Category: জাতীয়

  • সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে বরিশালে মানববন্ধন

    সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে বরিশালে মানববন্ধন

    শেখ সুমন :

    ঢাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বাংলা টিভির রিপোর্টার ও ক্যামেরাপার্সনের উপর পুলিশের অমানুষিক নির্যাতনসহ সারা দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে বরিশালে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বরিশাল টেলিভিশন ক্যামেরাপার্সন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এ মানববন্ধন থেকে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। বুধবার সকাল ১১টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে সদর রোডে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

    সিনিয়র সাংবাদিক মুরাদ আহমেদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, বরিশাল ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফিরদাউস সোহাগ, বরিশাল টেলিভিশন মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হুমায়ুন কবির, গোপাল সরকার, রাহাত খান ও বেলায়েত বাবলু প্রমুখ।

    বক্তারা ঢাকাসহ সারা দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং সাংবাদিক নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

  • খালেদা জিয়াসহ কারান্তরীণ সকল নেতার মুক্তি দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

    খালেদা জিয়াসহ কারান্তরীণ সকল নেতার মুক্তি দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

    শেখ সুমন :

    বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানসহ সকল নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মামলায় ‘সাজানো রায়’ এর প্রতিবাদে বরিশালে পুলিশের কঠোর বেস্টনীতে পৃথক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে মহানগর বিএনপি এবং সকাল সাড়ে ১০টায় একই স্থানে একই দাবিতে মানববন্ধন করে উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি।

    মহানগর বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু, মহানগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুন ও মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন প্রমুখ।

    বক্তারা আদালতের রায় বাতিল করে বিএনপি চেয়ারপার্সনসহ কারাবন্দি সকল নেতার মুক্তির দাবি জানান।

    এর আগে দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উত্তর জেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক এমপি মেজবাউদ্দিন ফরহাদ, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সভাপতি পারভেজ আকন বিপ্লবসহ অন্যান্যরা।

    বিএনপি’র পৃথক মানববন্ধন উপলক্ষ্যে অশ্বিনী কুমার হলসহ আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল।

  • আমন্ত্রণ পেয়েই ভারত সফরে গিয়েছি, আনন্দ-ফূর্তি করার জন্য নয়

    আমন্ত্রণ পেয়েই ভারত সফরে গিয়েছি, আনন্দ-ফূর্তি করার জন্য নয়

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোনো বিদেশি শক্তি আমাদের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে, এটা আশা করি না। তিনি বলেন, আমরা আমন্ত্রণ পেয়েই ভারত সফরে গিয়েছি, আনন্দ-ফূর্তি করার জন্য নয়। দুই দেশের উন্নয়নে আমরা যে কারো সঙ্গে ভালো সম্পর্ক করতে রাজি। তাদের আমন্ত্রণেই আমরা সিরিয়াসলি আলাপ-আলোচনা করতে গেছি।

    আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের ভারত সফর শেষে আজ বিকেলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

    এ সময় তিনি আরও বলেন, পরিষ্কারভাবে একটা কথা বলতে চাই, আমাদের দেশের রাজনীতি নিয়ে আমাদের জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।  ভারত সফরে যেসব আলোচনা হয়েছে তা কয়েকদিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশ করা হবে।

  • তারেক রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক প্রচার চলছে

    তারেক রহমানের নাগরিকত্ব নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক প্রচার চলছে

    লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেই দেশের আইন অনুযায়ী পাসপোর্ট জমা দিয়ে ট্রাভেল পারমিট নিয়েছেন বলে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তবে সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে তারেক রহমান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করেছেন মর্মে সরকারের লোকদের পক্ষ থেকে যে প্রচার চালানো হচ্ছে তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক।

    মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১ টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সরকার ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে দাবি করে ফখরুল বলেন, সরকারের লোকজনের এসব বক্তব্য-বিবৃতির কারণে তারেক রহমানের জীবন এখন নিরাপত্তাহীনতায় আছে।

    তারেক রহমানে জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিক জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমানের নাগরিকত্ব বিষয়ে বর্তমান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম যে অদ্ভুত, যুক্তিহীন ও বেআইনি মন্তব্য করেছেন- আমরা (বিএনপি) তার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।

    বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, সরকার ও সরকারি দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে এটা স্পষ্ট যে, দেশে তারেক রহমানের জীবন নিরাপদ নয়। এমতাবস্থায় তারেক রহমান বিশ্বের অসংখ্য বরেণ্য রাজনীতিবিদ, সরকার বিরোধী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতোই সাময়িকভাবে বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন এবং সঙ্গত কারণেই তা পেয়েছেন। এই প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই তিনি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র বিভাগে তার পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। সে দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার পাসপোর্ট জমা রেখে তাকে ট্রাভেল পারমিট দেয়া হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম প্রমুখ।

    এর আগে, সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানে সংবাদ সম্মেলন করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্ত্রী-কন্যাসহ তার নিজের পাসপোর্ট যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সমর্পণ করেছেন। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেগুলো লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠিয়েছে।

    তিনি জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ওই পাসপোর্টগুলো এখন ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আছে। বর্তমানে তারেক রহমানের কাছে পাসপোর্ট নেই।

  • দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নিলেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

    দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নিলেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ

    টানা দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মো. আবদুল হামিদ। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে বঙ্গভবনের দরবার হলে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর ১৬ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসাবে আবদুল হামিদ এই পদে সপ্তদশ ব্যক্তি। তবে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি কেবল তিনিই। সংবিধানে সর্বোচ্চ দুবার রাষ্ট্রপতি পদে থাকার সুযোগ থাকায় এটাই হবে তাঁর শেষ মেয়াদ।

    গত ৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের একবিংশতম রাষ্ট্রপতি পদে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেন এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা।

    ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. আবদুল হামিদ। সেই মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় গত ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন একমাত্র আবদুল হামিদের মনোনয়নপত্রই জমা পড়ে। বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফেরার পর শুধু ১৯৯১ সালেই রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন হয়েছিল। এরপর সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

  • গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অনুষ্ঠিতব্য ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন’ সম্মেলনে ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ পেতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নারী নেতৃত্বে সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পদকে ভূষিত করা হবে।

    বৃহস্পতিবার থেকে অস্ট্রেলিয়ায় তিন দিনের সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী সিডনিতে এই পুরস্কার গ্রহণ করবেন। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী  এ তথ্য জানান।

    আগামী বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর অস্ট্রেলিয়া সফর ঘিরে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের আমন্ত্রণে সিডনিতে ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন’- শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিল এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে ‘গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হবে।

    এর আগে গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, চিলির সাবেক প্রসিডেন্ট মিশেল ব্যাশেলেট, আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রসিডেন্ট মেরি রবিনসন।

    অস্ট্রেলিয়া সফরে উইমেন সামিটে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দেশটির প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের সঙ্গে ২৮ এপ্রিল দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা।সম্মেলনের সাইড লাইন বৈঠকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীসহ বেশ কয়েকটি দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হতে পারে।

    প্রসঙ্গত, ১৯৯০ সাল থেকে প্রতি বছর গ্লোবাল উইমেন সামিট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর টোকিওতে এ সামিট অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সামিটের আয়োজক অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বের ৬০টি দেশের প্রায় এক হাজারের বেশি প্রতিনিধি সামিটে অংশ নেবেন। বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানরাও এতে যোগ দেবেন।

  • খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না

    খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না

    তথ্য প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট তারানা হালিম বলেছেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দুনীর্তি মামলায় আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত। তাই সংবিধান অনুযায়ী তারা আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এ বিষয়টি নিয়ে কোন বির্তক করা আদালত অবমাননার সামিল। আজ দুপুরে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে মতনিময় সভায় যোগ দানের আগে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

    অপর এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান যেহেতু তার পাসপোর্ট নবায়ন না করে সরকারের কাছে ফেরত দিয়েছে। তাহলে প্রশ্ন থাকে তিনি কিভাবে বাংলাদেশের নাগরিক থাকেন(?) । সরকার যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনবে। সে প্রক্রিয়া সরকারই করবে।

    তিনি আরো বলেন, বিএনপি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে মিথ্যাচার করছে। তাকে যথাযত চিকিৎসা সহ সকল সুযোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। সরকার যদি মনে করে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে হবে, তাহলে সরকার তাই করবে।
    পরে তিনি টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজে জেলা এবং দেলদুয়ার ও নাগারপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মত বিনিময় করেনে।  এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • গাজীপুরে বিএনপির ‘কাঁটা’ ‘হেফাজত’

