Category: জাতীয়

  • মঞ্জু আমার ছোট ভাইয়ের মতো, জয়ের প্রতিক্রিয়ায় খালেক

    মঞ্জু আমার ছোট ভাইয়ের মতো, জয়ের প্রতিক্রিয়ায় খালেক

    বিপুল ভোটে বিএনপি প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ের মালা গলায় নিয়ে আওয়ামী লীগের জয়ী প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে সঙ্গে নিয়েই খুলনার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। মঞ্জু আমার ছোট ভাইয়ের মতো।

    মঙ্গলবার রাতে খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সের নির্বাচনী ফলাফল সংগ্রহ ও ঘোষণা কেন্দ্রে এসে জয়ের খবর শুনে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তালুকদার খালেক।

    তিনি বলেন, এই নির্বাচনে আমার প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। অল্প কিছু ভোটে তিনি পিছিয়ে ছিলেন। কাজেই তাকে নিয়েই খুলনার উন্নয়নে কাজ করতে চাই।

    একই সঙ্গে তালুকদার খালেক বলেন, বিজয়ী করে জনতা আমাকে ঋণী করে দিয়েছেন। আমি চেষ্টা করবো কাজের মাধ্যমে তাদের সেই ঋণ পরিশোধ করার।

    এছাড়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করায় নেতাকর্মীদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তাদের ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানান নতুন মেয়র খালেক।

    তালুকদার খালেক বলেন, আমি যখন খুলনার মেয়র ছিলাম, তখন তিনি (নজরুল ইসলাম মঞ্জু) এমপি ছিলেন। তিনি আমার ছোট ভাইয়ের মতো। আমরা যখন খুলনা শহরে বিভিন্ন আন্দোলনে মাঠে ছিলাম, সেও সেই আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল। মাঠ পর্যায়ের একজন নেতা। কাজেই তাকে নিয়েই খুলনার উন্নয়ন করা হবে।

    এর আগে মঙ্গলবার রাতে নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে স্থাপিত নির্বাচনী ফলাফল সংগ্রহ ও ঘোষণা কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেককে বেসরকারিভাবে জয়ী ঘোষণা করা হয়।

    খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২৮৯টি। এর মধ্যে তিনটি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়। বাকি ২৮৬ কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছেন ১৭৬৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ১০৮৯৫৬ ভোট।

    ২৮৬ কেন্দ্রের মধ্যে দুটি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে একটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অপরটিতে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হন।

  • খুলনার মেয়র খালেক

    খুলনার মেয়র খালেক

    খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে (ধানের শীষ) বিপুল ভোটে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী (নৌকা) তালুকদার আবদুল খালেক।

    মঙ্গলবার রাতে নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে স্থাপিত নির্বাচনী ফলাফল সংগ্রহ ও ঘোষণা কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেককে বেসরকারিভাবে জয়ী ঘোষণা করা হয়।

    সর্বশেষ বিভিন্ন উৎস থেকে কেন্দ্রভিত্তিক ভোটের প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খালেককে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী।

    ফলাফলে দেখা যায়, ২৮৬ কেন্দ্রের সবগুলো কেন্দ্রের ফলাফলে এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। অপরদিকে তার থেকে অর্ধেক পিছিয়ে আছেন বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

    খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২৮৯টি। এর মধ্যে তিনটি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়। বাকি ২৮৬ কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছেন ১৭৬৯০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ১০৮৯৫৬ ভোট।

    ২৮৬ কেন্দ্রের মধ্যে দুটি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে একটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অপরটিতে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হন।

    খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ২৮৯টি। এর মধ্যে তিনটি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়।

    এদিকে, কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়ম, অভিযোগ, ব্যালট পেপারে জোরপূর্বক সিল মারার ঘটনা ঘটেছে। আবার ভালো ভোটও হয়েছে অনেক কেন্দ্রে। খুলনা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বলেছেন, ভোট ভালো হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী বলেছেন, অন্তত ৪০টি কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে।

    অপরদিকে, রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী বলেছেন, দুই একটি ঘটনা ছাড়া ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বিএনপির অভিযোগ সুস্পষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেছেন।

    যদিও অনিয়ম ও জাল ভোটের অভিযোগে একটি কেন্দ্রে ভোট বাতিল, দুটি কেন্দ্র এবং একটি বুথে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। এর বাইরে একটি কেন্দ্রের অদূরে বিএনপির নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়েছে।

    ২৪ নং ওয়ার্ডের সরকারী ইকবাল নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করে দেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আনিসুর রহমান।

    এছাড়া নৌকা প্রতীকে সিল মারার ঘটনায় রূপসা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও রূপসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও ভোট স্থগিত হয়।

    পাশাপাশি ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের লবণচোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৌকা মার্কায় সিল মারার অভিযোগে কেন্দ্রটিতে ভোট স্থগিত রাখা হয়।

    ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ফাতিমা উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি বুথে স্থগিত করা হয় ভোট। সেখানেও নৌকা মার্কায় সিল মারা হচ্ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

    খুলনার নির্বাচনে মেয়র পদে এবার পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক নৌকা এবং বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

    পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুজ্জাম্মিল হক হাতপাখা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে) এবং জাতীয় পার্টির এস এম শফিকুর রহমান (লাঙ্গল) নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

  • কোটার প্রজ্ঞাপন দাবিতে দ্বিতীয় দিনে ধর্মঘটে ছাত্ররা

    কোটার প্রজ্ঞাপন দাবিতে দ্বিতীয় দিনে ধর্মঘটে ছাত্ররা

    প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথার বিলুপ্তির প্রজ্ঞাপন চেয়ে দেশের সকল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘট পালন করছে শিক্ষার্থীরা।

    মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ক্লাস বর্জন করে এ ধর্মঘট পালন করছে শিক্ষার্থীরা। তবে কয়েকটি বিভাগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    এর আগে গত রোববার বিক্ষোভ শেষে অনির্দিষ্টকালের ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয় কোটা সংস্কারের দাবিতে গঠিত শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে বেশ কয়েক দফায় অাল্টিমেটাম শেষে গত রোববার এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

    গতকালও (সোমবার) ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পাশাপাশি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। ৬ ঘণ্টা অবরোধ করা হয় শাহবাগ মোড়। অবরোধ শেষে সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুলহক নুর।

    আন্দোলনকারীদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, আমরা কোটা সংস্কার চেয়েছি। সরকার চাইলে সেটি একেবারেও বাতিল করতে পারে। আবার সংস্কারও করতে পারে। তবে আমাদের ৫ দফার ভিত্তিতে সংস্কার করতে হবে।

    এদিকে গতরাতে আন্দোলনকারীদের ফেসবুক ভিত্তিক ‘কোটা সংস্কার চাই (সকল চাকরি পরীক্ষায়)’ গ্রুপটি হ্যাক হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। তবে সকাল নাগাদ সেটি উদ্ধার করা হয়েছে।

  • রায়ের দিন শুনানির সুযোগ পেলেন অ্যাটর্নি জেনারেল

    রায়ের দিন শুনানির সুযোগ পেলেন অ্যাটর্নি জেনারেল

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন প্রশ্নে আপিলের ওপর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে আবারও শুনানি করার সুযোগ দিলেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।

    সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় শুনানি করতে বলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ।

    সকালে ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে রায় ঘোষণার জন্য বিচারপতিরা এজলাসে আসন গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল দাঁড়িয়ে আরও শুনানি করার জন্য একদিন সময় আবেদন করেন।

    তিনি বলেন, আমার কিছু সাবমিশন ছিল। ওই দিন হৈ চৈ হট্টগোলের জন্য ঠিক মতো শুনানি করতে পারিনি। আমি আবারও শুনানি করতে চাই।

    এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, একদিন সময় দিতে পারব না। কারণ, আগামীকাল আমার একজন ব্রাদার আদালতে আসতে পারবেন না।

    এরপর অ্যটর্নি জেনারেলকে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি সাড়ে ১১টার দিকে আসেন। এরপর অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন ১২টায় দেন। তখন আদালত ১২টায় শুনানির জন্য সময় দেন। এরপর আইনজীবীরা আদালত থেকে বের হয়ে যান।

    এদিকে রায় পেছানোকে একটি ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, সরকার ও অ্যাটর্নি জেনারেল ষড়যন্ত্র করে এসব করছে।

    প্রধান বিচারপতি এসময় অন্য বিচারপতিদের সাথে পরামর্শ করে অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে বলেন, আগামীকাল আবার এক ব্রাদার আসতে পারবেন না। এরপর সাড়ে ১১টায় শুনানির জন্য সময় রাখেন। এসময় অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে আবারও বলেন শুনানির কথা। তখন দুপুর ১২টায় শুনানির জন্য রাখেন।

    খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশর বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল নিয়ে দুইদিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গত ৮ ও ৯ মে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। খালেদা জিয়ার জামিন বাতিলের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, আর দুদকের পক্ষে খুরশিদ আলম।খান।

    অপর দিকে খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রাখতে খালেদা জিয়ার পক্ষে চারজন আইনজীবী শুনানি করেন। এরা হলেন- সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ, সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদন।

    গত ১৯ মার্চ মামলাটি শুনানির জন্য ৮ মে দিন ধার্য করেছিলেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন একই বেঞ্চ। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের লিভ টু আপিল এবং আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ তুলে নেয়া সংক্রান্ত খালেদা জিয়ার আবেদনের ওপর এই শুনানি হয়।

    গত ১২ মার্চ দুদকের আবেদনের শুনানি নিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্র্বতীকালীন জামিন দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। পাশাপাশি এ মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা কেন বাড়ানো হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করে আদালত।

    এরপর ১৯ মার্চ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ ৮ মে পর্যন্ত জামিন স্থগিতের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আইনজীবীদের আপিলের সারসংক্ষেপ জমা দিতে বলেন।

    চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই আদালত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয় আসামির প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। রায়ের দিনই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

  • খুলনায় ভোটারদের মধ্যে শুধুই হাহাকার : বিএনপি

    খুলনায় ভোটারদের মধ্যে শুধুই হাহাকার : বিএনপি

    খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ করেছে বিএনপি। জাল ভোট, দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার কথা উল্লেখ করে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, ক্ষমতাসীনদের কল্যাণেই খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে চিরাচরিত উৎসবের আমেজ নেই, ভোটারদের মনে শুধুই হাহাকার।

    মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে খুলনা সিটি করপোরেশন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এসব কথা বলেন রিজভী আহমেদ।

    এ সময় তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে নির্বাচন মানে বিরাট ধাপ্পা। নির্বাচনে জয়লাভ করায়ত্ত্ব করতে তারা মরিয়া। তাই অশান্তি আর নিগ্রহে ভরপুর খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।’

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, ধানের শীষের নারী এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে তারা যেন ভোট কেন্দ্রে না যায়, ভোট কেন্দ্রে গণ্ডগোল হবে। পুরুষ এজেন্টদের ওপর হামলা করে আহত করা হয়েছে। ধানের শীষের এজেন্ট, সাধারণ ভোটারদের হুমকি, ভীতি প্রদর্শনের সিংহভাগ দায়িত্ব পালন করছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।

    তিনি আরও বলেন, ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানিয়েছেন সকাল সাড়ে ৮টার মধ্যে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পুলিশের সহায়তায় ৪০টি ভোটকেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। খালিসপুর ১৫নং ওয়ার্ডে বিএনপি এজেন্ট লিলি এবং লিমা আক্তারকে মধ্য পালপাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় মারধর করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। তাদের এজেন্ট কার্ড ছিঁড়ে ফেলা হয়, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়া হয় এবং ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়।

    তিনি বলেন, ৩১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কবিরের নেতৃত্বে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ভোটারদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে। ২০নং ওয়ার্ডে এইচআরএইচ প্রিন্স আগাখান উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সাধারণ ভোটারদেরকে বের করে দিয়ে নৌকা মার্কায় সিল মারছে।

    বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ফাতেমা স্কুল কেন্দ্রে প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারা হচ্ছে। ২৫নং ওয়ার্ডের সিদ্দিকিয়া মাদরাসা ও নুরানী মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট দিচ্ছে। ১৫নং ওয়ার্ডে নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল ও পলিটেকনিক স্কুল কেন্দ্রে বিএনপি এজেন্টদের কাছ থেকে আইডি কার্ড কেড়ে নিয়ে বের করে দেয়া হয়েছে। ৪নং ওয়ার্ডে দেয়ানা উত্তর পাড়া কেন্দ্রে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা এবং বিএনপি কর্মী মিশুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২১ নং ওয়ার্ডে প্রভাতী স্কুল ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদেরকে মারধর করে প্রশাসনের সামনেই বের করে দেয়া হয়েছে। সদর থানা কয়লাঘাট স্কুল ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে বিএনপি এজেন্টদের বের করে দিয়েছে। ২২নং ওয়ার্ডের ১৭৯নং কেন্দ্রের সামনে থেকে যুবদলের কর্মী সেলিমকে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিশনার প্রার্থী বিকু কাজী ধরে নিয়ে গেছে। একই কেন্দ্রে বিএনপি নেতা খান মঈনুল হাসান মিঠু ও আলী আকবরকে হামলা চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। তারা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

    এ সময় অন্যদের মধ্যে বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • আশা-অভিযোগ মিলিয়ে খুলনায় ভোট চলছে

    আশা-অভিযোগ মিলিয়ে খুলনায় ভোট চলছে

    খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক ও নজরুল ইসলাম মঞ্জু। উভয়ই ভোটে জয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। মঞ্জু রাহিমা খাতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং খালেক নগরীর পাইওনিয়ার হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট প্রদানের পর এই আশাবাদ প্রকাশ করেন।

    এসময় তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, আমি আমার জয়ের ব্যাপারে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী। আমি যদি নির্বাচিত হই তাহলে সকলের সঙ্গে একসাথে কাজ করবো। আমি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এবং কেসিসির সাবেক মেয়র। খুলনার উন্নয়নের জন্য সাধারণ মানুষ আমাকেই ভোট দেবেন।

    নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুষ্ঠু এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে। তাকে মেয়র পদে আরেকবার সুযোগ প্রদানের জন্যও তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

    এদিকে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা যদি নিরপেক্ষ হয় তবে আমিই জয়ী হব।

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার কিছু এজেন্ট নুতনবাজারসহ তাদের নিজ নিজ ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে পারছেন না। দলীয় কর্মীরা গ্রেফতার ও হয়রানির ভয়ে কেন্দ্রেও যেতে পারছেন না।

    তবে মঞ্জুর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা সাংবাদিকদের জানান, তারা কোনো বাধা ছাড়াই ভোট দিয়েছেন।

    খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইকবাল নগর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপির কউন্সিলর প্রার্থী শহীদুল হক মিন্টু অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রের পাশে তাদের তাবু ভাঙচুর করেছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। এ সময় নেতাকর্মীদের মারধর ও এজেন্টদের বের করে দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

    এদিকে ২২নং ওয়ার্ডের খুলনা জিলা স্কুল ও ফাতেমা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটাররা ভোট দিতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তারা বলছেন, ওই দুই কেন্দ্রে ভোট কাস্ট হয়ে গেছে বলে আর ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে না।

    তবে অভিযোগের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার ইউনুস আলী বলেন, ৩-৪টি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রে নিয়জিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি দেখতে আদেশ দেয়া হয়েছে।

    কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার সোনালী সেন বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের ভেতর সব ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করছে। তিন স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যারা সহিংসতার জন্য দোষী সাব্যস্ত হবেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণে প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন

    বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণে প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন

    যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ সফলভাবে উৎক্ষেপণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার আইটিসি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে তাদের এ অভিনন্দন জানায় মন্ত্রিসভা।

    এসময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া উপহার দেন। খবর-বাসস’র।

    মন্ত্রিসভার নিয়মিত সাপ্তাহিক বৈঠকে এ অভিনন্দন জানানো হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে জানান।

    সচিব বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সফল উৎক্ষেপণ এবং এর মাধ্যমে কক্ষপথে স্যাটেলাইটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ৫৭তম সদস্য হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়কে অভিনন্দন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উত্থাপিত প্রস্তাব গ্রহণ করে মন্ত্রিসভা।

  • প্রতিদিন ৫ লাখ পিস ‘সোনালী ব্যাগ’ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

    প্রতিদিন ৫ লাখ পিস ‘সোনালী ব্যাগ’ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

    পলিথিনের বিকল্প হিসাবে পাট থেকে পচনশীল পলিব্যাগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সোনালী ব্যাগ’। পাইলট প্রকল্পে বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) এখন প্রতিদিন প্রায় ৩০০০ পিস ব্যাগ উৎপাদন করছে। এই প্রকল্প সফল হওয়ায় ব্যাপকভাবে ব্যাগটি বাজারজাত করতে প্রতিদিন ৫ লাখ পিস ‘সোনালী ব্যাগ’ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে বারবার ব্যবহারযোগ্য এই ব্যাগের বাজার দর কমে দাঁড়াবে ৭-৮টাকা।

    সংসদ ভবনে আজ অনুষ্ঠিত ‘বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৯তম বৈঠকে এসব তথ্য জানানো হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও সাবিনা আক্তার তুহিন বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

    সংসদ সচিবালয় জানায়, বৈঠকে পাটজাত পলিথিন ‘সোনালী ব্যাগ’ প্রকল্পের কারিগরি ও আর্থিক সম্ভাব্যতা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। কমিটি ইন্টেলেকুচ্যুয়াল প্রপারটি রাইটের অধীনে আন্তজার্তিকভাবে পাটজাত এই পলিথিন ব্যাগের মালিকানা স্বত্ব বাংলাদেশের অনুকূলে রাখার জন্য প্রয়োজনী পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে। একইসঙ্গে বাণিজিকভাবে পণ্যটি বাজারজাত করণের লক্ষ্যে একটি টাষ্কফোর্স গঠনের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া দেশের পাট চাষীদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরীর করে পাট চাষীদের সমস্যা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে একটি স্টাডি রিপোর্ট তৈরী করার সুপারিশ করা হয়।

    বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেডিপিসি’র নির্বাহী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • এরশাদের বিয়ে নিয়ে ‘মিথ্যা প্রচার’

    এরশাদের বিয়ে নিয়ে ‘মিথ্যা প্রচার’

    জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আবার বিয়ে করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘মিথ্যা প্রচার’ চালানোর অভিযোগ করেছেন তার জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম।

    তিনি জানান, ফেসবুকে কতিপয় লোকজন আছেন, যারা বিনা বিচারে ট্রল করে মানুষের চরিত্র হননের জন্য তৈরি হয়ে থাকেন। এই ছবি দুটি ছড়িয়ে দিয়ে অনেকেই মজা লুটছেন যে এরশাদ নাকি আবার বিয়ে করেছেন।

    তিনি আরও জানান, মূল ঘটনা হলো- এরশাদ একটি মেয়েকে ক্লাস ওয়ান থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত লেখাপড়া করিয়েছেন। গতকাল ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সেই মেয়েটির বিয়েতে গিয়েছিলেন তিনি।

    জানা গেছে, রাজধানীর তাঁতী বাজারের নিম্ন বিত্ত পরিবারের মেয়ে নিপা কর্মকার। নিপার জন্মদাতা পিতার নাম নারায়ণ কর্মকার। নারায়ণ কর্মকারের সঙ্গে এরশাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সে সুবাদে নিপাকে ছোটবেলা থেকেই পিতৃস্নেহে বড় করেন এরশাদ। নিপাকে পড়াশোনা করিয়েছেন তিনি। একজন পিতা হিসেবে মেয়ের প্রতি যে দায়িত্ব পালন করা দরকার তার সব টুকুই করেছেন তিনি। সর্বশেষে গতকাল সোনা গয়না থেকে শুরু করে বিয়ের যাবতীয় খরচ বহন করে এরশাদ তার পালিত কন্যাকে স্বামীর ঘরে পাঠিয়ে দেন।

    এরশাদের সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সুনীল শুভ রায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন দে, নিপার জন্মদাতা পিতা নারায়ণ কর্মকারসহ নিপার কয়েক শতাধিক আত্মীয় স্বজন।

  • মধ্যরাতে প্রচারণা শেষ, চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ

    মধ্যরাতে প্রচারণা শেষ, চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ

    খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা। শেষ মুহূর্তে ভোটারদের মন জয় করতে পাড়া-মহল্লায় চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা।

    রোববার মধ্যরাতে শেষ হবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। মঙ্গলবার (১৫ মে) খুলনা সিটিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। শেষ মুহূর্তের প্রচারণা শেষে ভোটের হিসাব-নিকাশ কষছেন প্রার্থীরা।

    প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনে মহানগরীর পাড়া-মহল্লা, অলিগলি মুখরিত মাইকিংয়ে। বিভিন্ন জায়গা ছেয়ে গেছে পোস্টার আর লিফলেটে। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে প্রার্থীরা চালিয়ে যাচ্ছেন গণসংযোগ ও প্রচারণা। সেই সঙ্গে পাড়া-মহল্লায় ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে নির্বাচনী উৎসবের আমেজ। তাদের প্রত্যাশা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যোগ্য নগরপিতা নির্বাচিত হবেন।

    প্রার্থী ও ভোটারদের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। গাজীপুর নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার পর দেশের মানুষ এখন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের দিকে তাকিয়ে আছে। উদ্বেগ, উৎকণ্ঠায় রয়েছে সবাই। তবে খুলনায় চলছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

    khulna-4

    আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক সকাল ৯টায় দৌলতপুর পাবলা দফাদার পাড়া চানাচুর পট্টিতে শেষ দিনের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। দিনভর তিনি বিভিন্ন এলাকায় শেষ প্রচারণা চালান। পাশাপাশি তিনি মোবাইল ফোনে প্রতিটি নাগরিকের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন।

    অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রচারণার শেষ দিনে ৩১নং ওয়ার্ডের নগরীর প্রবেশদ্বার খানজাহান আলী সেতু থেকে গণসংযোগ শুরু করে চানমারী, বান্দবিাজার, রূপসাস্ট্যান্ড রোডে প্রচারণা চালান।

    সেই সঙ্গে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ প্রার্থী বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। নজরুল ইসলাম মঞ্জু ভোট ডাকাতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে মঞ্জু বিভিন্ন বস্তিতে কালো টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন বলে আওয়ামী লীগের নির্বাচন সমন্বয়কারী এসএম কামাল হোসেন অভিযোগ তোলেন। এসব অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে প্রচার-প্রচারণা।

    নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন। রোববার দুপুরের পর থেকে মাঠে নেমেছে বিজিবি।

    রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার প্রথমবারের মতো মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার মেয়র পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী জানান, সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনের ভোটগ্রহণের জন্য ব্যালট পেপার, সিল, কালিসহ নির্বাচনী মালামাল খুলনায় এসেছে। এসব মালামাল বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। নির্বাচনে ১ হাজার ৮১০টি ব্যালট বাক্স প্রয়োজন হবে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারদের এসব মালামাল বুঝিয়ে দেয়া হবে।

    khulna-BGB

    খুলনা জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে। ১৬ প্লাটুন বিজিবি মাঠে নামানো হয়েছে।

    র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক নির্বাচনে র‌্যাবের ৩২টি টিম দায়িত্ব পালন করবে।

    খুলনা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সোনালী সেন বলেন, নির্বাচনে সাড়ে ৯ হাজার পুলিশ, বিজিবি, এপি ব্যাটালিয়ন ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে পুলিশের পাশাপাশি ১৬ প্লাটুন বিজিবি, সাড়ে ৪ হাজার আনসার-ভিডিপি সদস্য থাকবে।

    আওয়ামী লীগ মনোনীত ও ১৪ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আলহাজ তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, ভোট কারচুপিতে নয় আওয়ামী লীগ জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যদি ভোট কারচুপির ইচ্ছা থাকতো তাহলে ২০১৩ সালের চারটি সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হতো না। জনগণ যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে আমরা তাকে স্বাগত জানাবো।

    বিএনপি মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, আপনারা ভয় পাবেন না। হতাশ হবেন না। সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবেলা করুন। দলবদ্ধ হয়ে ভোট কেন্দ্রে যান। ধানের শীষে আপনার ভোট প্রয়োগ করুন। কোনো শক্তি নেই জনতার সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে পরাস্ত করতে পারে। আওয়ামী লীগের উন্নয়নের গালগল্প জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। উন্নয়নের নামে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ এনে লুটেপুটে খাওয়াই আওয়ামী লীগের ধর্ম। দেশের মানুষ তা জেনে গেছে।