Category: জাতীয়

  • আগাম নির্বাচনের জন্য ইসি প্রস্তুত : সিইসি

    আগাম নির্বাচনের জন্য ইসি প্রস্তুত : সিইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, সরকার চাইলে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রস্তুত রয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন। এর আগে সিইসির সঙ্গে বিকেল ৪টায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনসিয়ে টিয়েরিংক বৈঠক করেন।

    প্রসঙ্গত, চলমান জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি দাবি করে দেশের প্রধান দল বিএনপি সংসদ ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের দাবি করে আসছে। তবে ক্ষমতাসীন দল তা নাকচ করে দিয়ে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলছে। এ নিয়ে দুই দলের মধ্যে সব সময় কথার ‘যুদ্ধ’ চলছে।

    আগাম নির্বাচনের জন্য কতটুকু প্রস্তুত জানতে চাইলে সিইসি বলেন, আগাম নির্বাচনের বিষয়টা সরকারের ওপর নির্ভর করে। সরকার চাইলে সেটা করা যাবে। নির্বাচনের জন্য তো ৯০ দিন সময় থাকে। তারা যদি আগাম নির্বাচনের জন্য বলে, তখন আমরা পারবো। আমাদের ব্যালট বক্স আছে। শুধু পেপার ওয়ার্কগুলো লাগবে।

    সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের কোনো আপস নেই।

    প্রবাসীদের ভোটাধিকারের বিষয়ে সিইসি বলেন, পোস্টাল ব্যালটে খুব একটা সাড়া পাওয়া যায় না। তাই আমি বলেছি যে, তিনশ আসনের নির্বাচনের জন্য আমাদের লোকজনের বিদেশে বাক্স নিয়ে যাওয়া সম্ভব না। তবে নিয়মটি এখনো বলবৎ আছে। যদি ইভিএম চালু হয়, তখন হয়তো এটা করা হবে।

    নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা সম্ভব না। আমরা প্রস্তুত না। কিছু রাজনৈতিক দল এটির বিরোধিতা করেছে, সে জন্য আমরা এ নিয়ে কোনো বিতর্কে যাব না।

  • পটুয়াখালী জেলা পুলিশের কাছে ৭৭ জন মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীর আত্মসমর্পণ

    পটুয়াখালী জেলা পুলিশের কাছে ৭৭ জন মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীর আত্মসমর্পণ

    জাকারিয়া আলম দিপু.

    পটুয়াখালীতে ৭৭ জন মাদক‌সেবী ও ব্যবসায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ ক‌রে‌ছেন। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) বি‌কে‌লে কমিনিউটি পুলিশের উদ্যোগে বিশেষ অনুষ্ঠা‌নের আ‌য়োজন করা হয়। বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ শফিকুল ইসলাম, বিপিএম উপস্হিতিতে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের কাছে ৭৭ জন মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীরা আত্মসমর্পণ করে এবং মাদকবিরোধী সাইকেল র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়।

    পটুয়াখালী জেলায় পৌরশহরের শেখ রাসের শিশু পার্কে এক মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ শফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে ৭৭ জন চিহ্নিত মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী  অাত্মসমর্পণ করে। অাত্মসমর্পণ করা ৭৭ জনের মধ্যে ১০ জনকে সেলাই মেশিন প্রদান ও পুনর্বাসিত করা হয়। এর আগে ডিআইজি নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য মাদকবিরোধী সাইকেল র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়।

    উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ড. মোঃ মাছুমুর রহমান জেলা প্রশাসক, সৈয়দ মোসফিকুর রহমান পুলিশ সুপার পটুয়াখালী,  পটুয়াখালী জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা টিটু, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তারিকুজ্জামান মনি, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আলমগীর হোসেন, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারমান সুলতান আহমেদ মৃধা প্রমুখ, বিভিন্ন দপ্তরের অফিসারগন ,সাংবাদিকগন ও কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সদস্যগন।

    উল্লেখ্য যে ইতোপূর্বে ভোলা জেলায় ৫৫ জন মাদক সেবী ব্যবসায়ী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
    পর্যায়ক্রমে রেঞ্জের অন্যান্য জেলাতেও এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

  • ১২ ডিসেম্বর জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস ঘোষণা

    ১২ ডিসেম্বর জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস ঘোষণা

    প্রতি বছর ১২ ডিসেম্বর ‘জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা এবং দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ বিষয়ক পরিপত্রের খ ক্রমিকে অন্তির্ভুক্তকরণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ”আইসিটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাঈদ আহম্মেদ পলক এমপি অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার তেজগাঁও কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   বৈঠকে এ অনুমোদ দেওয়া হয়।

     

    পলক বলেন, ‘২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প ঘোষণা করেন। জনগণ সে ঘোষণায় আস্থা রেখে আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে জনসেবা করার সুযোগ করে দেয়। ‘সরকার গঠনের পর আমাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ দেশে-বিদেশে প্রশংসিত এবং অনুকরণীয়। দেশের মানুষ এই রূপকল্পের সুফল ভোগ করছে। ‘মন্ত্রিসভা ওই দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রম চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল। ‘

    তিনি আরও বলেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশের যে কনসেপ্ট, এটাকে আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ করছি এবং কাজ করছি। এটা স্মরণীয় করার জন্য ১২ ডিসেম্বরকে ‘ন্যাশনাল আইসিটি ডে’ হিসেবে পালনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।

    ” বর্তমানে সরকারে থাকা আওয়ামী লীগ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ধারণা উপস্থাপন করে। এ কারণে ওই দিনটি জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস হিসেবে পালনের জন্য বেছে নেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

  • বরিশালের রসুলপুর চরে বিদ্যুৎ সংযোগের দাবিতে আল্টিমেটাম

    বরিশালের রসুলপুর চরে বিদ্যুৎ সংযোগের দাবিতে আল্টিমেটাম

    বরিশাল নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর চরে গত ৩ মাস ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এই চরের ৫ হাজার মানুষের ব্যবহারের জন্য অবিলম্বে গৃহস্থালী বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ।

    সোমবার সকালে নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে জেলা বাসদের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাসদের সহযোগী সংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আন্তর্জাতিক সম্পাদক ডা. মনিষা চক্রবর্তী।

    বক্তব্য রাখেন মুজাম্মেল হক সাগর, রাকিব মল্লিক, রসুলপুর চরের সুবিধা বঞ্চিত বাসিন্দা রিপন মোল্লা, শহীদুল ইসলাম, জাকির হোসেন, আব্দুর রব প্রমুখ।

    বক্তারা আগামী ৭ দিনের মধ্যে রসুলপুর চরে গৃহস্থালী বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার দাবি জানান। ৭ দিনের মধ্যে এই দাবি আদায় না হলে ডিসি অফিস, সিটি করপোরেশন এবং বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করার হুশিয়ারী দেন বক্তারা।

  • বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন

    বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন

    আগামী মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঠান্ডাজনিত রোগের চিকিৎসা সেবা দিবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। রোগীদের বিনা মূল্যে সেবা ও ওষুধপথ্যও দেবেন চিকিৎসকরা।

    রবিবার নগর ভবনের ব্যাংক ফ্লোরে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ প্রাথমিক বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনস্বাস্থ্যসেবা কক্ষ উদ্বোধন উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাইদ খোকন। মেয়র বলেছেন, নাগরিকেরা সিটি করপোরেশনের হটলাইন নম্বরে (০৯৬১১০০০৯৯৯) কল করলেই বাসায় ছুটে যাবেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসক রোগীদের বিনা মূল্যে সেবা ও ওষুধপথ্য দেবেন।

    সাইদ খোকন আরও বলেন, ‘প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে নগরের অসংখ্য মানুষ সর্দিকাশিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। তাই, সিটির নাগরিকদের চিকিৎসাসেবায় প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে চিকিৎসক দল রাখা হয়েছে।   মোট ১৫০ জনের দল মাঠ পর্যায়ে কাজ করবে। প্রয়োজন অনুসারে সদস্য বাড়ানো হবে।

  • জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস ১২ ই ডিসেম্বর

    জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস ১২ ই ডিসেম্বর

    প্রতি বছর ১২ ডিসেম্বর জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস পালিত হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক উত্থাপিত দিবসটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ বিষয়ক পরিপত্রে খ ক্রমিকে অন্তর্ভুক্তকরণের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চলতি বছরের ৩৫তম মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ২০০৮ সালে ১২ ডিসেম্বর তারিখে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ার বিষয়টি নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত ও ঘোষণা করে।

    এ জন্য দিবসটি পালনের জন্য ১২ ডিসেম্বর তারিখকে নির্বাচন করা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বাংলাদেশ মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতেই এ দিবস ঘোষণা করেছে সরকার। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ দিবসটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রের ক ক্রমিকে অন্তর্ভুক্তকরণের জন্য পেশ করলেও তা পলিসিগত কারনে খ ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

  • পিইসির পর এসএসসির প্রশ্ন ফাঁসের বিজ্ঞাপন

    পিইসির পর এসএসসির প্রশ্ন ফাঁসের বিজ্ঞাপন

    সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নও পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছে একটি ফেইসবুক পেইজে।

    রবিবার সকাল ১১টায় পিইসির গণিত পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৫০ মিনিট আগে ‘All Exam Suggetion Roki Vai’ নামে ওই ফেইসবুক পেইজে ছবি আকারে প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়।

    হাতে লেখা প্রশ্নের উত্তরও সেখানে আপলোড করা হয়।

    ‘psc math fainal qu ২০১৭’ শিরোনাম দিয়ে প্রশ্ন ফাঁসের ওই পোস্ট শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    দুপুরে পরীক্ষা শেষে ফাঁস হওয়া ওই প্রশ্নের সঙ্গে ঢাকা অঞ্চলের প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়।

    ‘All Exam Suggetion Roki Vai’ নামের ওই ফেইসবুক পেইজ জেএসসির প্রশ্ন ফাঁসেও ছিল বলে তাদের এক পোস্টে জানানো হয়েছে।

    রবিবার পিইসির পরীক্ষা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সেখানে এক পোস্টে এসএসসি ও এইচএসসি প্রশ্ন ফাঁসের প্রলোভন দেখানো হয়েছে।

    লেখা হয়েছে, “Attention plzzz Next mission

    SSC+HSC পারসনাল গ্রুপ খুলা হয়েছে অনলি ঢাকা বোর্ড যাদের ১০০% রিয়েল প্রশ্ন লাগবে ইনবক্সে যোগাযোগ করবেন, শর্ত দেওয়া আছে। ”

    পিইসি জেলাভিত্তিক হওয়ায় “অনেকের কমন আবার অনেকের আসে নাই, but JSC 100% দিছি এটা প্রুভ আছে, সেইম SSC+HSC ও দেব। ”

  • বরিশালে দ্বিতীয় দিনের মতো ক্লাস-পরীক্ষা নেননি বিসিএস শিক্ষকরা

    বরিশালে দ্বিতীয় দিনের মতো ক্লাস-পরীক্ষা নেননি বিসিএস শিক্ষকরা

    ‘বিসিএস ছাড়া ক্যাডার সার্ভিস নয়’ দাবীতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুই দিনব্যাপী কর্মবিরতির দ্বিতীয় ও শেষ দিন অতিবাহিত হয়েছে। সোমবার টানা দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতির ফলে বরিশাল বিভাগের ২৩টি সরকারি কলেজের ৮শ’ শিক্ষক সকল ধরনের সরকারি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন।

    গত রবিবার প্রথমদিনের মতো আজ দ্বিতীয় দিনও সকাল ৯টা থেকে কর্মবিরতি শুরু হয়ে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

    কর্মবিরতির ফলে ২৩টি সরকারি কলেজের নিয়মিত ক্লাশ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন পরীক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষক প্রশিক্ষন ইনস্টিটিউট এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কর্মসূচি চলাকালে বরিশালের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকরা স্ব-স্ব ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন।

    এদিকে, ক্লাশ-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় বিভাগের ২৩টি সরকারি কলেজের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অলস সময় কাটিয়ে ফিরে গেছেন। একইভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বহু সেবাপ্রত্যাশী ওইসব অফিসে গিয়ে কাজ সম্পন্ন করতে না পেরে নিরাশ হয়ে ফিরে গেছেন। এতে এক ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

    জাতীয়করণকৃত ২৮৩টি কলেজের শিক্ষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন ও জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর আলোকে ক্যাডার বর্হিভুত করে আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে স্বতন্ত্র বিধিমালা জারির দাবি জানিয়েছেন ধর্মঘটে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা।

    দুই দিনব্যাপী কর্মবিরতির পরও দাবি আদায় না হলে আগামী ৬, ৭ ও ৮ জানুয়ারি ৩দিনব্যাপী কর্মবিরতি পালনের কথা বলেন তারা। একই সাথে ক্যাডারভুক্ত করে নতুন কোন কলেজ জাতীয়করণ করা হলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারিও দেন বিসিএস শিক্ষক নেতারা।

     

    এর আগে একই দাবিতে গত ১১ নভেম্বর বরিশাল বিএম কলেজে বিভাগীয় সমাবেশ করে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। এছাড়া ২২ অক্টোবর বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় বিসিএস শিক্ষা সমিতির নেতারা তাদের দাবি তুলে ধরে সবার সমর্থন কামনা করেন।

  • জামায়াত যা বলে খালেদা জিয়া তাই করে: দিলীপ বড়ুয়া

    জামায়াত যা বলে খালেদা জিয়া তাই করে: দিলীপ বড়ুয়া

    বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী কমরেড দিলীপ বড়ুয়া বলেছেন, ‘জামায়াত যা বলে খালেদা জিয়া তাই করে, শেখ হাসিনার বিকল্প খালেদা জিয়া নয়, খালেদা জিয়া এখন জামায়াতের হাতে বন্দী ও জামায়াত দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। খালেদা জিয়া আবার ক্ষমতায় আসলে জামায়াতের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা মুক্ত চিন্তার অধিকারী কমিউনিস্ট ও তোয়াহা’র অনুসারীদের খুঁজে বের করে হত্যা করবে।

    উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশের কল্যাণে শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করতে হবে। ’

    সোমবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ভাষা সৈনিক কমরেড মো. তোয়াহা’র ৩০তম স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তোয়াহা’র স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত স্মরণ সভায় লক্ষ্মীপুর জেলা সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন- কমলনগর উপজেলা ১৪ দলীয় জোটের সভাপতি অ্যাডাভোকেট আনোয়ারুল হক, পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড লুৎফর রহমান প্রমুখ।
    এর আগে দুপুরে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রয়াত ভাষা সৈনিক কমরেড তোয়াহা’র স্মরণে শোক র‌্যালি ও সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন দিলীপ বড়ুয়া।

  • পিলখানা হত্যায় হাইকোর্টের রায়- ১৩৯ জনের ফাঁসি, যাবজ্জীবন ১৮৫ জনের

    পিলখানা হত্যায় হাইকোর্টের রায়- ১৩৯ জনের ফাঁসি, যাবজ্জীবন ১৮৫ জনের

    পিলখানায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার দায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে ১৮৫ জনকে। আর ১৯৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে এবং খালাস পেয়েছেন ৪৯ জন। আজ সোমবার বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ রায় দেন।

    বেঞ্চের অপর দুই বিচারপতি হলেন মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। আদালত এ রায়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে রায়ে বিভিন্ন সুপারিশও করা হয়েছে। আজ হাইকোর্টের রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়ার দুটি ধাপ শেষ হলো। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের নামে পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটেছিল এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান।

    বিচারের মুখোমুখি করা হয় ৮৪৬ বিডিআর জওয়ানকে। মামলার অন্য চার আসামি বিচার চলাকালে মারা যান। আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা। ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর এ মামলায় ১৫২ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুর আদেশ দেন বিচারিক আদালত। এঁদের একজন ছাড়া সবাই তৎকালীন বিডিআরের সদস্য। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় ১৬ জনকে। সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পান আরও ২৫৬ জন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান ২৭৮ জন আসামি। সাজা হয় মোট ৫৬৮ জনের। হাইকোর্টে কোনো রায় পড়তে দুদিন সময় লাগার বিয়ষটি অনেক আইনজীবীই নজিরবিহীন বলেছেন। এ মামলায় আদালত এক হাজার পৃষ্ঠার বেশি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। সম্পূর্ণ রায় প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার। আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন, তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহে অভ্যন্তরীণ ও বাইরের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে।

    আদালত বলছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে গণতন্ত্র ধ্বংস করাই ছিল বিদ্রোহের অন্যতম উদ্দেশ্য। আজ রায় পড়তে গিয়ে বিচারপতি নজরুল বলেন, তৎকালীন বিডিআরের নিজস্ব গোয়েন্দারা কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে তা আগে জানতে পারেনি, সেই ব্যর্থতা খুঁজতে একটি তদন্ত কমিটি করা দরকার। তিনি মহাপরিচালকের উদ্দেশে বলেন, কোনো সমস্যা এলে তা তাৎক্ষণিক সমাধান করতে হবে। বিজিবির জওয়ানরা কোনো সমস্যা নিয়ে এলে তা মীমাংসা করতে হবে এবং বিজিবিতে সেনা কর্মকর্তা ও জওয়ানদের মধ্যে পেশাদারি সম্পর্ক থাকতে হবে। নজরুল ইসলাম প্রশ্ন করেন, কেন সে সময়ের বিডিআর ডাল-ভাত কর্মসূচি নিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো কর্মসূচি যেন না নেওয়া হয়, সে ব্যাপারে বিজিবিকে সতর্ক করেন তিনি।

    আরেক বিচারপতি মো. শওকত হোসেন বলেন, কোনো সেনা কর্মকর্তা সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে থাকবে না, এটাই ছিল বিদ্রোহে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মূল মনোভাব। তিনি জওয়ানদের সঙ্গে ঔপনিবেশিক (কলোনিয়াল) আমলের মতো ব্যবহার না করার কথা বলেন। তিনি বলেন, একই দেশ। এখানে সবাই ভাই ভাই। গতকাল রোববার আদালত পর্যবেক্ষণে নারকীয় এ হত্যাকাণ্ডকে নৃশংস ও বর্বরোচিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন ইপিআর পাকিস্তান বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সীমান্তরক্ষায় নিয়োজিত এই বাহিনী দেশে-বিদেশে সম্মানের সঙ্গে কাজ করেছে। কিন্তু ২০০৯ সালে পিলখানায় তৎকালীন বিডিআরের কিছু সদস্য আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। এই কলঙ্কচিহ্ন তাঁদের অনেক দিন বয়ে বেড়াতে হবে। একসঙ্গে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার নজির ইতিহাসে নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় মনোবল নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যৌক্তিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। এরপর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হাইকোর্টে আসে। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত ব্যক্তিরাও জেল আপিল ও আপিল করেন।

    ৬৯ জনকে খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এসবের ওপর ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়, শেষ হয় ৩৭০তম দিনে গত ১৩ এপ্রিল। সেদিন শুনানি শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর হাইকোর্ট রায়ের জন্য ২৬ নভেম্বর তারিখ ধার্য করেন। নিম্ন আদালতের রায়ের পর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) হাইকোর্টে আসে। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত ব্যক্তিরাও জেল আপিল ও আপিল করেন। ৬৯ জনকে খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। এসবের ওপর ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়, শেষ হয় ৩৭০তম দিনে, ১৩ এপ্রিল। সেদিন শুনানি শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর হাইকোর্ট রায়ের জন্য ২৬ নভেম্বর তারিখ ধার্য করেন। বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকায় এক নম্বরে ছিলেন বিদ্রোহের অন্যতম পরিকল্পনাকারী উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) তৌহিদুল আলম। বিডিআরের বাইরে দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। এঁরা হলেন বিএনপির সাবেক সাংসদ নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু ও স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা তোরাব আলী। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে কারাগারে মারা যান নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু।

    নিম্ন আদালতের রায়টি ছিল মোট চার হাজার পৃষ্ঠার। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক তখন বলেছিলেন, এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা। একটি বিদ্রোহ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে যে কারণে এ বিদ্রোহ হয়েছে, তা ছিল অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন। সেনাবাহিনীর মনোবল নষ্ট করা, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়াই ছিল হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কারণ। আদালত ১৫২ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়ে বলেন, মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এঁদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সাধারণ নাগরিক হলেন পিলখানার পাশের এলাকার বাসিন্দা নায়েক সুবেদার (অব.) কাঞ্চন আলীর ছেলে জাকির হোসেন। পিন্টু ও তোরাব আলীকে যাবজ্জীবনের পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়; অনাদায়ে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে অস্ত্র লুণ্ঠনের দায়ে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এতে করে তাঁদের ৪০ বছরের সাজা হয়। ২৫৬ জনের মধ্যে ২০৭ জনকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের আরেকটি অভিযোগে আরও তিন বছরের সাজা দেওয়া হয়। এ নিয়ে মোট ১৩ বছর কারাভোগ করতে হবে তাঁদের।