    গাজীপুরে বিএনপির ‘কাঁটা’ ‘হেফাজত’

    গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা এস এম সানাউল্লাহ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিলেও সাবেক জোটসঙ্গী ইসলামী ঐক্যজোট নেতা ফজলুর রহমান মেয়র পদে লড়াই করছেন। তিনি কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্রীক আলোচিত আলোচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলামীর গাজীপুরের জেলা আমির।

    ২০১৩ সালে বিএনপির প্রার্থী এম এ মান্নানের হয়ে ভোট চেয়েছিলেন ফজলুর রহমান। এবার মেয়র পদে তিনি ধানের শীষের একজন প্রতিদ্বন্দ্বী।

    ফজলুর রহমান ভোটের লড়াইয়ে হেফাজত পরিচয়টি সামনে না আনলেও তার পক্ষে যারা প্রচার যুদ্ধে নামবেন তাদের একটি বড় অংশই হেফাজতের কর্মী ও সমর্থক। ১৯৯৯ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি, গোলাম আযমের জামায়াতে ইসলামী এবং আজিজুল হকের ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে বিএনপি জোটবদ্ধ হওয়ার পর থেকে ২০১৬ সাল অবধি বর্তমান হেফাজতপন্থীদের ভোট গেছে বিএনপির বাক্সেই। কিন্তু ওই বছরের ৭ জানুয়ারি বিএনপির জোট ছাড়ে ইসলামী ঐক্যজোট। তাই এবারই প্রথম তা পড়বে আলাদা বাক্সে।

    ২০১০ সালে নারীনীতিবিরোধী আন্দোলন করতে গঠন করা হেফাজতে ইসলামী ব্যাপক পরিচিতি পায় ২০১৩ সালে। ওই বছর মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গড়ে উঠা গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন চলাকালে এই আন্দোলনকারীদের ‘নাস্তিক’ দাবি করে হেফাজত পাল্টা আন্দোলনে নামে ১৩ দফা দাবিতে। আর ওই বছরের ৫ মে শাপলা চত্বরে তারা অবস্থান নিয়ে এক পর্যায়ে সরকার পতনের দাবি জানায় তারা।

    ওই রাতে হেফাজত কর্মীদের হটাতে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে সে সময় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর গুজব ছড়ায় আর সেটি সরকারের জন্য তীব্র চাপ তৈরি করে। আর কয়েক মাসের ব্যবধানে খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বড় ব্যবধানে হেরে যান আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

    ওই নির্বাচনে হেফাজত অনুসারীদের শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে ‘বিকৃত তথ্য’ ও আবেগী বক্তব্য তখন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলে বলে ধারণা করা হয়।

    হেফাজত নেতারা ওই নির্বাচনের আগে ইসলামী ঐক্যজোটের ব্যানারেই মাঠে নেমে বিএনপির পক্ষে জনসমর্থন নেয়ার চেষ্টা করেন। আর এর সুফলও পায় দেশের বৃহত্তম দুই দলের একটি।

    তখন আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসেবে পরিচিত গাজীপুরে ক্ষমতাসীন দলের ডাকসাইটে নেতা আজমত উল্লাহ খানকে দেড় লাখ ভোটে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির এম এ মান্নান।

    আগামী ১৫ মের ভোটকে সামনে রেখে গাজীপুরে প্রার্থী পাল্টেছে বড় দুই দলই। আওয়ামী লীগ এবার মনোনয়ন দিয়েছে গতবারের ‘বিদ্রোহী’ জাহাঙ্গীর আলমকে। আর বিএনপি তার দলীয় প্রতীক দিয়েছে সাবেক জাতীয় পার্টির নেতা হাসানউদ্দিন সরকারকে।

    আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে এই ভোটযুদ্ধে নজর থাকবে সারা দেশের। ১১ লাখেরও বেশি ভোটার অধ্যুষিত এলাকায় গতবার বিএনপির প্রার্থীর বিপুল জয়ে এটিকে আর আওয়ামী লীগের দূর্গ বলার সুযোগ নেই। ফলে এখানে জয় মানেই দেশবাসীর কাছে একটি বার্তা পৌঁছে যাবে, জানা যাবে জনগণের কাছে কোন দলের গ্রহণযোগ্যতা বেশি।

