Category: জাতীয়

  • আসন্ন সংসদ নির্বাচনেও এগিয়ে থাকছে আওয়ামী লীগ

    আসন্ন সংসদ নির্বাচনেও এগিয়ে থাকছে আওয়ামী লীগ

    বিএমআই রিসার্চ (বিজনেস মনিটর ইন্টারন্যাশনাল) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা করে থাকে। সাম্প্রতিককালে সংস্থাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে গবেষণা করে। গবেষণায় প্রাধান্য পায় দেশের আসন্ন সংসদ নির্বাচন। গত কয়েক দশক ধরে দেশের নির্বাচনে প্রধান দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে দেখা যাচ্ছে মূল নির্বাচনী প্রচারণায়।

    তাদের গবেষণায় জানা যায়, এবার নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ এগিয়ে থাকবে। জনগণ উন্নয়নকেই এগিয়ে রাখবে। আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের জন্য কাজ করেছে। দেশের জন্য কাজ করেছে। জনগণ চায় দেশের উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন। আওয়ামী লীগ জনগণের আশা পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ভর্তুকি, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে বরাদ্দের পরিমাণ আগের বছরের তুলতায় যথাক্রমে ২৭.৯, ২৪.৮ ও ৮.৯ শতাংশ বাড়িয়েছে। এটা ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ভূমিকা রাখবে বলে গবেষণা সংস্থাটি মনে করছে।

    বিএমআই সংস্থা মনে করছেন, খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে কারাবাসে যাওয়ার পর দলের অবস্থা অনেকটা ভঙ্গুর পর্যায়ে আছে। ফলে বিএনপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ অনুভব করবে। জনগণ তাদেরকে দেশের কাণ্ডারি হিসেবে মেনে না নেয়ার একটি সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। মে ও জুন মাসে খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের বড় ব্যবধানে জয়ের মধ্যেও বিএনপির সমর্থন কমার আভাস দেখছে বিএমআই রিসার্চ।

    স্বল্পমেয়াদী রাজনৈতিক সূচকে বাংলাদেশের স্কোর এবার একশতর ভেতরে ৫৮.১। নির্বাচন প্রাসঙ্গিক সহিংসতার আশংকা করছে সংস্থাটি। এমনকি, ২০১৪ সালের মতো বিএনপির নির্বাচন বর্জনেরও সম্ভাবনা দেখছে বিএমআই। এখন শুধু অপেক্ষা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের।

  • জন্মস্থানে গোলাম সারওয়ারের জানাজা অনু‌ষ্ঠিত

    জন্মস্থানে গোলাম সারওয়ারের জানাজা অনু‌ষ্ঠিত

    দেশব‌রেণ্য সাংবা‌দিক ও সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়া‌রের জানাজা অনুষ্ঠিত হ‌য়েছে।

    বুধবার (১৫ আগষ্ট) বিকেল ৩টা ৫ মি‌নি‌টে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ম‌ডেল ইউনিয়ন ইনস্টি‌টিউশন (পাইলট) প্রাঙ্গ‌ণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

    জানাজার আগে বক্তব্য রা‌খেন গোলাম সারওয়া‌রের ছোট ভাই গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা, ছে‌লে গোলাম শাহ‌রিয়ার রঞ্জু, স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস, বরিশাল ৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. টিপু সুলতান, বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব‌রিশাল জেলা পু‌লিশ সুপার সাইফুল ইসলাম, বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, পৌর মেয়র সুভাষ চন্দ্র শীল, ব‌রিশাল সি‌টি করপোরেশ‌নের (বিসিসি) নব‌নির্বা‌চিত মেয়র সের‌নিয়াবাত সা‌দিক আব্দুল্লাহ প্রমুখ।

    জানাজা শেষে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বি‌ভিন্ন রাজ‌নৈ‌তিক, সামা‌জিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের নেতারা।

    এদিকে পু‌লি‌শের এক‌টি চৌকস দল গোলাম সারওয়া‌রের মরদেহে গার্ড অব অনার দেয়।

    দুপুর ২টা ২০ মি‌নিটে গোলাম সারওয়া‌রের জন্মস্থান ব‌রিশালের বানারীপাড়া উপজেলার জুম্বা‌দি গ্রামে হেলিকপ্টারে করে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয়।

    এর আগে সোমবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গোলাম সারওয়া‌র।

    ১৯৪৩ সালে বরিশাল জেলার বানারীপাড়ায় জন্ম নেওয়া গোলাম সারওয়ারের লেখালেখির প্রতি আগ্রহ ছিল ছোটবেলা থেকেই। ১৯৬৩ সালে দৈনিক পয়গমের মাধ্যমে সাংবাদিকতায় প্রবেশ করেন তিনি।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এই খ্যাতিমান সাংবাদিক ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত দৈনিক সংবাদে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

    মুক্তিযুদ্ধের পর বানারীপাড়া ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনে কিছুদিন প্রধান শিক্ষক পদেও নিয়োজিত ছিলেন একাত্তরের এই বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭৩ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র সহ-সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। ইত্তেফাকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রধান সহ-সম্পাদক, যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদক পদে কর্মরত ছিলেন গোলাম সারওয়ার।

