Category: জাতীয়

  • শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ প্রিয়াঙ্কা

    শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ প্রিয়াঙ্কা

    রোহিঙ্গা শিশুদের আশ্রয় ও শিক্ষার সুযোগ দেয়ায় জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংস্থাটির শুভেচ্ছা দূত প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।

    বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে এ কৃতজ্ঞতা জানান প্রিয়াঙ্কা। এ সময় রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য সোচ্চার হতে জাতিসংঘের হয়ে বিশ্ববাসীর প্রতি আবেদন রেখে প্রিয়াঙ্কা বলেন, বিশ্বের কোনো শিশুরই যেন রোহিঙ্গা শিশুদের মতো অবস্থা না হয়।

    Priyanka-PM-3

    কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে ফিরে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজের এ বার্তা দেন বলিউড অভিনেত্রী ও শিশু অধিকারে আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান কর্মী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া।

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারের ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার মানবেতর জীবনযাপনে বাংলাদেশের মাটিতে প্রতিদিন গড়ে ৬০ রোহিঙ্গা শিশুর জন্মের মতো জটিল সংকট নিরসনে বিশ্ববাসীর জোরালো অবস্থান প্রয়োজন।

    বাংলাদেশে ৪ দিনের সফর শেষে আজই ঢাকা ছাড়বেন প্রিয়াঙ্কা।

  • টেলিফোনে মাহমুদ আব্বাসের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    টেলিফোনে মাহমুদ আব্বাসের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে টেলিফোনে কথা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসুস্থ প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাসের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

  • ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করে আতঙ্কে কর্মীরা

    ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করে আতঙ্কে কর্মীরা

    ক্ষুদ্রঋণের প্রবক্তা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করে চাকরি হারানোর আতঙ্কে রয়েছেন কর্মীরা। বকেয়া পরিশোধ না করায় গ্রামীণ টেলিকমের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসানের বিরুদ্ধে গত বছর ৬৫টি মামলা করেন ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। মামলা করার পর থেকে তাদের চাকরিচ্যুতির হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    চাকরিচ্যুতির হুমকিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন মামলা দায়ের করা কর্মীরা। তারা বাংলার মুখ ২৪ ডট কমকে বলেন, ‘এখন চাকরিচ্যুত হলে আমরা কীভাবে চলব, পরিবার-পরিজন নিয়ে কোথায় যাব? শেষমেষ না খেয়ে মরা ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় থাকবে না।’

    সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল হাসান মামলা দায়েরকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমরা ওয়ার্কার পার্টিসিপেটের টাকা চাও। এটা কোর্ট (আদালত) নির্ধারণ করবে; তোমরা পাবা কি পাবা না? এর পরের স্টেপটা কী? কোর্ট যদি বলে দিয়ে দিতে আমরা দিয়ে দেব। আর যদি না বলে, আমরা দেব না। আমার ধারণা তোমরা এতে জিতে যাবা। কারণ কোর্ট সবসময় ওয়ার্কারদের পক্ষে থাকে। কেসের (মামলা) ভেতরে গেলে একটা রায় হবে। রায় হওয়ার পরের দিন কী হবে? যারা কেস করেছে তাদের আমরা আর রাখব না। এটা পরিষ্কার সিদ্ধান্ত।’

    তিনি আরও বলেন, ‘লোয়ার কোর্টের (নিম্ন আদালত) এসব ছোটখাট আদেশ দিয়ে লাফালাফি করার কিছু নাই। এটা উচ্চ আদালতে গিয়ে স্থগিত হয়ে যাবে। এই ঝামেলার মধ্যে না যাওয়ার জন্য তোমাদের আবারও অনুরোধ করছি। মামলার রায় পেলে তোমরা মনে করছ, এইটা সব চাইতে সিকিউরড (নিরাপদ)। কিন্তু এটা সব চাইতে আন-সিকিউরড (অনিরাপদ)। আমরা চাচ্ছি এটা দ্রুত নিষ্পত্তি হোক। যারা কেস করবে তাদের নিশ্চিত বিদায় নিতে হবে। এটা ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত।’

    ‘হুমকি’ দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান। তিনি বলেন, ‘যারা মামলা করেছেন তাদের তো কোনো হুমকি দেয়া হয়নি। তারা পাওনা টাকার জন্য মামলা করেছেন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন আদালত। আমরা তো আদালতের বাইরে নই। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমরা তা মাথা পেতে নেব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘চার মাসের বেতন দিয়ে যে কাউকেই চাকরিচ্যুত করা যায়, আইনে এমন বিধান রয়েছে। এতে হুমকি দেয়ার কী আছে?’

