Category: জাতীয়

  • মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’র সেরা ১০ সুন্দরী নির্বাচিত

    মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’র সেরা ১০ সুন্দরী নির্বাচিত

    একে একে বাছাই পর্ব চলছে আর প্রতিযোগিতা এগিয়ে যাচ্ছে চূড়ান্ত পর্যায়ে। গত কয়েক দিনের গ্রুমিং পর্ব আর বিভিন্ন অনুশীলন কার্যক্রমে অংশগ্রহনের উপর ভিত্তি করে, চুলচেরা বিশ্লেষণের পর সেরা সুন্দরী হিসেবে ১০ জনকে বাছাই করেছেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার বিচারকেরা। আগামী ১৬ মে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ‘মিস ইউনিভার্স ২০২০’ প্রতিযোগিতার মূল পর্বে বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধিত্ব করার জন্য লড়বেন এই ১০ প্রতিযোগী।

    এ বছর নয় হাজারের বেশি নিবন্ধন জমা পরে, যার মধ্য থেকে অডিশন রাউন্ড এবং মূল পর্ব পেরিয়ে সামনে এলেন ফ্লোরা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় দ্বিতীয়বারের মত আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার সেরা দশজন আত্মবিশ্বাসী নারী।

    ঢাকার রেডিসন ব্লু হোটেল-এ গত কিছুদিন ধরে নানান অনুশীলন, কার্যক্রম, গ্রুমিং, ট্রেনিং ও অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন প্রতিযোগীরা। এবার নিজেদেরকে তারা আরেকবার প্রমাণ করলেন। কেউ মন খারাপ করে বাড়ি ফিরলেন আর কেউ খুশিতে আত্মহারা হয়ে গ্র্যান্ড ফিনালের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এদের সবার-ই চাওয়া সমগ্র বিশ্বের কাছে নিজের দেশ ও মানুষের কথা তুলে ধরা।

    ‘টপ টেন’ মানেই অন্যরকম এক অনুভূতি। নির্বাচিত সেরা ১০ জন প্রতিযোগী হলেন অনকিতা দে, আপনা চাকমা, ফারজানা আকতার এ্যানি, ফারজানা ইয়াসমিন, ফাতেমা তুজ জহুরা, মারিয়াম আহমেদ, মাসুদা খান, নিদ্রা দে, তানজিয়া জামান মিথিলা এবং তৌহিদা তাসনিম তিফা।

    আর টিভি-র স্টুডিও-তে অনুষ্ঠিত সেরা ১০ বাছাই পর্বে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মডেল ও অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মীম, গায়ক ও অভিনেতা তাহসান রহমান খান, ফ্যাশন হাউজ জুরহেম এর প্রতিষ্ঠাতা ও ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মেহরুজ মুনির এবং ব্র্যাক ইউনিভারসিটি-র আন্তর্জাতিক বিষয়ের ম্যানেজার আইরিন সমার তিলগার।

    মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার ন্যাশনাল ডিরেক্টর শফিকুল ইসলাম জানান, তারাই থাকবেন চূড়ান্ত পর্বের বিচারকের আসনে।

    মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার প্রেসিডেন্ট মোস্তফা রাফিকুল ইসলাম ডিউক জানান, আগামী ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে গ্র্যান্ড ফিনালে। আগামী ১৬ যুক্তরাষ্ট্রের হলিউডে অনুষ্ঠিতব্য ‘মিস ইউনিভার্স ২০২০’ প্রতিযোগীতার ৬৯তম মূল মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ২০২০’-এর মুকুট বিজয়ী।

    বাংলাদেশ –এ দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে আয়োনজনটি। গতবারের প্রধান স্পন্সর ফ্লোরা ব্যাংক এবারো মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের প্রধান স্পন্সর হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। আয়োজনটির টেলিভিশন পার্টনার আর টিভি। এই আয়োজন নিয়ে তৈরি অনুষ্ঠান আগামী ৯ মার্চ হতে প্রচারিত হবে আর টিভি-তে। ক্রাউন পার্টনার ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, মেকওভার পার্টনার পারসোনা, পিআর পার্টনার নর্থব্রুক কনসালটেন্টস , হসপিটালিটি পার্টনার রেডিসন ব্লু ঢাকা, ওয়েলনেস পার্টনার রেজুভা, অডিট পার্টনার এ. ওয়াহাব অ্যান্ড কো.। সহযোগী স্পন্সর ফ্লোরা টেলিকম, স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টার, থাইরো কেয়ার, সুঘন্ধা এন্টারপ্রাইজ।

    ১১ জানুয়ারি প্রেস কনফারেন্সের দ্বারা শুরু হয় এই বিউটি পেজেন্টের কার্যক্রম। প্রতিযোগিতার এবারের মূল স্লোগান ‘আমার আত্মবিশ্বাস, আমার সৌন্দর্য’।

  • কারাবন্দী লেখক মুশতাকের মৃত্যু ‘ন্যাচারাল’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    কারাবন্দী লেখক মুশতাকের মৃত্যু ‘ন্যাচারাল’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দী লেখক মুশতাক আহমদের মৃত্যু ন্যাচারাল (স্বাভাবিক মৃত্যু)।

    বৃহস্পতিবার (০৪ মার্চ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গাজীপুরের জেলা প্রশাসন ও কারা অধিদফতরের গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

    তিনি বলেন, তবে এখনও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি, সেটি পাওয়া গেলে চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যাবে।

    গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে লেখক মুশতাক আহমেদ মারা যান। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে ছিলেন।

    কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, মুশতাক আহমেদ সেদিন সন্ধ্যার দিকে কারাগারের ভেতর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে প্রথমে কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।

    গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। শুক্রবার রাতে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম তরিকুল ইসলাম ওই কমিটি গঠন করেন। দুই কার্যদিবসের মধ্যে এই কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

