Category: জাতীয়

  • নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হতে বাংলাদেশের সহযোগিতা চায় ভিয়েতনাম

    নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হতে বাংলাদেশের সহযোগিতা চায় ভিয়েতনাম

    আগামী ২০২০-২০২১ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) সদস্য পদে প্রার্থীতার পক্ষে বাংলাদেশের সমর্থন প্রত্যাশা করেছে ভিয়েতনাম।

    আজ শুক্রবার ভিয়েতনামের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যাং থাই নাগক থিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার হোটেল কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। খবর-বাসস’র।

    বৈঠকের পরে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যান থাই নগক থিন- দু’জনেই ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন’ সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন।

    ভিয়েতনামের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮তে ভূষিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং তার নেতৃত্বে নারী মুক্তি এবং নারীর ক্ষমতায়ন এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন।

    ড্যান থাই নগক থিন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তার দেশের কর্মকাণ্ড এবং ব্যবসা-বাণিজ্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।

    এ সময় তিনি ঢাকা এবং নমপেনের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনেও আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

    এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাজ্জাদুল হাসান, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার মো. সুফিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

  • বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মাঠে থাকবে বিএনপির তৃণমূল

    বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মাঠে থাকবে বিএনপির তৃণমূল

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সর্বাত্মক গুরুত্ব দিয়ে আসন্ন দুই সিটি নির্বাচনে মাঠে নামছে বিএনপি। জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায় দলটি। তবে ভোট কারচুুপির আশঙ্কাও আছে তাদের। এক্ষেত্রে দুটোতেই লাভ দেখছে বিএনপি। গাজীপুর ও খুলনায় বিজয়ী হলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন আরও ত্বরান্তিত হবে বলেও মনে করে দলের হাইকমান্ড। আবার ভোট ডাকাতি করে বিজয় ছিনিয়ে নিলেও তা নিয়ে আন্দোলন জোরদার করা হবে। পরবর্তীতে তা জাতীয় নির্বাচনের ইস্যু তৈরি করা হবে।

    তাই দুই সিটিকে বাঁচা-মরার লড়াই হিসেবে নিয়েছে বিএনপি। তৃণমূল নেতা-কর্মীদেরও সেভাবেই দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুই সিটি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ও স্থানীয়ভাবে নির্বাচন পরিচালনা সমন্বয় কমিটিও করা হয়েছে। ২০-দলীয় জোটগতভাবেও পৃথক নির্বাচন পরিচালনা সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, ‘মোটামুটিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি দুটোতেই বিশাল ব্যবধানে জয়ী হবে। আমরা আশা করছি, সরকার দুই সিটিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করবে। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, দুই সিটিতেই তৃণমূল নেতা-কর্মীরা এখন আগের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ। তা ছাড়া সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। জুলুম-নির্যাতন ও দমন-পীড়নের চিত্র জনগণের কাছে তুলে ধরা হবে। জাতীয় ইস্যুর সঙ্গে এবার নতুন করে যুক্ত হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি। বিএনপি চেয়ারপারসনের কারাবন্দীকেও সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছে না। সুতরাং এসব দাবিতে সাধারণ জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করা সহজ হবে। বিএনপি নেতারা জানান, তারা দুই সিটি নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন।

    তারা মনে করেন, একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলায় দণ্ডিত করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে। গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশনে এর প্রভাব পড়বে। সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পাওয়া যাবে। খালেদা জিয়ার কারাবন্দী অবস্থায় দুই সিটিতে জয়ী হয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান দলের নীতিনির্ধারকরা। এটা ধরেই একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাবেন তারা। জানা যায়, গাজীপুরে এরই মধ্যে ৫৭ ওয়ার্ডের প্রতিটিতে একটি করে নির্বাচনী কমিটি করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডেই একজন করে কেন্দ্রীয় নেতা ওই কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

    কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সমন্বয়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। ২০-দলীয় জোটগতভাবে গাজীপুরে জাতীয় পার্টি (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দারকে সমন্বয়ক ও এলডিপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমকে সদস্য সচিব করে পৃথক কমিটি করা হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে দুই সিটি নির্বাচন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অগ্নিপরীক্ষা। সুষ্ঠু ভোট হলে গাজীপুর ও খুলনায় গতবারের চেয়ে বেশি ভোটে জয়লাভ করবেন ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী। তবে ভোট সুষ্ঠু হবে কিনা সে শঙ্কা আমাদের রয়েছে।