    ইত্তেফাকে দীর্ঘ দুই যুগ কর্মরত থাকার পর ১৯৯৯ সালে দৈনিক যুগান্তরের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন দৈনিক সমকাল।

    সাংবাদিকতার পাশাপাশি গোলাম সারওয়ার লেখালেখিতেও সুনাম অর্জন করেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে ছড়াগ্রন্থ ‘রঙিন বেলুন’ এবং প্রবন্ধ সংকলন ‘সম্পাদকের জবানবন্দি’, ‘অমিয় গরল’, ‘আমার যত কথা’ ও ‘স্বপ্ন বেঁচে থাক’ উল্লেখযোগ্য।

    সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য গোলাম সারওয়ার ২০১৪ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। ২০১৬ সালে কালচারাল জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (সিজেএফবি) আজীবন সম্মাননা ছাড়াও ২০১৭ সালে আতাউস সামাদ স্মারক ট্রাস্ট আজীবন সম্মাননা পান তিনি।

    গোলাম সারওয়ার সেন্সর বোর্ডের আপিল বিভাগের সদস্য ছিলেন। দায়িত্ব পালন করছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) চেয়ারম্যান হিসেবে। একাধিকবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

  • রাজশাহীতে বইয়ের দোকানে বাস, স্কুলছাত্রীসহ নিহত ৩

    রাজশাহীতে বইয়ের দোকানে বাস, স্কুলছাত্রীসহ নিহত ৩

    নগরীর নওদাপাড়া বাজার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস বইয়ের দোকানে ঢুকে পড়লে স্কুলছাত্রীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। বুধবার সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে উত্তেজিত জনতা রাজশাহী-নওগাঁ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

    নিহত স্কুল ছাত্রীর নাম আনিকা (১৩)। তিনি নগরীর নওদাপাড়ার ভাড়ালিপাড়া এলাকার রুস্তম আলীর মেয়ে এবং শাহমখদুম স্কুলের ছাত্রী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন আরও দুই মোটরসাইকেল আরোহী। তারা হলেন- শাহমখদুম থানার মোড় এলাকার ইসলাম আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন পিঙ্কু (২৪) এবং মোহাম্মদ আলীর ছেলে সবুজ ইসলাম (৩২)। তারা দুজনেই ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। এ ঘটনায় আহত স্কুল ছাত্রী মিতুসহ চারজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বেলা ১১ টার দিকে এ্যারো বেঙ্গল নামের একটি যাত্রীবাহী বাস রাজশাহী থেকে নওগাঁ যাচ্ছিলো। বাসটি নওদাপাড়া এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে স্থানীয় লাবিবা লাইব্রেরির মধ্যে ঢুকে যায়। এতে পাশের জাহাঙ্গীর ট্রেডার্সসহ মোট তিনটি দোকানঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই সময় মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যান। লাইব্রেরিতে থাকা দুই স্কুল ছাত্রীসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন। তাদের  উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে স্কুল ছাত্রী আনিকা মারা যান।

    স্থানীয়রা জানান, ঘাতক বাসটি হেলপার দিয়ে চালানো হচ্ছিল। তার অদক্ষতার কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনার পর পুলিশ বাসটি আটক করলেও চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।

    নগরীর শাহমখদুম থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা চলছে। চালক ও হেলপারকে আটকের চেষ্টা চলছে।

    নগর পুলিশের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ট্রাফিক) ইফতেখায়ের আলম জানান, বাসটির চালক ও হেলপার আটক হলেই জানা যাবে বাসটি কে চালাচ্ছিল। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • জন্মস্থান বানারীপাড়ায় গোলাম সারওয়ারের মরদেহ

    জন্মস্থান বানারীপাড়ায় গোলাম সারওয়ারের মরদেহ

    কিংবদন্তি সাংবাদিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মরদেহ তার জন্মস্থান সন্ধ্যা নদী তীরের গ্রাম বরিশালের বানারীপাড়ায় পৌঁছেছে। বুধবার দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে মরেদেহ নিয়ে ঢাকা থেকে যাওয়া হেলিকপ্টারটি স্থানীয় হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে গোলাম সারওয়ারের বাসভবন ‘সিতারা’য়।

    বানারীপাড়া সরকারি মডেল ইনস্টিটিউশন মাঠে গোলাম সারওয়ারের প্রথম জানাজা হবে। একাত্তরের রণাঙ্গনের যোদ্ধা গোলাম সারওয়ার মুক্তিযুদ্ধের পর কয়েক মাস এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। জানাজা শেষে তাকে আবারও ঢাকায় আনা হবে। বুধবার রাতেও মরদেহ রাখা হবে বারডেমের হিমঘরে।

    বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় গোলাম সারওয়ারের মরদেহ নিয়ে আসা হবে তার প্রিয় কর্মস্থল সমকাল কার্যালয়ে। এখানে সহকর্মীদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

