Category: জাতীয়

  • এসএসসি’র রেজাল্ট পুনর্নিরীক্ষণ ৭-১৩ মে

    এসএসসি’র রেজাল্ট পুনর্নিরীক্ষণ ৭-১৩ মে

    চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ১০ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাশং।

    তবে ফলাফল আশানুরূপ না হলে শিক্ষার্থীরা খাতা পুনঃমূল্যায়নের জন্য আবেদন করতে পারবেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে আগামী ৭ মে শুরু হবে ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন কার্যক্রম। ১৩ মে পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশ করা হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল ফোন অপারেটর টেলিটক থেকে পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে হবে।

    যেভাবে আবেদন করা যাবে:
    ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে RSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেয়া হবে তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর দেয়া হবে। আবেদনে সম্মত থাকলে RSC লিখে স্পেস দিয়ে YES লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।

    প্রতিটি বিষয় ও প্রতি পত্রের জন্য ১২৫ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে। যেসব বিষয়ের দুটি পত্র (প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র) রয়েছে সেসব বিষয়ের ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করলে দুটি পত্রের জন্য মোট ২৫০ টাকা ফি দিতে হবে। একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের আবেদন করা যাবে। এক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে।

  • এক নজরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল

    এক নজরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল

    চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ১০ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাশং। আজ সকাল ১০টা ৮ মিনিটে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনে তার হাতে ফলাফলের সারসংক্ষেপ হস্তান্তর করেন।

    মোট পরীক্ষার্থী ২০ লাখ ২৭ হাজার ৫৭৪ (গত বছরের তুলনায় ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬১২ জন বেশি)
    মোট পাস করেছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৫০৪
    ছাত্র ৭ লাখ ৮৪ হাজার ২৪৫
    ছাত্রী ৭ লাখ ৯১ হাজার ৮৫৯

    মোট পাসের হার ৭৭.৭৭%
    ছাত্র পাসের হার ৭৬.৭১%
    ছাত্রী পাসের হার ৭৮.৮৫%

    মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত: ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯
    এর মধ্যে ছাত্র ৫৫ হাজার ৭০১ এবং
    ছাত্রী ৫৪ হাজার ৯২৮

    সাধারণ ৮ বোর্ডে পাস করেছে ১২ লাখ ৮৯ হাজার ৫০৮ (গতবারের থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭৩৭ জন বেশি পাস করেছে)
    জিপিএ-৫ – ১ লাখ ২ হাজার ৮৪৫ (৯৭ হাজার ৯৬৪ গতবছর)
    পাসের হার ৭৮.৪০

    মাদ্রাসা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ২ লাখ ৮৬ হাজার ৯১৭
    পাস করেছে ২ লাখ ৩ হাজার ৩৮২ জন
    পাসের হার ৭০.৮৯ %

    কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ১৫ হাজার ২১৫
    পাস করেছে ৮২ হাজার ৯১৭
    পাসের হার ৭১.৯৬ % কমেছে ৬.৭৩%
    জিপিএ-৫ প্রাপ্ত: ৪ হাজার ৪১৩

  • রাজাকারের ছেলে আ.লীগের এমপি

    রাজাকারের ছেলে আ.লীগের এমপি

    বরগুনা-২ আসন সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বাবা রাজাকার কমান্ডার ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন বরগুনার পাথরঘাটা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন সোহরাব।সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন বিশেষ আয়োজন ‘ইলেকশন এক্সপ্রেস’এ দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ অভিযোগ করেন।

    বরগুনার পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী নিয়ে গঠিত বরগুনা-২ আসন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই আসনে মাঠে নেমেছেন বর্তমান সাংসদসহ ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

    বর্তমান সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমন ২০০৩ থেকে ২০১৪ এই ১১ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়েছেন। ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে মেয়াদ শেষ না হতেই উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে মেয়াদ শেষ না হতেই গোলাম সবুর টুলু এমপির মৃত্যুতে উপনির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ দশম সংসদ নির্বাচনেও জয়ী হয়ে হ্যাট্রিক করেন তিনি।

