Category: জাতীয়
-

মানবতাবিরোধী অপরাধে রিয়াজ উদ্দিন ফকিরের মৃত্যুদণ্ডাদেশ
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার আলবদর বাহিনীর প্রধান রিয়াজ উদ্দিন ফকিরের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত।আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।এর আগে উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে গত ২১ মার্চ এ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন।২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর এ মামলায় পাঁচটি অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর স্বাক্ষীদের জবানবন্দি জেরা ও যুক্তি উপস্থাপনের মধ্যে দিয়ে মামলাটি শেষ হয়।এ মামলায় প্রথম দিকে তিনজন আসামি ছিল। এর মধ্যে আমজাদ আলী গ্রেফতারের পর মারা যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। আর অভিযোগ গঠনের আগে পলাতক আসামি ওয়াজ উদ্দিন মারা যাওয়ায় তাকেও অভিযোগ থেকে বাদ দেয়া হয়।এটি হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ৩২তম রায়। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা যুদ্ধাপরাধে জড়িতদের বিচারে গঠিত এ ট্রাইব্যুনাল এর আগে আরো ৩১টি মামলার রায় ঘোষণা করেছে। ১৩ মার্চ মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা যুদ্ধাপরাধে ৩১তম মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। -

২৮ জুনের মধ্যে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের নির্দেশ
হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ তুলে দিয়ে আইন অনুযায়ী আগামী ২৮ জুনের মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতেই হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
নির্বাচন স্থগিতের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ও দুই মেয়র প্রার্থীর করা আবেদনের শুনানি বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় শুরু করে দুপর সাড়ে ১২টায় শেষ করে হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করে নির্বাচন করার এই নির্দেশ দেন আদালত।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগগের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানি করেছেন মো. ওবায়দুর রহমান (মোস্তফা)। হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে শুনানি করেন মওদুদ আহমদ, জয়নুল আবেদীন, জাহাঙ্গীরের পক্ষে এ এম আমিন উদ্দিন এবং রিটকারী সুরুজের পক্ষে ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ।
আদেশের পরে জয়নুল আবেদীন বলেন,আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট। মানুষ এখন ভোট কেন্দ্রে যাওয়ায়, ধানের শীষে ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছে।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন,গভীর ষড়যন্ত্র ছিল সরকার এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। এ আদেশের ফলে আমি সন্তুষ্ট। এখন গাজীপুরবাসী ভোট দেবে। আশা করি নৌকা জয়যুক্ত হবে।
গাসিক নির্বাচন স্থগিত করে গত ৬ মে রুলসহ একটি আদেশ দেন হাইকোর্ট। সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ বি এম আজহারুল ইসলাম সুরুজের একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই স্থগিতাদেশ দেয়া হয়।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা নিয়ে রিটটি করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নির্বাচন স্থগিত করার পাশাপাশি রুলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে শিমুলিয়ার ছয়টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করা কেন বেআইনি হবে না- তা চার সপ্তাহের মধ্যে জানতে চান।
পরে ৭ মে এ স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. হাসান উদ্দিন সরকার। তার মতো একই পথে হাঁটেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমও।
দু’জনের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (৮ মে) চেম্বার জজ বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন। পরে গতকাল (৯ মে) বুধবার ইসির আবেদনের কারণে শুনানি একদিন পেছানো হয়।
বৃহস্পতিবার স্থগিতাদেশের পক্ষে বিপক্ষে শুনানি শেষে সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।
এর আগে ৮ মে দুই মেয়র প্রার্থীর করা আবেদনের ওপর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন বুধবার ধার্য করে দিয়েছিলেন চেম্বার আদালত।
