Category: জাতীয়

  • শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনার আহ্বান :জেলা প্রশাসক

    শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনার আহ্বান :জেলা প্রশাসক

    ঢাকায় বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশব্যাপী চলছে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বরিশালে শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে সভা করেছেন জেলা প্রশাসক।

    বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) বিকেল ৫টায় বরিশাল জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম,বরিশাল সেরকারী মডেল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মেজর সিরাজুল ইসলাম উকিল, বিএম কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সফিকুর রহমান সিকদার, সরকারি মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর আ. মোতালেব হাওলাদার, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবা হোসেনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

    এসময় জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে সেইজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বৃদ্ধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে রোড সাইন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস নিশ্চিত করাসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    এই অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

  • বরিশাল হাসপাতালে গৃহবধূর লাশের পাশে সন্তানকে ফেলে পালালেন স্বামী

    বরিশাল হাসপাতালে গৃহবধূর লাশের পাশে সন্তানকে ফেলে পালালেন স্বামী

    বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশ ঘরে স্ত্রীর লাশের পাশে তিন বছরের কন্যা শিশুকে ফেলে পালিয়েছেন স্বামী মো. রফিকুল ইসলাম। স্বামী ও তার পূর্বের স্ত্রীসহ পরিবারের অত্যাচারে গৃহবধূ রোজী আক্তারের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের। এই ঘটনায় মামলা প্রস্তুতি চলছে। তবে এখনো কাউকে আটক করা হয়নি।

    নিহত রোজীর ছোট বোন রিমা আক্তার ও ভাই রাজু মোল্লা বলেন, ‘আমাদের বোন রোজীর সাথে গত চার বছর পূর্বে সৌদি প্রবাসী ও উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের বাহেরঘাট এলাকার মৃত আব্দুল হক মোল্লার ছেলে রফিকুল ইসলামের সাথে বিয়ে হয়। তবে রফিকের ১ম স্ত্রী দোলনা বেগমের সাথে ডির্ভোস হওয়ার পর রফিক রোজীকে বিয়ে করে। তাদের সংসারে একটি তিন বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। চলতি বছরের ঈদের পর দেশে ফেরেন রফিক। কিন্তু সাবেক স্ত্রীর দোলনা, দোলনার ভাই জালাল, রফিকের ভাই সফিক ও শহিদুলের ষড়যন্ত্রে দেশে ফেরার তিন দিনের মাথায় সে আবারো দোলনাকে হিল্লা বিয়ে করেন। এরপর একই ঘরে দুই বউ নিয়ে থাকেন রফিক। এ নিয়ে প্রতিদিনই ঝগড়া ও মারামারি হতো।

    মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে রোজীর ভাই রাজুকে রফিক ফোন করে বলে রোজী অসুস্থ। রাতেই রাজু ও বোন রিমা উজিরপুরে যায়। পরে ফোনের মাধ্যমে জানতে পারে রোজীকে বরিশাল মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়েছে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাজু ও রিমা মেডিকেলে এসে দেখেন লাশ ঘরের সামনে ভাগ্নি কান্না করছে। আর লাশ ঘরের মধ্যে রোজীর লাশ পরে আছে। আর কেউ নেই। লাশ ফেলে পালিয়েছে। রোজীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আত্মহত্যা সাজানোর জন্য জোর করে রোজীর মুখে বিষ ঢালা হয়েছে। পরে ৯৯৯ এ কল করে অভিযোগ করলে পুলিশ সুরতহাল করে লাশ ময়নাতদন্ত করেছে। ভোরে রোজীর লাশ তার বাবার বাড়ি একই উপজেলার ওটরা ইউনিয়নের ভবানিপুর গ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

    এই ঘটনায় রোজীর বাবার বাড়ির স্বজনরা রফিক, সফিক, শহিদুল, দোলনা ও দোলনার ভাই জালালের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানিয়েছে।

    রোজীর ভাই রাজু মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, আমার দুলাভাই দেশে আসার পর থেকে কয়েকবার আমার বোনকে নিয়ে যেতে বলেছে। নতুবা তাকে মেরে ফেলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