     

    পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে দ্বন্দ নেই উল্লেখ করে মোশারফ হোসেন আরো বলেন- ‘আমাদের আওয়ামী লীগ আগে থেকেই সুসংগঠিত, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে উন্নয়ন করেছেন তাতে আমরা অনেক ভালো আছি। গোলাম সবুর টুলু এমপির মৃত্যুর পরে শওকত হাচানুর রহমান রিমনকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় এবং এমপি নির্বাচিত হয়। পাথরঘাটায় আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন দ্বন্দ নেই, শুধু সমস্যা হলো রিমন শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ মনা নয়। তিনি মূলত বিএনপি জামায়াত ও শিবির মনা। কারণ তার বাবা ছিলেন এই জেলার রাজাকার কমান্ডার।’

    স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে সাংসদ রিমনের কোন সম্পৃক্ততা নেই উল্লেখ করে পৌর আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন- ‘তিনি একাই আসে, আবার একাই যায়। তার কাছের ১০/১২ জন লোক আছে, যাদের নিয়ে তিনি সব সময় চলাফেরা করেন। তারা সবকিছু লুটপাট করে খাচ্ছে। এদের কাছে আমরা সবাই জিম্মি হয়ে আছি। তিনি মূলত কাজ করে মৌলবাদীদের। দলের জন্য তিনি কিছুই করেন না।’

    অন্যদিকে এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন তিনি দু’বার এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। এতদিন তিনিই আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু এবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে মনোনয়ন পাওয়ার আশায় মাঠে নেমেছেন আরও দুজন।

    আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন এমপির পাশাপাশি মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন কেন্দ্রীয় যুব লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শুভাষ চন্দ্র হাওলাদার। তাকে নিয়েও এলাকায় বেশ আলোচনা চলছে। তিনি এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। তার প্রতি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সহানুভুতিও রয়েছে বলে একটি সূত্রে জানায়।

    দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে তিনিও আশাবাদী। অন্যদিকে প্রয়াত সংসদ সদস্য গোলাম সবুর টুলুর জ্যেষ্ঠ কন্যা ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফারজানা সবুর রুমকি। তিনি সব সময় ও দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন পেতে গণসংযোগ, শুরু করেছেন সভা সেমিনার ও সামাজিক কাজকর্ম করে থাকেন।

    এরআগে হত্যা মামলার চিহ্নিত আসামিকে নিয়ে নিজ গাড়িতে চড়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত ইফতার পার্টিতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেয়ার অভিযোগ ওঠে বরগুনা-২ আসনের সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে।

    এছাড়াও বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

    অন্যদিকে পৌরসভা নির্বাচনেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন হাচানুর রহমানকে দুবার সতর্ক করেছিল। বরগুনার বেতাগী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থীর পক্ষে মনোনয়নের প্রত্যয়নপত্র হেলিকপ্টারে নিয়ে গিয়েছিলেন সাংসদ শওকত হাচানুর। সে সময় তার এমন কর্মকাণ্ড বেআইনি বলে অভিযোগ উঠেছিল।

  • যেভাবে জানা যাবে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল

    যেভাবে জানা যাবে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল

    আজ রবিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এদিন দুপুর ১টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল ঘোষণা করবেন। আর দুপুর ২টা থেকে ফলাফল জানতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা।

    যে কোনো মোবাইল অপারেটর থেকে এসএমএস করে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল জানা যাবে।

    SSC/DAKHIL লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে ২০১৮ লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানা যাবে। যেমন: ঢাকা বোর্ডের জন্য, SSC Dha 223657 2018 এবং Send করবেন 16222 নম্বরে। ফিরতি মেসেজে ফলাফল জানানো হবে।