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মামলার এক বাদী  বলেন, বকেয়া টাকা পাওয়ার জন্য আমরা আদালতে মামলা করেছি। এটা তো আমাদের প্রাপ্য অধিকার। মামলা করে যদি চাকরি হারাতে হয়, তা হলে আমরা কার কাছে যাব? আদালত তো মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল।’

    তিনি বলেন, জীবনের মাঝপথে এসে চাকরি হারালে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব, কীভাবে চালাব পরিবার? আমাদের তো না খেয়ে মরতে হবে!

    গ্রামীণ টেলিকমে কর্মরত অপর এক কর্মী বলেন, ‘বর্তমানে গ্রামীণ টেলিকমে স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১২০। এছাড়া ট্যালেন্ট সেন্ট্রিক নামক একটি থার্ড পার্টির ২৫ কর্মী এখানে কার্মরত আছেন। বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী পদে থার্ড পার্টি বা চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ দেয়া যায় না। কিন্তু সেটি মানা হচ্ছে না। এ কারণে আমরা আরও বেশি আতঙ্কগ্রস্ত।’

    ‘যে কোনো সময় আমাদের সরিয়ে থার্ড পার্টি থেকে কর্মী এনে কার্যক্রম শুরু করবে গ্রামীণ টেলিকম’- শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

    এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী জাফরুল হাসান শরীফ বলেন, ‘যারা মামলা করেছেন তাদের চাকরিচ্যুত করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    প্রসঙ্গত, বকেয়া পরিশোধ না করায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ৬৫টি মামলা দায়ের করেন তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি গ্রামীণ টেলিকমের বর্তমান কর্মীরা। গত বছরের মার্চে তারা ঢাকার শ্রম আদালতে মামলাগুলো করেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ১৪ কর্মী আরও ১৪টি মামলা করেন পাওনা টাকার জন্য।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণ টেলিফোনে এক-তৃতীয়াংশ শেয়ার রয়েছে গ্রামীণ টেলিকমের। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব পল্লীফোন ছাড়াও নকিয়া ও হুয়াওয়ের সার্ভিস দিয়ে থাকে।

    প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা কর্মীদের মাঝে বণ্টন করে দেয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ টেলিকমের মুনাফা হয়েছে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু এ মুনাফা কর্মীদের পরিশোধ করা হয়নি। গত দশকে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ২১ হাজার কোটি টাকার পাঁচ শতাংশ অর্থাৎ ১০৮ কোটি টাকা কর্মী ও সরকারকে দেয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওই অর্থের ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের পরিশোধ, ১০ শতাংশ সরকার এবং ১০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের কল্যাণ ফান্ডে জমা দেয়ার কথা।

    মামলায় গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান এবং এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিবাদী করা হয়েছে।

    দারিদ্র্য বিমোচনে বিশেষ অবদানের জন্য ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

  • মাদকবিরোধী অভিযান: ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সারাদেশে আরো ৯জন নিহত

    মাদকবিরোধী অভিযান: ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সারাদেশে আরো ৯জন নিহত

