Category: জাতীয়

  • উদ্বোধন হলো ইসির অ্যাপ,ঘরে বসেই জমা দেওয়া যাবে মনোনয়নপত্র

    উদ্বোধন হলো ইসির অ্যাপ,ঘরে বসেই জমা দেওয়া যাবে মনোনয়নপত্র

    রবিবার (১২ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে এ অ্যাপ উদ্বোধন করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান, রাশেদা সুলতানা, মো. আলমগীর, মো. আনিছুর রহমান ও ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম এসময় উপস্থিত ছিলেন।

    ইসি আহসান হাবিব বলেন, আমাদের কমিশন প্রযুক্তি নির্ভর। অতীতে ঢাক–ঢোল বাজিয়ে, হাতি–ঘোড়া নিয়ে মনোনয়ন সাবমিমশন করা হতো। ফলে আচরণবিধি ভঙ্গ হতো। এছাড়া নমিনেশন সাবমিশনে বাধা দেওয়া হতো। তবে এ অ্যাপসে সেই সমস্যা থাকবে না। ঘরে বসেই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ভোটার যোগ্য প্রার্থী বেছে নিতে পারবেন। আমরা ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছি, এটা স্বচ্ছতার প্রতীক। এ অ্যাপ ফেয়ার এবং ট্রান্সপারেন্ট। আশা করি অ্যাপসের সুফল ভোগ করবো। এ উদ্যোগ বিদেশেও প্রসংশিত হবে।

    এ অ্যাপসের মাধ্যমে বিভাগওয়ারী আসনগুলোর তথ্য, যেমন–মোট ভোটার, মোট আসন, আসনের প্রার্থী, প্রার্থীদের বিস্তারিত তথ্য (হলফনামা, আয়কর সম্পর্কিত তথ্য, নির্বাচনী ব্যয় ও ব্যক্তিগত সম্পদের বিবরণী) জানতে পারবেন।

    এছাড়া, অ্যাপসটির মাধ্যমে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর তথ্য জানা যাবে এবং সমসাময়িক তথ্যাবলী ‘নোটিশ’ আকারে প্রদর্শিত হবে। অ্যাপসটির সাহায্যে প্রতি ২ ঘণ্টা অন্তর চলমান ভোটিং কার্যক্রমের periodical তথ্য (casted vote) জানা যাবে বলে জানান এ নির্বাচন কমিশনার।

    আহসান হাবিব খান জানান, নির্বাচনী ফলাফলের সার্বিক অবস্থাসহ

    ‘ফলাফল বিশ্লেষণ’ নামক অপশনের মাধ্যমে একজন ভোটার পূর্বতন নির্বাচন এবং বর্তমান নির্বাচনের ফলাফলের গ্রাফিক্যাল বর্ণনাও পাবেন।

    প্রযুক্তিনির্ভর ভোট ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের কর্মপরিকল্পনায় ছিল উল্লেখ করে এ নির্বাচন কমিশনার জানান, এ ধারাবাহিকতায় মনোনয়নপত্র অনলাইনে দাখিল ও মোবাইল অ্যাপস এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। নির্বাচন ব্যবস্থাপনাও এর মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ যুগে যুক্ত হল। তফসিল ঘোষণার পর তা সবার জন্য উন্মুক্ত হবে।

    মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার সময় শোডাউন, মিছিল করে আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রবণতা যেমন রোধ হবে, এছাড়াও নেমিনেশন জমাদানে বাধা দেওয়া অথবা প্রত্যাহারের জন্য চাপ (বিভিন্ন সময় অভিযোগ আসে) করা সম্ভব হবে না। সংসদ নির্বাচন ছাড়াও স্থানীয় সরকারেরর যে কোনো নির্বাচনে মনোনয়ন জমাসহ নির্বাচনী সেবা সহজতর হবে। এ অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে নির্বাচনী হলফনামা, ভোটকেন্দ্র সংক্রান্ত তথ্য, নির্বাচনী তথ্য মিলবে।

    নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় যে ধরনের পরিবর্তন আনবে

    ভোটার নম্বর, ভোটকেন্দ্রের নাম ও ভৌগলিক অবস্থান সম্পর্কে পূর্ব ধারণা নিশ্চিতভাবে ভোটার সময়ের অপচয়, বিড়ম্বনা এবং কিছুক্ষেত্রে, ‘হয়রানি’ হতে রক্ষা করবে।
    ভোটার নম্বর জানা থাকার কারণে ভোটার তালিকায় সিরিয়াল নম্বর সহজে নির্ণয় হবে, এ জন্য কোনো রাজনৈতিক দলের ক্যাম্পেইনের শরণাপন্ন হতে হবে না।
    “ নির্বাচনে প্রার্থীদের তথ্য সম্পর্কে সহজে অবহিত হওয়া, তথ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ, সমসাময়িক ফলাফলের পাশাপাশি নির্বাচনী ফলাফল জ্ঞাত হওয়ার মতো বিষয়গুলো ভোটারদের উদ্দীপ্ত করবে– বলে আশা করা যায়।

    অ্যাপসের মাধ্যমে একজন ভোটার প্রার্থীদের তথ্যাবলী বিশ্লেষণ করে পছন্দসই প্রার্থী বেছে নিতে পারেন।
    ভোটার তার নির্বাচনী আসনে মোট ভোটার সংখ্যা জানতে পারবেন, যাতে করে চূড়ান্ত ফলাফলে ভোটসংখ্যা সংক্রান্ত কোনো বিভ্রান্তির অবকাশ থাকবে না।
    “তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত তথ্যের অবাধ প্রবাহ থাকার কারণে প্রার্থীরাও তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন হবেন। সর্বোপরি ভোটার, প্রার্থী, জনগণ এ তিনের আস্থা/বিশ্বাস অর্জনে একধাপ এগিয়ে থেকে নির্বাচন ব্যবস্থা স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক হওয়ার দিকে অগ্রগামী হবে। আর সার্বিক বিষয়াবলী নির্বাচন ব্যবস্থাপনাকে সহজ, trustworthy করবে” এ অ্যাপ।

  • দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ সার কারখানা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ সার কারখানা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার নরসিংদীতে নবনির্মিত ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা (জিপিইউএফএফ) উদ্বোধন করেছেন। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এ ধরনের বৃহত্তম কারখানা। এটি সার আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করবে।

    পলাশ উপজেলায় জিপিইউএফএফ প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে বার্ষিক ৯ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন সার উৎপাদনের ক্ষমতাসম্পন্ন পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক এ কারখানার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিন দশকের পুরোনো কারখানাটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নতুন করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন এবং প্রকল্পের শুরু থেকেই বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল প্রস্তুত করা হয়েছে।

    পরিবহনসুবিধার লক্ষ্যে ঘোড়াশাল রেলস্টেশনের সঙ্গে কারখানার সংযোগের জন্য একটি রেললাইন নির্মাণের কাজ চলছে। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী সার কারখানা পরিদর্শন করেন।

    প্রধানমন্ত্রী স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম এবং জিপিইউএফএফ উদ্বোধনের দিনটিকে চিহ্নিত করে একটি বিশেষ সিলমোহরও প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

    এ সময় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আশরাফ খান ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব জাকিয়া সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

    কারখানার কার্যক্রম শুরু হলে সার আমদানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। কারণ দেশের মোট বার্ষিক ২৬ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় কারখানাগুলো একসঙ্গে ১৯ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন সার উৎপাদন করবে।

    স্থানীয় কারখানাগুলো বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ টন উৎপাদন করছে এবং বাকি বার্ষিক চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) জানায়, কারখানাটি ৩০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। ১১০ একর জমিতে ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কারখানাটির দৈনিক সার উৎপাদন হবে ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন।

    মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকার ৪ হাজার ৫৮০ দশমিক ২১ কোটি টাকা দিয়েছে এবং ১০ দশমিক ৯২০ কোটি টাকা জাইকা, এইচএসবিসি ও ব্যাংক অব টোকিও মিত্সুবিশি ইউএফজে লিমিটেড থেকে ব্যবসায়িক ঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে পেয়েছে।

    কারখানার দুটি বাষ্পীয় গ্যাস জেনারেটর ৩২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম এবং প্ল্যান্টটি চালানোর জন্য ২৮ মেগাওয়াট প্রয়োজন।

