Category: জাতীয়

  • নওশাবার জামিন নামঞ্জুর

    নওশাবার জামিন নামঞ্জুর

    গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় অভিনেত্রী নওশাবার জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

    সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা আক্তারের আদালত এ রায় দেন।

    এর আগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘গুজব’ ছড়ানোর অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

  • বি. চৌধুরী ও ড. কামালকে শায়েস্তা করতে তারেকের ৫০ হাজার টাকার পুরষ্কার ঘোষণা

    বি. চৌধুরী ও ড. কামালকে শায়েস্তা করতে তারেকের ৫০ হাজার টাকার পুরষ্কার ঘোষণা

    যুক্তফ্রন্ট গঠন করার নামে বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতার কানে কুপরামর্শ দেওয়ার অপরাধে এবার বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং গণফোরামের সভাপতি ও বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনকে শায়েস্তা করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৫ আগস্ট গভীর রাতে রিজভী আহমেদকে ছাত্রদলের ভাড়াটিয়া গুণ্ডা দিয়ে এই দুই বৃদ্ধ নেতাকে শায়েস্তা করার আদেশ দেন তারেক।

    পল্টন বিএনপি পার্টি অফিস সূত্রে জানা যায়, এই মিশন বাস্তবায়ন করার জন্য ইতোমধ্যে পল্টন থানা ছাত্রদলের এক নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছেন রিজভী। এই দুই নেতাকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করে শারীরিকভাবে হেনস্থার পর সরকারের ওপর দায় চাপানোর জন্য ৫০ হাজার টাকার পুরষ্কারও ঘোষণা দিয়েছেন তারেক।

    লন্ডন বিএনপি সূত্র জানা যায়, বিগত কয়েক মাস ধরে যুক্তফ্রন্ট নামের রাজনৈতিক জোট গঠন করার জন্য রাজনীতির মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বারবার দল পাল্টানো এই দুই বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা। উন্নয়ন ও গণমানুষের রাজনীতির বিপরীতে ষড়যন্ত্রে বিশ্বাসী দুই পল্টিবাজ নেতা তৃতীয় শক্তির উত্থানে বিদেশি একটি দূতাবাসের হয়ে গোপনে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের এই অশুভ উদ্দেশ্য পূরণের জন্য গোপনে বিএনপি, জামায়াতসহ ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর গুরত্বপূর্ণ নেতাদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করে আগামী নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করে বিদেশি শক্তির সাহায্যে ক্ষমতায় বসলে মন্ত্রীত্ব দেওয়ার লোভ দিয়ে বৈঠক করেন। বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের আকাশ-কুসুম বক্তব্যে আগামীতে মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল, মির্জা আব্বাস, আবদুল আউয়াল মিন্টুর মতো উচ্চাকাঙ্খি নেতারা। তাদের সাম্প্রতিক আচরণে ষড়যন্ত্রের আভাস পেয়েছেন তারেক রহমান। এই তিন নেতা তারেক রহমানের কঠিন আদেশ অমান্য করে ইচ্ছামত দল পরিচালনা করছেন। কারণ তারা বুঝতে পেরেছেন যে তারেক রহমান বিএনপির রাজনীতিতে অচল। দেশের মানুষ বিএনপিকে আর ক্ষমতায় বসাতে চায় না। যার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে সদ্য সমাপ্ত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে। মির্জা ফখরুলদের এমন বেইমানির জন্য বি. চৌধুরী এবং ড. কামাল হোসেনকে দায়ী ভাবছেন তারেক। কারণ তাদের কুমন্ত্রণায় মির্জা ফখরুলরা বেঁকে বসেছেন।
    সুতরাং পালের গোদাদের সাফ করতে তাই নতুন মিশনে নেমেছেন তারেক। বৃদ্ধ দুই নেতাকে প্রকাশ্যে পিটুনী দেওয়া এবং লাঞ্ছিত করার জন্য রিজভীকে দায়িত্ব দিয়েছেন তারেক। তারেকের নির্দেশ পালন করতে পল্টন ছাত্রদলের কিছু নেতাকে ভাড়া করেছেন রিজভী। ছাত্রদলের নেতারা যেখানে বি. চৌধুরী এবং ড. কামালকে দেখবে সেখানেই মারধর করবে এবং সরকার দলীয় স্লোগান দিয়ে পালাবে এমন একটি মিশন ঠিক করা হয়েছে।
    তারেক রহমানের মতে, এই নেতাদের ষড়যন্ত্রের কারণে বিএনপিতে ভাঙন ধরেছে। মির্জা ফখরুলরা সরকারের সাথে আঁতাত করে আগামী নির্বাচনে বেগম জিয়াকে ছাড়াই অংশগ্রহণ করারও গোপন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তারেকের কাছে গোপন তথ্য আছে। তাই বিদ্রোহীদের সর্দারদের শায়েস্তা করে মির্জা ফখরুলদের সতর্ক করা ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় দেখছেন না তারেক। আর যারা এই মিশন সফল করবেন তাদের ৫০ হাজার টাকা পুরষ্কার দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তারেক বলে জানা গেছে।

  • ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা: রায় সেপ্টেম্বরে

    ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা: রায় সেপ্টেম্বরে

    আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারিক আদালতের রায় দেওয়া সম্ভব হবে। এ রায় হলে দেশ আরও একটি দায় থেকে মুক্তি পাবে।

    জাতীয় প্রেসক্লাবে আজ রোববার বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দ্রুত বিচারের দাবিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। সরকারি তথ্য বিবরণীতে তা জানানো হয়।
    আইনমন্ত্রী বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামি ৫২ জন। এর মধ্যে ১৭ জন পলাতক। এ মামলায় আদালতে ২২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আসামিদের প্রত্যেককে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা নিয়মতান্ত্রিকভাবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারের ব্যবস্থা করেছেন। ২১ আগস্ট কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ২১ আগস্ট হচ্ছে বাংলাদেশকে ব্যর্থ করার জন্য যে ষড়যন্ত্র, তারই ধারাবাহিকতা।

    আইনমন্ত্রী আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচন জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই হবে। কোন দল নির্বাচনে এল, আর কোন দল নির্বাচনে এল না, সেটা সেই দলের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু কোনো একটা দল নির্বাচনে আসবে না, আর সে জন্য নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে, বাংলার জনগণ তা হতে দেবে না।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন প্রমুখ।

  • কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে এলেন ৯ শিক্ষার্থী

    কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে এলেন ৯ শিক্ষার্থী

    নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় সংঘাত, ভাঙচুর, উসকানি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ৯ শিক্ষার্থী জামিনে মুক্তি পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছেন।রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাঁরা জামিনে বেরিয়ে আসেন। কাল সোমবার আরও ১৩ শিক্ষার্থী মুক্তি পাবেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অতিরিক্ত জেলার জাহিদুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    মুক্তি পাওয়া ৯ শিক্ষার্থী হলেন—বাড্ডা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী রেজা রিফাত ওরফে আখলাক, ভাটারা থানা এলাকায় গ্রেপ্তার আইইউবির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র ফরিদ আহমেদ ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মেহেদী হাসান, বাড্ডা থানা এলাকায় গ্রেপ্তার ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ষষ্ঠ বর্ষের ছাত্র সীমান্ত সরকার ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ইক্তিদার হোসেন। এ ছাড়া বাড্ডা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রি ও প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের ছাত্র ইফতেখার আহমেদ ও প্রেসিডেন্সিয়াল ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং একাদশ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী মো. হাসানও মুক্তি পেয়েছেন। জামিনে কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন ভাটারা থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএ শেষ বর্ষের ছাত্র সামাদ মর্তুজা বিন আজাদ।

    কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর এলাকার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ২২ জন শিক্ষার্থীর জামিননামা আদালত থেকে কারাগারে পৌঁছায়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অতিরিক্ত জেলার মোহাম্মদ জাহিদুল আলম  বলেন, বাকি ১৩ জন শিক্ষার্থীকে আগামীকাল সোমবার সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে।

