Category: জাতীয়

  • গাজীপুর নির্বাচনে ‘নতুন কৌশল’ নেবে বিএনপি

    গাজীপুর নির্বাচনে ‘নতুন কৌশল’ নেবে বিএনপি

    গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ‘নতুন কৌশল’ নিয়ে এগুবার কথা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    বুধবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শাইরুল কবীর খান উপস্থিত ছিলেন।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খুলনায় জনগণের সাথে হিপোক্রেসি করেছে তারা (সরকার)। সেখানকার জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অবশ্যই গাজীপুরের নির্বাচনে নতুন করে ভাববো, নতুন স্ট্র্যাটেজি নেব অথবা সিদ্ধান্ত নেব নতুন করে।’

    তিনি বলেন, ‘আলোচনা হবে আমাদের পার্টির সব লেভেলে। কারণ খুলনার নির্বাচনটা নিঃসন্দেহে আই ওপেনার। সব মিলিয়ে আমরা চিন্তা করব।’

    গাজীপুরের নির্বাচনে আপনারা যাচ্ছে না এটাই কি ধারণা করা যায়- এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা গাজীপুরের নির্বাচনে যাব না- এটা আমরা বলছি নাই। আমরা বলছি যে, এই নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় ও এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব না। এটা আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।’

    তিনি বলেন, ‘যাব কি যাব না- বহু রাজনৈতিক কৌশল আছে, বহু রাজনৈতিক প্রশ্ন আছে। সেটা আমরা আলোচনা করে বসে সিদ্ধান্ত নেব।’

    খুলনা সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা ‘নতুন কৌশল’ নিয়ে ভোট করেছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খুলনায় ক্ষমতাসীনরা যেভাবে নির্বাচন করছে- এটা নতুন কৌশল। কৌশলটা একেবারে নতুন। দৃশ্যত ভালো, সুন্দর, শান্ত। ভেতরে সবকিছু গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। কীভাবে করেছে ভয়-ভীতি, ত্রাস সৃষ্টি করে, আইনশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সেখানে একটি ক্ষেত্র তৈরি করেছে তারা।’

    বিএনপি মহাসচিবের ভাষায় খুলনায় সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মনজু এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতেন।

  • শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

    শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৩৮তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুর দু’কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকার কারণে ঘাতকের হাত থেকে রক্ষা পান।

    বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে দিতে বাঙালি জাতির অস্তিত্বকে বিপণ্ন করতে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা শুরু করে নানামুখী ষড়যন্ত্র। বাঙালি জাতির জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধু কন্যা দীর্ঘ ৬ বছর নির্বাসন জীবন শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

    সেদিন রাজধানী ঢাকা মিছিলের শহরে পরিণত হয়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা শহর স্লোগানে প্রকম্পিত হয়। ঝড়-বৃষ্টি লক্ষ লক্ষ মানুষের মিছিলকে গতিরোধ করতে পারেনি। কুর্মিটোলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর পরিণত হয় জনসমুদ্রে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখতে সারাদেশের মানুষের গন্তব্য ছিল রাজধানী ঢাকা।

    ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগানে প্রকম্পিত হয় বাংলার আকাশ-বাতাস। জনতার কণ্ঠে বজ্রনিনাদে ঘোষিত হয়েছিল ‘হাসিনা তোমায় কথা দিলাম পিতৃহত্যার বদলা নেব’। ‘শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’। দেশের মাটিতে পা রাখার আগেই বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৪, ১৫, ও ১৬ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় কাউন্সিলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

    বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার, বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জাতীয় ৪ নেতা হত্যার বিচার, স্বৈরতন্ত্রের চির অবসান ঘটিয়ে জনগণের হৃত গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সার্বভৌম সংসদীয় পদ্ধতির শাসন ও সরকার প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা।

    বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বাংলাদেশে ফিরে আসার দিন থেকে শেখ হাসিনার নিরবচ্ছিন্ন দীর্ঘ সংগ্রাম জীবন শুরু হয়। বাংলার মানুষের হারিয়ে যাওয়া অধিকার পুনরুদ্ধার করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বারবার স্বৈরাচারের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছেন,পরিণত হয়েছেন গণতন্ত্রের মানসকন্যা রূপে।

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর দীর্ঘ ৩৭ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বৈরশাসনের অবসান, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাঙালির ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশের মানুষের জীবনের মানন্নোয়ন করে এক সময়ের মঙ্গা কবলিত, দুর্ভিক্ষ জর্জরিত বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বে একটি আত্মমর্যাদাশীল ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে।

    শেখ হাসিনার দীর্ঘ ৩৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের এ পথচলা কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না, ছিল কণ্ঠকাপূর্ণ ও বিপদসংকুল। গণমানুষের মুক্তির লক্ষ্যে আন্দোলন সংগ্রাম করার অপরাধে তাকে বারবার ঘাতকদের হামলার শিকার ও কারা নির্যাতন ভোগ করতে হয়। কিন্তু তিনি নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে ছিলেন পিতার মতই অবিচল, দৃঢ় ও সাহসী। বাঙালির ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্রকে পুনঃ প্রতিষ্ঠা করেছেন।

    জনগণের ভালবাসায় অভিষিক্ত হয়ে তৃতীয়বারের ন্যায় রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়ে তিনি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের কল্যাণে যুগান্তকারী অবদান রেখে চলেছেন। ‘রূপকল্প ২০২১’ এর মধ্যম আয়ের বাংলাদেশকে ‘রূপকল্প ২০৪১’ এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত, আধুনিক, সমৃদ্ধ কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ১৭ মে দুপুর ২টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপি। এছাড়া আরও আলোচনা করবেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও জাতীয় নেতারা।

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি ১৭ মে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সরকারের প্রধানমন্ত্রী সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বিবৃতিতে দেশ ও জাতির কল্যাণে, গণতন্ত্রের উন্নয়নে ও আধুনিক এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ায় অসামান্য অবদান রাখার জন্যে শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করে দেশব্যাপী (ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌর, থানা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে) দোয়া, মিলাদ মাহফিল, বিজয় র‌্যালি ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের সব স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক-শুভানুধ্যায়ী ও দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

  • ছাত্রলীগের ৩২৩ জন ডাক পাচ্ছেন গণভবনে

    ছাত্রলীগের ৩২৩ জন ডাক পাচ্ছেন গণভবনে

    ছাত্রলীগের নেতা হতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা ৩২৩ প্রার্থী ডাক পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সরকারি বাসভবন গণভবনে। আগামী রোববার ও সোমবার ডাকা হতে পারে এসব পদ প্রত্যাশীদের।

    দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বুধবার রাতে গণভবনে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    সূত্রের দাবি অনুযায়ী, পদ প্রত্যাশীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। নেতা হিসাবে দায়িত্ব তুলে দেয়ার আগে তাদের রাজনৈতিক মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতার পরীক্ষা নিতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন শেখ হাসিনা। ফলে চলতি সপ্তাহেও হচ্ছে না ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা।

    বৈঠকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রলীগের নেতা হতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের সাক্ষাতকার নেয়া শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও আবার বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।

    ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদে ১১১ ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্যে ২১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। চলতি মাসের ১১ও ১২ তারিখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে নতুন নেতা নির্বাচন করা ছাড়াই শেষ হয় সম্মেলন।

    এর আগে তিন দফা ভোটর মাধ্যমে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা নির্বাচিত হয়। সারাদেশ থেকে আসা কাউন্সিলররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। তবে গত দুই বার ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হলেও তাদের নিয়ে নানা সমালোচনা হয়। সর্বশেষ দুই বারের কমিটিতে সংগঠনটিতে অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সংগঠনের বিরুদ্ধে এসব নানা অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীকে হতাশ করেছে। এরই পরিপ্রক্ষিতে সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট প্রক্রিয়া বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত জানান শেখ হাসিনা। তিনি সিলেকশনে নেতা বানানোর সিদ্ধান্ত জানান।

