Category: জাতীয়

  • তিন শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প

    তিন শিক্ষার্থীর সাফল্যের গল্প

    এ বছর বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় কলাপাড়া উপজেলায় ৬টি কলেজের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪ জন। এদের মধ্যে ৩ জনই কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী। নিরলস প্রচেষ্টা ও অধ্যয়নের কাছেই ধরা দিয়েছে তাদের এ সাফল্য। সংগ্রামী ওই শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন তাদের জীবনের লক্ষ্য ও ইচ্ছের কথা।

    মো. শাহজালাল এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রথম হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন মেধাবী ছাত্র হিসেবে। বাবা দুলাল আকন পেশায় একজন জেলে। মা সুফিয় বেগম একজন গৃহিনী।

    লেখাপড়ার প্রতি অদম্য আগ্রহ ও ভালো ফলাফল দেখে তারা উৎসাহ দিয়ে আসছেন সন্তানকে। দুই ছেলে ও এক মেয়ের লেখাপাড়ার খরচ বহন করা অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়ে তাদের কাছে। এসময় মেধাবী ছাত্র শাহজালালকে সহায়তায় এগিয়ে আসেন তার স্কুল ও কলেজের শিক্ষকরা।

    এছাড়া আর্থিক সহায়তা হিসেবে ডাচ বাংলার বৃত্তি তার লেখাপড়ার পেছনে শক্তি জুগিয়েছে। মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকেও ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ব্যবসা শিক্ষা শাখায় তিনি জিপিএ-৫ পেয়েছেন। জীবনের লক্ষ্য হিসেবে ‘চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট’ হবার স্বপ্ন দেখছেন।

    এইচএসসি পরীক্ষায় এমন সাফল্যে তার অনুভূতি জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, রেজাল্ট পেয়ে আমি আনন্দে কেঁদে দিয়েছি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের প্রতি। বিশেষ করে কলেজের ইংরেজি স্যার আমাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন।

    লাকী দেওয়ান আরেক জন সফল সংগ্রামী শিক্ষার্থী। বাবা রফিকুল ইসলাম একজন কৃষক। মা বিউটি বেগম গৃহিনী। ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৪.৯৫ পেয়েছেন। স্বামী সহিদ দেওয়ানের সংসারে এসেও কমে যায়নি তার লেখাপড়ার প্রতি বিন্দুমাত্র আন্তরিকতা। স্বামী, সন্তান ও সংসারের ঝামেলা মিটিয়ে তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

    এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক শাখায় জিপিএ ৫ পেয়ে তিনি প্রমাণ করলেন, ‘ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়।’ ভবিষ্যৎ ইচ্ছের কথা জানতে চাইলে বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেট’ হওয়ার স্বপ্ন আছে। সেই লক্ষে পৌঁছাতে চেষ্টা চালিয়ে যাব।

    কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রি কলেজের এ বছরের অন্যতম তারকা শিক্ষার্থী নাসিবা জান্নাত সিবা। বাবা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওই প্রতিষ্ঠানের ভূগোল বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক। মা সুমাইয়া নাসরিন মিনু একজন গৃহিনী। খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালের এসএসসিতে মানবিক শাখায় ৪.৮৮ পেয়েছেন। ২০১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে তিনি কৃতি শিক্ষার্থীর তালিকাভুক্ত হন। ভবিষ্যতে তিনি ‘জজ’ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

  • কয়লা গায়েব : বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

    কয়লা গায়েব : বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা

    দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে উত্তোলন করে রাখা বিপুল পরিমাণ কয়লা গায়েব হয়ে যাওয়ার পর জ্বালানি সংকটে পড়েছে কয়লা খনির পাশের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।

    প্রয়োজনীয় কয়লা না থাকায় সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    এর আগে তিনটি ইউনিটে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লার অভাবে দুটি ইউনিট বন্ধ করে দেয়া হয়। ১ লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা গায়েব হওয়ার পর কয়লা সংকটে ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে বিদ্যুৎ সংকটে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে দিনাজপুরসহ রংপুর বিভাগের আট জেলায়।

