Category: আন্তর্জাতিক

  • যুক্তরাজ্যে বড়দিনে হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ, গ্রেফতার ৪

    যুক্তরাজ্যে বড়দিনে হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ, গ্রেফতার ৪

    যুক্তরাজ্যে বড়দিনে একটি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা নস্যাত্ করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে পুলিশ হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার সকালে সাউথ ইয়র্কশায়ার ও ডার্বিশায়ার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    আসছে ২৫ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হবে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন। এই উৎসবকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলাটি চালানো হতো বলে ব্রিটিশ কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। এ পরিকল্পনার অভিযোগে মঙ্গলবার সকালে সাউথ ইয়র্কশায়ার ও ডার্বিশায়ার থেকে সন্দেহভাজন ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

    বিবিসি জানায়, ৩১ বছর বয়সী একজনকে আটক করার পর বোমা নিস্ক্রিয়কারী দলকে চেষ্টারফিল্ডের একটি রাস্তা ঘিরে রাখতে এবং আশপাশের ঘরবাড়ি খালি করে ফেলতে দেখা গেছে।

    শেফিল্ড শহরের বার্নগ্রিভ ও মিরসব্রুক থেকে পরে ২২, ৩৬ ও ৪১ বছর বয়সী আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ চারজনের বিরুদ্ধে ২০০০ সালে প্রণীত সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের একটি থানায় নেয়া হয়। খবর ইন্ডিপেনডেন্ট।

  • মেডিকেল ক্যাম্পাসে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    মেডিকেল ক্যাম্পাসে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    ভারতের ভুবেনশ্বরের বেসরকারি একটি মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে এমবিবিএস প্রথম বর্ষের নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ভুবেনশ্বর পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

    পুলিশের কাছে ওই শিক্ষার্থীর করা অভিযোগ অনুসারে, মঙ্গলবার রাতে মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে আসার সময় একজন পিয়ন তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

    ভুবনেশ্বর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার সত্যব্রত জানান, ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত এবং অভিযোগকারীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

    পুলিশ আরও জানিয়েছে, ১৬১ ধারায় ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ রেকর্ড করা হয়েছে।

    বেসরকারি ওই মেডিকেল কলেজের প্রধান তিরপাতি পানিগ্রাহি জানান, সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে ঘটনাটি ঘটেছে। রাত ১২টার দিকে বিষয়টি সবাই জানতে পারে। প্রথমে ওই শিক্ষার্থী পিয়নের নাম বলতে পারেনি। পরে অামরা তাকে চিহ্নিতে করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছি।

    অভিযুক্তের নাম মনোজ খুন্তিয়া। খুন্তিয়ার দাবি, তিনি একেবারেই নির্দোষ। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেন তিনি।

    তার ভাষায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ওই মেয়েকে তার ছেলে বন্ধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখতে পাই। ওই সময় আমি রাতের খাবার খেয়ে ফিরছিলাম।

    তিনি আরও জানান, তাদেরকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে আমি উচ্চস্বরে বলি যে, বিষয়টি আমি প্রিন্সিপালকে বলে দেবে। তারা আমাকে অনুরোধ করে, যেন বিষয়টি কাউকে না বলি। এমনকি কলেজ ক্যাম্পাসে ভবিষ্যতে ওই রকম কাজ না করারও প্রতিশ্রুতি দেয় তারা।

    তার দাবি, এর পর তিনি নিজের কক্ষে ফিরে যান। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছে।

  • সন্তান জন্ম দেয়ার আগমুহূর্তে ল্যাপটপ নিয়ে বসলেন অন্তঃসত্ত্বা!

    সন্তান জন্ম দেয়ার আগমুহূর্তে ল্যাপটপ নিয়ে বসলেন অন্তঃসত্ত্বা!