    এ ঘটনায় বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে।

    এই বিষয়ে উজিরপুর থানার ওসি শিশির কুমার পাল বলেন, লাশ ময়নাতদন্ত শেষে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। থানায় অভিযোগ করলে আমরা আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

  • বরিশালে বন্ধের দিনেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

    বরিশালে বন্ধের দিনেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

     ঢাকায় বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী মৃত্যুর বিচারসহ সাত দফা দাবি আদায়ে বরিশালে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ-মিছিল করছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে নগরের চৌমাথা এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে এ বিক্ষোভ-মিছিল করে তারা।

    এসময় বৃষ্টি শুরু হলেও শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যায়। পাশাপাশি বেশ কিছু যানবাহন বিক্ষোভস্থল অতিক্রম করার চেষ্টা করলে বাধা দেয় শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষার্থীরা অ্যাম্বুলেন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ যানবাহন ছেড়ে দিচ্ছে।

    পরে দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঞা, সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার শাহানাজ পারভীনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে মহাসড়ক থেকে বৃহস্পতিবারের মতো অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা।

    আন্দোলনরত সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের শিক্ষার্থী সাফি আহমেদ জানান, সহপাঠীদের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত চালক ও হেলপারের শাস্তিসহ নিরাপদ সড়কের দাবিতে আমাদের এ আন্দোলন। সুনির্দিষ্ট আশ্বাস বা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা ও নিরাপদ সড়ক এখন সময়ের দাবি।

    শিক্ষার্থীরা বরিশাল সড়কে চলাচলরত যানবাহনের চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, নগরের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করা, অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রার (থ্রি-হুইলার) স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি তোলেন।

    বিক্ষোভ-মিছিলে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ, অমৃত লাল দে কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি মডেল কলেজ, ইনফ্রা পলিটেকনিক কলেজসহ বেশ কিছু কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

  • পটুয়াখালীতে যৌতুকের দাবিতে ঘরছাড়া কিশোরী বধূ আয়শা

    পটুয়াখালীতে যৌতুকের দাবিতে ঘরছাড়া কিশোরী বধূ আয়শা

    শিশু সন্তানসহ স্বামীর সংসার থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে কিশোরী বধু আয়শা বেগমকে। এখন দেড় বছরের শিশু সন্তান আব্দুল্লাহকে নিয়ে শ্রমজীবী বাবার সংসারে বোঝা হয়ে পড়ে আছে। নিজের অধিকার এবং সন্তানের ভরন পোষনের দাবিতে ধর্ণা দিচ্ছেন দ্বারে দ্বারে। পাষন্ড স্বামী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল লতিফের যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় এই কিশোরী আয়শা বেগম দু’চোখে এখন সব অন্ধকার দেখছেন। কলাপাড়ার চাকামইয়া ইউনিয়নের কাছিমখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করছিলেন আব্দুল লতিফ। আর ওই গ্রামে বাড়ি আয়শা বেগমের। বেতমোড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছিল।

    স্ত্রী সন্তান থাকলেও কিশোরী আয়শার দিকে নজড় পড়ে শিক্ষক আব্দুল লতিফের। আয়শার বাবা আফজাল গাজী জানান, স্কুলের পাশেই বাড়ি থাকায় শিক্ষক আব্দুল লতিফ তার মেয়ে আয়শাকে বিভিন্নভাবে উত্যক্ত করত। বিভিন্ন ফন্দী-ফিকির চালায়। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে বিয়ে দিয়েছিলেন। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে আয়শা জানায়। তারপরও বিয়ের পরে অনেক ঝামেলা হয়। এর তিন/চার মাস পরে অন্যত্র বদলী হয় আব্দুল লতিফ। এরপরেও কয়েক মাস ভালই কাটছিল। তবে টানাপোড়েন, মারধর লেগেই থাকত। যখনই ছেলে আব্দুল্লাহর জন্ম হয় তখনই শুরু হয় যৌতুকের দাবিতে নানা তালবাহানাসহ চরম নির্যাতন। সতীন নাছিমার সংসারে দুই মেয়ে আর আয়শার একমাত্র ছেলে। সম্পত্তির ভাগাভাগি না দেয়ার ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন ফন্দীতে আয়শাকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করতে সক্ষম হয় আব্দুল লতিফ। আব্দুল লতিফের বাড়ি মহিপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামে।

