Category: জাতীয়

  • মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নিয়োগের নীতিমালায় আসছে পরিবর্তন

    মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নিয়োগের নীতিমালায় আসছে পরিবর্তন

    ‘জি-টু-জি প্লাস’ দু’দেশের সরকারের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মধ্যে এসপিপিএতে পরিবর্তন আসছে। চলমান বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের নীতিমালায় পরিবর্তন আনছে মালয়েশিয়া সরকার।

    সিস্টেম পারমোহনান পাকেরজা আসিং (এসপিপিএ) হলো বিদেশিকর্মী নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়া। আগামী ১ সেপ্টেম্বর এসপিপিএ সিস্টেম বাতিল করে বাংলাদেশসহ বাকি ১৩ ‘সোর্স কান্ট্রি’র প্রযোজ্য নীতিমালার আওতায় নেয়া হবে বলে ২১ আগস্ট সে দেশের সরকার নোটিশ জারি করেছে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল দাতো ইন্দেরা খাইরুল দাজমি বিন দাউদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়েছে, বিগত সরকার বাংলাদেশের যে ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মারফত শ্রমিক নিত, তাদের এসপিপিএ সিস্টেম সেপ্টেম্বরের প্রথম থেকেই বাতিল হয়ে যাবে।

    ড. মাহাথির মোহাম্মদ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর অভিযোগ পাওয়া গেছে, গত দুই বছরে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগসাজশে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিকদের পাঠানোর ক্ষেত্রে দুই বছরে কমপক্ষে ২০০ কোটি রিঙ্গিত (৪ হাজার ৮০ কোটি ৩ লাখ টাকা ) হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

    এই অভিযোগের তদন্ত ও শ্রমিক পাঠানোর পদ্ধতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় দেশটি। আগস্ট মাসে এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে জানায় মালয়েশিয়া।

    দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালে সরকারি পর্যায়ে (জি-টু-জি) পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেয়া শুরু করে মালয়েশিয়া। ২০১৬ সালে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বয়ে ‘জি-টু-জি প্লাস’ পদ্ধতিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার সমঝোতা হয়। দু’দেশের সমঝোতার পরপরই বাংলাদেশ সরকার ৯শ রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠায় মালয়েশিয়া সরকারের কাছে।

    সে তালিকা থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি এই সমঝোতা চুক্তির আওতায় দশটি জনশক্তি রফতানিকারক এজেন্সিকে লোক পাঠাতে অনুমোদন দেয় মালয়েশিয়া সরকার।

    সূত্র জানায়, অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ মালয়েশিয়া স্থগিত করেছে বলে দেশটির গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। দেশটির সংবাদমাধ্যম স্টার অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে মাথাপিছু দুই হাজার রিঙ্গিত খরচ হবে, কিন্তু এজেন্টরা বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাছ থেকে ২০ হাজার রিঙ্গিত আদায় করেন।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১০টি এজেন্সি সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। এ সিন্ডিকেটের পকেটে ২০০ কোটি রিঙ্গিত গত দুই বছরে গেছে। আর এ অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ স্থগিত থাকবে।

    জানা গেছে, আলোচিত এই ১০ প্রতিষ্ঠান হলো বায়রার সাবেক সভাপতি নুর আলীর ইউনিক ইস্টার্ন, বায়রার সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফার প্রান্তিক ট্রাভেলস, বায়রার সদ্য বিলুপ্ত কমিটির মহাসচিব রুহুল আমিনের মালিকানাধীন ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল, বদরুল আমিনের ক্যারিয়ার ওভারসিজ, আরিফুল ইসলামের আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স, শেখ আবদুল্লাহর সানজারী ইন্টারন্যাশনাল, মোহাম্মদ বশিরের রাব্বী ইন্টারন্যাশনাল, আরিফ আলমের প্যাসেজ অ্যাসোসিয়েটস, ব্যবসায়ী রুহুল আমিনের আমিন ট্যুরস ও জয়নাল আবেদিনের আল ইসলাম ওভারসিজ।

    যদিও ওই চিঠিতে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি, নতুন পদ্ধতি কী হতে পারে শিগগিরই মালয়েশিয়া সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল আলোচনা করতে বাংলাদেশে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    এদিকে, গত ক’দিন ধরে দু’দেশের মধ্যকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে শ্রমবাজার নিয়ে চলছে আলোচনা ও লাভ ক্ষতির হিসাব। কেউ কেউ বলছেন যে সিস্টেম চালু ছিল সেটা ভালই ছিল। আবার অনেকে বলছেন পূর্বের ন্যায় ফিরে গেলে দুর্নীতি কমবে না বরং বেশি হবে।

    তবে দু’দেশের সরকার সুষ্ঠুভাবে মনিটরিং করলে স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি কমবে। এছাড়া জনশক্তি রফতানির পুরো পদ্ধতি যতদিন না পুরোপরি ‘ডিজিটাল’ করা হচ্ছে ততদিন এ সমস্যা থেকেই যাবে বলে ধারণা করছি।

    সরকারের একটা ওয়েবসাইট থাকবে, যেখানে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক কর্মীরা নিজেদের যোগ্যতা, তথ্য-পরিচয় ইত্যাদি আপলোড করবেন। সেখান থেকে বেছে নিয়ে চাহিদা ও যোগ্যতা ম্যাচ করে তাদের নিয়োগপত্র দিলে সমস্যা থাকবে না বলে মনে করছেন অনেকে।

    এসপিপিএ সিস্টেম বাতিল হলেও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন ভিসার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এমনকি বাংলাদেশ থেকে কর্মী যাওয়াও বন্ধ থাকবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ মুহূর্তে অর্ধলক্ষাধিক ভিসা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কর্মী নিয়োগে মালয়েশিয়া সরকার নতুন কী পদ্ধতি চালু করতে চাইছে তা এখনো পরিষ্কার নয়।

    তবে মালয়েশিয়ার সরকার খুব শিগগিরই হয়তো এসপিপিএর বিকল্প পদ্ধতি চালু করবে। পাশাপাশি প্রক্রিয়াধীন ভিসাগুলোর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন কর্মী গমন অব্যাহত থাকবে এবং জনশক্তি রফতানি কিছুতেই বন্ধ হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

    এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে মালয়েশিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, ডিসেম্বরের মধ্যেই এসপিপিএর বিকল্প পন্থা বের করবে মাহাথির সরকার, যা তখন থেকেই কার্যকর হবে। বাংলাদেশ থেকেও নতুন নীতিমালা অনুসরণ করে কর্মী পাঠাতে হবে। এসপিপিএ যাদের ভিসা হয়েছে, তাদের বহির্গমনও অব্যাহত থাকবে।

    জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ৯ হাজার ৫৬২ অভিবাসীকর্মী বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় পাড়ি দিয়েছেন। গত বছরের মার্চ থেকে হিসাব করলে তা ১ লাখ ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মালয়েশিয়ার বহু অবকাঠামো প্রকল্পেই কাজ করছেন লাখ লাখ বাংলাদেশি।

  • সীমান্ত সুরক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াবে বিজিবি

    সীমান্ত সুরক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াবে বিজিবি

    সীমান্ত সুরক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম।

    সোমবার দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী সীমান্তের দুর্গম এলাকায় থাকা দুটি বর্ডার আউট পোস্ট (বিওপি) পরিদর্শন শেষে এ কথা জানান তিনি।

    চলতি বছরের ২৮ মার্চ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক হিসেবে যোগদানের পর এটি তার প্রথমবারের মত রাজশাহীর কোনো সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন।

    সীমান্ত পরিদর্শন শেষে মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেন, যেহেতু আমাদের জনবল কম, সেহেতু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদের এই শূন্যতা পূরণ করতে হবে। এজন্য সীমান্ত এলাকায় সিসি টিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে চোরাকারবারি এবং অপরাধীদের ওপর নজরদারী বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি সীমান্তেই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। এ ক্ষেত্রে সীমান্ত সড়ক নির্মাণের ওপরও বিশেষভাবে গুরাত্বারোপ করা হচ্ছে। এই ব্যাপারে সরকার যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে তার বাস্তবায়নের কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে বলেও জানান বিজিবি মহাপরিচালক।

    তিনি আরও বলেন, বিজিবির সীমান্তে মাদক পাচার ও চোরাচালান জিরো টলারেন্সে আছে। আগামীতেও বিজিবির এই সুরক্ষা ব্যবস্থা অটুট থাকবে। সীমান্তে মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া বিএসএফের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকায় সীমান্ত হত্যাকাণ্ড শূন্যের কাছাকাছি এসেছে বলে মন্তব্য করেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম।

    এ সময় ভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বেসরকারি প্রশাসনকে সহায়তার জন্য বিজিবি প্রস্তুত আছে। যখনই বিজিবির সহায়তা চাওয়া হবে তখনই মাঠ পর্যায়ে কাজের জন্য নামা যাবে বলেও উল্লেখ করেন বিজিবি মহাপরিচালক।

    এর আগে, সীমান্তে পৌঁছে নিজে মোটরসাইকেল চালিয়ে তিনি বিজিবি-১ ব্যাটালিয়নের আওতায়ধীন সাহেবনগর বিওপি ও বিজিবি-৫৩ ব্যাটালিয়েনের আওতাধীন মানিকচক বিওপি পরিদর্শন করেন। পরে তিনি ওই এলাকার ১০ কিলোমিটার দুর্গম এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সীমান্ত এলাকার দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

    এ সময় বিজিবি মহাপরিচালকের সঙ্গে বিজিবির উত্তর-পশ্চিম রিজিয়নের কমান্ডার কর্নেল আনোয়ার সাদাত আবু মোহাম্মদ ফুয়াদ, রাজশাহী বিজিবি-১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শামীম মাসুদ আল ইফতেখার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিজিবি-৫৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাজ্জাদ সারওয়ার ছাড়াও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপির থাকার সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

    নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপির থাকার সুযোগ নেই: ওবায়দুল কাদের

    নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের মন্ত্রিসভায় কোনো বিএনপির প্রতিনিধি থাকার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    রবিবার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর এক কোটি টাকা ব্যয়ে ৬শ’ মিটারের মধ্যে ৬০টি স্ট্রিট লাইট স্থাপন করে ইন্টারসেকশন আলোকিতকরণ উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন।

    সরকারের আয়তন বৃদ্ধি কিংবা আরও লোকজন যুক্ত করার কোনো দরকার নেই উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের বলেন, মন্ত্রিসভায় নতুন করে অন্য কাউকে যোগ নয় বরং কমানো হতে পারে। গতবার বিএনপিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অফার করা হয়েছিলো। তবে তারা সেটি ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। এবার বিএনপির যেহেতু সংসদে প্রতিনিধিত্ব নেই, তাই নতুন করে তাদের আমন্ত্রণ জানানোর কোনো সুযোগ নেই।

    তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালকে যদি বিএনপি ২০১৪ সাল মনে করে থাকে তাহলে তারা আরও বড় এবং মারাত্মক ভুল করবে। এবার যদি সন্ত্রাস সহিংসতা হয় বাংলাদেশের মানুষ তা প্রতিহত করবে।

  • ‘সরকার ২১ আগস্টের রায়কে প্রভাবিত করতে উঠে পড়ে লেগেছে’

    ‘সরকার ২১ আগস্টের রায়কে প্রভাবিত করতে উঠে পড়ে লেগেছে’

    সরকার একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় প্রভাবিত করতে উঠে পড়ে লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।শনিবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
    রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব গতকাল বলেছেন, ২১ আগস্ট মামলার রায় হলে সংকটে পড়বে বিএনপি। আর আগামী সেপ্টেম্বরে সে রায় হবে। কাদের সাহেবরই বক্তব্যেই পরিষ্কার যে তারা নীলনকশা অনুযায়ী ২১ আগস্টের মামলার রায় নিয়ে আগাম কাজ করছেন, সে জন্য একের পর এক ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কূটচাল চালছেন।
    গ্রেনেড হামলার ঘটনায় খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করে বিএনপির এই  নেতা বলেন, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় সরকার নিজেরা লিখে আদালতকে দিয়ে তা বাস্তবায়ন করাবে কি না, মানুষের মনে সেই সংশয় দেখা দিয়েছে। তাদের (সরকার) বক্তব্য শুনে মনে হয়, একটি ফরমায়েশি রায় হতে যাচ্ছে।
    রিজভী আরো বলেন, মানুষের ক্ষোভের ধাক্কায় পতনের ভয়ে সরকারের বুকে ধড়ফড়ানি শুরু হয়েছে। তাই তারা উদ্ভট বক্তব্য রাখছে। কিন্তু যতই ষড়যন্ত্র ও মহাপরিকল্পনা করেন না কেন আপনাদের পতন ঠেকানো যাবে না।
  • কক্সবাজার-টেকনাফে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ

    কক্সবাজার-টেকনাফে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ

    ২০১৭ সালের এই দিনে নিজ দেশের সেনাবাহিনী, বিজিপি ও উগ্রবাদী বৌদ্ধদের পাশবিক নির্যাতনে প্রাণ হারান অসংখ্য রোহিঙ্গা। প্রাণে বাঁচতে পাহাড়, মাঠ, নদী পার হয়ে জিরোপয়েন্টে এসে জড়ো হয় লাখো রোহিঙ্গা।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক সহায়তায় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হয়। নিজেরা প্রাণে বাঁচলেও স্বজনদের হারিয়ে দিনটিকে কালদিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা।

    সেদিনের ঘটনার বিচার ও মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিয়ে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার কুতুপালং বাজারে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রোহিঙ্গারা।

    southeast

    শনিবার সকাল ১০টার দিকে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা এ বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেয়। একই সময়ে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লকে মিছিলের পাশাপাশি সমাবেশ চলছে বলে জানা যায়। এ মিছিল থেকে নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবি জানানো হয়।

    কালোদিবসে কুতুপালং ক্যাম্পে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, নিজ দেশে চরম নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়েছি। বাংলাদেশ সরকার আমাদের মমতায় আশ্রয় দিয়েছে। সব রকমের সহযোগিতাও দিচ্ছে। এ ঋণ কখনো শোধ হবার নয়। কিন্তু আশ্রিত হয়ে আমরা কতদিন অন্যের ঘাড়ে পড়ে থাকব। সবকিছু পেলেও এখানে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। কিছুদিন পর আমরা এদেশের বোঝাতে পরিণত হব। তাই স্বদেশে ফিরে যেতে চাই। আন্তর্জাতিক মহলকে অনুরোধ জানাচ্ছি, মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করুন। যাতে তারা আমাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন করায়। কারণ আমাদের নিতে মিয়ানমার সামরিক জান্তা টালবাহানা শুরু করেছে।

    Cox-Unrest3

    এ ছাড়া সেদিনের ঘটনার মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান রোহিঙ্গা নেতারা।

    মিছিলে অংশগ্রহণকারী রোহিঙ্গা আমির আলী বলেন, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনার গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে আমার মা ও ভাই। আমার বোনকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। আমার বাবাও এদেশে পালিয়ে আসার পথে মারা গেছে। সব হারিয়ে নিঃস্ব। তারপরও আমি আমার দেশে ফিরে যেতে চাই। এ কারণে আমি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছি।

    তবে বিক্ষোভের আয়োজনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নায্য অধিকার আদায়ের জন্য কোনো কিছুই আয়োজন করতে হয় না। এখানে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসেছে।

    বিক্ষোভ মিছিলে থাকা মো. আয়ুব নামের এক রোহিঙ্গা বলেন, আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই আমরা আজকের এ বিক্ষোভ করেছি। আমরা কি চাই তাই জানানোর জন্যই আমাদের এ প্রয়াস।

    তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। আর সেজন্য আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা চাই। আমরা সেদিন ঘটনার জন্য দোষীদের বিচার চাই।

    Cox-Unrest3

    প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গার ঢল নামেন। রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার কথা বলে সে দেশের সেনাবাহিনী ধরপাকড় চালায়। সেখানে নির্যাতন, বাড়িঘরে আগুন ও গণধর্ষণ চালালে রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে ঠাঁই নিয়েছে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা।

  • মালয়েশিয়া ছাড়তে হবে লক্ষাধিক বাংলাদেশিকে

    মালয়েশিয়া ছাড়তে হবে লক্ষাধিক বাংলাদেশিকে

    মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরতে হচ্ছে লক্ষাধিক বাংলাদেশিকে। ৩১ আগস্টের মধ্যে দেশে না ফিরলে জেল-জরিমানা হবে। তাই এর আগেই আত্মসমর্পণ করে দেশে ফিরতে হবে তাদের। অবশ্য এখনো  ইমিগ্রেশন এবং পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাদের। এদের বেশিরভাগই বৈধ হওয়ার সুযোগ গ্রহণের জন্য নির্ধারিত ফির চেয়েও বেশি অর্থ দালালদের হাতে তুলে দিয়েছিল। কিন্তু প্রতারণা তাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। এখন দেশে ফেরার অর্থ দেওয়ার সামর্থ্যও নেই অনেক হতভাগ্য বাংলাদেশির।

    জানা গেছে, ২০১৬ সালে দেশটিতে কর্মরত অবৈধ অভিবাসীদের বৈধতার ঘোষণা দেয় মালয়েশিয়া সরকার। ধাপে ধাপে সময় বাড়িয়ে দীর্ঘ আড়াই বছর চলে বৈধকরণ প্রক্রিয়া। শেষ হয় চলতি বছরের ৩০ জুন। এ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়া সরকার দুটি প্রোগ্রাম চালু রেখেছিল। এর একটি রি-হিয়ারিং এবং অন্যটি ই-কার্ড। এ দুটি প্রোগ্রামকে ঘিরেই গড়ে ওঠে শক্তিশালী মধ্যস্বত্বভোগী চক্র। কর্মীদের বৈধ করে দেওয়ার নামে তারা জনপ্রতি ৫-১০ হাজার রিঙ্গিত হাতিয়ে নেয়। কিন্তু বৈধতা তো দূরের কথা, বৈধ করার নাম করে খেটে খাওয়া অবৈধ কর্মীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। প্রতারকদের হাতে টাকা-পয়সা আর পাসপোর্ট তুলে দিলেও তাদের কপালে জোটেনি বৈধতা। এসব অবৈধের সংখ্যা লাখখানেকেরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কয়েকজন কর্মকর্তা ও প্রবাসীরা জানান,  মূলত বাংলাদেশি প্রতারকদের কাছেই প্রতারিত হয়েছেন এসব স্বদেশি। প্রতারকরা প্রকাশ্যে এ ধরনের প্রতারণা চালিয়ে অবৈধ কর্মীর কাছ থেকে বৈধ করে দেওয়ার জন্য টাকা নিয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কর্মীদের বৈধ করতে পারেনি। কর্মীদের টাকাও ফেরত দিচ্ছে না তারা। উল্টো কর্মীদের পুলিশের ভয় দেখানো হচ্ছে। আর এসব প্রতারকের সঙ্গে স্থানীয় মালয়েশিয়ান পুলিশের সখ্যও চোখে পড়ার মতো। এসব কারণে প্রতারক চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে হচ্ছে কর্মীদের। পুলিশের ভয়ে পালিয়ে থাকায় বিভিন্ন মালিক তাদের দিয়ে অর্ধেক মজুরিতে কাজ করিয়ে নিচ্ছেন। ফলে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে মাস শেষে খেয়েপরে বাঁচতেই কষ্ট হচ্ছে অবৈধ কর্মীদের। মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বৈধ হওয়ার আবেদন করতে নিয়মানুসারে ১ হাজার ২০০ রিঙ্গিত জমা দেওয়া লাগলেও অনেকেই প্রতারকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে বৈধ হওয়ার জন্য নিশ্চিত মনে বসেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যখন ১ জুলাই থেকে মেগা-থ্রি নামে অভিযান শুরু করে মালয়েশীয় সরকার তখন থেকেই আটক হচ্ছেন তারা। আটক হওয়ার পর আদালতের দেওয়া জেল খাটার পর দেশে ফেরার সুযোগ পাবেন এই অবৈধরা। তবে সে জন্য দিতে হবে আরও ৪০০ থেকে ৯০০ রিঙ্গিত।

    বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়, বহুদিন মালয়েশিয়া থাকার পরও বৈধ কাগজপত্র না থাকা বাংলাদেশিরা এখন আতঙ্কিত। মালয়েশিয়ার পুলিশ ও ইমিগ্রেশন কোথাও হানা দিচ্ছে, তা জানামাত্র কমিউনিটির লোকজন ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপে সবাইকে সতর্ক করে নিমেষে বার্তা পাঠাচ্ছেন। কিন্তু তাতেও ধরপাকড় এড়ানো যাচ্ছে না। আটককৃতদের মধ্যে বাংলাদেশি ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের নাগরিকরা আছেন।

    মালয়েশিয়ার স্টার অনলাইনের খবরে বলা হয়, ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক শ্রী মোস্তাফার আলি বলেছেন, ৩১ আগস্টের মধ্যে এখান থেকে সব অবৈধ শ্রমিককে থ্রি-প্লাস ওয়ান পদ্ধতি অনুসরণ করে নিজ নিজ দেশে ফেরত যেতে হবে। যারা ওই তারিখের মধ্যে দেশে ফিরবেন না, তাদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর থেকে কঠোরতম’ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইউএনএইচসিআর’র

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ইউএনএইচসিআর’র

    রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর মুখপাত্র আন্দ্রেস মাহেসিক।

    রোহিঙ্গা সংকটের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে জেনেভায় শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান তিনি।

    আন্দ্রেস মাহেসিক বলেন, সহিংসতা ও সংঘবদ্ধ বৈষম্যের শিকার হয়ে তখন থেকে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়। আর আগে থেকেই সেখানে আশ্রয় নেয় আরো ২ লাখ।

    তিনি বলেন, এই সংকটের শুরু থেকেই ইউএনএইচসিআর অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করে। সড়ক ও আকাশপথে শরণার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা সরবরাহ করা হয়। পাশাপশি গত এক বছরে আমাদের কর্মীরা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে সার্বক্ষণিক সহায়তা দিয়ে আসছে। কাউন্সেলিং, যৌন ও লৈঙ্গিক সহিংসতা প্রতিরোধসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করে যাচ্ছে আমাদের কর্মীরা।

    ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্প কুতুপালং ৬ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এই ক্যাম্পে আশ্রয়ন, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় সেবা সহ নারী ও শিশুদের সুরক্ষা প্রদানে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জর মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এছাড়া গত কয়েকমাসে মৌসুমি বৃষ্টি ও ভূমিধসের হাত থেকে রোহিঙ্গাদের রক্ষায় ব্যাপক কর্মতৎপরতা গ্রহণ করা হয়েছে।’

    তিনি বলেন, এখন যদি আমরা এই সময় এসে মূল্যায়ন করি সেখানে কী অর্জন হয়েছে, তাহলে রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা বাংলাদেশকে সহায়তার জন্য আমরা নতুন করে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছি। শরণার্থীদের শিক্ষা, আত্মনির্ভরতাসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতা মোকাবেলায় এই সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবেশগত প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে দ্রত জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। বনায়ন ধ্বংস ঠেকাতে লাখ লাখ রোহিঙ্গার খাবার রান্নায় বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থায় উদ্যোগ নিতে হবে।

  • হত্যাকারী যেই হোক, ক্ষমা পাবে না : ওবায়দুল কাদের

    হত্যাকারী যেই হোক, ক্ষমা পাবে না : ওবায়দুল কাদের

    সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপি জড়িত। হত্যাকারী যেই হোক, যত প্রভাবশালী হোক, ক্ষমা পাবে না। নিরপেক্ষভাবে বিচার হবে। বিচারে যারাই দোষী সাব্যস্ত হবে, শাস্তি তাদের পেতেই হবে।

    শনিবার সকালে পতেঙ্গা এলাকায় টানেল নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে এ কথা বলেন।

    এ সময় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণকাজের ২৪ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান সেতুমন্ত্রী। কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ মন্ত্রীকে দেখান উপ-প্রকল্প পরিচালক (প্রশাসন) ড. অনুপম সাহা।

    আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ মোতালেব, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • মিয়ানমারের বিচারের দাবি আসিয়ানের ১৩২ এমপির

    মিয়ানমারের বিচারের দাবি আসিয়ানের ১৩২ এমপির

    দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাঁচটি দেশের ১৩০ জনের বেশি এমপি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এক বছর আগে রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে সহিংসতা চালানো হয়েছে তার পেছনে মিয়ানমারের দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানানো হয়।

    এক যৌথ বিবৃতিতে আসিয়ানের পার্লামেন্টের সদস্যরা বলেছেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করতে দেশটির সেনাবাহিনীকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

    ওই এমপিরা ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুরের পার্লামেন্ট সমস্য। ১৩২ এমপির পক্ষে এপিএইচআরের সদস্য চার্লস সান্তিয়াগো বলেন, যেহেতু মিয়ানমার নিজেরা বিষয়টির তদন্ত করতে অনিচ্ছুক এবং অপারগ, সেহেতু আমরা এমন একটি পর্যায়ে আছি যেখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, আমি আমার ১৩১ সহকর্মীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অতিদ্রুত এ বিষয়ে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের মুখোমুখি করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে মিয়ানমারের যারা যুক্ত ছিলেন তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। ভবিষ্যতে তারা যেন আবারও এমন অপরাধ করতে না পারে সেজন্য তাদের ছেড়ে দেয়া যাবে না।

    রাখাইনে গত বছরের আগস্টে সেনাবাহিনীর অভিযানে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। অভিযানের নামে সেখানে রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ এবং নির্যাতন চালিয়েছে সেনাবাহিনী। রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের এই বর্বর আচরণকে জাতিগত নিধন বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ। কিন্তু রোহিঙ্গাদের হত্যা, নির্যাতন এবং নিপীড়নের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার।

  • বিএনপিকে বাদ দিয়ে কেউ নির্বাচন করতে চায় না : ওবায়দুল কাদের

    বিএনপিকে বাদ দিয়ে কেউ নির্বাচন করতে চায় না : ওবায়দুল কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি কোটা আন্দোলনে ব্যর্থ, বিদেশিদের কাছে নালিশ করে ব্যর্থ এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ওপর ভর করেও ব্যর্থ হয়ে এখন তাদের একমাত্র রাজনীতি হলো গুজব সন্ত্রাস।

    শুক্রবার দুপুরে তার নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কবিরহাটে চাপরাশিরহাটে এলাকাবাসীর সঙ্গে জম্মার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের আলাপকালে এসব কথা বলেন।

    মন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি এবারও নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে ২০১৪ সালের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপিকে বাদ দিয়ে কেউ নির্বাচন করতে চায় না। সরকার চায় সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, কিন্তু বিএনপি নিজেরাই নিজেদের যদি বাদ দেয় তাহলে আমাদের কি করার আছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন কবিরহাট পৌরসভার মেয়র জহিরুল হক রায়হান, জেলা পরিষদের সদস্য আলা বকস টিপুসহ অনেকে।