Category: জাতীয়

  • মাতৃভাষা শেখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

    মাতৃভাষা শেখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

    মাতৃভাষা শেখার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য আমাদের অবশ্যই অন্যান্য ভাষা শিখতে হবে, পাশাপাশি আমাদের মাতৃভাষাও শিখতে হবে।

    শেখ হাসিনা অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২১ উপলক্ষে রোববার শেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। তিনি তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষা হলো ব্যক্তির পরিচয় এবং সেই পরিচয় সম্মান বয়ে আনে। তিনি উল্লেখ করেন যে পাকিস্তান আমলে বাংলা ব্যবহারের জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রথমে আরবি হরফে বাংলা লেখা, তার পরে আর একটি পদক্ষেপ ছিল লাতিন হরফে বাংলা লেখার জন্য। আমি জানি না বাংলা শব্দ নিয়ে কী সমস্যা ছিল।

    শেখ হাসিনা সংক্ষেপে ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একসময় যখন তিনি ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতার ভূমিকা বর্ণনা করার চেষ্টা করেছিলেন, তখন শিক্ষিত ব্যক্তিরাসহ অনেক লোক তাকে এই বলে বিদ্রূপ করেছিলেন যে সেই মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু কারাগারে থাকাকালীন ভাষা আন্দোলনে কীভাবে অংশ নিয়েছিলেন? কিন্তু কেন তাকে (বঙ্গবন্ধু) কারাগারে পাঠানো হলো, এটা ছিল বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলনের সূচনা, বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

    এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তানের গোয়েন্দা শাখা তাদের প্রতিবেদনে ভাষা আন্দোলনের জন্য বঙ্গবন্ধুর সব আন্দোলন বর্ণনা করেছে এবং সেই প্রতিবেদনগুলো ধীরে ধীরে বই আকারে প্রকাশিত হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও অফিস প্রধান বিয়েট্রিস খালদুন এবং শিক্ষা সচিব মাহবুব হোসেন প্রমুখ।

    মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ সিরাজী।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মাতৃভাষার চর্চা বা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিন ব্যক্তি এবং একটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে প্রথমবারের মতো ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক’ তুলে দেওয়া হয়। জাতীয় পর্যায়ে জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, খাগড়াছড়ির জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উজবেকিস্তানের গবেষক ইসমাইলভ গুলম মিরজায়েভিচ এবং বলিভিয়ার অনলাইন উদ্যোগ অ্যাক্টিভিজমো লেংকুয়াস এ বছর বাংলাদেশ সরকারের এই সম্মাননা পেয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি পদক তুলে দেন। এ সময় শেখ হাসিনা এই পুরস্কার গ্রহণকারীদের, বিশেষত তার শিক্ষক জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের হাতে সরাসরি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পদক তুলে দিতে না পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

  • চাকরিতে নিয়োগ ও কলেজ-বিশ্বদ্যিালয়ে ভর্তির আগে ডোপ টেস্ট করা হবে

    চাকরিতে নিয়োগ ও কলেজ-বিশ্বদ্যিালয়ে ভর্তির আগে ডোপ টেস্ট করা হবে

    সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও কলেজ-বিশ্বদ্যিালয়ের ভর্তির ক্ষেত্রে প্রত্যেকের ডোপ টেস্ট করার ব্যবস্থা করবে সরকার। এ বিষয়ে পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

    বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান মন্ত্রী। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    মন্ত্রী বলেন, যত কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ হবে, সেটা বিসিএস হোক আর যাই হোক, প্রত্যেকের ডোপ টেস্ট করা হবে। যারা কলেজ বিশ্বদ্যিালয়ের ভর্তির ক্ষেত্রেও ডোপ টেস্ট চালু করা হবে। যারা চাকরিতে আছেন তাদেরও বিরুদ্ধে মাদক গ্রহণের অভিযোগ পাওয়া গেলে ডোপ টেস্ট করা হবে। এ কার্যক্রম ব্যাপক হারে প্রয়োগ হবে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। এটা করা হবে যাতে প্রত্যেকের মধ্যে সেলফ কন্ট্রোল তৈরি হয়।

    এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, চাকরিতে যারা আছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে কেবল তাদের ডোপ টেস্ট হবে। গড় হারে করা হবে না, সবার তো গড় হারে করা সম্ভব না।

    এদিকে, মাদকমুক্ত এলাকা ঘোষণা করার জন্য দু’টি জেলায় পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে বলেও তিনি জানান। জেলা দু’টি হলো: বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও দিনাজপুর। এর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি জেলা দু’টিকে মাদকমুক্ত করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।

    মোজাম্মেল হক বলেন, দেশকে মাদকমুক্ত করার জন্য তিনটি বিষয়কে গরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাদক সেবী, মাদক বিক্রেতা এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতাদের চিহ্নত করে দমন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। আমাদের এখানে রোহিঙ্গারা আছে। আমরাও ৭১সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রিফিউজি ছিলাম। রিফিউজিরা কখনও স্থায়ী নাগরিকত্ব পায় না।

    রোহিঙ্গাদের জন্য ভাসানচরে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে তাদের কিছু নেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারে যারা আছেন এখানে মাঝে মধ্যে ক্রাইমের কথা শোনা যায়। এখানে যাতে কোনো ধরনের ক্রাইম না হয় সে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্রাইম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ক্রাইম দমন করার জন্য আগামী মে মাসের মধ্যে অত্যাধুনিক যে সব ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্রাইম দমন করা হয় সে ব্যবস্থা চালু করা হবে। ক্রাইম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

  • আবার বাড়ল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি

    আবার বাড়ল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি

    করোনা মহামারির কারণে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (কওমি ছাড়া) চলমান ছুটি আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। কয়েক ধাপে বাড়ানোর পর ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটি ছিল, সেই ছুটি এবার ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ল।

    রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের এ তথ্য জানিয়েছেন।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে ৩০ জানুয়ারি উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আশা করছি হয়তো আগামী মার্চ-এপ্রিল মাস আমরা দেখবো, কারণ আমাদের দেশে মার্চ মাসেই ব্যাপকহারে করোনা ভাইরাস শুরু হয়েছিল। এই ফেব্রুয়ারি মাস নজরে রাখব। যদি ফেব্রুয়ারিতে ভালো থাকে পরবর্তীতে সীমিত আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তা ভাবনা আছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘এজন্য দরকার সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলা ও করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় যা যা ব্যবস্থা আছে তা গ্রহণ করা। আর ভ্যাকসিন তো সবাই পেয়ে যাবেন।’

    গত ২২ জানুয়ারি করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে গাইডলাইন প্রকাশ করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর। এ গাইডলাইন অনুসরণ করে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। স্কুল-কলেজগুলোতে ৩৯ পাতার গাইডলাইন পাঠিয়ে বলা হয়, ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্কুলগুলো প্রস্তুত করে রাখতে, যাতে যে কোনো মুহূর্তে সেগুলো খুলে দেওয়া যেতে পারে।

  • ভ্যাকসিন নিয়ে মানুষের দ্বিধা কেটে গেছে: প্রধানমন্ত্রী

    ভ্যাকসিন নিয়ে মানুষের দ্বিধা কেটে গেছে: প্রধানমন্ত্রী

    করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে মানুষের মধ্যে দ্বিধা কেটে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে কুমুদিনী ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেছে সরকার। করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে মানুষের মধ্যে দ্বিধা কেটে গেছে। সবার জন্য ভ্যাকসিন নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে।

    তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলা করার জন্য ডাক্তার ও নার্স নিয়োগ দিয়েছি। এসব পদক্ষেপের ফলে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। প্রতিটা মানুষ যাতে চিকিৎসা পায়, সেজন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন একমাত্র লক্ষ্য।

    শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার চেতনাকে হত্যা করা হয়েছে। ৭৫ এর পরবর্তী শাসকরা দেশের মানুষের কল্যাণে কোনো কাজ করেনি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে স্বাস্থ্য খাতকে উন্নত করা জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবেলায় যা যা করণীয় সরকার তার সব করেছে। ফলে এই ভাইরাস বাংলাদেশে এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। ভ্যাকসিন নিলেও স্বাস্থ্য সুরক্ষাবিধি মেনে চলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা।