    সবগুলো কমিটিই ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

  • ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৫ এপ্রিল

    ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ৫ এপ্রিল

    প্রথম জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় এনআইডি করার অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বরখাস্ত চিকিৎসক ও জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান সাবরিনা শারমিন ওরফে সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৫ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।

     

    বুধবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ নতুন এ দিন ধার্য করেন।

     

    গত বছরের ৩০ আগস্ট বাড্ডা থানায় ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন গুলশান থানা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মমিন মিয়া। ২০১০ সালের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনের ১৪ ও ১৫ ধারায় মামলাটি করা হয়।

     

    ইসি সূত্র জানায়, ডা. সাবরিনার দুই এনআইডিতে স্বামীর নাম দুরকম উল্লেখ আছে। একটি এনআইডির চেয়ে অন্যটিতে বয়স কম দেখানো হয়েছে। বর্তমান তার দুটি এনআইডি-ই ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর বিস্তারিত জানতে ইসির কাছে তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

     

    অন্যদিকে করোনার ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে প্রতারণার মামলায় জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা চৌধুরী ও সিইও আরিফুল হক চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে।
    করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হন সাবরিনা এ চৌধুরী।

  • এমবিবিএস ভর্তিযুদ্ধ : আসনপ্রতি লড়বেন ২৮ জন

    এমবিবিএস ভর্তিযুদ্ধ : আসনপ্রতি লড়বেন ২৮ জন

    দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সের প্রথম বর্ষের (২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ) ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অনলাইনে আবেদনের সময় সোমবার (১ মার্চ) রাত ১২টায় শেষ হয়েছে। এ বছর মোট আবেদন করেছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬১ জন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী। কিছুসংখ্যক আবেদন এখনো লাইনে আছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার ইতিহাসে এটি রেকর্ডসংখ্যক আবেদন। গত বছর মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৭২ হাজারের কিছু বেশি।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীনে কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীসহ সারাদেশে আগামী ২ এপ্রিল ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ দিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী ১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

    দেশে বর্তমানে সরকারিভাবে পরিচালিত মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ৩৭টি। এগুলোতে মোট আসন সংখ্যা ৪ হাজার ৩৫০টি। এ বছর ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬১টি আবেদনের হিসাবে এ বছর আসনপ্রতি লড়বে ২৮ জন শিক্ষার্থী।

    স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের চিকিৎসা, শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন শাখার একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

    সূত্র জানায়, চলতি বছরের পরীক্ষায় ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬১টি আবেদনের মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে ১৬ হাজার, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে ৭ হাজার, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ১২ হাজার, ময়মনসিংহে ১১ হাজার ৫২৯, চট্টগ্রামে ১০ হাজার ৮৮৬, রাজশাহীতে ১০ হাজার ২৬০, সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজে ৪ হাজার ৮৯৭, বরিশালে ৩ হাজার, রংপুরে ৭ হাজার, কুমিল্লায় ৫ হাজার, খুলনায় ৫ হাজার, বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ৫ হাজার, ফরিদপুরে ৩ হাজার ৪৪৮, দিনাজপুরে ৩ হাজার, পাবনায় ২ হাজার, কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলামে ১ হাজার ৭৪১, মুগদা মেডিকেল কলেজে ৫ হাজার, গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুনে ২ হাজার এবং ঢাকা ডেন্টালে ৫ হাজার জন।

    এ বছর এত বেশি পরীক্ষার্থী কেন জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিকিৎসা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আহসান হাবিব বলেন, মহামারি করোনার কারণে এ বছর এইচএসসিতে অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থীকে আগের ফলাফল অর্থাৎ জেএসএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ফলাফল (অটো পাস) দেয়া হয়। ফলে এ বছর রেকর্ডসংখ্যক পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে।

  • ‘বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা নিয়ে চলবে’

    ‘বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা নিয়ে চলবে’

    বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা নিয়ে চলবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণের লক্ষে অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবহার করেই দেশকে গড়ে তোলা হচ্ছে।’

    মঙ্গলবার (০২ মার্চ) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংশোধিত এডিপি প্রস্তাব করা হয় এব লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকা।

    গত জুন মাসে ঘোষিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে এডিপিতে বরাদ্দ রাখা হয় ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। মূল এডিপিতে বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা ধরা হয় ৭০ হাজার কোটি টাকা। সেখান থেকেই সংশোধিত এডিপিতে ৭ হাজার কোটি টাকা কমানো হচ্ছে। এতে পদ্মাসেতু, রূপপুরসহ কয়েকটি বড় প্রকল্পে চলতি অর্থ বছরের বরাদ্দ কিছুটা কমতে পারে।

  • ‘উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পূর্ণ যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ’

    ‘উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পূর্ণ যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ’

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানব সম্পদ এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভঙ্গুরতা এই তিনটি সূচকের ভিত্তিতে জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম ত্রি-বার্ষিক পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের তিনটি মানদণ্ড খুব ভালোভাবে পূরণ করে। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর অনুষ্ঠিত ত্রি-বর্ষিক পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ পুনরায় সকল মানদণ্ড অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে পূরণের মাধ্যমে স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করলো।

    শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ অর্জন করেছে বাংলাদেশ; এ বিষয়ে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি এ সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তিনি বলেন, করোনাভাইরাস এর মহামারীর কারণে ২০২০ সাল শুধু আমাদের জন্য নয় গোটা বিশ্বের জন্য ছিল সংকটময় এ মহামারীতে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করেন আমরা ইতিমধ্যে টিকা প্রদান শুরু করেছি গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৯৪০ জনকে প্রথম টিকা প্রদান করা হয়েছে। অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে এখন পর্যন্ত আমরা ১ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি যার জিডিপির ৪.৪ শতাংশ

