Category: আন্তর্জাতিক

  • বাংলাদেশ ভবন’ দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক: মোদি

    বাংলাদেশ ভবন’ দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক: মোদি

    বিশ্বভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত বাংলাদেশ ভবন দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি একথা বলেন।

    অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি উপস্থিত ছিলেন।

  • দুই প্রতিবেশী দেশ একসাথে চলতে চাই: শেখ হাসিনা

    দুই প্রতিবেশী দেশ একসাথে চলতে চাই: শেখ হাসিনা

    মুক্তিযুদ্ধ ও ছিটমহল বিনিময়সহ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সৌহর্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা দুই প্রতিবেশী দেশ সব সময় একসাথে চাই।

    ভারত সফরে শান্তিনিকতেনের বিশ্বভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি একথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

    মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান কোনো দিন ভুলে যাওয়ার নয়। এ সময় মুক্তিযুদ্ধকালীন ভারতে এক কোটি বাংলাদেশি শরণার্থীকে আশ্রয় ও মুক্তিযুদ্ধাদের ট্রেনিং দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, কবি গুরুর হাতে গড়া এই শান্তিনিকেতন। তিনি শুধু ভারতের কবি নন, তিনি আমাদেরও (বাংলাদেশ) কবি। তার (রবীন্দ্রনাথ) অধিকাংশ কবিতা বাংলাদেশে বসে লেখা। তাই কবি গুরুর ওপর বাংলাদেশের অধিকারও বেশি বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

    ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সোহার্দ্য ও আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে ছিটমহল বিনিময়- বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

  • মার্কিন আদালত: টুইটারে অনুসারীদের ব্লক করতে পারবেন না ট্রাম্প

    মার্কিন আদালত: টুইটারে অনুসারীদের ব্লক করতে পারবেন না ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টুইটারে নিজস্ব অনুসারীদের ব্লক করার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে দেশটির এক আদালত।  সম্প্রতি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তার ব্যক্তিগত টুইটার একাউন্ট থেকে সাতজন অনুসারীকে ব্লক দেয়ায় মামলা দায়ের করে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউট। বুধবার ওই মামলায়, ট্রাম্প তার অনুসারীদের ব্লক করা বাক স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘনের সামিল বলে রায় দিয়েছে নিউ ইয়র্কের এক আদালত। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
    জেলা জজ নাওমি রেইস বুচওয়াল্ডকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়, সকল মার্কিন নাগরিকের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টুইটার একাউন্ট-@রিয়েলডোনাল্ডট্রাম্প- একটি স্বীকৃত সরকারি ফোরাম হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্তমানে একাউন্টটির অনুসারীর সংখ্যা হচ্ছে ২০ কোটি ২২ লাখ। ট্রাম্প তার একাউন্টটি বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘোষণা দেয়ার জন্য ব্যবহার করে থাকেন।
    বুচওয়াল্ড বলেন, প্রেসিডেন্ট ‘রিয়েল ট্রম্প’ নামে যে অ্যাকাউন্ট চালান সেটি আসল কোনো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট নয়, এটি আসলে সরকারি অ্যাকাউন্ট। একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবেই তিনি এটা চালাচ্ছেন, তাই কাউকে ব্লক করার এখতিয়ার ট্রাম্পের নেই।
    প্রসঙ্গত, একজন টুইটার ব্যবহারকারী যখন অন্য একজন ব্যবহারকারীকে ব্লক করেন তখন ব্লক করা ব্যবহারকারী ব্লক-কারী ব্যবহারকারীর টুইটে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন না।
  • মন্ত্রীদের বেতন ১০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা মাহাথিরের

    মন্ত্রীদের বেতন ১০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা মাহাথিরের

    মন্ত্রীদের বেতন ১০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দিলেন আধুনিক মালেশিয়ার জনক হিসেবে পরিচিত দেশটির সদ্য নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। পুত্রজায়ায় তার মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠকের পর বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, আমরা দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার দিকে মনযোগ দিচ্ছি। সরকারি ঋণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে নতুন সরকার এ ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান ঋণের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত (২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ছাড়িয়ে গেছে। এই অর্থ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬৫ শতাংশ।

    মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, দেশটিতে বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর বেতন ২২ হাজার ৮২৭ রিঙ্গিত, উপ-প্রধানমন্ত্রীর ১৮ হাজার ১৬৮ রিঙ্গিত, মন্ত্রীর ১৫৯০৭ রিঙ্গিত ও উপ-মন্ত্রীর ১০৮৪৮ রিঙ্গিত।

    তবে দেশটির উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন কাট-ছাঁট করা হবে কিনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, ১৯৮১ সালে আমি যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তখন প্রথম কাজ হিসেবে মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ আমলাদের বেতন কাট-ছাঁট করেছিলাম।

    তিনি বলেন, মন্ত্রীদের চেয়ে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা বেতন বেশি পান। দেশ পরিচালনার জন্য তারা যদি অবদান রাখতে চান তাহলে বেতন কাট-ছাঁটের ব্যাপারটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। তারা এটি করতে পারে। কিন্তু আমরা তাদের বাধ্য করবো না।

    এদিকে, বারিশান ন্যাসিওনাল জোট নেতৃত্বাধীন দেশটির সদ্যবিদায়ী প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো ঘোষণা দিয়েছিলেন। মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, তার সরকার এ ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিচ্ছে।

    তিনি বলেন, এটা এখন বিরোধীদলের অঙ্গীকার। তারা নির্বাচনে জয়ী হতে পারে নাই। আমরা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বাধ্য নই।

  • বাপ-ছেলে মিলে পালাক্রমে যৌন নির্যাতন: অতঃপর…

    বাপ-ছেলে মিলে পালাক্রমে যৌন নির্যাতন: অতঃপর…

    বাবার পর ছেলে। ছেলের পর ফের বাবা। পালাক্রমে নির্যাতন। নিষ্ঠুর পাশবিকতা! একই বাড়িতে বাপ-ছেলে মিলে যৌন নির্যাতন। অতঃপর ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা। এখন জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে হাসপাতালের বেডে শুয়ে দিন পার করছেন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশের নারী শ্রমিক তানিয়া।

    জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল সৌদি আরব যান তানিয়া। অভাবের সংসারে আলো জ্বালাতে দেশ ছেড়ে প্রবাসে গেলেও সে আলো আর জ্বালানো হয়নি। এখন প্রায় নিভু নিভু জীবন প্রদীপও।

    সূত্র জানায়, এক আদম ব্যবসায়ীর মাধ্যমে সৌদি আরবে যান তানিয়া। রিয়াদে গিয়ে এক স্কুল অধ্যক্ষের দুই শিশু সন্তানকে দেখভাল করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সে চাকরি আর ভাগ্যে জোটেনি। তাকে রাখা হয় এক নির্জন বাড়িতে। সেখানেই নেমে আসে জীবনের অন্ধকার অধ্যায়।

    যে বাড়িতে তানিয়াকে গৃহপরিচারিকা হিসেবে রাখা হয় সে বাড়িতে অন্য কোনো নারী ছিলেন না। বাবা আর তিন ছেলের ওই বাড়িতে তানিয়া একাই নারী। যাওয়ার পর থেকেই নির্যাতনের খড়ক নেমে আসে তানিয়ার ওপর। প্রবাস জীবন। ভিনদেশি ভাষা। আপনজনকে না পাওয়া। এমনকি নালিশের জায়গাও না মেলা। এক বর্বর অন্ধকার যুগের অভিজ্ঞতা যেন। বাপ এবং ছেলেরা মিলে পালাক্রমে নির্যাতন। আট দিনের অসভ্য অভিজ্ঞতায় মুক্তির কোনো নিশানা ছিল না এই অসহায় নারীর।

    বাপ-ছেলেদের টানা-হেচড়ার সময় একদিন আত্মরক্ষার্থে বাসার ছাদ থেকে লাফ দেন তানিয়া। মুক্তির ঠিকানা পেতে লাফ দিলেও ঠিকানা হয় হাসপাতালে। মারাত্মক আহত অবস্থায় দারোয়ানের সহায়তায় ভর্তি করা হয় কিং খালেদ হসপিটালে।

