Category: আন্তর্জাতিক

  • নাজিব রাজাকের বাড়ি থেকে ৭২ স্যুটকেস নগদ অর্থ জব্দ

    নাজিব রাজাকের বাড়ি থেকে ৭২ স্যুটকেস নগদ অর্থ জব্দ

    মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৭২ স্যুটকেস ভর্তি নগদ অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র জব্দ করেছে পুলিশ। জাতীয় নির্বাচনে পরাজয়ের এক সপ্তাহ পর তার দুর্নীতি এবং অর্থ-পাচার তদন্তের অংশ হিসাবে পুলিশ এ তল্লাশি চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

    দেশটির তদন্ত কর্মকর্তা অমর সিং বলেন, কুয়ালালামপুরের একটি বর্ধিত কনডমিনিয়াম নাজিব রাজাকের সাথে সংযুক্ত কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে এ মূল্যবান জিনিসগুলো জব্দ করা হয়।

    তিনি অারও বলেন, দুর্নীতি এবং অর্থ-পাচার তদন্তের অংশ হিসাবে এ অভিযান চালানো হয়েছে। কেননা, রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে নাজিবের সহযোগীরা ৪.৫ বিলিয়ন ডলার চুরি করেছে বলে মার্কিন তদন্তকারীদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

    পুলিশ নাজিবের অন্যান্য সম্পদেরও অনুসন্ধান করেছে জানিয়ে অমর সিং বলেন, কাউকে কোনো ধরনের হেনস্থা করার ইচ্ছা আমাদের নেই। আমরা শুধু আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।

  • পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ না মানলে গাদ্দাফির মতো পরিণতি হবে কিমের

    পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ না মানলে গাদ্দাফির মতো পরিণতি হবে কিমের

    আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ১২ জুন সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পুরো বিশ্ব যখন এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে ঠিক তখনই কিমকে লক্ষ্য করে আবারও হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন ট্রাম্প।

    বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হলে কিম জং উন অবশ্যই ক্ষমতায় থাকবেন। তবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ না মানলে লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির মতো তার অবস্থা হবে। ট্রাম্প জানান, তিনি এখনও বিশ্বাস করেন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা হবে।

    উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএর খবরে আগামী মাসে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক পরিকল্পনামতো হবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।

    ট্রাম্প বলেন, কিম জং তার দেশেই থাকবেন এবং দেশ পরিচালনা করবেন। তার দেশ অনেক ধনী হবে। আর যদি শর্ত না মানে, তবে মুয়াম্মার গাদ্দাফির মতোই পরিণতি হবে তার। তিনি আরও বলেন, ‘লিবিয়ার দিকে তাকালেই বোঝা যায় যে আমাদের সঙ্গে সমঝোতায় না আসার পরিণতি কত ভয়াবহ হতে পারে।’

  • অভ্যুত্থান চেষ্টাকালে’ গুলিতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স সালমান নিহত

    অভ্যুত্থান চেষ্টাকালে’ গুলিতে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স সালমান নিহত

    সৌদির প্রভাবশালী যুবরাজ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বেশ কিছুদিন ধরে জনসম্মুখে অনুপস্থিত ইরানের বেশ কিছু গণমাধ্যমকে বিস্মিত করেছে। তাদের ধারণা, গত মাসে এক অভ্যুত্থান চেষ্টার সময় তিনি নিহত হন। খবর স্পুটনিক নিউজের।

    ইরানের গণমাধ্যমগুলোর দাবি, গত ২১ এপ্রিল রিয়াদের রাজপ্রাসাদে এক হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় গোলাগুলিতে সৌদি যুবরাজ সালমান নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এ ব্যাপারে আরব রাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্তকর্তার কাছে আসা গোপন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ইরানের কাইহান পত্রিকা দাবি করছে, সৌদির রাজপ্রাসাদে হামলার সময় যুবরাজ সালমানের শরীরে দু’টি বুলেট আঘাত হানে। তিনি হয়তো মারা গেছেন। কারণ ওই ঘটনার পর যুবরাজকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

    এদিকে, প্রেস টিভি বেশ কিছু বিষয়ের উপর নজর দিয়ে জানিয়েছে, ওই ঘটনার পর থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ যুবরাজ সালমানের কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করেনি। এপ্রিলের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও সৌদি সফরে গেলে তখনও যুবরাজ সালমানকে কোনো ছবিতে দেখা যায়নি।

    প্রেস টিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে যুবরাজ সালমানকে প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু রিয়াদে ওই গোলাগুলির পর গত ২৭ দিন ধরে তাকে আর গণমাধ্যম দেখা যাচ্ছে না। ফলে দীর্ঘ সময় যুবরাজ সালমানের এমন অনুপস্থিতি তার বেঁচে থাকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

  • লড়াই করে শহীদ হলেন ফিলিস্তিনি সালাহ

    লড়াই করে শহীদ হলেন ফিলিস্তিনি সালাহ

    ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ও নিহতদের স্বজনের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে গাজা উপত্যকা। তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোমবার হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বিক্ষোভ করেন।

    বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি, টিয়ারগ্যাসে অন্তত ৬০ ফিলিস্তিনি নিহত ও আরো দুই হাজার ৮০০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে গাজার প্রধান হাসপাতাল আল-শিফা। টিয়ারগ্যাসে শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন ৮ মাসের এক শিশুও। এছাড়া আরো অন্তত ৮ শিশু মারা গেছে; যাদের বয়স ১৬ বছরের নিচে।

    ফিলিস্তিনে একদিনে হতাহতের এ সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গাজার চলমান সংঘাতে দুই পা-বিহীন ফাদি হাসান আবু সালাহ নামে এক যুবকের প্রাণহানির ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক নিন্দার ঝড় শুরু হয়েছে।

    jagonews24

    সংবাদ সংস্থা মানের বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি বলছে, জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস চালুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন পা-বিহীন ফিলিস্তিনি যুবক ফাদি হাসান আবু সালাহ। হুইলচেয়ারে করে গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে পাথর নিক্ষেপ করছিলেন তিনি। এসময় গুলিতে প্রাণ যায় সালাহর।

    এর আগে ২০০৮ সালে গাজায় ইসরায়েলি বোমা হামলার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে মারাত্মক আহত হয়েছিলেন ৩০ বছর বয়সী সালাহ। পরে তার শরীর থেকে দুই পা অপসারণ করেন চিকিৎসকরা।

    গত ডিসেম্বরে ২৯ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী যুবক ইব্রাহীম আবু থারায়াকে গুলি করে হত্যা করে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী। গাজা উপত্যকায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হুইল চেয়ারে করে অংশ নিয়েছিলেন ইব্রাহীম।

    jagonews24

    মঙ্গলবার আবু সালাহর শেষকৃত্যে শোকার্ত শত শত ফিলিস্তিনি অংশ নেয়। গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা নিন্দা জানিয়েছেন। এদিকে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মঙ্গলবার গাজা হত্যাকাণ্ডের জেরে জরুরি বৈঠক শুরু হয়েছে।

    জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশষ দূত নিকোলা ম্ল্যাদেনোভ গাজা উপত্যকায় অনিয়ন্ত্রিত সহিংসতা দ্রুত বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

  • শেখ হাসিনাকে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর ফোন

    শেখ হাসিনাকে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর ফোন

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেছেন তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদ্রিম। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়  শেখ হাসিনাকে টেলিফোন করেন তিনি। এ সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ১৫ মিনিট কথা হয়।

    টেলিফোনে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেন, ১৮ মে ফিলিস্তিনের ব্যাপারে ওআইসি একটি বিশেষ সামিট আহ্বান করেছে। এই সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য তিনি শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানান।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি একটি সময়োচিত পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসলিম উম্মাহকে এক হওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

    তিনি ইসরায়েলের শক্তি প্রয়োগকে নিন্দা করে বলেছেন, ‘এটা হচ্ছে মানবাধিকার লঙ্ঘন। জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তিনি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।’ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ তথ্য জানিয়েছেন।

  • বিক্ষোভে উত্তাল গাজায় নিহত বেড়ে ৫৮

    বিক্ষোভে উত্তাল গাজায় নিহত বেড়ে ৫৮

    বিক্ষোভে উত্তাল গাজা উপত্যকায় সোমবার একদিনেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে কমপক্ষে ৫৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ২ হাজার সাতশোর বেশি মানুষ। ইসরায়েল সীমান্তের কাছে বেশ কিছু পয়েন্টে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার গুলি, টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে।

    সোমবার জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস উদ্বোধনের প্রতিবাদে গাজা উপত্যকাসহ পুরো ফিলিস্তিনে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়।

    ১৯৪৮ সালের ১৫ মে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে প্রত্যেক বছর ওই দিনটিকে ফিলিস্তিনিরা ‘বিপর্যয়’ বা ‘নাকাবা’ দিবস হিসেবে পালন করে। ওই বছর হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাদের নিজ ভূখণ্ড থেকে বিতাড়িত হয়।

    gaza-3

    গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোমবার সকাল থেকেই অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার অত্যন্ত সুরক্ষিত সীমানা বেড়া পেড়িয়ে ইসরায়েলে ঢোকার চেষ্টা করেছে বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিতে গাজায় লাখো ফিলিস্তিনি পৌঁছেছেন।

    তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার প্রতিবাদে পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ ও হেবরনেও বিক্ষোভ করছেন ফিলিস্তিনিরা। জেরুজালেম থেকে উত্তরাঞ্চলের রামাল্লাহকে বিভক্তকারী কালানদিয়া সামরিক তল্লাশি চৌকির কাছেও বিক্ষোভ করছেন তারা।

    ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিক্ষোভ করে আসছে। ১৫ মে এই বিক্ষোভ শেষ হওয়ার কথা। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাস্ত্যুচুত হয়। ইসরায়েলি অবৈধ ভূমি দখলকে ফিলিস্তিনিরা বিপর্যয় হিসেবে মনে করে।

    gaza-3

    ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলছেন, তেল আবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুসালেমে সরিয়ে নেওয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের উপর ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইসরায়েল স্বাগত জানালেও এ নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়িয়েছে। ইউরোপসহ সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তেল আবিব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জেরুসালেমে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনিরা এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে আসছে।

    চলতি বছরের ৩০ মার্চ থেকে বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে কমপক্ষে ১০৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও প্রায় ১২ হাজার মানুষ। ২০১৪ সালে গাজায় ইসরায়েলের হামলার পর একদিনে এত বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার ঘটনা আর ঘটেনি।

    একসঙ্গে এতো ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর। গাজায় যা ঘটছে তাকে এক বর্বরোচিত আক্রমণ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনার জেইদ বিন রাদ জেইদ আল হুসেইন বলেছেন, যারা এই জঘন্য মানবাধিকার লংঘনের জন্য দায়ী, তাদের অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহতদের মধ্যে বহু শিশুও রয়েছে।

  • উত্তর কোরিয়া পরমাণু প্রকল্প ত্যাগ করবে না

    উত্তর কোরিয়া পরমাণু প্রকল্প ত্যাগ করবে না

    পরমাণু বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় বহুদূর এগিয়ে গেছে উত্তর কোরিয়া। তাই মুখে বললেও, তারা গোপনে পরমাণু পরীক্ষা চালিয়ে যাবে৷ বিশ্বের বেশ কয়েকজন গবেষক এমনই মনে করেন৷

    পরমাণু পরীক্ষা ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়ে পিয়ংইয়ং৷ এরপর বিরোধ মেটাতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে অনেক বিশ্লেষকই বলছেন আলোচনা যাই হোক না কেন, উত্তর কোরিয়া পরমাণু প্রকল্প ত্যাগ করবে না।

    সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বেইজিং গিয়ে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সংবাদ সংস্থা শিনহুয়া জানায়, কিম-জিনপিং’র  সেই বৈঠক সফল হয়েছে৷ সামনেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া বৈঠক৷ এই বৈঠককে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে৷ গত মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিমের সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্তের কথা জানান৷

    উত্তর কোরিয়া বিরোধী বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘটনা যাই হোক না কেন, উত্তর কোরিয়া কোনোমতেই পরমাণু বোমার প্রযুক্তি উন্নয়ন থামাবে না। এর কারণ হিসেবে কয়েকটি বিষয়কে সামনে এনেছেন তারা।

    প্রথমত উত্তর কোরিয়ার পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় কোনো আগ্রহ নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছে। তা সত্ত্বেও, উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যেই পরমাণু অস্ত্রের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সময় ব্যয় করেছে। ফলে তারা এ থেকে পেছনে সরে আসবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • দুই পা নেই, তবুও এভারেস্টের চূড়ায় শিয়া বোউ!

    দুই পা নেই, তবুও এভারেস্টের চূড়ায় শিয়া বোউ!

    শিয়া বোউ। চীনের নাগরিক। ৪৩ বছর আগে এভারেস্টের চূড়ায় উঠতে গিয়ে প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হয়ে হারাতে হয়েছিল দুটো পা। সেই অসুস্থতার জেরে পায়ে ক্যান্সার হওয়ায় ১৯৯৬ সালে হাঁটুর নীচ থেকে তার দুই পা কেটে ফেলতে হয়।কিন্তু দুই পা হারিয়েও স্বপ্ন পূরণে পিছপা হননি এই ব্যক্তি।

    সোমবার সকালে ৬৯ বছরের এই চীনা ২৯,০২৯ ফুট উচ্চতা অতিক্রম করে এভারেস্টর চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। রেকর্ড গড়েছেন তিনি, কারণ এর আগে দুই পা নেই এমন কেউ নেপালের দিক থেকে এভারেস্টর চূড়ায় উঠতে পারেনি।

    ২০০৬ সালে দুই পা হারানো আরেক পর্বতারোহী – নিউজিল্যান্ডের মার্ক ইঙ্গলিস- এভারেস্টে উঠেছিলেন তিব্বতের দিক থেকে- যেটাকে অপেক্ষাকৃত সহজ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৭৫ সাল থেকে শিয়া বোউ এভারেস্টে ওঠার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। গত বছর নেপালের সরকার যখন দুই-পা কাটা এবং অন্ধদের জন্য এভারেস্টে ওঠা নিষিদ্ধ করে দেয়, চরম হতাশায় পড়ে গিয়েছিলেন তিনি।

    তবে এ বছর মার্চ মাসে নেপালের সুপ্রিম কোর্ট সরকারের ঐ নিষেধাজ্ঞা বেআইনি ঘোষণা করলে, এপ্রিল মাসে তিনি পঞ্চম বারের মত এভারেস্ট অভিযান শুরু করেন।

    অভিযান শুরুর আগে তিনি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছিলেন, এভারেস্টের চূড়ায় ওঠা আমার স্বপ্ন। আমাকে এই স্বপ্ন পূরণ করতেই হবে। ব্যক্তিগতভাবে এটা আমার জন্য এটা চ্যালেঞ্জ, আমার দুর্ভাগ্যের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ। শেষ পর্যন্ত সোমবার সকালে তিনি তার স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হন।

    শিয়া বোউ ১৯৭৫ সালে তার প্রথম অভিযানে এভারেস্টর চূড়ার কাছাকাছি গিয়ে ফ্রস্ট-বাইটে প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এরপর ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে তিনি আবার অভিযানের জন্য নেপালে আসেন, কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ অবহাওয়া এবং দুর্ঘটনার জন্য নেপাল সরকার দুবারই পর্বতারোহণ বন্ধ রেখেছিল।

    ২০১৬ সালেও মাত্র ২০০ মিটার ওঠার পর খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাকে ফিরে আসতে হয়েছিল। এক বছর বাদে আবার তিনি আসেন এবং এভারেস্ট জয় করেন।

  • প্রেমের বিচ্ছেদ চেয়ে ১০ কোটি টাকার বেড়াজালে চীনা যুবক!

    প্রেমের বিচ্ছেদ চেয়ে ১০ কোটি টাকার বেড়াজালে চীনা যুবক!

    প্রেমের সম্পর্কের শুরুটা মধুর হলেও, বিচ্ছেদে থাকে অনেক তিক্ততা। তাই বলে সম্পর্ক বিচ্ছেদ করতে হলে টাকা দিয়ে খেসারত দেওয়ার ঘটনাও দেখা গেল। তাও আবার সামান্য টাকা নয়। প্রেম ভাঙতে গেলে দিতে হবে কড়কড়ে ১০ কোটি টাকা। চীনের এমন একটি ঘটনাই অবাক করে দিয়েছে সকলকে।

    ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে। চীনের হাংঝৌ শহরের একটি পানশালায় রাতের বেলায় একটি সুটকেস পড়ে থাকতে দেখেন কর্মীরা। কিন্তু অনেকক্ষণ পরে সেই সুটকেসের কোনও দাবিদার না থাকায় সন্দেহ হয় পানশালা কর্মীদের মধ্যে। পরে সুটকেসটি খুলতেই হতবাক হয়ে যান তারা।

    সুটকেসের মধ্যে থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়। টাকা উদ্ধারের পরেই খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পরে সুটকেসের সূত্র ধরে পুলিশ সুটকেসের মালিককে ডেকে পাঠায়। সুটকেসের মালিক ২০ বছরের এসেই যুবক পুলিশকে জানান, গার্লফ্রেন্ডের কাছ থেকে তিনি সম্পর্কে বিচ্ছেদ চেয়েছিলেন। কিন্তু সম্পর্কে বিচ্ছেদের জন্য সেই যুবকের কাছে মোটা টাকা চান তার গার্লফ্রেন্ড। সেই টাকা দিতেই ওই পানশালায় টাকাভর্তি সুটকেস নিয়ে যান ওই যুবক।

    কিন্তু সুটকেস তাহলে ওই অবস্থায় পড়েছিল কেন, সেই তদন্তে নেমে ওই যুবকের গার্লফ্রন্ডকে ডেকে পাঠায় পুলিশ। সেই যুবতী তদন্তকারীদের জানান, তিনি সম্পর্ক ভাঙতে ১০ কোটি টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু তার বয়ফ্রেন্ড ‘মাত্র’ ২ কোটি টাকা দেন। সেই রাগেই তিনি সুটকেসটি পানশালায় ফেলে রেখে চলে যান।

    শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী পুলিশ দু’পক্ষকেই সতর্ক করে দিয়েছে। এই অসাবধনতার জন্য তারা টাকা ফেরত নাও পেতেন পারতেন বলে জানায় পুলিশ।

  • গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার গুলি, ৪৩ ফিলিস্তিনি নিহত

    গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার গুলি, ৪৩ ফিলিস্তিনি নিহত

    ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় অন্তত ৪৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৬০০ ফিলিস্তিনি। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাদের সরাসরি গুলিতে আহত হয়েছেন অন্তত ৪৪৮ জন। এছাড়া আরো আহত হয়েছেন প্রায় ১৬০০ জন।এদিকে টাইমস অফ ইসরায়েল গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রতিবাদে ইসরায়েলের সীমান্তে বিক্ষোভ ডেকেছিল ফিলিস্তিনিরা। লাখো মানুষের সেই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের কারণ দেখিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি ও গোলা-বারুদের আগুন ছুড়েছে।

    এর আগে জেরুজালেমে মার্কিন কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে সোমবার ছোট পরিসরে অন্তর্বর্তীকালীন দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই দূতাবাসের কার্যক্রম উদ্বোধন করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্প এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার বর্তমানে জেরুজালেমে রয়েছেন।

    মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর ও ইসরায়েলের দখলদারির বিরুদ্ধে পুরো সীমান্ত এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেছেন ফিলিস্তিনিরা। সীমান্ত বেড়া পেরিয়ে ইসরায়েলের ভেতরে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করছেন তারা।

    ১৯৪৮ সালের ১৫ মে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে প্রত্যেক বছর এই দিনটিকে ফিলিস্তিনিরা ‘বিপর্যয়’ বা ‘নাকাবা’ দিবস হিসেবে পালন করে। ওই বছর হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাদের নিজ ভূখণ্ড থেকে বিতাড়িত হয়।

    একই সঙ্গে ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার বিরুদ্ধেও সোমবার প্রতিবাদ করছেন ফিলিস্তিনিরা। গত ৬ ডিসেম্বরে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

    গ্রেট মার্চ অব রিটার্ন আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোমবার সকাল থেকেই অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার অত্যন্ত সুরক্ষিত সীমানা বেড়া পেড়িয়ে ইসরায়েলে ঢোকার চেষ্টা করেছেন। বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিতে গাজায় লাখো ফিলিস্তিনি পৌঁছেছেন।

    তেলআবিব থেকে মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার প্রতিবাদে পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ ও হেবরনেও বিক্ষোভ করছেন ফিলিস্তিনিরা। জেরুজালেম থেকে উত্তরাঞ্চলের রামাল্লাহকে বিভক্তকারী কালানদিয়া সামরিক তল্লাশি চৌকির কাছেও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন তারা।

    ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিক্ষোভ করে আসছে। ১৫ মে এই বিক্ষোভ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাস্ত্যুচুত হয়। ইসরায়েলি অবৈধ ভূমি দখলকে ফিলিস্তিনিরা বিপর্যয় হিসেবে মনে করে।

    ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিজ ভূখণ্ড ফেরতের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে ইসরায়েল বলছে, তাদের উচিত গাজা এবং পশ্চিম উপত্যকায় ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

    স্থানীয় সাংবাদিক মারাম হুমাইদ কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেন, ‘বিক্ষোভে যতসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছেন তা নজিরবিহীন। গত সাত সপ্তাহের প্রতিবাদে এমন জনসমাবেশ দেখা যায়নি।’

    গাজা উপত্যকার ২০ লাখ মানুষের ৭০ শতাংশ উদ্বাস্তু হয়ে জীবন কাটাচ্ছে। গত ৩০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভে ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫০ ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। এছাড়া আহত হয়েছে আরো অন্তত সাড়ে ৮ হাজার।