Category: জাতীয়

  • ঈদের আগেই মুক্ত হবেন খালেদা : আশা আইনজীবীদের

    ঈদের আগেই মুক্ত হবেন খালেদা : আশা আইনজীবীদের

    সব ঠিক থাকলে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে আটক বেগম খালেদা জিয়া ঈদের আগেই মুক্ত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনজীবীরা।

    এ মামলায় খালেদার জামিন ৮ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলায় আদালত জামিন পাচ্ছেন। সর্বশেষ কুমিল্লার মামলায় সোমবার তাকে ছয় মাসের জামিন দেয়া হয়। এখন নড়াইলের মামলায় জামিন পেলেই খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে- জানান আইনজীবীরা।

    কুমিল্লায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা নাশকতার মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দেয়ার পর সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে আইনজীবীরা এমন মন্তব্য

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল ও জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। জামিন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ চারবার বাড়ান হাইকোর্ট। এছাড়া নিম্ন আদালতের দণ্ডের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিল ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।

    খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, “আজ যে মামলায় জামিন হয়েছে সেটি হচ্ছে স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টের। অর্থাৎ কুমিল্লার নাশকতার মামলায় আমরা হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেছিলাম। সেই আবেদন শুনানিতে ‘এবাউট টু রিজেকশন’ একটি আদেশ দিলেন। বেইল দিলেন না। এবং বললেন, কুমিল্লার আদালতে আবেদন করার জন্য। সেই আদেশ অনুযায়ী আমরা কুমিল্লার কোর্টে আবেদন করেছিলাম। ওই কোর্টে আমাদের আবেদন খারিজ করা হয়। এরপর আমরা ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করি, সঙ্গে সঙ্গে জামিনও চাওয়া হয়। দুদিন শুনানি হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত আজ তার আদেশে বললেন, আপিল গ্রহণ করা হলো এবং ছয় মাসের জামিন দেয়া হলো।”

    মুক্তি পেতে আর কয়টি মামলায় জামিন পেতে হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে জয়নুল আবেদীন জানান, আজ কুমিল্লার আরও একটি হত্যা মামলার আদেশের জন্য রয়েছে। বেলা ২টার দিকে আদেশ দেয়া হবে। আর একটি মামলা ‘৫৬১’ আছে। এছাড়া নড়াইলের একটি মামলা রয়েছে।

    ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া গুলশানের অফিসে আটকা ছিলেন। ওই সময় কুমিল্লার এক সড়কে ঘটনাটি ঘটে। ক্রিমিনাল জুড়িডিকশনে এজাহার সংশোধনের সুযোগ নেই। এ মামলায় এজাহার সংশোধন করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার জামিন তো নয়ই তার কোনো জামিন আবেদনই নিচ্ছিল না আদালত।

    তিনি বলেন, নাশকতার এ মামলায় যত আসামি আছে সবার জামিন হয়েছে। কিন্তু একমাত্র আসামি বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হয়নি। কিন্তু তার জামিন প্রথমেই হওয়া উচিত ছিল।

    অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার মাহবুবু উদ্দিন খোকন- দুজনেই বলেন, কুমিল্লার দুই মামলায় জামিন হওয়ার পর নড়াইলের আরও একটি মামলা রয়েছে। নড়াইলের মামলাটি জামিন হলে, আমরা আশা করি বেগম খালেদা জিয়া তাড়াতাড়ি কারাগার থেকে মুক্ত হবেন।

    খোকন আরও বলেন, সব ঠিক থাকলে বেগম খালেদা জিয়াকে ঈদের আগেই বের করার চেষ্টা করবো, ইনশা-আল্লাহ।

    এর আগে কুমিল্লায় বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দেয়া হয়।

    গত ২৩ জুলাই হাইকোর্ট এক আদেশে বিচারিক আদালতে খালেদা জিয়ার করা জামিনের আবেদন ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়া আপিল করে জামিন চান। খালেদা জিয়ার আবেদনের ওপর শুনানি শেষে সোমবার ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট।

