Category: জাতীয়

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় ৮৪ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

    গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে উপজেলার উপজেলার দক্ষিণ পীরপাশা ও সাতবর্গ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব-১৪ এর ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বিজয়নগর উপজেলার দক্ষিণ বীরপাশা এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে জাহিদ হাসান (৩৫) ও গাছতলা এলাকার মো. রাজ খানের ছেলে ফারুক খান (৪৫)।

    র‌্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভৈরব ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক চন্দন দেবনাথের নেতৃত্বে দক্ষিণ বীরপাশা এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় জাহিদকে গ্রেফতার এবং সাতবর্গ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুককে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃতদের তল্লাশি করে ৮৪ পিস ইয়াবাসহ মাদক বিক্রির ১৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিজয়নগর থানায় মামলা করা হয়েছে বলেও জানায় র‌্যাব।

  • বর্জ্য অপসারণে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ কর্তৃপক্ষের সাফল্য দাবি

    বর্জ্য অপসারণে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ কর্তৃপক্ষের সাফল্য দাবি

    কোরবানির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৯০ শতাংশ কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। আর উত্তরের প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা দাবি করেছেন, জনগণ আগের চেয়ে বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। তাই ‘সাফল্যের সঙ্গে’ এই বর্জ্য অপসারণের কাজ শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার পৃথক দুই সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন দুজন।

    বেলা দুইটার দিকে বর্জ্য অপসারণ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন করেন সাঈদ খোকন। নগর ভবনের সামনে এ সংবাদ সম্মেলনে সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম, কোরবানির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করব। সেই কাজ অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। ডিএসসিসি এলাকায় আজ এবং আগামীকালও কোরবানি হবে। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত বর্জ্য থাকবে, ততক্ষণ পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাঠে থাকবে। আমরা শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করে নগরবাসীকে বর্জ্যমুক্ত নগরী উপহার দেব।’

    মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার মেট্রিক টন কোরবানির বর্জ্য হবে। এরই মধ্যে ১৫ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। কাল শুক্রবারও কোরবানি হবে, তাই কাঙ্ক্ষিত ২০ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করে আমরা নগরবাসীকে শতভাগ পরিচ্ছন্ন নগরী উপহার দেব।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রমুখ।

    স্থপতি মোবাশ্বর হোসেন বলেন, ‘চেষ্টা করলে সম্ভব, এটা মেয়র সাঈদ খোকন প্রমাণ করেছেন। তিনি গভীর রাত পর্যন্ত নগর ভবনে উপস্থিত থেকে এটি নিশ্চিত করেছেন। আশা করছি অন্যান্য সমস্যা নিরসনে তিনি তৎপর হবেন।’

    কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বর্জ্য অপসারণে সিটি করপোরেশন সন্তোষজনক কাজ করেছে। এটি প্রশংসনীয়, তবে নাগরিকেরা কোরবানির জন্য নির্ধারিত স্থানে কোরবানি করেননি। আশা করছি আগামীবার তাঁরা এ বিষয়ে সচেতন হবেন।

    জনগণ আগের চেয়ে বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে
    কোরবানি পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে ‘চ্যালেঞ্জিং কাজ’ হিসেবে তুলনা করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা বলেছেন, পূর্বঘোষিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সাফল্যের সঙ্গে তাঁরা এ কাজ সমাপ্ত করতে পেরেছেন। তিনি বলেছেন, জনগণ আগের চেয়ে বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন এবং বর্জ্য ব্যাগ এবং ব্লিচিং পাউডারের ব্যবহার বেড়েছে।
    গুলশানে সিটি করপোরেশন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন জামাল মোস্তফা। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় প্রথম দিনে আনুমানিক ২ লাখ ১৫ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। ডিএনসিসির ১৮৩টি পশু জবাইর স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ ছাড়া সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন আবাসিক কমপ্লেক্সের ভেতরে উপযুক্ত স্থান হিসেবে চিহ্নিত ৩৬৬টি স্থানসহ মোট ৫৪৯টি স্থানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পশু কোরবানি দেওয়া হয়েছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানিতে জনগণের সাড়া ছিল উৎসাহব্যঞ্জক। নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

    গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ভবনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা। ছবি: ডিএনসিসির সৌজন্যে পাওয়াপ্যানেল মেয়র জামাল মোস্তফা বলেন, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার মধ্যে ৭, ২৭ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা নিজ নিজ ওয়ার্ডকে কোরবানি পশুর বর্জ্যমুক্ত ঘোষণা করেছেন। এরপর ক্রমান্বয়ে অন্যান্য ওয়ার্ডকেও বর্জ্যমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এসটিএস এবং নির্ধারিত স্থানে কন্টেইনারে বর্জ্য জমা হওয়ার পরপরই তা ল্যান্ডফিলে পরিবহনের কাজ শুরু হয়।

    জামাল মোস্তফা বলেন, পরিচ্ছন্নতা কাজে ২৮০টি বিভিন্ন ধরনের যান-যন্ত্রপাতি নিয়োজিত ছিল। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে নিজস্ব ২ হাজার ৭০০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ সর্বমোট ৯ হাজার ৫০০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিরলস পরিশ্রম করে ঢাকা শহরকে আবর্জনামুক্ত করেছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেসবাহুল ইসলাম, ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফসার উদ্দিন, তারেকুজ্জমান রাজিব, ডা. জিন্নাত আলী, দেওয়ান আব্দুল মান্নান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাকির হোসেন বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটা দূরের পর্যটক কম, আশপাশের বেশি

    ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটা দূরের পর্যটক কম, আশপাশের বেশি

    কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে এবার ঈদুল আজহার ছুটি উপলক্ষে পর্যটকদের তেমন একটা পদচারণ নেই। দূর-দূরান্তের পর্যটক-দর্শনার্থীদের তুলনায় পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজনের উপস্থিতি বেশি লক্ষ করা গেছে। এখানকার হোটেলগুলোর ২৫ শতাংশ পূর্ণ হয়েছে বলে জানা গেছে।

    ঈদের দিন বিকেল থেকে সদলবলে মানুষজনকে সৈকত এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। অনেকে আবার কুয়াকাটায় ঘুরতে আসার সুযোগে পরিবারের ছোট-বড় সবাইকে নিয়ে সাগরে গোসল করেছেন। এসব মানুষের বেশির ভাগই ছিল বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা জেলার। এক কথায় ঈদের দিন বিকেল থেকে রাত অবধি আশপাশের এলাকার মানুষের সমাগম ছিল সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটাতে।

    বরিশালের বাসিন্দা আহসান হাবীব বললেন, ঈদের সকালটা নিজ বাসাতে পরিবারের সবার সঙ্গে কাটিয়েছেন। বিকেলের দিকে পরিবারের সবাই কুয়াকাটায় চলে আসেন। ঘোরাফেরা করে আবার রাতেই বরিশাল ফিরে যাবেন।

    এবারের ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটাতে বেড়াতে আসা বেশির ভাগ লোকই ঘুরেফিরে সন্ধ্যার পর নিজ গন্তব্যে ফিরে গেছেন। এর কারণে আবাসিক সব হোটেল-মোটেল বলতে গেলে বোর্ডারশূন্য ছিল।

    ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে বেচাকেনা সেভাবে না হওয়ায় কুয়াকাটার আবাসিক হোটেলসহ পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত লোকজনের অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে শুক্র ও শনিবার উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে মনে করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

    কুয়াকাটার পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পর্যটক না থাকার কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো কুয়াকাটা সৈকতের অব্যাহত ভাঙন, কুয়াকাটায় ঘুরে বেড়ানোর জন্য অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবস্থাপনা না থাকা, কুয়াকাটা সৈকতসহ পাশের এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকা। পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়কের পাখিমারা থেকে মৎস্য বন্দর মহিপুর পর্যন্ত সাড়ে ১১ কিলোমিটার বেহাল এবং বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সরাসরি বাস সার্ভিস না থাকাটাও বড় সমস্যা সৃষ্টি করেছে।