    তখনও সন্তানের জন্ম দেননি তিনি। শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও ভুগছিলেন নয় মাসের ওই অন্তঃসত্ত্বা। তার মধ্যেই ল্যাপটপ নিয়ে বসে পড়লেন তিনি।

    অন্তঃসত্ত্বার এমন কাণ্ড দেখে অবাক হাসপাতালের চিকিৎসকরাও। কিন্তু যখন তারা জানতে পারলেন ঠিক কী কারণে তরুণী ওই অবস্থাতেও ল্যাপটপ নিয়ে বসেছেন, বাহবা না জানিয়েও পারেননি।

    ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে। অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর নাম নেজিয়া থমাস। তিনি জনসন কান্ট্রি কমিউনিটি কলেজের সাইকলোজির ছাত্রী। কলেজে পড়ার সময়েই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এবং তারপরেও পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

    কয়েকদিন আগেই পেটের যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন নেজিয়া। কিন্তু তার পরীক্ষা ছিল সামনেই। এদিকে গবেষণার কাজ তখনও শেষ হয়নি। তাই ওই অবস্থাতেও হাসপাতালের বিছানায় বসে তিনি গবেষণার কাজ শেষ করছিলেন। পরে সেখানেই সন্তানের জন্ম দেন।

    পরীক্ষা দেয়ার ছবি নিজেই টুইট করেন নেজিয়া। ছবির সঙ্গে মজা করে তিনি জানান, এই ছবিটা আমার মা তুলেছে। এই মুহূর্তে আমার জীবনের একদম ঠিকঠাক ব্যাখ্যা দিচ্ছে এই ছবিটা। আমিও সন্তানসম্ভবা, তবে আমার ফাইনাল পরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি।

    তিনদিন পরে আর একটি টুইট করে নেজিয়া জানান, তিনি সফলভাবে গবেষণার কাজ শেষ করেছেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ সন্তানের জন্মও দিয়েছেন। কঠিন সময়গুলোয় পাশে থাকার জন্য নেজিয়া তার স্বামীকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন টুইটে।

    নেজিয়া দু’টি টুইটই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে। লক্ষাধিক মানুষ সেটি লাইক ও রিটুইট করেছেন। নেটিজেনরা অনেকেই জানিয়েছেন, নেজিয়ার কাহিনি যে কোনো লড়াকু মানুষের কাছেই দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

  • ট্রাম্পকে পুতিনের ধন্যবাদ

    ট্রাম্পকে পুতিনের ধন্যবাদ

    মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা থেকে রেহাই পেয়েছে রাশিয়া।যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার তরফ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর বিবিসি।

    রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি জানিয়েছে, সেন্ট পিটার্সবার্গের কাজান গীর্জায় আত্মঘাতী হামলা করে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানোর পরিকল্পনা ছিল সন্ত্রাসীদের।

    এফএসবির এক বিবৃতিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সমর্থক সাতজন সমর্থককে গ্রেফতারের কথা জানানো হয়।

    শনিবারেই হামলাটি করার পরিকল্পনা ছিল সন্ত্রাসীদের। সিআইএর কাছ থেকে তথ্য পেয়ে পরিকল্পনা বানচাল করে দিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।

    হোয়াইট হাউস ও ক্রেমলিন নিশ্চিত করেছে, এই ঘটনার পর সন্ত্রাসী হামলা বিষয়ে আগাম তথ্য দেয়ার জন্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন টেলিফোন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

    দুই প্রেসিডেন্টের ফোনালাপের সময় রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে সবসময় সন্ত্রাসী হুমকি বিষয়ক তথ্য জানাবে রাশিয়া।

    হোয়াইট হাউস থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনা ঘটার আগেই সন্ত্রাসীদেরকে আটক করা গেছে। না হলে এই হামলায় বহু মানুষ নিহত হবার আশঙ্কা ছিল।

    রোববার ক্রেমলিন থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি সন্ত্রাসী দল পিটার্সবার্গের গীর্জা ও অন্যান্য স্থানে বিস্ফোরন ঘটানোর লক্ষ্যে কাজ করছিলো।

    রাশিয়ান সংবাদ সংস্থা ইতার-তাস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ তে ১৮টি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা বানচাল করার কথা জানিয়েছে এফএসবির পরিচালক আলেক্সান্দার বোর্তনিকভ।

