্ব করতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্র লীগ। ভাষা আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শেখ মুজিব। ১৯৪৮ সালে ভাষার প্রশ্নে তাঁর নেতৃত্বেই প্রথম প্রতিবাদ এবং ছাত্র ধর্মঘট শুরু হয় যা চূড়ান্ত রূপ নেয় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে। পঞ্চাশের দশক তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের কাল। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠেন দূরদর্শীতা এবং প্রজ্ঞাসম্পন্ন এক কুশলী রাজনৈতিক নেতা। এসময় শেখ মুজিব মুসলিম লীগ ছেড়ে দেন এবং হোসেন সোহরাওয়ার্দী এবং মাওলানা ভাসানীর সাথে মিলে গঠন করেন আওয়ামী মুসলিম লীগ। তিনি দলের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে যুক্তফ্রন্ট সরকারের কৃষি মন্ত্রী হন মুজিব। ১৯৫৬ সালে কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান তিনি।
    ১৯৬৩ সালে হোসেন সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন শেখ মুজিব। তিনি ছিলেন আইয়ুব খানের ‌মৌলিক গণতন্ত্র তত্ত্বের কট্টর সমালোচক। ১৯৬৬ সালে লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর জাতীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এই ছয় দফা ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত্বশাসনের রূপরেখা।
    মুজিবের ৬ দফার প্রতি জনগণের ব্যাপক সমর্থনে ভীত হয়ে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার শেখ মুজিবকে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বাংলার সমস্ত জনগণ। জনরোষের কাছে নতি স্বীকার করে এক পর্যায়ে তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় শোষকগোষ্ঠী। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে শেখ মুজিবুর রহমানকে গণসম্বর্ধনা দেওয়া হয়৷সেখানেই উত্থাপিত হয় এগার দফা দাবি যার মধ্যে ছয় দফার সবগুলোই দফাই অন্তর্ভুক্ত ছিল। লাখো মানুষের এই জমায়েতে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়৷১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর আয়োজিত এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, “একসময় এদেশের বুক হইতে, মানচিত্রের পৃষ্ঠা হইতে ‘বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। … একমাত্র ‘বঙ্গোপসাগর’ ছাড়া আর কোন কিছুর নামের সঙ্গে ‘বাংলা’ কথাটির অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। … জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি- আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম পূর্ব পাকিস্তানের পরিবর্তে শুধুমাত্র বাংলাদেশ”।১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক আইনসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আওয়ামী লীগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩১০টি আসনের মধ্যে ৩০৫টি আসন লাভ করে। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী মুজিবের স্বায়ত্বশাসনের নীতির পুরোপুরি বিপক্ষে ছিলো। আওয়ামী লীগের সরকার গঠন ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সংসদের অধিবেশন ডাকা নিয়ে টালবাহানা শুরু করেন। শেখ মুজিব তখনই বুঝে যান যে, পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের দুঃশাসনের অবসান ঘটাতে লড়াইয়ের কোনো বিকল্প নেই। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এক ঐতিহাসিক ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন। রেসকোর্সের জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”। ঐতিহাসিক এ ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে শৃংখল মুক্তির আহ্বান জানিয়ে ঘোষণা করেন, “রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ্। … প্রত্যেকে ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো। যার যা কিছু আছে তাই নিয়েই শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে”।
    বঙ্গবন্ধুর ডাকে উত্তাল হয়ে ওঠে সারা বাংলা। মুজিবের নেতৃত্বে বাঙ্গালি জাতির এই জাগরণে ভীত ইয়াহিয়া খান সামরিক আইন জারি করেন, নিষিদ্ধ করেন আওয়ামী লীগকে এবং শেখ মুজিবকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। এরপর আসে ২৫ মার্চ, ১৯৭১। রাতের অন্ধকারে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালীর ওপর শকুনের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনারা; শুরু করে অপারেশন সার্চলাইট নামে ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকান্ড।অশীতিপর বৃদ্ধ থেকে কোলের শিশু- কেউ রক্ষা পায়না পাক হায়েনাদের নারকীয়তা থেকে। মুজিবকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম পাকিস্তানে। অবশ্য তার আগেই, পাক বাহিনীর অভিযান শুরু হলে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং জনগণকে সর্বাত্মক আন্দোলনে সামিল হতে আহ্বান জানান।

