Category: জাতীয়

  • পটুয়াখালীতে গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    পটুয়াখালীতে গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

    পটুয়াখালীতে ৩ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর সদস্যরা।

    জানাগেছে, পটুয়াখালী জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদরের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র বিশ্বাস ও পরিদর্শক খন্দকার জাফর আহমেদ সংগীয় র্ফোসসহ শুক্রবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের টাউন বহালগাছিয়া এলাকায় এছাহাক মডেল ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন হাওলাদার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৩ কেজি গাঁজাসহ শাহআলম (৪১) নামক এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। আটক শাহআলম ওই এলাকার মৃতঃ সেকান্দার হাওলাদারের পুত্র।সে দীর্ঘদিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাদকদ্রব্য বিক্রি করে আসছিল।

    এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদরের উপ-পরিচালক বিমল চন্দ্র বিশ্বাস জানান।

  • বরিশালে পশুর হাটে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা

    বরিশালে পশুর হাটে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা

    বরিশালে ঈদুল আযহা উপলক্ষে অস্থায়ী পশুরহাট বসেছে মাত্র ৩টি। এর সঙ্গে দুটি স্থায়ী হাট সহ মোট ৫টি হাটে এবার কোরবানী পশু ক্রয়-বিক্রয় হবে। অপরদিকে জেলার ১০ উপজেলায় ১৬টি স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ৩০টি স্থায়ী পশুর হাটের।

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের হাটবাজার শাখার তত্ত্ববধায়ক মো. নুরুল ইসলাম জানান, অস্থায়ী পশুর হাটের জন্য মাত্র ৩টি আবেদন পড়ায় তাদের প্রত্যককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এবার অস্থায়ী পশুর হাট হলো- রূপাতলী টেক্সটাইলমিল সংলগ্ন আদর্শ সড়ক, রূপাতলী কালিজীরা বাজার এবং সিএন্ডবি রোড থানা কাউন্সিলের সামনে। এছাড়া নগরীর দুটি স্থায়ী পশুর হাট যথাক্রমে বাঘিয়া এবং পোর্ট রোডেও আজ থেকে ৫ দিনব্যাপী হাট শুরু হয়।

    জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্র জানায়, জেলার ১০ উপজেলায় ১৬টি স্থায়ী পশুরহাটের মধ্যে সদর উপজেলায় ১টি, বাকেরগঞ্জে ৩টি, বানারীপাড়ায় ২টি, গৌরনদীতে ২টি, মুলাদীতে ৬টি, হিজলায় ১টি এবং মেহেন্দিগঞ্জে রয়েছে ১টি।

    এছাড়া অস্থায়ী ৩০টি হাটের মধ্যে সদর উপজেলায় ৮টি, মুলাদীতে ৫টি, গৌরনদীতে ২টি, আগৈলঝাড়ার ৩টি, বাবুগঞ্জে ৫টি, বাকেরগঞ্জে ৩টি, উজিরপুরে ৪টি এবং মুলাদীতে রয়েছে ৫টি। শুক্রবার থেকে ৫দিনব্যাপী পশুর হাট শুরু হয় বরিশাল নগরী সহ জেলার সকল হাটে।

    বিসিসি’র হাট বাজার শাখার তত্ত্বাবধায়ক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, গত বছর নগরীতে অস্থায়ী গরুর হাট ছিলো ৭টি। এবার শুরু থেকেই অস্থায়ী হাটের তেমন আবেদন পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত পৃথক ৩টি স্থানে পশুর হাটের আবেদন পেয়ে ৩ উদ্যোক্তাকেই হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে ইজারাদার না পাওয়ায় গতবছরের মতো এবারও বাঘিয়া এবং পোর্ট রোডের স্থায়ী হাট দুটি সিটি করপোরেশন নিজস্ব জনবল দিয়ে পরিচালনা করছে। সংশ্লিস্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সহযোগীতায় হাট দুটি পরিচালনার কথা জানান বিসিসি’র হাট বাজার শাখার তত্ত্বাবধায়ক নুরুল ইসলাম।

