Category: জাতীয়

  • হেফাজত নেতা মামুনুল গ্রেফতার

    হেফাজত নেতা মামুনুল গ্রেফতার

    হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারের পর মামুনুলকে তেজগাঁও ডিসি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তাকে মোহাম্মদপুর থানায় করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর সাম্প্রতিক সহিংসতা ও রিসোর্টকাণ্ডে রাজধানীর পল্টন থানা ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় দুটি মামলা হয়েছে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর তাণ্ডবের ঘটনাতেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে
  • করোনার কাছে কিংবদন্তী অভিনেত্রী কবরীর পরাজয়

    করোনার কাছে কিংবদন্তী অভিনেত্রী কবরীর পরাজয়

    কিংবদন্তী অভিনেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার দিবাগত ১২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

    মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। করোনা উপসর্গ থাকায় নমুনা পরীক্ষা করলে ৫ এপ্রিল তার করোনা শনাক্ত হয়।

    এরপর সেদিন রাতেই তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি ঘটেনি। বুধবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।

    কিন্তু কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে কোনো আইসিইউ বেড খালি ছিল না। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

    সুভাষ দত্তের পরিচালনায় ১৯৬৪ সালে ‘সুতারাং’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে নাম লেখান নারায়ণগঞ্জের মেয়ে কবরী। এরপর ‘বাহানা’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘রংবাজ’, ‘সারেং বউ’, ‘সুজন সখী’সহ অসংখ্য কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি।

    এই কিংবদন্তী চলচ্চিত্র তারকা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য। তার বিদায়ে চলচ্চিত্র এবং আওয়ামীলীগসহ সকল পর্যায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

  • নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই প্রমাণ করে দিলেন শামু

    নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই প্রমাণ করে দিলেন শামু

    নিজস্ব প্রতিনিধি //
    শামু খান পড়াশোনা করেছেন লালমাটিয়া মহিলা কলেজে
    স্বামী ও ২ ছেলে নিয়ে দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছেন ঢাকার মিরপুর ডিওএইচ এ।
    তখন সময়টা ছিলো ২০১২ যখন অনলাইন কেনাকাটায় বাংলাদেশের মানুষ কিছুটা হলেও পেছানো ছিলো।অনেকেই জানতো না অনলাইন ব্যাবসা সম্পর্কে আবার যারাও জানতো তারা মনে করতে অনলাইনের পণ্য ভালো হয় না।যখন মানুষের চিন্তা ধারণাই ছিলো এরকম ঠিক তখন শামু খান তার ভাই মনির হোসেন এবং বোন ইসমা হক এর ইচ্ছায় সিদ্ধান্ত নেন , যে তিনি অনলাইনে ব্যাবসা করবেন।

    তবে কীভাবে তার যাত্রা টা শুরু করবেন বুঝতে পারছিলেন না।অনেক চিন্তা ভাবনার পড়ে Shamu’s Collection নামে ফেসবুক এ একটি পেইজ চালু করেন। আর সেখানে তিনি তার ইউকের বোন এর মাধ্যমে সর্বপ্রথম মাত্র ৫০ পাউন্ড(প্রায় ৬০০০ টাকা)এর জুয়েলারি দিয়ে শুরু করেছিলেন। শুরুটা ছিলো চ্যালেঞ্জের ছিলো না কোনো ডেলিভারি ম্যান তিনি নিজেই পার্সেল সেল হলে ডেলিভারি দিয়ে আসতেন। তার পণ্যের গুণগত মান এবং সার্ভিস এর মাধ্যমে হাজারো ক্রেতাদের হৃদয়ে স্থান পায় Shamu’s Collection । থাইল্যান্ড এবং চিনে গিয়ে তিনি তার পছন্দ মতো কসমেটিকস, জুয়েলারি, ব্যাগ, গড়ি, মানিব্যাগ ইত্যাদি ইনপুট করছেন ।

    শামু খান বলেন,আমি যখন অনলাইন ব্যাবসা শুরু করি তখন আমাকে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তখন আমার ভাই মনির হোসেন অস্ট্রেলিয়া থেকে এবং বোন ইসমা হক ইউকে থেকে আমাকে সর্বোচ্চ সাপোর্ট দিয়েছেন। আজ আমি তাদের সাপোর্টে এবং ভালো সার্ভিসের মাধ্যমে ক্রেতাদের ভালো সাড়া পেয়ে শুধু ফেসবুক পেইজ এ নয় মিরপুর ডিওএইচ শপিং কমপ্লেক্স এর ২য় তলা ৯ নম্বর দোকানটি হলো Shamu’s Collection এর।