  • এক বাংলাদেশি ফটোসাংবাদিকের রোমাঞ্চকর অভিযাত্রা

    বাংলাদেশের সবচেয়ে নামকরা ফটো সাংবাদিকদের একজন জুয়েল সামাদ তার সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহু দু:সাহসিক এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। ইরাক রণাঙ্গন থেকে প্রেসিডেন্ট ওবামার হোয়াইট হাউস, এশিয়ান সুনামি থেকে রিও অলিম্পিক- বহু বিচিত্র বিষয় কভার করেছেন।

    বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি বর্ণনা করেছেন তার সেসব অভিজ্ঞতা।

    এয়ার ফোর্স ওয়ান :
    লস এঞ্জেলেস থেকে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে আকাশে উড়েছে এয়ার ফোর্স ওয়ান। পাঁচ ঘন্টার ফ্লাইট। লস এঞ্জেলেসে একটি ব্যস্ত দিন কেটেছে সবার। সেখানে প্রেসিডেন্ট ওবামা ট্রেড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে ভাষণ দিয়েছেন এক অনুষ্ঠানে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে নানা বিষয়ে প্রতিদিন চিঠি লেখেন অনেক মানুষ। নির্বাচিত কিছু পত্রলেখককে প্রেসিডেন্ট লাঞ্চের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন স্থানীয় এক রেস্টুরেন্টে। ছিল আরও নানা আনুষ্ঠানিকতা।

    ফিরতি যাত্রায় এয়ারফোর্স ওয়ানের প্রেস কেবিনে সফরসঙ্গী সাংবাদিকরাও কিছুটা ক্লান্ত।

    নানা কাজে ব্যস্ত কেউ কেউ। হঠাৎ কেবিনের দরোজা দিয়ে ঢুকলেন প্রেসিডেন্ট। এএফপির ফটো সাংবাদিক জুয়েল সামাদের জন্য সেটাই ছিল এয়ার ফোর্স ওয়ানের শেষ ফ্লাইট। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সর্বশেষ সফর।

    “আমার নতুন পোস্টিং হয়েছে নিউইয়র্কে। সেদিন আমার শেষ জার্নি এয়ার ফোর্স ওয়ানে। প্রেসিডেন্ট ওবামাকে তাঁর স্টাফরা বিষয়টি জানিয়েছেন। তাই রীতি অনুযায়ী বিদায় জানাতে এসেছেন তিনি”, বলছিলেন জুয়েল সামাদ।

    “যেভাবে তিনি আমাকে বিদায় জানাতে আসলেন প্রেস কেবিনে, দ্যাট ওয়াজ ভেরি নাইস। আমি কিছুটা আপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। উনি আমার সঙ্গে বেশ রসিকতাই করলেন। বললেন, নিউইয়র্কে কেন যাচ্ছো। ওখানে তো বাড়ি ভাড়া অনেক বেশি। ”

    হোয়াইট হাউস প্রেস কোরের সদস্য হিসেবে প্রায় সাড়ে ছয় বছর ধরে বিশ্বের বহু জায়গায় প্রেসিডেন্ট ওবামার সফর-সঙ্গী ছিলেন জুয়েল সামাদ। ছিলেন বহু ঐতিহাসিক মূহুর্তের সাক্ষী। তবে এর মধ্যে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অনেক মধুর অন্তরঙ্গ মূহুর্তের স্মৃতিও আছে। এটি ছিল সেরকম একটা দিন।

    হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের ট্রাভেল পুলে অন্তর্ভুক্ত হতে পারাটা যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা সাংবাদিকদের জন্যও ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ার মতো ব্যাপার। সাংবাদিকরা যখন খ্যাতির শিখরে পৌঁছান, তখন সাধারণত ‘প্রাইজড পোস্টিং’ হিসেবে হোয়াইট হাউজে পাঠানো হয়। জুয়েল সামাদের জন্য সেখানে কাজ করার সুযোগটা এসে গিয়েছিল বেশ অপ্রত্যাশিতভাবে।

    বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার কয়েক মাস পরের ঘটনা সেটি।