    এদিকে, কয়লা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড কয়লা গায়েবের ঘটনায় কোল মাইনিং কোম্পানির (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও একজন মহাব্যবস্থাপককে প্রত্যাহার করেছে। এ ঘটনায় আরও একজন মহাব্যবস্থাপক ও উপ-মহাব্যবস্থাপককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পেট্রোবাংলা।

    বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হাকিম বলেছেন, কয়লা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি কর্তৃপক্ষ কয়লা সরবরাহ করতে না পারায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটই বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। রোববার থেকে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

    জানা গেছে, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে উত্তোলন করে রাখা ১ লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা গায়েব হয়ে যায়। যার বর্তমান বাজার মূল্যে ২২৭ কোটি টাকার ওপরে।

    এদিকে, কয়লা খনি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহমদকে অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) করে পেট্রোবাংলায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। কোম্পানি সেক্রেটারি ও মহাব্যবস্থাপক আবুল কাশেম প্রধানিয়াকে তাৎক্ষণিক বদলি করে সিরাজগঞ্জে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানিতে পাঠানো হয়েছে।

    সাময়িক বরখাস্ত কর্মকর্তারা হলেন- আবু তাহের মো. নূর-উজ-জামান, মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) ও খালেদুল ইসলাম উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টোর)।

    বিসিএমসিএল’র একজন কর্মকর্তা জানান, দায়িত্বে অবহেলার জন্য এই চারজনের বিরুদ্ধে এখন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

    নথিপত্রের হিসাব অনুযায়ী, খনি থেকে উত্তোলন করা কয়লা যেখানে স্তূপ করে রাখা হয় সেখানে ১ লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা মজুদ থাকার কথা ছিল। অথচ সেখানে এখন এক টন কয়লাও নেই বলে জানান কোম্পানির আরেকজন মহাব্যবস্থাপক। প্রতি টন কয়লার বর্তমান বাজার মূল্য ১৬ হাজার টাকা। সেই হিসাবে ২২৭ কোটি টাকার কয়লার কোনো হদিস নেই।

    বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির অদূরে তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের চিফ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হাকিম বলেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিকে চালাতে প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হয়। কিন্তু সাময়িকভাবে কয়লা উত্তোলন বন্ধ থাকায় ও মজুত ফুরিয়ে আসায় ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সোমবার থেকে বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছি।

    news-pic-phulbari-dinajpur-(3)

    এদিকে, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির রংপুর জোনের প্রধান প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেন সরকার বলেন, রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় প্রতিদিন ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। এর মধ্যে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে। কিন্তু কয়লা সংকটের কারণে গত এক মাস থেকে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিট বন্ধ থাকায় সেখান থেকে মাত্র ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসতো।

    তিনি বলেন, গত এক মাস থেকে বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দেয়। এখন পুরোপুরি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ায় এই ঘাটতি আরও বাড়লো। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হলেও বাইর থেকে বিদ্যুৎ এনে চাহিদা পূরণ করা হবে। তবে এতে বিদ্যুতের ভোল্টেজ কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। পাশাপাশি লোডশেডিং হতে পারে।

    গত সোমবার বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সদস্য আবু সাঈদ কয়লা খনি এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার পর কয়লা গায়েব হওয়ার কথা প্রথম সামনে আসে। ঘটনাটি তদন্তে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) মো. কামরুজ্জামানকে প্রধান করে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

    বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমদ বলেন, ২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত এক কোটি ২০ লাখ মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন করা হয়। খোলা আকাশের নিচে কয়লা রাখা হয়। এতে সিস্টেম লস হয়েছে। রোদে শুকিয়ে, পানিতে ধুয়ে, বাতাসে উড়ে গেছে কয়লা। মাটিতে মিশে অনেক কয়লা নষ্ট হয়েছে। এটা বোর্ডকে জানানো হয়েছে। এ নিয়ে বোর্ড কাজ করছে। যে অভিযোগ উঠেছে, তা কোনোভাবেই প্রমাণ করা যাবে না। তদন্তে সিস্টেম লোকসানের বিষয়টি বেরিয়ে আসবে।