    এখানে ৪ জন ডেলিভারি ম্যান কাজ করছেন, এছাড়াও শপে আরো কয়েকজন কাজ করছেন। Shamu’s Collection এর মাধ্যমে আজ কয়েকটি পরিবার সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারছেন।

    তিনি আরো বলেন, Shamu’s Collection ক্রেতাদের মনে স্থান পাওয়ার মূল কারণ হলো কখনো কেউ কোন প্রোডাক্ট কিনে প্রতারিত হননি, আছে রিটার্ন করার ব্যাবস্থা,এমনকি ক্রেতা ইচ্ছে করলে এক্সচেঞ্জ ও করতে পারবেন,বিভিন্ন দিবসগুলোতে ডিসকাউন্ট এর ব্যাবস্থা ও আছে।

    সবশেষে তিনি বলেন,আজ যদি আমি একজন সফল ব্যাবসায়ী / উদ্যোক্তা হয়ে থাকি তার পিছনো ৩’জন মানুষের অবদান সবচেয়ে বেশি একজন হলেন আমার ভাই মনির হোসেন, আরেকজন আমার বোন ইসমা হক যাদের প্রতি আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো। আরো একজন যার কথা না বললেই নয় তিনি হলেন আমার স্বামী যিনি আমাকে সব সময় সাপোর্ট করেছেন তার সাপোর্টা না পেলে হয়তবা আমি আজকে এতদূর পর্যন্ত আসাটা সম্ভব হতো না সব সময় আমার ছায়া হয়ে পাশে থাকতো।
    আমি তাদের ৩ জনের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

  • আমি খসরু স্যারকে অনুসরণ করে চলতাম

    আমি খসরু স্যারকে অনুসরণ করে চলতাম

    পিতৃতুল্য মানুষকে হারালাম আমি। যিনি আমাকে স্নেহ করতেন; অনেকটা অন্ধ স্নেহ। তাঁর মতো বিশাল হিমালয়ের সামনে যখনই যেতাম অসংখ্য মানুষের মাঝ থেকে আমাকে বলতেন, ‘অপু আসছো, বসো।’ সবসময়ই মানুষে পরিপূর্ণ থাকতো উনার বাসা, চেম্বার। সবাইকে বিদায় দিয়ে তারপর আমার সঙ্গে কথা বলতেন।

    তেমন জরুরি কথা থাকতো বলে বসিয়ে রাখতেন না। জিজ্ঞেস করতেন ‘কামাল ভাই (মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) কেমন আছে? প্রধানমন্ত্রী একটা কামের কাম করছে। একটা ভদ্রলোককে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানাইছে। আস্তে আস্তে কথা কইয়া দেশটারে ক‍্যামনে ঠান্ডা রাখছে দেখছোনি।’

    তারপর আব্বার কথা, আমার দুই ছেলের কথা জিজ্ঞেস করতেন। আমার বড় ছেলে সারীম শরীফতো উনার অনেক আদরের ছিল। আমিও কুশল বিনিময় পযর্ন্তই কথা বলতাম।

    আমি উনাকে অনুসরণ করে চলতাম। উনার ব‍্যক্তিত্ব, সর্বস্তরে উনার গ্রহণযোগ্যতা আমাকে মুগ্ধ করতো। আমার জীবনের যতটুকু সফলতা তার পেছনে উনার উৎসাহ, প্রেরণা ও শক্তি ছিল। উনার অনুপ্রেরণা ও সাহস আমাকে জীবনের অনেক চ‍্যালেঞ্জ নিতে সহযোগিতা করেছিল। মনে একটা জোর ছিলো সে যে খসরু স‍্যার আমার সাথে আছে।

    যে কোনো ভালো কাজে উনি উৎসাহ দিতেন। বুড়িচং-ব্রাহ্মণ পাড়ার দড়িয়ার পাড় ঈদগা কবরস্থানটির (কুমিল্লার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ এবং কবরস্থান- প্রায় দুই হাজার কবরের স্থান হবে) সংস্কারের কাজ উনার অনুপ্রেরণা ও উৎসাহে সম্পন্ন (প্রায়) করতে পেরেছি আমরা। কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রায়ই গাড়ি থামিয়ে আমাকে ফোন দিয়ে আর কি কি কাজ করতে হবে সে নিদর্শনা দিতেন। এভাবে আমাকে বিভিন্ন উপদেশ দিতেন। কাছে টানতেন। প্রায়ই বলতেন, ‘যা ই করবি সবাইকে সন্তুষ্ট করতে পারবি না। আল্লাহর কাছে পাইবি।’ কতক্ষণ তুমি করে বলতেন আবার তুই করেও বলতেন।