    ঝিনুক ব্যবসায়ী মো. শাহীন আলম ও এইচ এম গাফফার বলেন, গত বছর কোরবানির ঈদের ছুটিতে ছোট দোকানদারেরা দৈনিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা, বড় দোকানদারেরা আরও বেশি বিক্রি করেছেন। সব ব্যবসায়ী গত বছর ভালো মুনাফা করেছেন। এবার পর্যটক কম হওয়ার কারণে বিক্রি কম হয়েছে। টুকটাক যা বিক্রি হয়েছে, তা বলার মতো নয়। বিক্রির অবস্থা যে এতটাই কম হবে, তা আগে অনুমান করতে পারেননি বলে এ দুই ব্যবসায়ী জানান।

    কুয়াকাটা রাখাইন মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘বছরের দুটি ঈদ এবং শীত মৌসুমে পর্যটকদের আগমনের ওপর কুয়াকাটার পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য নির্ভর করে। সেসব বিশেষ দিনেও যদি কোনো পর্যটক না আসেন, তখন ব্যবসায়ীদের হতাশ হওয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। এবারের ঈদ উপলক্ষে বেচাকেনা হয়নি বললেই চলে। এতে প্রত্যেক ব্যবসায়ী আর্থিকভাবে লোকসানে পড়বেন।’ ব্যবসায়ীদের এ নেতা জানান, আবাসিক হোটেল-মোটেল, খাবার হোটেল, ঝিনুক ব্যবসায়ীসহ পর্যটনকেন্দ্রিক সব ব্যবসায়ীরা আগামী দুদিনের ভালো বেচা-কেনার আশায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

    কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেছেন, কুয়াকাটায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৭০টির মতো আবাসিক হোটেল-মোটেল রয়েছে। এবারের ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রত্যেকটি হোটেলই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। এসব হোটেলের মাত্র ২৫ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছে। তা-ও মাত্র শুক্র-শনিবারের জন্য। গত বছর এ সময় প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছিল বলে তিনি জানান।
    মোতালেব শরীফ বলেন, বরিশাল-পটুয়াখালী থেকে সরাসরি কুয়াকাটায় যাতায়াতের বাস সার্ভিস চালু না থাকায় পর্যটকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তা ছাড়া বরিশাল-পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো কলাপাড়ায় এসে যাত্রীর জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। এ কারণে কুয়াকাটায় কেউ আসতে চান না। পর্যটকদের স্বার্থে সরাসরি বাস সার্ভিস চালু করার দাবি জানান তিনি।

    কুয়াকাটার একাধিক আবাসিক হোটেলের ব্যবস্থাপক বলেছেন, তিন-চার মাস ধরেই কুয়াকাটায় হোটেল ব্যবসায় মন্দা চলছে, যার কারণে প্রতিটি হোটেলের মালিকপক্ষকে অন্য খাত থেকে টাকা জোগাড় করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের আগে বেতন দিতে হয়েছে। এবার পর্যটক কম থাকার কারণ চিহ্নিত করে হোটেল ব্যবস্থাপকেরা আরও বলেন, গত বছর আবহাওয়া ভালো ছিল। সে সময় ছুটিও বেশি ছিল। এবার মাত্র দুদিন বন্ধ। রোববার থেকে আবার সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে যাবে। এ ছাড়া এবার প্রবল বর্ষণ, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকার কারণেও কুয়াকাটায় দর্শনার্থী-পর্যটক কম হয়েছে।

    পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, পাখিমারা থেকে মহিপুর পর্যন্ত সাড়ে ১১ কিলোমিটার সড়কের কাজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে। এর কারণে ওই সড়কটুকুর কোনো উন্নয়ন করা যাচ্ছে না। আশা করছি অতি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

    কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র আবদুল বারেক মোল্লার কাছে কুয়াকাটার সার্বিক সমস্যার কথা জানতে চাইলে তিনি  বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য, পানি বিশুদ্ধকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ ২০০ গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য প্রায় ৩৮ কোটি টাকা এবং কুয়াকাটা পৌরসভার অভ্যন্তরীণ পাকা সড়ক নির্মাণের জন্য ৪৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী মাসের মধ্যে দরপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু করা যাবে। এ ছাড়া শহর উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত আরও ১৭ কোটি বরাদ্দ রয়েছে।

  • ‘ভারসাম্যের রাজনীতি স্বেচ্ছাচারমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করতে পারে’

    ‘ভারসাম্যের রাজনীতি স্বেচ্ছাচারমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করতে পারে’

    বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেছেন, একমাত্র ভারসাম্যের রাজনীতিই স্বেচ্ছাচারমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করতে পারে।

    তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে দেশে স্বেচ্ছাচারী সরকার প্রতিষ্ঠা হয়, ইতিহাস আমাদের সেই শিক্ষায় দেয়।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোডের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা বিনিময় ও আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ইতিহাস বারবার আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় একক দলীয় ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা বাড়িয়ে দেয়, রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রীদের মধ্যে দুর্নীতির প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।

    ফলে সরকার দেশের স্বার্থের বদলে দলীয় স্বার্থকে প্রধান্য দেয়। এ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় ভারসাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা, ফলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে এবং একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে স্বেচ্ছাচারের মাধ্যমে একটি দলের স্বার্থ উদ্ধারের প্রবণতা বন্ধ হবে।

    তিনি বলেন, দেশের মানুষ এবং রাজনৈতিক নেতাদের এটাও বুঝতে হবে, ভবিষ্যতে ভারসাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করে দেশকে একটি গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।

    সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, র‌্যাব, পুলিশসহ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অনেক কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের অপবাদ দেয়া হয়। কিন্তু সে সবের জন্য মূলত রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যরাই দায়ী। কারণ তারা ওই সমস্ত বাহিনীকে অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ করতে বাধ্য করেন। আসলে এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য হুকুমদাতারাই অপরাধের মূল হোতা।

    অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, কেন্দ্রীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার মো. ইউসুফ, মাহবুব আলী, সাহিদুর রহমান, শাহ আহম্মেদ বাদল, মাহফুজুর রহমান, শাহ আলম, বিএম নিজাম, ওবায়দুর রহমান মৃধা, আসাদুজ্জামান বাচ্চু প্রমুখ।

  • জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বিএনপি!

    জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বিএনপি!

    নানামুখী চাপের পরিপ্রেক্ষিতে ২০ দলীয় জোটের দ্বিতীয় প্রধান শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামিকে নিয়ে নতুন করে ভাবছে জোটের নেতৃত্বদানকারী দল বিএনপি। সিলেটসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোতে জামায়াতের রহস্যময় ভূমিকার কারণে দীর্ঘ দিনের এই সঙ্গীর প্রতি আকষর্ণ কমলেও ভোটের রাজনীতির কারণে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে এ নিয়ে নেতিবাচক ঘোষণা দিতে চাইছে না বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

    একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেয়া জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর থেকেই দলের ভেতরে-বাইরে এবং দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়ে বিএনপি। জবাবে দলটি বলছিল এই মিত্রতা আদর্শিক নয় শুধুই নির্বাচনী জোট। তবে সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে জামায়াত প্রার্থীর ভরাডুবি এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাদের জোটে রাখার যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন প্রবল আকার ধারণ করেছে।

    সম্প্রতি বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করে। সেখানে জামায়াত ইস্যুও গুরুত্ব পায়। বিএনপিতে জামায়াত বিরোধীরা মনে করছেন- ভোটের মাঠে এখন আর জামায়াতের জনপ্রিয়তা নেই, সময় এসেছে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের।

    বিএনপিকে নিয়ে সরকার বিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে ইতোমধ্যেই দলটির প্রতি জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের শর্ত দিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

    তবে বিএনপি সূত্র জানায়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জাতীয় ঐক্য গঠনের পাশাপাশি নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের ভোট ব্যাংকের বিষয়টি বিবেচনা করছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলটির নেতারা মনে করছেন, নিবন্ধনহীনতার কারণে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ না থাকায় বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনে জামায়াতকে নিয়ে তেমন সমস্যা হবে না। সার্বিক পরিস্থিতিতে জামায়াতকে নিয়ে কৌশলগত অবস্থানে থাকাটাই সুবিধাজনক মনে করছেন বিএনপি নেতারা।

    পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের রাজনীতিতে ইসলামপন্থী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি অতীতে সব সময় সুবিধাবাদী অবস্থানে রয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী এই দলটি অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে কৌশলে ব্যবহার করে দেশের রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান করে নেয়।

    তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সঙ্গে সমঝোতা করে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নেয় জামায়াত। পরবর্তী সময়ে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও জামায়াত অংশ নেয়। সেই নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন না করায় জামায়াতের সহযোগিতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করে।

    সরকার গঠনের কিছুদিন পর জামায়াতের তৎকালীন আমীর অধ্যাপক গোলাম আজম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মূলা দেন। বিএনপি সেই ফর্মুলার বিরোধিতা করলেও আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল তা সমর্থন করে। বিএনপি জামায়াতের সহযোগিতায় সরকার গঠন করলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মূলা না মানায় বিএনপির সঙ্গ ত্যাগ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেয় জামায়াত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ে জয়ী হলেও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামির ভরাডুবি হয়। মাত্র ৩টি আসন পেয়ে পরবর্তীতে বিএনপির সঙ্গে আবারও জোট বাধে দলটি। সেই থেকে এখন পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবেই দৃশ্যমান।

    জামায়াতের সঙ্গ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান বলেন, ‘জোটের রাজনীতি, জোটের নির্বাচন, জোটের আন্দোলন, জোটের আসন বন্টণ এই সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আমার মনে হয় নতুন করে চিন্তা করবার সময় এসেছে। নতুন করে পথ চলবার সময় এসেছে।’

    তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সকল রাজনৈতিক দল আলাদা করে করলে নির্বাচনের পর ওই সরকার গঠনে সমমনাদের নিয়ে জোট হতে পারে।’

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘জামায়াত নিজেদের যেভাবে মাপে, যত বড় করে মাপে, তত বড় নয়, আমাদের জন্য সুবিধা হলো পরবর্তী পর্যায়ে তাদের অযৌক্তিক আবদার নাকচ করার ক্ষেত্রে আমরা আমাদের সাহসী ভূমিকা রাখতে পারবো।’

    সাধারণ মানুষ নিজের মতো করে ভোট দিতে পারলে বিএনপি একাই যথেষ্ট মনে বলে দাবি করেন তিনি।

    তবে জামায়াতের সঙ্গ নিয়ে এখনই নেতিবাচক ঘোষণা দিলে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

    তিনি বলেন, ‘এটা দিলে তো নানা রকমের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। আমরা তো এটা এখন বলতে চাই না। কারণ আমরা এখনও একটা জোটের মধ্যে আছি। আমরা তো আলাদা চিন্তা করতে পারছি না এখনও।’

  • মর্যাদায় প্রত্যাবাসনের আকুতি নিয়ে কাঁদলেন রোহিঙ্গারা

    মর্যাদায় প্রত্যাবাসনের আকুতি নিয়ে কাঁদলেন রোহিঙ্গারা

    গত বছরের কোরবানির সময়টা প্রাণ বাঁচাতে কেটেছে বন-জঙ্গল, পাহাড়, ধানক্ষেত ও নদী সাঁতরিয়ে। কোনোমতে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে এসে জড়ো হয়ে করা হয় আশ্রয়ের আকুতি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দারিদ্রতার মাঝেও লাখো বিপদাপন্নকে টেনে নেন বুকে। এর মাঝে কেটে গেছে একটি বছর।

    বুধবার এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পালিত হলো মুসলমানদের দ্বিতীয় প্রধান ধর্মীয় উৎসব কোরবানির ঈদ। নিজ দেশের বাইরে প্রথমবারের মতো কোরবানির ঈদ কেটেছে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত ৩০ ক্যাম্পের প্রায় আট লাখ নতুন আসা রোহিঙ্গার। তাদের সাথে পুরনো সোয়া তিন লাখ রোহিঙ্গা মিলে ১১ লাখ ১৬ হাজার ৪১৭ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছে।

    নিজ দেশে মধ্যযুগীয় বর্বরতার শিকার রোহিঙ্গারা বুধবার শরণার্থী শিবিরের এক হাজার ২৬৫ মসজিদ ও ৫৬০টি মক্তবে ঈদের নামাজ আদায়ের পর চোখের জলে হারানো স্বজনদের স্মরণ করেছেন। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঈদের নামাজ আদায়ের পর কান্নায় ভেঙে পড়েন ইমাম ও মুসল্লিরা। মোনাজাতে অংশ নেয়া লাখো রোহিঙ্গা মর্যাদার সাথে নিরাপদ প্রত্যাবাসন কামনা করে স্রষ্টার দরবারে ফরিয়াদ করেন।