    সারাদেশে পুলিশ ও মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৯ মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ফেনীতে দুইজন, মাগুরায় দুইজন, আখাউড়ায় একজন, নারায়ণগঞ্জে একজন, কুমিল্লায় দুইজন। আহত হয়েছেন ৯ পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এ ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটে।
    বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
    ফেনী : বৃহস্পতিবার ভোরে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সীমান্তবর্তী জাম্বুড়া এলাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। এসময় মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন- সামিরান শামীম উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের মাইজ গ্রামের মোহাম্মদ মোস্তফার ছেলে ও অপরজন ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের মনতলা গ্রামের মুত ফটিক মিয়ার ছেলে মজনু মিয়া ওরফে মনির।
    মাগুরা : মাগুরা পৌর এলাকায় বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজেদের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- মাগুরা পৌর এলাকার মিজানুর রহমান কালু (৪৫) ও নিজনান্দুয়ালী গ্রামের আইয়ুব হোসেন (৫০)। মিজানুর রহমান কালুর নামে ২১টি এবং আইয়ুব হোসেনের নামে ১৮টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
    কুমিল্লা : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ বাবুল প্রকাশে লম্বা বাবুল (৩৮) এবং সদর দক্ষিণে রাজিব (২৮) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন আমানগন্ডা সলাকান্দা নতুন রাস্তার মাথায় এবং রাত সোয়া ২টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম পুুরাতন ট্যাংক রোডের গোয়ালমথন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী বলে পুলিশ দাবি করেছে। উভয় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র ও মাদক।
    সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে এক মাদক ব্যবসায়ীর (৪০) গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ওই লাশের পাশ থেকে এক বস্তা ফেনসিডিল, একটি রিভলবার, একটি বন্দুকের গুলির খোলা ও একটি রাইফেলের গুলির খোসা উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের চৌবাড়িয়া এলাকা থেকে ওই লাশটি উদ্ধার করা হয়।
    নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ সেলিম ওরফে ফেনসিডিল সেলিম নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ সময় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস ছাত্তার, ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম, ওসি (অপারেশন) আজিজুল হক, উপ-পরিদর্শক ইব্রাহীম, কনেস্টবল সাইদুল ও জাহাঙ্গীরসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি শুটার গান, একটি গিয়ার চাক্কু, ৫শত ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। এর আগেও একবার পুলিশের এক কর্মকর্তাকে কুপিয়ে আহত করেছিলেন ফেনসিডিল সেলিম। বৃহস্পতিবার ভোর ৩টায় সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ নিমাইকাসারী ক্যানেলপাড় বজলুখানের খালি জায়গায় এ ঘটনা ঘটে।
    ব্রাহ্মণবাড়িয়া : বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক বিক্রেতা ও হত্যা মামলার আসামি আমির খাঁ নিহত হয়েছেন। নিহত আমির উপজেলার চানপুর এলাকার মৃত সুরুজ খাঁর ছেলে। এ সময় আখাউড়া থানা পুলিশের এএসআই ও দুই জন কনস্টেবল আহত হয়েছেন।ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি পাইপগান, একটি কাতুর্জ, একটি রামদা, ১০ কেজি গাঁজাসহ ৮টি স্কফ সিরাপ উদ্ধার করেছে।
  • কানাডিয়ান আদালত বিএনপিকে সঠিকভাবেই মূল্যায়ন করেছে : জয়

    কানাডিয়ান আদালত বিএনপিকে সঠিকভাবেই মূল্যায়ন করেছে : জয়

    কানাডিয়ান আদালত বিএনপিকে সঠিকভাবেই বারবার মূল্যায়ন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

    বুধবার নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা লিখেছেন।

    JOY

    একটি সংবাদ শেয়ার করে তার সঙ্গে লিখেছেন, ‘২০১৩ ও ২০১৫ সালে বিএনপি-জামাত যাত্রীবাহী পরিবহনে নিরীহ জনগণের ওপর নির্বিচারে অগ্নিসন্ত্রাস চালায়। বাস, ট্রেন, গাড়ি ও অটোরিকশায় তাদের পেট্রল বোমা আক্রমণে নিহত হয় শত শত নারী, পুরুষ ও শিশু। আরও হাজারো মানুষজন আহত হয়, যাদের মধ্যে অনেকেই আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছেন।’

    তিনি আরও লিখেছেন, ‘অন্য যেকোনো দেশেই বিএনপিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যায়িত করে তাদের সব সদস্যদের জেলে ভরা হতো। কানাডিয়ান আদালত তাদেরকে সঠিকভাবেই বারবার মূল্যায়ন করেছে : একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে।’

  • লাইসেন্স ছাড়া চলছে ড. ইউনূসের কোম্পানি

    লাইসেন্স ছাড়া চলছে ড. ইউনূসের কোম্পানি

    কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর থেকে রেজিস্ট্রেশন-লাইসেন্স গ্রহণ না করেই চলছে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি গ্রামীণ টেলিকম। নোটিশ পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন-লাইসেন্স গ্রহণ করতে বলা হয়। কিন্তু পাঁচ মাসেও তা গ্রহণ করেনি গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষ।

    এদিকে রেজিস্ট্রেশন-লাইসেন্স নেয়ার ব্যর্থতায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয় থাকলেও তা এখনও নেয়নি অধিদফতর।

    তবে গ্রামীণ টেলিকম কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা রেজিস্ট্রেশন-লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। অধিদফতর থেকে রেজিস্ট্রেশন লাইসেন্স নিতে হবে, তা আগে জানা ছিল না।

    এছাড়া ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর গ্রামীণ টেলিকম প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিন পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এবং বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ এর বিধির আরও ১২টি লঙ্ঘন দেখতে পান কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর।

    লঙ্ঘিত আরও ১২ বিধি হলো

    ১. প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক/কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত নিজস্ব নিয়োগবিধি থাকলেও তা মহাপরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত নয়।

    ২. আইনের বিধান মোতাবেক শ্রমিকদের স্থায়ী করা হয়নি।

    ৩. বিধি মোতাবেক কর্মচারীদের নিয়োগপত্র ও ছবিসহ পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়নি।

    ৪. বিধি মোতাবেক কর্মচারীদের জন্য সার্ভিস বইয়ের ব্যবস্থা করা হয়নি।

    ৫. প্রতিষ্ঠানে বিধি মোতাবেক পদ্ধতিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি।