    করোনা মহামারি মোকাবেলায় নিরসলভাবে কাজ করার জন্য স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী ও প্রশাসনের সব কর্মকর্তাকে ধন্যবাদও জানান সরকারপ্রধান।

  • টিকা নিলেও সচেতন থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    টিকা নিলেও সচেতন থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

    বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার এবং কিছুক্ষণ বাদে বাদে হাত পরিস্কার করা অব্যাহত রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি আবারো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তিনি বলেছেন, ভ্যকসিন নিলেও এই স্বাস্থ্যবিধি সবাইকে মেনে চলতে হবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাস্কটা ব্যবহার করতে হবে। মাস্ক পরা, হাত ধোয়া অব্যাহত রাখতে হবে। মানে টিকা যারা নিয়েছে তাদেরও। এটা মনে করলে হবে না যে, আমি টিকা নিয়েছি তাই একদম নিরাপদ। সবাইকে সাবধানে থাকতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার সকালে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে সভাপতিত্বকালে সভার প্রারম্ভিক আলোচনায় এসব বলেন।

    তিনি গণভবন থেকে এবং মন্ত্রিপরিষদ সদস্যরা সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশ নেন।

    প্রধানমন্ত্রী টিকা প্রদানকে আরো সহজ করতে গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘এখন আমার মনে হয় একটু ওপেন করে দিয়ে তাড়াতাড়ি যত দেওয়া যেতে পারে। কারণ একবার দিয়ে আবার নেক্সট ডোজের জন্য তৈরি হতে হবে।’ তিনি টিকা গ্রহণকারীদের পরিচয়পত্র প্রদানের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, একটা আইডি কার্ডের মতো থাকতে হবে কারা করোনাভ্যাকসিনটা নিল। এটা দেখিতে দ্বিতীয় ডোজটা নিতে হবে এবং সেই আইডেনটিটিটা তাদের কাছে থেকে যাবে, তাহলে কেউ বিদেশে গেলে তারা যে করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছে তার প্রমাণটা থাকবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিকা নেয়ার বিষয়ে গ্রামাঞ্চলে মানুষের মাঝে এখনও একটু দ্বিধা থাকলেও সেটা চলে যাবে ইনশাল্লাহ।

    তিনি বলেন, করোনা টিকার সেকেন্ড ডোজের জন্য ৮ থেকে ১২ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। লন্ডনে সেভাবেই করা হচ্ছে এ জন্য ১৫ দিনের মধ্যে সেকেন্ড ডোজের টিকা যে নিতে হবে তা নয়, অন্তত তিন মাস পর্যন্ত এ কার্যকারিতা থাকে, সেকেন্ড ডোজ নেয়া যায়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাচ্ছি দ্রুতই সেকেন্ড ডোজটা দিয়ে দেওয়ার। আমি বলেছি একমাস বা দুইমাসের মধ্যে সেকেন্ড ডোজ দিয়ে এগুলো শেষ করার। কারণ ভ্যাকসিনের যেন ডেট পেরিয়ে না যায় সেটাও দেখতে হবে।

    তিনি বলেন, আমাদের বিভিন্ন বাহিনী এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য টিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নিয়ে এসে তাদের দ্রুত (টিকা) দিয়ে দিতে হবে এবং এটা একটু বলে দিতে হবে (সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষকে)। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের যত পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছেন তাদের সবাইকে এই টিকা দিতে হবে।

    তিনি বলেন, যারা ফ্রন্ট লাইনার তাদের আগে দিতে হবে। এর মধ্যে চিকিৎসক বা চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত যারা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনী এবং যারা এই কোডিড মোকাবেলায় সক্রিয় ছিল তাদের আগে দিচ্ছি।