    “তখন আমার পোস্টিং ইন্দোনেশিয়াতে। আমাদের এএফপি’র নর্থ আমেরিকার ডিরেক্টর, উনি আমাকে হোয়াইট হাউজে নিয়ে আসেন। উনি চাইছিলেন হোয়াইট হাউজ একটু ভিন্নভাবে কভার করতে। একজন ফ্রেশ, ইয়াং কোন ফটোগ্রাফারকে দিয়ে। আমেরিকার সঙ্গে রিলেটেড নয় এমন কাউকে দিয়ে। আমাকে উনি ওয়াশিংটনে নিয়ে আসলেন। প্রায় সাড়ে ছয় বছর আমি ওবামা এডমিনিস্ট্রেশন কাভার করেছি। ”

    বারাক ওবামা ছিলেন হোয়াইট হাউসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। আর জুয়েল সামাদ তার প্রেস কোরে ঠাঁই পাওয়া প্রথম কোন বাংলাদেশি সাংবাদিক।

    এপি এএফপি, রয়টার্স এবং নিউইয়র্ক টাইমস, শুধু এই চারটি প্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক ফটোসাংবাদিক থাকেন হোয়াইট হাউসে। এরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের ট্রাভেল পুলের অংশ। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট যেখানেই যাবে, তার সঙ্গে থাকবেন এই চারজন। এরকম একটা বিরল সুযোগ পেয়ে জুয়েল সামাদ ছিলেন তাঁর ভাষায় ‘সুপার একসাইটেড’।

    “আমি কখনো ভাবিনি যে একদিন হোয়াইট হাউজ কভার করার সুযোগ আসবে। আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাভেল করে বিভিন্ন দেশে যাওয়ার সুযোগ হবে। প্রেসিডেন্টকে খুব কাছ থেকে দেখতে পাবো এবং ট্রাভেল করতে পারবো। সত্যি কথা বলতে কি, এটা একটা প্রিভিলেজ। আমি যে সাড়ে ছয় বছর এই কাজটা করতে পেরেছি, সেজন্যে আমি কৃতজ্ঞ। ”

    ক্যামেরা হাতে কিশোর :
    তবে হোয়াইট হাউস পর্যন্ত জুয়েল সামাদের এই জার্নিটা খুব সহজ ছিল না।

    নব্বুই এর দশকের শুরুতে ঢাকা শহরে ঝাঁক বেঁধে নানা জায়গায় ছুটে যেতে ফটো সাংবাদিকদের যে দল, তাদের মধ্যে ছিল ১৫ বছরের এক কিশোর। কিছুটা নেশায়, কিছুটা জীবিকার তাগিদে তাকে পথে নামতে হয়েছিল।

    “আমার বাবা, দুই চাচা ছিলেন এই পেশায়। এটা যেন আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। আমার বাবা মারা যাওয়ার পর কিছু একটা করতে চাচ্ছিলাম আমার এডুকেশন সাপোর্ট করার জন্য। অন্য কিছু আর মাথায় আসেনি ফটোগ্রাফি ছাড়া। তখন আমার বয়স মাত্র ১৫ বছর। ”

    কাজ শুরু করেছিলেন ঢাকার মর্ণিং সান পত্রিকায়। কিছুদিন পর যোগ দেন দৈনিক জনকন্ঠে। সেখানে কাজ করেছেন পাঁচ বছরের বেশি।

    “যে বয়সটা খেলাধুলার, সেই বয়সে আমি ঢুকে গেলাম কাজে। এক অর্থে এটা ছিল আমার জন্য ভালো সুযোগ। আবার অন্যদিকে ব্যক্তিগতভাবে খুবই চ্যালেঞ্জিং। ”

    বড় বড় ফটো সাংবাদিকদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা পেতে অনেক সময় লেগেছে। টিটকারি শুনতে হয়েছে কাজ করতে গিয়ে।

    “হাতে গোণা দু একজন লোক ছাড়া শেখানোর লোক খুব কম ছিল। উল্টো বাধা দেয়ার লোক অনেক ছিল। রাস্তায় যখন ছবি তুলতে যেতাম, তখন নানা কথা শুনতে হতো, বলতো, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা সাংবাদিক বনে গেছে। ”
    কিন্তু সেসব তিনি গায়ে মাখেন নি।

    আজকের সাফল্যের পর পেছন ফিরে দেখলে কি মনে হয়?

    “আমার জন্য দরকার ছিল এই স্ট্রাগলটা। আমার জন্য এটা ফাউন্ডেশন হিসেবে কাজ করেছে। এখান থেকে আমি যা শিখেছি, তা আমাকে সবসময় সাহায্য করেছে। ”

    ২০০০ সালে ক্যারিয়ারে প্রথম বড় সুযোগ পান এএফপির ঢাকা অফিসে যোগ দেয়ার মাধ্যমে।

    “এএফপিতে যোগ দেয়ার পর বুঝতে পারি যে ফটো জার্নালিজম মানে বাংলাদেশের গন্ডিতে আটকে থাকা নয়। সারা বিশ্বে কাজ করার সুযোগ আছে। তখন থেকেই আমার ইচ্ছে হয়, আরও অনেক ধরণের অ্যাসাইনমেন্ট কাভার করার। এবং এএফপিতে জয়েন করার পর আমি সুযোগগুলো পাই। ”

    যুদ্ধ দিনের গল্প:
    ২০০১ সালে ভারতের গুজরাটের ভূমিকম্প ছিল জুয়েল সামাদের প্রথম ফরেন অ্যাসাইনমেন্ট। এরপর থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় বা অন্যান্য অঞ্চলে যত বড় বড় ঘটনা ঘটেছে, তার সবগুলো কভার করার সুযোগ হয়েছে। আফগান এবং ইরাক যুদ্ধের সময় এএফপির হয়ে সেখানে গেছেন।
    “আফগান এবং ইরাক যুদ্ধ আমার ক্যারিয়ারের বড় দুটি ঘটনা। এই দুটি যুদ্ধ আমাকে তৈরি করেছে। আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর সেখানে পাঠানো হয় আামাকে। আমি ছিলাম পাকিস্তান-আফগানিস্তান বর্ডারে। যখন তালেবানের পতন হয়, তখন কাবুলে যাই। ভয়ের চেয়ে উত্তেজনাটাই বেশি কাজ করছিল এরকম একটা সুযোগ পেয়ে। ”

    “আফগানিস্তানে একটা ঘটনার কথা খুব মনে পড়ে। আমি এবং আমার এক অস্ট্রেলিয়ান কলিগ কাজ করছিলাম। আমেরিকান বি-ফিফটি-টু বিমান থেকে বোমা ফেলা হচ্ছিল পাহাড়ে। রাস্তার ধারে থেমে আমরা ছবি পাঠাচ্ছিলাম। হঠাৎ পেছনে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। পেছনের গাড়িতে টরোন্টো স্টারের একজন সাংবাদিক এবং ফটো সাংবাদিক ছিল। তারা আসলে স্বামী-স্ত্রী। মহিলা সাংবাদিকের একটা পা গ্রেনেড হামলায় উড়ে গেছে। ”

    ঐ আহত সাংবাদিককে পরে জুয়েল সামাদ এবং তাঁর সহকর্মীই নিজেদের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানকার লোকজন বললো, এখানে চিকিৎসা করা যাবে না। পরে তারা আবার গাড়িতে করে তাকে নিয়ে যান নিকটবর্তী মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে। সেখান থেকে কাবুলে এয়ার-লিফট করা হয় তাকে। ঐ মহিলা সাংবাদিকের জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তারা।
    মোট পাঁচ দফায় ইরাক যুদ্ধ কভার করেছেন জুয়েল সামাদ। সেখানেও ছিল অনেক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা।

    “যে পাঁচ বার ইরাক যুদ্ধ কভার করতে যাই তার মধ্যে তিনবারই মার্কিন বাহিনির সঙ্গে ‘এমবেডেড’ হয়ে। দুবার বাগদাদে স্বাধীনভাবে। ”

    টিকরিটে যে মার্কিন সেনাদল সাদ্দাম হোসেনকে তার গোপন সুড়ঙ্গ থেকে আটক করে, জুয়েল সামাদ ছিলেন সেই সেনাদলের সঙ্গে এমবেডেড।

    “ওরা বিভিন্ন রেইডে যাওয়ার সময় আমাদের সাথে নিয়ে যেত। কিন্তু যেদিনের অভিযানে সাদ্দাম হোসেন ধরা পড়ে, সেদিন আমাদের নেয়নি। পরের দিন আমাদের সেখানে নিয়ে যায় মার্কিন সেনাবাহিনি। সাদ্দাম হোসেন বাংকার টাইপের ছোট্ট একটা গর্তে লুকিয়ে থাকতেন। আমাদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। ”