    আর জনপ্রিয়তার এই পরীক্ষায় পাস করতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এখন মরিয়া। বিএনপির শরিক জামায়াতের প্রার্থী এস এম সানাউল্লাহ এবং আওয়ামী লীগের শরিক জাসদের প্রার্থী রাশেদুল হাসান রানাকে ভোটের ময়দান থেকে তুলে দিতে দুই দলই চেষ্টা করেছে আপ্রাণ। এই নির্বাচনী এলাকায় জাসদ বা জামায়াত, কারও বলার মতো ভোট নেই। তারপরও ঝুঁকি নিতে চায়নি আওয়ামী লীগ বা বিএনপি।

    এর মধ্যে বিএনপিকে নিশ্চিতভাবেই হলেও বেকায়দায় ফেলবেন ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী তথা গাজীপুর হেফাজতের আমির ফজলুর রহমান। দেশের অন্যান্য এলাকার মতো এখানেও বিপুল সংখ্যক কওমি মাদ্রাসা রয়েছে এবং তাদের ছাত্র-শিক্ষক এবং অনুসারীদের উল্লৈখযোগ্য সংখ্যক ভোট আছে। আমার মসজিদ মাদ্রাসার সঙ্গে সম্পৃক্তদের একটি বড় অংশই নিশ্চিতভাবে ফজলুর রহমানের পক্ষেই কাজ করবেন, তাকে ভোট দেবেন। যে ভোট ২০১৩ সালে পেয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী এম এ মান্নান।

    ফজলুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে আমরা ২০ দলীয় জোট থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছি। স্বতন্ত্রভাবে আমরা নিজেদের মতো করে আন্দোলন সংগ্রাম করছি। ইসলামী ঐক্যজোট এবার নিবন্ধিত দল হিসেবে মেয়র পদে নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে।’

    বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, ‘হেফাজত নেতার আলাদা ভোট করা আমাদের জন্য সুখকর নয়। ২০১৩ সালে তারা আমাদেরকে অনেক ভোট এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার আর তা হচ্ছে না, বরং ভোট ভাগ হয়ে যাবে। তবে এতে আমরা চিন্তিত নই। আমরা মনে করি তারপরও ধানের শীষের প্রার্থী এখানে জিতবে।’

    বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ  বলেন, ‘হেফাজতকে নিয়ে আমরা খুব একটা ভাবি না। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা যেভাবে কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছেন, তাতে আমি মনে করি এই ছাত্র-শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তারা এবার আমাদেরকেই নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।’

    আজ মঙ্গলবার প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ভোটের প্রচার। আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম নৌকা, বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকার ধানের শীষ, ইসলামী ঐক্যজোটের ফজলুর রহমান মিনার প্রতীক পাবেন।

    এই নির্বাচনে আরও চার জন প্রার্থী আছেন। এরা হলেন: সিপিবি রুহুল আমিন, ইসলামী আন্দোলনের নাসির উদ্দিন, ইসলামী ঐক্য ফ্রন্টের জালাল উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র ফরিদ উদ্দিন।

    ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৯টি সংরক্ষিত নারী আসনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন।

    গাজীপুরে যেদিন ভোট হবে, সেদিন ভোট হবে দণ্ডিণের সবচেয়ে বড় জেলা খুলনা মহানগরেও। সেখানে আওয়ামী লীগের নৌকা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন তালুকদার আবদুল খালেক আর বিএনপির ধানের শীষ পেয়েছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

  • মামলার জালে তারেক

    মামলার জালে তারেক

    পাসপোর্ট নিয়ে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দফতর থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠানো চিঠি ও তারেক রহমানের পাসপোর্টের ফটোকপিদুর্নীতি, নাশকতা, মানহানি, রাষ্ট্রদ্রোহসহ শতাধিক মামলার জালে জড়িয়ে আছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর মধ্যে দুই মামলায় তাকে সাজা দিয়েছে আদালত।

    তার বক্তব্য প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে হাই কোর্টের। অন্তত ১০ মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এই ছেলের বিরুদ্ধে। আর পাঁচ মামলায় তাকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে আদালতের আদেশে। তার বিরুদ্ধে থাকা চাঞ্চল্যকর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারও শেষ পর্যায়ে। এ মামলায় তারেক রহমানের সর্বোচ্চ সাজা চায় রাষ্ট্রপক্ষ। বিএনপির আইনজীবীরা বলছেন, ন্যায়বিচার হলে খালাস পাবেন তিনি। অন্য মামলাগুলো রয়েছে বিচার ও তদন্ত পর্যায়ে। তারেক রহমানের আইনজীবীরা বলছেন, সরকার তার (তারেক রহমান) জনপ্রিয়তায় ভয় পেয়েই তাকে মামলার জালে জড়িয়েছে।

    অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, অনেক মামলাই করা হয়েছে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে। অপরাধ করলে তাকে সাজা পেতে হবেই। জানা গেছে, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেফতার করে যৌথ বাহিনী। এর পর তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, আয়কর ফাঁকি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৫টি মামলা করা হয়। পরে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্ত হয়েই উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান তিনি। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। এই সময়ের মধ্যে তারেক রহমানকে পলাতক দেখিয়ে দুটি মামলায় সাজা দিয়েছে আদালত।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারেক রহমানের অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া  বলেন, ‘তারেক রহমানের জনপ্রিয়তাকে সরকার বেশি ভয় পায়। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এ সরকার একের পর এক মামলা করেছে। এ পর্যন্ত শতাধিক মামলা করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক বক্তব্যকে ইস্যু করে বিচারকদের ব্যবহারের মাধ্যমে এসব মামলা করা হয়েছে। সব মামলাই মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। আমরা আইনগতভাবে এসব মামলা মোকাবিলা করব।’ অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, প্রতিটি মামলায় আসামিপক্ষ পর্যাপ্ত সময় নিয়েছে। এতে বিচারপ্রক্রিয়ায় অযথা সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। তিনি বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যেসব মামলা রয়েছে এর অনেকগুলো বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে করা হয়েছে। আর কেউই তো আইনের ঊর্ধ্বে নয়, অপরাধ করলে মামলা তো হবেই। রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, তারেক রহমান বিদেশে পালিয়ে আছেন। তার বিরুদ্ধে সাজা হয়েছে। এখন দেশে না এসে এসব মামলা মোকাবিলা করার কোনো সুযোগ তার নেই।

    দুই মামলায় দণ্ডিত : ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা পাচারের অভিযোগে তারেক রহমান ও তার বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর দুদক ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করে। ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ মো. মোতাহার হোসেন এ মামলার রায়ে তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দেন। আর গিয়াসউদ্দিন আল মামুনকে দেওয়া হয় সাত বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানা করা ৪০ কোটি টাকা। তারেকের রায়ের বিরুদ্ধে দুদক ওই বছর ৫ ডিসেম্বর হাই কোর্টে আপিলের আবেদন করে। হাই কোর্ট আপিল নিষ্পত্তি করে ২০১৬ সালের ২১ জুলাই তারেক রহমানের খালাসের রায় বাতিল করে তাকে সাত বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। একই সঙ্গে ২০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড দেয়।

    পরবর্তী সময়ে রায়ের অনুলিপি নিম্ন আদালতে আসার পর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৮ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫। ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা আত্মসাতের অভিযোগে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি করে দুদক। এ মামলায় তারেক রহমানসহ পাঁচজনকে ১০ বছর এবং তার মা খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। এ মামলায় তারেক রহমান পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। আসামিদের অর্থদণ্ডও করা কারা হয়েছে।

    ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা : ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা এবং এতে ২২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরণ দ্রব্য আইনে পৃথক দুটি মামলা করে পুলিশ। বর্তমান সরকারের আমলে এ দুটি মামলার সম্পূরক চার্জশিটে তারেক রহমানকেও আসামি করা হয়। সম্পূরক চার্জশিটে তারেক রহমান ছাড়াও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরসহ ৩০ জনকে আসামি করা হয়। দুই চার্জশিটে এ মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৫২। ২০০৮ সালের ১১ জুন সিআইডির প্রথম চার্জশিটে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান, বিএনপি সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটির বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে। এ মামলায় তারেক রহমানসহ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

    রাষ্ট্রদ্রোহের ১০ মামলা : ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি লন্ডনে একটি অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগে ওই বছর ৮ জানুয়ারি তারেক রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে মামলাটি করে পুলিশ। এর আগে ২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর ইস্ট লন্ডনের অস্ট্রিয়ামে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তারেক রহমান বলেন, ‘তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বলছি, শেখ মুজিব রাজাকার, খুনি ও পাকবন্ধু ছিলেন।’ এতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মানহানি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দেশের বিভিন্ন জেলা আদালতে ৪৪টি মামলা হয়। এর মধ্যে রাষ্ট্রদ্রোহের নয়টি মামলার অনুমোদন দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    সারা দেশে মানহানি মামলা : ২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় যে ৪৪টি মামলা হয়েছিল, এর মধ্যে ৩৫টি মানহানির। তারেক রহমানের ওই বক্তব্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবার ও তার আদর্শ মেনে চলা মানুষদের সম্মানহানি ঘটেছে উল্লেখ করে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় দণ্ডবিধির ৫০০, ৫০১ ও ৫০৪ ধারায় মামলা করা হয়। এর পরও বিভিন্ন স্থানে আরও মানহানি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির আইনজীবীরা।

    অবৈধ সম্পদ অর্জন : অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কাফরুল থানায় মামলা করে দুদক। এ মামলায় তারেকের স্ত্রী জোবায়দা রহমানকেও আসামি করা হয়েছে।

    ঘুষ গ্রহণ : একটি হত্যা মামলা ভিন্ন খাতে নিতে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ২০০৭ সালে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে দুদক।

    কর ফাঁকি : কর ফাঁকির অভিযোগে ২০০৮ সালের ৪ আগস্ট ঢাকার বিশেষ আদালতে মামলা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

    ঋণখেলাপি : তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ মামলা হয় ২০১২ সালের ২ অক্টোবর। ঋণ খেলাপের অভিযোগে মামলাটি করে সোনালী ব্যাংক।

    চাঁদাবাজির ১১ মামলা : বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেফতারের পর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে গুলশান, কাফরুল, শাহবাগ ও ধানমন্ডি থানায় চাঁদাবাজি, হুমকিসহ ফৌজদারি আইনে ১১টি মামলা হয়।

  • বাঁচানো গেল না কবরে ‘জেগে’ ওঠা শিশুটিকে

    বাঁচানো গেল না কবরে ‘জেগে’ ওঠা শিশুটিকে

    বাঁচানো গেল না ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ‘মৃত’ ঘোষণার পর কবরস্থানে ‘জেগে’ ওঠা শিশুকে। সোমবার (২৩ এপ্রিল) দিনগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।

    মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম বিষয়টি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আব্দুল হাকিম জানান, শিশু হাসপাতালের কার্ডিয়াক আইসিউতে (হৃদরোগের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে) লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে শিশুটি।

    শিশুটির খালু শফিকুল ইসলাম  জানান, শিশুর মারা যাওয়ার বিষয়টি রাতেই পরিবারকে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। মরদেহ কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তারপর মরদেহ নিয়ে ধামরাই গ্রামের বাড়িতে যাবেন, সেখানেই শিশুটিকে দাফন করা হবে।

    এর আগে সোমবার ডাক্তাররা জানিয়েছেন, বাচ্চাটি সাত মাসে প্রিম্যাচিউর অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয়েছে। প্রিম্যাচিউর বাচ্চাদের অনেক সময় শ্বাস-প্রশ্বাস বোঝা যায় না। বাচ্চাটিকে প্রথমে (সোমবার) যখন আমাদের এখানে আনা হয়, তখন তার শ্বাস-প্রশ্বাসের পরিমাণ ছিলো ১০-১২।

    ওই দিন সকালে ঢামেক হাসপাতালে শিশুটির জন্ম দেন শারমিন আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূ। তার স্বামীর নাম মিনহাজ উদ্দিন। তাদের বাড়ি ঢাকার ধামরাইয়ের শ্রীরামপুরে। গত শনিবার (২১ এপ্রিল) শারমিনকে ঢামেকের ১০৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৪ নম্বর বেডে ভর্তি করা হয়।

    শারমিনের ভাই শরিফুল ইসলাম  জানান, সকাল ৮টায় তার বোনের বাচ্চা জন্মগ্রহণ করে। এসময় ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি মৃত। তখন তার মরদেহ দাফনের জন্য আজিমপুর গোরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

    আজিমপুর কবরস্থানের মহরার হাফিজুল ইসলাম জানান, শিশুটিকে দাফনের আগে গোসলের জন্য নেন ড্রেসার জেসমিন। এসময় গায়ে পানি ঢালা হলে শিশুটি নড়েচড়ে ওঠে এবং শ্বাস নিতে থাকে। তখন স্বজনরা নবজাতকটিকে আজিমপুর ম্যাটার্নিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়।