    প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তার দলের নেতা-কর্মীরা এবং ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের ভলান্টিয়াররা জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে যথেষ্ট সক্রিয় ছিল, যথেষ্ট কাজ করেছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী আক্রান্তও হয়েছে এবং মারা গেছে তারাই সব থেকে বেশি। কাজেই তারা রেজিস্ট্রেশন করলে টিকা নিতে পারবে। এখন আরেকটু ওপেন করে দেওয়ার নির্দেশনাও আমি দিয়েছি।

  • সবাই করোনার ভ্যাকসিন পাবেন : প্রধানমন্ত্রী

    সবাই করোনার ভ্যাকসিন পাবেন : প্রধানমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে করোনার ভ্যাকসিন এসে গেছে। ভ্যাকসিন আমাদের সকলেই পাবেন। সে ব্যবস্থাও আমরা করে দিচ্ছি। এ জন্য ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

    বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল কর্তৃক প্রকাশিত ‘১০০ কৃষি প্রযুক্তি এটলাস’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) তিনি এই আহ্বান জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে যুক্ত ছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজকে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। করোনা ভাইরাসে যদিও আমরা একটু থমকে দাঁড়িয়েছি কিন্তু করোনার সময় আমার যেটা নির্দেশ ছিল যে যেভাবে পারেন, খাদ্য উৎপাদন করেন। খাদ্যে যেন অভাব না হয় বরং অন্য দেশকে আমরা খাদ্য সহায়তা দিতে পারি। সেইভাবেই আমাদের উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে।

    কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন নতুন কৃষিপণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাত করে নিজেদের বাজার ধরে রাখতে হবে। দেশের চাহিদা পূরণ করে বাইরেও রপ্তানি করতে হবে। এজন্য স্বল্পখরচে বেশি ফলদায়ক পণ্য আবিষ্কার ও চাষাবাদে মনোযোগী হতে হবে। এজন্য গবেষণাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা বাড়াতে বিজ্ঞানীদের প্রণোদনা দিতে চাই। এজন্য আমি উপায় খুঁজেছি, পাইনি। আপনারা এ বিষয়ে পরামর্শ দেবেন।’

    কৃষি ক্ষেত্রে বিশেষ বাজেটে বরাদ্দ রাখার প্রসঙ্গ টেনে দেশনেত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই এবং জাতির পিতার যে স্বপ্ন; সেই স্বপ্ন আমরা পূরণ করতে চাই। আমরা ২০২০ সালে মুজিববর্ষ পালন করা শুরু করেছি। ২০২১’ আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। কাজেই আমরা আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করব। করোনা ভাইরাসের সময় আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়ম মেনেই এটা আমরা করব। ভ্যাকসিন এসে গেছে এবং এই ভ্যাকসিন আমাদের সকলেই পাবেন, আমাদের বিজ্ঞানীরা পাবেন, প্রত্যেকেই পাবেন, সে ব্যবস্থাও আমরা করে দিচ্ছি।

    স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশের একটা মানুষও গৃহহীন থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যত মানুষ যারা ভূমিহীন-গৃহহীন তাদের সকলকেই একটা ঘর তৈরি করে দেব, একটা গৃহ দেব। একটি মানুষও ঠিকানাবিহীন থাকবে না। একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না।

    আরও পড়ুন : ফের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ থেকে সীমান্ত সুরক্ষতি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

    শতভাগ বিদ্যুৎ প্রদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা পুর্নব্যক্ত করে সরকারপ্রধান বলেন, গ্রিড লাইন যতদূর আছে সেখানে কিন্তু আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ দিয়েছি ইতোমধ্যেই। কিন্তু কিছু কিছু দীপাঞ্চল বা দূরবর্তী অঞ্চল আছে, সেখানে সোলার প্যানেল দিচ্ছি, সঙ্গে সঙ্গে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমেও তাদের বিদ্যুৎ দিয়ে যাচ্ছি। কাজেই প্রতিটি ঘর আলোকিত হবে। আর প্রতিটি গৃহহীন ভূমিহীন মানুষরা গৃহ পাবে। মুজিববর্ষে অনেক অনুষ্ঠান আমরা করতে চেয়েছিলাম, পারিনি। কিন্তু এটাই আমাদের সবথেকে বড় কর্মসূচী।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়া অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মতিয়া চৌধরী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, কৃষি সচিব মেসবাহুল ইসলাম ও বিএআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান কৃষিবিদ ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার প্রমুখ।