  • দলবল দেখে আদেশ দিই না, খালেদার আইনজীবীকে প্রধান বিচারপতি

    দলবল দেখে আদেশ দিই না, খালেদার আইনজীবীকে প্রধান বিচারপতি

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন বহালের রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশ চেয়ে তাঁর আইনজীবীদের প্রার্থনা নাকচ করেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ  বুধবার দুপুরের দিকে এই আদেশ দেন। শুনানির একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা দলবল দেখে আদেশ দিই না।’

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে থাকা খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখে  রায় দেন আপিল বিভাগ। রায়ের পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী আদালতকে বলেন, ‘জামিননামা দাখিল করতে চাই। তাই ঘোষিত রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশ চাচ্ছি। আদালত রায় ঘোষণা করেছেন, যা সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটেও থাকবে। রায়ের সংক্ষিপ্ত আদেশের কপি দিন।’

    মোহাম্মদ আলীর এমন প্রার্থনার পরিপ্রেক্ষিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতে বলেন, রায় ঘোষণার পর সংক্ষিপ্ত আদেশের কপি দেওয়ার নজির নেই।

    মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘রায়ের পর একমুহূর্তও কাউকে আটকে রাখা হলে, তা হবে বেআইনি আটক। এ জন্য সংক্ষিপ্ত আদেশ চাচ্ছি।’

    মোহাম্মদ আলীর উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘আপনি যা বলেছেন, তা আমাদের রুলসে নেই।’

    তখন মোহাম্মদ আলী বলেন, কোনো ব্যক্তির স্বাধীনতা অন্য যেকোনো বিষয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

    আদালত বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রায় পাবেন।

    বেঞ্চের এক বিচারপতি বলেন, সংক্ষিপ্ত আদেশ দেওয়ার নজির নেই।

    মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘নজির নেই। আপনারা নজির সৃষ্টি করতে পারেন।’

    আদালত বলেন, ‘আপনার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলো।’

    এ পর্যায়ে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আমি একা এসেছি। দলবল নিয়ে আসিনি।’

    মোহাম্মদ আলীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘দল দেখে কি আমরা আদেশ দেব? দলবল দেখে আদেশ দিই না।’

    মোহাম্মদ আলীকে উদ্দেশ করে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি বলেন, ‘আপনি এটা কী বললেন?’

    বেঞ্চের অপর এক বিচারপতি মোহাম্মদ আলীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি যে মন্তব্য করেছেন, সেটি আপত্তিজনক। আপনি কি আমাদের ফোর্স করতে পারেন? আপনি একজন আইনজীবী। কোনো দলীয় লোক নই।’

    মোহাম্মদ আলীর উদ্দেশে বেঞ্চর আরেক বিচারপতি বলেন, ‘আপনার প্রার্থনা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তর্ক করছেন কেন?’

    তখন মোহাম্মদ আলী বলেন, এটা ঠিক হয়নি।

    বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ছয় থেকে সাত মিনিটের মতো এই শুনানি চলে।

    শুনানিকালে এ জে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী নওশাদ জমির, কায়সার কামাল ও মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

  • পুলিশকে মানবিক হয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে: শেখ হাসিনা

    পুলিশকে মানবিক হয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে: শেখ হাসিনা

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী তাদের সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা দেখতে চাই, আমাদের দেশের জনগণ পুলিশের কাছ থেকে যথাযথ সেবা পাচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে আমরা একটি চৌকস, পেশাদার ও জনবান্ধব পুলিশ সার্ভিস গড়ে তোলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    শেখ হাসিনা আজ সকালে সারদায় ৩৫তম বিসিএস ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ বিপদের সময় পুলিশের কাছে সাহায্যের জন্য আসে। তাই সেবা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থাকবেন।’ বিশ্বব্যাপী অপরাধের ধরন দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী নিত্যনতুন অপরাধ দমনে পুলিশ সদস্যদের আরও তৎপর বিশেষ করে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরও দক্ষ হওয়ার আহ্বান জানান।

    প্রধানমন্ত্রী প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী একাডেমির অতিথি ভবন অরুনিমায় পৌঁছালে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়। পরে প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী এবং একাডেমির প্রিন্সিপাল মো. নাজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

    অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে পদকও বিতরণ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী নতুন কর্মক্ষেত্রে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে তাঁদের সমাজের নারী, শিশু ও প্রবীণদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে জনবান্ধব পুলিশ গঠনে আপনাদের অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করতে হবে। আমার দৃঢ়বিশ্বাস, আপনারা দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে নিয়োজিত থাকবেন।

    দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে উন্নয়নকে টেকসই করতে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি, বাংলাদেশ পুলিশের নবীন কর্মকর্তারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে প্রশিক্ষণের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ‘রূপকল্প-২০২১’ এবং ‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার আইনশৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দ করা অর্থকে বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করছে। শেখ হাসিনা জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।’

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, সরকারের পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ১০ বছর পর নিরপরাধ বাদলকে ভারত থেকে ফেরাতে চিঠি

    ১০ বছর পর নিরপরাধ বাদলকে ভারত থেকে ফেরাতে চিঠি

    ১০ বছর কারাবাসের পর বাদল ফরাজি নামের এক নিরপরাধ ব্যক্তিকে ভারতের কারাগার থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনতে ভারত সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সরকার। বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় ওই ব্যক্তিকে দ্রুত ফেরত আনতে বুধবার এ চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি খুনের মামলার আসামির সঙ্গে নামের মিল থাকার কারণে ২০০৮ সালে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢোকার সময় বাদল ফরাজিকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পর্যটক ভিসা নিয়ে বাংলাদেশের বাগেরহাট থেকে তাজমহল দেখতে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এরপর আর ফেরেননি। পাসপোর্ট অনুযায়ী বাদলের স্থায়ী ঠিকানা বাগেরহাট এবং বর্তমান ঠিকানা খুলনায়। বাগেরহাটের আবদুল খালেক ফরাজি ও সারাফালি বেগমের ছেলে তিনি।

    এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বন্দী বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী বাদলকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমরা চিঠি দিয়েছি। এ জন্য নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আবেদন পাঠানো হয়েছে। আশা করি, দ্রুত বাদলকে ফিরিয়ে আনা হবে।’

    সরকারি নথিপত্রে অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ৬ মে নয়াদিল্লির অমর কলোনির এক বৃদ্ধা খুনের মামলায় বাদল সিং নামে একজন আসামিকে ভারতের পুলিশ খুঁজছিল। ওই বছর ১৩ জুলাই বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের সময় বিএসএফ ভুল করে বাদল ফারাজিকে গ্রেপ্তার করে। ইংরেজি বা হিন্দি জানা না থাকায় তিনি বিএসএফের সদস্যদের নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি। ঠিকমতো বলে বোঝাতে পারেননি তিনি ওই বাদল নন।

    ভারতের বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভারতের নিম্ন আদালতের রায়ে খুনের অভিযোগে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ নম্বর ধারায় ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট বাদলকে দোষী সাব্যস্ত করেন দিল্লির সাকেট আদালত। বাদলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টেও একই সাজা বহাল থাকে। বাদলের বিষয়ে জানার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সুরক্ষা বিভাগে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এরপর আইন মন্ত্রণালয়, পুলিশের বিশেষ শাখা এবং কারা অধিদপ্তর থেকে মতামত চাওয়া হয়।