    কিছু ভালোবাসা, স্নেহ অপ্রকাশিত থাকে; শুধু অনুভব করা যায়। উনার জন্মদিনে, বাবা মায়ের মৃত্যু দিবসে বড় অনুষ্ঠান হলেও বাসার সংক্ষিপ্ত ও ছোট অনুষ্ঠানে যখন আমার ডাক পড়ত তখনই আমি অনুভব করতাম তিনি আমাকে কটতা স্নেহ করেন। কারণ আমাদের মধ‍্যে তেমন রাজনৈতিক আলোচনা হতো না; ছিল না কোনো চাওয়া-পাওয়ার হিসাব।

    পিতাকে যতটা মানি খসরু স‍্যারকে ততটা মানতাম। একবার কোনো একটি ব‍্যাপারে আব্বাকে ফোন দিয়ে বলেছিলেন, ‘ জয়নাল ভাই, অপুকে বইলেন যে……….। উত্তরে আমার পিতা বলেছিলেন, অপুতো আমার কথা শুনেই, আমার থেকে বেশি শুনে আপনার কথা।’ আজকে হারিয়ে ফেললাম পিতৃতুল্য সেই অভিভাবককে। অনেক কথা বলার ছিলো; সেগুলো অব‍্যক্তই রয়ে গেল।

    মৃত্যু অমোঘ সত‍্য। মৃত্যুকে মেনে নিতেই হবে। উনার মৃত্যুটা সইতে কষ্ট হচ্ছে। মৃত্যু শোক সহ‍্য করা কঠিন। সাধারণত আমি একজন কঠিন হৃদয়ের মানুষ। আপনজনের মৃত্যুতে ভেতর ভেঙ্গে গেলেও চোখে জল আসে না আমার। কিন্তু খসরু স‍্যারের মৃত্যুর সংবাদে বাচ্চার মতো কেদেঁ দিয়েছি। পারিনি নিজেকে ধরে রাখতে।

    আপাদমস্তক নিরেট ভদ্রলোক মানুষটিকে সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই পরপারে ভালো রাখবেন।

  • আজ পহেলা বৈশাখ

    আজ পহেলা বৈশাখ

    আজ সূর্যের নতুন আলোর সঙ্গে এসেছে নতুন বছর, বঙ্গাব্দ ১৪২৮। ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো…মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’

    করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যেই বাঙালির জীবনে আরো একবার এলো পহেলা বৈশাখ। গত বছরও মানুষ ঘরে আবদ্ধ ছিল, এবারও বৈশাখ বরণে মেতে ওঠা হবে না। এবারের বৈশাখে নিশ্চয়ই বিশ্ব জুড়ে করোনার সংক্রমণের কারণে যে ‘লকডাউন’ চলছে তা থেকে মুক্ত হওয়ার আহ্বান ফুটে উঠবে সবার প্রার্থনায়।

    সবার মনে পহেলা বৈশাখের সেই চিরায়ত গান গুঞ্জরিত হলেও এবারে তার আবেদন ভিন্ন। আর এই আশঙ্কার মধ্যেই জাতির জীবনে এসেছে বাংলা নতুন বছর। প্রতি বছর নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে মানুষ পথে নেমে আসে। সকালের প্রথম আলোয় সঙ্গীত সমাবেশ আর মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে বরণ করে নতুন বছরকে। ভোরে সূর্যের আলো ফোটার সময় থেকেই রমনা বটমূল মানুষের পদচারণায় ভরে ওঠে। এবার সেই প্রাঙ্গণ থাকবে জনশূন্য। শাহবাগ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ দেশের প্রতিটি উত্সব কেন্দ দেখা যাবে জনমানবহীন। এমন অনাড়ম্বর পহেলা বৈশাখ আর কখনোই আসেনি জাতির জীবনে।

    ছায়ানট বর্ষবরণ শুরু হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের সময়কাল ছাড়া নিয়মিতভাবেই রমনার বটমূলে বর্ষ আহ্বানের ডাক দিয়ে অনুষ্ঠান করে এসেছে। এবার নিয়ে পরপর দুই বছর তা হচ্ছে না। করোনাকালের পৃথিবীতে এখন চলছে এক অনিশ্চিত সময়।