    গত বছর এই দিনে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপরে দেশটির সেনাবাহিনী বর্বর নির্যাতন চালায়। ফলে প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা নিজেদের আবাসস্থল ছেড়ে পালাতে থাকেন। এভাবে পালাতে গিয়ে অনেকে হারিয়েছেন বাবা-মা ও কাছের স্বজন। অনেক নারী হয়েছেন ধর্ষণের শিকার। সর্বস্ব হারানো এসব রোহিঙ্গাদের ঠাঁই হয়েছে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ি অঞ্চলে।

    উখিয়ার মধুরছরা ক্যাম্পের ডাবল ‘ও’ ব্লকের মাঝি সালামত খান বলেন, মিয়ানমারে আমাদের গোয়ালভরা গরু ছিল। প্রতি বছর আমরা একটা গরু কোরবানি দিয়ে প্রতিবেশীদের সাথে শেয়ার করতাম। কিন্তু এবার নিজের বাপ-দাদার ভিটাতেই অবস্থান নেই। ভিনদেশে প্রাণটা নিয়ে কোনোমতে বেঁচে আছি। মিয়ানমারের আগ্রাসনে বাবা-মাসহ অনেককে হারিয়েছি, আজ তাদের বেশি মনে পড়ছে।

    পাশের আরেক ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মাঝি রহমত উল্লাহ বলেন, গত বছর কোরবানির ঈদের নামাজ আদায় করতে পারিনি। আজকের এই দিনে আমরা ছিলাম রাখাইনের একটি পাহাড়ি জঙ্গলে। এবার বাংলাদেশে অন্তত ভালো করে ঈদের নামাজটি আদায় করতে পেরেছি।

    উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি লাল মোহাম্মদ বলেন, আরাকানে আমরা পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশত্যাগ করলেও স্বজনদের কবর ও বাপ-দাদার ভিটামাটির জন্য মন কান্দে। মর্যাদার সাথে নিরাপদ প্রত্যাবসন হলে আমরা ফিরে যেতে চাই। এটিই ঈদ জামাত শেষে মোনাজাতে আল্লাহর কাছে বলেছি। এখানে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকলেও আশ্রিত জীবন আনন্দহীন।

    উখিয়ার রাজাপালং ইউপির কুতুপালং এলাকার সদস্য বখতিয়ার আহমদের ছেলে হেলাল উদ্দিন বলেন, ঈদের নামাজ শেষে ইমাম যখন আরাকানে মাটির নিচে ফেলে আসা স্বজনদের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া শুরু করেন তখন মসজিদে উপস্থিত সববয়সী রোহিঙ্গা চোখের জলে বুক ভাসান। মোনাজাতে বিপদাপন্ন সময়ে আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও বাংলাদেশের সমৃদ্ধি এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসন কামনা করা হয়।

    r

    তিনি আরও জানান, বয়োবৃদ্ধরা মনোকষ্ট নিয়ে থাকলেও ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য বিগত বারের মতো আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয়। নাগরদোলা, রকমারি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বৈশাখী মেলার আদলে আয়োজন করে স্থানীয় কিছু মানুষ। নতুন জামা পরে সেখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আনন্দে মত্ত ছিল শিশু-কিশোররা।

    উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ১৬ হাজার ৪১৭ জন। এদের সিংহভাগ উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে অবস্থান করছে। নতুন আসা প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গার দেশের বাইরে এটাই প্রথম ঈদ। স্বাভাবিভাবে এ দিনে কোরবানির পশুর মাংস না পেলে সবার খারাপ লাগে। আমরা চেষ্টা করেছিলাম রোহিঙ্গা সব পরিবারে অন্তত দুই কেজি করে মাংস দেব। এনজিও’রা কথা দিয়েও শেষতক তা রাখেনি। ফলে আমরা সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারিনি।

    কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, কক্সবাজারের ৩০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থিত এক হাজার ২০টি মসজিদ ও ৫৪০টি নুরানি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মক্তক) ও টেকনাফের নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঁচটি, অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২৪৫টি মসজিদ ও ২০টি নুরানি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (মক্তব) রয়েছে। এসব মসজিদ ও নুরানি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঈদের জামাত আদায় করেছেন শরণার্থী রোহিঙ্গারা।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংস ঘটনায় কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয়ের জন্য পালিয়ে আসে প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা। এর আগে বাংলাদেশে অবস্থান করছিল আরও প্রায় সোয়া তিন লাখ রোহিঙ্গা। এরাসহ এখন ১১ লাখ ১৬ হাজার ৪১৭ জন রোহিঙ্গা আশ্রিত রয়েছে বাংলাদেশে। যুগের পর যুগ বংশ পরম্পরায় তারা রাখাইনে বাস করলেও মিয়ানমার তাদের নাগরিক বলে স্বীকার করে না।

    উগ্র বৌদ্ধবাদকে ব্যবহার করে সেখানকার সেনাবাহিনী ইতিহাসের বাঁকেবাঁকে সাম্প্রদায়িক অবিশ্বাসের বীজ বপন করেছে, ছড়িয়েছে বিদ্বেষ। ১৯৮২ সালে প্রণীত নাগরিকত্ব আইনে পরিচয়হীনতায় ভোগে রোহিঙ্গারা। এরপর কখনও মলিন হয়ে যাওয়া কোনো নিবন্ধনপত্র, কখনও নীলচে রঙের রশিদ, কখনও ভোটার স্বীকৃতির হোয়াইট কার্ড, কখনও আবার ‘ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড’ কিংবা এনভিসি নামের রং-বেরংয়ের পরিচয়পত্র দেয়া হয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে। ধাপে ধাপে মিয়ে গেছে তাদের পরিচয়। এভাবে তারা রূপান্তরিত হয়েছে রাষ্ট্রহীন নাগরিকে। তাই মর্যাদার সাথে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের আশায় রয়েছে এসব নিপীড়িত মানুষ।

  • কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণে রাস্তায় নেমেছে ছাত্রলীগ

    কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণে রাস্তায় নেমেছে ছাত্রলীগ

    কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণে মাঠে নেমেছে কক্সবাজারের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে পৌরশহরের বিমানবন্দর সড়কের পাশে পড়ে থাকা বর্জ্য অপসারণ দিয়ে এ যাত্রা শুরু করেছেন তারা।

    বর্জ্য অপসারণে নেতৃত্ব দেয়া কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মইন উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশব্যাপী চলছে ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর কোরবানির ঈদ উদযাপন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে পাড়া-মহল্লায় দেয়া হয়েছে অসংখ্য পশু কোরবানি। গ্রামে খোলা জায়গায় পশু জবাই হলেও শহরের সংকীর্ণ এলাকায় পশু জবাই হয়েছে রাস্তার ধারে, পথের উপর। কক্সবাজার পৌর শহরেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। কিন্তু অনেকে জবাই করা পশুর নিথর দেহটা উঠানে কিংবা বাসাবাড়ির বারান্দায় নিয়ে মাংস কাটাকাটি ও ভাগ বসানো নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু বর্জ্যগুলো তৎক্ষণাত অপসারণ হয়নি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তাপ বাড়ায় দুর্গন্ধ ছড়ানো শুরু করে বর্জ্যগুলো।

    তিনি আরও জানান, পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মীরা সিডিউলে উপসড়কগুলোতে কবে আসবেন তার সঠিক সময় নির্ধারণ নেই। তাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দলবদ্ধ হয়ে বর্জ্য অপসারণে মাঠে নেমেছি।

    মইন জানান, পশু জবাই করা স্থানগুলো পরিষ্কার করে সেখানে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দুর্গন্ধ মুক্ত করার চেষ্টা করছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বিমানবন্দর সড়ক হিসেবে এটি ভিআইপি এলাকা। ঈদ উপলক্ষে বেড়াতে আসা পর্যটকরা বিমান থেকে নেমে এ সড়ক দিয়েই হোটেল ও গেস্ট হাউসে যাচ্ছে। বর্জ্যের দুর্গন্ধে পর্যটক এবং স্থানীয়রা নাকে রুমাল দিয়ে চলছে দেখে আমরা তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে মাঠে নেমেছি।