     

    ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় এবং শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। তাঁর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। এ সরকারের অধীনেই গঠিত হয় মুক্তিবাহিনী এবং শুরু হয় পাক সেনাদের প্রতিহত করার পালা। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর, ৩০ লক্ষ বাঙ্গালীর প্রাণের বিনিময়ে অবশেষে আসে বিজয়। ১৬ ডিসেম্বর সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যেখান থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু, সেখানেই বাংলাদেশ-ভারত মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী। পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামের নতুন একটি দেশ। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ফিরে আসেন তাঁর প্রিয় মাতৃভূমিতে, তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন দেশে। স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা, জাতির জনককে বরণ করতে লাখো মানুষের ঢল নামে বিমানবন্দরে। দেশে ফিরেই যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে ঝাঁপিয়ে পড়েন বঙ্গবন্ধু । মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সাহায্যের আবেদন জানান বঙ্গবন্ধু এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সাহায্য আসতে শুরু করে। শুরু হয় বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এক নতুন যুদ্ধ। এরই মধ্যে সক্রিয় হয়ে ওঠে স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্র। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে রাজনৈতিক অস্থিতশীলতা সৃষ্টি করতে উঠেপড়ে লাগে এই চক্রটি। এসময় বঙ্গবন্ধু বুঝতে পারেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। ১৯৭৪ সালে তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে এক ছাতার নীচে আনতে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা ‘বাকশাল’। একই সাথে অন্যান্য সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়। উল্লেখ্য, প্রথম যে দলটি নিষিদ্ধ করা হয় তার নাম বাংলাদেষ আওয়াশী লীগ, শেখ মুজিবের নিজের দল।
    এর ফলে দেশে স্থিতিশীলতা আসতে শুরু করে। সমস্ত দেশ যখন ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, ঠিখ তখনই আসে আরেকটি আঘাত।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা হত্যা করে শেখ মুজিব এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের।নেমে আসলো বাংলার রাজনীতিতে একটি কালো অধ্যায়। কেবল তাঁর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সেই সময় দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান। সদ্য স্বাধীন জাতির জীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি নিয়ে আসে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড, তৈরি করে রাজনৈতিক শূণ্যতা, ব্যাহত হয় গণতান্ত্রিক উন্নয়নের ধারা।

    এই মহান ব্যাক্তির জন্মশতবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।

    তানজিম হোসাইন রাকিব 

    01742165941

  • ব্যক্তিগত আক্রমণ করছে বিএনপি : কাদের

    ব্যক্তিগত আক্রমণ করছে বিএনপি : কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি রাজনীতি ভুলে এখন ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু করছে।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, ইস্যু খুঁজে না পেয়ে বিএনপি এখন ব্যক্তিগত বিষয়াদি নিয়ে কথা বলছেন, যা রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের মধ্যে পড়ে না।

    তাদের দৃষ্টি এখন কে কি পোশাক পড়লো, কে কত টাকার ঘড়ি পড়লো ইত্যাদি। বিএনপি রাজনীতি ভুলে এখন ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু করছে।

    রবিবার (১৪ মার্চ ) সকালে ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন।

    বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে এখন গভীর হতাশায় নিমজ্জিত উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, হতাশার কারণে বিএনপি এখন তীব্র মনপীড়ায় ভুগছে, রাজনীতি ভুলে ব্যবহার্য বিষয় এখন তাদের আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতাদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, অন্যের বিরুদ্ধে বলার আগে নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখুন।