    আয়শা জানায়, গরম খুনতি দিয়ে মারত। ছেলে হওয়ার পরেই তার কপাল পুড়েছে। মারধর আর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাবার বাড়িতে চলে আসতে বাধ্য হয়। এরপর থেকে বাবার ঘাড়ে বোঝা হয়ে ঝুলে আছে। সন্তান কিংবা স্ত্রীর ভরন-পোষন তো দুরের কথা, উল্টো বাবার বাড়িতে গিয়ে এ বছরের ১৫ মে যৌতুক চেয়ে গালাগাল হুমকি দিয়ে আসে। বর্তমানে আয়শা চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে নির্বাক হয়ে যায়। কিশোরী এই বধু আয়শা নিরুপায় হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল পটুয়াখালীতে স্বামী আব্দুল লতিফ ও সতিন নাছিমা বেগমকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। বর্তমানে আয়শা তার শিশু সন্তান নিয়ে প্রচন্ড আর্থিক অনটনে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। তিনি স্বামীর অধিকারসহ নিজের ও সন্তানের ভরণ-পোষণের সহায়তা চেয়েছেন সমাজপতিদের কাছে। বর্তমানে এই শিক্ষক গঙ্গামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরিরত রয়েছেন। তিনি জানান, বিয়ের পর থেকেই সে (আয়শা) তার বাবার বাড়িতে থাকছে। ১৫ দিন পর পর আমি যাইতাম। সে মামলা করছে পরে আর খবর নেইনা। ওই বাড়ি যাইনা। আর যৌতুক, মাইর-ধইরের ঘটনা মিথ্যা বলে দাবি করেন।

  • বরিশালে মাদক থেকে দূরে থাকতে ৮’শ শিক্ষার্থীর শপথ

    বরিশালে মাদক থেকে দূরে থাকতে ৮’শ শিক্ষার্থীর শপথ

    মাদক থেকে দূরে থাকার জন্য শপথ বাক্য পাঠ করেছে বরিশালের মুলাদী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, মসজিদের ঈমামসহ ৮‘শ শিক্ষার্থী। বুধবার বরিশালের মুলাদী ডিগ্রি কলেজে স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং সভায় এই শপথ করান বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম।

    ওই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি বলেন- দেশের ৭০ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত। তাদের মধ্যে অধিকাংশই বয়সে তরুণ। যে তারুণ্য স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়বে, সমগ্র দেশ যাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখে, তারা আজ মাদকাসক্ত হয়ে ধ্বংসের কিনারায়। তাদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে দেশে মাদকের বিস্তার রোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু অসাধু কর্মকর্তারা। তাদের গাফিলতি সৎ কর্মকর্তাদের সমস্ত সাফল্য ম্লান করে দিচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন,বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে দেশের মাদকের চোরাচালান বন্ধে কঠোরতর ভূমিকা পালন করছে। তাছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের নির্দেশ দিয়েছেন। মাদকের বিরুদ্ধে এখন প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। শিক্ষার্থীদের মাদকের কুফল তুলে ধরার মাধ্যমে মাদকবিরোধী চেতনা ছড়িয়ে দিতে শিক্ষকদের ও নিজ নিজ মহল্লায় ঈমামদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন- মাদক নির্মূলে এখন প্রয়োজন সামাজিক অঙ্গীকার। পরিবারের সদস্যদের লক্ষ রাখতে হবে তাদের সন্তানদের প্রতি যাতে তারা মাদক থেকে দূরে থাকে।

    পাশাপাশি জঙ্গীবাদ, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও স্বজনদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন ডিআইজি।