    উল্লেখ্য, বাঘিয়া পশুরহাটের সম্ভাব্য বার্ষিক ইজারা মূল্য ১লাখ ৮০ হাজার এবং পোর্ট রোড পশুর হাটের বার্ষিক ইজারা মূল্য দেড় লাখ টাকা আহ্বান করে গত ৩ মাসে দুইবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও কেউ দরপত্রে অংশগ্রহণ করেনি।
    এদিকে পশুর হাটগুলোতে চাঁদাবাজী, অজ্ঞান পার্টি ও ছিনতাইকারী রোধ সহ ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বরিশাল মেট্রো এবং জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা। পাশাপাশি প্রতিটি হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণে মেশিন ও অনলাইন মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালুর কথা জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।

  • গুজবের মামলায় ফারিয়া তিন দিনের রিমান্ডে

    গুজবের মামলায় ফারিয়া তিন দিনের রিমান্ডে

    নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে ছাত্র হত্যা ও ধর্ষণের গুজব ছড়ানোয় আটক তরুণী ফারিয়া মাহজবিনকে (২৮) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

    পুলিশের রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে ঢাকার মহানগর হাকিম এ কে এম মাইনুদ্দীন শুক্রবার এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    এর আগে শুক্রবার রাজধানীর পশ্চিম ধানমন্ডি এলাকা হতে ওই তরুণীকে আটক করে র‌্যাব-২ এর একটি দল। বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করা ফারিয়া ধানমণ্ডিতে নার্ডি বিন কফি হাউজ নামে একটা কফিশপ চালান।

    শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে র‌্যাব ফারিয়াকে হাজারীবাগ থানায় সোপর্দ করে তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭(২) ধারার মামলা দায়ের করে। সেখানে আরেকজনকে আসামি করে তাকে পলাতক দেখানো হয়।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মাজেুদুর রহমান বিকালে ফারিয়াকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান। শুনানি নিয়ে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    এ সময় ফারিয়ার পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে ছিলেন না বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

    গত ৪ আগস্ট শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে চারজন ছাত্রের চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে এবং চার ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে ফেসবুকে গুজব ছড়ায় একাধিক ব্যক্তি।

    সেদিন এই কথা ফেসবুক লাইভে এসে এবং সাক্ষাৎকারের মতো করে বানিয়ে বিভিন্ন আইডি থেকে প্রচার করা হয়। আর এরপর স্কুল কলেজের পোশাক পরিহিত এবং ড্রেসছাড়া বেশ কিছু তরুণ ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা করে, সংঘর্ষ হয় দুই পক্ষে, ঝরে রক্ত।

    আর এই কথা ছড়ানোর পেছনে যে অন্য উদ্দেশ্য ছিল, সেটাও স্পষ্ট। দেশের পাশাপাশি দেশের বাইরে থেকেও কেউ কেউ ফেসবুক লাইভে এসে সবাইকে রাস্তায় নেমে এসে সরকার উৎখাতের আহ্বানও জানানো হয়।

    তবে সেদিন সন্ধ্যায় ছাত্রদের দুটি প্রতিনিধি দল আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয় ঘুরে এসে নিশ্চিত হয়, সেই প্রচার ছিল গুজব। আর এরপর থেকে তারা সড়কে অবস্থান ছেড়ে বাড়িতে ফিরে যায়।

    ফেসবুক লাইভে ছাত্র মৃত্যুর গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন অভিনেত্রী ও মডেল কাজী নওশাবা আহমেদ। দুই ছাত্রকে হত্যা মৃত্যু ও একজনকে চোখ তুলে নেওয়ার কথা বলে সবাইকে নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন নওশাবা। দুই দফা রিমান্ড শেষে তিনি এখন ঢাকা কারাগারে।

    অন্যদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলন সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়ক লুৎফুন নাহার লুমাকে সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হয়। গোপালগঞ্জের মেয়ে লুমা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর পালিয়ে ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