    ওই হাসপাতালের বাংলাদেশি নার্সের মোবাইল ফোন থেকে স্বামী রাসেলকে ফোনে সব ঘটনা খুলে বলেন তানিয়া। এরপর রাসেল আদম ব্যবসায়ী ইকবালের সূত্র ধরে ঘটনার নায়ক ও মূল আদম ব্যবসায়ী এম এইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশাল (রিক্রুটিং লাইসেন্স নং-আরএল১১৬৬) এর মালিক মকবুল হোসেনকে খুঁজে বের করেন। তানিয়ার সাথে মকবুল হোসেন ও ইকবালের লোকেরাও কথা বলেন।

    কিন্তু ভরসা মেলেনি এখনও। ঘটনার পর থেকেই স্বামী রাসেল সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সির দুয়ারে ধর্না দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বিভিন্ন দফতরেও ঘুরছেন স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে। তানিয়ার স্বামী রাসেল বলেন, ‘বিচার পরে, আগে আমার স্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।’

  • সৌদিতে অভ্যুত্থানের ডাক : ক্ষমতা নিতে চাচাত ভাইকে যুবরাজের অনুরোধ

    সৌদিতে অভ্যুত্থানের ডাক : ক্ষমতা নিতে চাচাত ভাইকে যুবরাজের অনুরোধ

    সৌদি বাদশাহ সালমানকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে দুই চাচাত ভাইয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির নির্বাসিত এক যুবরাজ। ওই যুবরাজ বলেছেন, তিনি অভ্যুত্থানের ডাক দেয়ার পর এর সমর্থনে দেশটির পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অনেক সদস্যের কাছ থেকে ই-মেইলে সাড়া পেয়েছেন।

    প্রিন্স খালেদ বিন ফারহান অপর দুই যুবরাজ আহমেদ বিন আব্দুলআজিজ ও মুকরিন বিন আব্দুলআজিজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সৌদি রাজপরিবার ও দেশের যে ক্ষয়-ক্ষতি বাদশাহ সালমানের নিয়ন্ত্রণহীন, নির্বোধ ও খামখেয়ালিপনা শাসনের মাধ্যমে হয়েছে তা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

    মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে দেয়া এক স্বাক্ষাৎকারে প্রিন্স খালেদ এসব মন্তব্য করেন। সৌদি আরবের এই যুবরাজ ২০১৩ সাল থেকে জার্মানিতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যদি যুবরাজ আহমেদ এবং মুকরিন ঐক্যবদ্ধ হয় তাহলে রাজপরিবার, নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর ৯৯ শতাংশ সদস্য তাদের পাশে দাঁড়াবে।’

    যুবরাজ খালেদ সৌদি রাজপরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এক সদস্য। ক্ষমতার উত্তরাধিকারী নির্ধারণের ব্যাপারে রিয়াদ অত্যন্ত সংবেদনশীল। রাজপরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও উত্তরাধিকারের লড়াইয়ে অংশ নিতে পারেন এবং খালেদে সেই চেষ্টা করছেন।

    সৌদি এই যুবরাজ বলেছেন, বাদশাহ সালমানের জীবিত বড় ভাই মাহমুদ বিন আব্দুলআজিজ সম্প্রতি এক বিবৃতিতে পুরো রাজপরিবারে বড় ধরনের অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করেন।

    খালেদ বলেন, ‘রাজপরিবারের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে। আমি এই তথ্য পাওয়ার পর বাদশাহ সালমানের উচ্চশিক্ষিত দুই ছেলে আমার চাচাত ভাই আহমেদ এবং মুকরিন; যারা ভালো বুদ্ধিমান এবং আরও ভালো পরিবর্তন আনতে সক্ষম তাদের অনুরোধ জানিয়েছি। আমি বলেছি, আমরা সবাই তাদের সঙ্গে আছি এবং তাদের প্রতি আমাদের সমর্থন রয়েছে।’

    সৌদি যুবরাজ আহমেদ আব্দুলআজিজ দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার প্রতি নিরাপত্তাবাহিনী ও উপজাতিদের গুরুত্বপূর্ণ অংশের সমর্থন এখনো রয়েছে। এছাড়া যুবরাজ মুকরিন ২০১৫ সালের এপ্রিলে মোহাম্মদ বিন নায়েফের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ক্রাউন প্রিন্স নিয়োগ পেয়েছিলেন। পরে ২০১৭ সালের জুনে তাকে সরিয়ে মোহাম্মদ বিন সালমানকে ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। সৌদি এই যুবরাজ বিদেশি গণমাধ্যমে সংক্ষেপে ‘এমবিএস’ নামে পরিচিত।

    প্রিন্স খালেদ বলেছেন, ‘তিনি অভ্যুত্থানের ডাক দেয়ার পর এর সমর্থনে সেনাবাহিনী ও পুলিশের অনেক সদস্যের কাছে থেকে ই-মেইল পেয়েছেন। আমি তাদের এসব মেইলে বুঝতে পেরেছি যে, সৌদি আরবের বর্তমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য তারা দাবি জানানোর পরিবর্তে প্রিন্স আহমেদ বিন আব্দুলআজিজের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

    রাজপ্রাসাদে গোলাগুলির রহস্য

    গত এপ্রিলে রাজধানী রিয়াদের রাজপ্রাসাদে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনার পর বাদশাহবিরোধী অভ্যুত্থানের যে ডাক উঠেছে তা নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। ওই সময় রাজপ্রাসাদের সামনে বিনা অনুমতিতে উড়তে থাকা একটি ‘খেলনা ড্রোনে’ গুলি চালিয়ে ভূপাতিত করা হয় বলে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়া হয়।

    কিন্তু সৌদি আরবের মুজতাহিদ ছদ্মনামের এক ব্লগার বলেছেন, ‘দুটি এসইউভি গাড়িতে করে ভারী অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে রাজপ্রাসাদে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ভারী গোলাগুলিতে ছয় নিরাপত্তাকর্মী ও দুই হামলাকারী নিহত হয়েছেন।

    রাজপ্রাসাদে গোলাগুলির এ ঘটনার পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে দীর্ঘদিন ধরে দেখা যায়নি। রাশিয়া ও ইরানের বেশ কিছু গণমাধ্যমে বলা হয়, অভ্যুত্থান চেষ্টার সময় গুলিতে মারা গেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে মৃত্যুর গুঞ্জন উড়িয়ে দিতে সম্প্রতি যুবরাজের কার্যালয় থেকে আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের তার একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। তবে এই ছবি কত তারিখে কোন সময় তোলা হয়েছে সে ব্যাপারে কোনো তথ্য দেয়নি যুবরাজের কার্যালয়।

    প্রিন্স খালেদ বলেছেন, ‘মূল ঘটনাকে আড়াল করতে ড্রোনের গল্প সাজানো হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, মোহাম্মদ বিন সালমানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এটি প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা নয় বরং তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মাত্র।’

    তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘এমবিএস’ যদি ক্ষমতায় থাকেন, তাহলে অভ্যুত্থান এড়ানো যাবে না। ‘আমি ইউরোপীয়দের বলতে চাই, সৌদি আরবের পরিস্থিতি আগ্নেয়গিরির রূপ ধারণ করেছে; যা বিস্ফোরণের মুখে রয়েছে। যদি এটি ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে শুধু সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ অথবা আরব অঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলবে না; ইউরোপের ওপরও প্রভাব ফেলবে।’

    খালেদ বলেন, সৌদি আরবে বিভিন্ন প্রজন্ম, উপজাতি, অঞ্চল ও ওয়াহাবীসহ বিভিন্ন মতাদর্শের সংমিশ্রণ রয়েছে। রাজপরিবারের বাইরে যদি অভ্যুত্থান শুরু হয়, তাহলে সৌদি কর্তৃপক্ষ ইসলামের কঠোর ওয়াহাবী ব্যাখ্যা অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করবে; যা সহজেই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রে পরিণত হবে।

    তিনি আরো বলেন, ‘সৌদি আরবে সন্ত্রাসী সেল ঘুমন্ত অবস্থায় অাছে এবং ওয়াহাবী মতাদর্শ একটি মৌলবাদী মতাদর্শ। এরা হচ্ছে সেই ইসলামপন্থী, যারা সবচেয়ে বেশি ভয়ের কারণ ইউরোপীয় এবং মার্কিনিদের জন্য। সুতরাং সৌদি আরবে যদি গোলমাল শুরু হয়ে যায়, তাহলে বিশ্বজুড়ে গোলমাল শুরু হবে এবং সৌদি আরব এ ধরনের সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করায় পুরো বিশ্বের সন্ত্রাসবাদের উৎস হবে দেশটি।’

    অপমানিত রাজপরিবারের সদস্যরা

    সৌদি আরবের দুর্নীতিবিরোধী ধরপাকড়ের সময় ব্যাপক নিপীড়নের ব্যাপারে কথা বলেছেন খালেদ। রাজপরিবারের অনেক সদস্যকে গ্রেফতারের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছেন যুবরাজ এমবিএস।

    খালেদ বলেন, সাবেক বন্দিরা এখনো মুক্ত নয়। তাদের পায়ে মনিটরিং ডিভাইস বসানো হয়েছে। মোবাইল ফোন মনিটরিং করা হচ্ছে। এমনকি রাজ্যের বাইরে যেতে দেয়া হচ্ছে না তাদের। তারা অপমানজনক পরিস্থিতিতে বসবাস করছেন।

    দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রিন্স খালেদ বলেন, ‘প্রতিনিধি নির্বাচনের একক ক্ষমতা বাদশাহর, এতে কারো কোনো ক্ষমতা নেই। তবে নতুন কোনো বাদশাহ এলে সব পরিস্থিতির পরিবর্তন আসবে।’

    বাদশাহ সালমানের প্রতি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রিন্স খালেদ। তার মিসরীয় মাকে তালাক দিতে বাদশাহ সালমান খালেদের বাবাকে বাধ্য করেছিলেন বলে জানান তিনি। বাদশাহকে বর্ণবাদী হিসেবে উল্লেখ করে সৌদি এই যুবরাজ বলেন, তার বোনের কুয়েতি স্বামীকেও তালাক দিতে বাধ্য করেছিলেন বাদশাহ।

    যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্প্রতি বলেন, আগামী ৫০ বছর দেশ শাসন থেকে তাকে বিরত রাখতে পারে একমাত্র মৃত্যু। প্রিন্স খালেদ বলেন, আমি তাকে একটি প্রশ্ন করতে চাই। সে কী সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে চুক্তি করে নিয়েছে যে, ৫০ বছর বেঁচে থাকবে। এটার নিশ্চয়তা সে কীভাবে দিতে পারে?

  • বাবাকে বলো আমার সঙ্গে যেন এ রকম না করে

    বাবাকে বলো আমার সঙ্গে যেন এ রকম না করে

    পৃথিবীতে মেয়েদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় বাবা-মা। একমাত্র বাবা-রাই তার মেয়ে সন্তানদেরকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে আগলে রাখতে পারেন। কিন্তু সম্প্রতি এমন একটি ঘটনা ঘটেছে যা সত্যিই খুবই দুঃখজনক ও ন্যাক্কারজনক। মাঝে মাঝেই এত বাজে ঘটনা মেয়েদের সাথে ঘটে যায় যা ব্যাখ্যাতীত।

    ব্যাখ্যাতীত মনে হবার কারণ হলো- পৃথিবীতে যে বুকটি সবচেয়ে নির্ভরতার হবার কথা ছিলো মেয়েটার জন্য, সেটাও আজ এক শ্রেণির পিশাচের জন্য কলঙ্কিত। বয়স মাত্র ১৩ বছর। আর এই বয়সেই সৎ বাবার যৌন লালসার শিকার হতে হল ছোট্ট মেয়েটিকে। ভারতের হায়দরাবাদে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

    জানা গেছে, ৮ বছর আগে এক বিধবা নারীকে বিয়ে করে ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি। এদিকে, সেই নারীর আগের ঘরে দুইটি মেয়ে সন্তান ছিল। সেই নারীর আগের ঘরের দুটি সন্তানকে দত্তক নেয় অভিযুক্ত বাবা নাম ওই পিশাচ। প্রথম দিকে সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু এ বছরের এপ্রিল মাস থেকে এই দৃশ্য বদলাতে শুরু করে। নির্যাতিতা ১৩ বছরের ওই কিশোরীর ওপর অত্যাচার শুরু করে সে। পুরো ঘটনাটি নিজের মুখে জানিয়েছে ওই কিশোরী। এ ঘটনার দিন ওই কিশোর মা বাড়িতে না থাকায় এই সুযোগ কাজে লাগায় সেই সৎ বাবা। এ সময় অভিযুক্ত সেই সৎ বাবা তার সঙ্গে ওই নারকীয় কাণ্ড ঘটায়।

    এখানেই শেষ নয়, এ ঘটনা তার মাকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার ভয়ও দেখায় সে। তাই ভয়ের কারণে মাকে কিছু না জানিয়ে চুপ করে থাকে ওই কিশোরী। কিন্তু ওই ঘটনার চারদিন পর তার মা যখন আবারো বাড়ি থেকে বের হতে যায়, তখন ওই মেয়েটি তার মাকে বলে, ‘বাবাকে বলো আমার সঙ্গে যেন এ রকম না করে।’

    নিজের মেয়ের মুখ থেকে এই জঘন্য ঘটনাটি শোনার পর সেই ব্যক্তিকে (স্বামী) জিজ্ঞাসাবাদ করেন ওই নারী। তখন অভিযুক্ত সেই ব্যক্তি নিজের দোষ স্বীকার করে নেন। এরপরই নিজের মেয়েকে নিয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন ওই মা। ইতোমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

  • সত্যিই কী অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছিল সৌদি আরবে

    সত্যিই কী অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছিল সৌদি আরবে

    সৌদি আরবের রাজ প্রাসাদে গত ২১ এপ্রিল রাতে হঠাৎ করেই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওইদিন বাদশাহ আবদুল আজিজ বিন সালমান দিরিয়ায় তার অবকাশযাপন কেন্দ্রে ছিলেন বলে দাবি সৌদি কর্তৃপক্ষের। পরে সেখান থেকে তাকে একটি সামরিক ঘাঁটিতে সরিয়ে নেওয়া হয়। ইরানসহ সৌদি বিরোধী কয়েকটি জোট ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ওই রাতের ঘটনাকে একটি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ছিল বলে উল্লেখ করেছে।

    বিপরীতে সৌদি কর্তৃপক্ষ এ ঘটনাকে রাজ প্রাসাদের পাশে একটি খেলনা ড্রোনের উপস্থিতি ছিল এবং এ জন্যই গোলাগুলি হয়েছে বলে উল্লেখ করে। কিন্তু ওই ঘটনার পর থেকে বর্তমান সময়ের সৌদি রাজপ্রাসাদের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। তাকে মিডিয়ার সামনে বা কোনও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতেও দেখা যায়নি। ফলে এ ঘটনা নিয়ে সন্দেহের দাঁনা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। এমনকি ইরানি গণমাধ্যম ‘কায়হান’ জানিয়েছে ক্রাউন প্রিন্স সালমান অভ্যুত্থানে মারা গেছেন। যদিও ইরানের এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি।

    জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল শনিবার রাতে রিয়াদে বাদশাহ আবদুল আজিজ বিন সালমানের প্রাসাদের বাইরে গোলাগুলির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিকট গুলির শব্দ নানা গুঞ্জনের জন্ম দেয়। পরে সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী বলেছে, গুলি করে একটি ড্রোন নামানো হয়েছে। ড্রোনটি খেলনা বলে চিহ্নিত করেছে তারা। আসলে এটি অভ্যুত্থান চেষ্টা ছিল নাকি এমন সম্ভাবনা ধাপাচাপা দিতেই ড্রোনের নাটক সাজানো হয়েছে- তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দেশটির বিভিন্ন মহলে। শুধু সৌদি আরবেই নয় সারা বিশ্বেই এ ঘটনাকে অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সৌদি পুলিশের মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে ওইসময় বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছে, স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে প্রাসাদের কাছে একটি ‘অননুমোদিত ড্রোনের’ উপস্থিতি ধরা পড়ে।

    ওই দিন রিয়াদ পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, আল খুজামা এলাকায় রিমোট কন্ট্রোল চালিত ক্ষুদে একটি খেলনা ড্রোন উড়তে দেখা যায়। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই আকাশে ওই ড্রোন উড়ানো হচ্ছিল। নিরাপত্তা বাহিনী নিয়ম অনুযায়ী সেটার ব্যবস্থা নিয়েছে। ওই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি এবং বাদশাহ সালমান সে সময় প্রাসাদে ছিলেন না বলে এক সৌদি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। বাদশাহ দিরিয়ায় তার অবকাশযাপন কেন্দ্রে ছিলেন।

    ওই রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে অন্তত ৩০ সেকেন্ড ধরে গুলির শব্দ আর আলোর ঝলকানি দেখা যায়। ওই ভিডিওর সূত্র ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে খবরও আসতে শুরু করে। সৌদি আরবে কোনো অভ্যুত্থান ঘটেছে কিনা। বিশ্বের শীর্ষ তেল রফতানিকারক দেশটির বাদশাহ বা যুবরাজের ভাগ্যে কী ঘটেছে এমন প্রশ্নও ঘুরতে শুরু করে।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে বলা হয়েছে, রাজপ্রাসাদে বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ বিরোধী অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছে। ওই সময় বাদশাহ সালমানকে রাজপ্রাসাদ থেকে একটি সামরিক ঘাঁটিতে সরিয়ে নেয়া হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে।

    রয়টার্স লিখেছে, ওই ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে সৌদি আরবের এক কর্মকর্তা বলেন, একটি অজ্ঞাত ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে। বিনোদনের জন্য ড্রোন উড়ানোর বিষয়ে সরকার একটি নীতিমালা তৈরিরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি আলজাজিরা।

    উল্লেখ্য, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ গত বছর জুনে তার ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানকে যুবরাজ ঘোষণার পর থেকে রক্ষণশীল এ মুসলিম দেশটি বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ৩২ বছর বয়সী যুবরাজ মোহাম্মদ সৌদি আরবের তেলনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামো সংস্কারের পাশাপাশি সাংস্কৃতিকভাবে তার দেশকে আরও বেশি উন্মুক্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু সরকারের সমালোচনার সুযোগও দিন দিন সঙ্কুচিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    ছেলের অবস্থান সংহত করতে গিয়ে সৌদি আরবে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীতে কয়েক দফা বড় ধরনের রদবদল এনেছেন বাদশাহ সালমান। যুবরাজের নেতৃত্বে চালানো ‘দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে’ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, প্রিন্স আর ধনকুবেরকে কারাগারে যেতে হয়েছে। অবশ্য তাদের অধিকাংশকেই পরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি প্রিন্সসহ সরকারি আমলা ও কর্মকর্তাদের ওপর যুবরাজের এমন হস্তক্ষেপের পরিণতি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে। আর ক্রাউন প্রিন্স সালমানের গত ১ মাস ধরে জনসম্মুখে না আসা প্রশ্ন তুলছে সত্যিই কী অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছিল সৌদি আরবে?

  • মেগানের সাবেক স্বামী ট্রেভর নিরুদ্দেশ!

    মেগানের সাবেক স্বামী ট্রেভর নিরুদ্দেশ!

    মহাসমারোহে চলছে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কলের বিয়ে। ঐতিহাসিক উইন্ডসর ক্যাসেলের অর্ন্তভুক্ত সেন্ট জর্জেস চ্যাপেল গির্জায় এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর মেগানের বিয়ের আগে নিরুদ্দেশ হয়েছেন তার সাবেক স্বামী ট্রেভর এঙ্গেলসন।

    সবার মনোযোগ যখন যুবরাজ হ্যারি ও মেগান মার্কলের ওপর তখন চোখ এড়াতেই তিনি নিরুদ্দেশ হলেন। মেগানের সাবেক স্বামী পেশায় একজন চলচ্চিত্র প্রযোজক থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেসে।

    শনিবার যখন লন্ডনে হ্যারি ও মেগানের বিয়ে হচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রে গণমাধ্যম খুঁজেও পাচ্ছে না ট্রেভরকে। দেশে নেই, কোথায় তিনি- খোঁজ নিয়ে ইউএস উইকলি জানতে পেরেছে, ছুটি নিয়ে অন্য কোনো দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ট্রেভর, সম্ভবত দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশে।

    সাবেক স্ত্রীর বিয়ের ক্ষণে গণমাধ্যমের চোখ এড়াতেই এঙ্গেলসনের এই নিরুদ্দেশ যাত্রা বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।

    বর্তমানে ৪১ বছর বয়সী ট্রেভরের সঙ্গে অভিনেত্রী মেগানের ঘনিষ্ঠতার শুরু ২০০৪ সালে; সাত বছর প্রেমের পর ২০১১ সালে তারা ঘর বাঁধেন। কিন্তু বিয়ের দুই বছরের মাথায় তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এর তিন বছর বাদে নিজের থেকে তিন বছরের ছোট ব্রিটিশ যুবরাজ হ্যারির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান ৩৬ বছর বয়সী মেগান; যার পরিণতিতে তারা বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন।

    হ্যারি-মেগান জুটি বাঁধার পর একটি টিভি শো তৈরিতে হাত দেন এঙ্গেলসন। তাতে এক ব্যক্তিকে হাজির করেন এঙ্গেলসন, যিনি সন্তানের কর্তৃত্ব পেতে চাইছেন তার ডিভোর্সি স্ত্রীর কাছ থেকে। তার স্ত্রী আমেরিকা থেকে ব্রিটেন যাচ্ছেন এক যুবরাজকে বিয়ে করতে।

    মেগান-এঙ্গেলসনের কোনো সন্তান না থাকলেও এটি এঙ্গেলসনের নিজের জীবনের গল্প বলে সবাই মনে করছেন। তবে এঙ্গেলসন তা অস্বীকার করেছেন।

  • হ্যারি-মেগানের বিয়েতে ‌’পেটা ইন্ডিয়া’র বলদ উপহার

    হ্যারি-মেগানের বিয়েতে ‌’পেটা ইন্ডিয়া’র বলদ উপহার

    ঐতিহাসিক উইন্ডসর ক্যাসেলের অর্ন্তভুক্ত সেন্ট জর্জেস চ্যাপেল গির্জায় সম্পন্ন হল ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজপুত্র হ্যারি এবং মার্কিন অভিনেত্রী মেগান মার্কলের বিয়ে। আর ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যের এই বিয়েতে একটি বলদ উপহার দিতে চলেছে পেটা ইন্ডিয়া। সেই বলদটির নামও রাখা হয়েছে হ্যারি এবং মেগানের নাম জুড়ে, ‘‌মেরি’।

    পেটা ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে শচীন বাঙ্গরা জানিয়েছেন, নিরীহ প্রাণীদের উপর প্রচুর অত্যাচার হয়, সেই বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতেই এই উপহার দেওয়া হচ্ছে। মেরি বর্তমানে মহারাষ্ট্রের একটি সংরক্ষণাগারে রয়েছে। উদ্ধার করার সময় খুবই খারাপ অবস্থায় ছিল সে। টানা গাড়ি টানায় গলায় তৈরি হয়েছিল ক্ষত। সেখান থেকেই সেবা-শুশ্রুষার পর আপাতত সুস্থ হয়ে উঠেছে বলদটি।

    তিনি আরও বলেন, ‘‌আমরা বলদটির নাম হ্যারি এবং মেগানের নামে রেখেছি। বলদটিকে উপহার হিসেবে দু’‌জনকে দেওয়াটা হয়ত সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা মেরির একটি ছবি আঁকিয়েছি, তাতে তার গল্পও লেখা আছে। সেই ছবিটিই আমরা হ্যারি এবং মেঘানকে উপহার হিসেবে দেব। ’‌