Category: জাতীয়

  • জয়বাংলায় মুখরিত ঢাকার রাজপথ, এ যেন আরেক ৭ই মার্চ

    জয়বাংলায় মুখরিত ঢাকার রাজপথ, এ যেন আরেক ৭ই মার্চ

    বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যর স্বীকৃতি অর্জন করায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে শুরু হয়েছে আনন্দ শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে উৎসবে মেতেছে ঢাকাবাসী।

    জয়বাংলা স্লোগানে-স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে ঢাকার রাজপথ। আজ শনিবার বেলা ১২টার পর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করছে হাজারো মানুষ। এসময় তাদের প্রত্যেকের কন্ঠে বাজনার তালে তালে জয়বাংলা স্লোগান। আর মূল শোভাযাত্রাটি ধানমন্ডি বঙ্গবন্ধু জাদুঘর থেকে শুরু হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে শেষ হবে।

    বেলা দেড়টার দিকে প্রেসক্লাব, মৎস্য ভবন, শাহবাগ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মূল অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কর্মচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের জনগণকেও এ শোভযাত্রায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

    ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক এই ৭ মার্চের ভাষণটি  ইউনেস্কোর বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি অর্জন করায় সারাদেশে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে সরকার। আর ঢাকা মহানগরী আনন্দ শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির উদ্যোগে রাজধানীতে এ শোভাযাত্রা হচ্ছে।

    শোভাযাত্রায় অংশ নিতে আসা যাত্রাবাড়ী জাহিরুন নেছা মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হাফেজ ওয়াক্কাস আলী বাংলানিউজকে বলেন, আমরা মাদ্রাসার পক্ষ থেকে ৫০ জন এসেছি।

    জাতির জনকের ভাষণের স্বীকৃতির এই সমাবেশকে সফল করতে আমাদের শিক্ষক এবং ছাত্রীরাও এসেছেন। এদিকে শোভাযাত্রাকে ঘিরে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোড়ে মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহীনির সদস্যদের সতর্ক থাকতে দেখা গেছে।

  • অভিযোগ মিথ্যা, এতিমখানার টাকা আত্মসাৎ করিনি : খালেদা

    অভিযোগ মিথ্যা, এতিমখানার টাকা আত্মসাৎ করিনি : খালেদা

    প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ব্যবহার করে এতিমখানার টাকা আত্মসাৎ করিনি বলে দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া।

    বৃহস্পতিবার বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে দেওয়া বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

    এরপর বিচারক জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ পড়ে শুনানোর পর নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। বিচারকের এক প্রশ্নের জবাবে এই মামলায় তিনি কাগজপত্র দাখিল এবং বক্তব্য রাখবেন বলে জানান।

    এর আগে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, এই মামলায় দু’জন ব্যক্তি দুটি তদন্ত করেছে। কিন্তু তদন্তের ভাষা পর্যালোচনা করলে দুটির ভাষা একই। তাতে প্রমাণ হয় এ রিপোর্টের তদন্ত সাজানো। তদন্ত করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

    আগামী ৩০ নভেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্যের জন্য পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।

  • ঢাকা-নেপিডো সমঝোতা সই ,দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু

    ঢাকা-নেপিডো সমঝোতা সই ,দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু

    বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার একটি সমঝোতা সই করেছে মিয়ানমার। ‘রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের ফেরার ব্যবস্থা’ শীর্ষক এই সমঝোতার বিষয়ে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, দুই মাসের মধ্যে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত লোকজনের ফিরে যাওয়া শুরু হবে।

    প্রত্যাবাসনের জন্য ভৌত ব্যবস্থাবিষয়ক একটি সুনির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় দলিল দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মূলত আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর চেষ্টার অংশ হিসেবেই মিয়ানমার এই সমঝোতা সই করেছে।

    যদিও মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তর এই সমঝোতাকে উভয় দেশের জন্য জয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। ওই দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এবার ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থার ভিত্তি হবে ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সই করা যৌথ বিবৃতি। সেখানে রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের ধারাবাহিকভাবে পরিচয় যাচাই ও মিয়ানমারের গ্রহণ করার বিষয়ে সাধারণ নীতি ও নির্দেশিকা রয়েছে।

    নেপিডোতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে গতকাল সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর বৈঠকের পর দুই দেশ ওই সমঝোতায় সই করে।

    উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে মিয়ানমার ১৯৯২ সালের যৌথ বিবৃতির আলোকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রস্তাব দিলেও বাংলাদেশ এর বিরোধিতা করে বলেছিল, ১৯৯২ সালের চেয়ে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। তাই রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন সমঝোতা প্রয়োজন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীও এ বিষয়ে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের অবহিত করেছিলেন।

    বাংলাদেশের মূল যুক্তি ছিল, ১৯৯২ সালের যৌথ বিবৃতিতে যেভাবে রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই করার কথা বলা হয়েছিল সেটি এবার করা হলে এ দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগের মিয়ানমারের বাসিন্দা হিসেবে প্রমাণ করা কঠিন হতে পারে। কেননা রাখাইন রাজ্যে এবার তাদের বাড়িঘর এমনভাবে পোড়ানো হয়েছে যে সেখানে তাদের কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমঝোতার বিষয়ে যতটুকু জানা গেছে তাতে যে খুব নতুন কিছু আছে এমন নয়। কেবল একটি বিষয় নতুন রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী নেপিডোতে সাংবাদিকদের বলেছেন এবং পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম আগামী দুই মাসের মধ্যে শুরু করা হবে। এটি কবে নাগাদ শেষ হবে সেটি বলা হয়নি। এর আগে মিয়ানমার বলেছিল, তারা যাচাই-বাছাই করেই রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে। মিয়ানমার গতকাল যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সেখানেও তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    রোহিঙ্গারা কিভাবে যাবে, তাদের যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া কী হবে—এসব বিষয় নির্ধারণ করবে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ। মিয়ানমারের একজন কর্মকর্তা একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, কিভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে তার একটি নমুনা ফরম বা তালিকা তারা বাংলাদেশকে দিয়েছেন। বাংলাদেশ যদি তাতে রাজি হয় তবে সেটির ভিত্তিতেই কাজ করা হবে।

    বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার তার পুরনো অবস্থান থেকে সরে আসেনি। মিয়ানমার বলছে, যারাই মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায় তাদের নাগরিক প্রমাণ দিতে হবে। সেই প্রমাণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য যা কিছু করা দরকার মিয়ানমার করবে।

    বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা হলো, মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অতীতে তেমন একটা ফল আসেনি। ২০০৫ সাল থেকে মিয়ানমার একতরফাভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধ রেখেছে। দ্বিপক্ষীয় বিষয় হলে মিয়ানমার নানা টালবাহানা করে বিষয়টি পিছিয়ে দেয়। কিন্তু গতকাল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিজ্ঞপ্তি থেকে বোঝা যাচ্ছে এখানে কোনো বহুপক্ষীয় উদ্যোগ হচ্ছে না। এটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিষয় হিসেবেই থাকছে। মিয়ানমার তার বিজ্ঞপ্তিতে রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিকীকরণের বিরোধিতা করেছে।

    বিবিসি বাংলা জানায়, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে গতকাল সমঝোতা সইয়ের পেছনে আন্তর্জাতিক চাপ বা সমঝোতা কাজ করেছে। মিয়ানমারে সরকারি মহলে জানাশোনা আছে—এমন কয়েকজন সাংবাদিক বলেছেন, সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের পর মিয়ানমারে গেছেন। গতকাল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে তাতে চীন ভূমিকা রেখেছে।

    বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুকে যেভাবে আন্তর্জাতিকীকরণ করেছে বা করতে চেয়েছিল মিয়ানমার তা পছন্দ করছে না। বিবৃতিতে তারা বলেছে, বিষয়টি দ্বিপক্ষীয়ভাবেই সমাধান করতে হবে।

    তবে অন্য আন্তর্জাতিক চাপগুলোও এখানে কাজ করেছে বলে ধরে নেওয়া যায়। যেমন—গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের কথা বিবেচনার কথা বলেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে খুব তড়িঘড়ি করেই মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বার্তা দিতে চাচ্ছে যে তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে, যাতে তাদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কিছুটা হলেও লাঘব হয়।

    মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ইসলামী সহযোগিতা সংস্থাসহ (ওআইসি) পশ্চিমা দেশগুলো জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ ও সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব গ্রহণ করে বিষয়টিকে (রোহিঙ্গা সংকট) আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে দেখিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদও এ ইস্যুতে একটি প্রেসিডেনশিয়াল বিবৃতি ইস্যু করেছে। ’

    ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মিয়ানমারের নীতিগত অবস্থান হলো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উদ্ভূত ইস্যুগুলো অবশ্যই দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে সমাধান করতে হবে। বন্ধুত্ব ও ভালো প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তিতে উভয় দেশের সম্মত এ ব্যবস্থায় (সমঝোতা) মিয়ানমারের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন এবং উভয় দেশের জন্য লাভজনক পরিস্থিতি এনে দিয়েছে। ’

    কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, প্রত্যাবাসনবিষয়ক সমঝোতা হলেও রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া নির্ভর করছে পুরোপুরি তাদের ইচ্ছার ওপর। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চায় না রোহিঙ্গাদের জোর করে ফেরত পাঠানো হোক। বাংলাদেশের এমন পরিকল্পনা নেই। বাংলাদেশ চায়, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন। এর জন্য মিয়ানমার সরকারকেই রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। আর এটি রাতারাতি বা দুই মাসে সম্ভব নয়।

    বাংলাদেশি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নেপিডো থেকে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, গত বুধবার নেপিডোয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে সমঝোতায় একটি সময়সীমা রাখার কথা মিয়ানমারকে বলেছিল। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাইয়ে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও সম্পৃক্ত করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ।

    জ্যেষ্ঠ এক কূটনীতিক বলেন, মিয়ানমার বাংলাদেশের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করেনি। মিয়ানমার দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা বললেও শেষ করার সময়সীমা দেয়নি। বাংলাদেশ এক বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শেষ করতে চেয়েছিল। কিন্তু মিয়ানমার কোনো সময়সীমা না দিয়ে বিষয়টি উন্মুক্ত রেখেছে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা বিষয়ে মিয়ানমার আগের চেয়ে নমনীয় হলেও এ বিষয়টি সমঝোতা দলিলে উল্লেখ করতে রাজি হয়নি।

    বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের পক্ষে স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের মন্ত্রী কিয়াও তিন সুয়ে ওই সমঝোতায় সই করেন। এ সময় তাঁরা ১৯৯৮ সালে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সীমান্ত চুক্তি অনুস্বাক্ষর দলিল বিনিময় করেন। তাঁরা ২০০৭ সালে সম্মত ‘নাফ নদীতে সীমান্ত নির্ধারণী অতিরিক্ত প্রটোকল’ও সই করেন।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী নেপিডোতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে বহুল প্রত্যাশিত ঐকমত্যে পৌঁছার পর তাঁরা সমঝোতা সই করেছেন। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। সমঝোতা সই করা প্রথম ধাপ। এখন আমরা দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু করব। ’

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল সকালে নেপিডোয় মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ইউন মিয়াত আয়ের সঙ্গে দেখা করে রাখাইন রাজ্যের জন্য উপহার হিসেবে তিনটি অ্যাম্বুল্যাসও দিয়েছেন।

    গতকাল বিকেলে ঢাকায় একটি সম্মেলন শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রথম ধাপ। এটি গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার ঢাকায় এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন।

    জানা গেছে, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার খসড়া ছয় দফা চালাচালির পর গত বুধবার বৈঠকে তা চূড়ান্ত হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহিদুল হক, মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম সুফিউর রহমানসহ এ দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কার্যালয়গুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    সমঝোতা সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেন, ‘যতটুকু খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে বাংলাদেশের আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই। মিয়ানমার বারবার কালক্ষেপণ করেছে এবং তাদের লোকদের ফিরিয়ে নেওয়ার যে দায় রয়েছে তা অস্বীকার করার চেষ্টা করেছে। সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না থাকাকে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। আমরা যদ্দূর জানি, বাংলাদেশ এক বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করতে চেয়েছিল। সেটি অর্জিত হয়নি। ’

    পরিচয় যাচাই ও প্রত্যাবাসনের পর তৃতীয় কোনো পক্ষের সম্পৃক্ততার বিষয়টি আরো উদ্বেগের উল্লেখ করে সি আর আবরার বলেন, রোহিঙ্গারা কতটা স্বেচ্ছায়, মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে ফিরে যেতে পারবে তার কোনো ইঙ্গিত এখানে নেই।

    এদিকে রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সচেতন করা অব্যাহত রেখেছে। ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী গতকাল নয়াদিল্লিভিত্তিক বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপ, আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া, মধ্য পূর্ব ও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর ৭৭ জন রাষ্ট্রদূতকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি অবহিত করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ও মানবাধিকার পরিষদে আগামী মাসেই রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ মিয়ানমারকে এ সংকট সমাধানে বাধ্য করতে বৈশ্বিক সমর্থন প্রত্যাশা করছে।

  • তিনি যেভাবে বারী সিদ্দিকী হয়ে উঠলেন

    তিনি যেভাবে বারী সিদ্দিকী হয়ে উঠলেন

    বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও বংশী বাদক। তিনি লোক ও মরমী ধারার গায়ক।

    ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেত্রকোনায় তার জন্ম।   বাবা প্রয়াত মহরম আলী ও মা প্রয়াত জহুর-উন-নিসা। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে বারী সিদ্দিকীই ছিলেন সবার ছোট। ছোটবেলায় বয়স যখন তিন কিংবা চার হবে সেই বয়সেই মা’র কাছে তার প্রথম শুনা গান ছিলো ‘শ্বাশুড়িরেও কইয়ো গিয়া’।

    সেই গানের সুরই বারী’র মনে গেঁথে যায় ছোটবেলায়। যদিও তার পরিবার গানের পরিবার ছিলো না। কিন্তু সৌখিন গানের পরিবার ছিলো তার। বারীর নানা শেখ সাবির সরদ বাজাতেন। আর তার নানীর কাছ থেকেই মা গান শিখেছিলেন টুকটাক।

    বারীর বয়স যখন পাঁচ তখন বড় ভাইয়ের বাঁশিতে ফু দেয়া তার মধ্যে অন্যরকম আগ্রহের সৃষ্টি করে বাঁশি শেখার প্রতি। বারীর নানারা দুই ভাই ছিলেন। তার নানার একটা সঙ্গীতের দল ছিল। নব্বইয়ের দশকে ভারতের পুনে গিয়ে পণ্ডিত ভিজি কার্নাডের কাছে তালিম নেন। দেশে ফিরে এসে লোকগীতির সাথে ক্লাসিক মিউজিকের সম্মিলনে গান গাওয়া শুরু করেন।

    বারীর বাবা গানের সাথে জড়িত না থাকলেও গান বাজনা তার পছন্দের ছিলো। বারী তার বাঁশি শেখা এবং গান শেখার দুটোরই উৎসাহ পেয়েছেন তার মায়ের কাছ থেকে। বারী ছোটবেলায় বাঁশি বাজাতেন মূলত বড় ভাইদের নকল করে। তখন পদ্ধতিগতভাবে নেত্রকোণায় বাঁশি শেখার উপায় ছিলো না। তাই মাত্র সাত আট বছর বয়সেই মা জহুর-উন-নিসার কাছে গান শেখা শুরু করেন। মার কাছ থেকে জীবনে তিনি প্রথম যে গানটির সুর বাঁশিতে তুলে নিয়েছিলেন সেই সুরটিই তিনি পরবর্তীতে হুমায়ূন আহমেদ’র ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে ব্যবহার করেছিলেন। সেটি ছিলো শ্যাম বিচ্ছেদের একটি সুর। কলিটা ছিলো এরকম ‘আস্ট আঙ্গুল বাঁশের বাঁশি/মধ্যে মধ্যে ছ্যাদা/ নাম ধরিয়া ডাকে বাঁশি/ কলংকিনী রাধা/।

    বারী সিদ্দিকী যখন হাইস্কুলে পড়তেন তখন থেকেই তিনি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে পদ্ধতিগতভাবে সঙ্গীত শেখা শুরু করেন নেত্রকোনা। তার সঙ্গীতের ওস্তাদ ছিলেন শ্রী গোপাল দত্ত। সে সময় বড় দুই ভাই এবং রফিক মাহমুদ, বিপুল চৌধুরী, দুলাল দত্তনবীশ, হযরত আলীর কাছ থেকেও গানে সহযোগিতা পেয়েছেন। ছোটবেলায় মূলত সঙ্গীতশিল্পী হবারই স্বপ্ন ছিলো বারী সিদ্দিকীর। তার মা তাকে উচাঙ্গ সঙ্গীত শিখে তা বাঁশিতে ট্রান্সফর্ম করতে বলতেন।

    তার সঙ্গীতে প্রথম ওস্তাদ গোপাল দত্ত। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালের দিকে ঢাকায় শুদ্ধ সঙ্গীত প্রসারের একটি অনুষ্ঠানে পরিচয় হয় ওস্তাদ আমিনুর রহমানের কাছে। তিনি বিমানের পাইলট ছিলেন। ভারত বর্ষের বিখ্যাত বংশীবাদক ওস্তাদ পান্না লাল ঘোষের শিষ্য ছিলেন। সেই আমিনুর রহমানের বাড়িতে থেকেই বাঁশিতে তালিম নিতে থাকেন দিনের পর দিন। সেখানে থেকেই তিনি ওস্তাদ তাগাল ব্রাদার্স, পণ্ডিত দেবেন্দ্র মুৎসুদ্দী, ওস্তাদ আয়েফ আলী খান মিনকারীর সান্নিধ্য পেয়েছিলেন বারী সিদ্দিকী।

    পণ্ডিত বিজি কারনাডের কাছেও বাঁশি শিখতে তিনি পুনাতে গিয়েছিলেন। এভাবে একসময় বারী শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বাংলাদেশ রেডিও টেলিভিশন’সহ সম্মিলিত একটি যন্ত্রসঙ্গীত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। এর পরপরই তিনি দক্ষিণ এশীয় সার্ক ফেস্টিভ্যালে যান বাঁশি বাজাতে সরকারী সহযোগিতায়।

    এরপর ধীরে ধীরে তিনি আরো পরিচিত হয়ে উঠতে লাগলেন। বাঁশি বাজান উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত পরিবেশনের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে। হুমায়ূন আহমেদ’র এক জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তার বাসায় যান বাঁশি বাজাতে। সেখানে বাঁশি বাজানোর পাশাপাশি গানও করেন তিনি। হুমায়ূন আহমেদ তাকে আরো গান গাইতে বলেন অনুষ্ঠানে। গান শুনে মুগ্ধ হন হুমায়ূন আহমেদ। ১৯৯৫ সালে বিটিভির ‘রং-এর বারৈ’ অনুষ্ঠানে প্রথম গান করেন বারী সিদ্দিকী। এর পরপরই হুমায়ূন আহমেদ তাকে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে গান গাইতে বলেন।