গত ৭ মে গাজীপুর সিটি কর্পোশনের নির্বাচন স্থগিতের বিরুদ্ধে দুই মেয়র প্রার্থী আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন। গত ৬ মে এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গাজীপুর সিটির নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ ওই স্থগিতের আদেশ দিয়েছিলেন।
শিমুলিয়া ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং নির্বাচনের তফসিল নিয়ে এই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এ বি এম আজহারুল ইসলাম রিটটি করেন।
আজহারুল ইসলাম সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক সম্পাদক। তিনি গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খানের বেয়াই।
-

কতদিনে পৌঁছাবে বঙ্গবন্ধু-১
দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু- ১ মহাকাশে উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল লঞ্চপ্যাড থেকে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ৩টা) এটি উৎক্ষেপণের কথা। বিশেষ এ মুহূর্তের সাক্ষী হতে অনেকেই চেয়ে আছেন টেলিভিশন কিংবা অনলাইন দুনিয়ায়।
বঙ্গবন্ধু-১ কবে নাগাদ পৌঁছাবে তার নিজস্ব কক্ষপথে; সে বিষয়ে অনেকের আগ্রহ রয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎক্ষেপণের ৩০ দিনের মধ্যে এটি নিজস্ব অরবিট বা কক্ষপথে পৌঁছাবে।
এছাড়া পুরো উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া শেষ হবে দুটি ধাপে। প্রথম ধাপ, লঞ্চঅ্যান্ড আরলি অরবিট ফেজ (এলইওপি) এবং দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে স্যাটেলাইট ইন অরবিট।
গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ ঠিক করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে হারিকেন আরমা আঘাত হানে। এতে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দেয়া হয়। পরে ৫ মে উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ ঠিক করা
স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এবারও তারিখ পিছিয়ে ৭ মে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এদিনও আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকতে পারে এমন আশঙ্কায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেয়া হয়। তার আগে ৪ মে (শুক্রবার) বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর পরীক্ষামূলক সফল উৎক্ষেপণ চালানো হয়।
ওইদিন অরল্যান্ডোর কেনেডি স্পেস সেন্টারে সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ চালানো হয় ফ্যালকন-৯ রকেটের। এসময় কেনেডি স্পেস সেন্টারের ব্লক ৫ থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।
পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পর তথ্য পর্যালোচনা করে স্পেসএক্স। ফলাফল ইতিবাচক হওয়ায় ১০ মে বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে ডানা মেলবে বলে জানায়।
উল্লেখ্য, স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে পাঠানোর লক্ষ্যে রাশিয়ার উপগ্রহ কোম্পানি ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে কক্ষপথ (অরবিটাল স্লট) কেনে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি রাশিয়ার কাছ থেকে মহাকাশের ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমায় দুই কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারে (বাংলাদেশি প্রায় ২১৯ কোটি টাকায়) কেনা হয়েছে এ স্লট।
-

চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ৪ জুন পর্যন্ত খালেদার জামিন
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে আগামী ৪ জুন পর্যন্ত জামিন দিয়েছেন আদালত। রাজধানীর বকশিবাজারে অবস্থিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ আদেশ দেন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশিবাজারে অবস্থিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে মামলাটির যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে হাজির না করে কাস্টডিতে পাঠান কারা কর্তৃপক্ষ। কাস্টডিতে লেখা হয়, ‘খালেদা আজ শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাই তাকে আদালতে হাজির করা হয়নি।‘
অপরদিকে, খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা তার জামিন বৃদ্ধির আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আগামী ৪ জুন পযন্ত খালেদার জামিন মঞ্জুর করেন।
২২ এপ্রিল খালেদা জিয়ার জামিন ১০ মে পর্যন্ত মঞ্জুর করেন আদালত। এর আগে ৫ এপ্রিল খালেদা জিয়ার জামিন ২২ এপ্রিল পর্যন্ত এবং তার আগে ২৮ মার্চ ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান ৫ এপ্রিল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার জামিন বৃদ্ধি করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর-রশীদ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।