    ৬. নির্ধারিত ফরম-৩৪ ছক অনুযায়ী শ্রমিক/কর্মচারীদের দৈনিক হাজিরা ও অধিকাল কাজের রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি।

    ৭. নির্ধারিত ফরম-৩৭ ছক অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের প্যাডে কর্মচারীদের কাজের সময়সূচির নোটিশ পরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত নয়।

    ৮. শ্রমিক/কর্মচারীদের আইনের বিধান অনুযায়ী ছুটি নগদায়নের সুবিধা প্রদান করা হয়নি।

    ৯. বিধি অনুযায়ী কর্মচারীগণকে মজুরিসহ প্রতি ১৮ দিন কাজের জন্য একদিন বাৎসরিক ছুটি প্রদান করা হয় না।

    ১০. বিধি মোতাবেক নির্ধারিত ফরম-৯ ছক অনুযায়ী ছুটির রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না।

    ১১. অংশগ্রহণ তহবিল ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়নি এবং নিট লভ্যাংশের পাঁচ শতাংশ দুটি তহবিল ও শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন-২০০৬ অনুযায়ী গঠিত তহবিলে নির্দিষ্ট হারে (৮:১০:১০) জমা প্রদান করা হয় না।

    ১২. কোম্পানির পলিসি অনুযায়ী সাপ্তাহিক ছুটি দুদিন প্রদান করা হলেও অফিস আদেশের মাধ্যমে শুধুমাত্র সার্ভিস বিভাগে যারা কর্মরত আছেন, তাদের সাপ্তাহিক ছুটি দুদিনের পরিবর্তে একদিন করা হয়েছে।

    বিধিসমূহ বাস্তবায়নের জন্য গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান, পরিচালক এস এম হুজ্জাতুল ইসলাম লতিফী, নুরজাহান বেগম, শাহজাহান, পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, মহাব্যবস্থাপক (জিএম) নাজমুল ইসলাম ও সিনিয়র ম্যানেজার অ্যাডমিন অ্যান্ড এইচ আর ফারজানা রফিকে নোটিশ দেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের পুরানা পল্টন কার্যালয়ের সহকারী মহাপরিদর্শক (সাধারণ) আবুল হাজ্জাত সোহাগ।

    নোটিশে বলা হয়, আপনাদের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে ১৩টি বিধির লঙ্ঘন দেখা যায়। লঙ্ঘনসমূহ নোটিশ পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করে দফতরকে অবহিত করার জন্য বলা হলো। ব্যর্থতায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

    এ বিষয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের অতিরিক্ত সচিব সামছুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘পরিদর্শনকালে দেখা যায়, শ্রম বিধিমালার ১৩টি বিধি লঙ্ঘন করেছে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকম। এত বড় প্রতিষ্ঠানের এত লঙ্ঘন মানা যায় না। বিধি লঙ্ঘনের জন্য ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।’

    তবে তিনি এ-ও বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন লাইসেন্স গ্রহণের জন্য তারা ইতোমধ্যে একটি আবেদন করেছে। তা যাচাই-বাছাই চলছে।’

    গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান এ বিষয়ে জাগো নিউজকে বলেন, ‘কলকারখানা জন্য আগে এ আইনটা ছিল; এখন এ আইনে প্রতিষ্ঠান যোগ করা হয়েছে। আইনের বিষয় আমাদের আগে জানা ছিল না। আমরা এখন রেজিস্ট্রেশন-লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছি। অন্যান্য লঙ্ঘনের বিষয়েও আমরা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।’

    তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানির আইনে লভ্যাংশ প্রদানের ব্যবস্থা নেই। লভ্যাংশের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত বিধিমালা অনুমোদনের জন্য মহাপরিদর্শকের কার্যালয় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ টেলিকমের প্রতিটি কর্মী স্থায়ী কর্মী হিসেবে বিবেচিত এবং সেই সুবিধা পেয়ে আসছেন।’

  • মাদক সম্রাট সংসদেই আছে, তাদের ফাঁসি দেন

    মাদক সম্রাট সংসদেই আছে, তাদের ফাঁসি দেন

    মাদক নির্মূলের নামে বন্দুকযুদ্ধে নির্বিচারে হত্যার কঠোর সমালোচনা করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, মাদক নির্মূলের নামে যাদের হত্যা করা হচ্ছে তারা কারা আমরা জানি না। মাদক সম্রাট তো সংসদেই আছে। তাদের বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝোলান।