    এটি বাংলাদেশের প্রথম সার কারখানা, যেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্লু গ্যাস থেকে পরিবেশদূষণকারী আহরণ করা হবে এবং ক্যাপচার করা কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে ইউরিয়া সারের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে (প্রায় ১০ শতাংশ)। এটি দেশে ‘অত্যাধুনিক, শক্তি সাশ্রয়ী ও সবুজ’ সার কারখানা, যা ইউরিয়া সারের আমদানি কমিয়ে দেবে এবং কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে।

  • আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপির অন্তর্জ্বালা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে:কাদের

    আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপির অন্তর্জ্বালা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে:কাদের

    সরকার পতনের আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপির অন্তর্জ্বালা কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তথাকথিত আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েও দলটি তার চিরাচরিত নির্লজ্জ মিথ্যাচারের ধারা অব্যাহত রেখেছে।

    বুধবার এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

    মঙ্গলবার অজ্ঞাতস্থান থেকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিবজী সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, সরকার তাদের নেতা-কর্মীদের গুম করছে। তার আরও অভিযোগ, তাদেরে কর্মসূচিতে জনগনের সাড়া দেখে সরকার ভীত হয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীনরা নিজেরা নাশকতা করে বিএনপির ওপর দায় চাপাচ্ছে।

    এদিকে, বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি তথাকথিত রাজনৈতিক কর্মসূচি ও অবরোধের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তি বিএনপির গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন করার শক্তি ও সামর্থ্য নেই বলেই তারা বরাবরের মতো অগ্নিসন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের ন্যায় অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্দয় আগুনের লেলিহান শিখায় পোড়াচ্ছে সারা দেশ; মেতে উঠেছে নির্বিচার ভাঙচুর ও সহিংসতায়।

    কাদের বলেন, অগ্নিসন্ত্রাস, সহিংসতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সাধন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করা, মানুষ হত্যা, যানবাহনে অগ্নিসংযোগের মতো ধ্বংসাত্মক অপরাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। তথাকথিত সরকার পতনের আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায় তাদের অন্তরের জ্বালা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যর্থতার সেই আগুনে তারা বাংলার জনগণের আগামীর সম্ভবনাকে পুড়িয়ে ছাই করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তাদের অগ্নিসন্ত্রাস থেকে জীবন্ত ও ঘুমন্ত মানুষ, নারী ও শিশু কেউই রেহাই পাচ্ছে না। গণতন্ত্রের নামে বিএনপি লাশের রাজনীতি করছে। এ দেশের রাজনীতিতে মানুষ পুড়িয়ে মারার যে পৈশাচিকতার প্রচলন বিএনপি করেছে, তা সভ্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিপন্থী।

    তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব হলো জনগণের নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জনগণের নিরাপত্তা সুরক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

    বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, সন্ত্রাসী সংগঠন বিএনপি নেতারা ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের নামে লাগাতার মিথ্যা, অপপ্রচার ও গুজব সৃষ্টি করছে এবং তাদের নেতাকর্মীদের সন্ত্রাস সৃষ্টির নির্দেশনা দিচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপি নেতারা তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও গুমের মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করছেন। বিএনপির সন্ত্রাসী ক্যাডারবাহিনীর যারা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর, সন্ত্রাস ও নাশকতা চালাচ্ছে, জনগণের জানমালের উপর হামলা করছে তারা নিজেরাই গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে থাকছে; অথচ বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বরাবরের মতো গুমের মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী রাজনৈতিক নেতাকর্মী বিবেচনায় নয় কেবলমাত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদেরই গ্রেপ্তার করছে। কোনো সন্ত্রাসী আত্মগোপনে থাকলে, তার দায় সরকারের উপর চাপানো যায় না। আওয়ামী লীগ কখনো গুম, খুন, অগ্নিসন্ত্রাস ও বিরোধী দল দমনের রাজনীতি করে না। গুম, খুন, সন্ত্রাসের রাজনীতি হলো বিএনপির মজ্জাগত আদর্শ।

    বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান এদেশে গুম ও খুনের প্রচলন করেছিলেন দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তৎকালীন ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ নেতা মাহফুজ বাবুকে গুমের মধ্য দিয়ে এই ধারার সূচনা করে বিএনপি। সামরিক স্বৈরশাসক জিয়া ১৯৭৯ সালে বঙ্গবন্ধুর সময়ের দেড় শতাধিক আওয়ামী লীগ দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্যদেকে জেলে বন্দি রেখে নির্বাচন আয়োজন করেছিলো এবং আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের প্রার্থিতা বাতিল করে প্রহসনের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করেছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০১-০৬ বিএনপি-জামাত অশুভ জোট আমলে আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিলো এবং অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থী অপারেশন ক্লিনহার্টের মাধ্যমে শত শত মানুষকে হত্যা করেছিলো।

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন,তার দল একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর। গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তির যে কোনো ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত এবং সন্ত্রাস, নাশকতা, নৈরাজ্য ও গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

  • পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ

    পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ

    পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সাড়ে ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান।

    মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তিনি এ কথা জানান।

    এর আগে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি নিয়ে গঠিত বোর্ডের ষষ্ঠ সভায় এই মজুরি নির্ধারণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান।

    এর আগে বেলা সাড়ে ১২টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মজুরি বোর্ডের সভাকক্ষে এ সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএর সভাপতি সেলিম ওসমান ও বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি ছিলেন সিরাজুল ইসলাম রনি। অন্যদিকে মালিকদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি ছিলেন সিদ্দিকুর রহমান।

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সচিব রাইসা আফরোজ, নিরপেক্ষ সদস্য অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন এবং শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্য ও জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান আহম্মদ৷

    সভায় শ্রমিক প্রতিনিধি সিরাজুল ইসলাম রনি শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ২০ হাজার ৩৯৩ টাকার প্রস্তাব করেন। অপরদিকে মজুরি বোর্ডে পোশাক কারখানার মালিকদের প্রতিনিধি সিদ্দিকুর রহমান ন্যূনতম মজুরি ১০ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেন। উভয়পক্ষ প্রস্তাবনায় তাদের যৌক্তিকতা তুলে ধরে।

    শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ডের সুপারিশ অনুয়ায়ী মালিক ও শ্রমিকপক্ষ মিলে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজকের যে ঘোষণা সেটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই করা হচ্ছে। ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ন্যূনতম মজুরি আট হাজার থেকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়েছে।

    ১৯৮৪ সালে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরপর ১৯৯৪ সালে মজুরি ৫৭০ থেকে বাড়িয়ে ৯৩০ টাকা করা হয়। ২০০৬ সালে ন্যূনতম মজুরি এক হাজার ৬৬২ টাকা করা হয়। তারপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এসে ২০১০ সালে নূন্যতম মজুরি তিন হাজার টাকা করে দেয়। ২০১৩ সালে করে পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা। সবশেষ ২০১৮ সালে তা আট হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

    এদিকে সম্প্রতি ন্যূনতম মজুরি ১০ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করার খবর ছড়িয়ে পড়লে গত ২৩ অক্টোবর থেকে গাজীপুরে আন্দোলন শুরু করেন পোশাকশ্রমিকরা। পরে তা আশুলিয়া, সাভার ও ঢাকার মিরপুরে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় শ্রমিকরা ভাঙচুর শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্যায়ক্রমে পাঁচ শতাধিক কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলন করছে গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্পরক্ষা জাতীয় মঞ্চ, গার্মেন্টস ওয়াকার্স অ্যালায়েন্স, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য মঞ্চ, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন৷

    তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য বাস্তবসম্মত নিম্নতম মজুরি কাঠামো প্রস্তাবনার জন্য শ্রমিকরা কিছু দাবি জানিয়ে আসছেন।