    এছাড়া শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট  http://www.educationboardresults.gov.bd থেকেও পরীক্ষার্থীরা ফল জানতে পারবেন।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো www.educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে ফলাফল ডাউনলোড করতে পারবে। বোর্ড থেকে ফলাফলের কোনো হার্ডকপি সরবারহ করা হবে না। তবে বিশেষ প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দফতর থেকে ফলাফলের হার্ডকপি সংগ্রহ করা যাবে বলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি জানিয়েছে।

    উল্লেখ্য, এবার এসএসসি পরীক্ষায় ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৯৯ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ছাত্র ১০ লাখ ২৩ হাজার ২১২ এবং ছাত্রী ১০ লাখ আট হাজার ৬৮৭ জন।

  • বর্তমান ইসির পক্ষে সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব নয়: মওদুদ

    বর্তমান ইসির পক্ষে সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব নয়: মওদুদ

    নির্বাচন কমিশন(ইসি) পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, এই কমিশনের পক্ষে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করা সম্ভব নয়। কারণ গাজীপুর ও খুলনায় সরকার সমর্থকরা প্রতিদিন নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছে। কিন্তু কমিশন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

    শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

    নির্বাচন কমিশন সরকারের স্বার্থে কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন মওদুদ। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যত পদক্ষেপ নিচ্ছে সব সরকারি প্রার্থীদের বিজয়ী ও বিরোধীদের পরাজিত করার জন্য।

    বিএনপি যাতে আগামী নির্বাচনে অংশ না নেয় সেজন্য সরকারের সব আয়োজন চলছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যতই নির্বাচনের কাছাকাছি যাচ্ছি ততই মনে হয় সরকার আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সুষ্ঠু নির্বাচন রুখতে যত রকমের ষড়যন্ত্র করা যায় সেগুলো তারা করছে।

  • কোটা আন্দোলনে তাণ্ডব ও শক্তিমান হত্যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়

    কোটা আন্দোলনে তাণ্ডব ও শক্তিমান হত্যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়

    বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনকে রাজনৈতিক প্রবাহিত করে তাণ্ডব চালানো আর নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে হত্যা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

    শুক্রবার (০৪ মে) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসরের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, পাহাড়ে আজও রক্তপাত হলো। শান্তির মধ্যে অস্থিরতা তৈরির জন্য একটা মতলবি মহল সক্রিয়। বাংলাদেশকে শেখ হাসিনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এটা অনেকের ঈর্ষার কারণ। তারা সোজা পথে পারে না, বাঁকা পথে আসে। আলোতে পারে না, অন্ধকারের আশ্রয় নেয়, রক্তপাতের আশ্রয় নেয়, ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেয়।

    ‘অপশক্তি সক্রিয় বলেই কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢাবি উপাচার্যের (ভিসি) বাড়িতে একাত্তরের নারকীয় তাণ্ডবের পুনরাবৃত্তি হয়। এ বছর অনেক অঘটন ঘটার পায়তারা হচ্ছে, চক্রান্ত চলছে। নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে হত্যাও বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়।’

    বিএনপির নির্বাচনে না আসা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এবারও বিএনপি নির্বাচনে না আসলে না আসুক, কিন্তু নির্বাচন বর্জন করে গতবারের মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি করলে জনগণকে নিয়ে প্রতিহত করা হবে। সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য নির্বাচন থেমে থাকেনি, এবারও থেমে থাকবে না।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি বৈধ নির্বাচন। এর প্রমাণ সিপিইউ ও আইপিএ-এর সম্মেলন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়া এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার ও সংসদ সদস্যের এই দুইটি আন্তর্জাতিক সংগঠনে সভাপতি নির্বাচিত হওয়া।

    ছাত্রলীগের কমিটি গঠন বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, কমিটি করলে অভিযোগ তো আসবেই। আমাদের কাছেও অভিযোগ আসছে। মাথা ব্যাথা হলে তো মাথা তো আর কেটে ফেলা যায় না। সমাধানের চেষ্টা আছে।