    বুধবার কাকরাইলে ইন্সটিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এরশাদ বলেন, এভাবে বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করতে পারেন না। প্রত্যেক নাগরিকেরই সাংবিধানিকভাবে বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। কোথাও এর (ক্রসফায়ার) নজির নেই। বিশ্ব এটা মেনে নেবে না। মাদক নিমূর্লে আগামী সংসদ অধিবেশনই সর্ব্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে আইন করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান তিনি।

    ঢাকা শহরের যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যানজটের কারণে প্রতিদিন ৫১ লাখ ঘণ্টা অপব্যয় হচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দেশ। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এলে এগুলো বাস্তবায়ন করে ঢাকাকে যানজট মুক্ত করব।

    এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলের নেতা ও দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, জহিরুল আলম রুবেল প্রমুখ।

  • নিজেই অকার্যকর ‘নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’

    নিজেই অকার্যকর ‘নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’

    প্রতিষ্ঠার তিন বছর পার হলেও জনবল ও সরঞ্জাম সংকটে কার্যকর হতে পারছে না বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এতদিনে সারাদেশের জন্য মাত্র ৩৬৫ জনবলের অনুমোদন পেয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া ল্যাবরেটরিসহ অন্যান্য সহায়ক সরঞ্জামও নেই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাটির।

    সংস্থার কর্মকর্তারা জানান, সারাদেশে কর্তৃপক্ষের জন্য এক হাজার চারজন জনবল চেয়ে আবেদন করা হয়। কিন্তু অনুমোদন মিলেছে ৩৬৫ জনের। কর্তৃপক্ষের আইনে থাকা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের পদটি বাদ দিয়ে জনবল কাঠামোর অনুমোদন দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

    একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে সাংগঠনিক কাঠামোতে সাতটি বিভাগের প্রস্তাব করা হলেও তিন বিভাগের অনুমোদন মিলেছে। ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’ এ থাকা জনবলের সম্মতিও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া যায়নি। আন্তঃসংস্থা সমন্বয়ের অভাবে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা।

    ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’ প্রণয়ন করা হয়। আইনে বলা হয়েছে, বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতকরণে খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, সরবরাহ, বিপণন ও বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ এবং এজন্য একটি দক্ষ ও কার্যকর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে এ আইন করা হয়েছে।

    ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’ বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। একদিন পর ২ ফেব্রুয়ারি ‘নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’ গঠন করে গেজেট জারি করা হয়।

    কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া এ প্রসঙ্গে  বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়েছে। আমরা সবাই এটি চাচ্ছিলাম। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি তাদের যেভাবে কাজ করার কথা তারা সেভাবে কাজ করতে পারছে না। কারণ তাদের লোকবল নেই, নেই লজিস্টিক সাপোর্টও।’

    তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে বিজ্ঞপ্তি দেয়াসহ বিভিন্ন কাজ তারা (কর্তৃপক্ষ) করছে। আমরা মনে করি কর্তৃপক্ষকে ইফেক্টিভ (কার্যকর) করতে যত ধরনের সাপোর্ট আছে সরকার তা দেবে।’

    নিরাপদ খাদ্য আইনের অধীনে ২৩টি বিভিন্ন অপরাধে এক থেকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা চার থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসীকল্যাণ ভবনে ভাড়া করা ফ্লোরে কর্তৃপক্ষের অফিস চলছে।

    বর্তমানে কর্তৃপক্ষের জনবলের মধ্যে একজন চেয়ারম্যান, চারজন সদস্য, একজন সচিব, চারজন পরিচালক, চারজন উপ-সচিবসহ মোট ১৬ সদস্য রয়েছেন। কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়, আটটি মেট্রোপলিটন ও ৬৪টি জেলা কার্যালয়ের জন্য যে জনবল অনুমোদন দেয়া হয়েছে, তাতে এটি আইনের উদ্দেশ্য পূরণে ভূমিকা রাখতে পারবে না বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা।

    নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হক  বলেন, ‘আমাদের ৩৬৫ জনবলের একটি প্রস্তাব সরকার অনুমোদন দিয়েছে। আমরা এক হাজার চারজন জনবল চেয়েছিলাম। এখন আমরা নিয়োগ বিধিমালা প্রণয়ন করছি। বিধিমালাটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) আছে। ভেটিং হয়ে আসলে আমরা নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করব।’

    তিনি বলেন, ‘আমাদের লোকবল অপর্যাপ্ত। আমরা সরকারের কাছে পুনরায় আবেদন করছি যাতে আমাদের (পদ সৃষ্টি সংক্রান্ত) প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করা হয়। আমরা শিগগিরই একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব দেব। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি কমিটিও করা হয়েছে, তারা আমাদের সাংগঠনিক কাঠামোটা পর্যালোচনা করবে, সুপারিশ করবে।’