    এরপর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সমকাল সম্পাদকের মরদেহ সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধার জন্য রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। শ্রদ্ধা জানানোর পর সেখান থেকে দেশবরেণ্য এই সাংবাদিকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে। দীর্ঘ কর্মময় জীবনের অনেকটা সময় তিনি কাটিয়েছেন তার এই প্রিয় প্রতিষ্ঠানে। সংবাদকর্মীরা সেখানে গোলাম সারওয়ারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। বাদ জোহর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ আসর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি।

    নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের সংক্রমণ ঘটার পর ২৯ জুলাই রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি গোলাম সারওয়ার। অবস্থার অবনতি হলে ৭৫ বছর বয়সী এই সাংবাদিককে ৩ আগস্ট সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ২৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

    মঙ্গলবার রাত ১০টা ৫০ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে আনা হয় সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারের মরদেহ। বিমানবন্দরে শোকার্ত সহকর্মী-স্বজনরা তার কফিন গ্রহণ করেন।

  • টিএসসি মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ৪৩ ফুট প্রতিকৃতি

    টিএসসি মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ৪৩ ফুট প্রতিকৃতি

    বেশ খানিকটা দূর থেকে দেখা গেল শিল্পকর্মটি। পেছনে আঁচড়ানো কাঁচা-পাকা চুল, কালো মোটা ফ্রেমের চশমা চোখে খুব চেনা একটি প্রতিকৃতি। পাশেই লেখা কবিতার চরণ, ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান/ ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।’ নিচে লেখা, হাতে আঁকা বঙ্গবন্ধুর সর্ববৃহৎ প্রতিকৃতি।
    দেড় শ শিল্পীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ৩০ জন শিল্পীর রংতুলিতে উঠে এলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষেÿসর্ববৃহৎ এ প্রতিকৃতি অঙ্কনের কর্মসূচি হাতে নেয় বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ, টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে।

    ১৫ দিন ধরে শিল্পীদের নিরলস পরিশ্রম নজরে আসে গতকাল মঙ্গলবার। আজ বুধবারও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আলোচনায় ছিল বিশাল এ কর্মযজ্ঞ। প্রতিকৃতিটির সামনে উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা গেছে। আগ্রহ নিয়ে ছবি তুলেছেন কেউ কেউ।

    মঙ্গলবার বিকেল চারটার পর থেকেই দৃশ্যমান হয়ে যায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিটি, যার উদ্বোধন করতে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সচিব ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্পী হাশেম খান, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ প্রমুখ। চারুশিল্পী সংসদের সভাপতি অধ্যাপক জামাল আহমেদের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কামাল পাশা চৌধুরী।

    তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর এক বিশাল প্রতিকৃতি দেখে খুবই ভালো লাগছে। এর সামনে দাঁড়িয়ে আমার মনে হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু আমাকে ডাকছেন।’

    তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘যে বঙ্গবন্ধু দেশকে, দেশের সংস্কৃতিকে ভালোবাসতেন, সারা জীবন সংগ্রাম করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যুর দিনে খালেদা জিয়া জন্মদিন পালন করেন। তাঁর বোঝা উচিত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু গেলে সবাই তাঁর দিকে নজর রাখতেন। তিনি শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের নেতা।’

    শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘পৃথিবীতে অনেক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মহাত্মা গান্ধী, কেনেডি, আনোয়ার সা’দাত ছাড়াও আরও অনেক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে যা ঘটেছে, তা পৃথিবীর আর কোথাও ঘটেনি; আর ঘটবে বলেও আমার মনে হয় না। বঙ্গবন্ধু সূর্যের মতোই সত্য। তিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, সংস্কৃতিকে ভালোবেসে ছিলেন, সকল মানুষকে ভালোবেসে ছিলেন; মাথা উঁচু করে চলতেও শিখিয়েছিলেন।’

    সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি বারবার প্রতিশোধ নিতে ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। চাইলেও কেউ মুছে দিতে পারবে না তাঁর নামটি। তিনি থাকবেন গানের সুরে, কবিতার ছন্দে কিংবা শিল্পীর রংতুলির আঁচড়ে।

    সন্ধ্যায় হানিফ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজন। এতে একক আবৃত্তি করেন আহ্কাম উল্লাহ্, রফিকুল ইসলাম, তামান্না সারোয়ার নীপা, মাসুজ আজিজুল বাশার ও ঝর্না সরকার। একক কণ্ঠে আরিফ রহমান গেয়ে শোনান ‘শোনো একটি মুজিবরের থেকে’, শিমুল সাহা ‘মুজি বাইয়া যাওরে’, আবিদা রহমান ‘বঙ্গবন্ধু লও সালাম’। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে বহ্নিশিখা। তাদের শিল্পীদের কণ্ঠে গীত হয় ‘আমরা সবাই বাঙালি’, ‘তোমার ও নাম মুছে ফেলবে এমন সাধ্য কার’ ও ‘সোনা সোনা লোকে বলে সোনা’।