    দাবিগুলো হলো-
    ১. গার্মেন্টস শ্রমিকদের মাসিক মূল মজুরি সর্বমোট মাসিক মজুরির ন্যূনতম ৬১ শতাংশ করা।
    ২. গার্মেন্টস শ্রমিকদের পদ ও শ্রেণিবিন্যাসে গ্রেডিং সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে পূর্বের ৭টি গ্রেডের পরিবর্তে ৫টি গ্রেডে ভাগ করা।
    ৩. মূল মজুরির ওপর ১০ শতাংশ হারে বাৎসরিক ইনক্রিমেন্ট দিতে হবে।
    ৪. পরপর দুটি গ্রেডের মধ্যে ন্যূনতম মজুরির পার্থক্য ১০ শতাংশ করতে হবে।
    ৫. নতুন শ্রমিকদের জন্য তিন মাস শিক্ষানবিশকাল হিসেবে বিবেচিত হবে।
    ৬. সোয়েটার কারখানা বা পিস রেটে কর্মরত শ্রমিকদের প্রোডাকশন না থাকলে বিগত তিন মাসের মজুরির গড়/৩নং গ্রেডের বেসিক মজুরি পরিশোধ, কাজের আগে রেটের ফয়সালা করা।
    ৭. যে কোনো সম্প্রদায়ের শ্রমিক ও কর্মচারীরা স্ব স্ব সম্প্রদায়ের প্রধান দুটি উৎসবে প্রতিটিতে ৬ মাসের অধিক চাকরির ক্ষেত্রে এক মাসের মূল মজুরি হারে দুটি উৎসব ভাতা ও ছয় মাসের অনধিক চাকরির ক্ষেত্রে প্রতিটিতে ১৫ দিনের মজুরি হারে দুটি উৎসব ভাতা প্রাপ্ত হবেন। শ্রমিকের উৎসব ভাতা এক মাসের মূল মজুরির কম হবে না।
    ৮. স্বীয় পদে/গ্রেডে চাকরির সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে উচ্চতর গ্রেডে পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।
    ৯. পোশাক কারখানায় গ্র্যাচুইটি সিস্টেম প্রচলন করতে হবে। তবে অন্তর্বর্তীকাল হিসেবে ১০ বছরের অধিক সময় কর্মরত শ্রমিকদের জন্য সমান হারে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। চাকরি অবসরের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য প্রাপ্ত গ্র্যাচুইটি দিতে হবে।
    ১০. মাতৃত্বকালীন ছুটি সবেতনে ছয় মাস দিতে হবে।
    ১১. শ্রমিকদের পরিবারের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা দিতে হবে।
    ১২. নতুন মজুরি নির্ধারণের পর যাতে স্থানীয় পর্যায়ে বাড়িভাড়া না বাড়ে, তা তদারকি করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জনপ্রশাসন এবং মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি করে পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে।
    ১৩. গার্মেন্টস শ্রমিকদের রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে (সরকারের ভর্তুকিমূলক পণ্য বিক্রি কার্যক্রমে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করা)।

  • অতিরিক্ত ডিআইজি হলেন আরও ১৪০ কর্মকর্তা

    অতিরিক্ত ডিআইজি হলেন আরও ১৪০ কর্মকর্তা

    বাংলাদেশ পুলিশে অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন আরও ১৪০ কর্মকর্তা। তাদের সবাইকে সুপার নিউমারারিতে গ্রেড-৪ এ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সোমবার অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক হিসেবে পদোন্নতি পান পুলিশের ১২ কর্মকর্তা।

    সুপার নিউমারারি পদ বলতে বুঝায় পদগুলোতে কর্মরত পদধারীদের পদোন্নতি, অবসর, অপসারণ বা অন্য কোনো কারণে পদশূন্য হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাহাবুবর রহমান শেখের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পত্রে উল্লেখিত সব আনুষ্ঠানিকতা পালন শেষে সৃষ্ট ১৪০টি সুপার নিউমারারি পদের বিপরীতে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হলো।

    যে কর্মকর্তারা মিশন, শিক্ষাছুটি/প্রেষণ ও লিয়েনে কর্মরত, তারা মূল কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর তাদের পদোন্নতি কার্যকর হবে এবং প্রকৃত যোগ দেওয়ার তারিখের আগের কোনো আর্থিক সুবিধা পাবেন না।

    এতে আরও বলা হয়েছে, পদগুলোতে কর্মরত পদধারীরা পদোন্নতি, অবসর, অপসারণ বা অন্য কোনো কারণে পদশূন্য হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে এবং পদ সৃষ্টির তারিখ থেকে ১৪০টি সুপার নিউমারারি পদের মেয়াদ হবে এক বছর।

    পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা স্বপদে বহাল থেকে দায়িত্ব পালন করবেন এবং জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে।

  • আবারও ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক অবরোধের ঘোষণা বিএনপির

    আবারও ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক অবরোধের ঘোষণা বিএনপির

    সরকারের পদত্যাগে এক দফাসহ বিভিন্ন দাবিতে আবারও ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো।

    একদিন বিরতি দিয়ে বুধবার ভোর ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা দেশব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি ডেকেছে তারা।

    সোমবার বিকালে ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।এর আগে সোমবার দুপুরে এলডিপির পক্ষ থেকেও অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।

    ২৮ অক্টোবর রাজনৈতিক সংঘাতের পর এটি বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর তৃতীয় বারের মতো অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা।

    বিএনপির দ্বিতীয় দফার ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি মঙ্গলবার সকাল ৬টায় শেষ হচ্ছে।

    অবরোধ কর্মসূচি সফলের জন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান রিজভী।

    রিজভী অভিযোগ করেন, বাড়িতে বাড়িতে গ্রেফতার অভিযান চলছে। এখন নারী নেতাকর্মীরাও গ্রেফতার থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। নারীদেরকে পুরুষ পুলিশ সদস্যরা গ্রেফতার করছেন, যা কোনো আইনে নেই। র‌্যাবকে আবারও বিরোধী দল দমনে নামানো হয়েছে।

    বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, ক্ষমতাসীনরা বাসে আগুন দিয়ে দায় চাপায় বিরোধীদের। বাসে আগুন দিয়ে ধরা পড়ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, যা ইতোমধ্যে প্রমানিত। অথচ তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছেনা। মিডিয়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আদালত সরকারের কব্জায়। তাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অগ্নিসন্ত্রাস করলেও মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীরা করছে। এটি একটি সরকারের মাস্টারপ্লানেরও অংশ। যতই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন জনগণ এবার আর একদলীয় নির্বাচন করতে দেবে না।

    পতনের আগে শেষ তাণ্ডব শুরু করেছে সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ভাষা বুঝলে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। কোনভাবেই এই গণজোয়ার ঠেকানো যাবে না। আন্দোলন সফল হবেই, জনগণের বিজয় হবেই।

    গ্রেফতারের তথ্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, রোববার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে ২৭৫’র বেশি নেতাকর্মীকে। মামলা হয়েছে ১০টি, আসামী ৯৯৫ জনের অধিক নেতাকর্মী।

  • আবারও বেড়েছে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম

    আবারও বেড়েছে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম

    ফের বেড়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম।

    নভেম্বর মাসে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩৮১ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

    বৃহস্পতিবার (০২ নভেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাম ঘোষণা করে বিইআরসি।

    ঘোষণায় বলা হয়েছে, বেসরকারি এলপিজির রিটেইলার পয়েন্টে ভোক্তাপর্যায়ে মূসকসহ মূল্য প্রতি কেজি ১১৫ টাকা ৯ পয়সা সমন্বয় করা হয়েছে। এ ছাড়া রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে তরল অবস্থায় সরবরাহকৃত এলপিজির ভোক্তাপর্যায়ে মূসকসহ মূল্য প্রতি কেজি ১১১ টাকা ২৬ পয়সা সমন্বয় করা হয়েছে।

    ঘোষণা অনুযায়ী, ভোক্তাপর্যায়ে অটোগ্যাসের দাম মূসকসহ প্রতি লিটারের মূল্য ৬৩ টাকা ৩৬ পয়সা সমন্বয় করা হয়েছে।

    গত অক্টোবরে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সেই হিসেবে এবার ১৮ টাকা বাড়ল। গত সেপ্টেম্বরে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১২৮৪ টাকা।

  • পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

    একাদশ জাতীয় সংসদের পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৩৩তম বৈঠক জাতীয় সংসদ ভবনের পশ্চিম ব্লকের দ্বিতীয় লেভেলে অবস্থিত কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

