Category: জাতীয়

  • ‘যখনই প্রয়োজন হবে মানুষের পাশে দাঁড়াবে সেনাবাহিনী’

    ‘যখনই প্রয়োজন হবে মানুষের পাশে দাঁড়াবে সেনাবাহিনী’

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যখনই প্রয়োজন হবে সেনাবাহিনী দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়াবে।

    রবিবার ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ক্যান্সার সেন্টারসহ সেনানিবাসের ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, এটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। অতীতের মতো সরকারকে সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতেও তারা মানুষের পাশে  দাঁড়াবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাসদস্যদের জন্য কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিয়েছি। রসদ বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতা বাড়িয়েছি। তাদের জন্য আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। প্রথমবারের মতো আমরা সেনাবাহিনী প্যারাকমান্ডো ইউনিট চালু করেছি। ‘৯৬ সালে মেয়েদের সেনা ও বিমানবাহিনীতে নিয়োগের ব্যবস্থা করি। নারী পাইলট সংযোজন করে নতুন যুগের সূচনা করি। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য কেন্দ্র করে দিয়েছি।

  • ‘যখনই প্রয়োজন হবে মানুষের পাশে দাঁড়াবে সেনাবাহিনী

    ‘যখনই প্রয়োজন হবে মানুষের পাশে দাঁড়াবে সেনাবাহিনী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যখনই প্রয়োজন হবে সেনাবাহিনী দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়াবে।

    রবিবার ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ক্যান্সার সেন্টারসহ সেনানিবাসের ২৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, এটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। অতীতের মতো সরকারকে সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতেও তারা মানুষের পাশে  দাঁড়াবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাসদস্যদের জন্য কল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিয়েছি। রসদ বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতা বাড়িয়েছি। তাদের জন্য আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। প্রথমবারের মতো আমরা সেনাবাহিনী প্যারাকমান্ডো ইউনিট চালু করেছি। ‘৯৬ সালে মেয়েদের সেনা ও বিমানবাহিনীতে নিয়োগের ব্যবস্থা করি। নারী পাইলট সংযোজন করে নতুন যুগের সূচনা করি। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের জন্য কেন্দ্র করে দিয়েছি।

  • খালেদার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে

    খালেদার স্বাস্থ্য প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রায়ে ৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে একটি প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

    মন্ত্রী বলছেন, প্রতিবেদন দেখে কারাবিধি অনুযায়ী এখন তার চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    শনিবার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসায় কারা অধিদফতর কর্তৃক গঠিত চিকিৎসক কমিটির প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে, কিন্তু এটি এখনো আমার হাতে পৌঁছায়নি। প্রতিবেদন দেখে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারের ডে-কেয়ার সেন্টারে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির মর্যাদায় রাখা হয়েছে তাকে। তার উন্নত চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন অধ্যাপক মো. শামছুজ্জামানের (অর্থোপেডিক্স), অধ্যাপক মনসুর হাবীব (নিউরোলজি), অধ্যাপক টিটু মিয়া (মেডিসিন) ও সোহেলী রহমান (ফিজিক্যাল মেডিসিন)।

    গত ৫ মে কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পাঁচ আইনজীবী দেখা করে কারা ফটকের সামনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যাডাম বলেছেন, ‘আমি অত্যন্ত অসুস্থ। এটা কোর্টকে জানাবেন।’

    আসন্ন খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনায় গণগ্রেফতার চলছে- বিএনপির এমন অভিযোগের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘খুলনায় অ্যারেস্ট ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। কোনো সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে না।’

    অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আইডিইবির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি এ কে এম এ হামিদ। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান।

    অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর কাছে প্রকৌশলীদের নানা সমস্যা ও কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়।

    দেশের উন্নয়নের স্বার্থে প্রকৌশলীদের যৌক্তিক দাবিগুলো সরকার মেনে নেবে বলে আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

  • আজ থেকে আমরা স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য

    আজ থেকে আমরা স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য

    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সফল উৎক্ষেপণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্পেসএক্স-এ দেয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ থেকে আমরা স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য।’