    আদালতে এদিন খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ।

    পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বশির উল্লাহ বলেন, কুমিল্লায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্ট ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন। কুমিল্লায় দায়ের হওয়া আরেক মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে রুলের ওপর শুনানি হাইকোর্টের একই বেঞ্চে আজ বেলা ২টায় ধার্য রয়েছে।

    আইনজীবীরা বলেছে, ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপে আট যাত্রীর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলায় হয়। একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা, অপরটি হত্যা মামলা।

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় দেন বিচারিক আদালত। এরপর থেকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়।

  • আন্দোলনে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তিনজন গ্রেফতার

    আন্দোলনে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তিনজন গ্রেফতার

    নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে উসকানি দেয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার দিনগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন বিভাগের সদস্যরা তাদের গ্রেফতার করেছে।

    গ্রেফতার তিনজন হলেন- মাহবুবুর রহমান আরমান (৩০), আলমগীর হোসেইন (২৭) ও সাইদুল ইসলাম (৩১)। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, মেমরিকার্ডসহ ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ড ও গ্রুপসমুহ জব্দ করা হয়েছে।

    পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম  এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, গ্রেফতার মাহবুবুর রহমান আরমান নিজেকে সাইবার অ্যানালিস্ট বলে পরিচয় দিয়েছে। সে সাইবার মাহবুব নামেও পরিচিত। সাইবার সেবা দানের কথা বলে Fight For Survivors Right : FSR নামে একটি গ্রুপ খোলে মাহবুব। এছাড়াও সাইদুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেন নিজেদের ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে সহিংসতার পক্ষে গুজব রটিয়েছে।

    নাজমুল ইসলাম আরও জানান, গ্রেফতার তিনজন বিভিন্ন সময় ফেসবুক লাইভ ও পোস্টসহ নানা কন্টেন্ট শেয়ার করে আন্দোলনকে সহিংস করতে ভূমিকা রেখেছেন বলে তদন্তে জানা গেছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসল উদ্দেশ্য জানা যাবে।

    শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের উসকানিদাতা হিসেবে ২৮টি ফেসবুক ও টুইটার আইডি শনাক্ত করেছে পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ। তাদের বিরুদ্ধে গত ২ আগস্ট রাজধানীর রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ।

    গ্রেফতার তিনজনকে রমনা থানার সাইবার আইনে দায়ের করা ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাতদিনের রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানা গেছে।

  • এত দুর্বল চিত্তের লোক হলে চলবেন কী করে, মন্ত্রীদের প্রধানমন্ত্রী

    এত দুর্বল চিত্তের লোক হলে চলবেন কী করে, মন্ত্রীদের প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, এত দুর্বল চিত্তের লোক হলে চলবেন কী করে? অান্দোলন কীভাবে করতে হয় তা কি ছাত্ররা দেখাতে পেরেছে? ছাত্রদের অান্দোলনে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। ভয়ের কিছু নেই। এরা কতদূর যেতে পারে সেটাও অামার জানা ছিল। এত দুর্বল চিত্তের লোক অামার সঙ্গে থাকার দরকার নেই, না থাকাই ভালো।

    সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ছাত্ররা আন্দোলনে দেশ স্থবির করে দিয়েছিল মন্ত্রীদের এ সংক্রান্ত কথার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    প্রকৃত আন্দোলন মানে রোদে পুড়বে, বৃষ্টিতে ভিজবে, এমন তো কিছুই হয়নি- উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় ফেসবুক সমস্যা করেছে মন্ত্রীদের এমন মন্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসলেই ফেসবুক একটা সমস্যাই। অনেক খবরাখবর হয়তো নিতে পারেনি।

    সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-তে সর্বোচ্চ ৫ বছরের পরিবর্তে ৭ বছরের সাজা রাখার প্রস্তাব করেছিলেন মন্ত্রীরা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওরা (আইন মন্ত্রণালয়) যখন একটা সুপারিশ করে পাঠিয়েছে তখন ৫ বছরই থাকুক। অনেক কিছু ঘেঁটেই তারা আইনটি করেছে।’