    গত বুধবার রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাজমুস সাকিব নামে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের (ইউল্যাব) এক শিক্ষার্থী এবং কামরাঙ্গীরচরের জামিয়া নুরানিয়া মাদ্রাসার ছাত্র আহমাদ হোসাইনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    গত ১৫ আগস্ট ঢাকা মহানগর পুলিশের এক হিসাবে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উস্কানি ও গুজব ছড়ানোর ৫১ মামলায় মোট ৯৭ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

    সম্প্রতি পুলিশ প্রধান জাবেদ পাটোয়ারি জানিয়েছেন, গুজব ছড়ানোর পেছনে তারা মোট ২১টি পোর্টাল চিহ্নিত করেছেন। তাদের সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • দুপুরে চীন থেকে ফিরে রাতে কাটলেন স্বামীর গলা

    দুপুরে চীন থেকে ফিরে রাতে কাটলেন স্বামীর গলা

    দীর্ঘদিন প্রেমের পর চার বছর আগে গোপনে বিয়ে করেন মো. মাঈনুদ্দিন ওরফে শাহরিয়ার শুভ (২৯) ও রোকসানা আক্তার পপি (২৩)। পরে ডাক্তারি পড়তে চীনে যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) দেশে ফেরেন পপি। বিকেলে স্বামী-স্ত্রী দু’জনে ওঠেন ফয়স লেকের লেকভিউ আবাসিক মোটেলে। মধ্যরাতে মোটেলের ২০৩ নম্বর কক্ষে মেলে স্বামী শুভর গলাকাটা মরদেহ।

    পুলিশ বলছে, তারা প্রায় নিশ্চিত চীন ফেরত নিহতের স্ত্রী পপিই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। শুক্রবার (১৭ আগস্ট) ভোরে খুলশী থানা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন স্ত্রী রোকসানা আক্তার (পপি)।

    নিহত মাঈনুদ্দিন ওরফে শুভ ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর বালিরচর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। অন্যদিকে, আটক রোকসানা মিরসরাই উপজেলার বারৈয়ারহাট মেহেদী নগর গ্রামের আবু আহম্মদের মেয়ে। চীনের একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টার্ন চিকিৎসক তিনি।

    নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (বায়েজিদ বোস্তামি জোন) সোহেল রানা  বলেন, ‘পপির সাথে চার বছর আগে মাঈনুদ্দিনের গোপনে বিয়ে হয়। পরে মেয়েটি ডাক্তারি পড়ার জন্য চীনে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে পপি জানিয়েছেন, দুই বছর ধরে তাদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। চীনে যাওয়ার পর থেকে তার নানা অশ্লীল ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন মাঈনুদ্দিন। এর জের ধরে পপি দেশে ফিরে একাই মাঈনুদ্দিনকে জবাই করে হত্যা করেছেন।’

    খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নোমান  বলেন, ‘মোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পেয়ে ‘লেক ভিউ মোটেল’-এর দ্বিতীয় তলার ২০৩ নম্বর কক্ষ থেকে এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মাথা শরীর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ছিল।’

    তিনি আরও বলেন, ‘পরিবার ও মোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি, গত ১৬ আগস্ট বিকেলে নিহত মাঈনুদ্দিন তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার পপিকে নিয়ে মোটেলে ওঠেন। গতকাল মধ্যরাতে মোটেল কর্তৃপক্ষ ওই রুমে কেউ আছে কি না, তা যাচাই করতে গিয়ে মাঈনুদ্দিনের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পায়। ’

    নিহত শুভর বড় ভাই মো. জাফর সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি মেয়ের সঙ্গে আমার ভাইয়ের সম্পর্ক ছিল। মেয়েটি গতকাল বিকেলে চীন থেকে দেশে এসেছে এবং আমার ভাই তাকে ঢাকা বিমানবন্দরে রিসিভ করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসে। ওই মেয়ে আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে। তার শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে।’