    চলচ্চিত্রের গানে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পাবার পরপরই বাজারে তার দুটি একক অ্যালবাম আসে। একটি ‘দুঃখ রইলো মনে’ এবং অন্যটি ‘অপরাধী হইলেও আমি তোর’। সংবাদপত্রকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সিদ্দিকী বলেন, হুমায়ূন আহমেদ আমার গাওয়ার পেছনে যথেষ্ট উৎসাহ দিয়েছিলেন। মূলত তার সাহস নিয়েই সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস পেয়েছি।

    দুটি অ্যালবাই লুফে নেয় শ্রোতারা। সেই সময় ৮০/৯০ বছর পর উকিল মুন্সীর লেখা গান জনগণের কাছাকাছি নিয়ে আসতে পেরে বারী ছিলেন দারুণ উচ্ছ্বসিত। বারী সিদ্দিকী সবসময়ই নিজেকে একজন বংশীবাদক হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।

    একজন বংশীবাদক হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি বাঁশি বাজিয়েই শ্রোতা দর্শককে মুগ্ধ করেছেন। ১৯৯৯ সালে ফ্রান্সে ওয়ার্ল্ড ফ্লুট সম্মেলনে এই উপমহাদেশ থেকে তিনিই প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এটা ছিলো বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট অর্জন। একজন গায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পাবার আগে বারী সিদ্দিকী একজন বংশবাদক হিসেবে বাঁশি বাজিয়েছেন দু’দশক ধরে। কিন্তু গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবার পর দেশের বাইরে বংশীবাদক হিসেবে তার সফর কমে যায়। কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন। বারী সিদ্দিকী ১৯৮৬ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ফরিদা ইয়াসমিনের সঙ্গে।

    ১৯৮০ সালে বারী সিদ্দিকী পেশাগতভাবে বাঁশি বাজানো শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে প্রথম বিটিভিতে ‘সৃজন’ অনুষ্ঠানে বাঁশি বাজান। বারী সিদ্দিকী ‘মাটির পিঞ্জিরা’ নামের একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। এটি নির্মাণ করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ফেরারি অমিতের নির্দেশনায় ‘পাগলা ঘোড়া’ নাটকেও অভিনয় করেছিলেন। তবে অভিনয় করতেন নিতান্তই অনুরোধে এবং শখের বশে।

    বিখ্যাত গান- শুয়া চান পাখি, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘সাড়ে তিন হাত কবর’, ‘পুবালি বাতাসে’, ‘তুমি থাকো কারাগারে’, ‘রজনী’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘ওলো ভাবিজান নাউ বাওয়া’, ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজো প্রভৃতি গানের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

  • মওদুদ-মজহারের সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী

    মওদুদ-মজহারের সমালোচনায় প্রধানমন্ত্রী

    নাম উল্লেখ না করে জাতীয় সংসদে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ১৮তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ফরহাদ মজহার প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

    বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। এটা এমন একজন লোক বললেন তার (মওদুদ) চরিত্র কী? ছাত্রাবস্থায় অন্য একটি দল করতো। ব্যারিস্টারি করে দেশে ফেরার পর দেখলাম আমাদের বাড়ি থেকে নড়েন না। আঁঠার মতো পড়ে থাকেন। তখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পিএ মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন, তার পিএ হিসেবেও এই লোকটা কিছুদিন কাজ করেছেন। তার ব্যাগ টেনেছেন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘দেশে আরেকটি দল আছে (বিএনপি), তারা নির্বাচনে আসেনি। এখন রাস্তায় রাস্তায় চিৎকার করে বেড়াচ্ছে। বলছে তারা সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর তিনি (মওদুদ) বিএনপিতে গেলেন। এরপর গেলেন জাতীয় পার্টিতে। তিনি দুর্নীতির দায়ে অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। আবার জেনারেল এরশাদ চলে যাওয়ার পর আবারও গেল বিএনপিতে। তিনি বনানীতে চিটিং করে অবৈধভাবে একটি বাড়ি দখল করেছিলেন। আদালতের রায়ে সেই বাড়িটি হারিয়েছেন। এখন সেই ব্যক্তিটিই ঘোষণা দেন সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। যিনি নিজেই মাটিতে পড়ে আছেন, তিনি কীভাবে টেনে নামাবেন?’

    গুম-খুন প্রসঙ্গে বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গুম-খুন নানাভাবেই হচ্ছে, আবার যারা নিখোঁজ হচ্ছে তাদের অনেকে আবার ফেরতও আসছে। এটা কী শুধু বাংলাদেশে হচ্ছে? যুক্তরাজ্যে ২ লাখ ৪৫ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক গুম হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আরও ভয়াবহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ৫৬ হাজার বর্গমাইলের দেশে ১৬ কোটির ওপরে জনগণ বাস করে। আমরা এতো মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। কিন্তু উন্নত দেশগুলোর জনসংখ্যা কতো? উন্নতি প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরও তাদের দেশে এতো গুম হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা যখনই অভিযোগ পাচ্ছি তা খতিয়ে দেখছি। দেশে একজন স্বনামধন্য আঁতেল (ফরহাদ মজহার) আছেন তিনি নাকি গুম হয়ে গেলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল তিনি খুলনায় নিউ মার্কেটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনা তো অহরহই ঘটছে।’ তিনি বলেন, আগে দেশের অবস্থা কী ছিল? বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছিল অস্ত্রের ঝনঝনানি। আমরা সেই অবস্থার পরিবর্তন করেছি। প্রতি বছরই শিক্ষার্থীদের আমরা বিনামূল্যে বই বিতরণ করছি। শিক্ষার হার ৭২ ভাগে উন্নীত হয়েছে। পাসের হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর সেশনজট নেই।

    বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যারা জ্যান্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে, জনগণের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করে, যাদের দুর্নীতিতে আগাগোড়া মোড়া। যাদের এতো গুণ তাদের জনগণ কেন ভোট দেবে? তারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে কীভাবে? বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে, যাদের বিবেক আছে তারা অন্তত ওদের (বিএনপি-জামায়াত) কোনোদিন ভোট দেবে না, ভোট দিতে পারে না। তাদের ভোট দিয়ে আর অশান্তি টেনে আনবে না। এই আপদকে ফিরিয়ে আনবে না। তাই ওদের স্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই, বড় বড় কথা বলেও লাভ নেই।’

  • স্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই : প্রধানমন্ত্রী

    স্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই : প্রধানমন্ত্রী

    বিএনপি-জামায়াত জোটের কঠোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যারা জ্যান্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করে, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে, জনগণের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করে, যাদের দুর্নীতিতে আগাগোড়া মোড়া। যাদের এতো গুণ তাদের জনগণ কেন ভোট দেবে? তারা ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখে কীভাবে? বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমার বিশ্বাস আছে, যাদের বিবেক আছে তারা অন্তত ওদের (বিএনপি-জামায়াত) কোনোদিন ভোট দেবে না, ভোট দিতে পারে না। তাদের ভোট দিয়ে আর অশান্তি টেনে আনবে না। এই আপদকে ফিরিয়ে আনবে না। তাই ওদের স্বপ্ন দেখে কোনো লাভ নেই, বড় বড় কথা বলেও লাভ নেই।’

    বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের ১৮তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে একথা বলেন তিনি। বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নাম উল্লেখ না করে তাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘তারা সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। এটা এমন একজন লোক বললেন তার (মওদুদ) চরিত্র কী? ছাত্রাবস্থায় অন্য একটি দল করতো। ব্যারিস্টারি করে দেশে ফেরার পর দেখলাম আমাদের বাড়ি থেকে নড়েন না। আঁঠার মতো পড়ে থাকেন। তখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর পিএ মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন, তার পিএ হিসেবেও এই লোকটা কিছুদিন কাজ করেছেন। তার ব্যাগ টেনেছেন।’

    প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘দেশে আরেকটি দল আছে (বিএনপি), তারা নির্বাচনে আসেনি। এখন রাস্তায় রাস্তায় চিৎকার করে বেড়াচ্ছে। বলছে তারা সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর তিনি (মওদুদ) বিএনপিতে গেলেন। এরপর গেলেন জাতীয় পার্টিতে। তিনি দুর্নীতির দায়ে অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। আবার জেনারেল এরশাদ চলে যাওয়ার পর আবারও গেল বিএনপিতে। তিনি বনানীতে চিটিং করে অবৈধভাবে একটি বাড়ি দখল করেছিলেন। আদালতের রায়ে সেই বাড়িটি হারিয়েছেন। এখন সেই ব্যক্তিটিই ঘোষণা দেন সরকারকে নাকি টেনেই নামাবেন। যিনি নিজেই মাটিতে পড়ে আছেন, তিনি কীভাবে টেনে নামাবেন?’

    গুম-খুন প্রসঙ্গে বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গুম-খুন নানাভাবেই হচ্ছে, আবার যারা নিখোঁজ হচ্ছে তাদের অনেকে আবার ফেরতও আসছে। এটা কী শুধু বাংলাদেশে হচ্ছে? যুক্তরাজ্যে ২ লাখ ৪৫ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক গুম হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আরও ভয়াবহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ৫৬ হাজার বর্গমাইলের দেশে ১৬ কোটির ওপরে জনগণ বাস করে। আমরা এতো মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। কিন্তু উন্নত দেশগুলোর জনসংখ্যা কতো? উন্নতি প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরও তাদের দেশে এতো গুম হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা যখনই অভিযোগ পাচ্ছি তা খতিয়ে দেখছি। দেশে একজন স্বনামধন্য আঁতেল (ফরহাদ মজহার) আছেন তিনি নাকি গুম হয়ে গেলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল তিনি খুলনায় নিউ মার্কেটে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনা তো অহরহই ঘটছে।’ তিনি বলেন, আগে দেশের অবস্থা কী ছিল? বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছিল অস্ত্রের ঝনঝনানি। আমরা সেই অবস্থার পরিবর্তন করেছি। প্রতি বছরই শিক্ষার্থীদের আমরা বিনামূল্যে বই বিতরণ করছি। শিক্ষার হার ৭২ ভাগে উন্নীত হয়েছে। পাসের হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর সেশনজট নেই।

    শেখ হাসিনা বলেন, অনেকে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তখনই আইপিইউ ও সিপিইউ মতো সারাবিশ্বের জনগণের দ্বারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা এই দুটি বৃহৎ সংস্থায় বাংলাদেশের দু’জন সংসদ সদস্যকে সভাপতি নির্বাচিত করেছেন, এটা একটা বিরল ঘটনা। আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি, সেটা বিশ্বের জনপ্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসে দেখে গেছেন। অনেকে বলে নির্বাচন অবৈধ। এটা শুনে মনে হয়, যারা একথা বলে শুধু তাদেরই জ্ঞানের ভাণ্ডার আছে। আর বিশ্বের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যারা আমাদের দু’জনকে নির্বাচিত করলেন তাদের মনে হয় কোনো জ্ঞান নেই। তারা যেন না জেনেই বাংলাদেশকে ভোট দিয়ে গেলেন। দুটি সম্মেলনই অত্যন্ত সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সারাবিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি বাংলাদেশে কীভাবে গণতন্ত্রের চর্চা হয়। বিশ্বের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও তা দেখে গেছেন।

    রোহিঙ্গা সমস্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার স্বীকার করেছে তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে। সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে যৌক্তিক কারণে সমস্যার সমাধান করছি।

  • এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১ ফেব্রুয়ারি

    এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১ ফেব্রুয়ারি

    ২০১৮ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি, মাদরাসা বোর্ডের দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ।
    শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি অনুমোদন দিয়ে সংশ্লিষ্ট বোর্ড চেয়ারম্যানদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সকালের পরীক্ষা ১০টা থেকে এবং বিকেলের পরীক্ষা ২টা থেকে শুরু হবে। ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র দিয়ে পরীক্ষা শুরু হবে। এবার শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও লেখাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের পরীক্ষা হচ্ছে না।
    সময়সূচি অনুযায়ী ১ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি সঙ্গীতের ব্যবহারিক পরীক্ষা এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চের মধ্যে বেসিক ট্রেডসহ এসএসসির সব বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া হবে।
    দাখিলের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে ২৫ ফেব্রুয়ারি। এক্ষেত্রে ৬ মার্চের মধ্যে সব ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ হবে। কারিগরি বোর্ডের তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে ২৪ ফেব্রুয়ারি।
    শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও লেখাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ের ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্তনম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গেহ ধারাবাহিক মূল্যায়নের প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েসবাইটে অনলাইনে পাঠাবে।
  • বিএনপি মানে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি ও লুটপাট, বিএনপি মানে অগ্নিসন্ত্রাস:ওবায়দুল কাদের

    বিএনপি মানে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি ও লুটপাট, বিএনপি মানে অগ্নিসন্ত্রাস:ওবায়দুল কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতু ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আলোর পথে রয়েছে। আর বিএনপি মানে হাওয়া ভবনের দুর্নীতি ও লুটপাট, বিএনপি মানে অগ্নিসন্ত্রাস। বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ আবারও অন্ধকারে পতিত হবে। বাংলার মানুষ আর বিএনপির অন্ধকারে আর যাবে না।
    বুধবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার শক্তিপুর নুরজাহান ভবন চত্বরে বাংলা একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক ও সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মযহারুল ইসলামের ১৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিন এসব কথা বলেন।
    তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের রক্তাক্ত ইতিহাস বাংলার মানুষ ভোলে নি। ২০১৩-১৪ সালের অগ্নি-সন্ত্রাসের কথাও ভুলে যায়নি। ক্ষমতায় থাকতে তারা সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া, মঞ্জুরুল ইমাম, আহসানউল্লাহ মাস্টারসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে। আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মীর রক্ত ঝরিয়েছে। রক্তের নদী আর কান্নার দরিয়ায় ভাসিয়েছে মানুষকে। এখন তারা আবার লোক দেখানো মায়াকান্না করছে।
    শেখ হাসিনাকে মানবতার নেত্রী উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, মহান আল্লাহপাক বঙ্গবন্ধুকে সৃষ্টি করেছেন বাংলার স্বাধীনতার জন্য আর শেখ হাসিনাকে সৃষ্টি করেছেন মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য। শেখ হাসিনা এখন সারা বিশ্বের বিষ্ময়। সোয়া ৬ লক্ষ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে তিনি উদারতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দলের তা চোখে পড়ে না।
    খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, ফটোসেশনের জন্য তিনি (খালেদা জিয়া) একবার বিশাল গাড়িবহর নিয়ে কক্সবাজার গিয়ে শো-ডাউন করেছেন। তার দলের মহাসচিবও একবার গিয়েছিলেন। অথচ আমি ২৫ দিন রোহিঙ্গাদের পাশে ছিলাম। কোনটা মন থেকে আর কোনটা লোক দেখানো তা মানুষ বোঝে।
    বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে বিএনপি নেত্রী লন্ডনে চলে গেলেন, আন্দোলন থাকলো তার ভ্যানিটি ব্যাগে। এই বছর না সেই বছর, আন্দোলন হবে কোন বছর। পেট্টোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা, গাড়ি পোড়ানো, রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও গাছ ধ্বংস করার আন্দোলনের সঙ্গে বাংলার মানুষ আর নেই।
    দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের ভেতরে প্রতিযোগিতা থাকবে, সেটা যেন অসুস্থ না হয়। যারা উন্নয়ন করবেন আর সকলের সঙ্গে ভাল আচরণ করবেন আগামী নির্বাচনে তাদেরকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের কাছে টেনে নিন। দলে অনুপ্রবেশকারী আগাছাদের ঠাঁই দিবেন না। দল ক্ষমতায় না থাকলে ৫ হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।
  • সরকারের পতন স্বাভাবিকভাবে করতে পারবোনা : ফখরুল

    সরকারের পতন স্বাভাবিকভাবে করতে পারবোনা : ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সরকারের পতন স্বাভাবিকভাবে করতে পারবো বলে মনে হয় না। এদের বিদায় ঘটাতে হাতিয়ার লাগবে। রুখে দাঁড়াতে হবে। কারণ এরা জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়ে বন্দুক, পিস্তল হাতে নিয়ে জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। তাই সবাইকে জেগে উঠতে হবে। সরকারকে বিদায় করতে না পারলে আমরা সবাই ব্যর্থ হবো, সেই সঙ্গে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে বাংলাদেশ।
    বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
    ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু, আমান উল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, আজিজুল বারী হেলাল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, কামরুজ্জামান রতন, সুলতান সালাহ উদ্দীন টুকু, আমিরুল ইসলাম আলীম, আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মামুনুর রশীদ, সহসভাপতি এজমল হোসেন পাইলট, নাজমুল হাসান প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।
    মির্জা ফখরুল বলেন, যে কোনো মূল্যে বর্তমান দখলদারী ক্ষমতাসীন সরকারকে বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কেন না দেশের মানুষ এদের কাছ থেকে মুক্তি পেতে চায়, চায় পরিবর্তন। শুধু ভাই ভাই বলে স্লোগান না দিয়ে অঙ্গীকার করতে হবে। আমরা যদি খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে পারি এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি তাহলেই তারেক রহমান নির্বাসন থেকে দেশে আসবেন, অন্যথায় নয়।
    প্রধান আলোচক শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এই ছাত্রদল বেগম জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে। স্বৈরাচারের পতন ত্বরান্বিত করেছিল। আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি গ্রহণ করছেন না। আগামী দিনে ছাত্রদল রাজপথেই মীমাংসা করবে স্বৈরাচার থাকবে না কি গণতান্ত্রিক সরকার থাকবে।
  • ২০২২ সালের মধ্যে রেলওয়ের আওতায় আসছে বরিশালসহ ৮ জেলা

    ২০২২ সালের মধ্যে রেলওয়ের আওতায় আসছে বরিশালসহ ৮ জেলা

    ২০২২ সাল নাগাদ দেশের আরও ৯টি জেলা রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। মঙ্গলবার তিনি সরকারি দলের সদস্য মোরশেদ আলমের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, জেলাগুলো হচ্ছে, মুন্সিগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, নড়াইল, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বান্দরবান ও কক্সবাজার। মজিবুল হক বলেন, বর্তমানে দেশের ৪৪টি জেলা রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলাগুলোকেও নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে করিডর ডাবল লাইনে উন্নীতকরণ, বিদ্যমান রেলপথের মানোন্নয়ন, রোলিং স্টক সমস্যা দূরীকরণ, জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রেলওয়ের আয় বৃদ্ধি তথা বাংলাদেশ রেলওয়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত ২০ বছরে বাস্তবায়নের জন্য রেলওয়ে মহাপরিকল্পনা সরকার অনুমোদন করেছে। এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পর শেরপুর, ঝালকাঠি, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, পটুয়াখালী, বরগুনা ও মাগুরা এ ৭টি জেলা রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে বলে জানান রেলমন্ত্রী।