    নতুন আইনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কথা বলা নেই। এ ক্ষেত্রে ‘মোবাইল কোর্ট’ নতুন আইনে থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে প্রাণহানির শাস্তি ৫ বছর জেল

    বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে প্রাণহানির শাস্তি ৫ বছর জেল

    বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনার মাধ্যমে গুরুতর আহত করলে বা প্রাণহানি ঘটানো হলে চালকের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

    সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে আইনটির খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদনের কথা জানান।

    তিনি জানান, বেপরোয়া গাড়ি চালানোর মাধ্যমে গুরুতর আহত বা প্রাণহানি ঘটালে আগে শাস্তি ছিল ৭ বছরের জেল। পরে সেটা কমিয়ে ৩ বছর করা হয়। এখন সেটা বাড়িয়ে ৫ বছর করা হয়েছে।

    শফিউল আলম বলেন, ‘খসড়া আইনানুযায়ী, বেপরোয়া গাড়ি চালানোর মাধ্যমে গুরুতর আহত বা প্রাণহানি ঘটানোর শাস্তি ৫ বছরের জেল বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড। তবে জরিমানার সীমা উল্লেখ করা হয়নি। জরিমানার পরিমাণ সীমাহীন।’

    তবে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর মধ্যমে মৃত্যু হলে তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় এটা ইচ্ছাকৃত ছিল তবে দণ্ডবিধি ৩০২ ধারা অনুযায়ী তার বিচার হবে। এটার শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড। সেই বিধান খসড়া আইনে রয়েছে বলে জানান সড়ক পরিবহন সচিব নজরুল ইসলাম।

    এছাড়া খসড়া সড়ক পরিবহন আইনে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি ও তার পরিবারকে সহায়তা দিতে একটি তহবিল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

    রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানী জুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল আইনটি। দেড় বছর আগে খসড়াটি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা।

  • নেপথ্যচারীদের শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে

    নেপথ্যচারীদের শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে

    শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রভাহিত করতে পেছনে থেকে যারা কলকাঠি নাড়াচ্ছে তাদেরকে শক্তহাতে মোকাবিলা করা হবে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। একইসঙ্গে তিনি জানান, আন্দোলনের বিষয়ে অপপ্রচার ঠেকাতে পুলিশের পক্ষ থেকে ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি না থাকায় বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হয়নি। এসময় কমিটি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে ঘরে ফেরাতে শিক্ষকদের মোটিভেশন করার সুপারিশ করা হয়।

    সংসদ ভবনে আজ অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বৈঠক সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন, মো. মোজাম্মেল হোসেন, মো. ফরিদুল হক খান, আবুল কালাম আজাদ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ফখরুল ইমাম ও কামরুন নাহার চৌধুরী অংশ নেন।

    কমিটি সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে সরকার দলীয় এমপি আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, আমরা টানা ১০ বছর ক্ষমতায় আছি। শেষ সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কা ছিল। এছাড়া বাস-শ্রমিক ও ড্রাইভারদের ওপর জনগণের ক্ষোভ রয়েছে। কাজেই এ ধরনের ঘটনায় গোয়েন্দা তথ্য থাকা উচিত ছিল।

    এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, সরকার চাইলে এ আন্দোলন দমন করা কোন বিষয় নয়। এর থেকে বড় আন্দোলন মোকাবিলার অভিজ্ঞতা আমাদের রয়েছে। তবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে বিষয়টি ধৈর্য সহকারে হ্যান্ডল করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। এসময় সংসদীয় কমিটির সদস্যরা সরকারের এ অবস্থানকে স্বাগত জানায়।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কমিটিকে জানান, আন্দোলনকে দীর্ঘ করা ও ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবার মেয়েদের ব্যবহার করা হয়েছে। বিকৃত বক্তব্য সম্বলিত ব্যানার ওদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসবের নেপথ্যে জামায়াত-শিবিরের ইন্দনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদের ফোনালাপ ও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে।

    বৈঠকের কমিটির সভাপতি টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার শুরুতে একটা ইমোশন ছিল। কিন্তু এখন তা অন্যখাতে প্রবাহিত করার দূরভিসন্ধি করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে একটি গোষ্ঠী জড়িত হয়ে পড়েছে তা এখন প্রমাণিত বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কমিটিকে জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আন্দোলনের পেছনে থেকে যারা কলকাঠি নাড়াচ্ছে, তাদেরকে শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে।’

    সংসদের গণসংযোগ বিভাগ জানায়, ১৫টি বৈদেশিক মিশনের পাসপোর্ট ভিসা উইং থেকে প্রতিমাসে আর্থিক হিসাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি। এছাড়া র‌্যাবের শূণ্য পদে দ্রুত জনবল পদায়নের এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জনবল নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।
    বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, সুরা সেবা বিভাগের সচিব, মহা-পুলিশ পরিদর্শক, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক, র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • সাদিকের বিশ মিনিটের কথায়  আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেশিক্ষার্থীরা

    সাদিকের বিশ মিনিটের কথায় আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেশিক্ষার্থীরা

    শেখ সুমন:

    বরিশালসহ সারাদেশ ব্যাপি নিরাপদ সড়কের দাবীতে উত্তাল ঠিক সে মূহুর্তে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবী পুরন করার পাশাপাশি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ফুটওভার ব্রিজ, প্রতিটি স্কুল-কলেজ সহ সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে সড়কগুলোতে স্প্রিডব্রেকার নির্মান করে দেয়ার অঙ্গিকার করেন বরিশালের নব নির্বাচিত সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    তার এমন আশ্বাসের প্রেক্ষিতে নিরাপদ সড়ক দাবী করে আন্দোলন করে আসা বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা পঞ্চম দিনে এসে তারা বরিশালের সকল কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

    গত চারদিনে বরিশালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশ প্রশাসন ধৈর্য্যসহকারে পরিস্তিতি একদিকে নিরবভাবে মোকাবেলা করে অন্যযদিকে আন্দোলন নস্যাত করার জন্য শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করেও প্রশাসন কোন রকম সফলতার আলোর মুখ দেখাতে সক্ষম হয়নি।

    বরিশাল সিটি নির্বাচনের নব নির্বাচিত মেয়র নগরীর তরুন সমাজের অহংকার যুবরত্ন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ্ মাত্র বিশ মিনিটের কথায় গত পাঁচদিনে নগরীতে চলতে থাকা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সড়ক থেকে উঠিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজ ও ঘড় মুখি করলেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ।

    আজ রোববার পঞ্চম দিনে সকাল নয়টার পর থেকে বরিশাল-ঢাকা- ও কুয়াকাটা সড়কের বরিশাল নগরীর চৌমাথা নামকস্থানে নিরাপদ সড়কের দাবীতে বরিশালের বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী কলেজ,স্কুল সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের অব্যাহত আন্দোলন কর্মসূচিত অংশ নিতে এখানে এসে জড়ো হয়।

    আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সড়কের দু’পাশে বসে ও দাড়িয়ে বিভিন্ন প্লেকার্ড বুকে ও হাতে নিয়ে নিরাপদ সড়কের দাবী জানিয়ে শ্লোগান দিতে থাকে।
    অন্যদিকে আন্দোলনকারী একদল শিক্ষার্থী সড়কে জ্যাম সৃষ্টি না হয় তার দিকে খেয়াল রেখে দুর-দুরান্ত থেকে আসা বড় বড় যান-বাহনগুলো তারাই পারাপার করে দেয়ার ব্যবস্থা করে দেয়।

    দুপুর সাড়ে বারটার দিকে মেয়র রাস্তায় দাড়িয়ে বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের সকল সমস্যার কথা শুনেন।এসময় মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বিভিন্ন সংবাদ কর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে শপথ গ্রহন ও দায়ীত্বভার গ্রহন করার সময় টুকু প্রার্থনা করে।

    এছাড়া তিনি শিক্ষার্থীদের যান-বাহন ও লঞ্চে চলাচল করার জন্য অর্ধেক ভাড়া নির্ধারন করে দেবার আশ্বাস দেন।

  • রাজপথে বোনদের জন্য ভাইদের মানবপ্রাচীর

    রাজপথে বোনদের জন্য ভাইদের মানবপ্রাচীর

    গণপরিবহন শূন্য ঢাকার রাজপথে সার বেঁধে হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলছে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী কিশোরের দল। দুই পাশে ছেলেরা হাত ধরে রয়েছে, মাঝখানে নিরাপদে নিশ্চিন্তে চলছে স্কুল-কলেজের মেয়েরা। আজ শনিবার রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় এই অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়।

    গত ৬দিনের মতো আজ শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর রাজপথে নেমেছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা যান চলাচলে বাধা দিচ্ছে না। শুধু কোনো গাড়ি পেলে লাইসেন্স চেক করছে। ঠিকঠাক থাকলে ছেড়ে দিচ্ছে, ঠিকঠাক না থাকলে আটকে রাখছে। এই আন্দোলনের মাঝে রাজধানীর মিরপুর এবং জিগাতলায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।

    সংঘর্ষের পরপরই অনলাইনে একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, আন্দোলনকারী চারজন স্কুল ছাত্রীকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। যদিও এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তারপরেও আন্দোলনের সহযোদ্ধা বোনদের নিরাপদে রাখতে রাজপথে মানবপ্রাচীর তৈরি করে ফেলে ছেলেরা। জিজ্ঞেস করলে বলছিল, ‘আমরা ওদের নিরাপদে নিয়ে যাচ্ছি।’

  • সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় রবিবার থেকে সারাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহ

    সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় রবিবার থেকে সারাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহ

    আগামীকাল রবিবার (৫ আগস্ট) থেকে সারাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহ ঘোষণা করেছে পুলিশ। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এই সপ্তাহে ফিটনেসবিহীন গাড়ি থেকে শুরু করে লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি পর্যন্ত- যে কোনোভাবে আইন লঙ্ঘন হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

    শনিবার (৪ আগস্ট ২০১৮) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এ ঘোষণা দেন। নিরাপদ সড়কসহ ৯ দফা দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনসহ সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন ডিএমপি কমিশনার।

    তিনি বলেন, আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যে উদ্দেশ্যে আন্দোলনে নেমেছেন তা অত্যন্ত মহৎ। কিন্তু এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার জন্য, ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য একটি গোষ্ঠী উসকানিমূলক তৎপরতা চালাচ্ছে। এটা চলতে দেওয়া হবে না। শিক্ষার্থীরা এভাবে রাস্তায় থাকার কারণে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে, অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে, এই অবস্থাও চলতে দেওয়া যায় না।

    শিক্ষার্থীরা আইন প্রয়োগে আমাদের নৈতিক ভিত্তি দিয়েছে, আমরা এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে এখন ট্রাফিক রুলের কঠোর প্রয়োগে উদ্যোগ নিয়েছি। এরই অংশ হিসেবে আগামীকাল (রবিবার) থেকে সারাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করবে পুলিশ। এখন আমরা শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাই।

    গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের পাল্লাপাল্লিতে চাপায় পড়ে দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সেদিন থেকেই শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন স্পটে নিরাপদ সড়কের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে। ‘নিরাপত্তাহীনতা’র অজুহাতে অলিখিত ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছে পরিবহন শ্রমিকরা, এতে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ।

    শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য মহৎ। সরকারের পক্ষ থেকে এ আন্দোলনের দাবিতে সাড়া দেওয়া হয়েছে। পুলিশও নৈতিকভাবে এতে সমর্থন করে। কিন্তু গোয়েন্দা প্রতিবেদন, সোশ্যাল মিডিয়া পর্যবেক্ষণে প্রাপ্ত রিপোর্টসহ বিভিন্ন তৎপরতা ঘেঁটে আমরা বুঝতে পেরেছি, এই আন্দোলনে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য, রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার জন্য উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে একটি গোষ্ঠী। এতে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এমনকি আমাদের হাতে যে তথ্য রয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় স্কুল ড্রেস তৈরিরও হিড়িক পড়ে গেছে।