    এর আগে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পহেলা বৈশাখের সমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। নতুন করে লোকসমাগমে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এবার তাই কোনোরকম আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নতুন বর্ষকে বরণ করে নেওয়া হবে। ঐতিহ্যবাহী রমনার বটমূলে হচ্ছে না ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। তবে সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন ও বেতারে নববর্ষের বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে।

    এবারের অনুষ্ঠান না করা প্রসঙ্গে ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী বলেন, ‘গত বছরের মতোই ছায়ানটের যে অনুষ্ঠান বিটিভি ধারণ করেছে সেখান থেকেই নির্বাচিত গান নিয়ে বিটিভিতে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে।’

    এদিকে, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি এবং লকডাউনের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পহেলা বৈশাখ বরণ উপলক্ষ্যে সশরীরে মঙ্গল শোভাযাত্রা করা হচ্ছে না। তবে, প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে চারুকলা অনুষদের শিল্পীদের তৈরি মঙ্গল শোভাযাত্রার বিভিন্ন মুখোশ ও প্রতীক ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রদর্শন ও সম্প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গণজমায়েত করা যাবে না।

  • ভারতে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেলেন মমতাজ

    ভারতে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেলেন মমতাজ

    বাংলাদেশের ফোক সম্রাজ্ঞী ও সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমকে ভারতের তামিলনাড়ুর গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটি থেকে দেওয়া হয়েছে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি।

    শনিবার (১০ এপ্রিল) এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. পি ম্যানুয়েল মমতাজের হাতে ‘ডক্টর অব মিউজিক’ পদকে তুলে দেন।

    মমতাজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে বিষয়টি জানানো হয়। সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি নেওয়ার সময়কার মমতাজের কয়েকটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, একমাত্র সংগীতশিল্পী হিসেবে প্রকাশিত আট শতাধিক অ্যালবামের বিশ্ব রেকর্ড রয়েছে মমতাজের।

    এছাড়া ত্রিশ বছর ধরে বাংলা গানকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা, লোকজ সংগীতকে আধুনিকায়ন করে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য করা, চলচ্চিত্র সংগীতে একাধিকবার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্তি রয়েছে তার।

    এছাড়া দেশি-বিদেশি অসংখ্য সম্মাননা অর্জন, সমাজ সচেতনতামূলক নানামুখী গানের মাধ্যমে বিশেষ ভূমিকাসহ সার্বিক মূল্যায়নে মমতাজ বেগমকে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ড. পি ম্যানুয়েল সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব মিউজিক’ পদকে ভূষিত করেন।

    জানা যায়, একই সময়ে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন চেন্নাইয়ের সাবেক জেলা জজ থিরু এজে মুরুগানানথাম, তামিলনাড়ুর আধ্যাত্মিক ধর্মগুরু খলিফা মাস্তান সাহেব ক্বাদিরী, কেরালা ড. এপিজে আবুল কালাম ইনস্টিটিউট অব বিজনেস ম্যানেজমেন্ট পরিচালক উইলাত কোরাইয়া।

    বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমাজে অবদান রাখছেন সারা বিশ্বের এমন বিশেষ মানুষদেরকে বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্মানজনক ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়মিতই দিয়ে আসছে ভারতের তামিলনাড়ুর গ্লোবাল হিউম্যান পিস ইউনিভার্সিটি।

  • মহামারির সময়েও ৫.৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি- প্রধানমন্ত্রী

    মহামারির সময়েও ৫.৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি- প্রধানমন্ত্রী

    বর্তমানে বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    সোমবার (১২ এপ্রিল) বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘অনুশীলন শান্তির অগ্রসেনা’র সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

    তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানে যুক্ত হন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করা অতীতের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনা ভাইরাসের মতো অদৃশ্য শত্রুর আবির্ভাব, প্রযুক্তির দ্রæত প্রসার এবং সময়ের অগ্রযাত্রার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন হুমকির উপাদান সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে শান্তিরক্ষীদের বহুমাত্রিক ও জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সাম্প্রতি শান্তিরক্ষীদের প্রাণহানির সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। এযাবৎ বাংলাদেশি ১৫৮ জন শান্তিরক্ষী প্রাণোৎসর্গ করেছেন এবং ২৩৭ জন আহত হয়েছেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অপারেশনে আগামী দিনের নতুন সংকটগুলো মোকাবিলায় শান্তিরক্ষীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামাদি দিয়ে প্রস্তুত করা এখন সময়ের দাবি।

    শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনুশীলন শান্তির অগ্রসেনা’য় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সাম্প্রতিক সময়ের উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে কিছু ঘটনা অংশগ্রহণকারীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমাদের ভবিষ্যত শান্তিরক্ষীরা সুপ্রশিক্ষিত হয়ে উঠতে পারে। এই অনুশীলনে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অপারেশনে নারীদের অবদান তুলে ধরা হয়েছে জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে অত্যন্ত নিখুঁত এবং সফলভাবে এই অনুশীলনটি আয়োজন করার জন্য আমি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানাই। জাতির পিতার শান্তিদর্শন প্রতিষ্ঠায় এই বহুজাতিক অনুশীলনটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

    ‘যেকোনো দেশের জাতীয় মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত সশস্ত্র বাহিনী অপরিহার্য। তেমনি, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সক্ষমতা যাচাইয়ে নিয়মিত অনুশীলনের বিকল্প নেই। জাতির পিতা স্বাধীন বাংলাদেশে একটি সুশৃঙ্খল ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি অত্যাধুনিক সামরিক একাডেমি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর আদর্শকে ধারণ করে তাঁর প্রতি সম্মান জানাতে আমরা ২০২০-২০২১ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। পাশাপাশি সমগ্র বাঙালি জাতি গৌরবের সঙ্গে উদযাপন করছে আমাদের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। বিশ্বের ১১৬টি দেশের নেতারা ভিডিও এবং লিখিত অভিনন্দনবার্তা প্রেরণ করেছেন। এসব বার্তায় অত্র অঞ্চলসহ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবদানের স্বীকৃতি মিলেছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ বছরে আমরা আমাদের তিন বাহিনীর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছি। আমাদের সামরিক বাহিনীতে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তির সংযোজন করেছি। সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ নিরসনে আমরা ‘শূন্য সহনশীলতার নীতি’ গ্রহণ করেছি। মহামারির সময়েও ৫.৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করেছি। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০ নারী শান্তিরক্ষীসহ ১ লাখ ৭৫ হাজারের অধিক বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ৫টি মহাদেশের ৪০টি দেশে ৫৪টি মিশনে অংশগ্রহণ করেছে। বর্তমানে ৭ হাজারের অধিক বাংলাদেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য ১০টি মিশনে শান্তিরক্ষার উদ্দেশ্যে মোতায়েন আছে। আমাদের শান্তিরক্ষীরা যে মিশনেই গেছেন, সেখানে জাতিসংঘের পতাকাকে সমুন্নত ও উড্ডীন রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুজ্জ্বল করেছেন। একারণেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

    এই অনুশীলনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে বন্ধুপ্রতিম দেশ ভারত, ভুটান ও শ্রীলংকা থেকে আসা অংশগ্রহণকারী সামরিক সদস্যদের আন্তরিক অভিবাদন জানান প্রধানমন্ত্রী। স্বাগত জানান যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, সৌদি আরব, কুয়েত এবং সিঙ্গাপুর থেকে আসা আমন্ত্রিত পর্যবেক্ষকদের।

  • মামুনুলের ‘২য় স্ত্রী’ নিরুদ্দেশ : খোঁজ পেতে জিডি

    মামুনুলের ‘২য় স্ত্রী’ নিরুদ্দেশ : খোঁজ পেতে জিডি

    হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর খোঁজ পাচ্ছেন না বলে জানিয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। শনিবার রাতে দ্বিতীয় স্ত্রীর আগের পক্ষের ছেলে এ জিডি করেছেন।

    পল্টন থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জিডিতে তার ছেলে বলেছেন, গত ৩ এপ্রিল থেকে মায়ের খোঁজ পাচ্ছেন না তিনি। তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত।

    গত ৩ এপ্রিল মামুনুলকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টে এক নারীসহ অবরুদ্ধ করে স্থানীয়া। খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সেখানে গিয়েছিলেন। পরে হেফাজতের কর্মীরা গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

  • ১০ এপ্রিল ‘বাংলাদেশ সরকার’ এর সুবর্ণ জয়ন্তী

    ১০ এপ্রিল ‘বাংলাদেশ সরকার’ এর সুবর্ণ জয়ন্তী

    কেউ বলেন প্রবাসী সরকার, কেউ বলেন মুজিব নগর সরকার, কেউ বলেন অস্থায়ী সরকার, কেউ বলেন বিপ্লবী সরকার; আসলে কোনওটাই সঠিক নয়। প্রকৃতার্থে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ২০২১ সালের  ১০ এপ্রিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের সুবর্ণ জয়ন্তী।