    প্রথম চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় মহাকাশে সফল উড্ডয়ন করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে বঙ্গবন্ধু-১ এর সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়।

    পুনর্নির্ধারিত সময়ে ফ্যালকন-৯ রকেটের নতুন সংস্করণ ব্লক ফাইভ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে নিয়ে রওনা হয় নিজস্ব কক্ষপথে। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চপ্যাড ৩৯ এ থেকে মহাকাশের বুকে লাল সবুজের পদচিহ্ন আঁকে বঙ্গবন্ধু-১।

    প্রধানমন্ত্রী ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আজ আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের একটি দিন। আজ আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সফল উৎক্ষেপণ করেছি।’

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতায় যোগ হয়েছে আরও একটি মাইলফলক। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে আজ আমরা মহাকাশে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছি।’

    ‘আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যিনি দীর্ঘ ২৪ বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগ্রামে জেল-জুলম ও নির্যাতন সহ্য করে উপহার দিয়েছেন স্বাধীন ও সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশকে। স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদকে।’

    ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ উন্নত মর্যাদাশীল দেশ হিসেব বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি অনুধাবন করেছিলেন বহির্বিশ্বের সঙ্গে অব্যাহত যোগাযোগ রক্ষা করতে না পারলে প্রগতির পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। এজন্য স্বাধীনতার মাত্র তিন বছরের মধ্যে ১৯৭৪ সালে তিনি রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করেন। যার সাহায্যে তথ্য-উপাত্ত আদান-প্রদানের মাধ্যমে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়।’

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজ আমরা জাতির পিতার সেই স্বপ্ন বাস্তাবায়নে আরেক ধাপ এগিয়ে গেলাম নিজস্ব উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে। তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে আজ যুক্ত হচ্ছে স্যাটেলাইট বা উপগ্রহ। আজ থেকে আমরা স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য। প্রবেশ করলাম এক নতুন যুগে। এ স্যাটেলাইট দিয়ে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তাজাকিস্তান, কাজাকিস্তান ও উজবেকিস্তানের অংশ বিশেষে আমরা সেবা দিতে পারব।’

    ‘ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন বিটিআরসির থেকে প্রকল্প গ্রহণ করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নির্মাণ ও উৎক্ষেপণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বিটিআরসি ও স্যাটেলাইট কোম্পানির কর্মীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি স্যাটেলাইট নির্মাতা ও উৎক্ষেপণকারী উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ধন্যবাদ জানাচ্ছি ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও জনগণকে এ কাজে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য। পাশাপাশি ধন্যবাদ জানাই রাশিয়াকে, তাদের কক্ষপথ আমাদের ভাড়া দেয়ার জন্য।’
    প্রধানমন্ত্রী সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করে আরও বলেন, ‘আপনারা সবাই দোয়া করবেন যাতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ করতে পারি। সবাইকে আবারও ধন্যবাদ জানিয়ে সফল উৎক্ষেপণ ঘোষণা করছি।’

  • আনন্দে কাঁদলেন জয়

    আনন্দে কাঁদলেন জয়

    মহাকাশের বুকে লাল সবুজের পদচিহ্ন আঁকতে ছুটে চলেছে দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু-১। দীর্ঘ স্বপ্নযাত্রার সফল বাস্তবায়ন হলো অবশেষে। কোটি বাঙালির আনন্দ প্রকাশের এক মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হলো শুক্রবারের রাত। যে রাতে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর সফল উৎক্ষেপণ হলো।

    অচেনা এক জগতে বিচরণ করবে স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। যে মহাকাশের বুকে ঘুরছে বিশ্বের ৫৬টি দেশের দুই হাজারের বেশি স্যাটেলাইট, সেই মহাকাশের এলিট শ্রেণির ক্লাবে যুক্ত হলো এবার লাল-সবুজের বাংলাদেশ। শুক্রবার (১২ মে, ২০১৮) দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে রচিত হলো ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল এক অধ্যায়।

    বাংলাদেশের এ স্বপ্নযাত্রায় অনেকেই আজ আনন্দে আত্মহারা। চোখে বইছে আনন্দ অশ্রু। মুষ্ঠিবদ্ধ হাত শূন্যে ছুড়ে আজ বিশ্বের বুকে বাংলাদেশিরা জানান দিচ্ছে মহাকাশে স্যাটেলাইট ক্ষমতাধর দেশের সদস্য এখন আমরাও।