    এদিকে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কের পর গত চার বছর আগে শুভ ও পপি গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের পরপরই পপি ডাক্তারি পড়তে চীন চলে যান। চীনে অবস্থানের সময় বিভিন্ন কারণে পপির সঙ্গে শুভর সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। আবার এরই মধ্যে মিরসরাই এলাকায় অপর এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন পপি। এ নিয়ে পপির সঙ্গে শুভর বিরোধ চূড়ান্ত রূপ নেয়। এ নিয়ে শুভ বেশ কয়েকবার পপির ওই ‘কথিত’ প্রেমিককে খুঁজে বের করতে মিরসরাইতে যান। পরে তার চাপে পপি বৃহস্পতিবার দেশে আসতে বাধ্য হন।

    সূত্রটি আরও জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে পপি ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে শাহরিয়ার তার এক বন্ধুকে নিয়ে প্রাইভেটকারযোগে ঢাকায় যান। পরে বন্ধুকে প্রাইভেটকারসহ ছেড়ে দিয়ে শুভ পপিকে নিয়ে আলাদাভাবে বাসে করে চট্টগ্রাম ফেরেন। পরে বিকেলে তারা ফয়স লেকের লেকভিউ মোটেলে ওঠেন।

  • আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে হবে: চরমোনাই পীর

    আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে হবে: চরমোনাই পীর

    নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। শুক্রবার (১৭ আগস্ট) এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।

    বিবৃতিতে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘কোমলমতি শিশুরা যখন রাস্তায় নেমে এসেছে, তখন তাদেরকে লাঠিপেটা ও রক্তাক্ত করায় সচেতন মানুষ সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। দেশের পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে… তা দেশবাসীর সামনে নিয়ে এসেছে শিশুরা। দেশে যে কোনও নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই, চেইন অব কমান্ড বলতে কিছু নেই, তা দেশবাসীর সামনে পরিষ্কার করে দিয়েছে তারা। শিশু শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সরকারের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরেছে।’

    চরমোনাই পীর আরও বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করে সরকার আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের গ্যারান্টি দিতে পারছে না। লোভ ও ক্ষমতার লোভ পরিহার করতে পারলে অত্যন্ত বলিষ্ঠতার সঙ্গে যে দায়িত্ব পালন করা যায়,তা শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই এ নির্বাচন কমিশন দিয়ে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।’

  • বরিশালে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার

    বরিশালে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার

    বরিশালের মুলাদী উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের পাতারচর গ্রামে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আলমগীর সিকদার (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শুক্রবার সকালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিশুর বাবা বাদী হয়ে শুক্রবার সকালে মুলাদী থানায় মামলা করেছেন।

    আটক আলমগীর সিকদার সফিপুর ইউনিয়নের পাতারচর গ্রামের ছালাম সিকদারের ছেলে।

    স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুটির বাবা-মা শিশুটিকে রেখে এক আত্মীয়র বাড়িতে যান। তাদের ফিরতে দেরি হওয়ার সুযোগে প্রতিবেশী আলমগীর সিকদার শিশুটিকে একা পেয়ে ঘরের মধ্যে মুখ চেপে ধর্ষণ করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়। শিশুটির বাবা-মা বাড়ি ফিরে রক্তক্ষরণ হতে দেখে জিজ্ঞাসা করলে সে ধর্ষণের কথা বলে দেয়। পরে মেয়েটির বাবা-মা পার্শ্ববর্তী লোকজনদের জানিয়ে বিচারের দাবি জানান এবং রাত ১টার দিকে ৮ বছরের মেয়েকে নিয়ে মুলাদী হাসপাতালে যান। মেয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত ডাক্তার রাতেই তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) প্রেরণ করেন। শিশুর বাবা বিষয়টি মুলাদী থানায় জানালে পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে আলমগীর সিকদারকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার সকালে এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা মামলা করেছেন।

    মুলাদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান জানান, ঘটনার সত্যতা পেয়ে আলমগীর সিকদারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত শেষ করে এই মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হবে।