    আন্দোলনে পুলিশ ও রাষ্ট্রকে নিয়ে নোংরা ভাষায় প্ল্যাকার্ড তৈরির অভিযোগ তুলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, যে নোংরা ভাষায় পুলিশ ও রাষ্ট্র সম্পর্কে প্ল্যাকার্ড বানানো হয়েছে, সেটা আমরা বলতে পারছি না। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে কারা পুলিশকে হেয় করতে চাইছে সেটা আমাদের কাছে স্পষ্ট। ২০১২-১৩ সালের পুরনো ছবি এখন শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়ন বলে চালানো হচ্ছে।

    পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা হয়েছে উল্লেখ করে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, পুলিশে আমার ৩১ জীবনের চাকরি জীবনে মিরপুর পুলিশ লাইনে বা রাজারবাগ পুলিশ লাইনে হামলা হবে, ধারণাও করতে পারিনি।

    শিক্ষার্থীরা রাস্তায় থাকার কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের লাইসেন্স চেকিংয়ের তৎপরতার কারণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। কর্মস্থলে যাতায়াতে মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। হজযাত্রীদের ফ্লাইট মিস হচ্ছে, অ্যাম্বুলেন্স যেতে পারছে না।

    শিক্ষার্থীরা পুলিশের প্রতিপক্ষ নয় জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, তারা আমাদের পরিপূরক। তাদের আন্দোলনের ফলে ভবিষ্যতে ট্রাফিক আইনকে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সাহস পেয়েছি আমরা। তাদের দাঁড় করানো নৈতিক ভিত্তির ওপর আমরা সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছি। সারাদেশে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করবো আমরা। এই সময়ে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লাইসেন্স ছাড়া চালক, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলসহ কোনোভাবে ট্রাফিক আইনের ব্যত্যয় হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। আইন না মানার যে চেষ্টা, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবো।

    ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সমস্যা দীর্ঘদিনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহুবিধ কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সমস্যা রয়েছে, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা চেষ্টা করছি এ আইন বাস্তবায়নের। অনেক সময় পেশাজীবীদের স্টিকার লাগিয়ে আইন লঙ্ঘন করা হয়। আরও একটি সমস্যা আমাদের ভৌত অবকাঠামো না থাকা। বাস টার্মিনাল নেই, যেসব আছে তা ডিপোতে পরিণত হয়েছে।

    ‘আইন না মানার সংস্কৃতি সবচেয়ে বড় সমস্যা। একটি এলাকায় গেলে আমরা খুব ট্রাফিক রুল মানি, কিন্তু সেখান থেকে বেরোলে আর মানি না। সবার কাছে আহ্বান জানাই সব জায়গায় ট্রাফিক রুল মেনে চলার। বিশৃঙ্খলা নয়, শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ আনতে হবে। আইন মানতে হবে, যারা আইন মানে না, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে আইনের প্রয়োগ করতে হবে।’

    জনগণের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশ সারারাত জেগে থাকে বলে আপনারা নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারেন। সবার কর্মঘণ্টা আছে, পুলিশের কর্মঘণ্টা নেই ১৬-১৭ ঘণ্টাও আমাদের ডিউটি করতে হয়। তাপদাহ, শৈত্য প্রবাহ, ঝড়-বৃষ্টি, সবসময় পুলিশ আন্তরিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে শৃঙ্খলা ধরে রাখার জন্য। আমাদের ত্যাগ খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

  • ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা

    ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ অফিসে ছাত্রের পোশাকে হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে দলের ১৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    শনিবার বিকেলে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্বৃত্তরা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হেলমেট পরে হামলা চালিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন।
    আওয়ামী লীগ শিক্ষার্থীদের বর্তমান দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এর আগে জিগাতলা ও ধানমন্ডিতে শিক্ষার্থী ও আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দফায় দফায় হামলা করে দুর্বৃত্তরা।

    গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র‍্যাডিসন হোটেলের উল্টোদিকে) বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজিব নিহত হয়।

    এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ ও নৌমন্ত্রীর অনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদসহ ৯ দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে গত সাত দিন ধরে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে আসছে।

  • শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে আমির খসরুর কথোপকথন ভাইরাল (অডিওসহ)

    শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে আমির খসরুর কথোপকথন ভাইরাল (অডিওসহ)

    নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের রাজপথে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। আর এই বিক্ষোভের মাঝেই এক ব্যক্তির সাথে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কথোপকথনের অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপটি জন্ম দিয়েছে ফোনালাপ বিতর্কের।

    অডিও ক্লিপে নওমি নামের সেই ব্যক্তিকে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সক্রিয় হতে অনুরোধ করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পাঠকদের জন্য অডিও কথপোকথন লিখিত আকারে দেওয়া হলো :

    আমির খসরু: হ্যালো

    নওমি: হ্যালো, আঙ্কেল, নওমি বলছিলাম

    আমির খসরু: হ্যাঁ, নওমি ভালো আছো?

    নওমি: আপনি ভালো আছেন?

    আমির খসরু: হ্যাঁ, ভালো আছি। তোমরা কি একটু ইনভল্ড টিনভল্ড হচ্ছো এগুলোতে নাকি?

    নওমি: জ্বি, জ্বি। আঙ্কেল, আমি তো এই যে কুমিল্লায় আসলাম।

    আমির খসরু: কুমিল্লায় নামায় দাও না। তোমাদের মানুষজন সব নামায় দেও না।

    নওমি: হ্যাঁ.. হ্যাঁ.. হ্যাঁ… হাইওয়েতে নামছিল।

    আমির খসরু: মানুষজন নামায় দাও, হাইওয়েতে-টাইওয়েতে অসুবিধা নাই। ঢাকায় মানুষজন নামায় দাও ভালো করে। বুজছো? তোমাদের তো আর চেনে না।

    নওমি: না… না… না…

    আমির খসরু: তোমাদের বন্ধু-বান্ধব নিয়ে তোমরা সব নেমে পড়ো না ঢাকায়…

    নওমি: জ্বি…জ্বি..জ্বি…, কনটাক্ট করতেছি সবার সঙ্গে

    আমির খসরু: কন্টাক্ট করো না। কখন আর কন্টাক্ট করবা? এখনই তো টাইম। আর কবে? এখন নামতে না পারলে তো আবার ডাউন করে যাবে। তুমরা নাইমা যাও না একটু বন্ধু-বান্ধব নিয়ে…

    নওমি: হ্যাঁ..হ্যাঁ..হাইওয়েতে নামছিল তো, ঢাকা-চিটাগাংয়ে। এখানে এসপি সাহেব ঝাড়ি দিছে সবাইকে।  সবাইকে উঠায়ে দিছে…

    আমির খসরু: হাইওয়ে টাইওয়ে অসুবিধা নাই। ঢাকায় নামায় দাও। ঢাকা হলে সারাদেশে এমনেই হবে। তোমরা ঢাকায় এসে…এখানে তো কুমিল্লা দরকার নাই আমার। তোমরা ঢাকায় এসে তোমাদের বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ২০০-৫০০ জন ওদের সাথে জয়েন করে যাও।

    নওমি: জ্বি আঙ্কেল। এমনে সবাই সংগঠিত হচ্ছে।

    আমির খসরু: সংহতি দিয়ে কী হবে। তোমরা যারা আছো নাইমা যাও না।

    নওমি: আঙ্কেল একটা ছোট্ট বিষয়।

    আমির খসরু: ফেসবুক টেসবুকে পোস্টিং-টোস্টিং করো সিরিয়াসলি।

    নওমি: হ্যাঁ, এইটা করতেছি। এটাতে অ্যকটিভ আছে সবাই। আমি আসতেছি।

    আমির খসরু: হ্যাঁ করো। কুমিল্লা বসে থেকে লাভ কী! এখানে এসে জয়েন করো।

    অডিও ক্লিপ…