    ঢাকার থানা ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনের সময় সংঘাত, ভাঙচুর, উসকানি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত ৫১টি মামলায় ৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের মধ্যে ৫২ জন শিক্ষার্থী। আজ ঢাকার আদালতে জামিন চেয়ে ২৫ শিক্ষার্থীর পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের আইনজীবীরা জামিনের পক্ষে শুনানি করেন।

    শুনানিতে ছাত্রদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, এসব ছাত্রের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। মামলার এজাহারেও তাঁদের নাম নেই। সন্দেহজনকভাবে তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার সবাই ছাত্র। আদালত শুনানি নিয়ে ২৫ শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর করেন। এ ছাড়া বাড্ডা থানার মামলায় গ্রেপ্তার ১৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে আজ জামিন পেয়েছেন ১০ জন। আর ভাটারা থানার মামলায় গ্রেপ্তার ৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে জামিন পেয়েছেন ৬ জন। অন্যদিকে, ধানমন্ডি থানার পৃথক তিন মামলায় গ্রেপ্তার ৯ শিক্ষার্থীকে জামিন দিয়েছেন আদালত। ধানমন্ডি এলাকায় ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত সূত্র বলছে, গ্রেপ্তার বাকি শিক্ষার্থীদের কারও কারও জামিন শুনানি আগামীকাল হতে পারে।

    প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হন। এরপর ঘাতক বাসচালকের শাস্তি এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা।

  • পুলিশ পরিদর্শক হলেন ৪০৬ এসআই

    পুলিশ পরিদর্শক হলেন ৪০৬ এসআই

    বাংলাদেশ পুলিশের ৪০৬ জন উপ-পরিদর্শককে (এসআই) নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।

    রোববার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে তাদের পদোন্নতি ও পদায়ন দিয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

    আদেশটি অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    তালিকা দেখতে ক্লিক করুন

  • ছুটিতে এটিএম লেনদেনে সতর্ক থাকার নির্দেশ

    ছুটিতে এটিএম লেনদেনে সতর্ক থাকার নির্দেশ

    আসন্ন ঈদুল আজহার টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে এটিএম বুথ, পস, মোবাইল ব্যাংকিং ও ইপেমেন্ট গেটওয়ের লেনদেনে যেন গ্রাহক হয়রানি না হয় সে ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ছুটির মধ্যেও এসব ইলেকট্রনিক মাধ্যমে গ্রাহকদের নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রাহকদেরও সতর্কতার জন্য গণমাধ্যমে প্রচারণার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

    রোববার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।

    সার্কুলারে বলা হয়েছে, সার্বক্ষণিক এটিএম সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এটিএম বুথে কোনো ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুততম সময়ে তা সমাধান করতে হবে। বুথে পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সার্বক্ষণিক পাহারাদারের সতর্ক অবস্থানসহ অন্যান্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পয়েন্ট অব সেলস বা পসের ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত এবং জাল-জালিয়াতি রোধে মার্চেন্ট এবং গ্রাহককে সচেতন করতে বলা হয়েছে। ই-পেমেন্ট গেটওয়ের ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক ‘কার্ড নট প্রেজেন্ট’ লেনদেনের ক্ষেত্রে দুই স্থর বিশিষ্ট নিরাপত্তা (টু এফএ) ব্যবস্থা চালু রখতে হবে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা নিশ্চিতে সব পক্ষকে আগাম সতর্ক করা হয়েছে। আর যে কোনো অংকের লেনদেনের তথ্য এসএমমএসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে হবে। কোনো অবস্থায় গ্রাহক যেন হয়রানির শিকার না হন সে ব্যবস্থার লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক ব্যাংকের হেল্প লাইন সহায়তা চালু রাখতে হবে।

  • ৩৭ শিক্ষার্থীর জামিনে ‘ঈদের খুশি’ পরিবারে

    ৩৭ শিক্ষার্থীর জামিনে ‘ঈদের খুশি’ পরিবারে

    সাউথ-ইস্ট ইউনিভার্সিটির বিবিএ’র ছাত্র ইকতিদার হোসাইন অয়নের বাবা এবাদত হোসেন তালুকদারের চোখে আনন্দাশ্রু। আদালত এলাকা থেকেই ছেলের জামিন পাওয়ায় খুশির খবর মোবাইল ফোনে জানাচ্ছিলেন স্বজনদের। এরপরই ছেলেকে মুক্ত করতে ছুটে গেলেন কেরাণীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে। শুধু অনয় নন, রোববার ঢাকার তিনটি আদালতে ৩৭ শিক্ষার্থী জামিন পেয়েছেন।

    নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও ভাংচুরের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এখন নতুন মামলায় গ্রেফতার না দেখালে জামিনপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মুক্তিতে কোনো বাধা নেই। আর এক দিনে ৩৭ শিক্ষার্থীর জামিনে তাদের পরিবার ও স্বজনের মধ্যে ‘ঈদের খুশি’ ছড়িয়ে পড়ে।

    ঢাকার থানা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে- আন্দোলনের সময় সংঘাত, ভাঙচুর, উসকানি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত ৫১টি মামলায় ৯৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে ৫২ জন শিক্ষার্থী।

    পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের ডিসি আনিসুর রহমান  বলেন, বুধবার ৩৭ শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হয়। তারা সবাই জামিনও পেয়েছেন।

    কেরাণীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুব আলম  বলেন, শিক্ষার্থীদের জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র পাওয়ার পরপরই তাকে মুক্তি দেওয়া হবে।

    বাড্ডার থানার মামলায় গ্রেফতার মেহেদী হাসানের জামিনের সংবাদ শুনে তার বাবা এম এ মাসুদ খান আদালতের বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আজ আমার আনন্দের দিন। ছেলে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে পরিবারের সবাই ভেঙে পড়ছিল। ঈদের আগে ছেলে জামিন পাওয়ায় আমরা খুশি।’

    জাহিদুল হক নামে এক শিক্ষার্থীর জামিন পাওয়ার পর তাদের বোন জাফরিন হকের খুশি ছিল দেখার মতো। জাফরিন চিৎকার বলে বলছিলেন- ‘ভাইয়ার জামিন হয়েছে। ভাইয়াকে এখন মুক্ত করতে পারব।’ এরপরই আদালত এলাকায় আনন্দে কেঁদে ফেলেন জাফরিন। শিক্ষার্থীদের জামিন শুনানির দিন ধার্য থাকায় গতকাল সকাল থেকে আদালত চত্বরে হাজির হন তাদের স্বজন ও সহপাঠীরা। একে একে তারা জামিন লাভের পর সহপাঠীরা সেখানে উল্লাস প্রকাশ করেন। অনেকে ‘ভি’ চিহ্ন দেখান।

    ধানমন্ডির মামলায় গ্রেফতার হন দুই ভাই মাহমুদুর রহমান ও মাহবুবুর রহমান। মাহমুদ পড়েন ইউল্যাবে। আর মাহবুব বিএফ শাহীন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। বো সাড়ে ১১টার দিকে জামিন হওয়ার খবর শুনেই তাদের স্বজনরা বলেন, ‘দুই ভাইয়ের জামিন হয়েছে। এতে তারা আমরা খুশি। এক সঙ্গে ঈদ করা যাবে। ‘

    ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো এবং ঢাকা মহানগর হাকিম এ কে এম মঈনউদ্দিন সিদ্দিকী ৩৭ শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী আখতার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ঈদ ও পরীক্ষা- এই দুই দিক বিবেচনা করে বিচারকরা আসামিদের জামিন দিয়েছেন।

    জামিন পাওয়া ৩৭ জনের মধ্যে ২২ জন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আফতাব নগরের ইষ্ট ওয়েষ্ট, বসুন্ধরা এলাকার নর্থ সাউথ, তেজগাও এলাকার সাউথ ইষ্ট ও মহাখালীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। জামিন পেয়েছেন ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয় ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আলাদা তিন মামলায় ৯ শিক্ষার্থীরও। ঢাকা মহানগর হাকিম সারাফুজ্জামান আনছারীর আদালতে ৫ হাজার টাকায় মুচলেকায় জামিন হয় নয়জনের। এরা হলেন-সোহাদ খান, মাসরিকুল ইসলাম, তমাল সামাদ, মাহমুদুর রহমান, ওমর সিয়াম, মাহাবুবুর রহমান, ইকবাল হোসেন, নাইমুর রহমান ও মিনহাজুল ইসলাম।