  • ১০ হোন্ডা ২০ গুন্ডা, সেদিন আর নেই : প্রধানমন্ত্রী

    ১০ হোন্ডা ২০ গুন্ডা, সেদিন আর নেই : প্রধানমন্ত্রী

    মানুষ এখন আন্তরিকভাবে ভোট দিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছে, এখন ইভিএম’র মাধ্যমে ভোট হচ্ছে যেখানে কারচুপি করার কোনো সুযোগ নাই। যার যার ভোট সে নিজে দিতে পারে।

    অতীতের নির্বাচনকালীন প্রহসনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১০টা হোন্ডা ২০টা গুন্ডা নির্বাচন ঠান্ডা- সেদিন আর এখন নেই বা ভোট বন্ধ থাকলেও একজনকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হতো-সেদিনও নেই।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ, মেয়র নির্বাচনে কমিশনারদের মধ্যে কখনো কখনো গোলমাল হয়, সেটা আলাদা।

    অতীতের নির্বাচনগুলো কেমন ছিল সেই প্রশ্ন উত্থাপন করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যাদের গায়ে হাজারো কাদার ছিটা তারা আবার বড় কথা বলে কোন মুখে? সেটাই আমার প্রশ্ন।’

    তিনি বলেন, আজকাল অনেক কথা এবং অনেক সমালোচনা শুনি, অনেক প্রশ্ন বিএনপি নেতারা করেন। হ্যাঁ প্রশ্ন করেন, সমালোচনা করেন কিন্তু জানি না তারা আয়নায় নিজেদের চেহারাটা ভালভাবে দেখেন কি না।

    খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মেকআপের জন্য চেহারা আয়নায় দেখলেও নিজেদের কাজটাকে তারা দেখেন না।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনরায় বিএনপি’র নেতৃত্ব শূন্যতার প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের সমর্থন বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যার প্রতিফলন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি’র আজকে সেই দশা। তারা যত বক্তৃতা দিক আর যত কথাই বলুক না কেন তাদের নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি যখন একটা দলের নেতা তখন তাদের ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস কিছুই থাকে না। সেই বিশ্বাস ও আস্থা এখন আর তাদের প্রতি জনগণের নেই। আস্তে আস্তে সেই জায়গাটা সরে গেছে।’

    আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, মানুষ আওয়ামী লীগের কাছ থেকে যেহেতু সেবা পেয়েছে, দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, দেশের মানুষের কল্যাণ হচ্ছে কাজেই স্বাভাবিকভাবেই দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আওয়ামী লীগ অর্জন করেছে। যার প্রতিফলন আমরা দেখলাম আমাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে।

    প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা মঙ্গলবার একাদশ জাতীয় সংসদের একাদশ অধিবেশনের সমাপনী অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে এসব বলেন।

    স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ সময় অধিশেনে সভাপতিত্বে করছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ নিয়ে অনেক কথা, আমাদের দুর্ভাগ্য ও হাসি পায় যে, যাদের গায়ে দুর্নীতির ছাপ, যারা ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, এতিমের অর্থ আত্মসাতের দায়ে যাদের নেতাকে কারাবরণ করতে হয়, ১০ ট্রাক অস্ত্র পাচারের মামলা রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে বিরোধী দলের নেতাকে হত্যার প্রচেষ্টার মামলায় যারা সাজাপ্রাপ্ত, তারা যদি জনগণের নেতৃত্বে থাকে তবে সেই দল জনগণের কাজ করবে কীভাবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে এত কথা অথচ এরকম একটা কাজ নিজস্ব অর্থায়নে করলাম। সেটার প্রশংসা তো করতেই পারল না। উল্টো বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, জোড়া-তালি দিয়ে পদ্মা সেতু তৈরি করা হয়েছে। জোড়া-তালি দিয়ে পদ্মা সেতু করা হচ্ছে কেউ উঠবেন না।