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত ১২টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্পষ্ট করে ঘোষণা করেছিলেন ‘আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন’। তার এক ঘণ্টা  ১০ মিনিট পরে বঙ্গবন্ধুকে ৩২ নম্বর বাসা গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়।

    সবচেয়ে দুভাগ্যের ব্যাপার বঙ্গবন্ধু কেন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, কেন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাননি- এটা নিয়ে বিগত ৪৫ বছর বছর যাবৎ কুতর্ক করার চেষ্টা করা হয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের কোনও এক সময়ে ড. মাযহারুল ইসলাম , প্রয়াত কথাসাহিত্যিক রাহাত খান, বাংলা একাডেমির বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন। অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনি তো গ্রেপ্তার এড়াতে পারতেন? প্রশ্নোত্তরে বঙ্গবন্ধুর উত্তর ছিল একেবারেই স্পষ্ট-

    ২৫শে মার্চ (১৯৭১) রাতে আমি গ্রেফতার হবার আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দেই। পুলিশ হেডকোয়াটার্সের মাধ্যমে ওয়্যারলেসে সে ঘোষণা সব জেলা সদরে পাঠানো হয়। আমি বিভিন্ন চ্যানেলে ভারতের সঙ্গেও যোগাযোগ করে যাই। তা না হলে তোমরা অত সহজে অস্ত্র ও সাহায্য সহযোগিতা পেতে না। 

    আমরা প্রশ্ন করলাম কিন্তু আপনি কেন ওদের হাতে ধরা দিলেন। তিনি বললেন, ‘এ ব্যাপারে আমার বেশ ক’টি চিন্তা কাজ করেছে। এক. আমাকে ধরতে না পারলে ওরা আরও বেশি লোককে খুন করতো; দুই. আন্তর্জাতিকভাবে আমরা বিচ্ছিন্নতাবাদী ও ভারতের ক্রীড়নক বলে প্রমাণিত হতাম এবং এতে আন্তর্জাতিক সহমর্মিতা কমতো এবং আরও বেশি দেশ আমাদের আন্দোলন সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করতো। আর একটা কথা বলি, তোমরা কিভাবে নেবে জানি না, প্রফেসর সাহেব আমার সঙ্গে একমত হবেন কিনা তাও বলতে পারি না- তবে আমার সুদৃঢ় বিশ্বাস আমি পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি থাকায় আমার দুঃখী বাঙালিদের মধ্যে দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ যেমন বেড়েছে তেমনি মানুষ আমার অনুপস্থিতিতে আমার একটা বিশাল প্রতীক মনে মনে তৈরি করে নিয়েছে। এটা ছিল মুক্তিযুদ্ধের খুব বড়ো একটা শক্তি। আমি প্রবাসী সরকারে থাকলে শুধু প্রমাণ সাইজের মুজিবই থাকতাম। ওদের হাতে বন্দি থাকায় আমি এক মহাশক্তিধর ও বাংলাদেশের সকল মানুষের প্রাণপ্রিয় নেতার ভূমিকায় স্থান পাই। মানুষ আমার নাম দিয়ে হেলায় হেসে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে। কি অমোঘ অস্ত্র ছিলো, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। ওরা যদি আমাকে মেরে ফেলতো, তাহলে আমি আরো বড়ো প্রতীকে পরিণত হতাম। বাংলার মানুষ আরো লড়াকু হয়ে যুদ্ধ করতো। তাছাড়া, আমার জাতি আমাকে যে মর্যাদা দিয়েছে তার প্রতি সম্মান রেখেই আমি আমার বুঝ মতো ব্যবস্থা নিয়েছি, আর আমার দেশবাসী ও যোগ্য সহকর্মীরা মুক্তিযুদ্ধ চালিয়েছে। 

    (তথ্য সূত্র : বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ , লেখক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। প্রকাশক- দ্য রয়েল পাবলিশার্স)  