    আয়োজনে চারুশিল্পী সংসদের সভাপতি জামাল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের শিল্পীরা নিজেদের মেধা, মনন, শ্রম ও সৃজনশীলতা দিয়ে গোটা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সৃষ্টি করে আসছে মহৎ সব শিল্পকর্ম। দেশের জন্য বয়ে আনছে মর্যাদা ও সম্মান। এ আয়োজন সে ধারাবাহিকতারই অংশ। তিনি জানান, সুবিশাল এ কর্মযজ্ঞে অংশ নিয়েছেন দেড় শতাধিক চিত্রশিল্পী। প্রতিকৃতির ছবি নির্বাচন, লে আউট তৈরি, ক্যানভাস প্রস্তুতসহ কারিগরি কাজ শুরু হয় ১লা আগস্ট থেকে। বর্তমানে টিএসসির মিলনায়তন ও সুইমিংপুল চত্বরে হয়েছে ক্যানভাসে লাইন ড্রয়িংয়ের কাজ।

    এবার জাতির জনকের ৪৩তম প্রয়াণ দিবসের নিরিখে এই উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্যানভাসের ওপর অ্যাক্রিলিক রঙে আঁকা হয়েছে মূল ছবি। কোনো তুলি বা অন্য কোনো মাধ্যম নয়, ফ্রেমের শরীরে রং লেগেছে শিল্পীদের হাতের আঁচড়ে। এরপর অনেকগুলো টুকরো ফ্রেমের ক্যানভাসে স্বতন্ত্রভাবে একেকটি অংশ এঁকেছেন ভিন্ন ভিন্ন শিল্পী। পরে টুকরোগুলোকে একত্রে জুড়ে দিয়ে তৈরি হয় মূল পূর্ণাঙ্গ প্রতিকৃতি।

    ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রদর্শিত হবে চিত্রকর্মটি।

  • কোটা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রী লুৎফুর নাহার লুমা গ্রেপ্তার

    কোটা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রী লুৎফুর নাহার লুমা গ্রেপ্তার

    কোটা সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক লুৎফুর নাহার লুমাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার ভোররাত সাড়ে চারটায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার খিদ্রচাপড়ি এলাকার তাঁর দাদার বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও বেলকুচি থানার পুলিশ।

    লুৎফুর নাহার ইডেন কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

    লুৎফুর নাহারের আত্মীয়দের সূত্রে জানা গেছে, তাঁর খোঁজে পুলিশ সিরাজগঞ্জে তাঁর দাদার বাড়িতে যায়। তিনি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।

    বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, এটা ছিল কাউন্টার টেররিজমের সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও বেলকুচি থানার যৌথ অভিযান। লুৎফুর নাহারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। রমনা থানার তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

  • বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের বাড়িটির আদলে বরিশালে প্রতিকৃতি

    বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরের বাড়িটির আদলে বরিশালে প্রতিকৃতি

    বরিশাল নগরে নাজিরের পুলের দক্ষিণ দিকে কয়েক দিন ধরে মানুষের ভিড়। এ সড়কেই রাজধানীর ধানমন্ডিতে ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর সেই ঐতিহাসিক বাড়ির আদলে তৈরি হয়েছে প্রতিকৃতি। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এটি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে উপস্থাপিত হয়েছে ১৫ আগস্টের ঘাতকদের নৃশংসতা। ব্যতিক্রমী এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গত শুক্রবার থেকে সাধারণ মানুষ সেখানে ভিড় করছেন, অবনতচিত্তে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সঙ্গে ধিক্কার জানাচ্ছেন ঘাতকদের।

    ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এবার বরিশালে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন বরিশাল আইন মহাবিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) রফিকুল ইসলাম খোকন। ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতার উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের এই প্রতিকৃতি নির্মাণ করা হয়েছে। বাড়ির সামনে লাগানো হয়েছে বেশ কিছু প্ল্যাকার্ড, যেখানে লেখা আছে ‘কাঁদো বাঙালি কাঁদো’, ‘রক্তে ভেজা সিক্ত মাটি, বিবর্ণ এই ঘাস, বুকের মাঝে রাখা আছে বঙ্গবন্ধুর লাশ’। এখান থেকেই মাইকে বেজে উঠছে বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গান এবং ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ডয়ের স্বীকৃতি পাওয়া বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ।
    কেন ৩২ নম্বরকে তুলে ধরার এই প্রয়াস? এমন প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘বাড়িটি আমাদের ইতিহাসের অংশ। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই বাড়ি, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাস সম্পর্কে হয়তো জানে না। তাদের জানানো এবং এই সত্য ইতিহাসের বিষয়ে কৌতূহলী করে তোলাই ছিল আমার লক্ষ্য।’

    নানা কারণে বাঙালি ও বাংলাদেশের অস্তিত্বের সঙ্গে একসূত্রে গেঁথে আছে ৩২ নম্বরের এই ঐতিহাসিক বাড়ি। এই বাড়ি ঘিরে জন্ম নিয়েছে বাঙালি ও বাংলার হিরণ্ময় ইতিহাস। তেমনি মিশে আছে ৫৬ হাজার বর্গমাইল বাংলাদেশের মর্মন্তুদ বেদনার কালো অধ্যায়। যে বাড়ি ছিল বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সূতিকাগার, সেই বাড়িকেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে কলঙ্কিত ইতিহাসের নিথর সাক্ষী বানিয়েছিল ঘাতকেরা।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় এই বাড়িতে। এই দিনটি স্মরণে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গত শুক্রবার ৩২ নম্বরের এই ঐতিহাসিক বাড়ির আদলটি নির্মাণ করা হয়। নগরে এ ধরনের উদ্যোগ এবারই প্রথম এবং ব্যতিক্রমী। এ জন্য গত শুক্রবার থেকেই সাধারণ মানুষ প্রতিদিন সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন।
    গোলাম সরোয়ার নামে একজন কলেজশিক্ষক বলেন, বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক বাড়ির আদলে রেপ্লিকাটি সবার দৃষ্টি আকৃষ্ট করেছে। এমন উদ্যোগ নেওয়ায় নতুন প্রজন্ম এই বাড়ির ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং ১৫ আগস্টের বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যার বিষয়টি দেখতে পারছে।

  • বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

    ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. অাবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    অাজ বুধবার সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তারা কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় বিউগলের করুণ সুর বেজে ওঠে।

    প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর অাওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে দ্বিতীয়বার শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শেখ হাসিনা।

    রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্থান ত্যাগ করার পর সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এরপর অাওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ,তাঁতী লীগ, বঙ্গবন্ধু অাইনজীবী পরিষদ, ১৪ দলসহ অাওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর অাওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মরা বনানীতে যান। সেখানে ১৫ অাগস্ট শহীদ হওয়া অন্যান্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা।

    এর অাগে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।

    উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের শোকাবহ এই কালোদিবসে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপদগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।

    পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবি ও সুকান্ত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।

    দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

    ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে এ মাসের প্রথম দিন থেকেই আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এবারও সরকারিভাবে পালিত হচ্ছে দিবসটির বিভিন্ন কর্মসূচি।

  • বঙ্গবন্ধু বাংলার, বঙ্গবন্ধু মানুষের

    বঙ্গবন্ধু বাংলার, বঙ্গবন্ধু মানুষের

    শেখ সুমন :

    ‘যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার তদন্ত করতে হবে। আর জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারপর বিবেচনা করে দেখব, আমরা অ্যাসেম্বলিতে বসতে পারব কি, পারব না। এর আগে আমি অ্যাসেম্বলিতে বসতে পারব না। জনগণ আমাকে সে অধিকার দেয় নাই।’

    এই কথা শেষ হতে না হতেই, তুমুল করতালি আর হর্ষধ্বনিতে ফেটে পড়ছিল বাঁশের লাঠির হাতে ধরে রাখা সংগ্রামী বাঙালি জনতা। চিৎকারে বিদীর্ণ করে তুলছিল গোটা রেসকোর্স ময়দান। ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক ভাষণগুলোর মধ্যে একটি ভাষণ এর অংশ এটি। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ এর ভাষণ। এই অংশটুকুর মাঝে যে শক্তি, যে অর্থ আর যে গভীরতা তা আসলে স্বাধীন বাংলার বিকাশে অপরিমেয় গুরুত্ব বহন করে। বঙ্গবন্ধুর মুখের কথাই ছিল একটি রাষ্ট্রের শুন্য থেকে বেড়ে ওঠার মন্ত্র।

    পাক শকুনের দলের হিংস্র আঁচড়ে যখন বাংলার নিরীহ জনপদ রক্তাক্ত, নিরীহ, শান্তিপ্রিয় বাঙালিকে তাঁতিয়ে দিয়েছিলেন তিনি, বলেছিলেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না।’ বঙ্গবন্ধু বাংলার বাজারে বাজারে ঘুরে মুক্তির ঘ্রাণ বিক্রি করেছেন, বিনিময়ে নিয়েছিলেন বাংলার মানুষ এর ভালবাসা। মুক্তিকামী সংগ্রামী জনতাকে তাঁতিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ মানুষ এর কাছে যাওয়ার সহজ মন্ত্রটা এই মানুষটির চেয়ে আর কার বেশি ভাল জানা ছিল?  তিনি জানতেন, এক বঙ্গবন্ধুর জন্য লক্ষ বাঙ্গালী জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তত। তাই তো তিনি বলতেন, ‘মানুষকে ভালোবাসলে মানুষও ভালোবাসে। যদি সামান্য ত্যাগ স্বীকার করেন, তবে জনসাধারণ আপনার জন্য জীবন দিতেও পারে।’

    তার শক্তি আর দুর্বলতাকে একাকার করে ফেলেছিল এই বাংলার মানুষ, সেই ভালবাসার কথাই বলতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় শক্তি আমার দেশের মানুষকে ভালবাসি, সবচেয়ে বড় দুর্বলতা আমি তাদেরকে খুব বেশি ভালবাসি।’

    ক্ষমতার লোভ, পদমর্যাদার মত ক্ষুদ্র বিষয় যাকে ছুঁয়ে যায়নি, যার একমাত্র সুখ ছিল মেহনতি জনগণ এর ভালোবাসার ঘাম বুকে জড়ানোতে তিনি বঙ্গবন্ধু। তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন এভাবে, ‘প্রধানমন্ত্রী হবার কোন ইচ্ছা আমার নেই। প্রধানমন্ত্রী আসে এবং যায়। কিন্তু, যে ভালোবাসা ও সম্মান দেশবাসী আমাকে দিয়েছেন, তা আমি সারাজীবন মনে রাখবো।’