    Student-lig-1

    দুপুরে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা নিজ উদ্যোগে বাসাবাড়ি থেকে পাইপ টেনে পানি দিয়ে রাস্তায় জমে থাকা রক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছেন। পশুর নাড়ি-ভুড়ি-হাড়-বর্জ্য একটা নির্দিষ্ট স্থানে জমা করে পরে বালতি ভরে সেগুলো দূরবর্তী ডাস্টবিনে রেখে আসা হয়। মেয়রের এলাকায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বর্জ্য অপসারণে নেমেছে খবর পেয়ে অন্যান্য ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরাও কাজে নেমেপড়ে বলে জানায় স্থানীয়রা।

    কক্সবাজার পৌর মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, পর্যটন নগরীর বাসিন্দা হিসেবে নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখতে পৌরসভার পাশাপাশি নিজেদেরও যে দায়িত্ব রয়েছে সেটাই তারা প্রমাণ করেছে। কক্সবাজার পৌর ও ২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বর্জ্য অপসারণে নেমে যে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে তা আগামীতে পরিচ্ছন্ন দেশ গঠনে তাদের অনুপ্রাণিত করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    পৌর মেয়র জানান, কক্সবাজার পৌর এলাকার ১২টি ওয়ার্ডের ৬১ স্পটে এবার কোরবানির পশু জবাই করার স্থান নির্ধারণ করা হয়। এরপরও কিছু কিছু এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে পশু জবাই হয়েছে। সেসব এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ক্রমে বর্জ্য অপসারণ করছে।

    উল্লেখ্য, কক্সবাজারের ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজের পূর্বে সদর আসনের এমপি সাইমুম সরোয়ার কমল, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

  • গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়

    গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়

    গণভবনে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা উপলক্ষে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

    বুধবার সকাল ১০টার পরে এ শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু হয়েছে।

    শুভেচ্ছা জানাতে আসেন মন্ত্রী-এমপি, বিচারপতি ও কূটনীতিক, আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী পরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী-সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষ।

  • জিয়ার সমাধিতে বিএনপি নেতাদের শ্রদ্ধা, দোয়া

    জিয়ার সমাধিতে বিএনপি নেতাদের শ্রদ্ধা, দোয়া

    বিএনপির নেতারা পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বিএনপির সিনিয়র নেতারা বুধবার বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর শের-ই বাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে যান। এসময় তারা শ্রদ্ধা জানানোর পর সেখানে ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মোনাজাত করেন।

    বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বরকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, আজিজুল বারী হেলাল, কাজী আবুল বাসারসহ দলের অসংখ্য নেতাকর্মী।

    পরে বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা দুর্নীতির মামলায় কারাগারে বন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্দেশ্যে যান।

  • বায়তুল মোকাররমে রাজধানীর প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত

    বায়তুল মোকাররমে রাজধানীর প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত

    রাজধানীর প্রথম ঈদের জামাত বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ  বুধবার (২২ আগস্ট) সকাল ৭টায় এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

    জামাতের মোনাজাতে দেশ-জাতির মঙ্গল কামনায় এবং দেশের সব সমস্যা দূর করতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পাঠানো প্রেসবিজ্ঞপ্তি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    সূত্র জানায়, দেশের প্রধান ঈদ জামাত সকাল ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে। তবে, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে একই জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।

    ঈদুল ফিতরের নামাজের পর দেশ জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় ‘আল্লাহুম্মা আমিন’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বায়তুল মোকাররম এলাকা। গুনাহ মাফের জন্য দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন মুসল্লিরা।

    জাতীয় মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন মুসল্লিরা। বড়দের পাশাপাশি ছোট শিশু-কিশোররাও শরিক হয় এ জামাতে। প্রথম জামাতে বায়তুল মোকাররম ও জাতীয় ঈদগাহের ভেতরে ও বাইরে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের অত্যন্ত আনন্দ ও উৎফুল্লের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেখা যায়।

    এবারও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম জামাতের পর দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায়, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায়, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় এবং পঞ্চম ও শেষ জামাত সকাল পৌঁনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।

    এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডের মসজিদ, মাঠসহ বিভিন্ন স্থানে ৪০৯টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে ঈদের একটি জামাত।