  • চরমোনাইতে মাদক সেবীর হামলায় ব্যবসায়ী শেবাচিমে

    চরমোনাইতে মাদক সেবীর হামলায় ব্যবসায়ী শেবাচিমে

    বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের রাজারচর গ্রামের নানা অপরাধের গডফাদার এবং মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টারদাতা হিসাবে পরিচিত মাইদুল গাজি আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। চরমোনাই ইউনিয়নের রাজারচর গ্রামের জালাল গাজীর পুত্র মাইদুল গাজির হাতে প্রায় দিনেই মারধরের শিকার হন সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ। গত কয়েক দিন পূর্বে সাহেকেরহাট-রাজারচর খেয়াঘাটের এক মাঝিকে বেধম মারধর করেছে মাইদুলের গঠিত নিজস্ব ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা। মাইদুল গাজিসহ তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। সরকার যখন মাদক নির্মূলে নিরালস ভাবে কাজ করছে এর পরেও মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীদের হাতে প্রতিনিয়তই হামলার শিকার হন সাধারন ব্যবসায়ীরা।

    গত ১৬ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টার দিকে রাজারচর খেয়াঘাটের ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী রুম্মান হাওলাদার (২৭) নিজ দোকান বন্ধ করে বাসা দিকে যাওয়ার পথেই হাজির মাইদুলের ক্যাডার বাহিনী। এই বাহিনীর নেতা মাইদুল গাজী বলে উঠেন শালাকে শেষ করে দেয়। ওর কাছে অনেক দিন টাকা চাই টাকা দেয় না। আমরা আমাদের দল চালাবো কেমনে। সূত্র জানা গেছে মাইদুল কতাকথিত ছাত্রলীগ নেতা। এসময় রাজারচর খেয়াঘাটের ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী রুম্মানের হাত ও পা ভেঙ্গে দেয় তারা। সূত্র জানা গেছে, মাইদুল গাজির বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে হ্যান্ডকাফ নিয়ে পালানোর ঘটনায় খল নায়ক ছিলো মাইদুল। এলাকাবাসী জানান, সাধারন মানুষের আতংকের আরেক নাম মাইদুলে পরিনত হয়েছে। আহত ক্রোকারিজ ব্যসায়ীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তার ডান পায়ের অবস্থা অনেকটা খারাব তাকে যে কোন মূহুর্তে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরন করা হবে বলে জানিয়েছে শেবাচিমের চিকিৎসকরা। জানা গেছে আহত রুম্মান চরমোনাই ইউনিয়নের রাজার চর গ্রামের দুলাল হাওলাদারের পুত্র। আহত রুম্মান জানান, আমার সাথে তাদের কোন লেনদেন নেই। আমরা এক সময় ভাগে ড্রেজারের ব্যবসা করতাম এর পরে মন মানিলণ্য হয় পরে আমি ড্রেজার ব্যবসা দিয়ে সরে আসি। আমি অনেক টাকা লোসখান দিয়ে সরে এসেও তাদের হাত থেকে রক্ষা পাইনি। এদের বিরুদ্ধে মাদকসহ নানা বিধ একাধিক মামলা রয়েছে। আহত রুম্মান আরো জানান, আমাকে মূলত মারধর শুরু করেছে মাইদুল গাজী আর তার সাথে ছিলো আলতাফ মল্লিকের পুত্র শাকিল মল্লিক ও হুয়ায়নের পুত্র শান্ত। এদের সাথে আরো বেশ কয়েকজন ছিলো তাদের আমি দেখলে চিনবো তাদের নাম জানা নেই। ঘটনার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান কোতয়ালী থানার এএসআই আজমল হোসেন। তিনি জানান সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ছিলাম। তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন আমরা ঘটনাস্থল থেকে আহতকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এবিষয় কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম পিপিএম বলেন এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায় নি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