    এ ব্যাপারে নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আইযুব খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

    বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে নতুন ফেইজ থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হবে। কয়লা উত্তোলন শুরু হলেই কয়লার এ সংকট কেটে যাবে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র পদে বদল

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র পদে বদল

    বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। মুখপাত্র দেবাশিস চক্রবর্তীকে সরিয়ে সিরাজুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা দুজনই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক। ব্যাংক-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা মুখপাত্রের দায়িত্ব।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের ভোল্টে রক্ষিত সোনার বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি নির্বাহী পরিচালক দেবাশিস চক্রবর্তী। তাঁর সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ, লিখিত প্রশ্ন জমা দেওয়ার পরও তিনি যথাযথ কোনো মন্তব্য দেননি।

    নতুন মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া সিরাজুল ইসলাম  বলেন, তাঁকে আজ রোববার বিকেলেই এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • কোটা আন্দোলন নিয়ে ছাত্রলীগকে সতর্ক করা হয়েছে: ওবায়দুল কাদের

    কোটা আন্দোলন নিয়ে ছাত্রলীগকে সতর্ক করা হয়েছে: ওবায়দুল কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ির অনেক অভিযোগ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এমন কোনো অভিযোগ যেন আর না আসে, এ বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

    সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আজ রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন। এ সময় সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন ওবায়দুল কাদের।

    সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, গতকাল শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য শেষে মঞ্চ থেকে নামার সময় ছাত্রলীগ নেতারা এগিয়ে এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ির অনেক অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। এমন কোনো অভিযোগ যেন আর না শুনি।’ ছাত্রলীগ নেতাদের এ বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

    জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, অক্টোবরের যেকোনো সময়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো নিয়েই ছোট আকারে মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। এই মন্ত্রিসভায় অন্য কাউকে রাখার কোনো সুযোগ নেই।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি এত দিন বলেছে, (কারাবন্দী) খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। এখন এক কাঠি বাড়িয়ে বলছে, তারা নির্বাচন প্রতিহত করবে। এতে আমরা নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র এবং নাশকতার আশঙ্কা করছি। তবে আমরা জনগণকে নিয়ে এটা প্রতিহত করব।’ তিনি আরও বলেন, কারও কোনো শর্ত মেনে আগামী নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। এ নিয়ে কারও সঙ্গে কোনো সংলাপেরও প্রয়োজন নেই। দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যে সংলাপ করতে হবে।

    গতকাল শনিবার বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ড. এমাজউদ্দীন আহমদ এক অনুষ্ঠানে বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন কারাবন্দী খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ চারটি শর্ত পূরণ হলে আগামী নির্বাচন হতে পারে। তাঁর এই বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

    বিএনপিকে কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে, এই অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সভা-সমাবেশ করছে। ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক দলগুলো সভা-সমাবেশ করবে। এ ব্যাপারে কেউ অনুমতি চাইলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।

    সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নির্বাচনের জন্য শর্ত দিয়েছে, কোনো শর্ত দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। সাংবিধানিকভাবে নিয়মকানুন মেনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনেও বিএনপি আসবে কি, আসবে না, সেটা দেখার বিষয় না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে বিএনপি আসবে। সেটা তো তাদেরই প্রয়োজনে আসতে হবে। নির্বাচন তো সরকারের অনুদান নয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বিএনপির অধিকার। বিএনপি নির্বাচনে না এলে কি গণতন্ত্র থেমে থাকবে? অবশ্যই না।

    সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসে এই প্রথম এত বড় একটি অনুষ্ঠানে একজনই বক্তা ছিলেন, তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমি শুধু মানপত্রটা পাঠ করেছি। এই শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় যে আওয়ামী লীগ সংগঠিত, সুশৃঙ্খল, স্মার্ট এবং মডার্ন।’

    সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি শনিবারই করা হয়েছে। মিছিলের পাশে পরিবহন চলতে পারে কি না, সেদিকে নজর ছিল। তবে তারপরও দুই–একটি ঘটনা ঘটে থাকলে সে জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’

  • মাদক ঠেকাতে কক্সবাজারে মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধের প্রস্তাব র‍্যাবের

    মাদক ঠেকাতে কক্সবাজারে মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধের প্রস্তাব র‍্যাবের

    কক্সবাজারে মাদকের চোরাচালান রোধে দুই মাসের জন্য ওই এলাকার মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেন বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ। তিনি বলেন, মাদকের চোরাচালানের জন্য ওই এলাকায় প্রতিদিন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কোটি টাকা লেনদেন হয়। এটি বন্ধ করা গেলে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। আজ রোববার বিকেলে কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে মাদকের বিরুদ্ধে নির্মিত তথ্যচিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আমরা যেমন জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলাম, তেমনি মাদকের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। এই যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে, এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।’

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের জেলগুলোতে ৩৭ হাজার বন্দী রাখার জায়গা আছে। কিন্তু এখন সেখানে ৯০ হাজারের বেশি বন্দী আছেন। ৪৩ হাজার মাদক ব্যবসায়ী বা মাদক আইনে দণ্ডিত ব্যক্তি কারাগারে আছেন। এতেই বোঝা যায়, মাদক কতখানি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বক্তব্য শেষে ‘চল যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে’ শিরোনামে তথ্যচিত্রের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

    র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ৩ মে আমাদের ডেকে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন। গত ৮০ দিনে আমরা ১০২ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার করেছি। ৫ হাজার ৮৭৭ জনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছি। ১ হাজার ৭১৩ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। ৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে ৪৭ জন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।’

    মাদক নিয়ন্ত্রণে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কক্সবাজারে দুই মাসের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধ রাখার প্রস্তাব করে বেনজির আহমেদ বলেন, এই এলাকায় মাত্র ২৩ লাখ মানুষ বসবাস করে। কিন্তু প্রতিদিন এখানে কোটি টাকার লেনদেন হয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। এটি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে মাদকের চোরাচালান কমে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশের আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, মাদক একটি সামাজিক সমস্যা। এটি কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমাধান করতে পারবে না। এ সমস্যা সামাজিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। শুধু অভিযানের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, এটি রোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন আহমেদ।

  • নিম্নচাপ : সাগরে ৩ নম্বর সংকেত, হতে পারে জলোচ্ছ্বাস

    নিম্নচাপ : সাগরে ৩ নম্বর সংকেত, হতে পারে জলোচ্ছ্বাস

    বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও শেষে মৌসুমী নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এজন্য সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

    শনিবার সন্ধ্যায় আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি পশ্চিমবঙ্গ-উড়িষ্যা উপকূলে অবস্থানরত মৌসুমী নিম্নচাপটি সামান্য উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছিল।

    শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৮০ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৮৫ কি.মি. পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬০ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩১০ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। আরও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শনিবার রাতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ-উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। নিম্নচাপটির ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মুহম্মাদ আবুল কালাম মল্লিক।

    তিনি আরও জানান, মৌসুমী নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ কি.মি. যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।

    উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

    তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত মানে হলো- বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগ কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার হতে পারে।

    আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং এর কাছাকাছি দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২ থেকে ৩ ফুটের বেশি উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

    উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।

    শ্রাবণের শুরুতে বৃষ্টি না থাকায় জনজীবনে যে নাভিশ্বাস উঠেছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। রাজধানীনহ প্রায় সারাদেশেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সবেচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে সন্দ্বীপে ১০৪ মিলিমিটার। এ সময়ে ঢাকায় ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে অন্যত্র প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে। বাংলা সনের আষাঢ় ও শ্রাবণ বর্ষাকাল। শনিবার শ্রাবণের ৬ তারিখ।

    শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে।

    এ সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

  • ব্যাংকের শেয়ারে আগ্রহ বেড়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের

    ব্যাংকের শেয়ারে আগ্রহ বেড়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের

    সাধারণ বিনয়োগকারীরা আস্থা হারালেও ব্যাংকের শেয়ারের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। ফলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ ব্যাংকের শেয়ার ক্রয় করছেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ধারণ নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ বছরের জুন মাস শেষে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংকের মধ্যে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ স্থির রয়েছে। বাকি ২৮টির মধ্যে ১৮টিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। আর ১০টি ব্যাংক থেকে কিছু বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

    জুন শেষে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর প্রায় ৫৫০ কোটি ৪৯ লাখ শেয়ার বিদেশিদের কাছে রয়েছে। বর্তমান বাজার দরে এসব শেয়ারের মূল্য প্রায় ৯ হাজার ৯৬৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

    প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যেসব ব্যাংকের শেয়ার নতুন করে কিনেছেন তার মধ্যে রয়েছে- এবি ব্যাংক, এশিয়া, সিটি, ঢাকা, ডাচ বাংলা, আইএফআইসি, ইসলামী, যমুনা, এমটিবি, এনসিসি, প্রিমিয়ার, পূবালী, শাহজালাল ইসলামী, এসআইবিএল, স্ট্যান্ডার্ড, ট্রাস্ট, ইউসিবি ও উত্তরা ব্যাংক।

    নতুন শেয়ার কেনায় সব থেকে বেশি বিনিয়োগ রয়েছে পূবালী ব্যাংকে। জুন মাস শেষে ব্যাংকটির ২৬ দশমিক ৫০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে। বর্তমান বাজার দরে এসব শেয়ারের দাম প্রয় ৫৮০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। মে মাস শেষে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ব্যাংকটির ২৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ শেয়ার ছিল। সে হিসাবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা পূবালী ব্যাংকের দশমিক ৬৪ শতাংশ বা প্রায় ৫০ লাখ শেয়ার নতুন করে কিনেছেন।

    দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্যাংক এশিয়াতে বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ রয়েছে প্রায় ৫৬৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ তাদের কাছে ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ৩১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ রয়েছে। মে মাসে এর পরিমাণ ছিল ৩০ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সে হিসাবে ব্যাংকটির দশমিক ১১ শতাংশ বা প্রায় ১২ লাখ শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নতুন করে কিনেছেন।

    প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যেসব ব্যাংকের শেয়ার নতুন করে কিনেছেন তার চিত্র :

    নাম জুন মাস শেষে প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা শেয়ার মে মাসে প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা শেয়ার বর্তমান বাজার দরে বিনিয়োগের পরিমাণ
    এবি ব্যাংক ২৬.৫০ শতাংশ ২৫.৮৬ শতাংশ ২৪১ কোটি ৮ লাখ টাকা
    ব্যাংক এশিয়া ৩১.০৫ শতাংশ ৩০.৯৪ শতাংশ ৫৬৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা
    সিটি ব্যাংক ১৯.২০ শতাংশ ১৮.৯৮ শতাংশ ৫৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা
    ঢাকা ব্যাংক ২৫.৮২ শতাংশ ২৪.২৭ শতাংশ ২৭২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা
    ডাচ বাংলা ৫.৯২ শতাংশ ৫.৫৫ শতাংশ ১৩৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা
    আইএফআইসি ২২.১৫ শতাংশ ২২.০৮ শতাংশ ৩৫৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা
    ইসলামী ব্যাংক ১০.৫৪ শতাংশ ১০.২৮ শতাংশ ৩৮৫ কোটি ২০ লাখ টাকা
    যমুনা ব্যাংক ৪.১০ শতাংশ ৪.০৭ শতাংশ ৪৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা
    এমটিবি ২২.৯৮ শতাংশ ২২.৮২ শতাংশ ৪২০ কোটি ৩১ লাখ টাকা
    এনসিসি ১৭.৯২ শতাংশ ১৭.৪৯ শতাংশ ২১৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা
    প্রিমিয়ার ব্যাংক ১৮.২১ শতাংশ ১৮.০৭ শতাংশ ১৫৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা
    পূবালী ব্যাংক ২৫.৪০ শতাংশ ২৫.৩৬ শতাংশ ৫৮০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা
    শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ১৭.০৮ শতাংশ ১৬.৯৫ শতাংশ ৩২২ কোটি ৮১ লাখ টাকা
    এসআইবিএল ৩৮.৪৮ শতাংশ ৩৮.০৩ শতাংশ ৪৭৫ কোটি ১ লাখ টাকা
    স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক ২১.৮০ শতাংশ ২০.৫২ শতাংশ ২১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা
    ট্রাস্ট ব্যাংক ১৬.০৯ শতাংশ ১৬.০৮ শতাংশ ২৪৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা
    ইউসিবি ১৮.৪৪ শতাংশ ১৮.২৭ শতাংশ ৩২৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা
    উত্তরা ব্যাংক ২১.৪১ শতাংশ ২০.৬৮ শতাংশ ২০২ কোটি ১৫ লাখ টাকা

    এদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যেসব ব্যাংকের কিছু শেয়ার ছেড়ে দিয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে- আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক, ইবিএল, এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, মার্কেন্টাইল, এনবিএল, ওয়ান, প্রাইম ও সাউথ ইস্ট ব্যাংক। এর মধ্যে তারা সব থেকে বেশি ছেড়ে দিয়েছেন এনবিএল’র শেয়ার। জুন মাসে ব্যাংকটির প্রায় ১০ কোটি শেয়ার ছেড়ে দিয়েছেন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। ছেড়ে দেয়া এ শেয়ার সংখ্যা ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অপরদিকে তারা ইবিএল’র শেয়ারের একটি অংশ ছেড়ে দিলেও এখনো এই ব্যাংকটিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সব থেকে বেশি বিনিয়োগ রয়েছে। জুন শেষে ব্যাংকটির ৪৩ দশমিক ৪২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে। বর্তমান বাজার দরে এসব শেয়ারের মূল্য প্রায় এক হাজার ২৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

    প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যেসব ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি করেছেন তার চিত্র :

    নাম জুন মাস শেষে প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা শেয়ার মে মাসে প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা শেয়ার বর্তমানে বাজার দরে বিনিয়োগের পরিমাণ

     

    আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ১৭.৮৪ শতাংশ ১৯.৪১ শতাংশ ৩৯৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা
    ব্র্যাক ব্যাংক ৮.৮৫ শতাংশ ৮.৮৯ শতাংশ ৬০৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা
    ইবিএল ৪৩.৪২ শতাংশ ৪৩.৪৭ শতাংশ এক হাজার ২৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা
    এক্সিম ব্যাংক ১৭.৮৭ শতাংশ ১৮.০৬ শতাংশ ২৯২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা
    ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ১৩.২০ শতাংশ ১৩.৩৫ শতাংশ ১০৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা
    মার্কেন্টাইল ব্যাংক ১৬.৩৫ শতাংশ ১৬.৯৬ শতাংশ ২১৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা
    এনবিএল ১৭ শতাংশ ২০.৮৩ শতাংশ ৪৩৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা
    ওয়ান ব্যাংক ১৪.৮৩ শতাংশ ১৪.৯৮ শতাংশ ১৭৬ কোটি ২০ লাখ টাকা
    প্রাইম ব্যাংক ২৪.৪০ শতাংশ ২৪.৭১ শতাংশ ৪২৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা
    সাউথ ইস্ট ব্যাংক ২৯.৮৯ শতাংশ ২৯.৯৩ শতাংশ ৪৫৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা

    তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাজার কোটি টাকার ওপরে বিনিয়োগ আছে মাত্র একটি ব্যাংকে। ৫০০ কোটি টাকার ওপরে বিনিয়োগ আছে চারটি ব্যাংকে। আর ১০০ কোটি টাকার নিচে বিনিয়োগ আছে মাত্র একটি ব্যাংকে।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকের অবস্থা খারাপ হলেও সার্বিকভাবে ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগ করা নিরাপদ। নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক আছে, যেগুলোর অবস্থা বেশি খারাপ। সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতের মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) এবং শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) খারাপ না। সুতরাং ব্যাংক খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করাটা খুব একটা আশ্চর্যের বিষয় না।

    তিনি বলেন, ব্যাংকের শেয়ার কেনার মাধ্যমে তারা একটি নিরাপদ অবস্থানে থাকছেন। এর মাধ্যমে তারা ঝুঁকিও নিচ্ছেন না, আবার ভালো মুনাফাও করতে পারছেন না। তবে অর্থনৈতিক দিক থেকে চিন্তা করলে, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ আসা ভালো। এ জন্য ভালো কোম্পানি বাজারে আসলে ওই কোম্পানির শেয়ার বেশি বেশি কেনা উচিত বলে আমি মনে করি। এতে ভালো কোম্পানিগুলো উৎসাহিত হবে।

  • বরগুনার এসপিকে সংবর্ধনা দিলেন সেলিনা হোসেন

    বরগুনার এসপিকে সংবর্ধনা দিলেন সেলিনা হোসেন

    পেশাগত কৃতিত্বের কারণে বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল পাওয়ায় বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাককে সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক ড. সেলিনা হোসেন ও তার প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ।

    শনিবার সকালে প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক ড. সেলিনা হোসেন প্রতিষ্ঠিত হলতা ডৌয়তলা ওয়াজেদ আলী খান ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কথা সাহিত্যিক ড. সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক।

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সহকারী পুলিশ সুপার (সদর) মো. নাজমুল ইসলাম, শিক্ষানবীশ এএসপি মো. রাজিবুল হাসান, বামনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহনেওয়াজ, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন খান মজনু, বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মনোয়ার, সাবেক সভাপতি চিত্তরঞ্জন শীল, হলতা ডৌয়তলা ওয়াজেদ আলী খান ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম টুকু, সাবেক ইউপি চেয়রম্যান শাহজালাল মৃধা, হলতা ডৌযাতলা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরুল হক খান, হলতা কুমির মারা আবু জাফর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনসহ ড. সেলিনা হোসেন পরিচালিত উন্নয়ন সংগঠন ফারিয়া লারা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ও ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ।

    প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১৪ জুন পুলিশ সুপার হিসেবে বরগুনায় যোগ দেন বিজয় বসাক। বরগুনায় যোগদানের পর থেকে জেলা পুলিশের উদ্যোগে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে নানামুখী সৃজনশীল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে পুলিশি সেবাকে জনবান্ধব করে গড়ে তোলেন তিনি। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানো, হতদরিদ্র অসহায় নারীদের জন্য বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি, জেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের স্কুলে মাদক ও জঙ্গিবাদ বিরোধী প্রচারণা ও ক্যারিয়ার ভাবনা বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠানসহ জেলার আইনশৃংখলা রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখায় পাঁচবার বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার নির্বাচিত হন বিজয় বসাক। এছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট পুলিশ ম্যাডেল এবং ২০১২ ও ২০১৬ সালে দুইবার তিনি আইজি ব্যাচ অর্জন করেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালে গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক’ পান তিনি।

  • শাহজালালে ২০ লাখ টাকার বিদেশি ওষুধ জব্দ

    শাহজালালে ২০ লাখ টাকার বিদেশি ওষুধ জব্দ

    আমদানি-নিয়ন্ত্রিত ২০ লাখ টাকার বিদেশি ওষুধ জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। আজ শনিবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে এসব ওষুধ জব্দ করা হয়।

    শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এসব ওষুধ হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, ব্লাড ক্যানসার ও নারীদের বন্ধ্যত্বজনিত সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