    আমরা খেয়াল করলেই দেখতে পারবো, পশ্চিম পাকিস্তানের বর্বরোচিত আক্রমণ শুরুর ছয়দিন পর ৩১ মার্চ ১৯৭১ ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  ইন্দিরা গান্ধী সংসদে এক আবেগপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছিলেন। গভীর প্রত্যয়ের সঙ্গে উচ্চারণ করেছিলেন যা, সেটি  ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বক্তব্যের কয়েকটা লাইন ছিল এরকম, “ভারতের সংসদ পূর্ব বাংলায় মানুষের গণতন্ত্রের সংগ্রামে গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছে। ভারত শান্তি এবং মানবাধিকার রক্ষায় দায়বদ্ধ। সে কথা স্মরণে রেখে সভা অবিলম্বে অসহায় নিরস্ত্র মানুষের ওপর পাকিস্তান সরকারের বলপ্রয়োগ ও নির্মম হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছে। ভারতের সংসদ পৃথিবীর সকল মানুষকে এবং তাদের সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছে দ্রুত কোনও সদর্থক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যাতে পাকিস্তান এই গণহত্যা বন্ধ করতে বাধ্য হয়। এই সভার গভীর দৃঢ় বিশ্বাস পূর্ব বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের জয় হবেই। ভারতের সংসদ পূর্ব বাংলার মানুষকে আশ্বস্ত করছে তাদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগে ভারতের জনগণের পূর্ণ সহানুভুতি এবং সমর্থন থাকবে।”

    লক্ষ্য করার বিষয় শ্রীমতি ইন্দিরা লোকসভায় ভাষণের দিনই ৩১ মার্চ মেহেরপুর সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পৌঁছেছিলেন বঙ্গবন্ধুর একান্ত বিশ্বস্ত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ ।

    ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ওই অঞ্চলের মহাপরিদর্শক গোলক মজুমদার তাদের নিরাপদ আশ্রয়ের বন্দোবস্তু করেছিলেন। খবর পেয়ে চলে এলেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক কে এফ রুস্তামজী। দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করলে, সেখান থেকে রুস্তামজীকে বলা হল, তাজউদ্দীনসহ দিল্লিতে চলে আসতে। ভারতের সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাজউদ্দীনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। বাংলাদেশ সরকার গঠন করে, সেই সরকারের পক্ষ থেকে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে কথা বলে, দাবি পেশ করলে তিনি সহায়তা করতে পারবেন। সব মিলিয়ে এটা তার কাছে পরিষ্কার হয় গেল- গুছিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রাম করতে হলে, স্বাধীন সরকার গঠনের কোনও বিকল্প নেই। এ মন্ত্রিপরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হল ১০ এপ্রিল। পাঠক নিশ্চয় মনে করতে পারবেন (লেখার শুরুতে আছে) বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান ও অন্যান্যদের বলেছিলেন, “আমি বিভিন্ন চ্যানেলে ভারতের সঙ্গেও যোগাযোগ করে যাই। তা না হলে তোমরা অত সহজে অস্ত্র ও সাহায্য সহযোগিতা পেতে না।”  সেটা আওয়ামী লীগের নেতারা ভারতে যাওয়ার সাথে সাথে তা স্পষ্ট করে বুঝতে পেরেছিলেন।

    বাংলাদেশের প্রথম  সরকারের রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম আর উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। বঙ্গবন্ধু যেহেতু তখন পাকিস্তানের কারাগারে, তাই বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পড়েছিল উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের কাঁধে। প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। মন্ত্রিপরিষদের বাকি তিন সদস্য- ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, খোন্দকার মোশতাক আহমদ এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামান। পরের দিন, মানে ১১ এপ্রিল, প্রধান সেনাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল কর্নেল এম এ জি ওসমানীর নাম আর সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ হিসেবে ঘোষণা করা হয় কর্নেল আবদুর রবের নাম।

    এ ঘোষণাপত্র অবশ্য ১০ এপ্রিলই প্রচার করা হয়েছিল। একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এ স্থানের নাম ‘মুজিবনগর’ নামকরণ করেন। ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ পর্যন্ত মুজিবনগর ছিল বাংলাদেশের প্রথম  সরকারের রাজধানী।

    দুই

    বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) গণহত্যা শুরুর পরপরই ভারত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী লোকসভা ও রাজ্যসভার যৌথ অধিবেশনে ২৭ মার্চ এক বক্তৃতায় বলেন, “আমাদের ভূখণ্ডের একেবারে সন্নিকটে নিরস্ত্র ও নিরপরাধ মানুষের ওপর যে নজিরবিহীন নির্যাতন চলছে, আমাদের জনগণ তার তীব্র নিন্দা না করে পারে না। পূর্ববঙ্গের জনগণের এই মহান সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রতি সমর্থন ও সহৃদয় সহানুভূতি অব্যাহত থাকবে।”