প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এ মামলায় অন্য আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে রাজধানীর নাজিমউদ্দিন রোডের সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।
বর্তমানে সেখানেই বন্দি রয়েছেন তিনি।
১২ মার্চ খালেদার চার মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন উচ্চ আদালত। ৯ মে আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার জামিন বিষয় শুনানির আদেশের জন্য ১৫ মে দিন ধার্য করেন।
-

স্যাটেলাইটে লেখা থাকছে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’
মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটে সাধারণত স্মৃতি হিসেবে কোনো কিছুই লেখা থাকে না বা লিখে রাখার কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে আরেকটি ইতিহাসের সাক্ষী হচ্ছে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের গায়ে লেখা থাকছে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’।
স্থানীয় সময় বুধবার ফ্লোরিডার একটি হোটেলে এমনটিই জানালেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।
মাস কয়েক আগে সরেজমিনে স্যাটেলাইট কার্যক্রমের অগ্রগতি দেখতে ফ্লোরিডা আসেন তারানা হালিম। তখন বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের থালাস এলেনিয়া তারানা হালিমকে বলেন, সাধারণত স্যাটেলাইটের কোথাও কিছু লেখা যায় না। লেখার কোনো নিয়মও নেই। কিন্তু ৫৭তম স্যাটেলাইট দেশ হতে যাওয়া বাংলাদেশকে তারা স্মৃতি হিসেবে কিছু একটা লিখার সুযোগ দিতে চান।
তখন তারানা হালিম তাদের উদ্দেশে বলেন, আমি এখানে কিছু লেখার সাহস দেখাতে চাই না। আর যদি এতে কারও নাম লিখতেই হয় তাহলে তা অবশ্যই আমাদের জাতির জনকের নাম লিখতে হবে। আর আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের স্লোগান হচ্ছে জয় বাংলা। তখন তিনি থালাসের বিশেষ অমোচনীয় কালিতে নিজ হাতেই স্যাটেলাইটের গায়ে লিখে দেন ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। স্যাটেলাইটের পুরো মেয়াদকাল অর্থাৎ ১৫ বছরেও এ লেখা মুছেবে না।
বুধবার ফ্লোরিডায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সম্মানে স্পেস এক্সের দেয়া নৈশভোজে অংশ নিয়ে তারানা হালিম সাংবাদিকদের জানালেন এসব তথ্য। তারানাকে এ সময় বেশ আবেগাপ্লুত দেখা যায়।
এর আগে ১০ মে উৎক্ষেপণের জন্য চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা করে স্পেসএক্স। সংস্থাটির এক টুইট বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানাভেরাল থেকে প্যাড ৩৯-এ থেকে ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটে করে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হবে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিটিআরসি স্পেসএক্স-এর বরাত দিয়ে দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা করে। মঙ্গলবার বিকেলে স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত সময় হালনাগাদ করা হয়।
এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট খরচ হচ্ছে ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেয়া হচ্ছে ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা। আর ঋণ হিসেবে এইচএসবিসি ব্যাংক বাকি ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা দিচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। বাকি ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য রাখা হবে।
গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফ্লোরিডায় উৎক্ষেপণ কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত হবেন। আর ক্যাপ ক্যানাভেরালে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় ৭ মে সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় ৮ মে) মহাকাশে যাত্রা করার কথা ছিল স্যাটেলাইটটির। তবে কারিগরি ত্রুটি ও আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকায় নির্ধারিত দিনে মহাকাশে যাত্রা করতে পারেনি স্যাটেলাইটটি।
৪ মে স্যাটেলাইটটির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফল হওয়ার কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। অরল্যান্ডোর কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্যাটেলাইটটির পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়।
-

ছাত্রলীগের কারণে রাবি প্রশাসনের লক্ষাধিক টাকা লোকসান