    শেখ হাসিনা বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তোলনের ফলে বর্হি বিশ্বে বাংলাদেশ একটি প্রত্যয় ও মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে জায়গা করে নেবে আমাদের এই অর্জনকে সুসংহত এবং টেকসই করতে হবে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের জন্য এটি একটি বিশেষ

    বাঙালি বীরের জাতি মাত্র নয় মাসে আমাদের স্বাধীনতার লাল সূর্য থেকে ছিনিয়ে এনেছেন আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমাদের এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা হবে ইনশাআল্লাহ বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, আসুন দলমত নির্বিশেষে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে বাংলাদেশকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করি।

    স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণকে তরুণ প্রজন্মকে উৎসর্গ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় দেশের এমন অর্জনে তিনি দেশবাসিকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ; আওয়ামী লীগের ১২ বছরের কষ্টের ফল। আজকের বাংলাদেশ আর আগের বাংলাদেশ এক নয়। বিভিন্ন সূচকে আমাদের উন্নতি হয়েছে। আজকের বাংলাদেশ এক বদলে যাওয়া বাংলাদেশ।

  • মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ

    মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ

    এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। প্রতি ১০ হাজার মোটরসাইকেলের মধ্যে বাংলাদেশে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে ২৮.৪টি। বাংলাদেশের পর কম্বোডিয়ায় ১১.৯, লাওসে ১১.৫, থাইল্যান্ডে ১১.২, ভারতে ৯, মিয়ানমারে ৮.৬, মালয়েশিয়ায় ৪.৪, ভিয়েতনামে ৪.১, ইন্দোনেশিয়ায় ২.৫ এবং ভুটানে ২.১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সড়ক ও দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) তথ্যে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    ১৯৯৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা নিয়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এআরআই ‘আ রিভিউ অব মোটরসাইকেল সেফটি সিচুয়েশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বরাত দিয়ে এআরআইয়ের গবেষকরা জানান, এ তালিকায় সবচেয়ে নিচে আছে ভুটান।

    গবেষণাপত্রের ভাষ্যমতে, দেশের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ৭৪ শতাংশই মফস্বলে ঘটে। এর বড় কারণ হলো সেখানে ট্রাফিক তদারকি কম। এছাড়া মহাসড়কে বেশি যাতায়াত করেন বলেও দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। মফস্বলের ৭৪ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার ৬৯ শতাংশই মহাসড়কে ঘটে। মফস্বলের বিপরীতে নগর-মহানগরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পরিমাণ ৩১ শতাংশ।

    বয়স বিবেচনায় ১৯৯৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বেশি মারা গেছেন। তবে ২১ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মৃত্যুর হারও উদ্বেগজনক। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার মোট মৃত্যুর ৫৬ শতাংশই ওই বয়সের এবং ৯৬ শতাংশই পুরুষ বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

    মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ৮৮ শতাংশ হেলমেট না পরার কারণে এবং ১২ শতাংশ ত্রুটিযুক্ত হেলমেট পরার কারণে মারা গেছেন। শতকরা ৪৩ শতাংশ মোটরসাইকেলচালক হেলমেট ব্যবহার করেন না। এর কারণ হিসেবে চালকরা বলেছেন, হেলমেট পরার কারণে তারা বেশ গরম অনুভব করেন। ২৫ শতাংশ চালক হেলমেট পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না এবং ১১ শতাংশ চালক কাছাকাছি দূরত্বে যাতায়াতের সময় হেলমেট পরেন না। ৫ শতাংশ চালক বলেছেন, তাদের কোনো হেলমেট নেই।

    অতিরিক্ত গতির কারণে ৫১ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়। অমনোযোগী অবস্থায় চালাতে গিয়ে ৪০ শতাংশ এবং মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪৯ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৭ সালের পর দেশের রাস্তায় মোটরসাইকেলের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। করোনা মহামারীর সময়ও যখন বছরের বেশির ভাগ সময় লকডাউন ছিল, তখনো মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে। পরিসংখ্যান মতে, গত বছর মোট সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৬৪টি। এর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই ১ হাজার ৮টি। গত বছর সড়কে মোট ৩ হাজার ৫৫৮টি প্রাণ ঝরেছে। মোটরসাইকেল একাই ১ হাজার ৯৭টি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

    সপ্তাহের কী বার এবং দিনের কোন সময় বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে, এ ব্যাপারেও এআরআইয়ের গবেষকরা সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছেন। এর মধ্যে শনিবার সবচেয়ে বেশি এবং রোববার সবচেয়ে কম মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে। পরিসংখানে দেখা গেছে, শনিবার ১৬ শতাংশ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার ১৫ শতাংশ, সোম ও বুধবার ১৪ শতাংশ, মঙ্গলবার ১৩ শতাংশ এবং রোববার ১২ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    সময় বিবেচনায় সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। এক্ষেত্রে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে (সকাল ১০-১১টা) এবং বাড়ি ফেরার পথে (বিকাল ৪-৫টা) বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

  • দেশীয় তৈরি যুদ্ধবিমানে আকাশসীমা নিরাপদ রাখব নিজেরাই : প্রধানমন্ত্রী

    দেশীয় তৈরি যুদ্ধবিমানে আকাশসীমা নিরাপদ রাখব নিজেরাই : প্রধানমন্ত্রী

    দেশেই যুদ্ধবিমান তৈরি করে আকাশসীমার নিরাপত্তা দেওয়ার আশাপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশেই যুদ্ধবিমান তৈরি করতে পারব। কাজেই এর ওপর গবেষণা করা ও আকাশসীমা রক্ষা নিজেরাই যেন করতে পারি সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি।

    মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিমান বাহিনীর ১১ স্কোয়াড্রন ও ২১ স্কোয়াড্রনকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিমান বাহিনী প্রধানসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা ও বিমান বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে আরও ১০ ধাপ এগিয়ে নিতে কাজ করছি। এ ক্ষেত্রেও আমরা সফল হব বলে বিশ্বাস করি।

    শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটা গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয় বিমান বাহিনী। পাকিস্তানের অসংখ্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে তারা। সীমিত শক্তি নিয়েও তারা যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে।

    তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা স্বপ্ন দেখেছেন, সবদিক থেকে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হবে। সেই স্বপ্ন থেকেই সীমিত সম্পদ দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। বিশেষ করে আধুনিক বিমান গড়ে তুলেছিলেন তিনি। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতিমালা-১৯৭৪ করে দিয়ে যান। সে আলোকে আমরা সশস্ত্র বাহিনীকে গড়ে তুলছি। দেশের প্রতিরক্ষা খাত আধুনিকায়ন ও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করছি। এরই ধারাবাহিকতায় লালমনিরহাটে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিয়েশন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ নানা কাজ করে যাচ্ছি। আজ বাংলাদেশ বিমান বাহিনী দেশ ও বিদেশে সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করেছে।

    জাতীয় পতাকা পাওয়া বিমান বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পতাকা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা গৌরব ও সম্মানের। এ পতাকার মান রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। আমি মনে করি, আপনারা এই মর্যাদা রক্ষা ও দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে সদা প্রস্তুত থাকবেন।

    তিনি বলেন, বিশ্বায়নের যুগে যে কোনো দেশের জন্য পেশাদার বিমান বাহিনী অপরিহার্য। আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী গড়তে আমরা ফোর্সেস গোল বাস্তবায়নে কাজ করছি।

  • বাঙ্গালী জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ উপাধির নাম ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি লাভের ৫২ বছর পূর্তি আজ

    বাঙ্গালী জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ উপাধির নাম ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি লাভের ৫২ বছর পূর্তি আজ

    আজ ২৩ ফেব্রুয়ারী বাঙ্গালী জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ উপাধির নাম ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি লাভের ৫২ বছর পূর্তির দিন।

    ২৩ ফেব্রুয়ারি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে “বঙ্গবন্ধু” উপাধি দেওয়া হয়।

    ১৯৬৯ সালের এই দিনে সে সময়ের রেসকোর্স ময়দানে “বঙ্গবন্ধু” উপাধিতে ভূষিত করেন তার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর তোফায়েল আহমেদ।

  • বাঙালির সংগ্রামী নেতা মুজিব

    বাঙালির সংগ্রামী নেতা মুজিব

    ১৯৬৬ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি লাহোরে আমার বাবা শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ৬-দফা দাবি পেশ করেন। ঢাকায় ফিরে ৬-দফার সমর্থনে জনমত তৈরি করতে সারা দেশে তিনি সভা-সমাবেশ করা শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যে ৬-দফার পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়। স্বৈরশাসক আইয়ুব খান ভীত হয়ে পড়েন। শেখ মুজিবকে রুখতে হবে। তিন মাসের মধ্যে বাবাকে আট বার গ্রেফতার করা হলো। আমার ‘মা’ সব সময় একটা সুটকেস ও বিছানাপত্র গুছিয়ে রাখতেন। বাবাকে গ্রেফতারের আগেই থানা থেকে পুলিশের ফোন আসত, ‘স্যার, আমরা আপনাকে অ্যারেস্ট করতে আসছি।’ বাবা বলতেন, ‘আসুন।’

    বাবা ফোনটা রেখে মাকে সবকিছু গুছিয়ে হাতের কাছে রাখতে বলতেন। তারপরেই বাবা একটা ফোন করতেন তাজউদ্দীন চাচাকে, ‘তাজউদ্দীন রেডি হও। আমাকে নিতে আসছে, তোমার কাছেও যাবে।’ হাসিনা আপা মাঝেমধ্যে বিদ্রোহ করতেন। কিছুতেই পুলিশকে বাসায় ঢুকতে দেবেন না; যেতে দেবেন না বাবাকে।

    বাবা হেসে বলতেন, ‘যেতে তো হবেই।’ তবে মা ঘাবড়াতেন না কখনই। কেবল মুখটা বিবর্ণ ও মলিন হয়ে যেত। অন্যভাবেও বোঝা যেত তার কষ্ট। বাবা যতদিন জেলে থাকতেন, ততদিন মা একটা ভালো বা রঙিন শাড়ি পরতেন না। বাবা বাড়ি ফেরার পর সব আবার ঠিক হয়ে যেত আগের মতো।

    স্কুলে কোনো অনুষ্ঠানে অভিভাবক হিসেবে মা-ই যেতেন; সঙ্গে কামাল ভাই। বেশির ভাগ সময় জেলে থাকার কারণে বাবা কখনো যেতে পারতেন না। অনেক অভিভাবক তাদের বাচ্চাদের আমাদের সঙ্গে মিশতে বারণ করতেন, আমাদের কাছ থেকে দূরে দূরে থাকতে বলতেন। আবার অনেকে স্নেহ-আদর দিয়ে কুশলাদি জানতে চাইতেন।

    রাজনৈতিক পরিবারগুলোর জীবনযাপন অন্যসব পরিবার থেকে একটু আলাদা। তার ওপর শেখ সাহেবের সন্তান বলেই আরো আলাদা ছিল আমাদের ভাইবোনদের জীবন। কামাল ভাই বেশ বড় হয়েও জানতেন না, ‘বাবা’ কী বা কাকে বলে!