    শুল্ক গোয়েন্দা জানায়, যাত্রী শিরিন আক্তার দুবাই থেকে ইকে-৫৮২ ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকাল সাড়ে ১০টায় অবতরণ করেন। ৪ নম্বর বেল্ট থেকে লাগেজ সংগ্রহ করে স্ক্যানিং ফাঁকি দিয়ে গ্রিন চ্যানেল দ্রুত অতিক্রম করে চলে যাওয়ার সময় তাঁর গতিরোধ করা হয়। পরে কাস্টমস হলে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে থাকা দুটি লাগেজ খুলে বিদেশি ওষুধগুলো পাওয়া যায়, যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।
    ওষুধগুলো কাস্টমস গুদামে জমা দিয়ে এ ঘটনায় শুল্ক আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিরিন আক্তারের পাসপোর্টও জব্দ করা হয়েছে।
    প্রসঙ্গত, আমদানি নীতি অনুযায়ী, ঔষধ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বিদেশি ওষুধ আমদানি করা যায় না।

  • বরগুনার হরিণঘাটা বনাঞ্চল

    বরগুনার হরিণঘাটা বনাঞ্চল

    ঘুরতে সবারই ভালো লাগে। তবে তা যদি হয় বনাঞ্চল কিংবা সমুদ্রসৈকত। তাহলে তো কোনো কথাই নেই। তাই সময়-সুযোগ বুঝে ঘুরে আসতে পারেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার হরিণঘাটা থেকে।

    অবস্থান: বরগুনার পাথরঘাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর ও পায়রা বন্দর। এর পূর্বে বিষখালী আর পশ্চিমে বলেশ্বর নদের মোহনায় অবস্থিত হরিণঘাটা বনাঞ্চল।

    নামকরণ: বড় প্রজাতির মায়াবী চিত্রল হরিণের বিচরণস্থল হওয়ায় এ বনের নামকরণ করা হয়েছে হরিণঘাটা বনাঞ্চল।

     

    বনায়ন: ১৯৬৭ সাল থেকে বন বিভাগের সম্প্রসারণে নানা প্রজাতির গাছ রোপণের মাধ্যমে বনটি সৃষ্টি করা হয়। বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার একরজুড়ে দৃষ্টিনন্দন এ বনে কেওড়া, গেওয়া, পশুরসহ সুন্দরী ও ঝাউবন রয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এখানে ২০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে বনায়ন করা হয়। এছাড়া সাগর তীরে লালদিয়ার চরে নতুন বন হওয়ায় পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। এটি এখন বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য।

     

    প্রাণী: বিভিন্ন বৃক্ষরাজির সুবাদে বনের পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। তবে নেই কোন হিংস্র প্রাণী। আছে হরিণ, বনমোরগ, বানর, শুকর, গুইসাপ, লাল কাঁকড়া। এছাড়া রয়েছে নানা প্রজাতির সরীসৃপসহ প্রায় ৩৫ প্রজাতির পাখি। এমনকি হরেকরকম পাখির কলকাকলিতে মুখরিত চারপাশ।

     

    সৈকত: ঘন বন আর সবুজে ছাওয়া বনের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে লালদিয়া, পদ্মা, লাঠিমারা সৈকত। সূর্যাস্ত এবং সূর্যোদয়ের দৃশ্য দেখার জন্য এরচেয়ে ভালো পরিবেশ আর নেই।

    দর্শন: সাগরের তীর দেখার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ফুট ট্রেইল। এছাড়া বনের ভেতর নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, বিশ্রামাগার ও গোলঘর। এ বনের সবেচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো- বনের ভেতরে এঁকেবেঁকে বয়ে চলা ছোট-বড় প্রায় ১০-১২টি খাল। জোয়ারের সময় খালগুলো পানিতে পরিপূর্ণ থাকে। ছোট ছোট নৌকায় করে উপভোগ করা যায় বনের মধ্যকার সবুজের সমারোহ।