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আম ও লিচুর ৩টি বাগান বিনা টেন্ডারে দখল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। শুধু দখলই নয় বাগানের সব লিচু স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে তারা। প্রতি বছর বাগানগুলোর টেন্ডার থেকে বেশ কিছু টাকা আয় করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু এবছর ছাত্রলীগের অবৈধ দখলদারিত্বে প্রায় লক্ষাধিক টাকা লোকসান হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, এই বেআইনিভাবে যারা বাগানগুলো দখল করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে তদন্ত কমিটিও করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের ৭টি আম-লিচু বাগানের মধ্যে ৪টির টেন্ডার হলেও বাকি তিনটির টেন্ডারের জন্য পর পর তিনবার বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। প্রথম বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় গত ১৩ মার্চে। এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ৮ এপ্রিল ও ২৫ এপ্রিল তারিখে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। তৃতীয় ও শেষ বিজ্ঞপ্তির আবেদনের সময়সীমা গত ৩০ এপ্রিলে শেষ হয়। এরপরও কোনো আবেদনপত্র জমা পড়েনি। যেহেতু তিনবারের বেশি কোটেশন বিজ্ঞপ্তি দেয়ার নিয়ম নেই তাই টেন্ডারবিহীন থেকে যায় সেই তিনটি বাগান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাগানগুলোর টেন্ডারের জন্য অনেকেই আবেদনের জন্য এসেছিল। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের আবেদনপত্র জমা দিতে বাধা দেয়ায় বাইরের কেউ আবেদন করতে পারেনি। এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ৩টি বাগান লিজ নেয়ার জন্য ৩ হাজার টাকা জমা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের কাছে সেই আবেদন গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তৎক্ষণাত ফিরিয়ে দেয়। অবশেষে লিজ ছাড়াই সেই বাগানগুলো দখলে নেয় ছাত্রলীগ।
কৃষি প্রকল্পের এক কর্মকর্তা বলেন, তিনবার বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পরেও কোনো আবেদনপত্র জমা না পড়ায় নির্বাহী আদেশের জন্য টেন্ডারের ফাইল উপ-উপাচার্যের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেই ৩টি বাগান কেউ টেন্ডার পায়নি।
এদিকে প্রশাসনের কাছে টেন্ডারের আবেদনপত্র ও জামানত কিছু জমা না দিলেও গাছের লিচু পেড়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে ছাত্রলীগের নেতারা। প্রতিদিনই বিভিন্ন গাছের লিচু পেড়ে স্থানীয় ছেলেদের দিয়ে বিক্রি করাচ্ছেন শাখা ছাত্রলীগের তিনজন নেতা। এর পাশাপাশি ছাত্রলীগের গার্ডরা গাছের নিচে অনুপস্থিত থাকলেই শিক্ষার্থীরাও লিচু পেড়ে খাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে ছাত্রলীগ নেতাদের চোখে ধরা পড়লেই শিক্ষার্থীদের নানা রকম হুমকি ও গালিগালাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর বাজারে মনির নামের স্থানীয় এক ছেলে লিচু বিক্রি করছে। প্রতি কেজি লিচু ২৪০ টাকা দামে বিক্রি করছে সে। তার বাড়ি বিনোদপুরেই।
মনির জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার আমাকে লিচু বিক্রির দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা কয়েকজন মিলেই লিচু বিক্রির কাজ করছি। এর বিনিময়ে প্রতিদিন লিচু ও মজুরি হিসেবে টাকা দেয়া হয়।’
আম-লিচু বাগান দখলের সাথে জড়িত শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সারোয়ার হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমরা বাগানগুলোর টেন্ডারের জন্য আবেদন করেছিলাম। যেহেতু অন্য কেউ টেন্ডার নেয়নি, তাই আমাদের আমাদের আবেদনই গ্রান্টেড হবে বলে মনে করেছিলাম।
তবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বাগানগুলো থেকে প্রকাশ্যে লিচু পাড়তে দেখা গেলেও বরাবরই লিচু বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে সারোয়ার হোসেন বলেন, ছাত্রলীগের কেউ লিচু বিক্রির সাথে জড়িত না। স্থানীয় ছেলেরাই হয়তো এই কাজ করে ছাত্রলীগের নাম বলছে।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, বাগানগুলো দখল করার পরে আমাদের কাছে কয়েকজন আবেদন করেছিল। তাদের সেই আবেদনও আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় তাদের ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। কারণ তারা আমাদের না জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাগানগুলো দখলে নিয়েছে। একজন শিক্ষার্থী কিভাবে একাজ করতে পারে তা আমাদের বুঝে আসে না। তাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলরকে আমি নোট দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করবে। প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে।
-

ছাত্রলীগ ‘সিন্ডিকেট’ শব্দের সঙ্গে পরিচিত নয় : সোহাগ
ছাত্রলীগ ‘সিন্ডিকেট’ শব্দের সঙ্গে পরিচিত নয়, এটা গুজব বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ। আগামী ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের সম্মেলনের প্রস্তুতি তুলে ধরতে বুধবার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
‘অভিযোগ আছে, সিন্ডিকেট দ্বারা ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত হয়। আসন্ন সম্মেলনে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব কি সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই নেতৃত্ব তৈরি হবে নাকি অন্য পন্থায়?’ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ছাত্রলীগ সভাপতি সোহাগ বলেন, ছাত্রলীগ ‘সিন্ডিকেট’ শব্দের সঙ্গে পরিচিত নয়। সিন্ডিকেট শব্দটি ব্যবহার হয় কেবল মাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে। দেশরত্ম শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডকে বিতর্কিত করতেই এই সিন্ডিকেট শব্দটি ব্যবহার করে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী। ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক দেশরত্ম শেখ হাসিনা। তার নিদের্শেই ছাত্রলীগ পরিচালিত হয়। তিনি যে নির্দেশ দেন ছাত্রলীগ তা বাস্তবায়ন করে। দেশরত্ম শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীর নেতৃত্ব তৈরি হবে। এই নেতৃত্বই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। ছাত্রলীগ সিন্ডিকেট শব্দের সঙ্গে পরিচিতও নয়, তাই পরিচালিত হওয়ার প্রশ্নই আসে না।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কাজী এনায়েত, এম আমিনুল ইসলাম, দফতর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শামীম, জগন্নাথ বিশ্বািবদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের নেতারা।
-

খালেদার মামলায় আদালতে হট্টগোল, উত্তেজনা
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। মামলার শুনানিতে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এবং তীর্যক পার্শ্ব মন্তব্যে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সাবমিশনে (বক্তব্য) সাময়িক ছেদ পড়ে।
তবে আদালতের তাগিদ ও বিএনপির সিনিয়র আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এই প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, আপনার সমর্থকদের নিবৃত্ত করুন। খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানিতে গতকাল এ ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের অবস্থান ও এখতিয়ারকে চ্যালেঞ্জ করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, দুদকের মামলায় আইনে অ্যাটর্নি জেনারেলের জড়ানোর সুযোগ নেই। অ্যাটর্নি জেনারেল ও দুদকের আইনজীবী খালেদার জামিনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের শুনানি চলছে। অসমাপ্ত অবস্থায় শুনানি আজ পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ মামলা উপলক্ষে আপিল বিভাগের এক নম্বর বিচার কক্ষ আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ভিড়ে ছিল জনাকীর্ণ। আওয়ামী লীগ সমর্থক ও সাধারণ আইনজীবীদের চেয়ে আদালতে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের আধিক্য ছিল। শুনানিতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীন, মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, মীর মোহাম্মদ নাছির হোসেন, মাহবুব উদ্দিন খোকন, বদরুদ্দোজা বাদল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিএনপির সহস াধিক নেতা-কর্মী আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন।
আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় খালেদা জিয়ার মামলাটি ৯ নম্বর ক্রমিকে ছিল। সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে এ মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান শুনানি করেন। খালেদা জিয়াকে হাই কোর্ট যে চারটি যুক্তিতে জামিন দিয়েছিল, তিনি সেগুলো আদালতে পড়ে শোনান। তিনি এসব যুক্তি খণ্ডন করেন। তিনি হাই কোর্টের আদেশের নির্বাচিত অংশ আদালতে পড়ে শোনান। দুদকের আইনজীবী বলেন, খালেদা জিয়া সাজার পরে কারাগারে রয়েছেন। এই মামলায় এখন বিচারিক আদালতে বিচার চলছে না। বিচারিক আদালতে সাজার পরে তিনি জেলে আছেন। সাজা হওয়ার পরে আসামির বয়স ৭৩ বছর কোনো ফ্যাক্টর নয়। তাই এই পর্যায়ে এটি কোনো যুক্তি হতে পারে না। বিচারিক আদালতে বিচার চলাকালে এটি যুক্তি হতে পারে। কিন্তু সাজার পরে বয়স কোনো যুক্তি হতে পারে না। বিচারিক আদালতের বিচারক সাজা দেওয়ার সময় আসামির বয়সের বিষয়টি কিন্তু বিবেচনা করেছেন।
দুদকের আইনজীবী বলেন, হাই কোর্ট আসামির সংক্ষিপ্ত সময়ের সাজা দেখে জামিন দিয়েছে। কিন্তু আসামি কতদিন জেল খেটেছেন, তা হাই কোর্ট বিবেচনায় নেয়নি। পাঁচ বছরের সাজার ক্ষেত্রে আড়াই বছর জেলে থাকলেও একটা কথা ছিল। তিনি বলেন, আসামির শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টিও এখানে বিবেচনায় আসবে না। কারণ জেলকোড অনুযায়ী তার ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ পর্যায়ে বিচারপতি মো. ইমান আলী বলেন, তাহলে সংক্ষিপ্ত সময়ের সাজা কি হাই কোর্ট বিবেচনা করতে পারবে না? দুদকের আইনজীবী বলেন, পারবে। তবে সেক্ষেত্রে শর্ট কাস্টডিও বিচেনায় নিতে হবে। বেলা ১১টা পর্যন্ত দুদকের আইনজীবী শুনানি করেন। এরপর আদালত বিরতিতে যায়।
১১টা ৪০ এ আবার আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ১১টা ৫০ মিনিটে এই মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। এ পর্যায়ে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান আবার শুনানি করেন। তিনি বলেন, যেসব ওষুধের তালিকা এখানে দেওয়া হয়েছে, আমার মনে হয় সেগুলো (রোগ) অতটা সিরিয়াস নয়। তারা কিছু পেপার কাটিং জমা দিয়েছেন। এতে চিকিৎসকের মতামত এসেছে। এই পর্যায়ে বেলা ১২টা ১ মিনিটে দুদকের আইনজীবীর বক্তব্য শেষ হয়। এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি শুরু করেন। তিনি জানান, হাই কোর্টে এ মামলার আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত হয়েছে। যে কোনো সময় এ মামলার শুনানি হতে পারে। অ্যাটর্নি জেনারেল নিম্ন আদালতের নথির বিভিন্ন অংশ আদালতে পড়ে শোনান।
এ পর্যায়ে জয়নুল আবেদীন বলেন, তিনি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা। এই মামলায় তিনি এসব (অপ্রাসঙ্গিক) কি বলছেন? আমরা এখানে জামিন শুনানির জন্য এসেছি। এ সময় বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা সমস্বরে ‘ইয়েস, ইয়েস’ বলে তাকে সমর্থন জানান। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য উপস্থাপন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। তবে তিনি এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। পরে তিনি আবার মামলার নথি থেকে পড়ে শোনান। এ সময় খালেদা জিয়া নিম্ন আদালতে কতদিন উপস্থিত ছিলেন, কতদিন ছিলেন না, কতবার সময়ের আবেদন করেছেন; তিনি সে বিষয়টি আদালতে তুলে ধরেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ ধরনের মামলায় পৃথিবীতে কেউ জামিন পায়নি। দুর্নীতির মামলায় ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট লুলাকে ৭২ বছর বয়সে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক এক রাষ্ট্রপ্রধানকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। আইনের ক্ষেত্রে সবাই সমান। অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ। তার বিশ্রাম দরকার। তিনি কারাগারে বিশ্রামে আছেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের এ বক্তব্যে আদালতে উপস্থিত আইনজীবীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, খালেদার এই মামলা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফেয়ার ট্রায়ালগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ সময় আইনজীবীদের মধ্যে হাস্যরোলের সৃষ্টি হয়। জয়নুল আবেদীন দাঁড়িয়ে বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হয়ে তিনি এসব কথা বলতে পারেন না। এ পর্যায়ে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা ‘শেম, শেম’ বলে চিৎকার করেন। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এই মামলায় বিচারিক আদালতে পাঁচজন আইনজীবী শুনানি করেছেন, যুক্তিতর্ক করেছেন। আর কোনো ক্রিমিনাল মামলায় এমন হয়নি। এ সময় খন্দকার মাহবুব দাঁড়িয়ে বলেন, আমরা জামিনের শুনানির জন্য এসেছি। এসব কি? আইনজীবীরা সমস্বরে চিৎকারে তাকে সমর্থন দেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, বলতে দিন। আপনারাও সুযোগ পাবেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, জেলকোডে জেলখানায় সেবক রাখার বিধান নেই। কিন্তু খালেদা জিয়াকে সেবক দেওয়া হয়েছে। এই পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য শেষ হয়। তখন বেলা একটা। পরে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী শুনানি করেন। তিনি এই মামলায় অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
দুদক আইনের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ উদ্দেশ্যে শুনানি দীর্ঘায়িত করেছেন। এ সময় আইনজীবীরা তাকে সমস্বরে সমর্থন জানান।
বিচারপতি মো. ইমান আলী বলেন, আপনি শুনানি করছেন, আপনার সমর্থকদের নিবৃত্ত করুন। প্রধান বিচারপতিও অনুরূপ কথা বলেন। এ সময় এ জে মোহাম্মদ আলী ও খন্দকার মাহবুব আইনজীবীদের নিবৃত্ত করেন। আইনজীবীরা বলেন, আমরা সমর্থক নই, আইনজীবী। এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, হাই কোর্ট জামিন দিয়েছে, আপিল বিভাগ তাতে হস্তক্ষেপ করেছে এমন একটি মামলাও নেই। ডিএলআরে আসেনি এমন একটি মামলা ‘দুদক বনাম মশিউর রহমান’ এর রেফারেন্স দিয়ে তিনি বলেন, এই মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিনের আদেশ আপিল বিভাগ প্রথম দিনই বহাল রেখেছিল। হাই কোর্ট জামিন দিলে তাতে হস্তক্ষেপের ঘটনা ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও নেই।
উল্লেখ করা যায়, ১৯ মার্চ আপিল বিভাগ খালেদা জিয়াকে হাই কোর্টের দেওয়া জামিনের আদেশ ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করে। ১২ মার্চ খালেদা জিয়ার আবেদনের শুনানি নিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তাকে ৪ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় হাই কোর্ট। ওই আদেশের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। শুনানি করে ১৯ মার্চ খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করে আপিল বিভাগ। ৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সাজা দেয়। সেদিন থেকে তিনি কারাগারে।
-

আজ পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম. এ. ওয়াজেদ মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী
আজ ৯ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী দেশবরেণ্য বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী প্রয়াত ড. এম. এ. ওয়াজেদ মিয়ার নবম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে আজ বুধবার উপজেলার ফতেপুরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও ড. ওয়াজেদ মিয়া ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসুচীর মাধ্যমে দিবসটি পালিত হবে বলে জানা গেছে।পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত ড. এম. এ. ওয়াজেদ মিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পন করা হবে। এরপর ফতেপুরে ‘জয় সদন’ চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ৯ মে ড. এম. এ. ওয়াজেদ মিয়া ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী উপজেলার নিজ গ্রাম ফতেপুরে মিয়াবাড়ীর পারিবারিক কবরস্থানে তার বাবা আব্দুল কাদের মিয়া ও মাতা ময়জন্নেছার পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। -

খালেদা জিয়ার বৃটিশ আইনজীবীকে ভিসা দিচ্ছে না সরকার: রিজভী
কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার আইনজীবী টিমের পরামর্শক ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইলকে সরকার ভিসা না দিয়ে বাংলাদেশে আসতে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি।মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।তিনি বলেন, লর্ড কার্লাইল ৮ মে’র সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের শুনানিতে ডিফেন্স টিমে অংশ নিতে তিনি গত কয়েক সপ্তাহ আগে লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু হাইকমিশন তাকে ‘হ্যাঁ’ ও বলেননি, ‘নাও’ বলেনি। এতে স্পষ্ট যে, সরকার প্রত্যক্ষভাবে আইনজীবী লর্ড কার্লাইলকে বাংলাদেশে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়ার যে শক্তিশালী লিগ্যাল টিম আছে তা যাতে আরো শক্তিশালী না হয়, সেটাকে বাধাগ্রস্ত করতেই বেআইনিভাবে তাকে ভিসা দেয়া হয়নি।রিজভী লর্ড কার্লাইল আল জাজিরায় দেয়া সাক্ষাৎকারের বক্তব্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, আজকে লর্ড কার্লাইভকে ভিসা দেয়া হলো না। অথচ ১/১১ এর সময়ে আজকের প্রধানমন্ত্রী যখন জেলে ছিলেন তখন তিনি কানাডার একজন আইনজীবী প্রফেসর প্যায়াম একাদাম ও ব্রিটেনের একজন আইনজীবী চেরি ব্লেয়ারকে নিয়োগ দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিলেন এবং তারা সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছিলেন। আমরা বার বার বলে এসেছি, প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে এবং তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল খালেদা জিয়ার জামিনে ন্যায়বিচার পাবে বলে প্রত্যাশা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিচার বিভাগ সাংবিধানিকভাবে সম্পূর্ণ স্বাধীন। সেখান থেকে আমরা ন্যায়বিচার পাবো।