Category: জাতীয়

  • ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা আজ

    ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা আজ

    ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা আজ (বুধবার)। ঈদুজ্জোহার চাঁদ হাসে ঐ/ এল আবার দুসরা ঈদ!/ কোরবানি দে, কোরবানি দে,/ শোন খোদার ফরমান তাগিদ…’ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই কাব্যসুর আকাশ-বাতাস মন্দ্রিত করে মনপ্রাণ ভরে তুলছে ঈদের আনন্দ রোশনাইয়ে।

    বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং যথাযথ ধর্মীয় মর্যদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে সারা দেশে মুসলিম সম্প্রদায় ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। ঈদ উপলক্ষে  মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনের সরকারি ছুটি। তবে এ সপ্তাহের শেষ দু’দিন শুক্র ও শনিবার হওয়ায় ছুটি দাঁড়িয়েছে ৫ দিনে।

    মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদুল আজহার জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ অনুযায়ী পশু কোরবানি করবেন। ইতোমধ্যে যার যার সাধ্যমত কোরবানির পশু কিনেছেন। রাজধানীতেও বরাবরের মতোই কোরবানির হাট ছিল জমজমাট। ইসলামের পরিভাষায় কোরবানি হলো- নির্দিষ্ট পশুকে একমাত্র আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে নির্দিষ্ট সময়ে তাঁরই নামে জবাই করা। মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে জবাই করা পশুর মাংস বা রক্ত কিছুই পৌঁছায় না, কেবল নিয়ত ছাড়া। ঈদুল আজহার অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে, মনের পশু অর্থাৎ কু-প্রবৃত্তিকে পরিত্যাগ করা।

    ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদও পৃথক বার্তায় দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পবিত্র ঈদুল আজহার তাৎপর্য তুলে ধরে বরাবরের মতো এবারও দেশের সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করছে বিশেষ সংখ্যা। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, সবকটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও এফএম রেডিও ঈদ উপলক্ষে কয়েক দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে।

    পবিত্র এই দিনটিতে উৎসবের আমেজ দিতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়ক দ্বীপসমূহে জাতীয় এবং ঈদ মোবারকখচিত পতাকা দিয়ে সুশোভিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সকল সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারকখচিত পতাকা উত্তোলন করা হবে। এ ছাড়াও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে।

    প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বরাবরের মতো এবারও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহর থেকে অগণিত মানুষ নাড়ির টানে গেছেন গ্রামের বাড়িতে। যাত্রাপথ নির্বিঘ্ন করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও কয়েকটি মহাসড়কে যানজট ছিল। সময়মত ছাড়তে পারেনি অনেক ট্রেন। তবুও হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছেন অনেকে।

    এদিকে রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণস্থ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আজ সকাল ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকলে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে।

    প্রতি বছরের মতো এবারও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে সেখানেও ঈদ জামাতের সবপ্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ ট্রেন ও বাস চলাচল করবে।

    ঈদুল আজহা উপলক্ষে আজ কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের সকল কারাগার, সরকারি হাসপাতাল, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, শিশুসদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোমস, দুস্থকল্যাণ কেন্দ্র এবং শিশু ও মাতৃসদনগুলোতে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে।

    রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে ৪০৯টি স্থানে ঈদ জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতসহ ঈদুল আজহার ২৩০টি এবং উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৭৯টি জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।

    উল্লেখ্য, ইসলামে কোরবানি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। পবিত্র কুরআনে সূরা কাউসারে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে- ‘অতএব আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে সালাত আদায় এবং কোরবানি করুন’। সূরা হজে বলা হয়েছে ‘কোরবানি করা পশু মানুষের জন্য কল্যাণের নির্দেশনা’।

    কোরবানির মূল উদ্দেশ্যই তাকওয়া বা খোদাভীতি। এ প্রসঙ্গে কুরআনে বলা হয়েছে- ‘এগুলোর গোশত আমার কাছে পৌঁছায় না। কিন্তু তোমাদের তাকওয়া পৌঁছে যায়।’