    তিনি বলেন, তাহলে নদীটা পার হবে কিসে? যদি নৌপথে যেতে হয় তাহলে নৌকায় যেতে হবে। উপায় তো নেই। নৌকায় চড়তে হবে।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের নৌকা অনেক বড়, কোনো অসুবিধে নেই। সবাইকে নেব, তবে দেখে নেব, কেউ আবার নৌকায় বসে নৌকা ফুটো না করে।’

    এ অধিবেশনটি প্রত্যক্ষ করতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সংসদ ভবনে আসেন এবং অধিবেশন প্রত্যক্ষ করেন বলে স্পিকার জানান।

    শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের ধাক্কা সামলাতে আমরা ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছি। সঙ্গে প্রণোদনা তো ছিলই। করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে আলোচনা শুরু হলে আমরা অগ্রিম টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন বুকিং দিয়েছি। ভ্যাকসিন নিয়ে অনেক ব্যঙ্গ শুনেছি। এখন তো ভ্যাকসিন এসেছে। ভ্যাকসিন নিজেই সেসবের উত্তর দিয়েছে।

    তিনি বলেন, অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আমরা ক্রয় করেছি। এই ভ্যাকসিন নেওয়ার পর খারাপ কোনো রিঅ্যাকশনের কথা শোনা যায়নি। তারপরও আমরা মনিটর করছি। আগামি ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে সবাইকে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হবে। এ নিয়ে দেশে প্রশংসা শুনিনি। কিন্তু জাতিসংঘের মহাসচিব প্রশংসা করেছেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথম কারা করোনা ভ্যাকসিন পাবেন সেটাও আমরা ঠিক করে ফেলেছি। করোনার ভ্যাকসিন যারা নিচ্ছেন তাদের এখনও মাস্ক পরে থাকতে হবে, সবসময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত বিশ্ব থেকে করোনা ভাইরাস না যায় ততক্ষণ পর্যন্ত মাস্ক পরে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

    বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসক্রিপশনে একদা রেল শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে কর্মচ্যূতি ঘটিয়ে রেল বন্ধের উদ্যোগের বিরুদ্ধে তিনি সরকারের এসেই নতুন নতুন রেল স্টেশন স্থাপন, রেলের নতুন ইঞ্জিন ও ক্যারেজ ক্রয়েয় মাধ্যমে রেল পুনরুজ্জীবিত করার পদক্ষেপ তুলে ধরেন ।

    পাশাপাশি, সরকার সারাদেশে যোগাযোগের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করে ৪শ ২৮টি রেলসেতু নির্মাণ এবং ৪৯১ কি.মি. রেললাইন নির্মাণ করেছে এবং ১ হাজার ১শ’ ৮১ কি.মি. রেলপথ সংস্কার করা হয়েছে, বলেন তিনি।

    ’৯৬ সালে সরকারের আসার পরই যমুনা সেতুতে রেল এবং বিভিন্ন ইউটিলিটি সার্ভিস যুক্ত করে আওয়ামী লীগ সরকার একে মাল্টিপারপাস করার উদ্যোগ গ্রহণ করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যমুনা সেতুতে রেললাইন স্থাপনে বিশ্বব্যাংক বাধা দিলেও আমি বলেছিলাম এটা করবোই। আর এখন রেলই সবচেয়ে ভায়াবল প্রমাণিত হওয়ায় পৃথক রেল সেতুও আমরা নির্মাণ করছি।’

    ঢাকা শহরে যানজট নিরসনে এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেল নির্মাণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন তিনি।

    পদ্মা সেতু নিয়ে সমালোচনাকারিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়ে আপনারা যদি মুন্সিগঞ্জে সেতুর পাড় পর্যন্ত যান তাহলেই দেখবেন রাস্তাটা কী রকম করেছি। এটা আদৌ বাংলাদেশ বলে মনে হবে না।

    এ প্রসঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে এবং কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, উন্নয়নের প্রচেষ্টা থাকলে যে উন্নয়নটা করা যায় সেটাই আমরা প্রমাণ করেছি।