    তিনি বলেছিলেন, ‘সাত কোটি বাঙ্গালির ভালোবাসার কাঙ্গাল আমি। আমি সব হারাতে পারি, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা হারাতে পারব না।’

    সমাজতন্ত্র আর সাম্যবাদ পূজারী বঙ্গবন্ধুর দেশে কেউ গায়ে খেটেও না খেয়ে থাকবে, তাদের পেটে লাথি পড়বে, এটা মেনে নেয়ার মত মানুষ ছিলেন না। তিনি বলেছিলেন, ‘বিশ্ব দুই শিবিরে বিভক্ত-শোষক আর শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।জীবন অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী। এই কথা মনে রাখতে হবে। আমি বা আপনারা সবাই মৃত্যুর পর সামান্য কয়েক গজ কাপড় ছাড়া সাথে আর কিছুই নিয়ে যাব না। তবে কেন আপনারা মানুষকে শোষণ করবেন, মানুষের উপর অত্যাচার করবেন? এই স্বাধীন দেশে মানুষ যখন পেট ভরে খেতে পাবে, পাবে মর্যাদাপূর্ণ জীবন; তখনই শুধু এই লাখো শহীদের আত্মা তৃপ্তি পাবে।’

    নিজের জীবনকে হাতের মুঠোয় করে ঘুরেছেন দেশের মানুষ এর অন্যায়, অবিচার, আর কষ্ট ক্লিষ্টমুক্ত একটি বাংলাদেশ এর স্বপ্ন কিনে দেয়ার জন্য। তর্জনী উঁচিয়ে ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, ‘দেশ থেকে সর্বপ্রকার অন্যায়, অবিচার ও শোষণ উচ্ছেদ করার জন্য দরকার হলে আমি আমার জীবন উৎসর্গ করব।’ বাংলার মানুষ এর মৌলিক অধিকার প্রাপ্তি যার মাথায় চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল, তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়তে মুক্তিযুদ্ধের পর পৃথিবীর নানা প্রান্তে নিজের দেশের মানুষ এর অভুক্ত মানুষ এর পেট এ দুটো দানা দেয়ার জন্য হাত পেতেছিলেন বিশ্ব নেতাদের কাছে।

    বাংলার মানুষ এর শান্তির জন্য নিজের পুরো জীবনটা উৎসর্গ করা বাংলার ইতিহাসের এই মহানায়ক বলেছিলেন, ‘আমি যদি বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে না পারি, আমি যদি দেখি বাংলার মানুষ দুঃখী, আর যদি দেখি বাংলার মানুষ পেট ভরে খায় নাই, তাহলে আমি শান্তিতে মরতে পারব না। এ স্বাধীনতা আমার ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আমার বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না খায়। এই স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়। এ স্বাধীনতা আমার পূর্ণ হবে না যদি এদেশের মানুষ যারা আমার যুবক শ্রেণী আছে তারা চাকরি না পায় বা কাজ না পায়।

    ধরণীর বুক চিরে যে মেহনতি মানুষগুলো দেশ এর মানুষ এর পেট এ অন্ন যোগায় তাদের জীবনের দুর্দশা যাকে ভাবাত তিনি হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু বলেন, আমাদের চাষীরা হল সবচেয়ে দুঃখী ও নির্যাতিত শ্রেণী এবং তাদের অবস্থার উন্নতির জন্যে আমাদের উদ্যোগের বিরাট অংশ অবশ্যই তাদের পেছনে নিয়োজিত করতে হবে।

    দেশটাকে একদম শুন্য থেকে গড়ে তোলা শুরু করেছিলেন। স্বপ্ন দেখতেন একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশের। সোচ্চার ছিলেন শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ার মূলমন্ত্র ঝুলিতে নিয়ে। তিনি রাজাকে প্রজার সেবক বলে বিশ্বাস করতেই স্বস্তি বোধ করেছিলেন। বাংলার মানুষকে বলে দিয়েছিলেন, যিনি যেখানে রয়েছেন, তিনি সেখানে আপন কর্তব্য পালন করলে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে না। সরকারী কর্মচারীদের জনগণের সাথে মিশে যেতে হবে। তারা জনগণের খাদেম, সেবক, ভাই। তারা জনগণের বাপ, জনগণের ছেলে, জনগণের সন্তান। তাদের এই মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। সমস্ত সরকারী কর্মচারীকেই আমি অনুরোধ করি, যাদের অর্থে আমাদের সংসার চলে তাদের সেবা করুন। গরীবের উপর অত্যাচার করলে আল্লাহর কাছে তার জবাব দিতে হবে।