    মহাকাশপানে বঙ্গবন্ধু-১ যখন সফল যাত্রা শুরু করে ঠিক তার কিছুক্ষণের মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্ঠা সজীব ওয়াজেদ জয়। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ধরে রাখতে পারেননি আবেগ। আনন্দ্র অশ্রু গাল বেয়ে পড়েছে তার।

    কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিক নতুন যুগে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ। দেশের এ নতুন যাত্রাকে এগিয়ে নেবে তরুণ প্রজন্ম। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু-১।

    বঙ্গবন্ধু-১ এর সফল উৎক্ষেপণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড-৩৯ এ থেকে কক্ষপথে উড়াল দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও শেষ মুহূর্তে গ্রাউন্ড সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়ায় তা বাতিল করা হয়।

    পুনর্নিধারিত সময়ে ফ্যালকন-৯ রকেটের নতুন সংস্করণ ব্লক ফাইভ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে নিয়ে রওনা হয় নিজস্ব কক্ষপথে। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড ৩৯ এ থেকে মহাকাশের বুকে লাল সবুজের পদচিহ্ন আঁকতে ছুটে চলছে বঙ্গবন্ধু-১।

    মার্কিন মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স সফল উৎক্ষেপণের খবর দিয়ে টুইটে বলেছে, স্যাটেলাইটের প্রথম ধাপের পাশাপাশি দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ফ্যালকন-৯ রকেট ইতোমধ্যে ভূপৃষ্ঠে ফিরে এসেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৪৭ মিনিটে সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছেছে বঙ্গবন্ধু-১।

    বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে এক টুইট বার্তায় স্পেসএক্স জানায়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণে ফ্যালকন ৯ এর সব সিস্টেম ভালো রয়েছে। আজ উৎক্ষেপণের জন্য আবহাওয়া ৭০ শতাংশ অনুকূলে রয়েছে।

    প্রথম চেষ্টায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি সংস্থা স্পেসএক্সের ইঞ্জিনিয়ার মাইকেল হ্যামারসলি বলেছিলেন, ‘উৎক্ষেপণ বাতিল করাটা মানসম্মত প্রক্রিয়ার একটি অংশ। এটা নিশ্চিত করা ভালো যে, ফ্যালকন ৯ উড়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। গ্রাউন্ড এবং ভেহিকল সিস্টেম ভালো রয়েছে। উৎক্ষেপণের সময় কোনো সমস্যা এড়ানোর জন্য ডাবল চেকিং বেশি গ্রহণযোগ্য।

    বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪মিনিট থেকে পরবর্তী দুই ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের কাজ আবারো শুরু হয়। বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ দেখার অপেক্ষায় ছিল আজ পুরো দেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

    বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মূল অবকাঠামো তৈরি করেছে ফ্রান্সের প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। গত ২৮ মার্চ (বুধবার) কানের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস প্ল্যান্ট ত্যাগ করে স্যাটেলাইটটি। পরে স্যাটেলাইট বহনকারী কার্গো বিমান অ্যানতোনোভ নাইস বিমানবন্দর থেকে ২৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

    ওই দিন ফ্রান্সের স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। ২৯ মার্চ বোস্টনে যাত্রাবিরতির করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বহনকারী কার্গোবিমান। ৩০ মার্চ এটি ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল পৌঁছায়।

    ২০১৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসি ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ নির্মাণের জন্য ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের সঙ্গে চুক্তি সই করে। ওই বছর মূল স্যাটেলাইট তৈরির কাজ শুরু হলেও এর প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয় ২০১২ সালে।

    বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে পাঠানোর লক্ষ্যে রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাশিয়ার কাছে থেকে মহাকাশের ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমায় ২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি প্রায় ২১৯ কোটি টাকায) কেনা হয় এ স্লট। দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উড়বে এখানেই।