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন করা জনবল কাঠামোতে খাদ্য পরিদর্শকের পদটিও নেই জানিয়ে কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন, ‘নিজস্ব খাদ্য পরিদর্শক ছাড়া কীভাবে কাজ চলবে? এটা একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

    কর্তৃপক্ষের নিজস্ব কোনো ল্যাবরেটরি নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিজস্ব রেফারেন্স ল্যাবরেটরি করার জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব আমরা তৈরি করছি। এটি সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে করা হবে।’

    নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতায় কর্তৃপক্ষ নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। এছাড়া কর্তৃপক্ষ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান মাহফুজুল হক।

    প্রয়োজনীয় লোকবল ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে যে ভূমিকা রাখার কথা, কর্তৃপক্ষ সেটা রাখতে সক্ষম হবে বলেও জানান তিনি।

    খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব শাহাবুদ্দিন আহমদ  বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রাথমিকভাবে জনবল নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এটি যাত্রার খুব বেশিদিন হয়নি। আমরা চেষ্টা করছি, নানাভাবে উদ্যোগ নিয়ে এটাকে আরও কীভাবে কার্যকর করা যায়। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। একটু সময়ও তো দিতে হবে।’

    কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে তিন হাজার ৩৬৫ জনের জনবল কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছিল। পরে উপদেষ্টাপরিষদ (খাদ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা পরিষদ) জনবল কমিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। সে অনুযায়ী এক হাজার চারজনের প্রস্তাব করা হয়।’

    তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়, মেট্রোপলিটন ও জেলা কার্যালয়ের জন্য ৪২২টি পদ রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে সৃজনে সম্মতি দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। পরবর্তী সময়ে অর্থ বিভাগ থেকে আরও কমিয়ে ৩৬৫ জনের সম্মতি পাওয়া যায়।’

    আরও জানা গেছে, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ থেকে প্রস্তাবিত জনবল কাঠামোতে সাতটি বিভাগের প্রস্তাব করে সাতজন পরিচালক নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়। ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’ এর ১৪ (৪) ধারায় পাঁচটি বিশেষায়িত বিভাগের নেতৃত্বে পাঁচজন পরিচালক নিয়োজিত থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তিনজন পরিচালকের নেতৃত্বে তিনটি বিভাগের সম্মতি দেয়া হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, ৭০ জন নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রস্তাবিত জনবলে পরিদর্শকের পদ নেই। অথচ আইনের ৫১ ধারায় নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক নিয়োগ ও দায়িত্ব প্রদানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। মাঠপর্যায়ে খাদ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন, নমুনা সংগ্রহ, সন্দেহজনক খাদ্যদ্রব্য জব্দ বা ধ্বংস করা; এককথায় নিরাপদ খাদ্য কার্যক্রম বাস্তবায়নে নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যক।

    নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক মো. ইকবাল রউফ মামুন  বলেন, ‘যেগুলো করলে আইনটি (নিরাপদ খাদ্য আইন) সঠিকভাবে আমরা প্রয়োগ করতে পারব, এর সিংহভাগ লজিস্টিক সাপোর্ট আমাদের দেশে নেই। আমাদের নিজস্ব ল্যাবরেটরি নেই। দেশে অ্যাক্রেডিটেড ল্যাবও নেই।’

    তিনি বলেন, ‘আমাদের লোকবল নেই, এছাড়া ইন্সট্রুমেন্ট না থাকলেও তো আমরা কাজ করতে পারব না।’

    ‘আমাদের নিজস্ব ইন্সপেক্টর নেই। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকারের সাড়ে ৭০০ স্যানিটারি ইন্সপেক্টরকে নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ ইন্সপেক্টরদের কাজ আর নিরাপদ খাদ্য ইন্সপেক্টরদের কাজ এক নয়। আমরা তাদের ট্রেনিং দিচ্ছি।’

    কর্তৃপক্ষের দুটি বিধিমালা ও চারটি প্রবিধানমালা প্রকাশিত হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক ইকবাল রউফ বলেন, ‘এছাড়া আরও তিনটি প্রবিধানমালা প্রণয়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কাজ করার জন্য এগুলো জরুরি। আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে আমরা কাজ করছি।’

    কর্তৃপক্ষের সদস্য বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে আমাদের বলতে গেলে কিছুই নেই। একটি মোবাইল ল্যাবরেটরি কেনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। এটা কিনতে পারলে বাজারে গিয়ে কুইক টেস্টের মাধ্যমে স্ক্রিনিং করা যাবে। লজিস্টিকগুলো হাতে পেলে কাজে গতি আসবে এবং আমাদের তৎপরতা দৃশ্যমান হবে।’