    প্রধানমন্ত্রী এ সময় করোনা পরিস্থিতির আরো উন্নয়ন ঘটলে স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে উল্লেখ করে বলেন,‘শতভাগই পাশ করানো হয়েছে কিন্তু তারা যখন শিক্ষা নেবে তখনই কে টিকবে আর কে টিকবে না সেটা যাচাই করা যাবে। আর স্কুল-কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে না যেতে পারায় শিক্ষার্থীদের যে দুঃখ এইচএমসি’র ফলাফলে সেটা দূর হবে।’ এর ফলে তারা পড়াশোনার মনযোগী হয়ে আগামীতে আরো ভাল ফল করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    যুব সমাজের কর্মসংস্থানের জন্য সরকার চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে লক্ষ্য ধরে দক্ষ জনশক্তি তৈরীর লক্ষ্যে নানাবিধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, দক্ষ কর্মী তৈরীর প্রশিক্ষণ প্রদানে সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সিআরআই’র পক্ষ থেকে এবং ইয়াং বাংলার পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

    করোনাভাইরাসের মধ্যেও সারাদেশে প্রাক প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠপুস্তক বিতরণ অব্যাহত রেখেছে এবং প্রায় ২ কোটি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি এবং উপবৃত্তি প্রদান করে যাচ্ছে, বলেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় তাঁর সরকার সারাদেশে ২ হাজার ডাক্তার, ৬ হাজার নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মী এবং ল্যাব টেকনিশিয়ানদের নিয়োগ প্রদান করেছে। সেইসাথে চিকিৎসা খাতে আরো জনবল দরকার রয়েছে সেগুলো নেয়া হবে।

    সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশে-বিদেশে নানা অপপ্রচার হচ্ছে, শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুজিবের বাংলায় কেউ গৃহহীন থাকবে না। ইতোমধ্যে ৭০ হাজার গৃহহীনকে ঘর করে দেয়া হয়েছে। আরও ১ লাখ ঘর নির্মাণকাজ চলছে। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এ ঘরগুলো হস্তান্তর করা হবে।’

    শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এ অধিবেশন করোনার সময়ে চলছে। যার জন্য হয়তো সব সংসদ সদস্যকে একই সঙ্গে আনা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের বিরোধীদলীয় নেতার এখানে আসার কথা ছিল। কিন্তু তার বাসায় একজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে বলে তিনি জনগণের কথা চিন্তা করে এখানে আসেননি। আমরা তার বক্তৃতা শুনতে পারলাম না এ জন্য আমি দুঃখিত, কিন্তু তার ভেতর যে জনগণের প্রতি কল্যাণমূলক চিন্তা তার জন্য তাকে ধন্যবাদ। তবে, তিনি এলে ভালো হতো আমরা তার বক্তব্যও শুনতে পেতাম।’

  • ২০২২ সালের জুনে পদ্মাসেতুতে চলবে যানবাহন

    ২০২২ সালের জুনে পদ্মাসেতুতে চলবে যানবাহন

    কাজের অগ্রগতি বিবেচনায় ২০২২ সালের জুন মাসে যানবাহন চলাচলের জন্য উপযুক্ত হবে পদ্মাসেতু। সেই হিসাবে বলা যায় এ প্রকল্পের কাজ আরো এক বছর বেড়েছে।
    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে সব স্ল্যাব বসানোর কাজ শেষ করা গেলেও বর্ষার কারণে তাতে বিটুমিন বসানো যাবে না বলে বাড়াতে হচ্ছে প্রকল্পের মেয়াদ।

    গত বছরের ১০ ডিসেম্বর সেতুতে সব স্প্যান বসানোর পর এখন চলছে স্ল্যাব বসানোর কাজ। দ্বিতল এ সেতুতে একই সঙ্গে চলছে রোড ও রেল স্ল্যাব বসানো। প্রায় তিন হাজার স্ল্যাব বসানো হবে এ সেতুতে।

    এদিকে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, স্প্যানে বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় স্ল্যাব নির্মাণের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। চারটি দল আলাদা করে দিনের বেলা স্প্যানে স্ল্যাব বসানোর কাজ করছে। সর্বশেষ পরিকল্পনায় চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে সেতু চালুর কথা থাকলেও নানা জটিলতায় আরো এক বছর বাড়ানো হয়েছে মেয়াদ। জুন মাসের মধ্যে শতভাগ স্ল্যাব বসানোর পাশাপাশি এগিয়ে নেয়া হবে মূল সেতু ও ভায়াডাক্টের দুই পাশে প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় রেলিং বসানোর কাজ।

    তবে এর মধ্যে বর্ষা শুরু হয়ে গেলে আগামী জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে রোড স্ল্যাবের ওপর বিটুমিন বসানো যাবে না। করোনার কারণে লোকবল সংকটের বিষয়টিও সেতু কর্তৃপক্ষকে মাথায় রাখতে হচ্ছে।

    পদ্মা বহুমুখী সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মাসেতু প্রকল্পে সামনে আর কোনো সসস্যা নেই। বর্তমান অগ্রগতি বিবেচনায় ২০২২ সালের জুন মাসে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উপযুক্ত করা যাবে। এরই মধ্যে মূল সেতুর ৯২ ভাগ কাজের অগ্রগতি হয়েছে।

  • দুদক স্বাধীন, যেকোনো অনিয়ম তদন্ত করতে পারে : সেতুমন্ত্রী

    দুদক স্বাধীন, যেকোনো অনিয়ম তদন্ত করতে পারে : সেতুমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রজাতন্ত্রের কোনো ব্যক্তি অনিয়ম দুর্নীতির ঊর্ধ্বে নয়। যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত করার দায়িত্ব স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশনের আছে। নির্বাচন কমিশন চাপমুক্ত থেকে নিজস্ব আইনগত ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব অনুযায়ী অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করতে পারে।

    আজ সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে তার দপ্তরে ব্রিফিংকালে এ কথা বলেন।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের ৪২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির নিকট যে অভিযোগপত্র দিয়েছে সেই প্রসঙ্গে বিজ্ঞজনরা মনে করেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের দাবি অযৌক্তিক। এমন দাবি করার মানে রাষ্ট্রের অভিভাবক, সংবিধানের রক্ষক রাষ্ট্রপতিকে বিব্রত করা।

    তিনি বলেন, যারা মনে করেন নির্বাচন কমিশনের কারণে দেশের নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে, তাদের এ অভিযোগ নির্বাচন নিয়ে অতীতের অভিজ্ঞতায় তা প্রমাণ করে না। কোনো অভিযোগ ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে থাকতেই পারে, ব্যক্তি বিশেষ অনিয়ম করলে দুদক তদন্ত করতে পারে কিন্তু এ নিয়ে গোটা নির্বাচন ব্যবস্থাকে দায়ী করা অপ্রত্যাশিত ও অযৌক্তিক।

    চলমান স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ সকল নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থান কঠোর বলে জানান তিনি।

  • মিয়ানমারে শান্তি চায় বাংলাদেশ

    মিয়ানমারে শান্তি চায় বাংলাদেশ

    মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চি ও দেশটির রাষ্ট্রপতি উইন মিনতকে গ্রেফতারের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ।আজ সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা দেখতে চায় বাংলাদেশ।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ দৃঢ়তার সঙ্গে গণতান্ত্রিক নীতি অনুসরণ করে। আমরা আশা করি, মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং সাংবিধানিক ব্যবস্থা বহাল থাকবে। একই সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে আমরা মিয়ানমারে শান্তি ও স্থিতিশীলতা দেখতে চাই।

    আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে অবিচল থেকেছি। এছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করে চলেছি। আশা করি, এসব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অব্যাহত থাকবে।

    সরকার বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। জানতে চাইলে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    এর আগে সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মিয়ানমারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ভোরে সেনাবাহিনীর অভিযানে সু চি এবং উইন মিনতসহ এনএলডির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। সৈন্যরা দেশের বিভিন্ন প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে তাদের ধরে নিয়ে যায় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

    মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আরেক প্রতিবেশী ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।