    ১৯ অক্টোবর সকালে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সভাপতি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের এর সভাপতিত্বে সিলেট, ব্রাক্ষ্মবাড়িয়া, লালমনিরহাট ও ভোলা জেলার নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে নদীর তীর সংরক্ষন প্রকল্পের আওতায় চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে জাতীয় বাজেটে জরুরী জনগুরুপূর্ণ প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পের প্রাক্কলন তৈরী পূর্বক প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিভিন্ন সময়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পরিদর্শনকৃত প্রকল্পের প্রতিবেদন উপস্থাপন ও চলমান কাজের অগ্রগতি, পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় কর্তৃক সরকারের বিগত পাঁচ বছরের উন্নয়ন সাফল্যের চিত্র প্রদর্শন এবং ২০২৩-২০২৪ অর্থ বছরে পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় থেকে ভোলা জেলার নদীর তীর সংরক্ষন প্রকল্পের আওতায় নতুন কোন প্রকল্প অনুমোদন বা বাস্তবায়ন করা হবে কিনা এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন ভোলা-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন।

    সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।

  • ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ২৬০৯

    ডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ২৬০৯

    ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন ঢাকার এবং বাকি পাঁচজন ঢাকার বাইরের বাসিন্দা। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৯০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৬০৯ জন।

    মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলামের সই করা ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সোমবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৬০৯ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৫৬১ জন ও ঢাকার বাইরের দুই হাজার ৪৮ জন।

    চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই লাখ ৪৪ হাজার ৬৯৮ জন। তাদের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ৯৩ হাজার ১০৫ ও ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে এক লাখ ৫১ হাজার ৫৯৩ জন ভর্তি হয়েছেন।

    একই সময়ে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এক হাজার ১৯০ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৭৩৯ জন এবং ঢাকার বাইরের ৪৫১ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন দুই হাজার ৫২৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৫৩৮ জন এবং ঢাকার বাইরের এক হাজার ৯৮৭ জন।

    চলতি বছর আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন দুই লাখ ৩৫ হাজার ২৮৪ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ৮৯ হাজার ৯৫৬ জন এবং ঢাকার বাইরের এক লাখ ৪৫ হাজার ৩২৮ জন।

    ঢাকাসহ সারাদেশে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন আট হাজার ২২৪ জন ডেঙ্গুরোগী। তাদের মধ্যে ঢাকায় দুই হাজার ৪১০ জন এবং ঢাকার বাইরে ভর্তি রয়েছেন পাঁচ হাজার ৮১৪ জন।

    ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৮১ জন মারা যান। ওই বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে আলোচ্য বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন।

    ২০২০ সালে করোনা মহামারিকালে ডেঙ্গু সংক্রমণ তেমন একটা দেখা না গেলেও ২০২১ সালে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। একই বছর দেশব্যাপী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

  • আ.লীগ ক্ষমতায় বলেই দেশে এত উন্নয়ন: প্রধানমন্ত্রী

    আ.লীগ ক্ষমতায় বলেই দেশে এত উন্নয়ন: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই দেশে এত উন্নয়ন হচ্ছে।

    সোমবার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে দেশের ৬৫টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমিউনিটি আই সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি টিকা দিয়েছে। ধনী দেশগুলোও বিনামূল্যে করোনার টিকা দেয়নি। কোটি কোটি টাকা খরচ করে আমরা বিনামূল্যে টিকা দিয়েছি। তখন আমাদের রিজার্ভও ভালো ছিল।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাকালে চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য আমাদের প্রতিটি নার্স-চিকিৎসককে আলাদা করে ভাতা দিতে হয়েছে। কারণ সেই সময়ে ভয়ে কেউই এগিয়ে আসতে চায়নি। এমনকি তাদের সুরক্ষায় পিপিইসহ বিভিন্ন ধরনের সুরক্ষা সামগ্রী কিনে দিতে হয়েছে। করোনার টিকা দেওয়ার জন্য ভলান্টিয়ার তৈরি করতে হয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশে লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে, আল্লাহর রহমতে আমাদের তেমন ক্ষতি হয়নি।