    আইন অনুযায়ী নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করা সব কর্তৃপক্ষের মধ্যে কো-অর্ডিনেশনের দায়িত্ব নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জানিয়ে ইকবাল রউফ মামুন বলেন, ‘সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার বিষয়টি একটি চ্যালেঞ্জ। ইতোমধ্যে আমরা মৎস্য অধিদফতর, প্রাণিসম্পদ অধিদফতর, কৃষি বিপণন অধিদফতর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছি। আরও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে এমওইউ খসড়ার পর্যায়ে রয়েছে। এতে বলা থাকবে, তারা কোন কাজগুলো করবেন এবং আমাদের কীভাবে সহযোগিতা করবেন।’

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, কাজের ধরন, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে জনবল অনুমোদন দেয়া হয়। সরকারের যাতে ভালো হয় সে বিষয়টি মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনবল অনুমোদনের ক্ষেত্রে যাতে একই কাজের জন্য দুই ধরনের জনবল না হয়ে যায়, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়া হয়।

  • ৪০ মদাক বিক্রেতা নিহত, অন্যায়ভাবে গুলি হলে প্রতিকার মিলবে: এইচটি ইমাম

    ৪০ মদাক বিক্রেতা নিহত, অন্যায়ভাবে গুলি হলে প্রতিকার মিলবে: এইচটি ইমাম

    মাদকবিরোধী অভিযানে কাউকে অন্যায়ভাবে গুলি করা হলে তার স্বজনদের প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

    গত ৪ মে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সাড়াঁশি অভিযানে ৪০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন মাদক বিক্রেতা নিহতের ঘটনাটি নিয়ে বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাৎকার দেন ইমাম।

    এই অভিযানে যারা নিহত হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনও নিরপরাধ মানুষ নেই- এটা কীভাবে নিশ্চিত হচ্ছেন? এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আসামি নিহত হওয়ার প্রতিটি ঘটনার পর পরই মামলা করা হয়। এর ওপর তদন্ত চলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জবাবদিহি করতে হয়’।

    ‘যে ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দিয়েছেন তাকেও রিপোর্ট পাঠাতে হয়। পোস্টমর্টেম হয়।’

    ‘তবে কাউকে যদি অন্যায়ভাবে গুলি করা হয়, তাহলে তার আত্মীয় স্বজন সুবিচারের জন্য আইনের আশ্রয় চাইতে পারেন।’

    মাদক চোরাচালানী, বিক্রেতা বা মাদক ব্যবহারকারীই হোক, সংবিধানে সব নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং সংবিধান অনুযায়ী সবার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে- এ প্রসঙ্গে ইমাম জানান, ২২০০ জনকে আদালতের মাধ্যমেই বিচারে মুখোমুখি করা হয়েছে। ছয়শ মাদক কারবারি ও মাদক সেবনকারীকেও স্বাভাবিক বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়েছে।

    ‘তবে যদি কোন ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে থাকে, কোন নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে যদি এরকম হয়ে তাকে, তাহলে অবশ্যই তার বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। তেমন ঘটনা ঘটলে সরকার অবশ্যই তা দেখবে।’

    অন্য এক প্রশ্নে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত সাবেক সচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ভেতরে কেউ যদি মাদকের সাথে যুক্ত থাকে তাকেও ছাড় দেয়া হবে না।’

    এই অভিযান হঠাৎ করে হয়নি

    মাদক নির্মূলে অভিযান হঠাৎ করে হয়নি জানিয়ে ইমাম বলেন, এর পেছনে রয়েছে মাদক সমস্যার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করার জন্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অভিপ্রায়।

    এই অভিযানের পটভূমি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘এ বছর অন্তত তিনটি বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার কথা বলেছিলেন। তার ধারাবাহিকতাতেই এ অভিযান চলছে।’

    মাদকের সামাজিক ঝুঁকি বর্ণনা করে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘মাদক পাচারের সাথে মানবপাচার এবং বেআইনি অস্ত্রের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। প্রথমে আসে মানবপাচার, মানবপাচারের হাত ধরে আসে মাদকপাচার এবং এই দুটিকে রক্ষা করার জন্য বেআইনি অস্ত্র আসে।’

    এই অভিযানের সাফল্য বর্ণনা করে ইমাম জানান, প্রথম ১৮ দিনে ২২০০ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট এবং বিচারিক আদালতে ৬০০ জন মাদক বিক্রেতা ও ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে মোট ৪৮৬টি মামলা করা হয়েছে।