  • ঈদে ঢাকা-বরিশাল রুটে চলবে ৩৬ বিলাসবহুল লঞ্চ

    ঈদে ঢাকা-বরিশাল রুটে চলবে ৩৬ বিলাসবহুল লঞ্চ

    ঈদে ঘরমুখো লঞ্চযাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ ও ভোগান্তি লাঘবে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিআইডব্লিউটিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    যাত্রীসেবায় সরকারি-বেসরকারি ৩৬টি অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল করবে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে। এরই মধ্যে ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে সরকারি লঞ্চের স্পেশাল সার্ভিস। শনিবার থেকে শুরু হবে বেসরকারি লঞ্চের স্পেশাল সার্ভিস।

    বিআইডব্লিউটিএ সূূত্রে জানা গেছে, নৌপথে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন রোধ, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ, ঈদের আগে ও পরে ৭ দিন করে ১৪ দিন নদীতে বাল্কহেডসহ ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা, নদীতে কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর টহল নিশ্চিত করা, মেরিন ক্যাডেট, স্কাউট, গার্লস গাইডের সদস্যরা যাত্রীদের লঞ্চে ওঠা-নামসহ সার্বিক সহযোগিতা করবেন।

    যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানা, নৌ-পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যরা নৌ-বন্দর এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। লঞ্চগুলোতে পর্যাপ্ত জীবন রক্ষাকারী বয়া আছে কি না তা নিশ্চিত করা হবে।

    এছাড়া বরিশাল-ঢাকা নৌপথে ঈদের সময় জেলেরা যাতে জাল ফেলে প্রতিন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবারহ, যাত্রীদের সচেতন করতে মাইকে প্রচারণা চালানো, জরুরি চিকিৎসাসেবা ও গভীর রাতে ঢাকা থেকে আসা যাত্রীদের বন্দর ভবনের বিশ্রামাগারে নিরাপত্তা দেয়া, অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে অস্থায়ী যাত্রী ছাউনি স্থাপন করাসহ সব পদক্ষেপ নেয়া হবে।

    বিআইডব্লিউটিসি বরিশাল অফিস থেকে জানা গেছে, ঢাকা-বরিশাল-খুলনা রুটে ১৩ দিনের বিশেষ ঈদ সার্ভিস বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ঢাকা থেকে শুরু হয়েছে। মোট ৬টি জাহাজ দিয়ে আগামী ১৮ আগস্ট পর্যন্ত এ সার্ভিস চলবে।

    বিআইডব্লিউটিসির উপ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক/যাত্রী পরিবহন) শেখ মু. নাছিম বলেন, ঈদের আগে-পরে মিলিয়ে নিয়মিত রুটের জাহাজ ও ঢাকা, চাঁদপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, হুলারহাট, মোড়েলগঞ্জ ও খুলনা রুটের যাত্রীদের চলাচলে সংযোগ-সুবিধা দেবে। ১৩ দিনের বিশেষ ঈদ সার্ভিসে ৬টি স্টিমার চলাচল করবে।

    বিআইডব্লিউটিসির বরিশাল স্টেশনের সহ-মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ বলেন, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালে টাগবোট, পাইলটিং সার্ভিস প্রস্তুত থাকবে। ১৬৯ কিলোমিটার ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটের ভাড়া বাড়বে না। বিশেষ সার্ভিসে ১১টি উপকূলীয় রুটের জন্য থাকবে সি-ট্রাক সার্ভিস। এমভি মনিরুল হক এবং এমভি বারো-আওলিয়া সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে চলাচল উপযোগী জাহাজ দিয়ে হাতিয়া ও সন্দ্বীপের সঙ্গে চট্টগ্রামের সংযোগ রক্ষা করা হবে। ওয়াটার-বাস এবং ফেরি সার্ভিসও সব সময় সচল রাখার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