  • কক্ষপথে পৌঁছেছে লাল সবুজের বঙ্গবন্ধু-১

    কক্ষপথে পৌঁছেছে লাল সবুজের বঙ্গবন্ধু-১

    বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর উৎক্ষেপণের সফল উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে মহাকাশপানে উড়াল দেয় বঙ্গবন্ধু-১।

    এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড-৩৯ এ থেকে কক্ষপথে উড়াল দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও শেষ মুহূর্তে গ্রাউন্ড সিস্টেমে সমস্যা দেখা দেয়ায় তা বাতিল করা হয়।

    পুনর্নিধারিত সময়ে ফ্যালকন-৯ রকেটের নতুন সংস্করণ ব্লক ফাইভ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে নিয়ে রওনা হয় নিজস্ব কক্ষপথে। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড ৩৯ এ থেকে মহাকাশের বুকে লাল সবুজের পদচিহ্ন আঁকতে ছুটে চলছে বঙ্গবন্ধু-১।

    মার্কিন মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স সফল উৎক্ষেপণের খবর দিয়ে টুইটে বলেছে, স্যাটেলাইটের প্রথম ধাপের পাশাপাশি দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ফ্যালকন-৯ রকেট ইতোমধ্যে ভূপৃষ্ঠে ফিরে এসেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৪৭ মিনিটে সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছেছে বঙ্গবন্ধু-১।

    এর আগে, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে এক টুইট বার্তায় স্পেসএক্স জানায়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণে ফ্যালকন ৯ এর সব সিস্টেম ভালো রয়েছে। আজ উৎক্ষেপণের জন্য আবহাওয়া ৭০ শতাংশ অনুকূলে রয়েছে।

    প্রথম চেষ্টায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি সংস্থা স্পেসএক্সের ইঞ্জিনিয়ার মাইকেল হ্যামারসলি বলেছিলেন, ‘উৎক্ষেপণ বাতিল করাটা মানসম্মত প্রক্রিয়ার একটি অংশ। এটা নিশ্চিত করা ভালো যে, ফ্যালকন ৯ উড়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। গ্রাউন্ড এবং ভেহিকল সিস্টেম ভালো রয়েছে। উৎক্ষেপণের সময় কোনো সমস্যা এড়ানোর জন্য ডাবল চেকিং বেশি গ্রহণযোগ্য।

    বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪মিনিট থেকে পরবর্তী দুই ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের কাজ আবারো শুরু হয়। বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে মহাকাশে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ দেখার অপেক্ষায় ছিল আজ পুরো দেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

    jagonews24

    বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মূল অবকাঠামো তৈরি করেছে ফ্রান্সের প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। গত ২৮ মার্চ (বুধবার) কানের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস প্ল্যান্ট ত্যাগ করে স্যাটেলাইটটি। পরে স্যাটেলাইট বহনকারী কার্গো বিমান অ্যানতোনোভ নাইস বিমানবন্দর থেকে ২৯ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

    ওই দিন ফ্রান্সের স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। ২৯ মার্চ বোস্টনে যাত্রাবিরতির করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বহনকারী কার্গোবিমান। ৩০ মার্চ এটি ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল পৌঁছায়।

    ২০১৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসি ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ নির্মাণের জন্য ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেসের সঙ্গে চুক্তি সই করে। ওই বছর মূল স্যাটেলাইট তৈরির কাজ শুরু হলেও এর প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয় ২০১২ সালে।

    jagonews24

    বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে পাঠানোর লক্ষ্যে রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাশিয়ার কাছে থেকে মহাকাশের ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমায় ২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি প্রায় ২১৯ কোটি টাকায) কেনা হয় এ স্লট। দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উড়বে এখানেই।

    স্যাটেলাইটটি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগবে। সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের গ্রাউন্ড স্টেশনে হস্তান্তর করা হবে। গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় দুটি গ্রাউন্ড স্টেশনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

  • পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর কন্যার পাশে থাকা পরিবারের সন্তান আমি : জাকির

    পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুর কন্যার পাশে থাকা পরিবারের সন্তান আমি : জাকির

    ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেছেন, ‘১৯৭৫ এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারকে হত্যা করা হয়। সেসময় বিদেশে বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে ছিল আমার পরিবার। আমি সিলেটের সেই পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। সে পরিবারের সন্তান হিসেবে আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন কর্মী থেকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।’

    শুক্রবার রাজধানীতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পেশের সময় এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে মঞ্চে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    জাকির বলেন, ‘জননেত্রীর দেয়া দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের চেষ্টা করেছি। জানি না আমরা কতটুকু সফল হয়েছি। ছাত্রলীগকে গ্রাম-গঞ্জে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করেছি। যে কাজ করেছি তার সব কর্তৃত্ব আপনাদের (ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের)। তারপরও যদি কোনো ভুল থাকে তা আমি ও আমার সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ মাথা পেতে নিচ্ছি।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর ৯ মাসের মধ্যে ১০৯টি শাখার কমিটি গঠন করি। প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলায় কমিটি গঠন করেছি। নতুন করে ৭০২টি পৌরসভার কমিটি দিয়েছি।

    এ সময় সংগঠনটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে গেছি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রলীগ পাশে ছিল। মাদক ও জঙ্গিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করার জন্য কাজ করেছি। পাশাপাশি ছাত্রলীগকে সচেতন করার জন্য চেষ্টা করেছি।’

    ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি শেখার পাঠশালা হচ্ছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তিনটি কাজ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা। এই তিনটি কাজ করলে আপনারা পরাজিত হবেন না। ভালো ছাত্র হয়ে ছাত্রলীগ পরিচালনা করতে হবে।’

  • আদর্শহীন রাজনীতি কোনো রাজনীতি নয় : প্রধানমন্ত্রী

    আদর্শহীন রাজনীতি কোনো রাজনীতি নয় : প্রধানমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম ও অর্জনে ছাত্রলীগের ভূমিকা রয়েছে। আদর্শহীন রাজনীতি কোনো রাজনীতি নয়। আদর্শ নিয়ে এগিয়ে গেলে অবশ্যই তাতে দেশের মানুষের কল্যাণ হবে। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দেশকে ভালোবাসতে হবে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। তিনি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে মেনে চলতে এবং নিজ নিজ ক্যাম্পাসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

    শুক্রবার বিকেলে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রথমে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে দুই দিনব্যাপী দ্বি-বার্ষিক এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

    ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী ২০১৫-২০১৮ বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করেন শেখ হাসিনা। পরে ছাত্রলীগের দুই নেত্রী প্রধানমন্ত্রীকে ব্যাজ পরিয়ে দেন। এরপরে সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করা হয়, “ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এ বসুন্ধরা”গানটি।

    ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মনে রাখতে হবে, ছাত্র রাজনীতি আমরা করব। কিন্তু শিক্ষা গ্রহণ করাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় এবং সবার আগের কাজ। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ বই দু’টি পড়ার পরামর্শ দেন এবং দেশকে ভালাবাসার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেয়ার কথা বলেন।

  • আজ রাতে আবার যাত্রা

    আজ রাতে আবার যাত্রা

    দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের জন্য নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিনগত রাত ২টা ১৪মিনিট থেকে পরবর্তী দুই ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হবে।

    এর আগে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ৪৭ মিনিটে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড-৩৯ এ থেকে কক্ষপথে উড়াল দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও প্রাথমিক কাজ শুরুর পর কারিগরি ত্রুটির কারণে একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে তা একদিনের জন্য পিছিয়ে দেয় স্পেসএক্স।

    স্পেসএক্স বলছে, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪মিনিট থেকে পরবর্তী দুই ঘণ্টার মধ্যে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের কাজ আবারও শুরু হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ও একই কথা জানিয়েছেন। তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ‘উৎক্ষেপণের শেষ মুহূর্তগুলো কম্পিউটার দ্বারা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। হিসেবে যদি একটুও এদিক সেদিক পাওয়া যায়, তাহলে কম্পিউটার উৎক্ষেপণ থেকে বিরত থাকে। আজ যেমন নির্ধারিত সময়ের ঠিক ৪২ সেকেন্ড আগে নিয়ন্ত্রণকারী কম্পিউটার উৎক্ষেপণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। স্পেসএক্স সবকিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আগামীকাল একই সময়ে আবারও আমাদের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বহনকারী রকেটটি উৎক্ষেপণের চেষ্টা চালাবে। যেহেতু এই ধরণের বিষয়ে কোনো ঝুঁকি নেয়া যায় না, সেহেতু উৎক্ষেপণের মোক্ষম সময়ের জন্য অপেক্ষা করা খুবই সাধারণ বিষয়, চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।’

    এদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর এক মিনিটেরও কম সময় আগে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর কাউন্টডাউন স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ ব্লক ফাইভ রকেটের মহাকাশে প্রথম যাত্রার কাউন্টডাউন পুনরায় শুরু অথবা অন্যদিনের জন্য উৎক্ষেপণ বাতিল করবে কি না তা এখনো পরিষ্কার নয়।

    গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ ঠিক করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে হারিকেন আরমা আঘাত হানে। এতে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দেয়া হয়।

    পরে ৫ মে উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এবারও তারিখ পিছিয়ে ৭ মে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এদিনও আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকতে পারে এমন আশঙ্কায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয়া হয়। তার আগে ৪ মে (শুক্রবার) বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর পরীক্ষামূলক সফল উৎক্ষেপণ চালানো হয়।

    ওইদিন অরল্যান্ডোর কেনেডি স্পেস সেন্টারে সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালানো হয় ফ্যালকন-৯ রকেটের। এসময় কেনেডি স্পেস সেন্টারের ব্লক ৫ থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।

    পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পর তথ্য পর্যালোচনা করে স্পেসএক্স। ফলাফল ইতিবাচক হওয়ায় ১০ মে বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে ডানা মেলবে বলে জানায়।

    উল্লেখ্য, স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে পাঠানোর লক্ষ্যে রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাশিয়ার কাছ থেকে মহাকাশের ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমায় দুই কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি প্রায় ২১৯ কোটি টাকায়) কেনা হয়েছে এ স্লট।

  • বঙ্গবন্ধু-১ এর আওতায় থাকবে মুম্বাই থেকে মিন্দানাও

    বঙ্গবন্ধু-১ এর আওতায় থাকবে মুম্বাই থেকে মিন্দানাও

    কারিগরি সমস্যার কারণে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ এর উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হলেও আজ (শুক্রবার) ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় ৪টা ২০ মিনিটে আবারও উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে কেনেডির স্পেস সেন্টার। সব কিছু ঠিক থাকলে নির্দিষ্ট সময়েই ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইট বহনকারী রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হবে।

    বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটি মহাকাশে ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করবে। ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাশিয়ান ইন্টারস্পুটনিকের আওতাধীন কক্ষপথটি (অরবিটাল স্লট) ভাড়া নেয়ার বিষয়ে রাশিয়ার সাথে চুক্তি করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ১৫ বছরের জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে এ অরবিটাল স্লট ভাড়া নেয়ার পর ওই বছরই ‘বঙ্গবন্ধু-১’ উৎক্ষেপণে মূল পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্পেস পার্টনারশিপ ইন্টারন্যাশনাল (এসপিআই) কাজ শুরু করে।

    থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস সূত্রে জানা যায়, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটটির জন্য কেনা কক্ষপথটি ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে হলেও বাংলাদেশের অবস্থান ৯০ ডিগ্রির আশপাশ ঘিরে। এ কারণে বঙ্গবন্ধু-১ উপগ্রহের কভারেজ অঞ্চল হবে কিছুটা পূর্বমুখী। ফলে স্যাটেলাইটটির আওতায় থাকবে ভারতের মুম্বাই থেকে ফিলপিনের মিন্দানাও দ্বীপ পর্যন্ত।

    বঙ্গোপসাগরের পুরো এলাকাসহ এ সীমানার ভেতরে থাকবে ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়ায় ও ফিলিপাইনের বিস্তির্ণ এলাকা। এছাড়া তুর্কিমেনিস্থান ও কাজাখাস্থানের কিছু অংশও বঙ্গবন্ধু-১ এর কভারেজ অঞ্চল হিসেবে পরিগণিত হবে। এসব এলাকায় বঙ্গবন্ধু-১ ‘কিউ-ব্যান্ড’ কভারেজ এবং ‘সি-ব্যান্ড’ সুবিধা প্রদান করবে।

    ব্যবসায়িক কারণে স্যাটেলাইটটি পূর্বমুখী অবস্থানের স্লট কেনা হয়েছে বলা হলেও একটি নির্ভরযোগ্য  সূত্র বাংলার মুখকে জানায়, বাংলাদেশের অবস্থানকে ঘিরে কোনো স্লট খালি না থাকায় পূর্ব দিকে সরে গিয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে স্লটটি নেয়া হয়। এছাড়া অবস্থানগত কারণে মধ্যপ্রাচ্য দেশগুলোর সাথে যোগাযোগে সমস্যা হলেও কোনো উপায়ও ছিল। কারণ, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্লট নেয়ার প্রস্তাব করা হলে সে সময় বিভিন্ন দেশ থেকে আপত্তি তোলা হয়।

    ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নে (আইটিইউ) অরবিটাল পজিশন ৬৯ ও ১০২ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে পাওয়ার জন্য ২০০৭ সালে আবেদন করেছিল বাংলাদেশ। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল, জাপান, সাইপ্রাস, আর্মেনিয়া ও উজবেকিস্তান তাতে আপত্তি জানায়। প্রক্রিয়াগত কারণে এ ধরনের আপত্তি অস্বাভাবিক না হওয়ায় ইন্টারস্পুটনিকের সঙ্গে সমঝোতায় আসে বাংলাদেশ।

    থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস বলছে, স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্দু-১’ থেকে রাজস্ব আয় করে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে বাংলাদেশ। বর্তমানে ব্রডকাস্টিং সেবা পেতে বিদেশি উপগ্রহ থেকে ট্রান্সপন্ডার ভাড়া নিতে হয়। বঙ্গবন্ধু-১ চালু হলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার পরিষেবার দেশের কর্তৃত্ব অর্জন করবে। একই সঙ্গে নেপাল, মিয়ানমার বা ভুটানের মতো বিভিন্ন বিদেশি দেশগুলোতে সরবরাহের সুবিধা প্রদান করতে পারবে।

    media

    মহাকাশ গবেষক মো. আব্দুল বাকী চৌধুরী নবাব জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে। মিয়ানমার সম্প্রতি বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট নিয়ে কাজ শুরু করেছে। নেপাল ও ভুটানও কাজ করছে ন্যানো স্যাটেলাইট নিয়ে। এছাড়া অনেক দেশেরই নিজস্ব স্যাটেলাইট নেই। মহাকাশে ৪০টি দেশের হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট থাকলেও এর মধ্যে অব্যবহৃতই রয়েছে শ’খানেক। মহাকাশে এখন পর্যন্ত ছয় হাজার ৬শ’ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপিত হয়েছে। আর এর সাথে যোগ হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’।

    তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে চলমান টেলিভিশন চ্যানেল, টেলিফোন ও রেডিওগুলোর ক্ষেত্রে বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে। এ কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশকে প্রায় ১১০ কোটি টাকা ভাড়া গুণতে হয়। বঙ্গবন্ধু-১ চালু হলে দেশের এ টাকা সাশ্রয় হবে এবং একই সঙ্গে নিজস্ব স্যাটেলাইট ব্যবহার করে টিভি ও রেডিও চ্যানেল, টেলিফোন, মোবাইল, ইন্টারনেট সেবা, নেভিগেশন জ্যোতিবিজ্ঞান গবেষণা, সামরিক প্রয়োজনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুফল পাবে বাংলাদেশ।

    এছাড়া মাটি বা পানির নিচে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজ, ছবি তোলা, সংবেদনশীল তথ্যাদি, ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস,
    পারমাণবিক বিস্ফোরণ ও আসন্ন হামলা ছাড়াও সেনাবাহিনী ও অন্যান্য ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা, খনিজ পদার্থ ডিজিটাল ম্যাপ তৈরি করাসহ অত্যাধুনিক অনেক কাজে বাড়তি সুবিধা বয়ে নিয়ে আসবে দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১।