    আব্বার লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে এই বিষয়টা খুবই হূদয়স্পর্শী ও মর্মস্পর্শী হয়ে উঠেছে। সেখান থেকে একটুখানি উদ্ধৃতি দিচ্ছি, যারা পড়েননি তাদের জন্য। বাবার কথায়—“একদিন সকালে আমি ও রেণু বিছানায় বসে গল্প করছিলাম। হাসু ও কামাল নিচে খেলছিল। হাসু মাঝে মাঝে খেলা ফেলে আমার কাছে আসে আর ‘আব্বা’, ‘আব্বা’ বলে ডাকে। কামাল চেয়ে থাকে। এক সময় কামাল হাসিনাকে বলছে, ‘হাসু আপা, হাসু আপা, তোমার আব্বাকে আমি একটু আব্বা বলি।’ আমি আর রেণু দুজনই শুনলাম। আস্তে আস্তে বিছানা থেকে উঠে যেয়ে ওকে কোলে নিয়ে বললাম, ‘আমি তো তোমারও আব্বা।’ এমনিতে কামাল আমার কাছে আসতে চাইত না। আজ গলা ধরে পড়ে রইল। বুঝতে পারলাম, এখন আর ও সহ্য করতে পারছে না।”

    মাঝেমধ্যে আমার মনে হয়, আমার বাবা যদি রাজনীতি না করে শুধু লেখালেখি করতেন, তাহলে হয়তো সেরা লেখকদের সারিতে স্থান করে নিতেন। এত সুন্দর, সহজ-সরল, সাবলীল তার ভাষা, যার তুলনা হয় না।

    জীবন চলার পথে অনেক কঠিন বাস্তবতা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে সবকিছু সহজভাবে গ্রহণ করার। বাবা তখন জেলে। কামাল ভাই ঢাকা কলেজে ভর্তি হবেন। কিন্তু মোনায়েম খানের হুকুম, কিছুতেই শেখ মুজিবের ছেলেকে ঢাকা কলেজে ভর্তি করা যাবে না।

    বাঙালির সংগ্রামী নেতা মুজিব

    মা প্রিন্সিপ্যাল সাহেবকে ফোন করলেন। প্রিন্সিপ্যাল সাহেব বললেন, ‘মা, তুমি ফোন করেছ, আমার চাকরি যায় যাক, কিন্তু আমি কামালকে ভর্তি করিয়ে নেব। ওর স্কুল থেকে প্রধান শিক্ষক মামুন সাহেব প্রশংসা করে সার্টিফিকেট দিয়েছে, আমি অবশ্যই ভর্তি করিয়ে নেব, তোমার কথা আমি ফেলতে পারব না।’

    জেলখানায় দুই সপ্তাহ পরপর বাবার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি ছিল। বাবার সঙ্গে দেখা করার জন্য বাড়িতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হতো। যদিও ছোট ছিলাম, কিন্তু মনে আছে—দেখতাম, মা ছোট ছোট চিরকুট তৈরি করছেন। তখন বুঝতাম না, এগুলো কেন তৈরি হচ্ছে? মুখে সব কথা বলা যেত না বাবাকে। কারণ, তখন জেলখানায় অনেক পাহারা, অনেক চোখ চারদিকে। ঘরের ভেতরেই দুজন আইবির লোক টেবিলের ও-প্রান্তে বসে থাকত, আর আমরা বাবার পাশে।

    আমাদের ভাইবোনদের দায়িত্ব ছিল হইচই করা। মা হইচইয়ের মধ্যেই বাবাকে যা বলার বলে ফেলতেন এবং চিরকুটগুলো দিয়ে দিতেন। খোকা চাচার দায়িত্ব ছিল আইবির লোকদের হাত দেখার নামে তাদের অন্যমনস্ক করে রাখা আর তাদের চা-নাশতা খাওয়ানো।

    আগরতলা মামলা শুরুর আগে থেকেই আমার মায়ের ওপর কড়া নজরদারি শুরু হয়েছিল। অন্য সবাই মাকে না চিনলেও পাকিস্তান সরকার তাকে বিলক্ষণ চিনতে পেরেছিল। প্রায়ই মাকে জেরা করতে আইবি বা এসবি অফিসে যেতে হতো। একদিন তিনি জানতে পারলেন তাকেও বন্দি করা হবে। তিনি খুব চিন্তিত হয়ে পড়লেন। আমরা ছোট ছোট ভাইবোনেরা, আমার দাদি-দাদা—তাদের কী হবে? কে দেখাশোনা করবে? বিশেষ করে হাসিনা আপার। সেই পরিস্থিতিতে মা আপার বিয়ের কথা ভাবতে লাগলেন। আমার দাদা শেখ লুত্ফর রহমান একজন পাত্র পছন্দ করলেন প্রিয় পৌত্রীর জন্য। পাত্র সরকারি চাকুরে। সুপ্রতিষ্ঠিত সিএসপি অফিসার। কিন্তু মোনায়েম খানের ধমক খেয়ে পাত্রটি শেষমেশ বিয়েতে রাজি হলেন না। মার মনটা খুব ভেঙে গেল এবং খুব দুশ্চিন্তায় পড়লেন। ঠিক এর মধ্যেই মতিয়ুর রহমান সাহেব রংপুর থেকে এসে মাকে বললেন, ‘ভাবি, আপনি চিন্তা করবেন না। আমি একটা ছেলে ঠিক করেছি। নাম ড. ওয়াজেদ মিয়া। সদ্য বিলাতফেরত ছাত্রলীগ করা ছেলে। হাসিনার জন্য খুব ভালো পাত্র হবে।’ মা বাবাকে বিস্তারিত জানালেন। বাবা বললেন, ‘যেটা তুমি ভালো বোঝো, সেটাই করো।

    ‘ভাবি, আপনি চিন্তা করবেন না। আমি একটা ছেলে ঠিক করেছি। নাম ড. ওয়াজেদ মিয়া। সদ্য বিলাতফেরত ছাত্রলীগ করা ছেলে। হাসিনার জন্য খুব ভালো পাত্র হবে।’ মা বাবাকে বিস্তারিত জানালেন। বাবা বললেন, ‘যেটা তুমি ভালো বোঝো, সেটাই করো।’

    আরও পড়ুন:

    স্মৃতির পাতায় বন্ধুকে নিয়ে কতই না গল্প

    ১৯৬৭ সালে ১৭ই নভেম্বর হাসিনা আপার কাবিন হয়ে গেল। বিশেষ অনুমতি নিয়ে জেলখানায় বাবা মেয়েজামাইকে দোয়া করলেন। জেলখানায় বসেই কন্যা সম্প্রদান করলেন। কারাগারের ভেতরে সে সময় একটা নতুন কামরা তৈরি হয়েছিল। জেল কর্তৃপক্ষ অনুরোধ করল, বাবা যেন নতুন জামাইকে ওখানেই বরণ করেন। মিষ্টি ও ফুলের মালারও ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

    প্রতি মাসে মা-সহ আমরা ভাইবোনেরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম, জেলখানায় বাবার সঙ্গে সাক্ষাতের দিনটির জন্য। এরকম একটা দিনে আমরা জেলখানায় গিয়ে বাবার সাক্ষাত্ পেলাম না। কারা কর্তৃপক্ষ বাবার অবস্থান সম্পর্কে কিছুই জানে না বলে জানাল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমরা জেলগেটে অপেক্ষা করলাম। আমাদের ঢুকতেও দেওয়া হলো না। অবশেষে আমরা কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে এলাম। দারুণ দুঃসময় তখন। বাবা বেঁচে আছেন কি না, বেঁচে থাকলে কোথায় আছেন—কিছুই জানি না। বেশ কয়েক মাস চলল এ অবস্থা। ছাত্রনেতাদেরও অনেকেই বন্দি। ৩২ নম্বরের বাড়ির সামনে মনে হয় কাকপক্ষীও ওড়ে না। এরপর ক্যান্টনমেন্টের ভেতরেই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিচার শুরু হলো। তারপর জানা গেল বাবাকে সেনানিবাসে নিয়ে বন্দি করে রাখা হয়েছে। জেল কর্তৃপক্ষ আসলেই জানত না, শেখ সাহেবকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী? জানতেন না বাবাও। তবে এটা বুঝতে পেরেছিলেন, ভয়ানক বিপদ সামনে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হওয়ার পর গাড়িতে ওঠার আগে একমুঠো মাটি হাতে নিয়ে কপালে ঠেকিয়ে বাবা বলেছিলেন, ‘আল্লাহ, আমার কবর যেন এই মাটিতেই হয়।’ এ কথাটা বাবার মুখে শোনা।

    সেনানিবাসে ওরা বাবার ওপর অমানবিক মানসিক নির্যাতন করত। মাথার ওপরে সারাক্ষণ ৫০০ পাওয়ারের বাল্ব জ্বালিয়ে রাখত। একটু ঘুমিয়ে পড়লে বা ঝিমুনি এলে ডেকে তুলে দিত। মূলত মানসিক নির্যাতন করাটাই ছিল ওদের আসল উদ্দেশ্য। শেষের দিকে বিকেলে হাঁটার অনুমতি দিয়েছিল।

    সেনানিবাসের দেওয়ালটা বেশি উঁচু ছিল না। আমরা প্রায়ই দুলাভাই, আপা, মা, ভাইবোনসহ আশপাশ দিয়ে গাড়িতে ঘুরতাম। যদি একটু চোখের দেখা পাই বাবার। কখনো কখনো দেখতেও পেতাম। প্রহরীরাও দেখে না দেখার ভান করত।

    সেনানিবাসেই বাবার জীবননাশ হতে পারত। একদিন বাবা বিকেলে যখন হাঁটাহাঁটি করছিলেন ওখানকার একজন কর্মচারী বাবাকে জানালেন :‘স্যার, আপনি সন্ধের পর বাইরে হাঁটবেন না। এখানে একটা অঘটন ঘটে যেতে পারে।’ ঠিক পরের দিন সার্জেন্ট জহুরুল হককে হত্যা করা হয়। সেনানিবাসের ভেতরে প্রথমে গুলি, পরে বেয়নেট চার্জ করে। আসামি পালিয়ে যাওয়ার সময় গুলি করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়।

     

    ভয়ানক বিপদ সামনে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হওয়ার পর গাড়িতে ওঠার আগে একমুঠো মাটি হাতে নিয়ে কপালে ঠেকিয়ে বাবা বলেছিলেন, ‘আল্লাহ, আমার কবর যেন এই মাটিতেই হয়।’ এ কথাটা বাবার মুখে শোনা।

    সেনানিবাসে ওরা বাবার ওপর অমানবিক মানসিক নির্যাতন করত। মাথার ওপরে সারাক্ষণ ৫০০ পাওয়ারের বাল্ব জ্বালিয়ে রাখত। একটু ঘুমিয়ে পড়লে বা ঝিমুনি এলে ডেকে তুলে দিত। মূলত মানসিক নির্যাতন করাটাই ছিল ওদের আসল উদ্দেশ্য। শেষের দিকে বিকেলে হাঁটার অনুমতি দিয়েছিল।

    সেনানিবাসের দেওয়ালটা বেশি উঁচু ছিল না। আমরা প্রায়ই দুলাভাই, আপা, মা, ভাইবোনসহ আশপাশ দিয়ে গাড়িতে ঘুরতাম। যদি একটু চোখের দেখা পাই বাবার। কখনো কখনো দেখতেও পেতাম। প্রহরীরাও দেখে না দেখার ভান করত।

    সেনানিবাসেই বাবার জীবননাশ হতে পারত। একদিন বাবা বিকেলে যখন হাঁটাহাঁটি করছিলেন ওখানকার একজন কর্মচারী বাবাকে জানালেন :‘স্যার, আপনি সন্ধের পর বাইরে হাঁটবেন না। এখানে একটা অঘটন ঘটে যেতে পারে।’ ঠিক পরের দিন সার্জেন্ট জহুরুল হককে হত্যা করা হয়। সেনানিবাসের ভেতরে প্রথমে গুলি, পরে বেয়নেট চার্জ করে। আসামি পালিয়ে যাওয়ার সময় গুলি করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়।

    আরও পড়ুন:

    বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করা হচ্ছে কলকাতার বইমেলা

    সার্জেন্ট জহুরুল হককে হত্যার খবরে সারা বাংলাদেশে আগুন জ্বলে উঠেছিল। আন্দোলন, প্রতিবাদে মানুষ তখন সেনানিবাসের দিকে ছুটছিল। স্লোগানে স্লোগানে তখন চারদিক মুখরিত। মানুষের মুখে মুখে তখন—‘জেলের তালা ভাঙব, শেখ মুজিবকে আনব’, ‘মিথ্যা মামলা মানি না, মানব না’ স্লোগান। আন্দোলনের জোয়ারে আইয়ুব খান দিশেহারা। নতুন ফন্দি আঁটল গোলটেবিল বৈঠকের। কথা উঠল শেখ মুজিবকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে সে বৈঠকে যোগদান করানোর। আওয়ামী লীগের কিছু বর্ষীয়ান নেতা, ইত্তেফাক সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াসহ সবাই চাইছিলেন, বাবা যেন গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিতে সম্মতি দেন। আমাদেরও, বিশেষ করে আপা ও কামাল ভাইকে বলা হলো, আমরা যেন বাবার মুক্তি নেওয়ার ব্যাপারে সবাইকে বোঝাই। আপাকে ও কামাল ভাইকে শুনতে হলো :‘কেমন সন্তান তোমরা, বাবার মুক্তি চাও না?’ আমার মায়ের ওপর অনেক চাপ দিতে লাগল। কিন্তু মা তার সিদ্ধান্তে অনড়। বিনা শর্তে মিথ্যা মামলা তুলে নিতে হবে এবং প্রত্যেকে, যারা আব্বার সঙ্গে কারাবন্দি, তাদের সবাইকে বাবার সঙ্গেই বিনা শর্তে মুক্তি দিতে হবে। তবেই তিনি গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেবেন।

    মা নিজেই একদিন সশরীরে সেনানিবাসে গিয়ে দেওয়ালের এপাশ থেকে কথাটা আব্বাকে বললেন :‘তুমি কিছুতেই প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বৈঠকে যেতে রাজি হবে না।’

    কোনোভাবেই যখন মাকে বোঝানো বা রাজি করা যাচ্ছে না, তখন নেতারা অন্যপথে এগোতে চাইলেন। দু-এক দিন পরে, দুপুরবেলা আমি স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে ব্যাগটা পাশে নামিয়ে রেখে বাড়ির সামনে এক্কা-দোক্কা খেলছি। হঠাত্ দেখি, নীল রঙের একটা টয়োটা গাড়ি এসে থামল আমাদের বাড়ির সামনে। তাতে বসে আছেন জুলফিকার আলি ভুট্টো সাহেব। পত্রপত্রিকায় ছবি দেখে তাকে খানিকটা চিনতাম। মায়ের মামাতো ভাই আকরাম মামা সেখানে ছিলেন। গাড়ি দেখেই মামা দৌড়ে বাড়ির ভেতরে চলে গেলেন। মি. ভুট্টো গাড়ি থেকে নেমে আমার কাছে জানতে চাইলেন—কী নাম আমার, স্কুল থেকে ফিরলাম কি না ইত্যাদি। আমি সালাম দিয়ে উত্তর দিলাম। উনি জিজ্ঞাসা করলেন, মা কোথায়? ততক্ষণে তড়িঘড়ি করে আকরাম মামা ফিরে এসেছেন। আমি জবাব দেওয়ার আগেই আকরাম মামা বললেন, ‘উনি বাড়িতে নেই।’ ভুট্টো সাহেবের সঙ্গে আরো এক ভদ্রলোক ছিলেন। তাকে ডেকে ভুট্টো সাহেব বললেন, ‘হাসান, চলো যাই।’ আমাকে বাইবাই, খোদা হাফেজ বলে তারা চলে গেলেন। আমি বুঝতে পারলাম না এবং অনেকটা অবাক হয়ে গেলাম, মামা কেন ওদের এভাবে বললেন, মা বাড়িতে নেই?

    ঘটনা হচ্ছে ভুট্টো সাহেবকে দেখেই মামা ছুটে রান্নাঘরে গিয়ে মাকে বললেন, ‘বুজি, ভুট্টো সাহেব এসেছেন।’ ঐ খবর শুনে মা তড়িঘড়ি করে পাশের বাড়ি চলে যান। ঐ বাড়িটি ছিল বদরুন্নেসা আহমেদের। তিনি ’৭২ সালে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। বদরুন্নেসা কলেজ ওনারই নামে।

    দুই বাড়ির মধ্যে ছোট্ট একটা গেট ছিল। আমরা ওনাকে ফুফু বলে ডাকতাম। ঐ বাড়িতে ঢুকেই মা মামাকে বললেন, ‘বলে দে, আমি বাড়িতে নেই।’ মি. ভুট্টোর সঙ্গে দেখা করার প্রশ্নই ওঠে না। ভুট্টো সাহেব চলে গেছেন—এই খবর শুনে তবেই মা বাসায় ফিরে আসেন। ভুট্টো সাহেব নিশ্চয়ই খবর নিয়েই এসেছিলেন যে কাকে ধরতে হবে শেখ সাহেবকে বোঝানোর জন্য। কারণ, ভুট্টো সাহেব যা চাইবেন, তার সপক্ষে একটি কথা বলাও সম্ভব ছিল না মায়ের পক্ষে। বেগম মুজিব অনেক আগে থেকেই তার বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে।

    এখানে বলতে হয়, কী অসাধারণ মনোবল ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ছিল আমার মায়ের। তিনি জানতেন, জনতার সাগরে জেগেছে ঊর্মি এবং এও জানতেন, জনতা জেগে উঠলে কারো সাধ্য নেই তাকে থামানোর। সেটা জানবার জন্য নিশ্চয়ই তার উত্স ছিল এবং সেটাই স্বাভাবিক

    তার হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়া গেল ১৯৬৯-এর ২২শে ফেব্রুয়ারি। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অভিযুক্ত সবাইকে নিয়ে কারাগার থেকে সসম্মানে বেরিয়ে এলেন বাঙালির প্রিয় মুজিব ভাই, শেখ সাহেব, প্রাণের প্রিয় শেখ মুজিবুর রহমান।

    বাবা জেলে থাকলে সব দিক সামলাতে হতো আমার মাকে। বাড়ির চারপাশে গুপ্তচররা নানান বেশে চলাফেরা করত। কখনো ফকির সেজে, পাগল সেজে, ফেরিওয়ালা সেজে এবং কখনো-বা বন্ধু সেজে। সেদিকেও মায়ের সদা সজাগ দৃষ্টি থাকত। আমাদের বাড়িতে ফেরিওয়ালা ঢোকা একদম নিষেধ ছিল। আমরা ভাইবোনেরা সবারই ডাকটিকিট সংগ্রহের নেশা ছিল। আমরা টিকিট সংগ্রহ করতাম ধানমন্ডি লেকের পাড়ে ফুটপাত থেকে। সেখানে হঠাত্ এক লোকের আবির্ভাব হলো। তিনি, আমরা যারা বাচ্চারা খেলতাম লেকের পাড়ে, তাদের নানা জিনিস দিতে শুরু করলেন। আমাকে লজেন্স ও ডাকটিকেট দিতেন। আমাকে ও জামাল ভাইকে বেশি বেশি দিতেন। আমরা দুই ভাইবোন খুশিতে বাসায় এসে একদিন মাকে সেগুলি দেখাতেই মা বললেন, ‘এক্ষুনি ফেরত দিয়ে এসো, অচেনা লোকের হাত থেকে কিছু নেবে না।’ আমরা দৌড়ে গিয়ে সেগুলি ফেরত দিয়ে এলাম। ঐ লোকটা আরেকটা কাজ করত। খুব দুঃখের কাহিনি শোনাত, তার নিজের জীবনের। সেটাও মাকে জানালাম। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কীভাবে যেন সেই লোকটা যে গুপ্তচর ছিল সেটা জানতে পারি। কারণ, আমি একবার যদি কারো চেহারা দেখতাম, সেটা ভুলতাম না।

    গুপ্তচরবিষয়ক আরেকটা ছোট্ট ঘটনা। একবার এক লোক আমাদের বাড়ির সামনে বারবার সাইকেলে চড়ে চক্কর দিচ্ছিল। আমরা বাড়ির সামনে লেকের পাড়ে ভাইবোন ও পাড়ার ছেলেমেয়েরা বিকেলে খেলাধুলা করছি। ঐ লোককে সাইকেলে ঘোরাফেরা করতে দেখে কামাল ভাইয়ের সন্দেহ হলো। কামাল ভাই বললেন, এ নিশ্চয়ই এসবির লোক। জামাল ভাই, কামাল ভাই মিলে লোকটাকে জব্দ করার একটা ফন্দি আঁটলেন। আমাদের ‘টমি’ নামে বড়সড় একটা পোষা অ্যালসেসিয়ান কুকুর ছিল। জামাল ভাই, কামাল ভাই ওকে বলল—‘টমি ছুহ্।’ টমি তখন ভয়ংকরভাবে ছুটে গিয়ে ঘেউ ঘেউ করতে করতে সাইকেলওয়ালার পেছন পেছন ছুটতে শুরু করল। লোকটা তাল সামলাতে না পেরে সাইকেল থেকে পড়ে গেল। টমিকে থামতে বলা হলো। ও মনিবের কথা শুনে ঘেউ ঘেউ করেই যাচ্ছিল। কিন্তু ঐ লোকের ওপর কোনো আক্রমণ করেনি। লোকটা সাইকেল নিয়ে কোনোক্রমে পালাতে পারলে বাঁচে। তবে যাওয়ার সময় জোরে জোরে বলে গেল—‘রাত কো দেখা দেঙ্গে।’ সেই রাতেই বাবা গ্রেফতার হলেন।

    এসব দেখেশুনে মা আমাদের সবাইকে সাবধান হতে বললেন। অচেনা কারো সামনে কোনো কথা যেন না বলি। আরেকটা কাজ মা করতেন। যেদিন বাবার মিটিং থাকত, বাবাকে প্রস্তুত করে মিটিংয়ে পাঠিয়ে দিয়ে তিনি নিজেই বেরিয়ে পড়তেন জনসভার উদ্দেশে। জনসভার চারপাশটা চক্কর দিয়ে আসতেন। নিজের চোখে সব দেখে আসতেন। লোক সমাগম কেমন হলো এবং লোকজনের মনোভাব সম্পর্কে তথ্য নিয়ে আসতেন। পাছে বাবাকে যাতে কেউ ভুল তথ্য দিতে না পারে। কেবল একটি বার এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছিল। সেবার তিনি জনসভার চারপাশে চক্কর দিতে যাননি। সেটা ছিল রেসকোর্স ময়দানে ৭ই মার্চ ১৯৭১-এর ঐতিহাসিক জনসভা।

    আমাদের জীবনটা বিচিত্র অভিজ্ঞতায় ভরপুর। এসব লিখেও শেষ করা যাবে না। আমাদের জীবনের সবচেয়ে মর্মান্তিক দিন, শুধু আমাদের নয়, গোটা বাঙালি জাতির জন্যও—১৫ই আগস্ট ১৯৭৫। ঐদিন আমাদের নিঃশেষ করে দিয়ে গেল ঘাতক-খুনিরা। আমরা শুধু দুটো বোন বেঁচে থাকলাম। আমরা বাকহীন, কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলাম। এত বড় অন্যায়, কিছুতেই সহ্য হবে না। আল্লাহর ওপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস রেখে নানান চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ আমরা দুটি বোন সত্যিকারের সোনার বাংলায় দাঁড়িয়ে আছি। হাসু আপা নিজের জীবনকে উত্সর্গ করে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার মানুষের কল্যাণের জন্য। সবার দোয়া ও ভালোবাসাই আমাদের পাথেয়। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

    লেখক: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা