Category: আন্তর্জাতিক
-

২০২৪ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘মে ডিক্রি’ স্বাক্ষর পুতিনের
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশটির উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘মে ডিক্রি’ স্বাক্ষর করেছেন। ক্রেমলিন প্রেস-সার্ভিস একথা জানিয়েছে। এর আগে পুতিন ক্রেমলিনে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরবর্তী ছয় বছরের জন্য প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে শপথ গ্রহণ করেন। খবর তাসের।পুতিন দ্বিতীয় ছয় বছর মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এই ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর পুতিন ২০১২ সালের ৭ মে’র একাদশ ডিক্রির ঐতিহ্য অব্যাহত রাখতেই তিনি এটিতে স্বাক্ষর করেন। এতে আসন্ন বছরগুলোতে দেশটির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রধান কাজগুলোর ফিরিস্তি তুলে ধরা হয়েছে।রাশিয়ার জাতীয় লক্ষ্য ও উন্নয়ন কৌশল বিষয়ে দেশটির প্রেসিডেন্টের এ ডিক্রিতে বলা হয়, মস্কো ২০২৪ সাল নাগাদ বিশ্বের পাঁচটি বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের গ্রুপে যোগ দেবে। এতে রাশিয়ার উন্নয়নে বিভিন্ন লক্ষ্য নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। আর এসব লক্ষ্য রুশ সরকার ২০২৪ সাল নাগাদ অর্জন করবে। তাস। -

পুতিনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় একদিনেই আটক ১৬০০
চতুর্থবারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে আজ সোমবার শপথ গ্রহণ করবেন ভ্লাদিমির পুতিন। সবকিছু ঠিক থাকলে ক্ষমতায় থাকবেন আগামী ২০২৪ সাল পর্যন্ত। ২০০০ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রেসিডেন্ট হিসেবে রাশিয়ায় ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে আছেন পুতিন।
গত মার্চে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে পুতিনের বিরুদ্ধে। তিনিই আবার দেশের প্রেসিডেন্ট হবেন এটা এখনো অনেক রুশই মানতে পারছেন না। তার শপথগ্রহণকে সামনে রেখে রাজপথে নেমেছে রুশরা। বিক্ষোভ দমাতে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে প্রশাসন।
গতকাল একদিনেই রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনিসহ প্রায় ১৬০০ মানুষকে আটক করা হয়েছে। পরে অবশ্য অ্যালেক্সেই নাভালনিকে ছেড়ে দেয়া হয়। নাভালনির অভিযোগ, জারের মতো স্বৈরতান্ত্রিকভাবে রাশিয়া শাসন করছেন পুতিন। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার
-

পৃথক অভিযানে ভূমধ্যসাগর থেকে বাংলাদেশিসহ ৫৮১ অভিবাসী উদ্ধার
আফ্রিকার উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়ার সময় ৪৭৬ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে স্পেনের নৌ উদ্ধার সার্ভিস। শুক্রবার ও শনিবার তাদের উদ্ধার করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, রবিবার আরেক অভিযানে লিবিয়ার কাছে জলসীমায় ১০৫ জনের বেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে স্পেনভিত্তিক একটি অলাভজনক সংস্থা প্রোঅ্যাক্টিভা ওপেন আর্মস। মোটরবিহীন ওই নৌকায় বাংলাদেশ, মিশর, লিবিয়া, নাইজেরিয়া ও অন্য দেশের নাগরিক ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
এ ব্যাপারে বার্তা সংস্থা এপির আলোকচিত্রীকে অভিবাসীরা বলেন, মানব পাচারকারী ও তারা পৃথক নৌকায় যাচ্ছিলেন। তবে ভূমধ্যসাগরের মাঝখানে তাদের নৌযানের ইঞ্জিন খুলে নেয় পাচারকারীরা এবং চলে যায়।
এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ৬১৫ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ইউরোপের উপকূলে পৌঁছাতে সক্ষম হয় ২২ হাজার ৪৩৯ জন। যাদের মধ্যে চার হাজার চারশ’ নয়জনই আবার স্পেনে পাড়ি জমায়।
সূত্র: লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস
-

মসজিদেই নামাজ পড়া উচিত, প্রকাশ্য রাস্তায় নয়: লাল খাট্টার
প্রকাশ্য রাস্তায় নয়, মসজিদ কিংবা ইদগাহেই নামাজ আদায় করা উচিত বলে মনে করেন ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টার। রবিবার চন্ডীগড়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি হরিয়ানার গুরগাঁওয়ে প্রকাশ্যে জুমার নামাজ পড়া নিয়ে যে অপ্রীতিকর ঘটনা তৈরি হয়েছিল সে প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলতে চাই যে নামাজ পড়ার একটি নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। মসজিদে বা ঈদগাহে নামাজ আদায় করা উচিত। যদি সেখানে স্থান সংকুলান দেখা দেয় তবে ব্যক্তিগত (বাড়িতে) জায়গায় তা করা উচিত। এটা এমন কোন বিষয় নয় যে, প্রকাশ্য রাস্তার ওপর তা পড়তে হবে’।
গত ২০ এপ্রিল শুক্রবার দিল্লির উপকণ্ঠে গুরগাঁও-এর সেক্টর ৫৩-তে একটি সরকারি জায়গায় প্রকাশ্যে জুমার নামাজ পড়ার সময় প্রায় ৫০০ মুসলিমকে নামাজ পড়তে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বেশ কয়েকটি হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘রাধে রাধে’ বলে স্লোগান দিতে থাকে। তাদের অভিযোগ বেশ কিছু মুসলিম জমি দখলের চেষ্টা করে সেখানে মসজিদ বানানোর চেষ্টা করছে। ওই ঘটনায় পরে ৬ জনকে আটকও করা হয়, যদিও তাদের প্রত্যেককে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ঘটনা নিয়ে ওই এলাকায় তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে তিনি কার্যত স্বীকার করে নেন যে রাজ্য সরকারেরই দায়িত্ব ছিল যে সেখানকার আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। যদিও রাজ্য জুড়েই প্রকাশ্যে নামাজ পড়ার ঘটনা যে দিন দিন বেড়েই চলেছে তাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
খাট্টার বলেন, ‘এটা খুবই ভাল যে, প্রকাশ্য রাস্তায় নামাজ পড়া নিয়ে কোন অভিযোগ আসেনি, কিন্তু কোন দফতর থেকে যদি এব্যাপারে অভিযোগ ওঠে তবে আমাদের সেটা সযত্নে ভেবে দেখতে হবে। তাই আমরা তার দিকে নজর রাখছি। আগেও নামাজ পড়া হতো কিন্তু আজকাল প্রকাশ্য রাস্তায় নামাজ পড়ার ঘটনা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। তাই আমরা এই বিষয়টির দিকে নজর দিচ্ছি…। আমরা বলতে চাই যে একটি নির্দিষ্ট জায়াগাতেই নামাজ পড়া উচিত, প্রকাশ্য রাস্তায় নয়’।
-

ভোররাত পর্যন্ত ১৩৫টি মামলা শুনে বিচারপতির রেকর্ড!
গ্রীষ্মের দীর্ঘ ছুটিতে যাওয়ার আগে, বকেয়া মামলার ভার কমাতে বিচারপতি ভোররাত পর্যন্ত মামলা শুনছেন, এ নজির সাম্প্রতিক অতীতে তো নয়ই, ভারতের বোম্বে হাইকোর্টের ইতিহাসেও নেই।
যে নজির গড়লেন বিচারপতি এসজে কাঠাওয়ালা। গত ৫ মে শনিবার থেকে একমাসের জন্য গ্রীষ্মের ছুটিতে বন্ধ থাকবে বোম্বে হাইকোর্ট। তাই মামলা জমিয়ে না-রেখে, গত এক সপ্তাহ ধরেই মধ্যরাত পর্যন্ত মামলা শুনেছেন বিচারপতি এসজে কাঠাওয়ালা। তবে, শুক্রবার তিনি অতীতের যাবতীয় রেকর্ড ভেঙে দেন। একটানা শনিবার ভোররাত সাড়ে ৩ পর্যন্ত একের পর এক পেন্ডিং মামলার শুনানি হয়েছে হাইকোর্টের ২০ নম্বর রুমে, বিচারপতি এসজে কাঠাওয়ালার এজলাসে।
আদালত সূত্রে খবর, শুক্রবার সকাল থেকে পরদিন ভোররাত পর্যন্ত সর্বমোট ১৩৫টি মামলার শুনানি হয়েছে তার এজলাসে। এর মধ্যে ৭০টি মামলাই ছিল অত্যন্ত জরুরি।
বিচারপতির এই ধৈর্য দেখে অভিভূত প্রবীণ এক আইনজীবী। একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে ওই আইনজীবী বলেন, আমার মামলা শেষের দিকে ছিল। বিচারপতি দু-পক্ষের বক্তব্য ধৈর্য ধরে শুনছেন, রায় দিচ্ছেন— ভাবা যায় না!
আদালত সূত্রে খবর, বিচারপতি হিসেবে তিনি অন্যদের থেকে একটু আলাদাই। অন্য বিচারপতিদের এজলাস শুরু হয় সকাল ১১ টায়। কিন্তু, নিয়মিত তার এজলাস বসে সকাল ১০ টায়। থাকেন অন্যদের মতোই বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এই সময়।
-

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা; নির্দোষ দাবি বাংলাদেশি নাইমুরের
লন্ডনের একটি আদালতে শুক্রবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেকে হত্যার পরিকল্পনা করার দায়ে অভিযুক্ত ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নাইমুর জাকারিয়া রহমান।
ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে লন্ডনের ওল্ড বেইলি সেন্ট্রাল ক্রিমিনাল কোর্টে হাজির হয়ে নাইমুর নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

নাইমুর রহমান (বামে) ও মোহাম্মদ ইমরান
গত নভেম্বরে নাইমুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। মোহাম্মদ ইমরান নামে এক ব্রিটিশ নাগরিককে সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ যোগ দেয়ার বিষয়ে সাহায্য করেছেন বলেও নাইমুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
-

বাংলাদেশকে নিয়ে চীন-ভারত দ্বন্দ্ব: নেপথ্যে কী?
এশিয়ার সবচেয়ে বড় দুই শক্তি চীন এবং ভারত সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছে, বাংলাদেশের গত ৪৭ বছরের ইতিহাসে তার নজির সম্ভবত নেই। এই দ্বন্দ্ব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এত তীব্র রূপ নিয়েছে যে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির গতি-প্রকৃতি নিয়ে যারা গবেষণা করেন, এ বিষয়ে তাদের মধ্যেও ক্রমবর্ধমান আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক দুটি প্রতিষ্ঠান এ এনিয়ে দুটি লেখা প্রকাশ করেছে।অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইস্ট এশিয়া ফোরাম’ এর প্রকাশিত নিবন্ধটির শিরোনাম, ‘চায়না অ্যান্ড ইন্ডিয়া’স জিওপলিটিক্যাল টাগ অব ওয়ার ফর বাংলাদেশ’। অর্থাৎ বাংলাদেশ নিয়ে চীন এবং ভারতের ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বযুদ্ধ’।আর নিউইয়র্ক ভিত্তিক ‘ওয়ার্ল্ড পলিসি রিভিউ’ ঠিক এ বিষয়েই ‘উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলারস’ এর একজন গবেষকের অভিমত ছেপেছে। তাদের লেখাটির শিরোনাম, হোয়াই ইন্ডিয়া অ্যান্ড চায়না আর কম্পিটিং ফর বেটার টাইস উইথ বাংলাদেশ। অর্থাৎ বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়তে কেন ভারত আর চীনের মধ্যে এত প্রতিদ্বন্দ্বিতা।দুটি লেখাতেই বাংলাদেশের সঙ্গে চীন এবং ভারতের সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্য, নিরাপত্তা সহযোগিতা, বাংলাদেশের রাজনীতি ও নির্বাচন এবং দেশটির ওপর প্রভাব বিস্তারের জন্য এই দুই বৃহৎ শক্তির দ্বন্দ্বের বিষয়ে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণ রয়েছে।কার অবস্থান কোথায়ভারত এবং চীন, দুটি দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের রয়েছে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক এবং সামরিক সহযোগিতার সম্পর্ক। তবে এর মধ্যে ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কারণে ভারতের সঙ্গেই বাংলাদেশের সম্পর্কটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ইস্ট এশিয়া ফোরামে প্রকাশিত লেখায় ফরেস্ট কুকসন এবং টম ফেলিক্স জোয়েনক বলছেন, বাংলাদেশের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় দুটি দেশই মূলত বাণিজ্যকেই ব্যবহার করতে চাইছে। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দুটি দেশই সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। দুটি দেশেরই বিপুল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত আছে বাংলাদেশের সঙ্গে। দুই দেশের বাণিজ্যের একটি তুলনামূলক চিত্র তারা তুলে ধরেছেন তাদের লেখায়।অবকাঠামো খাতে প্রতিযোগিতাদুটি দেশই বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে ব্যাপক সাহায্যের প্রস্তাব দিচ্ছে। বাংলাদেশে বড় আকারে রেল প্রকল্পে আগ্রহী দুটি দেশই। গভীর সমুদ্র বন্দর স্থাপনেও ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে উভয় দেশের। কিন্তু এসব প্রকল্প খুব বেশি এগোচ্ছে না। ফরেস্ট কুকসন এবং টম ফেলিক্স জোয়েনক বলছেন, অবকাঠামো খাতে চীন-ভারতের এই প্রতিযোগিতা থেকে বাংলাদেশ খুব একটা লাভবান হয়নি।অন্যদিকে বাংলাদেশের ম্যানুফাকচারিং এবং জ্বালানি খাতে চীন বা ভারত, কেউই বড় কোন বিনিয়োগে যায়নি। যদিও তারা এধরণের বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। চীন বহু বছর ধরেই বাংলাদেশের সামরিক খাতে বড় সরবরাহকারী। ভারত এক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল, এখন তারা দ্রুত চীনকে ধরতে চাইছে। কিন্তু ভারতের সামরিক সরঞ্জামের মান নিয়ে প্রশ্ন আছে বাংলাদেশের।চীনের তুলনায় ভারত যেদিকে এগিয়ে আছে, তা হলো বাংলাদেশের ওপর তাদের সাংস্কৃতিক প্রভাব। ফরেস্ট কুকসন এবং টম ফেলিক্স জোয়েনক বলছেন, এই প্রভাব খুবই ব্যাপক। দু্ই দেশের রয়েছে অভিন্ন ভাষা (বাংলা) এবং সংস্কৃতি, এবং এর একটি বড় কেন্দ্র এখনো কলকাতা। বাংলাদেশের অন্তত এক লাখ ছাত্র-ছাত্রী ভারতের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। এর বিপরীতে চীনের সাংস্কৃতিক প্রভাব নগণ্য। ঢাকায় চীন একটি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে। সেখানে চীনা ভাষা শেখানো হয়।আভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রশ্নে অবস্থানফরেস্ট কুকসন এবং টম ফেলিক্স জোয়েনক বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপিকে বর্ণনা করছেন একটি ‘ইসলামপন্থী এবং পাকিস্তানপন্থী’ দল হিসেবে। তাদের মতে, ২০০১ সাল হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দলটি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন যা ঘটেছিল, সেটা ভারতের মনে আছে এবং তাদের বাংলাদেশ বিষয়ক নীতি এবং ভাবনার গঠন সেটার ভিত্তিতেই। শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউই বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসলে সেটা ভারতকে বিচলিত করবে।তাঁরা আরও বলছেন, এ বিষয়ে দিল্লির কৌশল একেবারেই স্বল্পমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা তাড়িত। তাদের কৌশলটা হচ্ছে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখা, সেই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান চীনা প্রভাব ঠেকিয়ে দেয়া।অন্যদিকে বাংলাদেশে চীন খেলছে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য সামনে রেখে। তারা এক দিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে। অন্যদিকে, ’ভারত বিরোধী এবং সেনাপন্থী’ বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে তারা একটা ভারসাম্য রাখছে।কুকসন এবং ফেলিক্স জোয়েনক বলেছেন, বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে এই ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশ কোন নিষ্ক্রিয় ‘ভিক্টিম’ নয়, বরং নিজের কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ এটি আরও উস্কে দিচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকটও বাংলাদেশকে বুঝিয়ে দিয়েছে চীন এবং ভারত আসলে কেবল ‘সুদিনের বন্ধু’। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে যে কোন পদক্ষেপ চীন আটকে দিচ্ছে। এটাকে বাংলাদেশ বন্ধুত্বসুলভ কোন কাজ বলে মনে করে না।অন্যদিকে ভারতের অবস্থাও ভালো নয়। তারাও এই ইস্যুতে মিয়ানমারকে মদত দিয়ে যাচ্ছে। তারা মনে করেন, শেষ পর্যন্ত এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে দুই দেশের বাণিজ্য নীতি। দুটি দেশের কোনটিই বাংলাদেশকে রফতানির ক্ষেত্রে কোন ছাড় এখনো পর্যন্ত দিচ্ছে না। দুটি দেশই বাংলাদেশে রফতানির ক্ষেত্রে ব্যাপক ‘আন্ডার ইনভয়েসিং’ এর সুযোগ দিচ্ছে, যেটি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়ম-নীতির লঙ্ঘন। যত অর্থ তারা বাংলাদেশকে ঋণ দেয়, তার চেয়ে আরও অনেক বেশি অর্থ তারা নিয়ে নেয় এভাবে। কিন্তু এক্ষেত্রে চীন আছে সুবিধেজনক অবস্থানে।-বিবিসি বাংলা। -

বিশ্বের অন্যতম কঠোর নিরাপত্তার চাদরে কিম
বহুল আলোচিত সফরে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশ করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। তার এই সফরকে ঘিরে এরই মধ্যে কিমের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া কর্তৃপক্ষও নজিরবিহীনভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করে তুলেছে।
এদিন প্রথমেই দেখা যায়, সুন্দর পরিচ্ছন্ন পোশাক, নীল ও সাদা ডোরা দাগের টাই পরা লোকজন কিমকে ঘিরে রেখেছেন। তিনি যখন সামরিক সীমারেখা পার হয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশ করেন তখন তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক কঠোর। এছাড়া, কিম যখন দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্ত অতিক্রম করেন তখন তার চারপাশ ঘিরে ছিল সতর্ক সেনাদের বিশাল ব্যূহ। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুনের সঙ্গে কিমের মিলিত হওয়ার সময় তাদের কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখতে দেখা যায়।
পরে দুই নেতা সকালের বৈঠক শেষ করলে স্ফীত পকেটের লেপাল ব্যাজ পরা একডজন লোক তাদের লাঞ্চের আগে কার্যক্রম শুরু করেন। কিমের অফিসিয়াল গাড়ির আশপাশে তারা জগিং করে এক ধরনের মানব ঢাল তৈরি রাখেন।
এদিকে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে কঠোর অবস্থানে আছে দক্ষিণ কোরিয়াও। কিম যেখানে উপস্থিত থাকবেন, সেখানে কোনো বিদেশি অংশগ্রহণ করতে চাইলে তাকে কয়েক ঘণ্টার নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সব ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস ও ফোন অবশ্যই সমর্পণ করে দিতে হবে।
এ ব্যাপারে উত্তর কোরিয়ার সাবেক নেতা কিম জন ইলের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কাজ করা রি ইয়ং গুক বলেন, বিদেশ ভ্রমণ, সামরিক ইউনিট ও খামার পরিদর্শনের সময় উত্তর কোরিয়ার নেতাকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, এটিকে পৃথিবীর অন্যতম এক কঠোর নিরাপত্তার চাদর বলা যায়। যার ভেতর দিয়ে একটি পিঁপড়াও প্রবেশ করতে পারে না।
বহুল কাঙ্ক্ষিত ও ঐতিহাসিক দুই কোরিয়ার এই বৈঠক শুরু হয় শুক্রবার সকালে। এতে নেতৃত্ব দেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন। দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী বেসামরিকীকৃত এলাকা পানজুনজাম গ্রামের পিস হাউসে বৈঠকটি শুরু হয়।
-

নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হতে বাংলাদেশের সহযোগিতা চায় ভিয়েতনাম
আগামী ২০২০-২০২১ মেয়াদে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) সদস্য পদে প্রার্থীতার পক্ষে বাংলাদেশের সমর্থন প্রত্যাশা করেছে ভিয়েতনাম।
আজ শুক্রবার ভিয়েতনামের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যাং থাই নাগক থিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার হোটেল কক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। খবর-বাসস’র।
বৈঠকের পরে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যান থাই নগক থিন- দু’জনেই ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন’ সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন।
ভিয়েতনামের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮তে ভূষিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং তার নেতৃত্বে নারী মুক্তি এবং নারীর ক্ষমতায়ন এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন।
ড্যান থাই নগক থিন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তার দেশের কর্মকাণ্ড এবং ব্যবসা-বাণিজ্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।
এ সময় তিনি ঢাকা এবং নমপেনের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনেও আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাজ্জাদুল হাসান, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার মো. সুফিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
-

বহুল আলোচিত দুই কোরিয়ার শীর্ষ বৈঠক শুরু
সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুরু হয়েছে দুই কোরিয়ার শীর্ষ নেতাদের মধ্যকার বহুল আলোচিত বৈঠক। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বৈঠকে অংশ নিতে শুক্রবার সকালে দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তবর্তী পানমুনজম গ্রামে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।
প্রসঙ্গত, এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দুই কোরিয়ার শীর্ষ নেতারা এই প্রথম বৈঠকে বসলেন।
দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী বেসামরিক অঞ্চল পানমুনজমে দুই নেতাকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করতে দেখা গেছে। এসময় দুই নেতা কোরিয়ার সীমান্ত হেঁটে অতিক্রম করার পর কিম জং বলেন, শান্তি ও সমৃদ্ধির একটি নতুন ইতিহাস এটি।
শীর্ষ বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে তার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পাশাপাশি রয়েছেন তার বোন কিম ইয়ো জং ও ৯০ বছর বয়সি হেড অব স্টেট কিম ইয়ং না।
এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশের আগে কিম জং উন দক্ষিণের প্রেসিডেন্ট মুনকে উত্তর কোরিয়ায় প্রবেশ করার আহ্বান জানান। মুন সে আহ্বান রক্ষা করে সীমান্ত অতিক্রম করে কিম জং উনকে সঙ্গে করে আবার দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশ করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালে দুই কোরিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দু’দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক করার স্থান হিসেবে দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী পানমুনজম গ্রামটিকে নির্ধারণ করা হয়। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার সীমানার মধ্যে পড়েছে।
সূত্র: বিবিসি