    আইন মন্ত্রণালয় জানায়, ভারত ও বাংলাদেশের প্যানাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী খুনের সাজায় একই ধরনের বিধান রয়েছে এবং একই ধরনের জেল কোড ব্যবহার করা হয়। তাই বন্দী বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে ফিরে আসার পর একই রকম সাজার আওতায় কারাগারে থাকতে পারবেন। এরপর সুরক্ষা সেবা বিভাগ বাদলের বিষয়ে সমস্ত তথ্য–উপাত্ত যাচাই করে। গত ১৯ এপ্রিল পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে জানানো হয়, বাদল বা তাঁর পরিবারের বিষয়ে কোনো বিরূপ তথ্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে বাদলের নির্দোষ হওয়ার বিষয়টি জানার পর গত ১৯ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক জরুরি বৈঠক করে বাদলকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় বলা হয় বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় দ্রুত বাদলকে ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ। এমন একজন নিরপরাধ ব্যক্তি এভাবে ভারতে কারাগারে থাকতে পারেন না। ওই সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়। এই কমিটি বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় বাদলকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারতের কর্তৃপক্ষকে আবেদনপত্র চূড়ান্ত করবে।

    ভারতে হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী গত ১৭ এপ্রিল স্বরাষ্ট্রসচিবকে এক ফ্যাক্স বার্তায় জানান, অনেক দিন ধরে বাদল ফরাজিকে বাংলাদেশে ফেরানোর বিষয়টি ঝুলে আছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। পরে গত ২২ এপ্রিল ভারতে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, হাইকমিশনের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়েছে, ভাষাগত সমস্যার কারণে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ার অন্তরীণ থাকা অবস্থায় তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যান। তাঁর আচার–ব্যবহারে কারা কর্তৃপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে সাজার মেয়াদ কমাতে কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করে। বাদল কারাগারে থেকে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পাস করে কারাগার চত্বরের ইন্দিরা গান্ধী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করেছেন। স্নাতকের বাইরেও আটটি ডিপ্লোমা কোর্স করেছেন। এখন ইংরেজি ও হিন্দিতে অনর্গল কথা বলতে পারেন।

    বাদলের বোন তাসলিমা বেগম  বলেন, ‘আমরা অপেক্ষায় আছি ভাইয়ের দেশে ফেরার।’

  • ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

    ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

    মুক্তিযোদ্ধা, গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    বুধবার রাতে বিষয়টি জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। টানা ছয় বছর ধরে এক প্রকার গৃহবন্দীই হয়ে আছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। ২০১২ সালে যুদ্ধাপরাধীর ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় স্বাক্ষ্য দেন তিনি। এর জের ধরে আততায়ীর হাতে খুন হন তার ছোট ভাই মিরাজ। ছোট ভাই হারানোর কষ্ট বুকে নিয়ে নীরবে-নিভৃতে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। সঙ্গে আছেন একমাত্র ছেলে সামির আহমেদ।

    এরই মধ্যে তার হার্টে ৮টি ব্লক ধরা পড়ে। জরুরি ভিত্তিতে বাইপাস সার্জারি করানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। বুধবার ফেসবুকে এ নিয়ে স্ট্যাটাস দেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। এতে তিনি লেখেন, ‘একটি ঘরে ছয় বছর গৃহবন্দী থাকতে থাকতে আমি আজ উল্লেখযোগ্যভাবে অসুস্থ। আমার হার্টে আটটা ব্লক ধরা পড়েছে। এরই মধ্যে কাউকে না জানিয়ে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। সেখানে সিসিইউতে চার দিন ছিলাম। আগামী ১০ দিনের মধ্যে হার্টের বাইপাস সার্জারি করানোর জন্য প্রস্তুত আছি।

    ’ ফেসবুকের এই পোস্টটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে এলে তিনি আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন। তার চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন প্রধানমন্ত্রী।

    ওই স্ট্যাটাসে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আরও লিখেছেন, ‘আমি এখন ২৪ ঘণ্টা পুলিশি পাহারায় গৃহবন্দী থাকি, একমাত্র সন্তানকে নিয়ে। এ এক অভূতপূর্ব করুণ অধ্যায়।’ গৃহবন্দী থাকার কারণ হিসেবে তিনি লিখেছেন, ‘বন্ধুরা, সরকারের নির্দেশে ২০১২ সালে আমাকে যুদ্ধাপরাধীর ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় সাক্ষী হিসেবে দাঁড়াতে হয়েছিল। সাহসিকতার সঙ্গে সাক্ষ্য-প্রমাণ দিতে হয়েছিল ১৯৭১ সালে ঘটে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলখানার গণহত্যার সম্পূর্ণ ইতিহাস। ওই গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে আমি একজন। হত্যা করা হয়েছিল একসঙ্গে ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে। কিন্তু এই সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে আমার নিরপরাধ ছোট ভাই মিরাজকে হত্যা করা হবে, তা কখনো বিশ্বাস করতে পারিনি।

    সরকারের কাছে বিচার চেয়েছি, বিচার পাইনি।’ চিকিৎসার জন্য কারও কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা চান না উল্লেখ করে প্রখ্যাত এই সঙ্গীতজ্ঞ লিখেছেন, ‘কোনো সরকারি সাহায্য কিংবা শিল্পী, বন্ধুবান্ধবের সাহায্য আমার দরকার নাই। আমি একাই যথেষ্ট। শুধু অপারেশনের আগে ১০ সেকেন্ডের জন্য বুকের মাঝে বাংলাদেশের পতাকা আর কোরআন শরিফ রাখতে চাই।’ ভক্ত-অনুরাগীদের কাছে দোয়া চেয়ে তিনি লেখেন, ‘তোমরা আমার জন্যে শুধু দোয়া করবে। কোনো ভয় নাই

  • কেনো রোজা ভেঙে যায়?

    কেনো রোজা ভেঙে যায়?

    হুজাইফা রহমানঃ

    রোজা একটি ফারসি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে দিন। যেহেতু এই আমলটি দিনের শুরু থেকে শেষাংশ পর্যন্ত পালন করা হয় তাই একে রোজা বলা হয়। আর আরবিতে এর নাম সাওম বা সিয়াম। যার শাব্দিক অর্থ কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকার নাম রোজা। ইসলামী বিধান অনুসারে, প্রতিটি সবল মুসলমানের জন্য রমজান মাসের প্রতিদিন রোজা রাখা ফরজ বা অবশ্য পালনীয়। রোজার নিয়ত (নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রমাজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।) অর্থ: হে আল্লাহ! আগামীকাল পবিত্র রমযান মাসে তোমার পক্ষ হতে ফরয করা রোজা রাখার নিয়ত করলাম, অতএব তুমি আমার পক্ষ হতে কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।

    রোজা ভঙের কারণ

    ১. ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে। ২. স্ত্রী সহবাস করলে। ৩. কুলি করার সময় হলকুমের নিচে পানি চলে গেলে (অবশ্য রোজার কথা স্মরণ না থাকলে রোজা ভাঙবে না)। ৪. ইচ্ছাকৃত মুখভরে বমি করলে। ৫. নস্যি গ্রহণ করলে, নাকে বা কানে ওষুধ বা তেল প্রবেশ করালে। ৬. জবরদস্তি করে কেউ রোজা ভাঙালে। ৭. ইনজেকশান বা স্যালাইনের মাধ্যমে দেহে ওষুধ পৌঁছালে। ৮. কংকর, পাথর বা ফলের বিচি গিলে ফেললে। ৯. সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে ইফতার করার পর সূর্যাস্ত হয়নি দেখা গেলে। ১০. পুরা রমজান মাস রোজার নিয়ত না করলে। ১১. দাঁত থেকে মটর দানা পরিমান খাদ্যদ্রব্য বের করে গিলে ফেললে। ১২. ধূমপান, ইচ্ছাকৃত লোবান বা আগরবাতি জ্বালিয়ে ধোঁয়া গ্রহণ করলে। ১৩. মুখ ভর্তি বমি গিলে ফেললে। ১৪. রাত আছে মনে করে সুবহে সাদিকের পর পানাহার করলে। ১৫. মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়ে সুবহে সাদিকের পর জাগরিত হলে।