    আওয়ামী লীগ দেশে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে, বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ নয়, রাজতন্ত্র আর পরিবারতন্ত্র চর্চা বিএনপিরই রাজনৈতিক সংস্কৃতি। বিএনপির শাসনামলে বেগম জিয়ার পাশাপাশি এক যুবরাজ সরকারের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতো, গড়ে তুলেছিলেন বিকল্প ক্ষমতাকেন্দ্র, যাকে বলা হতো দুর্নীতির বরপুত্র। অপরদিকে জনগণ চাইলেও প্রধানমন্ত্রী তার সন্তানদের সক্রিয় রাজনীতিতে আনেননি। রাজতন্ত্র কিংবা পরিবারতন্ত্র তো তারাই প্রতিষ্ঠা করেছে, যারা দলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতাদের বাদ দিয়ে একজন অপরাধীকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করে রেখেছে।

    তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা অদৃশ্য সুতার টানে নাচেন। বিএনপি সমালোচনার নামে প্রতিদিন সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মিথ্যাচার চালাবেন, আর এর জবাব দিলে বিএনপির কেন এত গাত্রদাহ হয়, তা জানতে চাই।

    পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে টাঙ্গাইল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

    এ সময় তিনি বলেন ৭ মার্চকে ছোট করার জন্যই বিএনপি ৭ মার্চ পালন করছে। সুবর্ণজয়ন্তী পালনে তাদের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইতিহাসের ফুট নোটকে ইতিহাসের মহানায়ক বানানোর অপচেষ্টা, জাতি এ ষড়যন্ত্র কোনোদিন বরদাশত করবে না। ইতিহাসের মীমাংসিত সত্যকে বিকৃত করতে বিএনপি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে।

  • সব উপজেলায় কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    সব উপজেলায় কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের সব উপজেলায় বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপন করবে সরকার।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার আধুনিকায়নের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছে। দেশের প্রত্যেক উপজেলায় এই সেবা দেয়ার ব্যবস্থা আমরা পর্যায়ক্রমে করে দেব। এরই মধ্যে আরো ১১০টি কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপনের বিষয়েও চিন্তা করছি এবং সে পদক্ষেপও আমরা নিচ্ছি। এজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

    বৃহস্পতিবার সকালে দেশের ৫ বিভাগের ২০টি জেলার ৭০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত ‘কমিউনিটি ভিশন সেন্টার’ -এর কার্যক্রম উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আগারগাঁওস্থ জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

    সরকারপ্রধান বলেন, কমিউনিটি ভিশন সেন্টারে কর্মরত দুইজন সিনিয়র নার্স উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেজ হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে রোগীর যাবতীয় তথ্য প্রেরণ করেন এবং রোগীর সঙ্গে চক্ষু বিশেষজ্ঞদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আধুনিক চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।

    তিনি বলেন, এরই মধ্যে তার সরকার চক্ষু রোগীদের যেমন চোখে ছানি পড়া, গ্লুকোমা বা ডায়াবেটিস, রেটিনোপ্যাথি বা শিশুর চোখে আঘাতজনিত চিকিৎসা, পাওয়ার চশমার ব্যবস্থাপনা সরকারিভাবে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আধুনিক চক্ষু সেবার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক সভাপতিত্ব করেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো.আব্দুল মান্নান এবং জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন।

    অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের কার্যক্রম এবং রেফারেল ব্যবস্থার বিষয়ে একটি ভিডিও তথ্যচিত্রও পরিবেশিত হয়।

    অনুষ্ঠানে বলা হয়, দেশের ৫ বিভাগের ৫টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে (রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (সিএমএমসি) এবং কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতাল) বেজ মেডিকেল হাসপাতাল ধরে ২০ জেলার ৭০ উপজেলায় ৭০টি আই ভিশন সেন্টারের যাত্রা শুরু হয়েছে।