    অনুষ্ঠানে খেলাঘর সংগঠক কামাল চৌধুরী ও নুরুর রহমান সেলিমকে বজলুর রহমান স্মৃতি পদক দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন
    খেলাঘর আসরের সভাপতিমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা পান্না কায়সার।

    বক্তব্য দেন খেলাঘরের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শমী কায়সার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

  • প্রধানমন্ত্রি এপিএস পদে নিয়োগ পেল সাবেক ছাত্রনেতা আশরাফ সিদ্দিকী বিটু

    প্রধানমন্ত্রি এপিএস পদে নিয়োগ পেল সাবেক ছাত্রনেতা আশরাফ সিদ্দিকী বিটু

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী প্রেস সচিব (এপিএস) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সাবেক ছাত্রনেতা আশরাফ সিদ্দিকী বিটুকে। গতকাল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়েছে, আশরাফ সিদ্দিকী বিটুকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি আওয়ামী লীগের গবেষণা সেল সিআরআইয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    আশরাফ সিদ্দিকী বিটু ময়মনসিংহ সদর উপজেলার মাসকান্দা এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা আবু বকর সিদ্দিকী পেশায় একজন আইনজীবী। আশরাফ ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের (ডিইউএফএস) সভাপতি ছিলেন। ছাত্রত্ব শেষে তিনি আওয়ামী লীগের গবেষণা শাখা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনে (সিআরআই) যোগ দেন। কয়েক বছর ধরেই তিনি সেখানে কাজ করছেন। নিয়োগের আগ পর্যন্ত তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ছিলেন।

    আশরাফ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। নতুন নিয়োগ পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় আশরাফ সিদ্দিকী বিটু বলেন, এই নিয়োগে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অশেষ শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও ভালবাসা জানাচ্ছি। অর্পিত দায়িত্ব পালনে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

  • ইউনিট কমিটি গঠন শুরু করলো বরিশাল মহানগর আ’লীগ

    ইউনিট কমিটি গঠন শুরু করলো বরিশাল মহানগর আ’লীগ

    শেখ সুমন :

    সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ইউনিট কমিটি গঠনের উদ্যোগে নিয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ। রোববার থেকে এ ইউনিট কমিটির যাত্রা শুরু করেছে। প্রথম দিন ১০ নং ওয়ার্ড ও ১৬ নং ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে এ ইউনিট কমিটি সদস্য সংগ্রহে তাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে।

    ইউনিট কমিটি গঠনে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাড: গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল,সাধারন সম্পাদক এ্যাড: জাহাঙ্গীর, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক যুবরত্ন সেরনীয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ সহ অন্নান্য নেতৃবৃন্দ।

    মহানগর আ’লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, ইউনিট কমিটি হবে তৃনমুল আ’লীগের প্রান শক্তি। তারা সব ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই কমিটিতে সব শ্রেনীর মানুষ থাকবে বলে তিনি আশা করেন।

    যুগ্ম সাধারন সম্পাদক যুবরত্ন সেরনীয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বলেন, ইউনিট কমিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাজ করে যাবে।নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই কমিটিতে সব শ্রেনীর মানুষ থাকবে ।

    নগরীর ১৬ নং ওয়ার্ডে সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ আলম মিরাজ বলেন, বিকাল ৪ টায় ১০ নং ওয়ার্ডে এ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হয়। সন্ধ্যা ৭ টায় ১৬ নং ওয়ার্ডে অনুরূপ কার্যক্রম পরিচালনা করে।এ কার্যক্রম শেষ হবে ১ম মে।