  • বরিশালে কম্পিউটার প্রশিক্ষনের উদ্বোধন

    বরিশালে কম্পিউটার প্রশিক্ষনের উদ্বোধন

    কম্পিউটার প্রশিক্ষনের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তির প্রসার বৃদ্ধি ও যুবসমাজের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে জেলার উজিরপুর উপজেলায় কম্পিউটার প্রশিক্ষনের উদ্বোধণ করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা পরিষদের হলরুমে তিনমাস মেয়াদী কম্পিউটার প্রশিক্ষনের উদ্বোধণ করেন জাতীয় সংসদের প্যানেল স্পীকার ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস এমপি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা আক্তারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য এসএম জামাল হোসেন, পৌর মেয়র গিয়াস উদ্দিন বেপারী। বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার দিনা খান প্রমুখ।

  • শিক্ষার্থীদের চলমান দাবি যৌক্তিক: বাণিজ্যমন্ত্রী

    শিক্ষার্থীদের চলমান দাবি যৌক্তিক: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, শিক্ষার্থীদের চলমান দাবি যৌক্তিক। এ নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ‘রাজপথে নিরাপদ সড়কের’ দাবিতে যে আন্দোলন করছে সেই আন্দোলন যৌক্তিক বলেই মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

    আজ ভোলা জেলার চরফ্যাশনে দৃষ্টিনন্দন বাস টার্মিনাল উদ্বোধন শেষে টার্মিনালের মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর নিহতের ঘটনা সবার হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে, আমি নিজেও কষ্ট পেয়েছি এবং কেঁদেছি। কিন্তু মানবিক এই বিষয়টি নিয়ে বিএনপি শিক্ষার্থীদের নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে নোংরা পলিটিক্স করতে চায়। আমরা এ নিয়ে কোন পলিটিক্স করি না। প্রধানমন্ত্রী নিজেও শিক্ষার্থীদের মৃত্যুতে দু:খ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ডেকে গভীর সমবেধনা প্রকাশ করেছেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপি কোন রাজনীতি পায় না। তাই তারা যেটা পায় সেটা নিয়েই কথা বলে।  সড়ক দুর্ঘটনা মানবিক ব্যাপার এখানে রাজনীতি টানা কারো উচিত নয়। যে চালক শিক্ষার্থীদের হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।  এই ব্যাপারে কোন আপোস নেই।

    বাণিজ্যমন্ত্রী এ সময় ভোলা-চরফ্যাশন-দক্ষিণ আইচা আঞ্চলিক মহাসড়ক শিঘ্রই চার লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দেন।
    পরিবেশ, বন ও জয়বায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নত দেশ হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। আগামীতে আ. লীগ ক্ষমতায় আসলে ভোলা হবে একটি সৃমদ্ধ জেলা এবং চরফ্যাশন উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসাবে রুপান্তিত করার কথাও জানান।

    এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোকতার হোসেন, ভোলা জেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক জহিরুল ইসলাম নকিব, চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন, পৌর মেয়র বাদল কৃষ্ণ দেবনাথ, উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম ভিপি, ভোলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো: আকতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাাদক শফিকুল ইসলাম, চরফ্যাশন বাস মালিক সমিতির নেতা মনির উদ্দিন চাষীসহ দলীয় সহযোগী সংগঠনের নেতবৃন্দ।

  • ‘এতটুকু বাচ্চাদের এত ভয় পান!’

    ‘এতটুকু বাচ্চাদের এত ভয় পান!’

    ‘আর চুপ থাকতে পারছি না। শুটিং থেকে অনুমতি নিলাম, দুপুরে নামছি তোমাদের সঙ্গে উত্তরায়। আমার কোনো সহকর্মী ভাইবোনেরা নামতে চাইলে খুশি হব।’ কথাগুলো নতুন প্রজন্মের অভিনয়শিল্পী তৌসিফ মাহবুবের। বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনার আন্দোলনে নামা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এভাবেই নিজের একাত্মতার কথা বললেন তিনি। আজ বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন।

    রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে তিন দিন ধরেই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সরাসরি মাঠে থাকতে না পারলেও চলচ্চিত্র, টিভি আর সংগীত জগতের অনেক তারকা সমর্থন দিয়েছেন। ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন।

    সংগীতশিল্পী মাকসুদ বলেন, ‘প্রতিদিন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে, এ নতুন কোনো বিষয় না। গত ঈদের ছুটিতে এক দিনেই ৫৫ জন লোক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিল | আমরা প্রতিবাদ তো দূরের কথা, একটি শব্দও করিনি। তবে র‍্যাডিসন হোটেলের সামনে যা ঘটেছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে যে ভয়াবহ অবস্থা আর তাণ্ডব চলছে এবং বেশ কিছুদিন চলবে, এর জন্য সরকারের কতিপয় মন্ত্রী আর হর্তাকর্তার নির্বুদ্ধিতা বেশি দায়ী।’

    মাকসুদ আরও বলেন, ‘বন্ধুদের অনুরোধ করছি, বাচ্চা বা পোলাপান—এ শব্দগুলো ব্যবহার করা বন্ধ করুন। এই একুশ শতকে এসব এবিউসিভ শব্দ সোজা কথায় গালি। ওদের বয়স আমাদের চেয়ে কম হতে পারে। কিন্তু মেধা, মনন ও ব্যবহারে আমাদের চেয়ে ওরা অনেক উচ্চ মানুষিক মার্গে বসবাস করে, এ কথাটা ভুলবেন না। ওদের মনের ধারের কাছেও আমরা ভিড়তে পারব না। এমনকি স্বপ্নেও না। ওদের সম্মান পেতে হলে আগে আপনারা সম্মান দিতে শিখুন।’

    তিন দিন ধরে চলতে থাকা আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। অনেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘বাচ্চা’ বললেও বিষয়টি মানতে নারাজ এই পরিচালক। তিনি বলেন, ‘বাচ্চা মানে বাচ্চা না, ভাইবোনেরা আমার! বেশ কিছু ভিডিওতে আন্দোলনরত স্কুল-কলেজের ছোট ছোট বাচ্চাদের কথা শুনে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেছে। আমি সব সময়ই বিশ্বাস করেছি কাহলিল জিব্রানের কবিতা। যেখানে লেখা হয়েছে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পূর্ববর্তী প্রজন্মের চেয়ে এগিয়েই থাকে। তোমরা এগিয়েই আছো ভাইবোনেরা! লাভ ইউ।’

    ফারুকী তাঁর দেওয়া পোস্টের মাধ্যমে সরকারের কাছেও অনুরোধ জানিয়েছেন। সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন যেন দ্রুত একটা কমিটি করা হয়। যেখানে শুধু প্রবীণ নাগরিকেরা থাকবেন, তা না। তরুণ মেধাবী প্রযুক্তিবিদ, প্রকৌশলীদেরও রাখতে হবে। সেই কমিটির কাজ হবে সবকিছু প্রযুক্তিনির্ভর করা। ফারুকী বলেন, ‘এখন একটাই অনুরোধ, সমষ্টির এই শক্তিকে একটা সুন্দর ফলাফলের দিকে নেওয়ার দাবি তোলো। জাবাল-ই-নূরের ঘটনায় অপরাধীর সাজা হতে হবে, শাজাহান খানকে ক্ষমতাশূন্য করতে হবে, এগুলো সবই দরকার। পাশাপাশি, দাবি তোলো সামগ্রিক সংস্কারের। লাইসেন্স, ফিটনেস থেকে শুরু করে, ড্যাশবোর্ড ক্যামেরা, আউটডোর ক্যামেরা, রুট বণ্টনবিষয়ক দুর্নীতি, আইন সংস্কার—মোট কথা রাস্তাঘাট নিরাপদ করার জন্য, অপরাধী শনাক্ত করার জন্য যা কিছু বিবেচনায় নেওয়া দরকার, সবকিছু বিবেচনায় নিতে হবে।’

    অভিনয়শিল্পী শাহনাজ খুশি দুই সন্তানের মা। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ যেভাবে নির্যাতন করছে, তাতে আতঙ্কিত এই অভিনয়শিল্পী। এসব দেখে তাঁর কণ্ঠ থেকে ঘৃণা আর ক্ষোভ ঝরেছে। তিনি বলেন, ‘দয়া করে বাচ্চাদের গায়ে হাত দেবেন না। তারা কোনো আসনের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য পথে নামে নাই, তাদের দাবি কেবল পথের নিরাপত্তা। এই দেশের পরবর্তী কর্ণধার এই বাচ্চারাই। এখনো অনেক বাচ্চা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। বাচ্চাদের মাথায় লাঠির আঘাত নয়, ভরসার হাত রাখুন। মা-বাবাদের পথে নামতে বাধ্য করবেন না। ওরা আমাদের সন্তান। নাড়ি ছেঁড়া ধন!’

    মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘ওরা কিন্তু রাজনীতি বোঝে না, রাজনীতি করতে পথে নামেনি। কিন্তু রাজনীতির প্রতি, রাজনীতিবিদদের প্রতি কী পরিমাণ ঘৃণা জন্মে যাবে তাদের মনে, ভেবে দেখছেন! এই ছেলেরাই আগামী ২/১ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে, হয়তো ছাত্র রাজনীতিও করবে। আজকের এই ঘৃণা ওদের ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে দেবে? প্রধানমন্ত্রী, তিনি তো কোমল হৃদয়ের মানুষ, সারা জীবন সেভাবেই দেখে এসেছি তাঁকে। আজ কেন তাঁর কোমলতা দেখাতে দেরি করছেন? তাঁর সম্বন্ধে এই বাচ্চাগুলোর ধারণা কোন দিকে যাচ্ছে!’

    জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ড বলেছেন, ‘রাষ্ট্র প্লিজ থামুন। ওরা বাচ্চা। ওরা সবেমাত্র স্কুলছাত্র। ওরা আমাদের সন্তান। ওরা ধান্দাবাজ রাজনীতিক না। ওরা ব্যাংক লুটেরাদের বাঁচানোর পক্ষের কোনো শক্তি না। ওরা ধর্ষকের রক্ষক না। ওরা ক্ষমতা দখলের লোভে রাস্তায় না। ওরা শুধু ওদের বন্ধু-সহপাঠীর নির্মম মৃত্যুকে মেনে নিতে পারেনি। ওরা বন্ধু হত্যার বিচার চায়। ওরা সড়কে জীবনের নিরাপত্তা চায়। এটা ওদের অপরাধ?’

    নাট্যকার মাসুম রেজা বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করবেন না। দাবি মেনে নিয়ে ওদের নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরান।’

    অভিনয়শিল্পী জ্যোতিকা জ্যোতি বলেছেন, ‘আর ঘরে বসে থাকা যায় না, আমার মন উত্তাল তোমাদের সঙ্গে। আপনি আছেন তো?’

    মৌসুমী হামিদ ক্ষিপ্ত হয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কী বলব আপনাদের? হাতে অস্ত্র, মাথায় হেলমেট, বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, পায়েও হাঁটু পর্যন্ত গার্ড পরে আছেন। তারপরও কলেজ ড্রেস পরা নিরস্ত্র একটা বাচ্চাকে লাথি মারার জন্য মাথা পর্যন্ত পা তুলছেন। লজ্জা করে না আপনাদের? আপনার এত সাজ-পোশাকে জঙ্গি দমন করতে আসছেন? এতটুকু বাচ্চাদের এত ভয় পান? পুলিশ মানে তো আপনারা না! তাহলে আপনারা কারা?’

    এ প্রজন্মের আরেক পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহ বলেছেন, ‘আজ না হয় শহরের স্কুল-কলেজের ছাত্রগুলো রাস্তায় নেমেছে, এতেই এই অবস্থা! কাল যদি সারা বাংলাদেশের স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা রাস্তায় নামে, তখন কেমন হবে!’

  • বন্ধের দিনে ইউনিফর্ম পরে সড়কে শিক্ষার্থীরা

    বন্ধের দিনে ইউনিফর্ম পরে সড়কে শিক্ষার্থীরা

    ক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের দাবি মুখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এক নির্দেশনায় আজ (বৃহস্পতিবার) দেশের সব স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরেই বৃষ্টিতে ভিজে সকাল থেকে সড়কে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।

    বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজধানীর উত্তরা জসিম উদ্দিন থেকে হাউস বিল্ডিং পর্যন্ত সড়কের দুইপাশে উত্তরা ইউনিভার্সিটি, মাইলস্টোন কলেজ, স্কলাস্টিকা, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। এতে উত্তরা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

    এ সময় লাব্বাইকসহ বেশ কয়েকটি বাসের চালকদের লাইসেন্স যাচাই করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে পুলিশের দুজন কর্মকর্তাকেও বাস চালকের লাইসেন্স যাচাই করতে দেখা যায়।

    jagonews24

    রাজধানীর মগবাজার চৌরাস্তায় সড়ক অবরোধ করেছে আদ-দ্বীন ও ড. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় রমনা-ইস্কাটন, মগবাজার ওয়্যারলেস এবং মগবাজার রেলগেট এলাকায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সকাল থেকে রাজধানীর শান্তিনগর মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল এবং সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    ধানমন্ডি-২৭ নম্বর সড়কে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ আশপাশের স্কুলের শিক্ষার্থীরাও সড়কে অবস্থান নিয়েছে। রাজধানীর সাইন্সল্যাব ওভারব্রিজের নীচে সিটি কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ, ঢাকা কলেজ, গভ. ল্যাবরেটরি এবং ধানমন্ডি আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়েছেন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় অনেক অভিভাবককেও সড়কের পাশে বসে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

    রাজধানীর অদূরে সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছে এনাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা। যাত্রাবাড়ীতে দনিয়া কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহনের কাগজপত্র ও চালকের লাইসেন্স যাচাই করছেন শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর ফার্মগেটেও একই অবস্থা। ফার্মগেটের সড়কে অবস্থান নিয়েছে সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    সালমান নূর নামে উত্তরার একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী বলেন, ইউনিফর্ম পড়ে আন্দোলনে আসায় আমাদের অনেক শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) দিয়ে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা আন্দোলন করবই। যদি বেঁচেই না থাকি তাহলে স্কুলের সার্টিফিকেট দিয়ে কী করব।

    সোয়েব নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের জন্য শুধু শিশুরা রাস্তায় কেন? তাদের অভিভাবকদের, বড়ভাইদের কি নিরাপত্তার ঘাটতি নেই? তাদের সহযোগিতার জন্য, তাদের অভিভাবক হিসেবে আমরা রাস্তায় নেমেছি।

    গত রোববার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন শিক্ষার্থী।

    jagonews24

    মারা যাওয়া দুই শিক্ষার্থী হলেন- শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজিব।

    দুর্ঘটনার পর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। আজ (বৃহস্পতিবার) পঞ্চম দিনের মতো আবারও সড়কে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা।

  • আগস্টের প্রথম প্রহরে বরিশালে মোমবাতি প্রজ্বলন

    আগস্টের প্রথম প্রহরে বরিশালে মোমবাতি প্রজ্বলন

    শোকাবহ আগস্টের প্রথম প্রহরে মোমবাতি প্রজ্বলনের মধ্যে দিয়ে কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।১৫ই আগস্ট নিহতদের স্মরণে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২ টা ১ মিনিটে নগরের সোহলে চত্ত্বরস্থ দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন বিবির পুকুর পাড়ে এই মোমবাতি প্রজ্বলনের আয়োজন করা হয়।

    বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন- মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুব উদ্দিন-বীর বিক্রম, মুক্তিযোদ্ধা এমজি কবির ভুলু, বরিশাল সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট একেএম জাহাঙ্গীর হোসেন, বরিশাল সদর উপজেলার চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, জেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন সেরনিয়াবাত সুমন প্রমুখ।

    উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট মধ্যরাতে পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়সহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিলো। সেই সময় সেরনিয়বাত সাদিক আব্দুল্লাহর বড়ভাই সুকান্ত বাবু ঘাতকদের বুলেটের আঘাতে নিহত হন। সাদিকের মা সাহান আরা বেগম গুলিবিদ্ধ হয়েও প্রাণে বেঁচে যান আর বাবাও ভাগ্যের জোড়ে প্রাণে বেঁচে যান।