    প্রায় চার হাজার বছর আগে আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি লাভের জন্য হজরত ইব্রাহিম (আ.) নিজ পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)’কে কোরবানি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরম করুণাময়ের অপার কুদরতে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে বিশ্বব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখে আল্লাহপাকের অনুগ্রহ লাভের আশায় পশু কোরবানি করে থাকে।

    আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য আল্লাহ কোরবানি ফরজ করে দিয়েছেন। এ জন্য ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কোরবানি করাই এ দিনের উত্তম ইবাদত। সেই ত্যাগ ও আনুগত্যের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সারা দেশের মুসলিম সম্প্রদায় আজ দিনের শুরুতেই ঈদগাহ বা মসজিদে সমবেত হবেন এবং ঈদুল আজহার দু’রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় করবেন। নামাজের খুতবায় খতিব তুলে ধরবেন কোরবানির তাৎপর্য।

    জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হলেও পরের দুই দিনও পশু কোরবানি করার বিধান রয়েছে। সামর্থবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি ফরজ হলেও ঈদের আনন্দ থেকে দরিদ্র-দুঃস্থরাও বঞ্চিত হবেন না। কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির সমুদয় অর্থ এবং কোরবানি দেয়া পশুর মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ তাদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হবে।

  • রাজধানীতে কখন কোথায় ঈদ জামাত

    রাজধানীতে কখন কোথায় ঈদ জামাত

    যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে বুধবার সারাদেশে উদযাপিত হবে ঈদুল আজহা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধানে ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে ঈদের প্রথম জামাত হবে সকাল ৮টায়। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের প্রধান জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদগাহ ময়দানের জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ এহ্‌সানুল হক। বিকল্প ইমাম হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকার মিরপুরের জামেয়া আরাবিয়া আশরাফিয়ার মুহতামিম মাওলানা সৈয়দ ওয়াহিদুয্‌যামান। রাষ্ট্র্রপতি আবদুল হামিদ, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিচারপতি, মেয়র সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিকসহ সর্বস্তরের মানুষ এই ঈদ জামাতে নামাজ আদায় করবেন।

    বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টা, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টা, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টা এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। ইমামতি করবেন- প্রথম জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, দ্বিতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ড. মাওলানা মুশতাক আহমাদ, তৃতীয় জামাতে মহাখালী হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা নজরুল ইসলাম আল মারুফ, চতুর্থ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রব মিয়া আল বাগদাদী।

    সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিদের সুবিধার্থে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যাপ্ত পানি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    প্রতি বছরের মতো এবারও জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় একমাত্র জামাতটি সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, হুইপ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবর্গ, সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয়রা এ জামাতে অংশ নেবেন। রাজধানীতে সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই জামে মসজিদে। এর আগে এখানে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইসলামবাগ ঈদগাহ ময়দানে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্র্রথম জামাত সকাল ৭টা, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা এবং তৃতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন ইসলামবাগ বড় মসজিদের খতিব জামেয়া ইসলামিয়া ইসলামবাগ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও শাইখুল হাদিস মাওলানা হাফেজ মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। দ্বিতীয় জামাতের ইমামতি করবেন ইসলামবাগ দ্বীনের আলো জামে মসজিদের খতিব ও জামেয়া ইসলামিয়া ইসলামবাগ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মুফতি বশীরুল হাসান খাদেমানী এবং তৃতীয় জামাতের ইমামতি করবেন ইসলামবাগ বাইতুল আমান জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব এবং জামেয়া ইসলামিয়া ইসলামবাগ মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা হাফেজ নোমান আহমদ। বৃষ্টিজনিত কারণে ঈদগাহ মাঠে যদি নামাজ আদায় করা সম্ভব না হয় তাহলে ইসলামবাগ বড় মসজিদে উপরোক্ত সময়সূচি অনুযায়ী পরপর তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

    জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শনে মেয়র সাঈদ খোকন :ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন গতকাল জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শন করেন। এ সময় মেয়র বলেন, প্রধান জামাতের জন্য চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে প্রথমবারের মতো এবারই ডিএসসিসির সৌজন্যে রাস্তায় নামাজ আদায়কারীদের পানির চাহিদা মেটানোর জন্য বোতলজাত পানির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