    গত ৪ আগস্ট বিকেলে ঝিগাতলা ও ধানমন্ডিতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও অফিস ভাংচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল। একই আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর শাহবাগ, উত্তরা (পশ্চিম), নিউমার্কেট ও কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা পৃথক মামলায় আরও সাত জনের জামিন হয়েছে।

    বাড্ডা থানার মামলায় জামিন পাওয়া ১৪ ছাত্র হলেন- রিসালাতুল ফেরদৌস, রেদোয়ান আহমেদ, রাশেদুল ইসলাম, বায়েজিদ, মুশফিকুর রহমান, ইফতেখার আহম্মেদ, রেজা রিফাত আখলাক, এ এইচ এম খালিদ রেজা, তারিকুল ইসলাম, নূর মোহাম্মদ, সীমান্ত সরকার, ইকতিদার হোসেন, জাহিদুল হক ও হাসান।

    অন্যদিকে ভাটারা থানার মামলায় জামিন পাওয়া আট ছাত্র হলেন- আজিজুল করিম, মাসাদ মরতুজা বিন আহাদ, ফয়েজ আহম্মেদ আদনান, সাবের আহম্মেদ, মেহেদী হাসান, শিহাব শাহরিয়ার, সাখাওয়াত হোসেন ও আমিনুল এহসান।

    রোববার সকালে আদালতের কাছে শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। অ্যাডভোকেট কবীর হোসেন, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ূয়া, আক্তার হোসেন জুয়েল, মিজানুর রহমান, আদনান রোজীসহ কয়েকজন আইনজীবী এ আবেদন করেন।

    শুনানিতে ছাত্রদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, এসব ছাত্রের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। মামলার এজাহারেও অনেকের নাম নেই। সন্দেহজনকভাবে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

    রাজধানীর কুর্মিটোলায় বাসচাপায় শহিদ রমিজউদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। গত ৫ আগষ্ট শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে ঘরে ফিরে গেলেও বেসরকারি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের চেষ্টা করে। পরদিন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, সাউথ ইস্ট ও ব্র্যাকের শিক্ষার্থীরা।

  • ২৫ শিক্ষার্থীর জামিন, স্বজনদের চোখে আনন্দাশ্রু

    ২৫ শিক্ষার্থীর জামিন, স্বজনদের চোখে আনন্দাশ্রু

    জাফরিন হক চিৎকার দিয়ে ‘আব্বু, ভাইয়া (জাহিদুল হক) জামিন হয়ে গেছে’ বলেই আদালতের বারান্দায় আনন্দে কেঁদে ফেলেন। জাহিদুল হক সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন চলার সময় ৬ আগস্ট বাড্ডার ভাঙচুরের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখন তিনি কারাগারে আছেন। জাহিদুল হকের মতো আরও ২৪ শিক্ষার্থীকে আজ রোববার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত (সিএমএম) জামিন দিয়েছেন।

    নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের কাজে বাধা এবং গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে করা মামলায় এসব শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হন।

    ঢাকার থানা ও আদালত সূত্র বলছে, আন্দোলনের সময় সংঘাত, ভাঙচুর, উসকানি ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ এ পর্যন্ত ৫১টি মামলায় ৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এঁদের মধ্যে ৫২ জন শিক্ষার্থী। আজ ঢাকার আদালতে জামিন চেয়ে ২৫ শিক্ষার্থীর পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের আইনজীবীরা জামিনের পক্ষে শুনানি করেন।

    শুনানিতে ছাত্রদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, এসব ছাত্রের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। মামলার এজাহারেও তাঁদের নাম নেই। সন্দেহজনকভাবে তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার সবাই ছাত্র।

    আদালত শুনানি নিয়ে ২৫ শিক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর করেন।

    বাড্ডা থানার মামলায় গ্রেপ্তার ১৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে আজ জামিন পেয়েছেন ১০ জন। আর ভাটারা থানার মামলায় গ্রেপ্তার আট শিক্ষার্থীর মধ্যে জামিন পেয়েছেন ছয়জন। অন্যদিকে, ধানমন্ডি থানার পৃথক তিন মামলায় গ্রেপ্তার নয় শিক্ষার্থীকে জামিন দিয়েছেন আদালত। ধানমন্ডি এলাকায় ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত সূত্র বলছে, গ্রেপ্তার বাকি শিক্ষার্থীদের কারও কারও জামিন শুনানি আগামীকাল হতে পারে।

    কয়েক ছাত্রের স্বজনেরা  জানান, জামিন হওয়ায় এখন তাঁরা কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে যাচ্ছেন। আদালত সূত্র বলছে, আদালত থেকে ছাত্রদের জামিনের কাগজ কারাগারে পাঠানো হবে।

    গত ২৯ জুলাই রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হন। এরপর ঘাতক বাসচালকের শাস্তি এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা।

    স্বজনদের চোখে আনন্দাশ্রু
    জামিনের আবেদন করেছেন—এমন শিক্ষার্থীদের বাবা-মা, ভাই-বোন আজ সকাল থেকে আদালতে ভিড় করতে থাকেন। ধানমন্ডির মামলায় গ্রেপ্তার দুই ভাই মাহমুদুর রহমান ও মাহবুবুর রহমান। মাহমুদ পড়েন ইউল্যাবে। আর মাহবুব বিএফ শাহীন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে এখন আইইএলটিএস করছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামিন হওয়ার খবর শুনেই তাঁদের মা বলে ওঠেন, ‘আমার ছেলেদের জামিন হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ।’

    বাড্ডার মামলায় গ্রেপ্তার মেহেদী হাসানের জামিনের সংবাদ শুনে তাঁর বাবা এম এ মাসুদ খান আদালতের বারান্দায় কান্নায় ভেঙে পড়েন।  তিনি বলেন, ‘আজ আমার আনন্দের দিন। ছেলে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে কত যে যন্ত্রণায় ছিলাম, সে কথা কাউকে বোঝাতে পারব না।’ ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ছাত্র রেদোয়ান আহমেদের বাবা অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ছেলের জামিন হওয়ায় বেজায় খুশি। তিনিও  বলেন, ছেলের জামিন হওয়ায় খুব ভালো লাগছে।

    বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নূর মোহাম্মাদের বোন মাবিয়া বললেন, ‘ভাইয়ার জামিন হওয়ায় আমার অনেক ভালো লাগছে। আমরা একসঙ্গে ঈদ করতে পারব’।

    সেদিন স্বজনদের চোখে ছিল উৎকণ্ঠা, ভয়
    বাড্ডার আফতাবনগর এলাকার ভাঙচুরের মামলায় ১৪ ছাত্রকে এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ভাঙচুরের মামলায় ৮ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৭ আগস্ট ২২ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এজলাসে স্বজনদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ছাত্ররা। দুই দিনের রিমান্ড শেষে যখন ছাত্রদের প্রিজন ভ্যানে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনেরা।

    জাহিদুল হক ও নূর মোহাম্মাদের আইনজীবী আখতার হোসেন বলেন, ছাত্রদের জামিন করাতে পেরে তিনি নিজেও খুব আনন্দিত।

    যাঁরা আজ জামিন পেলেন
    বাড্ডার মামলায় জামিন পাওয়া ১০ শিক্ষার্থী হলেন রেদোয়ান আহমেদ, রাশেদুল ইসলাম, মুশফিকুর রহমান, ইফতেখার আহম্মেদ, রেজা রিফাত আখলাক, এ এইচ এম খালিদ রেজা, তারিকুল ইসলাম, নূর মোহাম্মাদ, জাহিদুল হক ও হাসান। আর ভাটারা থানার মামলায় জামিন পেয়েছেন আজিজুল করিম, মাসাদ মরতুজা বিন আহাদ, ফয়েজ আহম্মেদ আদনান, মেহেদী হাসান, শিহাব শাহরিয়ার ও সাখাওয়াত হোসেন। ধানমন্ডির মামলায় জামিন পাওয়া নয় শিক্ষার্থী হলেন সোহাদ খান, মাসরিকুল আলম, তমাল সামাদ, ওমর সিয়াম, মাহমুদুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, ইকবাল হাসান, মিনহাজ রহমান ও নাইমুর রহমান।