    জাতীয় নির্বাচনের আগে এই ভোট নির্বাচন কমিশনের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। যদি সুষ্ঠু ভোট করতে তারা ব্যর্থ হয় তাও দেশবাসী দেখবে।’ একইভাবে খুলনা সিটিতে ৩১টি ওয়ার্ডে সমসংখ্যক কমিটি করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে। এরই মধ্যে তিনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনাকে আহ্বায়ক ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনিকে সদস্য সচিব করে একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    জোটের পক্ষ থেকে এনপিপি সভাপতি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদকে আহ্বায়ক ও এনডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসাকে সদস্য সচিব করে পৃথক নির্বাচন পরিচালনা সমন্বয় কমিটি করা হয়েছে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ শুরু করে দিয়েছেন। ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রতিটি কমিটিতেও বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতাকে রাখা হয়েছে। দুই সিটিতে জোটের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব থেকে শুরু করে ৫০২ সদস্যের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের দুই সিটি নির্বাচনে কাজ করার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনায় চরম ব্যর্থতা আর ফ্যাসিবাদী আচরণের বিরুদ্ধে গাজীপুর আর খুলনায় গণজোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা জোটগতভাবে নির্বাচন করছি। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জোটের প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী

  • বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা আমাকে মুগ্ধ করেছে: জাতিসংঘ মহাসচিব

    বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা আমাকে মুগ্ধ করেছে: জাতিসংঘ মহাসচিব

    জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মানবাধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি গোলযোগপূর্ণ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি যখনই কোনো মিশনে যাচ্ছি, তখনই উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের কথা বলি। বাংলাদেশের নারী পুলিশের দল সোচ্চার রয়েছেন সামাজিক-সম্প্রীতি সুসংহত করতে। আমি সকলকে অভিবাদন জানাচ্ছি।
    স্থানীয় সময় বুধবার বিকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের শীর্ষস্থানীয় সকল কর্মকর্তাসহ সদস্য রাষ্ট্রসমূহের কূটনীতিকরা যোগ দেন।
    অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বাহিনীর উচ্ছ্বাসিত প্রশংসা করে জাতিসংঘের চলতি ৭২তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতি  মিরস্ল্যাভ লাজ্যাক বলেন, শান্তি বিনির্মাণে দাঙ্গাপূর্ণ অঞ্চলে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশি রক্ষীরা উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। গত ৩০ বছরে ১৪২ জন বাংলাদেশি প্রাণ দিয়েছেন শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। আহত হয়েছেন ২২৩ জন। আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সে সব প্রাণ উৎসর্গকারী বাংলাদেশিকে।
    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ৩০ বছরের ভূমিকার উচ্ছ্বাসিত প্রশংসা শুনে আমি অভিভূত।
    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আন্তর্জাতিক শান্তি আর সমৃদ্ধি ক্ষেত্রে অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিলেন। বিশ্ব শান্তি বিনির্মাণে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।
    স্বাগত বক্তব্যে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন শান্তিরক্ষা মিশনের বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করার কারণেই বাংলাদেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
    বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের মিডিয়া বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে ইরাকের দাঙ্গা মেটাতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বপ্রথম অংশ নেন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। সেই থেকে বিশ্বের ২৭টি মিশনের দায়িত্ব সম্পাদন করেছে। এখন তারা কাজ করছে ১১টি দেশে। বর্তমানে ৭ হাজার ৮০ জন রয়েছেন এসব মিশনে। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য ৫ হাজার ৪৫৬, নৌবাহিনী ৩৪০, বিমান বাহিনী ৫০১ এবং পুলিশ বাহিনীর ৭৮৩ জন রয়েছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বৃহত্তম শান্তিরক্ষী সরবরাহকারী রাষ্ট্রের মর্যাদায় রয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে মহিলা সদস্যের সংখ্যা ১৫৭।
    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, সাইপ্রাস, কঙ্গো, হাইতি, লেবানন, লাইবেরিয়া, মালি, সাউথ সুদান এবং সুদানের মিশনে কাজ করছেন বাংলাদেশিরা। এরমধ্যে ফোর্স কমান্ডারসহ শীর্ষপদেও রয়েছেন কয়েকজন।
    ৩০ বছর পূর্তি উৎসবের স্লোগান ছিল উই আর কমিরেটড এ্যান্ড ইনভলব। এ উৎসবে জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দীপু মনি, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদসহ প্রবাসের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
  • গাজীপুর ও খুলনা সিটিকে জাতীয় নির্বাচনের মতোই গুরুত্ব দিচ্ছে ইসি

    গাজীপুর ও খুলনা সিটিকে জাতীয় নির্বাচনের মতোই গুরুত্ব দিচ্ছে ইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান মো. নূরুল হুদা বলেছেন, গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে জাতীয় নির্বাচনের মতোই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচন সন্নিকটে। সেই সঙ্গে ঢাকার পাশের সিটি কর্পোরেশন গাজীপুর এবং খুলনায়ও নির্বাচন হবে। নির্বাচনগুলোকে কমিশন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
    রাজধানীর আগারাগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে দুই সিটির নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে সিইসি এ সব কথা বলেন। এ সময় তিনি গাজীপুর ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচন সফল করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চান।
    সিইসির সভাপতিত্বে বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ হেলাললুদ্দীনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।
    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে সিইসি বলেন, ‘বিগত দিনে আপনাদের সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচন সফল হয়েছে। আশা করি এই নির্বাচনও সফল হবে। এ জন্য আপনাদের পরামর্শ প্রত্যাশা করছি।’
    আগামী ১৫ মে খুলনা ও গাজীপুর সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন। অপরদিকে ৩১টি সাধারণ ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৪ জন।
    গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে ৭ জন, ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ২৫৬ জন ও ১৯টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৮৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ সিটিতে মেয়র প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের মো. জাহাঙ্গীর আলম, ২০ দলীয় জোট ও বিএনপি মনোনীত হাসান উদ্দিন সরকার, ইসলামী ঐক্যজোটের ফজলুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. নাসির উদ্দিন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. জালাল উদ্দিন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাজী মো. রুহুল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ আহমদ।
    খুলনা সিটিতে মেয়র এবং কাউন্সিলর, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিলিয়ে মোট ১৯১ জন প্রার্থী নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াইয়ে মাঠে রয়েছেন। মেয়র প্রার্থী ৫ জন, ১৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন কাউন্সিলর এবং চারটি সংরক্ষিত আসনে ৩৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ সিটিতে মেয়র পদে যে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তারা হলেন- আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক, বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জাতীয় পার্টির এসএম শফিকুর রহমান মুশফিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু। বাসস
  • পাসপোর্ট সারেন্ডার মানেই নাগরিকত্ব অস্বীকার করেছেন: আইনমন্ত্রী

    পাসপোর্ট সারেন্ডার মানেই নাগরিকত্ব অস্বীকার করেছেন: আইনমন্ত্রী

    আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তারেক রহমান একজন পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তিনি যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য পাসপোর্ট সারেন্ডার করেছেন। এর অর্থ হচ্ছে আপাতত তিনি বাংলাদেশের নাগরিক থাকতে চান না। অর্থাৎ বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অস্বীকার (ডিনাই) করেছেন।
    বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, তারেক যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নাগরিক হতে চান, তাহলে তিনি তা পারবেন।
    আইনমন্ত্রী বলেন, তারেক বাংলাদেশ ভূখণ্ডে অপরাধ করেছেন। অপরাধ সংঘটনের সময় তিনি এদেশেরই নাগরিক ছিলেন। এটাই মূখ্য বিষয়। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আমাদের বন্দি বিনিময় চুক্তি নেই। তবে এই চুক্তি করতে কোন বাধাও নেই। চুক্তি করার জন্য আলোচনা চলছে।
    তিনি বলেন, জাতিসংঘের যে সকল সদস্য দেশ আছে তাদের মধ্যে এই আইন থাকলে যে কোনো অপরাধী যদি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চলে যায় তাকে যেন ধরে আনার সুবিধা থাকে। আজকাল অনেক ট্রান্স বর্ডার, ট্রান্স ন্যাশনাল ফৌজদারি অপরাধ ঘটে যাচ্ছে সেজন্য এই মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিটেন্স অ্যাক্টের আন্ডারে তারেক যদি বাংলাদেশের নাগরিক নাও থাকেন তাহলে তাকে আমরা ফিরিয়ে আনতে পারব।
    আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যদি আপনি থাকেন এবং আপনার যদি পাসপোর্ট না থাকে তাহলে আপনার নাগরিকত্ব অ্যাফেকটেড হয় না। কারণ পাসপোর্ট হচ্ছে ট্রাভেল ডকুমেন্টের মত, আপনাকে বাইরে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট প্রয়োজন হয়। বাইরে গিয়ে আপনি যে বাংলাদেশের নাগরিক এই পাসপোর্টই কিন্তু সেটার আইডেনটিটি।
    তারেক রহমানের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উচ্চ আদালতের আদেশ সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করা আদালত অবমাননা। গণমাধ্যমকে বলব হাইকোর্টের আদেশ প্রতিপালন করা সকল নাগরিকের কর্তব্য।
    বিডিজবসের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাসরুরকে গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেয়া প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এই অভিজ্ঞতা আমাদের সকলকে শেখায়। এই ঘটনা থেকে আমরা যা শিখেছি, সেটা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পৌঁছে দেব।
    তিনি বলেন, কারো বিরুদ্ধে যদি এরকম কোনো অভিযোগ আসে সেটা সঠিক কিনা তা যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধান করে যেন পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হয়। কারণ ৫৭ ধারায় কেউ মামলা করলে সেজন্য পুলিশের সেল আছে। এরপরেও যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্য এ ধরনের ভুল করেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ধরনের ভুল সরকারের কাম্য নয়।
  • বিদেশি শক্তি কাউকে ক্ষমতায় বসাতে পারে না : ওবায়দুল কাদের

    বিদেশি শক্তি কাউকে ক্ষমতায় বসাতে পারে না : ওবায়দুল কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ভারত সফরকালে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলকে দেশটির সরকার অনেক গুরুত্ব দিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। প্রায় ৩২ মিনিট তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তবে একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কোনও কথা হয়নি। কিন্তু ডিনার পার্টিতে ভারতের অনেকেই বলেছেন, আওয়ামী লীগ আগামীতেও ক্ষমতায় আসবে।’
    বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
    ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বাংলাদেশে নির্বাচন হবে, অনেক দলই নির্বাচনে অংশ নেবে। ভারত কি আমাদের ক্ষমতায় বসাবে? তারা কি কখনও ক্ষমতায় বসিয়েছে? ২০০১ সালে আমরা হেরে গেছি। ভারত কি আমাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে? ভারত এটা করে না। আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে দেশের জনগণ। কোনও বিদেশি শক্তি নয়।’
    বিএনপি পূর্ণ মিথ্যাবাদী
    ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি কথা বলেছেন, আমাদের কথা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনেছেন। আমরা দেশের জন্য জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই সফরে শিক্ষা থেকে শুরু করে রোহিঙ্গা ইস্যু, কোনও কিছুই বাদ পড়েনি। দেশের জনগণের স্বার্থ তুলে ধরেছি। আমরা জানিয়েছি, তিস্তাচুক্তি হলে জনগণের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হবে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।’
    তারেক রহমানের পাসপোর্ট সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির একেক নেতা একেক কথা বলছেন। খাদের কিনারে এসে লাফালাফি করছেন। এখন বলছেন, তারেক রহমান রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন। এতদিন স্বীকার করেননি। ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দেরে। বিএনপিকে আগে বলেছি প্যাথোলজিক্যাল লায়ার, এখন বলছি পূর্ণ মিথ্যাবাদী।’
    খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এক মন্তব্যের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ফখরুল কি চিকিৎসক? চিকিৎসকরা বলুক। কিভাবে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনিত হয়েছে? কদিন আগে আমরা তাকে স্বাভাবিক দেখেছি। দৃশ্যত কোনও অবনতি দেখিনি। ভেতরে যদি কোনও সমস্যা হয়ে থাকে, তবে মেডিক্যাল বোর্ড দেখে বলুক। সরকার অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।’
    গাজীপুর সিটি নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রচারণায় অংশ নেয়া প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যে এলাকার নির্বাচন, সে এলাকার যারা ঢাকায় রয়েছেন, কেবল তারাই নির্বাচনী এলাকায় যাবেন। অযথা ভিড় বাড়িয়ে লাভ নেই। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণকে বিরক্ত করবেন না।
    ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
  • তিনদিনের সফরে বিকেলে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    তিনদিনের সফরে বিকেলে অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

    তিনদিনের সরকারি সফরে আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন। সিডনিতে অনুষ্ঠেয় গ্লোবাল সামিট অন ওমেন সম্মেলনে যোগ দিতে বিকেলে থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমানে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভিয়েতনামের ভাইস প্রেসিডেন্ট থাই নগক এবং কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্ট এ্যাতিফেত জাহজাগারকে মর্যাদাপূর্ণ গ্লোবাল ওমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ দেয়া হবে। বিশ্বব্যাপী নারী নেতাদের ব্যবসা এবং অর্থনৈতিক বিষয়াবলী-সংক্রান্ত এটি বাৎসরিক সম্মেলন।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সিডনির আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে (আইসিসি) তারা এই এওয়ার্ড গ্রহণ করবেন। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রসার এবং নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালনের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া এবারের সম্মেলনে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় নারীদের সম্পৃক্তকরণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরবেন।

    সিডনিতে অবস্থানকালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়া দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। অস্ট্রেলিয়া সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন এবং ২৮ এপ্রিল হোটেল সোফিটেলে একটি পাবলিক ফাংশনে যোগ দেবেন। আগামী ২৯ এপ্রিল দেশের উদ্দেশে অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করবেন তিনি। পরের দিন তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

  • আবদুল হামিদের শপথ গ্রহনের সময় কি ঘটেছিলো ?

    আবদুল হামিদের শপথ গ্রহনের সময় কি ঘটেছিলো ?

    এই দেশে প্রথবারের কোনো রাষ্ট্রপতি টানা দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন শুরু করলেন। দ্বিতীয় মেয়াদের পুরোটা পার করতে পারলে আবদুল হামিদই হবেন সবচেয়ে বেশি সময় রাষ্ট্রপতির পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি। বাংলাদেশের একবিংশতম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আবদুল হামিদকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ পড়ান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে ১৯ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৬ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসাবে আবদুল হামিদ এই পদে সপ্তদশ ব্যক্তি। তবে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন কেবল আবদুল হামিদই।

    সংবিধানে সর্বোচ্চ দুই বার রাষ্ট্রপতি পদে থাকার সুযোগ থাকায় এটাই হবে তার শেষ মেয়াদ। শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, গণমাধ্যমের কর্তাব্যক্তি, পেশাজীবী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গভবনে পৌঁছালে আবদুল হামিদ ও তার স্ত্রী রাশিদা খানম সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানান। শেখ হাসিনার সঙ্গে বোন শেখ রেহানাও ছিলেন। পরে স্পিকার শিরীন শারমিনসহ তারা একসঙ্গে দরবার হলে পৌঁছান।

    এসময় সামরিক বাহিনীর একটি বাদক দল ফ্যানফেয়ার বাজায়। দরবার হলে ঢোকার পরে আবদুল হামিদ ও শিরীন শারমিন মঞ্চে ওঠেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। সাদা পাঞ্জাবি ও মুজিব কোট পরিহিত আবদুল হামিদ শপথ বাক্য পাঠ করার পর শপথ নামায় সই করেন। এরপর তিনি সবাইকে হাত তুলে শুভেচ্ছা জানান তিনি। শপথ নিয়ে মঞ্চ থেকে নেমে আবদুল হামিদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এসময় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ফুল দিয়ে আবদুল হামিদকে শুভেচ্ছা জানান।

    রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার বিকালে বঙ্গভবনে পৌঁছালে আবদুল হামিদ ও তার স্ত্রী রাশিদা খানম সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানান। এ সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে তার বোন শেখ রেহানাও ছিলেন।  প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের,গণপূর্ত মন্ত্রী খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শপথ অনুষ্ঠানে ছিলেন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনও ছিলেন এই অনুষ্ঠানে।

    বঙ্গভবনে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম,  বিএফইউজ সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান ও আতিকুল্লাহ খান মাসুদও শপথ অনুষ্ঠানে ছিলেন। কূটনীতিকদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, চীনের রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জু, ভারতের হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন ভ্যাটিকানের দূত জর্জ কোচেরি, জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপপো, ইইউ দূত রেনসে টিরিংক।

    শপথ অনুষ্ঠানের পর বঙ্গভবনের বারান্দায় আয়োজিত আপ্যায়নের সময় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এসে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নিচ্ছেন মো. আবদুল হামিদ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নিচ্ছেন মো. আবদুল হামিদ গত ৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের একবিংশতম রাষ্ট্রপতি পদে বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান মো. আবদুল হামিদকে নির্বাচিত ঘোষণা করে ইসি। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আবদুল হামিদকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেন এ নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তার দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা।

    এর আগে ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন আবদুল হামিদ। সেই মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় গত ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি। ৫ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন দাখিলের দিন একমাত্র আবদুল হামিদের মনোনয়নপত্রই জমা পড়ে। বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর শুধু ১৯৯১ সালেই রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন হয়েছিল। এরপর সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বুধবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতিকে গার্ড অব অনার দেবে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)।

    ওইদিন বিকেলে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সম্মান জানাবেন রাষ্ট্রপতি। সাভার থেকে ফিরে যাবেন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে। সেখানে জাতিন জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন আবদুল হামিদ। বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন রাষ্ট্রপতি। শুক্রবার নিজের জন্মস্থান কিশোরগঞ্জের মিঠামইন যাবেন আবদুল হামিদ। পেশায় আইনজীবী আবদুল হামিদ কিশোরগঞ্জ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সাতবার, স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন দুই দফা।

    ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল হামিদ। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৫৯ সালে, ছাত্রলীগে যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১৮ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে ২০১৩ সালে আবদুল হামিদকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ, ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ, ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ এবং সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

  • আমাদের কথা বলার অধিকার নেই: মির্জা আব্বাস

    আমাদের কথা বলার অধিকার নেই: মির্জা আব্বাস

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, আমাদের কথা বলার অধিকার নেই, কথা বলার জায়গা নেই। আমরা কোথাও সভা সমাবেশ করতে চাইলে আমাদের মাঠ দেওয়া না। কোথাও সভা-সমাবেশ করতে চাইলে আমাদের ওপর হামলা ও নির্যাতন করা হয়।

    বুধবার বেলা ১১টার দিকে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

    নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আপনারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সবাইকে সংগঠিত করুন। এমন সময় আসবে আমাদের রাজপথে কঠোর আন্দোলন করতে হবে। তখন আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এ সরকারকে পরাজিত করে গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনবো।

    মানবন্ধনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নুল আবদীন ফারুক, ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন।

  • খালেদার বিরুদ্ধে দুই মামলার জামিন শুনানি ১৭ মে

    খালেদার বিরুদ্ধে দুই মামলার জামিন শুনানি ১৭ মে

    ভুয়া জন্মদিন পালন ও যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগে করা পৃথক দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির জন্য আগামী ১৭ মে দিন ধার্য করেছেন আদালত।

    বুধবার রাজধানীর বকশিবাজারে আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট খুরশীদ আলম ও আহসান হাবীব এ দিন ধার্য করেন।

    ২০১৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) এবিএম মশিউর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেওয়া সংক্রান্ত মামলায় প্রতিবেদন দাখিল করেন। এর আগে, ২০১৬ সালের ০৩ নভেম্বর এবি সিদ্দিকী স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকার মানহানির অভিযোগে মামলাটি করেন।

    অন্যদিকে, ১৫ আগস্ট ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে ২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট সাংবাদিক গাজী জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকার সিএমএম আদালতে অপর মামলাটি দায়ের করেনছিলেন।

    মামলার এজহারে বলা হয়, বিভিন্ন মাধ্যমে তার ৪টি জন্মদিন পাওয়া গেলেও ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন মর্মে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি ৪টি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী তথা জাতীয় শোক দিবসে ঘটা করে জন্মদিন পালন করছেন।