    তিনি বলেন, ইউনিট কমিটি ভোটারদের সাথে যোগাযোগ রাখবে। নির্বাচনে কেন্দ্রে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবে। মহানগর আ’লীগের দপ্তর সম্পাদক হুমায়ন কবির বলেন, ইউনিট কমিটি পর্যায়ক্রমে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডেই গঠন করা হবে। সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিই এ কমিটি গঠনের প্রধান উদ্দেশ্য। আগামী জাতীয় ও সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে এ ইউনিট কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    এব্যপারে মহানগর আ’লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল বলেন, ইউনিট কমিটি হবে তৃনমুল আ’লীগের প্রান শক্তি। তারা সব ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই কমিটিতে সব শ্রেনীর মানুষ থাকবে বলে তিনি আশা করেন।

  • বাংলাদেশকে নিয়ে চীন-ভারত দ্বন্দ্ব: নেপথ্যে কী?

    বাংলাদেশকে নিয়ে চীন-ভারত দ্বন্দ্ব: নেপথ্যে কী?

    এশিয়ার সবচেয়ে বড় দুই শক্তি চীন এবং ভারত সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে, বাংলাদেশের গত ৪৭ বছরের ইতিহাসে তার নজির সম্ভবত নেই। এই দ্বন্দ্ব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এত তীব্র রূপ নিয়েছে যে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির গতি-প্রকৃতি নিয়ে যারা গবেষণা করেন, এ বিষয়ে তাদের মধ্যেও ক্রমবর্ধমান আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক দুটি প্রতিষ্ঠান এ এনিয়ে দুটি লেখা প্রকাশ করেছে।
    অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইস্ট এশিয়া ফোরাম’ এর প্রকাশিত নিবন্ধটির শিরোনাম, ‘চায়না অ্যান্ড ইন্ডিয়া’স জিওপলিটিক্যাল টাগ অব ওয়ার ফর বাংলাদেশ’। অর্থাৎ বাংলাদেশ নিয়ে চীন এবং ভারতের ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বযুদ্ধ’।
    আর নিউইয়র্ক ভিত্তিক ‘ওয়ার্ল্ড পলিসি রিভিউ’ ঠিক এ বিষয়েই ‘উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলারস’ এর একজন গবেষকের অভিমত ছেপেছে। তাদের লেখাটির শিরোনাম, হোয়াই ইন্ডিয়া অ্যান্ড চায়না আর কম্পিটিং ফর বেটার টাইস উইথ বাংলাদেশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়তে কেন ভারত আর চীনের মধ্যে এত প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
    দুটি লেখাতেই বাংলাদেশের সঙ্গে চীন এবং ভারতের সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা, বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচন এবং দেশটির ওপর প্রভাব বিস্তারের জন্য এই দুই বৃহৎ শক্তির দ্বন্দ্বের বিষয়ে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণ রয়েছে।
    কার অবস্থান কোথায়
    ভারত এবং চীন, দুটি দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের রয়েছে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক এবং সামরিক সহযোগিতার সম্পর্ক। তবে এর মধ্যে ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কারণে ভারতের সঙ্গেই বাংলাদেশের সম্পর্কটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ইস্ট এশিয়া ফোরামে প্রকাশিত লেখায় ফরেস্ট কুকসন এবং টম ফেলিক্স জোয়েনক বলছেন, বাংলাদেশের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় দুটি দেশই মূলত বাণিজ্যকেই ব্যবহার করতে চাইছে। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দুটি দেশই সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। দুটি দেশেরই বিপুল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত আছে বাংলাদেশের সঙ্গে। দুই দেশের বাণিজ্যের একটি তুলনামূলক চিত্র তারা তুলে ধরেছেন তাদের লেখায়।
    অবকাঠামো খাতে প্রতিযোগিতা
    দুটি দেশই বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে ব্যাপক সাহায্যের প্রস্তাব দিচ্ছে। বাংলাদেশে বড় আকারে রেল প্রকল্পে আগ্রহী দুটি দেশই। গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপনেও ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে উভয় দেশের। কিন্তু এসব প্রকল্প খুব বেশি এগোচ্ছে না। ফরেস্ট কুকসন এবং টম ফেলিক্স জোয়েনক বলছেন, অবকাঠামো খাতে চীন-ভারতের এই প্রতিযোগিতা থেকে বাংলাদেশ খুব একটা লাভবান হয়নি।