    এদিকে, শনিবার থেকে ঢাকা থেকে শুরু হবে বেসরকারি লঞ্চের স্পেশাল সার্ভিস। এ সময় এ রুটে সরাসরি যাত্রীসেবা দেবে এমভি অ্যাডভেঞ্চার-১ ও ৯, কীর্তনখোলা-২ ও ১০, সুরভী-৭, ৮ ও ৯, সুন্দরবন-৮, ১০ ও ১১, পারাবত-৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২, দ্বীপরাজ, ফারহান-৮, টিপু-৭, কালাম খান-১, গ্রীনলাইন-২ ও ৩।

    বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, ঈদের সময় লঞ্চে মালামাল পরিবহন অনেকটা বন্ধ রাখা হয়। এ সময় লঞ্চগুলো মালামাল পরিবহন বন্ধ রেখে লোড লাইনের ওপর ভিত্তি করে যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লোড লাইনের ওপরে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে কোনো লঞ্চকে সুযোগ দেয়া হবে না। ঘাটে বিআইডব্লিউটিএর মনিটরিং ছাড়াও জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে নৌপথে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত বিশেষ মতবিনিময় সভা করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ।

    সভায় জনভোগান্তি রোধে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান বিএমপির নবাগত কমিশনার মোশারফ হোসেন। সভায় তিনি বলেন, লঞ্চযাত্রীদের নিরাপত্তায় বরিশালে নৌ-বন্দর অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। চুরি, ছিনতাই ও পকেটমার, অজ্ঞান পার্টি ও মলম পার্টির তৎপরতা ঠেকাতে সাদা পোশাকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়া নৌপথে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ, লাইসেন্সবিহীন চালক দিয়ে যান চলাচল না করা ও বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

  • স্মরণকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছাল কলমানি মার্কেটের সুদহার

    স্মরণকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছাল কলমানি মার্কেটের সুদহার

    আর মাত্র কয়েক দিন পর কোরবানির ঈদ। ধর্মীয় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা পরিশোধ ও কোরবানির পশু কেনাসহ নানা কারণে ব্যাংকে নগদ টাকার চাপ বেড়েছে। বাড়তি চাপ সামলাতে ব্যাংকগুলোকে যেতে হচ্ছে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে (কলমানি মার্কেট)। তবে পরিমাণের দিক থেকে কলমানির চাহিদা বাড়লেও সুদহার এতটাই কমেছে যে, তা স্মরণকালের সর্বনিম্নে পৌঁছেছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪ আগস্টের (মঙ্গলবার) তথ্যে দেখা গেছে, কলমানিতে সর্বোচ্চ সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে লেনদেন হয়েছে। তবে সুদের হার না বাড়লেও লেনদেন বেড়েছে এই বাজারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘ বিনিয়োগ স্থবিরতায় অধিকাংশ ব্যাংকের কাছেই উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে। এ কারণে ঈদের আগে নগদ টাকার চাহিদা বাড়লেও কলমানিতে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৬ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত কলমানি মার্কেটে প্রতিদিনই লেনদেন বেড়েছে। এ সময়ে কলমানি মার্কেটে ব্যাংক ও ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ঋণ হিসাবে মোট লেনদেন হয়েছে ৫৭ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক-টু-ব্যাংকের সর্বোচ্চ সুদহার ছিল সাড়ে ৪ শতাংশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ সুদহার ছিল ৫ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ব্যাংক-টু-ব্যাংকের গড় কলমানির গড় সুদহার ছিল ১ দশমিক ৬১ শতাংশ। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গড় সুদহার ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। গত এক দশকে এত কম সুদহারে লেনদেন হয়নি কলমানি মার্কেটে। সর্বশেষ ২০০৯ সালের অক্টোবরে গড়ে ২ দশমিক ৮০ শতাংশ সুদে লেনদেন হয়। ২০০৩ সালের পর থেকে কখনওই কলমানির সুদহার এত কম দেখা যায়নি।

    এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিধিবদ্ধ নগদ জমা সংরক্ষণের (সিআরআর) হার কমানোর ফলে বাজারে নগদ টাকার সরবরাহ বাড়ায় কলমানি সুদহার বাড়েনি বলে জানিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।

    তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬ আগস্ট কলমানিতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ছয় হাজার ৯৫০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। তার আগের দিন ছিল সাত হাজার ৯০২ কোটি টাকা। যা ১৪ আগস্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু কেনাসহ বাড়তি কেনাকাটায় নগট টাকা তুলতে ব্যাংকগুলোতে ভিড় করে। এ কারণে ঈদের সময় লেনদেন বেড়ে যায়। তবে বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার সংকট নেই। এ কারণে লেনদেন বাড়লেও কলমানি মার্কেটে সুদহার স্থিতিশীল রয়েছে।’

    নগদ টাকার সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে, তাই ঈদের আগে কোনো সংকট সৃষ্টি হবে না বলে তিনি জানান।

    অথচ ২০১০ সালে কোরবানির ঈদের আগে কলমানি মার্কেটের সুদের হার প্রায় ২০০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তখন বেসরকারি একটি ব্যাংক ১৯০ শতাংশ হার সুদে অন্য একটি ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের নগদ টাকা ধার নিয়েছিল। এরপর অবশ্য আর কখনও কলমানির সুদের হার খুব একটা বাড়তে দেখা যায়নি। ২০১২ সালে ঈদের আগে ১৫ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ৯ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল কলমানি মার্কেটের সুদহার। এরপর থেকে কলমানির সুদহার ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে।

  • শিক্ষার্থীদের আইডিকার্ডে থাকবে ইউনিক নম্বর

    শিক্ষার্থীদের আইডিকার্ডে থাকবে ইউনিক নম্বর

    মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের (৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত) প্রোফাইল বা ডাটাবেইজ প্রণয়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশপাশি এ পর্যায়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে ইউনিক আইডেন্টিটি নম্বরসহ আইডিকার্ড দেয়া হবে। ‘ইস্টাবলিশমেন্ট অব ইন্ট্রিগ্রটেড এডুকেশনার ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ প্রকল্পের আওতায় এসব করা হবে।

    এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের মেয়াদকাল ২০১৭ সালের জুলাই হতে ২০২০ সাল পর্যন্ত। মঙ্গলবার শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে একনেকে পাঠানো প্রস্তাবনায় বলা হয়, শিক্ষাতথ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখা যায় যে, সব শিক্ষা বোর্ড, ব্যানবেইস, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর, মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরসহ সব সংস্থা ও দফতর স্ব স্ব উদ্যোগে শিক্ষা তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে একক সমন্বিত ব্যবস্থাপনা না থাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। পাশাপাশি এনআইডি, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, প্রাথমিক শিক্ষাতথ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ইত্যাদি তথ্য যাচাইয়ের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এছাড়া ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে আবেদন গ্রহণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সেবা প্রদানে দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হচ্ছে।

    তাছাড়া সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতায় অনুষ্ঠিত পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও ডাটাবেজ ব্যবস্থাপনা সেকেলে। বর্তামান অবস্থায় ডাটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। বর্তমানে প্রচলিত হার্ডওয়্যার দিয়ে ওইসব সফটওয়্যার পরিচালনা করার ক্ষেত্রে নানারকম কারিগরি সমস্যার সৃ্ষ্টি হচ্ছে।

    এসব সমস্যা সমাধানে ‘ইস্টাবলিশমেন্ট অব ইন্ট্রিগ্রেটেড এডুকেশনার ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বোর্ডগুলোর জন্য সমন্বিত সফটওয়্যার প্রণয়ন করে ফলাফল প্রকাশ এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ বোর্ডগুলোর অধীনেই সহজে করা যাবে। এর বাইরে এ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের কাজ অটোমেশন করা জন্য আরও বেশ কিছু সফটওয়্যার তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে হার্ডওয়্যার অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের (৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত) প্রোফাইল বা ডাটাবেইজ প্রণয়ন করার উদ্যোগ নেয়া হবে। পাশপাশি এ পর্যায়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে ইউনিক আইডেন্টিটি নম্বরসহ আইডি কার্ড দেয়া হবে।