  • ‘পত্রিকায় অযাচিত লেখালেখিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়’

    ‘পত্রিকায় অযাচিত লেখালেখিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়’

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০২৫ সালের মধ্যে রাজধানীতে আধুনিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য একটি মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছি। আজকের দাসেরকান্দি পয়োশোধনাগার নির্মাণ পরিকল্পনা তারই একটা অংশ। কেউ যদি কোনো প্রকল্পের কাজ না পায়, সেটা নিয়ে পত্রপত্রিকায় অযাচিতভাবে লেখালেখি হয়। এ কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়। তা ছাড়া কিছু পত্রিকা আছে, যারা একটু খুঁত পেলেই উন্মুখ হয়ে বসে থাকে সেগুলো ছাপানোর জন্য। এতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ অকারণে পিছিয়ে যায়।

    রোববার সকালে প্যান প্যাসেফিক সোনারগাঁও হোটেলে ঢাকা ওয়াসার দাসেরকান্দি পয়োশোধনাগার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দাসেরকান্দি প্রকল্পটি ছাড়াও ঢাকায় রুট নিয়ে বিতর্কে বহুল আলোচিত মেট্রোরেল প্রকল্প পিছিয়েছে কয়েক বছর। সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে রুটের পরিকল্পনা ঠেকাতে নাগরিক সমাজের একটি অংশ নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামে। আর কিছু গণমাধ্যম সেগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে।

    এসব বিতর্কে বছর তিনেক পেছানোর পর ২০১৬ সালের ২৬ জুন উদ্বোধন হয় মেট্রোরেলের কাজ। ২০২১ সালের মধ্যে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত যাত্রী বহন শুরু হবে। অথচ এ নিয়ে বিতর্ক না হলে এরই মধ্যে কাজ প্রায় শেষ হয়ে যেতে পারত। স্বপ্নের পদ্মাসেতু প্রকল্পও পিছিয়েছে দুর্নীতি চেষ্টার ভুয়া অভিযোগের কারণে। যে সেতু দিয়ে এখন যান চলাচলের কথা, সেটি চালু হতে হতে আগামী বছরের মাঝামাঝি সময় লেগে যেতে পারে।

    অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খান, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিম এ খান প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রকল্প এলাকার একটি রেপ্লিকা দেখানো হয়।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, দাশেরকান্দি পয়োশোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে হাতিরঝিল, গুলশান, বনানী, বারিধারা, সেনানিবাস এবং সংসদ ভবন এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যার যেমন সমাধান হবে তেমনি বাসিন্দারা একটি উন্নত পয়োনিষ্কাশনের সুবিধা পাবে।

    শেখ হাসিনা বলেন, যে কোনো ধরনের প্রকল্পের কাজ করতে গেলে আমাদের নানা ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়। এমনকি পাইপে আধা ইঞ্চির সমস্যা নিয়ে আমাদের অনেক দিন সময় নষ্ট হয়ে গেল।

     

    এসব বিতর্ক কেন তোলা হয়, তা বর্ণনা করে সরকারপ্রধান বলেন, কারণটা আমি জানি। কারণটা আর কিছুই না, কাজটা কে পেল না পেল। কেউ যদি না পেল, ওমনি দিল একখানা পত্রিকায় লিখে। আর কিছু পত্রিকা তো উন্মুখ হয়ে বসে থাকে, ওটা লিখবেই। তারপর সেটা নিয়ে আবার নানা জল্পনা-কল্পনা, তারপর আবার মাপামাপি, তার ওপর আবার রিপোর্ট দেন। অনেক ঝক্কি ঝামেলা, খামাখা সময়টা নষ্ট। অথচ হাতিরঝিল করেছি, হাতিরঝিলের পানি প্রায়ই পচে যায়। এই ট্রিটম্যান্ট প্লানটা যদি আমরা না করি, তাহলে হাতিরঝিলকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না, এটা হলো বাস্তবতা।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের অনেক পুকুর ভরাট হয়ে বিল্ডিং হয়ে গেছে। পুকুর ভরাট করা চলবে না, সব ধরনের জলাধার সংস্কার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করতে হবে। ঢাকায় এখন হাতেগোনা কয়েকটা পুকুর। এই পুকুরগুলো সব সংরক্ষণ করতে হবে। আর যেন কেউ পুকুর ভরাট না করে সে দিকে সতর্ক থাকতে হবে।