    অন্যদিকে বাংলাদেশের ম্যানুফাকচারিং এবং জ্বালানি খাতে চীন বা ভারত, কেউই বড় কোন বিনিয়োগে যায়নি। যদিও তারা এধরণের বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। চীন বহু বছর ধরেই বাংলাদেশের সামরিক খাতে বড় সরবরাহকারী। ভারত এক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল, এখন তারা দ্রুত চীনকে ধরতে চাইছে। কিন্তু ভারতের সামরিক সরঞ্জামের মান নিয়ে প্রশ্ন আছে বাংলাদেশের।
    চীনের তুলনায় ভারত যেদিকে এগিয়ে আছে, তা হলো বাংলাদেশের ওপর তাদের সাংস্কৃতিক প্রভাব। ফরেস্ট কুকসন এবং টম ফেলিক্স জোয়েনক বলছেন, এই প্রভাব খুবই ব্যাপক। দু্‌ই দেশের রয়েছে অভিন্ন ভাষা (বাংলা) এবং সংস্কৃতি, এবং এর একটি বড় কেন্দ্র এখনো কলকাতা। বাংলাদেশের অন্তত এক লাখ ছাত্র-ছাত্রী ভারতের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। এর বিপরীতে চীনের সাংস্কৃতিক প্রভাব নগণ্য। ঢাকায় চীন একটি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে। সেখানে চীনা ভাষা শেখানো হয়।
    আভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রশ্নে অবস্থান
    ফরেস্ট কুকসন এবং টম ফেলিক্স জোয়েনক বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপিকে বর্ণনা করছেন একটি ‘ইসলামপন্থী এবং পাকিস্তানপন্থী’ দল হিসেবে। তাদের মতে, ২০০১ সাল হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দলটি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন যা ঘটেছিল, সেটা ভারতের মনে আছে এবং তাদের বাংলাদেশ বিষয়ক নীতি এবং ভাবনার গঠন সেটার ভিত্তিতেই। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউই বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসলে সেটা ভারতকে বিচলিত করবে।
    তাঁরা আরও বলছেন, এ বিষয়ে দিল্লির কৌশল একেবারেই স্বল্পমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা তাড়িত। তাদের কৌশলটা হচ্ছে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখা, সেই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান চীনা প্রভাব ঠেকিয়ে দেয়া।
    অন্যদিকে বাংলাদেশে চীন খেলছে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য সামনে রেখে। তারা এক দিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে। অন্যদিকে, ’ভারত বিরোধী এবং সেনাপন্থী’ বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে তারা একটা ভারসাম্য রাখছে।
    কুকসন এবং ফেলিক্স জোয়েনক বলেছেন, বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে এই ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশ কোন নিষ্ক্রিয় ‘ভিক্টিম’ নয়, বরং নিজের কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ এটি আরও উস্কে দিচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকটও বাংলাদেশকে বুঝিয়ে দিয়েছে চীন এবং ভারত আসলে কেবল ‘সুদিনের বন্ধু’। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে যে কোন পদক্ষেপ চীন আটকে দিচ্ছে। এটাকে বাংলাদেশ বন্ধুত্বসুলভ কোন কাজ বলে মনে করে না।
    অন্যদিকে ভারতের অবস্থাও ভালো নয়। তারাও এই ইস্যুতে মিয়ানমারকে মদত দিয়ে যাচ্ছে। তারা মনে করেন, শেষ পর্যন্ত এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে দুই দেশের বাণিজ্য নীতি। দুটি দেশের কোনটিই বাংলাদেশকে রফতানির ক্ষেত্রে কোন ছাড় এখনো পর্যন্ত দিচ্ছে না। দুটি দেশই বাংলাদেশে রফতানির ক্ষেত্রে ব্যাপক ‘আন্ডার ইনভয়েসিং’ এর সুযোগ দিচ্ছে, যেটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম-নীতির লঙ্ঘন। যত অর্থ তারা বাংলাদেশকে ঋণ দেয়, তার চেয়ে আরও অনেক বেশি অর্থ তারা নিয়ে নেয় এভাবে। কিন্তু এক্ষেত্রে চীন আছে সুবিধেজনক অবস্থানে।-বিবিসি বাংলা।
  • রোহিঙ্গা দুর্দশা দেখতে আজ আসছে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল

    রোহিঙ্গা দুর্দশা দেখতে আজ আসছে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দল

    রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখতে আজ শনিবার বাংলাদেশে আসছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। একটি বিশেষ বিমানে ঢাকায় আসার পর আজই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের জন্য কক্সবাজার যাবেন। সেখানে তারা নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বললেন।
    জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে স্থায়ী পাঁচটি হলো- চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র জানায়, সফরে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ দেশের মধ্যে জাতিসংঘে যুক্তরাজ্যের স্থায়ী প্রতিনিধি এই প্রতিনিধি দলে থাকছেন। বাকি চার স্থায়ী দেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধিরা থাকবেন। অন্যদিকে অস্থায়ী সদস্য ১০ দেশের স্থায়ী প্রতিনিধিরা এই সফরে থাকছেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন চলতি মাসের (এপ্রিল) জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতি পেরুর স্থায়ী প্রতিনিধি গুস্তাভো মেজা-কুয়াদ্রা।
    শনিবার রাতে কক্সবাজারের একটি হোটেলে বিশ্রাম নিয়ে পরের দিন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে সরাসরি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের শূন্য রেখায় চলে যাবেন তারা। স্বচক্ষে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো পরিদর্শনের পর আগামীকাল রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রতিনিধি দলটির। পরের দিন সোমবার ঢাকা থেকে মিয়ানমারের নেপিদো’তে যাবেন তারা। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করবেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিককালে সমস্যাসঙ্কুল অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদের এটাই এ ধরনের প্রথম সফর।
    সূত্র জানায়, প্রতিনিধি দলের সফরে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে রাখাইনে মিয়ানমারের সেনাদের চালানো সহিংসতার চিত্র এবং মানবিক সংকট মোকাবেলায় গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরবে বাংলাদেশ সরকার। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন এবং কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ কামনা করা হতে পারে।
    সফরে আসার আগে পেরুর রাষ্ট্রদূত গুস্তাভো মেজা-কুয়াদ্রা গণমাধ্যমকে বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের যেসব এলাকা থেকে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং নৃশংসতা চালানো হয়েছে, সেসব এলাকা পরিদর্শন করবেন তারা। মিয়ানমার সরকার তাদের অনুমতি দেবে।
    গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাদের চালানো জাতিগত নিধনযজ্ঞের মুখে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এসব রোহিঙ্গারা বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশে থাকছে। তাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি হলেও এখন পর্যন্ত প্রত্যাবাসন শুরু হয়নি। সূত্র আরো জানায়, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের অনাগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে এ সফরকে খুবই তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদের কঠিন পদক্ষেপ ছাড়া রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো কঠিন বলে অনেকে মনে করেন। ফলে নিরাপত্তা পরিষদ এ ব্যাপারে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় তা জানার জন্য পরিষদের সদস্যদের সফরের দিকে সবাই তাকিয়ে আছেন।
    প্রতিনিধিদের সফরকালে রোহিঙ্গারা তাদের ওপর রাখাইনে যে নিষ্ঠুরতা চালানো হয়েছে তার বর্ণনা দেবেন। পাশাপাশি নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্যে নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ কামনা করতে পারেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তারাও মনে করেন, নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব।