Category: আন্তর্জাতিক

  • ইন্দোনেশিয়ার রাস্তায় লাশ আর লাশ

    ইন্দোনেশিয়ার রাস্তায় লাশ আর লাশ

    ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে শুক্রবারের ভূমিকম্প এবং সুনামিতে নিহতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট বলছেন, মৃতের সংখ্যা ‘হাজার হাজার’ হতে পারে। রাস্তায় রাস্তায় দেখা যাচ্ছে লাশ।

    ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ বিভাগ রবিবার তাদের সর্বশেষ যে হিসাবে দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে শুক্রবারের ভূমিকম্প এবং তা থেকে সৃষ্ট সুনামিতে সুলাওয়েসি দ্বীপে কমপক্ষে ৮৩৪ জন মারা গেছে।

    কিন্তু কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন হতাহতের সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়তে পারে। ইন্দোনেশিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউসুফ কাল্লা বলেছেন, নিহতের সংখ্যা ‘হাজার হাজার’ হতে পারে।

    কেন এই আশঙ্কা – দুর্যোগের দুদিন পর তার কারণ ব্যাখ্যা করতে শুরু করেছেন ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা।

    শুক্রবারের ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প এবং তার ফলে সৃষ্ট ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস সুলাওয়েসি দ্বীপের পালু এবং আরো কয়েকটি শহরে আঘাত করে।

    জাতীয় দুর্যোগ বিভাগ বলছে, তারা প্রথমে যা ভেবেছিলেন ভূমিকম্প এবং সুনামিতে আরও বেশি জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, বহু মানুষ এখনও বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির নিচে আটকা পড়ে আছে।

    পালু শহরে মানুষজন নিজেরাই ধ্বংসাবশেষের নিচে স্বজন প্রতিবেশীদের খুঁজছেন।

    দুর্যোগ বিভাগের কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাউগি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ধ্বংসস্তূপ সরাতে আমাদের এখন জরুরি ভিত্তিতে ভারি যন্ত্রপাতি দরকার। শরীরের শক্তি দিয়ে একাজ আর সম্ভব হচ্ছে না।

    ডঙ্গালা নামক একটি শহরের পরিণতি নিয়ে গভীর আশঙ্কা রয়েছে। প্রত্যন্ত এই শহরটি থেকে এখনও তেমন কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না।

    রেডক্রস বলেছে, ১৬ লাখের মত মানুষ শুক্রবারের ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি বলছে ‘এই ট্রাজেডি আরো করুণ চেহারা নিতে পারে।

    শহরের ৩,৩৫,০০০ মানুষের অনেকে এখনও নিখোঁজ। আশঙ্কা করা হচ্ছে বহু মানুষ বিধ্বস্ত ঘরবাড়ির নিচে আটকা পড়ে আছে।

    শহরের রোয়া রোয়া নামে একটি হোটেলের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকারীরা ২৪ জনকে জীবিত বের করে এনেছেন। আরো অনেক সেখানে আটকা পড়ে আছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, শহরের রাস্তায় রাস্তায় মরদেহ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। খোলা জায়গায় তাঁবু খাটিয়ে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    আফটার-শক অর্থাৎ বড় ভূমিকম্পের পর ছোটো ছোটে যে কাঁপুনি হয়, তার ভয়ে শনিবার সারারাত পালুর লোকজন ঘরের বাইরে ছিলেন।

    একটি আশ্রয় কেন্দ্রে বসে পালুর বাসিন্দা রিসা কুসুমা এএফপি সংবাদ সংস্থাকে বলেন, প্রতি মিনিটে অ্যাম্বুলেন্সে করে মৃতদেহ আসছে। খাবার পানি প্রায় পাওয়াই যাচ্ছে না। দোকানপাট বাজার সব লুট হয়ে যাচ্ছে।

    শুক্রবার ৭ দশমিক ৫ মাত্রার যে ভূমিকম্প হয় তার উৎপত্তিস্থল ছিল উপকূলের খুব কাছে, মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে। ফলে খুব দ্রুত জলোচ্ছ্বাস তীরে চলে আসে।

    স্থানীয় একটি উৎসবের কারণে সে সময় বহু মানুষ পালুর সমুদ্র সৈকতে ছিল। ফলে তাদের অনেকেই সুনামি থেকে পালানোর সময় পায়নি।

    ঘরবাড়ি ছাড়াও ভূমিকম্প ও সুনামিতে শহরের শপিং মল, মসজিদ, হোটেল, সেতু বিধ্বস্ত হয়েছে। পালু বিমানবন্দরের একজন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারও মারা গেছেন।

  • ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাকারবার্গসহ ফেসবুকের কর্মীরাও হ্যাকিংয়ের শিকার

    ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাকারবার্গসহ ফেসবুকের কর্মীরাও হ্যাকিংয়ের শিকার

    ফেসবুকের খুব বাজে সময় যাচ্ছে। আবার নয় কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য বেহাত হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ।

    এর আগে গত আগস্ট মাসেই কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারিতে সমালোচনার মুখে পড়েছিল ফেসবুক। এবারের ঘটনায় ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গসহ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা শেরিল স্যান্ডবার্গের অ্যাকাউন্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ফেসবুকের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন।

    গত শুক্রবার ফেসবুকের পক্ষ থেকে বলা হয়, হ্যাকাররা ডিজিটাল টোকেন চুরি করে নিয়েছে। যার মাধ্যমে পাঁচ কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য বেহাত হয়েছে, যা ফেসবুকের সবচেয়ে বাজে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা। প্রতি মাসে প্রায় ২২০ কোটি ব্যবহারকারী ফেসবুক ব্যবহার করেন। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, অ্যাকাউন্টের কোনো তথ্য অপব্যবহার করেছে, নাকি ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করেছে, তা এখনো ঠিক করতে পারেনি তারা।

    এখনো আক্রমণকারী সম্পর্কে বা কোন দেশের ব্যবহারকারী বেশি আক্রান্ত হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে ফেসবুকের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এটি বড় ধরনের আক্রমণ। এ বছরের শুরুতে ৮ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফেসবুক থেকে হাতিয়ে তা রাজনৈতিক কাজে লাগানোর অভিযোগ ওঠে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার বিরুদ্ধে। বিশ্বজুড়ে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয় ফেসবুককে। বিশ্বজুড়ে হ্যাশট্যাগ ডিলিট ফেসবুক প্রচার শুরু হয় ওই সময় থেকেই। ফেসবুকের যে নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করা গেছে, তাতে পাঁচ কোটি ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ক্ষমতা হ্যাকারের হাতে ছিল।

    ফেসবুকের এ নিরাপত্তা ত্রুটি ২০১৭ সালের জুলাই মাস থেকে ছিল। কিন্তু গত মঙ্গলবার তা ধরা পড়ে। ফেসবুকের ভিউ অ্যাজ ফিচারটির ব্যবহার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অসংগতি ধরতে পারেন ফেসবুকের কর্মকর্তারা। ভিউ অ্যাজ ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসি সেটিংস যাচাই করার সুবিধা দেয়, যার মাধ্যমে প্রোফাইল অন্যদের কাছে কেমন দেখাবে তার নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন ব্যবহারকারী। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ডার্কট্রেসের পরিচালক জাস্টিন ফিয়ের বলেছেন, ‘এ ঘটনার প্রভাব বিশাল।

    ফেসবুকের নিরাপত্তা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট গাই রোজেন নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়টিকে জটিল বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি তিনটি বিশেষ সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন। ফেসবুক বলছে, তারা ত্রুটি শনাক্ত করার পরপর গত বৃহস্পতিবারেই তা বন্ধ করে দেয়। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বিভাগ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও কংগ্রেস, আয়ারল্যান্ডের ডেটা প্রোটেকশন কমিশনকে বিষয়টি অবহিত করে। আয়ারল্যান্ডে ফেসবুকের ইউরোপীয় অঞ্চলের সদর সপ্তর অবস্থিত।

    আইরিশ কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ হ্যাকের ধরন ও ব্যবহারকারী ঝুঁকি সম্পর্কে পরিষ্কার জানাতে পারেনি। পাঁচ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর ডিজিটাল কি রিসেট করেছে তারা? এর বাইরে ভিউ অ্যাজ ফিচারটিও বন্ধ করে দিয়েছে। এর বাইরে আরও চার কোটি ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করছে ফেসবুক। ফেসবুক বলছে, নয় কোটি ব্যবহারকারীকে আবার ফেসবুকে নতুন করে লগইন করতে হবে।

    এ ছাড়া ফেসবুক দিয়ে লগইন করা হয় এমন অ্যাপেও নতুন করে লগইন করা প্রয়োজন হবে। শুক্রবার এ ঘটনায় ফেসবুকের বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে মামলা করেছেন দুই ফেসবুক ব্যবহারকারী। প্রায় ছয় হাজার ব্যবহারকারী জাকারবার্গের ফেসবুক পেজে এ–সংক্রান্ত অভিযোগ করেছে।

  • সাকিব-তামিমহীন লড়াকু বাংলাদেশকে দেখে মুগ্ধ রোডস

    সাকিব-তামিমহীন লড়াকু বাংলাদেশকে দেখে মুগ্ধ রোডস

    ইনজুরি জর্জরিত বাংলাদেশ দল। এরপরও যেভাবে এশিয়া কাপে লড়াই করেছে তা দেখে সন্তষ্টু বাংলাদেশের কোচ স্টিভ রোডস।

    এশিয়া কাপের মিশন শেষ করে দুবাই থেকে দেশে ফেরার সময় দল নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা জানান তিনি।

    এশিয়া কাপে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে শুরু করার পর আফগানিস্তান, পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে। সেখানে ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াইয়ে শেষ বলে হারতে হয় মাশরাফিদের।

    ফাইনালে ওঠার যাত্রায় তামিম ইকবাল প্রথম ম্যাচেই ইনজুরিতে পড়েন। দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর অলিখিত সেমিফাইনালের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে সাকিবও ইনজুরির কারণে ছিটকে যান। ইনজুরি ছিল মুশফিক, মাশরাফিরও। তবু তারা খেলা চালিয়ে যান।

    এই পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে দলের এমন পারফর্ম্যান্সে খুশি রোডস। বলেছেন, আসছে দুটি হোম সিরিজে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় তার দল।

  • পুরো দুনিয়া কি নীরব দর্শক হয়ে মিয়ানমারের হত্যাযজ্ঞ দেখবে?

    পুরো দুনিয়া কি নীরব দর্শক হয়ে মিয়ানমারের হত্যাযজ্ঞ দেখবে?

    মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ বলেছেন, আমি কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করার পক্ষে নই। কিন্তু পুরো দুনিয়া কি নীরব দর্শক হয়ে বসে বসে একটি হত্যাযজ্ঞ দেখবে এবং কিছুই করবে না?

    শুক্রবার জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণে আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক মাহাথির এসব কথা বলেন।

    মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, দেশগুলো স্বাধীন। কিন্তু তার মানে কি এই যে, নিজ দেশের জনগণের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর অধিকার তাদের রয়েছে!

    মাহাথির মোহাম্মদ আরও বলেন, মিয়ানমার সরকারের কর্মকাণ্ডে দেশটিতে প্রাণহানি, বাড়িঘর ধ্বংস করে দেয়া এবং নিজ দেশের মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু দেশটির নেত্রী অং সান সু চি এসব অস্বীকার করছেন।

    তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের হত্যা করা হচ্ছে। তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। ১০ লাখ শরণার্থী পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। গভীর সমুদ্রে ডুবে মৃত্যু হয়েছে অনেকের। বেঁচে থাকা লোকজনের খাবার, পানি ও স্যানিটেশনের সুবিধাবিহীন অস্থায়ী শিবিরে কোনো রকম ঠাঁই হয়েছে। তারপরও সু চিসহ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এসব অস্বীকার করছে।

    ১৫ বছর পর জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে মাহাথির রোহিঙ্গা ইস্যু, ফিলিস্তিন পরিস্থিতি, বিশ্বায়ন, বাণিজ্য যুদ্ধ, মালয়েশিয়ার অগ্রগতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। এ সময় জাতিসংঘের মহৎ লক্ষ্যগুলো অর্জনে তার দেশের পূর্ণ সমর্থন ও সহায়তা থাকবে বলেও অঙ্গীকার করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

  • ইন্দোনেশিয়া যেন মৃত্যু উপত্যকা, নিহতের সংখ্যা ৪০০

    ইন্দোনেশিয়া যেন মৃত্যু উপত্যকা, নিহতের সংখ্যা ৪০০

    ভূমিকম্প ও সুনামিতে মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে ইন্দোনেশিয়া। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪শ মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার দেশটির সুলাওয়েসি দ্বীপে ভূমিকম্পের পর ভয়াবহ সুনামি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫। সুনামির ফলে সৃষ্ট ছয় থেকে সাত ফুট উঁচু ঢেউ সুলাওয়েসির পালু শহরকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

    ভূমিকম্পে একটি মসজিদসহ বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে সুনামির বেশ কয়েকটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, আতঙ্কিত লোকজন ভয়ে চিৎকার করে কাঁদছে, কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় পালিয়ে যাচ্ছে। ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকবার পরাঘাতের (আফটার শক) কারণে ক্রমাগত কাঁপছে সুলাওয়েসি শহর। কয়েকশ বাড়ি, হাসপাতাল এবং শপিং সেন্টার ধ্বংস হয়ে গেছে।

    সুনামির পর ইতোমধ্যেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। তবে বেশির ভাগ এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকার কারণে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যহত হচ্ছে।

    পালুর প্রধান সড়কগুলো ভূমিধসের কারণে বন্ধ হয়ে আছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রিজ ধসে পড়েছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৮৪ জন প্রাণ হারিয়েছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কমপক্ষে ৫৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

    sunami

    গত মাসে ইন্দোনেশিয়ার লম্বোক দ্বীপে কয়েক দফা ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মধ্যে গত ৫ অাগস্টের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে লম্বোক দ্বীপেই ৪৬০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ভূমিকম্পে প্রায় ৪শ জন নিহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    sunami

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মুখপাত্র সুতোপো পুরও নুগরোহো বলেন, আমরা সঠিক তথ্য জানতে পারছি না কারণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সুনামিতে ভেসে যাওয়া অনেক মরদেহ সমুদ্রের তীর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু মৃতের প্রকৃত সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। তাছাড়া হতাহতের কারণ ভূমিকম্প নাকি সুনামি তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    পালু এবং এর কাছাকাছি অবস্থিত ডংগালা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পালু শহরে তিন লাখের বেশি এবং দুই শহর মিলিয়ে ৬ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। ইতোমধ্যেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। কিন্তু এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, শহরের রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যহত হচ্ছে।

    শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ২ মিনিটে পালু সুলাবেসির ৭৮ কিলোমিটার উত্তরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাতত্ত্বিক জরিপ জানিয়েছে, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই সতর্কতা তুলে নেয়া হয়।

    sunami

    প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো শনিবার এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সুনামি আঘাত হানার পর পালুর প্রধান বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

    এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেখানে হেলিকপ্টার ল্যান্ড করানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজধানী জাকার্তা থেকে কার্গো বিমানে করে ত্রাণ সহায়তা পাঠিয়েছে সেনাবাহিনী।

  • ইসরায়েলি সেনার গুলিতে ৭ ফিলিস্তিনি নিহত, আহত ৫০৭

    ইসরায়েলি সেনার গুলিতে ৭ ফিলিস্তিনি নিহত, আহত ৫০৭

    ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভে গুলিতে আরও সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫০৭ জন।

    নিজ ভূমিতে ফেরার আন্দোলনের অংশ হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যায়ও গাজায় সীমান্তের কাছে বিক্ষোভে অংশ নেন হাজার হাজার মানুষ। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায় দখলদাররা।

    ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকালের হামলায় নিহত সাত ফিলিস্তিনির মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। এছাড়া আহত ৫০৭ জনের মধ্যে ৩৫টি শিশু, চার জন নারী, দুই জন ত্রাণকর্মী ও দুইজন সাংবাদিক রয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত দুইজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

    নিজ ভূমি ফিরে পাওয়ার দাবিতে গত ৩০ মার্চ থেকে গাজায় বিক্ষোভ করে আসছে ফিলিস্তিনিরা। কিন্তু গুলি চালিয়ে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করছে দখলদার ইসরায়েলি সেনারা। গত কয়েক মাসের বিক্ষোভে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে এ পর্যন্ত ১৯০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি।

    এসব হত্যাকাণ্ডকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করে আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলি নেতাদের বিচারের দাবি উঠলেও এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

  • দুই পুরস্কার গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

    দুই পুরস্কার গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

    রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি সংকট সামাল দিতে দূরদর্শী ভূমিকার জন্য ইন্টার প্রেস সার্ভিসের ‘ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের ‘স্পেশাল রিকগনিশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ’ সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউইয়র্কে বৃহস্পিতবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর পৃথক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার হাতে পুরস্কার দুটি তুলে দেওয়া হয়।
    পুরস্কার দুটি বাংলাদেশের জনগণকে উৎসর্গ করে শেখ হাসিনা বলেছেন, সব দেশেরই নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাড়ানো উচিৎ।
    মানবিক কারণে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে নজির স্থাপন করায় ইন্টার প্রেস সার্ভিস শেখ হাসিনাকে ‘ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ দিয়েছে। এর আগে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান ও বুট্রোস বুট্রোস-ঘালি এবং ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মার্তি আহতিসারি এ পুরস্কার পেয়েছেন।
    আর দাতব্য সংগঠন ‘গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন’ শেখ হাসিনাকে ‘স্পেশাল রিকগনিশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ’ সম্মাননা দিয়েছে রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে।
    জাতিসংঘ সদর দফতরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত ইন্টার প্রেস সার্ভিসের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে ‘ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মহাপরিচালক উইলিয়াম লুসি সুইং। এরপর রাতে নিউইয়র্কের পার্ক এভিনিউয়ে আরেক অনুষ্ঠানে গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট ইরিনা বোকোভা প্রধানমন্ত্রীর হাতে ‘স্পেশাল রিকগনিশন ফর আউটস্ট্যান্ডিং লিডারশিপ’ অ্যাওয়ার্ড তুলে দেন।
    নাইজারের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদু ইসুফু, তিউনেসিয়ার প্রেসিডেন্ট বেজি সাইদ এসেবসি এবং গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাসও এই পুরস্কার পেয়েছেন।
    সম্মাননা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে মিয়ানমারে; তাদেরকেই এর সমাধান করতে হবে। রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে মিয়ানমারে নিরাপদ আবাসস্থল তৈরির ওপর জোর দেন তিনি। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমার যেন তাদের নাগরিকদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়, সেজন্য আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।
    প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ আহমেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এসময় উপস্থিত ছিলেন।
    জাতিসংঘ মহাসচিবের বৈঠক:
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ‘পূর্ণ সমর্থন ও সব ধরনের সহযোগিতার’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। নিউইয়র্কে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতিসংঘ সদর দফতর আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে শেখ হাসিনার এই বৈঠক হয়।
    শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, তাদের আলোচনায় রোহিঙ্গা সঙ্কট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সব ধরনের সহযোগিতার কথা বলেছন জাতিসংঘ মহাসিচব। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতি তার ভালবাসার কথা তিনি তুলে ধরেছেন।
    পররাষ্ট সচিব বলেন, বৃহস্পতিবারের বৈঠকেও জাতিসংঘ মহাসচিব শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকৃত অর্থেই ‘লক্ষণীয় ও শিক্ষণীয়’। বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দ্রুত শুরু করার ওপর জোর দিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় শেখ হাসিনাকে নেতৃত্ব ধরে রাখারও অনুরোধ করেছেন তিনি।
    শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবার অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব। আন্তর্জাতিক রেডক্রসের প্রেসিডেন্ট পিটার মাউরা এবং ৭৩তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি মারিয়া ফেরনান্দা এসপিনোসা গার্সিসও বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন।
  • শারীরিক সম্পর্কে সাড়া না দেওয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারল স্বামী

    শারীরিক সম্পর্কে সাড়া না দেওয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারল স্বামী

    শারীরিক সম্পর্কে সাড়া না দেওয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। মৃতের নাম সাইরা পাঠান (‌৩১)‌। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মুম্বাইয়ের মহারাষ্ট্রের বিড এলাকায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে জেলা হাসপাতালে সাইরার মৃত্যু হয়। অভিযুক্ত আইয়ুব পাঠানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    জানা যায়, বুধবার রাতে সাইরার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় লিপ্ত হতে চেয়েছিল আইয়ুব। কিন্তু শরীর ভাল না থাকায় অস্বীকার করেন সাইরা। সেটা শুনেই রেগে যায় আইয়ুব। অভিযোগ, রান্নাঘর থেকে স্টোভ নিয়ে এসে তার মধ্যে থাকা কেরোসিন সাইরার গায়ে ঢেলে দেয়। এরপর তাকে জ্বালিয়ে দিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যায় সে।

    পুলিশ সূত্রে খবর, সাইরার চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থানে এসে তাকে জ্বলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে কোনরকমে আগুন নিভিয়ে তাকে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তার শরীরের ৭৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুকালীন জবানবন্দীও দেন তিনি। এই ঘটনার জন্য স্বামীকেই দায়ী করেছেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে আইয়ুবের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত আইয়ুব।

  • ভারতে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের রায় ফের পেছাল

    ভারতে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের রায় ফের পেছাল

    অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের আদালতে বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের মামলার রায় দেওয়ার দিন ফের পিছিয়েছে। আগামী ১৫ অক্টোবর শিলং আদালতের ফার্স্ট ক্লাস জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এজলাসে সালাহউদ্দিনের রায় ঘোষণা হবে বলে জানা গেছে।

    একটি সূত্রের বরাত দিতে ভারতের গণমাধ্যম ‘নর্থইষ্ট নাও’ জানিয়েছে শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শিলং’এর আদালতে বিএনপি নেতার রায় ঘোষণার দিন থাকলেও বিচারক ছুটিতে থাকায় তা পেছানো হয়েছে।

    এর আগেও এক দফা তারিখ পেছানো হয়েছিল। গত ২৫ জুন উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ১৩ আগষ্ট রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন। কিন্তু পরে তা পিছিয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়।

    উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে ঢাকার উত্তরার বাসা থেকে নিখোঁজ হয়ে যান বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই মাস পরে ১১ মে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের গল্ফ লিঙ্ক এলাকায় তাঁর খোঁজ মেলে। কিন্তু ভারতে প্রবেশের কোন বৈধ নথি না থাকায় পরদিন ১২ মে তাকে গ্রেফতার করে মেঘালয় পুলিশ। এরপর থেকে গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে সেখানেই আছেন সালাহউদ্দিন। অবৈধভাবে ভারতের অনুপ্রবেশের জন্য তার বিরুদ্ধে ১৯৪৬ সালের ভারতীয় দন্ডবিধির ১৪ ফরেনারস্ অ্যাক্টে মামলা করা হয়।

    শিলং থেকে সালাহউদ্দিনকে বিপর্যস্ত অবস্থায় উদ্ধারের পরই মেঘালয় পুলিশ তাকে প্রথমে মেঘালয় ইন্সটিউট অব মেন্টাল হেলথ এন্ড নিউরোসায়েন্সস (মিমহান্স) নিয়ে গিয়ে ভর্তি করায়। কিন্তু কিডনিজনিত সমস্যা থাকায় পরে মেঘালয়ের নর্থ-ইষ্টার্ন ইন্দিরা গান্ধী রিজিওনাল ইন্সিটিউট অব হেলথ এন্ড মেডিকেল সায়েন্সেস (নেইগ্রিমস)-এ স্থানান্তরিত করা হয় তাকে। পরে আদালতের বিশেষ অনুমতি নিয়ে গুরগাঁওয়ের মেদান্ত হাসপাতালেও তাকে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়।

    তবে প্রথমে প্রায় এক মাস বিচারবিভাগীয় হেফাজত আর হাসপাতালে কাটাতে হলেও পরে অবশ্য শিলং থেকে তিনি বাইরে যেতে পারবেন না, সময়মতো পুলিশ সুপার বা আদালতে হাজিরা দিতে হবে-এইসব শর্তে ২০১৫ সালের ৫ জুন জামিনে মুক্তি পান। গত ২০১৫ সালের ২২ জুলাই আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় শিলং পুলিশ। তাতে বলা হয় ভারতের শিলং’এ বিএনপি নেতা ও বাংলাদেশের সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রীর উপস্থিতি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

    বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি মামলা অভিযোগের বিচার এড়াতেই তিনি ভারতে এসেছেন। ২০১৬ সালের ২৯ আগষ্ট আদালতে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩১৩ নম্বর ধারার অধীনে সালাউদ্দিনের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে শুনানি চলাকালীন সিভিল হাসপাতালের দুই চিকিৎসকসহ ১০ জন সাক্ষীর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়।

    যদিও শুনানি প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের সামনে দেশে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন সালাহউদ্দিন। ২০১৫ সালের ১০ জুন শিলং’এ গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন ‘আমি দেশে ফিরে যেতে চাই। আমার পরিবার ও সন্তানরা রয়েছে। বাংলাদেশ আমার দেশ কিন্তু ওখানে একাধিক ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে।

  • অং সান সু চির নাগরিকত্ব কেড়ে নিচ্ছে কানাডা

    অং সান সু চির নাগরিকত্ব কেড়ে নিচ্ছে কানাডা

    মিয়ানমারের আরকান রাজ্যে রোহিঙ্গা জাতি গোষ্ঠীর ওপর ধ্বংসযজ্ঞ ও বিতাড়ন ইস্যুতে বিশ্বব্যাপী সমালোচনায় দেশটির নেত্রী অং সান সু চি। একের পর এক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননা হারাচ্ছেন তিনি। এবার তার সম্মানসূচক নাগরিকত্ব বাতিল করার পদক্ষেপ নিচ্ছে কানাডা।

    সু চির নাগরিকত্ব বাতিলের বিষয়ে কানাডার পার্লামেন্টে একটি বিল উত্থাপন করা হচ্ছে। ওই বিলের ওপর আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

    মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের যে ঘটনা ঘটেছে সেটিকে মুসলিমদের ওপর সেনাবাহিনীর বর্বর অভিযানে গণহত্যা আখ্যায়িত করে সর্বসম্মতিক্রমে ভোট দিয়েছেন কানাডার সংসদ সদস্যরা।

    রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর নির্যাতনের যে প্রতিবেদনে দিয়েছে সেটিও বৃহস্পতিবার অনুমোদন দিয়েছে দেশটির হাউস অব কমন্সে।

    নিউইয়র্কে জাতিসংঘের এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রুডো বলেন, পার্লামেন্ট তাকে সম্মানজনক নাগরিকত্ব দিয়েছিল। তাই এ বিষয়ে আমরা অবশ্যই আলোচনা করতে পারি। কিন্তু একটা জিনিস আমি পরিষ্কার করে বলছি যে, মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির কানাডার নাগরিকত্ব আছে কি নেই, সেটি সম্মানসূচক নাকি সম্মানসূচক নয়, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে এটা কোনো পার্থক্য করে না।