    রাজধানীর পাশাপাশি জেলা, উপজেলা শহর এবং ইউনিয়ন পর্যায়েও পানি ও পয়োসেবা নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হওয়ারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমাদের সুপেয় পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, এই তিন পদক্ষেপ নিতে হবে এই কারণ যে, আমরা প্রত্যেকটা প্রামকে শহরে উন্নীত করতে চাই, গ্রামের মানুষ যেন শহরের মতো একটা উপযোগী ব্যবস্থা পায়।

    শেখ হাসিনা বলেন, রাজধানীর প্রধান নদী বুড়িগঙ্গার তলদেশে থাকা বর্জ্য অপসারণ, বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করে নদীটিতে পুরোপুরি দূষণমুক্ত করার পরিকল্পনাও নেই আমরা। বুড়িগঙ্গা তো প্রায় পচে দুর্গন্ধ। প্রচুর ময়লা দেখান থেকে বের করতে হয়েছে। কিন্তু তারপরও এখনও সেভাবে হয়নি। ওখানেও কতগুলো স্যুয়ারেজ সিস্টেম তৈরি করতে হবে।

    বালু, তুরাগ, ধলেশ্বরীও ড্রেজিং করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদী ড্রেজিং করলে প্রচুর জমি আমরা উত্তোলন করতে পারি। কোথাও আমরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন করব, কোথাও আমরা চাষের উপযোগী জমি ব্যবহার করব, কোথাও আমরা শহর গড়ে তুলব।

    ‘জাতির পিতা এ দেশ স্বাধীন করে দিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশ হবে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ। এ দেশের শোষিত-বঞ্চিত ভাগ্যহারা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতেই বঙ্গবন্ধু সারাজীবন কাজ করেছেন। গভীরভাবে এ দেশের মানুষকে ভালোবেসেছেন। আমরা সন্তান হয়ে বাবার কাছ থেকে সে সময়টুকু পাইনি। দেশ স্বাধীনের ৪৭ বছরে আমরা যা না পেয়েছি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে ১০ বছরে এ দেশ উন্নত-সমৃদ্ধ হতো। যখনই বাংলাদেশের মানুষ একটু সুখের মুখ দেখতে শুরু করেছিল তখনই হত্যা করা হয় জাতির জনককে।

  • বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আ.লীগ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পথ রুদ্ধ করতে চায়’

    বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আ.লীগ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পথ রুদ্ধ করতে চায়’

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এক-এগারোর আওয়ামী লীগের আরেকটি চক্রান্ত। সেই চক্রান্তটি হচ্ছে- বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার যে পথ, সেই পথকে তারা রুদ্ধ করতে চায়।

    রবিবার দুপুরে রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

    বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবর্ষিকী উপলক্ষে নেতাকর্মীরা জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

    বিএনপি এক-এগারো নিয়ে চক্রান্ত করছে- ক্ষমতাসীনদের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি এক-এগারো করার প্রয়োজনটা কী? এর সঙ্গে বিএনপির তো কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না।

    তিনি বলেন, বিএনপি তো এখন ড্রাইভিং সিটে নেই। ড্রাইভিং সিটে আছে তারা (আওয়ামী লীগ)। আর এক-এগারো করার অভিজ্ঞতা তাদের। এক-এগারোর সুবিধাভোগী তারা। অযথা বিএনপিকে এর মধ্যে নিয়ে আসা মানে তাদের কোনো কুমতলব আছে।

    এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপি নেতা নাজিমউদ্দিন আলম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।