    মেয়র আরও জানান, গত কয়েক বছরের মতো এবারও ঈদগাহ এলাকায় বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র বসানো হয়েছে। সেইসঙ্গে রাখা হচ্ছে জরুরি টেলিফোন বুথ এবং গাড়ি রাখার ব্যবস্থা। ঈদের নামাজে এসে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে জাতীয় ঈদগাহে।

    জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে প্রায় এক লাখ মানুষ ঈদের নামাজ পড়তে পারবেন। প্রায় পাঁচ হাজার নারীর জন্যও নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। নামাজের আগে একসঙ্গে ১৫০ জন পুরুষ এবং ৫০ জন নারী ওজু করতে পারবেন।

    ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শনের সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় যাত্রীর মৃত্যু

    সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় যাত্রীর মৃত্যু

    রাজধানীর সদরঘাটে যাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে এক লঞ্চের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে আরেক লঞ্চের এক যাত্রী নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তির নাম দেলোয়ার হোসেন। বয়স অনুমানিক ৫২ বছর। মেয়ে ও মেয়ে জামাইয়ের সঙ্গে ঈদ করতে বরগুনায় যাচ্ছিলেন তিনি।

    নৌ পুলিশের সুপার মো. আতিকুর রহমান বলেন, দুপুর পৌনে একটার দিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে এমভি পূবালী লঞ্চে দাঁড়িয়ে ছিলেন দেলোয়ার হোসেন। লঞ্চটি ৭ ও ৮ নম্বর পন্টুনের মাঝামাঝি ভেড়ানো ছিল। এই সময় এমভি যুবরাজ নামের আরেকটি লঞ্চ পন্টুনে ভিড়তে গিয়ে এমভি পূবালীকে ধাক্কা দেয়।এতে ছিটকে গিয়ে লঞ্চের কার্নিশে ধাক্কা খান দেলোয়ার।

    তিনি জানান,  মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় ঘটনাস্থলেই দেলোয়ারের মৃত্যু হয়।

  • আজ সেই ভয়াল দিন

    আজ সেই ভয়াল দিন

    স্মরণকালের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার চতুর্দশ বার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে এই নৃশংস হামলার ঘটনাটি ঘটে। আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন এতে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আহত হন প্রায় তিনশ’।

    সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের ডাকে সেদিন ওই শান্তি সমাবেশ শেষে শান্তি মিছিল হওয়ার কথা ছিল। তবে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়ামাত্রই শুরু হয় মুহুর্মুহু গ্রেনেড হামলা। ট্রাকমঞ্চে শেখ হাসিনার সঙ্গে উপস্থিত নেতারা মানববর্ম রচনা করে তার জীবন রক্ষা করলেও ২২ নেতাকর্মী এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই ব্যক্তি নিহত হন। ওই ঘটনায় গ্রেনেডের স্পিল্গন্টারের আঘাতে আহত শত শত মানুষের বেশিরভাগই দুঃসহ যন্ত্রণাময় জীবনযাপন করছেন এখনও। ইতিহাসের নৃশংসতম এই গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারকার্য এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

    দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এসব বাণীতে ২১ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তারা।

    দিবসটি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আওয়ামী লীগ আজ ১০টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আইভি রহমানসহ গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে নির্মিত বেদিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এই কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

  • ‘ড্রিমলাইনার ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি’

    ‘ড্রিমলাইনার ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি’

    বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অন্যতম ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ। ইন্টারনেট বিপ্লব ও নিজস্ব স্যাটেলাইট স্থাপনের মধ্য দিয়ে ইতোমধ্যে সরকারের নানা উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। এবার আকাশপথেও ডিজিটাল স্বপ্নবিলাসও পূরণ হয়েছে। আধুনিক মডেলের নতুন উড়োজাহাজ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ বিমান। অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারে ভ্রমণকালে পৃথিবী থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে না যাত্রীরা। প্রিয়জনদের সঙ্গে কথা বলা ছাড়াও ইন্টারনেট ব্যবহার করে সারতে পারবেন সব দাফতরিক কাজ।

    অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও সুবিধার সঙ্গে বিমানটিতে থাকবে ইন্টারনেট ও ফোনে কথা বলার সুযোগ। বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াইফাই সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। বিমানে ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে প্রত্যেক যাত্রী ১৫ মিনিটের জন্য বিনামূল্যে ১০ মেগাবাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। এরপর কোনো যাত্রী ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হলে চার্জ দিতে হবে। ১০০ মেগাবাইটের জন্য ৮ ডলার, ৩০০ মেগাবাইটের ১৬ ডলার আর ৬০০ মেগাবাইটের জন্য ৩২ ডলার হারে চার্জ দিতে হবে যাত্রীদের।

    বিমান পরিচালনা পর্যদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল ইনামুল বারী (অব.) বলেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত সম্পূর্ণ নতুন বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানের প্রথম ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তার পছন্দে এর নামকরণ হয়েছে ‘আকাশবীণা’। আরও তিনটি ড্রিমলাইনার বিমান বহরে যুক্ত হবে।

    তিনি বলেন, ড্রিমলাইনারগুলো বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশেরও একটা প্রতিচ্ছবি হবে। যাত্রীরা বিমানে বসেই অনেক বাণিজ্যিক বা দাফতরিক কাজ সেরে ফেলতে পারবেন।

    বিমানের মুখপাত্র শাকিল মেরাজ বলেন, আকাশপথে এমন স্বপ্নবিলাস সার্থক করতে আধুনিক মডেলের নতুন উড়োজাহাজ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ বিমান। সরকারের আন্তরিকতা না থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের আগে উড়োজাহাজ আনা সম্ভব হতো না। বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানের একটি সিড়ি হিসেবে কাজ করবে।

    রোববার বিজি-২৮০১ ফ্লাইটটি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল পেনফিল্ড থেকে কোনো যাত্রাবিরতি ছাড়াই টানা সাড়ে ১৪ ঘণ্টা উড়ে ঢাকায় আসে।

    উল্লেখ্য, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০০৮ সালে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১০টি নতুন বিমান ক্রয়ের জন্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে। ইতোমধ্যে বহরে যুক্ত হয়েছে ছয়টি বিমান। বাকি চারটি বিমান হলো বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। এর প্রথমটি রোববার বিমান বহরে যুক্ত হয়েছে। বাকি তিনটির একটি এ বছর নভেম্বরে এবং সর্বশেষ দুটি আগামী বছর সেপ্টেম্বর মাসে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

  • ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন রাষ্ট্রপতি

    ঈদের দিন শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন রাষ্ট্রপতি

    রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বঙ্গভবনে সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

    ঈদের দিন (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রাজনীতিবিদ, বিচারক, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী এবং বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের জনগণ এবং পেশাজীবীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।

    এর আগে ওই দিন সকাল ৮টায় হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগায়ে ঈদের নামাজ আদায় করবেন রাষ্ট্রপতি।

    রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।

  • চিড়িয়াখানায় নতুন ৮ অতিথি

    চিড়িয়াখানায় নতুন ৮ অতিথি

    রাজধানীর মানুষের ঈদ বিনোদনে মিরপুরে জাতীয় চিড়িয়াখানায় নতুন আট অতিথি আনা হয়েছে। পাশাপাশি ঈদ উৎসব বাড়াতে চিড়িয়াখানাকে করা হয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। থাকছে স্বল্পমূল্যে খাবারের ব্যবস্থা। এছাড়া জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।

    জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যান্য ঈদের চাইতে এবার অনেক ভালো প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক থেকে নতুন করে কয়েকটি প্রাণি আনা হয়েছে। তার মধ্যে চারটি আফ্রিকান সিংহ ও দুইটি কালো ভাল্লুক রয়েছে। আফ্রিকা থেকে আনা হয়েছে ছোট দুইটি উট। এছাড়াও অষ্ট্রেলিয়ার থেকে কালো ক্যাঙ্গারু আনা হবে; যা দেখে ছোট-বড় সকল বয়সী দর্শনার্থীরা বিভিন্ন বিনোদন উপভোগ করবেন।’

    মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) চিড়িয়াখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো চিড়িয়াখানা জুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাজে ব্যস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থী চোখে পড়ার মতো না থাকলেও দুর্গন্ধহীন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখা গেছে। প্রকৃতি যেন চায় ঈদ বিনোদনে দর্শনার্থীদের জন্য চিড়িয়াখানাকে পরিচ্ছন্ন স্থানে রূপান্তর করতে। সোমবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাতের বৃষ্টি সকল প্রাণি শেড ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে দিয়েছে।’

    মঙ্গলবার রাতে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাবেন মিরপুরে ১১ নম্বরে বসবাসকারী ব্যাংকার মো. মোশাররফ হোসেন। রাজধানী ছেড়ে যাওয়ার আগে ঈদ বিনোদনে দুই সন্তান ও ভাতিজাকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘টিকিট কাটা আছে, আজ রাতে বাড়ি যাব। ঢাকা ছাড়ার আগে বাচ্চাদের নিয়ে চিড়িয়াখানায় ঘুরতে এসেছি।’

    তিনি বলেন, ‘আমি ১৯৯৫ সালে প্রথম চিড়িয়াখানায় এসেছিলাম। তবে এখন সে সময়ের চাইতে বেশি প্রাণি বাড়ানো হয়নি। তবে আগের চাইতে দুর্গন্ধমুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি নতুন কিছু প্রাণিও যোগ হয়েছে।’

    চিড়িয়াখানায় এসে নতুন প্রাণি দেখতে পেয়ে তার সন্তানদের মধ্যেও ছিল এক ধরনের উদ্দীপনা।

    তবে বেড়াতে আসা কিছু দর্শনার্থী চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের নানা ধরনের দায়িত্বহীনতা ও অব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরেন। কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চিড়িয়াখানায় নতুন প্রাণি বাড়ানো হচ্ছে। অথচ যেগুলো আছে তাদের মধ্যে অনেক প্রাণিকে দেখে রোগা ও ক্ষুধার্ত মনে হয়। বাইরে থেকে কেউ কিছু দিলে দৌঁড়ে এসে খেয়ে নেয়। আরও খাবার পাওয়ার জন্য তাকিয়ে থাকে।

    তাদের অভিযোগ, খাঁচার বাইরে বানর ঘুরতে দেখে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও সহায়তা কেন্দ্রে ফোন করলেও কেউ ধরেনি। দায়িত্বরত কর্মচারীদের ডাকলেও তাদের কেউ গুরুত্ব দেয়নি। পরে দর্শনার্থীর ভিড় দেখে পরে বানরটি গাছের মধ্যে পালিয়ে যায়।

    রাজধানীতে বসবাসকারী মানুষের ঈদ বিনোদনের প্রধান কেন্দ্রস্থল মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা। বিশেষ করে ছোটদের জন্য এই বিনোদন কেন্দ্রটি অন্যতম হলেও ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এখানে সকল বয়সী মানুষ আসেন ঘুরে বেড়াতে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার ঈদে সকলের জন্য প্রবেশ মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সিসিটিভিসহ চার স্তারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আলাদা পার্কিং সুবিধা তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। ঈদে উপচেপড়া মানুষের ভিড়ে প্রাণিদের ওপর বাড়তি চাপ থাকে। এসব প্রাণিদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে চারজন পশু ডাক্তার নিয়োজিত রয়েছেন।

    চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা জানান, ঈদে উপচেপড়া দর্শনার্থীদের সকল সুবিধা নিশ্চিত করতে চিড়িয়াখানার কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমন্বয়ে ১১টি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। তারা আগত দর্শনাথীদের সুবিধা দিতে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

    তথ্য মতে, দেশের সবচাইতে বড় ১৮৬ একর জায়গা নিয়ে গঠিত মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা। ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে আসেন হাজারও দর্শনার্থী। চিড়িয়াখানায় রয়েছে মাংসাশী আট প্রজাতির ৩৮টি প্রাণি, ১৯ প্রজাতির বড় প্রাণি (তৃণভোজী) ২৭১টি ও ১৮ প্রজাতির ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী ১৯৮টি।