    ৩১ মার্চ লোকসভা ও রাজ্যসভার যৌথ অধিবেশনে পাকিস্তান সরকারের প্রতি তীব্র নিন্দা ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করা হয়। ১ এপ্রিল ১৯৭১- এর জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সমর সেন নির্লিপ্ত জাতিসংঘের সমালোচনা করে একটি বার্তা মহাসচিবের কাছে হস্তান্তর করেন। ওই বার্তায় বলা হয়, “বাংলাদেশে পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যদের নির্যাতন এমন এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে তা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার মনে করে চুপচাপ থাকার সময় আর নেই। মানব-দুর্গতির এ মুহূর্তে জাতিসংঘের নিস্ক্রিয়তা ও নীরবতাকে দুর্গত জনগণ উদাসীনতা মনে করবে।”

    এখানে একটি বিশেষ তথ্য উপস্থাপন করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারতের লোকসভায় ৯২টা অধিবেশনের মধ্যে ২৯৬ বার বাংলাদেশ বিষয়ক নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছিল ।

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছোট্ট সাইফের খুনসুটি!

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছোট্ট সাইফের খুনসুটি!

    দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সবসময় নানা বিষয় নিয়ে বৈঠক করতে হয় তাকে। ব্যস্ততার কারণে দম ফেলানোর একদমই ফুরসত হয় না। সবসময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকলেও একটু সময় পেলেই তিনি চলে যেতে চান অন্য ভুবনে। ফেসবুকের কল্যাণে সোফায় বসে একটি শিশুর সঙ্গে তার প্রাণখুলে গল্প করার ছবি বলে দিচ্ছে তার কোমল আচরণের কথা। বলছিলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কথা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিটিতে শিশুটির সঙ্গে প্রাণখুলে গল্প করতে দেখা যায় মন্ত্রীকে। অনেকেরই প্রশ্ন- কে এই শিশু? যার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ধরে খুনসুটিতে মত্ত এত ব্যস্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী?

    জানা গেল মন্ত্রীর সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠা শিশুটির নাম মো. সাইফ শরীফ। সাইফ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপুর ছোট ছেলে।

    ফেসবুকে একাধিক ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে অপু লেখেন ‘মতবিনিময়- ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার টিপস্ নিচ্ছে’!

    ছবিতে দুজনকেই মাস্ক পড়ে ইশারায় কিছু একটা বোঝাতে দেখা গেছে। একসময় শিশুটি সোফা থেকে উঠে মন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলাতে দেখা গেছে। দুজনের মধ্যে ফল জাতীয় কিছু খাবার বিনিময় করতেও দেখা গেছে। আরেকটি ছবিতে দেখা যায়, মন্ত্রী কিছু বলছেন আর খুব মনোযোগ দিয়ে তা শুনছে ছোট্ট সাইফ।

    সোমবার ফেসবুকে এই ছবি পোস্ট করেন শরীফ মাহমুদ অপু। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘সকালে তিনি মন্ত্রীর বাসভবনে দুই ছেলে সারীম শরীফ ও সাইফ শরীফকে নিয়ে গিয়েছিলেন। মন্ত্রী মহোদয় ছোট ছেলেকে খুব আদর করেন। সেও (সাইফ শরীফ) মন্ত্রীর সঙ্গে আড্ডা দিতে পছন্দ করে। শখের বসেই দুজনের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলাম।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিগুলো ছড়িয়ে পরার পর অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে আসাদুজ্জামান খান কামালের দীর্ঘ সাফল্যযাত্রা রয়েছে। আচরণে বিনয়ী অথচ কর্তব্য-কর্মে কঠোর এই মন্ত্রীকে গতবছর মন্ত্রী বান্দরবনের থানচি থানার নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনে গিয়ে মারমা শিশুকে কোলে নিয়ে খুনসুটিতে মেতে উঠতে দেখা গেছে। সেই ছবিটিও ভাইরাল হয়েছিল।

    এদিকে অপুর ফেসবুক পোস্টে মহিবুল্লাহ মুহিব নামের একজন কমেন্টসে লিখেছেন, ‘নিচ্ছে নাকি দিচ্ছে? ছবি দেখেতো মনে হয় মন্ত্রী মহোদয় স্রোতা…!’

    মোহাম্মদ সৈকত সরকার লিখেছেন, ‘বতর্মান কর্ণধার। ভবিষ্যতের কর্ণধার।’

    আইয়ুব সরকার লিখেছেন, ‘আই হোপ ওয়ান ডে হি উইল সাকসেস, ইনশাআল্লাহ’

    নাজমুল হাসান লিখেছেন, স্যার আমার তো মনে হচ্ছে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে মন্ত্রী মহোদয়কে প্রয়োজনীয় টিপস দিচ্ছে……