    রোজার মাকরুহ

    ১. অনাবশ্যক কোনো জিনিস চিবানো বা চেটে দেখা। ২. কোনো দ্রব্য মুখে দিয়ে রাখা। ৩. গড়গড়া করা বা নাকের ভেতর পানি টেনে নেয়া। কিন্তু পানি যদি নাক দিয়ে গলায় পৌঁছে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। ৪. ইচ্ছাকৃত মুখে থুথু জমা করে গিলে খেলে। ৫. গীবত, গালা-গালি ও ঝগড়া-ফ্যাসাদ করা। ৬. সাড়া দিন নাপাক অবস্থায় থাকা। ৭. অস্থিরতা ও কাতরতা প্রকাশ করা। ৮. কয়লা চিবিয়ে অথবা পাউডার, পেস্ট ও মাজন ইত্যাদি দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা।

    ইফতারের দোয়া

    (আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা ওয়া আফতারতু বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।) অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেয়া রিযিক দ্বারা ইফতার করছি।

  • চাঁদ দেখা যায়নি, রোজা শুক্রবার

    সন্ধ্যায় দেশের কোথাও পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই মুসলমানদের সিয়াম সাধনার (রোজা) মাস রমজান শুরু হচ্ছে শুক্রবার (১৮ মে)। আগামী ১২ জুন মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ও ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

    রমজান শেষেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের দেখা মিলবে। এবার শাবান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে।

    অন্যদিকে মঙ্গলবার পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যেও বৃহস্পতিবার থেকে রমজান শুরু হচ্ছে।

    সভায় ধর্মমন্ত্রী জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সন্ধ্যায় বাংলাদেশের কোথাও হিজরি ১৪৩৯ সনের রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি।

    বৃহস্পতিবার (১৭ মে) শাবান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। শুক্রবার থেকে রমজান মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ১২ জুন মঙ্গলবার দিবাগত রাতে (রমজানের ২৭তম রাত) পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

    বৃহস্পতিবার রাতে (এশার নামাজের পর) ২০ রাকাত বিশিষ্ট তারাবি নামাজ শুরু হবে। রোজা রাখতে শেষ রাতে সেহরি খাবেন মুসলমানরা। ঢাকায় প্রথম দিন সেহরির শেষ সময় রাত ৩টা ৪৬ মিনিট। শুক্রবার প্রথম রোজার দিন ইফতারের সময় ৬টা ৩৯ মিনিট।

    ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে রমজান সংযম, আত্মশুদ্ধি এবং ত্যাগের মাস। রমজান রহমত (আল্লাহর অনুগ্রহ), মাগফেরাত (ক্ষমা) ও নাজাত (দোজখের আগুন থেকে মুক্তি)- এ তিন অংশে বিভক্ত। এ মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী-সহবাস ও যে কোনো ধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে রোজা পালন করেন মুসলমানরা।

    এ মাসের শেষ অংশে রয়েছে হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম কদরের রাত। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, এ মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব আল্লাহ পাক ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেন।

    সভায় ধর্ম মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বি এইচ হারুন, ধর্মসচিব মো. আনিছুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর শেখ মো. আবদুল্লাহ, সিরাজউদদীন আহমেদ, মিসবাহুর রহমান চৌধুরী, ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমাদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মো. সামছুদ্দিন আহমেদ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, লালবাগ শাহী মসজিদের খতিব মাওলানা আবু রায়হান ও চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।