    এছাড়াও রয়েছে ১০ প্রজাতির সরীসৃপ ৭২টি, ৫৬ প্রজাতির ১১৬২টি পাখি, এ্যাকুরিয়ামে রক্ষিত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও ১৩৬ প্রজাতির ২৬২৭টি প্রাণি। সবমিলিয়ে রয়েছে ১৩৭টি পশু-পাখির খাঁচা।

    চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. নজরুল ইসলাম জানান, এবার ঈদের ছুটিতে চিড়িয়াখানায় প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক দর্শনাথীর আগমন হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সে লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তাই স্বল্পমূল্যে পর্যটনসহ বিভিন্ন ধরনের খাবারের রেস্টুরেন্ট বসানো হয়েছে।

    ‘বাইরে থাকা বানরটি শেডের ভেতরের নয়। এটি বাইরে ঘোরাফেরা করে’- এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেটিকে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঈদে বাড়তি সুবিধা দিতে বিভিন্ন প্রাণির খাঁচা সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়া কন্ট্রোল রুম ও তথ্য কেন্দ্রের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চিড়িয়াখায় এসে দর্শনার্থীরা যাতে কাঙ্ক্ষিত বিনোদন পায় সেটি মাথায় নিয়ে প্রতিনিয়ত চিড়িয়াখানা সংস্কার করা হচ্ছে।

    সম্প্রতি চিড়িয়াখানায় অনেক প্রাণির প্রজনন হয়েছে উল্লেখ করে কিউরেটর বলেন, ‘এদের মধ্যে কয়েকটি প্রাণির বাচ্চাগুলো বড় হয়ে যাওয়ায় নতুন শেড তৈরি করে তাদের আলাদা করে রাখা হয়েছে।’

    বন্যপ্রাণিদের নতুনভাবে জানতে ও ঈদ বিনোদন উপভোগ করতে সকল বয়সী মানুষদের চিড়িয়াখানায় বেড়াতে আসার আহ্বান জানান কিউরেটর।

  • ফাঁকা রাজধানী ঢাকা থাকবে নিরাপত্তার চাদরে

    ফাঁকা রাজধানী ঢাকা থাকবে নিরাপত্তার চাদরে

    ফাঁকা রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ তৎপর রয়েছে উল্লেখ করে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি কিংবা চুরি ঠেকাতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সমন্বয় করে কাজ করছে।

    একই সঙ্গে রাজধানীর প্রতিটি ঈদগাহ, জাতীয় মসজিদের নিরাপত্তা ও ঈদের জামাতের নিরাপত্তা দেবে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট কলোনীর বাজার মাঠে গরুর হাট পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

    কমিশনার বলেন, ব্যবসায়ীরা যে কোনো সময় যে কোনো হাটে গরু নিয়ে যেতে পারবেন। এতে হাট ইজারাদার বা অন্য কেউ বাধা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    তিনি বলেন, জোর করে এক হাটের গরু অন্য হাটে নামানোর কোনো অভিযোগ এখনও পাইনি। হাটের প্রথম দিকে রামপুরা ও মেরাদিয়ায় এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। সেখানে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি। এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

    ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করেছি। এখন পর্যন্ত অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে বা হাটে কোনো চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীতে গরুর হাট, বিপণীবিতান, বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল কেন্দ্রিক কোনো অপরাধ হয়েছে বলে তথ্য পাইনি। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ঈদুল আজহার নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক।

    তিনি আরও বলেন, ঢাকা মহানগরীর প্রত্যেকটি পশুর হাটে অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুম আছে। এসব কন্ট্রোল রুমে অজ্ঞান পার্টির হাত থেকে বাঁচতে জনসাধারণকে সচেতন করা, জাল টাকা শনাক্তকরণ ও মানি এস্কর্ট সেবা দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও চোর, ডাকাত, অজ্ঞান পার্টি ধরতে সাদা পোশাকে পুলিশ কাজ করছে।

    রাজধানীর ভেতরে চারটি বাস টার্মিনালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো কাউন্টারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়েরহলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে ভিজিলেন্স টিম নজরদারি শুরু করেছে।

    লঞ্চঘাটেও একই নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাত্রীরা যাতে নিরাপদে বাড়ি যেতে পারে সে বিষয়টি নজরদারি করা হচ্ছে।

    নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে কমিশনার বলেন, ঈদের দিন এবং পরের দিনগুলোতে যাতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয় সেজন্য পুলিশ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। এ সময় ডিএপমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বন্দর নগরীর নিরাপত্তায় ৫৪ পয়েন্টে ৩ হাজার পুলিশ

    বন্দর নগরীর নিরাপত্তায় ৫৪ পয়েন্টে ৩ হাজার পুলিশ

    কোরবানি ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হয়ে আসা চট্টগ্রাম নগরের নিরাপত্তায় ৫৪টি পয়েন্টে তিন হাজারেরও বেশি পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান।

    মঙ্গলবার (২১ আগস্ট) সকালে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে ঈদগাহের নিরাপত্তা প্রস্তুতি ঘুরে দেখে তিনি বলেন, সার্বিক নিরাপত্তায় নগরীর ৫৪টি পয়েন্টে তিন হাজারেরও বেশি পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এবার ঈদ জামাতে অন্যবারের চেয়ে বেশি তল্লাশি করা হবে জানিয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে এই বিড়ম্বনা মেনে নেয়ার অনুরোধ করেছেন পুলিশ কমিশনার।

    তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে চার স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রবেশমুখে পুলিশের কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। মেটাল ডিটেক্টরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত চারবার তল্লাশির পর মুসল্লিরা যেতে পারবেন মূল প্রাঙ্গণে।

    নগর পুলিশের ৭৫ ভাগ পুলিশ সদস্য ঈদে দায়িত্ব পালন করবে জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, তিন হাজারের বেশি সদস্য ঈদে চট্টগ্রাম নগরের নিরাপত্তায় থাকবেন। ঈদের দিনে কোরবানি পশুর চামড়া যাতে পাচার না হতে পারে সেজন্য বিভিন্ন চেকপোস্টে তল্লাশি চলবে। সাদা পোশাকে পুলিশ থাকবে। গোয়েন্দা নজরদারিও করা হবে।

    এ সময় নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মাসুদ উল হাসান ও অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সবাই যাচ্ছে বাড়ি, আমরা আছি রাস্তায় : আইজিপি

    সবাই যাচ্ছে বাড়ি, আমরা আছি রাস্তায় : আইজিপি

    পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরতে পারে সেজন্য সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বস্তিতে ঘরে ফিরে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে মানুষ ঈদ করুন তা দেখার অপেক্ষায় ছিলাম আমরা।

    তিনি বলেন, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে সাধারণ মানুষ গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে। তাদের নিরাপত্তায় আমরা সবাই রাস্তায়। পুলিশের আইজি, ডিআইজি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাস্তায় রয়েছেন। সারারাত জেগে কাজ করেছেন। মানুষ যাতে নিশ্চিন্তে ঘরে ফিরতে পারে তার জন্য কাজ করছি আমরা সবাই।

    মঙ্গলবার বিকেলে মহাসড়কে যানজট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এসে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

    আইজিপি বলেন, ঈদের সময় কোটি মানুষ ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে যায়। সবার নিরাপদে বাড়ি ফেরার বিষয়টি আমাদের কাছে ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। সেটি সফলভাবে করতে পেরেছে পুলিশ। নির্বিঘ্নে-নিশ্চিন্তে ঘরে ফিরেছে সবাই।

    জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ঢাকা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত কোথাও যানজট নেই। কোনো রকমের প্রতিবন্ধকতা নেই। মাত্র ২০ মিনিটে ঢাকার মিন্টু রোড থেকে গাজীপুর এসেছি। পুরো রাস্তা ফাঁকা।

    আইজিপি বলেন, ঈদের পর মানুষ কর্মস্থলে ফিরবে। তাদের কর্মস্থলে ফেরা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের কোনো ছুটি নেই। কারো কোনো ঈদ নেই। আমাদের সকল পুলিশ অফিসার সড়কে দায়িত্ব পালন করবেন। জনগণের জন্য আমাদের সার্ভিস। এই সার্ভিসটাই আমাদের ঈদ।

    এ সময় আইজিপির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল মামুন, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. আতিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি আসাদুজ্জামান ও গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ প্রমুখ।