    দেশ গড়তে শিল্প সংস্কৃতি গুরুত্ব পেয়েছিল রুচিশীল বঙ্গবন্ধু চিন্তায়। শিল্প সংস্কৃতির বিকাশ ছাড়া একটি দেশ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না সে বার্তা তিনি ঠিকই দিয়েছিলেন। শিল্পী সাহিত্যিকদের মনোযোগ দিতে বলেছিলেন অসহায় মানুষ এর দিকে যেন ওই অসহায় মানুষগুলোর প্রয়োজন যেন সমাজটাকে কাদাঁয় বলেছিলেন, দেশের সাধারণ মানুষ, যারা আজও দুঃখী, যারা আজও নিরন্তর সংগ্রাম করে বেঁচে আছে, তাদের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখকে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির উপজীব্য করার জন্য শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। তাই মাটি ও মানুষকে কেন্দ্র করে গণমানুষের সুখ, শান্তি ও স্বপ্ন এবং আশা-আকাঙ্ক্ষাকে অবলম্বন করে গড়ে উঠবে বাংলার নিজস্ব সাহিত্য-সংস্কৃতি। বাঙালি জাতীয়তাবাদ এর বীজ বপনকারী বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ না থাকলে আমাদের স্বাধীনতার অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।’

    বঙ্গবন্ধু ঝড়ের দমকা হাওয়ায় বঙ্গবন্ধু হয়ে জনতার সামনে দাঁড়াননি। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন সাধারণ ছাত্র নিরীহ চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর অধিকার আদায়ে আন্দোলন এর ঝড় তুলেছিলেন নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীবৃন্দের অধিকারের জন্য হাসতে হাসতে মাথা পেতে নিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে বড় শাস্তি বহিষ্কারাদেশ। আন্দোলন এ কীভাবে জনগণ এর শক্তিকে আন্দোলিত করে শোষক এর কড়াল গ্রাস থেকে নিজের অধিকারটুকু আদায় করে নিতে হয় সে কথা বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু। অধিকার বঙ্গবন্ধু আন্দোলন এর মন্ত্র শিখিয়েছিলেন বাংলার মানুষকে।

    তিনি বলেছিলেন, গণআন্দোলন ছাড়া, গণবিপ্লব ছাড়া বিপ্লব হয় না। জনগণকে ছাড়া, জনগণকে সংঘবদ্ধ না করে, জনগণকে আন্দোলনমুখী না করে এবং পরিস্কার আদর্শ সামনে না রেখে কোন রকম গণআন্দোলন হতে পারে না। আন্দোলন মুখ দিয়ে বললেই করা যায় না। আন্দোলনের জন্য জনমত সৃষ্টি করতে হয়। আন্দোলনের জন্য আদর্শ থাকতে হয়। আন্দোলনের জন্য নিঃস্বার্থ কর্মী হতে হয়। ত্যাগী মানুষ থাকা দরকার। আর সর্বোপরি জনগণের সংঘবদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ সমর্থন থাকা দরকার।

    স্বাধীন দেশ এর সুবিধাজনক পদে বসে দেশের ভাল-মন্দে নিজের দলের, নিজের সরকারের নেতাদের গা বাঁচিয়ে- পিঠ বাঁচিয়ে চলার কোন সুযোগ বঙ্গবন্ধু দেননি। জনগণ এর সামনে আদর্শ নেতা আর বর্জনীয় নেতার পার্থক্য সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিলেন। জনগণকে রাজনীতির অআকখ পাঠ দিয়েছিলেন। বলেছিলেন,” অযোগ্য নেতৃত্ব, নীতিহীন নেতা ও কাপুরুষ রাজনীতিবিদদের সাথে কোন দিন একসাথে হয়ে দেশের কাজে নামতে নেই। তাতে দেশসেবার চেয়ে দেশের ও জনগণের সর্বনাশই বেশি হয়। রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের চারটি জিনিসের প্রয়োজন, তা হচ্ছে: নেতৃত্ব, ম্যানিফেস্টো বা আদর্শ, নিঃস্বার্থ কর্মী এবং সংগঠন।

    স্বাধীন বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতিকে একটি দেশ, একটি মানচিত্র উপহার দিয়েই ক্ষান্ত হন নি। খেটে খাওয়া মানুষকে, বাংলার আবেগি মানুষ এর কানে স্বনির্ভর হওয়ার। একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, স্বনির্ভর বাংলাদেশকে নিজ হাতে তৈরি করার মন্ত্র জপতেন নিয়মিত। তিনি বলেছিলেন, ভিক্ষুক জাতির ইজ্জত থাকে না। বিদেশ থেকে ভিক্ষা করে এনে দেশকে গড়া যাবে না। দেশের মধ্যেই পয়সা করতে হবে।

    বাংলার উর্বর মাটিতে যেমন সোনা ফলে, ঠিক তেমনি পরগাছাও জন্মায়! একইভাবে, বাংলাদেশে কতকগুলো রাজনৈতিক পরগাছা রয়েছে, যারা বাংলার মানুষের বর্তমান দুঃখ-দূর্দশার জন্য দায়ী।