    এই অভিযান এর আগে শুরু হয়নি এবং মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে কেন এই অভিযান?- এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মেয়াদ এখনই শেষ হয়ে যায়নি।’

    ‘মাদক সমস্যা একটি রোগের মতো। রোগ যখন চরম আকার ধারণ করে তখন সবার টনক নড়ে। তাই একে এর বেশি বাড়তে দেয়া যায় না।’

    ইমাম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে সাফল্য না এলে আগামী নির্বাচনে ওপর তার মারাত্মক ও প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে।

    নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অভিযান চালানো হচ্ছে কি না, এই সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন তিনি সরাসরি নাকচ করে দেন।

    বলেন, চলতি বছরের গোড়া থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। জানুয়ারি মাসে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নানা ধরনের সামাজিক সমস্যার মধ্যে মাদককে গুরুতর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন।

    ‘এরপর পুলিশের দ্বিতীয় আরেকটি অনুষ্ঠানে এবং তৃতীয়বার গত মাসে সারদায় পুলিশ ট্রেনিং একাডেমিতে ভাষণেও তিনি মাদক সমস্যার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।’

    গত ১১ মে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে ভাষণ দেয়ার সময় শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসের পাশাপাশি মাদক সমস্যা থেকে ছাত্র সমাজকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

    ‘ওই ভাষণেই তিনি (প্রধানমন্ত্রী) জানান যে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তিনি ইতোমধ্যেই র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।’

    গত ৩ মে র‌্যাব সদরদপ্তরে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিবাদের মতো সমস্যার মোকাবেলায় র‌্যাব যেমন সাফল্য দেখিয়েছে, তেমনি মাদক চোরাচালানী বা মাদক কারবারের বিরুদ্ধে র‌্যাব কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে।

    এইচ টি ইমাম বলেন, ‘মাদক তৈরি, বিক্রি, পরিবহন এবং সেবনের সাথে যারা জড়িত তাদের সবাই সমানভাবে দোষী বলে প্রধানমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন। মূলত এর পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর এই বিশেষ অভিযান শুরু হয়।’

  • রোহিঙ্গা শিশুর সঙ্গে বাংলায় কথা বললেন প্রিয়াঙ্কা

    রোহিঙ্গা শিশুর সঙ্গে বাংলায় কথা বললেন প্রিয়াঙ্কা

    রোহিঙ্গা শিশুর সঙ্গে বাংলায় কথা বললেন প্রিয়াঙ্কা

    কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে রোহিঙ্গা শিশুর সঙ্গে বাংলায় কথা বললেন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা শিশু রিফাত হোসেনের হাত ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখেন তিনি।

    সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়ার শামলাপুর মনাখালি ব্রিজের পাশে অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান এই বলিউড তারকা।

    এ সময় প্রিয়াঙ্কা চোপড়া রোহিঙ্গা শিশু রিফাত হোসেনকে বাংলায় জিজ্ঞেস করেন, তোমাদের এখানে আমাকে ঘোরাবে? রিফাত হোসেন মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। এরপর হেসে দেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। পরে রিফাতের হাত ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘুরে দেখেন তিনি।

    jagonews24

    রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আরেকটি শিশুর সঙ্গে কথা বলেন। বাংলায় ছেলেটিকে তিনি জিজ্ঞেস করেন, তোমার নাম কী? ছেলেটি বলল, মো. রফিক। তুমি স্কুলে যাও? ছেলেটি মাথা নেড়ে বলল, যাই।

    রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- ইউনিসেফ ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    সোমবার সকালে ইউএস-বাংলার বিএস-১৪১ ফ্লাইটে করে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে পৌঁছান প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। এর আগে সোমবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি।

    জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে চারদিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন ভারতীয় এ অভিনেত্রী। এ খবর ছড়িয়ে যায় সর্বত্র।

    সোমবার কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছার পর তাকে দেখতে ভিড় করেন উৎসুক জনতা। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গা কিশোর ও স্থানীয়রাও যোগ দেয়।

    jagonews24

    প্রিয় তারকাকে এক নজর দেখার জন্য মুহূর্তেই ভিড় বেড়ে যায়। প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আগে থেকেই পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

    পরে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে নিয়ে যাওয়া হয় ইউনিসেফ পরিচালিত হাসপাতালে। এ সময় হাসপাতালের ভেতরে বাইরের কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। প্রিয়াঙ্কা সেখানে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নেন।

    ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে বিকেল ৪টার দিকে গাড়িতে গিয়ে ওঠেন প্রিয়াঙ্কা। এ সময় হাত নাড়িয়ে সবার কাছ থেকে বিদায় নেন তিনি। সেই সেঙ্গ বলেন, ‘আবার আসব।’