    প্রতিটি কমিউনিটি ভিশন সেন্টারে রয়েছে দক্ষ নার্সবৃন্দ। তারা কোন রোগী চিকিৎসার জন্য এলে আধুনিক যন্ত্রাংশের সাহায্যে তার চোখের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার সম্পূর্ণ ফলোআপ বেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখান থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রোগীর চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং ওষুধ সেবা প্রদান করে থাকেন। পরে রোগীকে ওই ওষুধগুলো বিনামূল্যে সরবরাহ করে কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের নার্সবৃন্দ সেবন বিধি বুঝিয়ে দেন। এভাবেই বাড়ির নাগালে থাকা কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীরা বিশেষজ্ঞ চক্ষু সেবা যেন পেতে পারেন সেজন্যই এই সেন্টার চালু করা হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে রংপুরের পীরগাছা উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কমিউনিটি ভিশন সেন্টারগুলো ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিল।

    প্রধানমন্ত্রী পরে এসব স্থানের উপকারভোগী জনগণ, জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

  • আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

    আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

    সফেন আব্দুল্লাহঃ

    ঐতিহাসিক ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ভাষণের মধ্য দিয়ে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো বাঙালি জাতি।
    ১৯৭১ সালের এই দিনে মাত্র ১৮ মিনিটের ভাষণে সাড়ে সাত কোটি মুক্তিকামী বাঙালির জন্য বঙ্গবন্ধু রচনা করেন জাতির মুক্তির ইতিহাস। দেন স্বাধীনতার প্রস্তুতির ঘোষণা সেখানেই মেলে জনতার উত্তাল সাড়া। শুরু হয় পাকিস্তানি শোষকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী শ্লোগান।

    পরাধীনতা ভেঙে নিজেদের সার্বভৌম আত্মপরিচয়ের ঘোষণা- স্বাধীনতা। একটি নিরস্ত্র জাতিকে স্বাধীনতার চেতনায় জাগিয়ে তোলার এমন ভাষণ ইতিহাসে বিরল, তাই যতদিন মুক্তির সংগ্রাম থাকবে, ততদিন ৭ মার্চের ভাষণটি হয়ে থাকবে মুক্তিকামী মানুষের পথনির্দেশক। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর ‘মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ বা ‘বিশ্বের স্মৃতি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।

  • কমনওয়েলথের সেরা তিন নারী নেতার একজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    কমনওয়েলথের সেরা তিন নারী নেতার একজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    কমনওয়েলভুক্ত ৫৪টি দেশের সরকারপ্রধানদের মধ্যে সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ী তিন নারী নেতার একজন নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে অনন্য নেতৃত্বগুণ দেখানোয় তাকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন।

    কমনওয়েলথ মহাসচিব পেট্রেসিয়া স্কটল্যান্ড কিউসি আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২১ সামনে রেখে গত ৪ মার্চ এক বিশেষ ঘোষণায় তিন সরকারপ্রধানকে করোনাকালে ‘অসাধারণ নারী নেতৃত্ব ও গভীর অনুপ্রেরণাদায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    তিনি বলেন, আমি অনেক নারী এবং মেয়ের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়েছি। তারপরও আমাদের কমনওয়েলথের তিনজন বিস্ময়কর নেতার নাম বলতে চাই- নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডেন, বার্বাডোজের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটলে এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    এই তিন নেতা করোনাকালে যার যার দেশে নিজ নিজ ভূমিকায় অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন কমনওয়েলথ মহাসচিব।

    পেট্রেসিয়া বলেন, অনেক নারীর পাশাপাশি এই তিন নেতা আমাকে এমন একটি বিশ্বের আশা দিয়েছেন, যা নারী-পুরুষদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি করবে এবং আমাদের সার্বজনীন মঙ্গলের জন্য কাজ করবে।

  • দেশজুড়ে একযোগে প্রচার হবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ ভাষণ

    দেশজুড়ে একযোগে প্রচার হবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ ভাষণ

    সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চ জাতীয় দিবসে সারাদেশে নির্দিষ্ট সময়ে একযোগে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ প্রচার করা হবে।

    শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার কক্ষে শনিবার (৬ মার্চ) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু যে সময়টিতে ভাষণ দিয়েছেন ঠিক সে সময়ে সারাদেশে সকল মাধ্যমে ভাষণটি প্রচার করা হবে, ৩টা ১৮ বা ২০ মিনিটে। আমরা কাছাকাছি সময়ে থাকার চেষ্টা করব।’

    তিনি বলেন, বিটিভিসহ সব টিভি চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাষণটি একযোগে প্রচার হবে। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ভাষণটি প্রচার হলেও তখন শুধু ভাষণই প্রচার করা হবে।

    এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে সচিব মো. বদরুল আরেফিন বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর সে সময়ের ভাষণের কাছাকাছি সময়ে প্রচারের চেষ্টা করব। বাংলাদেশে তখন আর কোনো অনুষ্ঠান হবে না। সে সময়ে শুধু ভাষণটি প্রচার হবে। ৫০ বছর আগে যে সময়ে বক্তব্যটি প্রচার হয়েছিল সে সময়েই আমার প্রচার করব বলে সব মহল থেকে সুপারিশ হয়েছে। যে ভাষণটি সরকারিভাবে পিআইডির কাছে আছে, সেটি বিটিভি থেকে সব মাধ্যমে সম্প্রচার হবে। আমরা ৫০ বছর আগের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করছি।’

  • এইচ টি ইমামের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন

    এইচ টি ইমামের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন

    না ফেরার দেশে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। বুধবার দিনগত রাতে (সিএমএইচ)হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

    দেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিব এইচ টি ইমামের বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। এইচ টি ইমামের জন্ম ১৯৩৯ সালের ১৫ জানুয়ারি টাঙ্গাইল শহরে। পিতা তাফসির উদ্দীন আহমেদ বি.এ. বি.এল. ও মাতা তাহসিন খাতুন। পুরো নাম হোসেন তৌফিক হলেও পরে তিনি এইচ টি ইমাম নামেই পরিচিতি ছিলেন।

    বাবার চাকুরির যোগ সূত্রে শৈশবে রাজশাহীতে অবস্থান এবং রাজশাহীতেই প্রাথমিক শিক্ষা। পরবর্তীকালে লেখাপড়া করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া ও কলকাতায়। ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন এইচ টি ইমাম। আর ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে। এরপরর রাজশাহী কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি নিয়ে তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি নেন। তখন তিনি বাম ছাত্র সংগঠনে যুক্ত ছিলেন।

    এরপর তিনি, পাকিস্তানে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন। ১৯৬১ ব্যাচের সিএসপিদের মধ্যে তিনি ৪র্থ স্থান লাভ করেন এবং পাকিস্তান সরকারের উচ্চ পদে যোগদান করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স থেকে‘উন্নয়ন প্রশাসনে’পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা করেন।

    শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের লোভনীয় চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে দেশের পক্ষে কাজ করেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিপরিষদ সচিবও হন তিনি।

    স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ অগাস্ট পর্যন্ত তিনি মন্ত্রিপরিষদের সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত সাভারের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত তিনি সড়ক এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব-এর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত পরিকল্পনা সচিবের পদে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া যমুনা মাল্টিপারপাজ ব্রিজ অথরিটির এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    অবসর নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন এইচ টি ইমাম। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ছিলেন। দলের নির্বাচন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি, যে কমিটির চেয়ারম্যান শেখ হাসিনা।

    ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে উপদেষ্টার দায়িত্ব দেন। প্রথমে তিনি জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। ২০১৪ সালে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়।

    এইচ টি ইমাম নিজে নির্বাচনে না দাঁড়ালেও তার ছেলে তানভীর ইমাম সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য