    সকল ধর্মের মানুষ এই ভূখণ্ডে একটি পরিচয় নিয়েই মিলেমিশে থাকবে, এমনতাই ভাবতেন মানুষটা। ধর্ম যে রাজনীতি আর শোষণ এর হাতিয়ার এবং অপশক্তি হয়ে উঠতে পারে, এই ভবিষ্যৎ তিনি ঠাওর করেছিলেন অনেক আগেই। তাই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এর এই স্বপ্নদ্রষ্টা বলেছিলেন, যদি আমরা বিভক্ত হয়ে যাই এবং স্বার্থের দ্বন্দ ও মতাদর্শের অনৈক্যের দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে আত্বঘাতী সংঘাতে মেতে উঠি, তাহলে যারা এদেশের মানুষের ভালো চান না ও এখানাকার সম্পদের ওপর ভাগ বসাতে চান তাদেরই সুবিধা হবে এবং বাংলাদেশের নির্যাতিত, নিপীড়িত, ভাগ্যাহত ও দুঃখী মানুষের মুক্তির দিনটি পিছিয়ে যাবে। আর সাম্প্রদায়িকতা যেন মাথাচারা দিয়ে উঠতে না পারে। ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র বাংলাদেশ। মুসলমান তার ধর্মকর্ম করবে। হিন্দু তার ধর্মকর্ম করবে। বৌদ্ধ তার ধর্মকর্ম করবে। কেউ কাউকে বাধা দিতে পারবে না।পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না।

    শহীদ এর রক্তের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশি পরিচয় বুকে ধারণ করে নির্ভীক পদক্ষেপে যে এগিয়ে যেতে বলেছিলেন, সেই বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেছিলেন, শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়।

    বাংলাদেশ এর সাফল্যের একেকটা পালক পাথর হয়ে যেন বাংলাদেশ এর অমঙ্গলকামী অপশক্তি, বাঙালি জাতির শত্রু, এদেশের মানুষ এর শত্রুর বুকে চেপে বসে এমন কামনা করে হুশিয়ার করে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। হুমকিপত্রে লিখেছিলেন, ‘বাংলার মাটি দু্র্জয় ঘাঁটি জেনে নিক দুর্বৃত্তেরা।’

    জয় বাংলা
    জয় বঙ্গবন্ধু।

  • বরিশালে একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ!

    বরিশালে একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ!

    গত ৩০ জুলাই সম্পন্ন হয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বরিশাল মহানগর আ’লীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বিপুল ভোটের ব্যাবধানে মেয়র হিসেবে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।নির্বাচিত হওয়ার পর পরই বরিশাল সিটির উন্নয়নকল্পে তার ব্যাতিক্রী চিন্তা ভাবনা ও তার বহি: প্রকাশ ইতোমধ্যেই নগরবাসীর মাঝে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সাধারন জনগনের ভাবনা, তিনি যদি তার এই চিন্তা ভাবনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন তবে বরিশাল সিটি একটি মাদক মুক্ত তিলোত্ত্বমা নগরীতে পরিনত হবে। নির্বাচিত হওয়ার পর পরই সর্বপ্রথম দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি হুশিয়ারী উচ্চারন করেছেন যাতে করে কোন ধরনের চাঁদাবাজি কিংবা সন্ত্রাসের সাথে তাদের সংস্পর্ষ না থাকে।

    ইতোমধ্যে পেট্রোল পাম্পে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে তার নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে নিয়েছেন কঠোর ব্যাবস্থা। কোন ধরনের প্রটোকল ছাড়াই নগরময় ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন রিক্সায়। দেশ ব্যাপি ঘটে যাওয়া ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে বরিশালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে অত্যন্ত সুনিপূন ভাবে বিচক্ষনতার সহিত মোকাবেলা করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনিকোঠায় ইতি মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন।

    এমনকি আন্দোলন কালে এক শিক্ষার্থীর নিজের জমানো টাকায় কেনা মোবাইল হারিয়ে গেলে সে বিষয়টিও তার নজর এড়ায়নি। তিনি নিজ বাসায় মেয়েটিকে ডেকে তাকে একটিু নতুন মোবাইল উপহার দেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দাবি পূরনের অংশ হিসেবে ইতি মধ্যেই ব্যাক্তিগত খরচে নগরীর সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্টানের সামনে রোড সাইন এবং জেব্রা ক্রোচিং নির্মানের কাজ শুরু করেছেন।

    নির্বাচনে জয়ী হবার পরে শোকের মাসের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের অভিপ্রায়ে কোন ধরনের বিজয় মিছিল কিংবা শুভেচ্ছা গ্রহন থেকে নিজেকে বিরত রেখে নগরবাসীর কাছে নিজেকে অনুন্ন উচ্চতায় স্থাপন করেছেন। নির্বাচনে জয়ী হবার পর পরই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অংশ হিসেবে ইতি মধ্যে দলীয় নেতাকর্মী ও নব নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করেছেন। জিয়ারত করতে ছুটে গেছেন মরহুম চরমোনাইর পীর সাহেবের মাজার, মির্জাগঞ্জ ইয়ার উদ্দিন খলিফার মাজার। দোয়া নিয়েছেন ছরছিনা পীর সাহেবসহ দক্ষিনাঞ্চলের আলেম বুজুর্গদের।

    প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নিজেকে বরিশালবাসীর সেবায় বিলিয়ে দিতে। ইশতেহারে নয় উন্নয়ন কাজের মাধ্যমেই নিজের যোগ্যতা প্রমান করবেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচনের পূর্বেই। আর তার নির্বাচন পরবর্তী কার্যক্রম তারই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখছেন বরিশাল নগরবাসী।