    সেনাবাহিনির সঙ্গে ‘এমবেডেড’ হয়ে কাজ করার সময় কয়েকবার হামলারও শিকার হয়েছেন।

    “টিকরিটে একবার আমাদের কনভয়ের একটি গাড়িতে আইইডি হামলা হয়। আমি ছিলাম তিন গাড়ি পেছনে। আরেকবার আমাদের কনভয়ের ওপর গুলি চলে। তবে তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। ”

    তবে এত অভিজ্ঞতার মাঝে হোয়াইট হাউসের সাড়ে ছয় বছরের জীবনকেই তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সময় বলে মনে করেন জুয়েল সামাদ।

    প্রতিদিন প্রেসিডেন্ট কোথায় যাচ্ছেন, কী কর্মসূচি, তার বিস্তারিত আমরা আগের রাতেই জানতে পারতাম। সেই অনুযায়ী তারা কাজের পরিকল্পনা করতাম। প্রেসিডেন্টের পাবলিক অ্যাপিয়ারেন্স কি আছে, কোথায় ছবি তোলা যাবে, কোথায় যাবে না, এসব আগে থেকে জানানো হতো আমাদের। ”

    যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে যেদিন, সেদিন জুয়েল সামাদের দায়িত্ব পড়েছিল নিউইয়র্কে হিলারি ক্লিন্টনের সমাবেশ কভার করার।

    হিলারি ক্লিনটনের জন্য স্টেজটি সাজানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রের আদলে। হিলারি জিতবেন, এমনটাই সবাই প্রত্যাশা করছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট হবেন তিনি, তার একটি ‘আইকনিক’ ছবি তোলার জন্য দুদিন ধরে ক্যামেরা সেট করলেন তিনি।
    কিন্তু ফল যখন ঘোষণা করা হলো, সব পরিকল্পনা পাল্টে গেল!

    “যদি হিলারি জিততো, তাহলে হয়তো এটি একটি আইকনিক ছবি হতে পারতো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাপের মাঝখানে হিলারি দাঁড়িয়ে তার বিজয়ের পর বক্তৃতা দিচ্ছেন, এরকম একটা ছবি। ”

    তবে তাই বলে খেদ নেই জুয়েল সামাদের। বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা একটি সংস্থার আর্কাইভে আছে তার ছবি আছে প্রায় ৯০ হাজার। এএফপির হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন ফটোগ্রাফারেরই এত বেশি ছবি তাদের আর্কাইভে রাখা হয়েছে।

    জুয়েল সামাদ এখন এএফপির নিউইয়র্ক ব্যুরোতে কাজ করেন। কিন্তু তারপরও বিশ্বের যেখানেই বড় কোন ঘটনা ঘটে, সেখানে পাঠানো হয় তাকে।

    জুয়েল সামাদের স্ত্রী গোধুলি খানও ফটো সাংবাদিক। দুই কন্যা নিয়ে নিউইয়র্কে তাদের সংসার।

    তার স্বপ্ন, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের ফটো সাংবাদিকদের জন্য কিছু করা।

    “যদি সম্ভব হয় বাংলাদেশের ফটো সাংবাদিকদের জন্য কিছু করতে চাই্। তারা অনেকেই বেশ ভালো করছেন। অনেক আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাচ্ছেন। আমার কাজের অভিজ্ঞতা তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। “

  • যৌন নিগ্রহের অভিযোগে আত্মঘাতী রিপাবলিকান নেতা

    যৌন নিগ্রহের অভিযোগে আত্মঘাতী রিপাবলিকান নেতা

    পাঁচ বছর আগে এক কিশোরীকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’র সদস্য কেন্টাকির রিপাবলিকান সেই নেতা ড্যান জনসন মারা গিয়েছেন। তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

    কেন্টাকির বুল্লিট কাউন্টির মাউন্ট ওয়াশিংটনের কাছে তার দেহ উদ্ধার হয়েছে। তার দেহে ছিল একটা গুলির আঘাত। মরদেহের পাশে পড়ে ছিল ৪০ ক্যালিবারের সেমি অটোম্যাটিক হ্যান্ডগান।

    পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ড্যান লুইসভিলের দক্ষিণপূর্বের একটি এলাকায় গিয়েছিলেন গাড়ি চালিয়ে। তার পর সেখানে গাড়ি পার্ক করেন। গাড়ির সামনেই গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হন। তার কিছু ক্ষণ আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ এবং খাপছাড়া এক বার্তায় জানান, তিনি যৌন নিগ্রহ করেননি।

    পরিবারের বাকিদের বলেন, তার স্ত্রীর পাশে থাকতে।

    এই পোস্ট দেখেই আত্মীয়রা উদ্বিগ্ন হয়ে পুলিশকে জানান। সেই খবরে পুলিশ খোঁজ শুরু করে তার দেহ উদ্ধার করে।

  • ভারতীয় তারকা ক্রিকেটারের বাবা গ্রেফতার

    ভারতীয় তারকা ক্রিকেটারের বাবা গ্রেফতার

    ভারতের কোলাপুরের রাস্তায় এক বৃদ্ধাকে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ায় গ্রেফতার হলেন ভারতীয় টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানের বাবা। শুক্রবারে ঘটনাটি ঘটেছে।

    টোবে মাধুকর বাবুরাও রাহানে নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন কিনা তা এখনও জানা যায়নি। কাগালের কাছে জাতীয় সরকে মাধুকরের গাড়ি পথ চলতি ৬৭ বছরের এক বৃদ্ধাকে ধাক্কা দেয়। মৃত সেই বৃদ্ধার নাম আশাতাই ক্যামবেল।

    ৫৪ বছরের মাধুকরকে গ্রেফতার করা হয়েছে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গাড়ি চালানোর জন্য। কিন্তু দূর্ঘটনার সময় কে গাড়ি চালাচ্ছিলেন সেটা এখনও পরিষ্কার নয়। সেই গাড়িতে রাহানের মা ও বোনও ছিলেন। সকলে মিলে কোঙ্কনে ছুটি কাটাতে যাচ্ছিল।

    আহত সেই মহিলাকে সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

    এর পরই কাগাল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ৩০৪ (এ), ২৮৯, ৩৩৭, ৩৩৮ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

  • ওআইসির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর

    ওআইসির সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর

    পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে ওআইসির ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নেতানিয়াহু বলেন, ওআইসি’র বিবৃতি আমাদের খুশি করতে পারেনি, সত্যের জয় হবেই। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করতে চায়। খবর আল জাজিরা’র
    নেতানিয়াহু গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, একটা সময় সবাই জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেবেন। সব দেশই তাদের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করবেন। তিনি বলেন, জেরুজালেম কেবল ইসরাইলের রাজধানীই হবে না। আমরা সেখানে সব ধর্মের প্রার্থনার ব্যবস্থা করবো। তার মতে, ফিলিস্তিনের উচিত বাস্তবতা মেনে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে স্বীকৃতি দেওয়া। চরমপন্থার দিকে না গিয়ে ফিলিস্তিনিদের শান্তির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
    বুধবার মুসলিম দেশগুলোর সবচেয়ে বড় সংস্থা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) এক বিবৃতিতে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও স্বীকৃতি দেওয়ার আহবান জানায়।
    হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনো ফিলিস্তিন-ইসরাইল শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতা করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘বরাবরের মতোই এখনো শান্তির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’ বলে দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা।
    এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরাইলি রাজধানীর স্বীকৃতি দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরপর মুসলিম বিশ্বসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-সমাবেশ চলছে। এতে প্রায় দুই হাজার মানুষ আহত হয়েছে।
  • স্বামীকে খুনের পর প্রেমিককে কসমেটিক সার্জারিতে ‘স্বামী’ বানানোর চেষ্টা!

    স্বামীকে খুনের পর প্রেমিককে কসমেটিক সার্জারিতে ‘স্বামী’ বানানোর চেষ্টা!

    স্বামীকে হত্যার পর প্রেমিককে কসমেটিক সার্জারি করিয়ে তার জায়গায় বসাতে গিয়ে ধরা পড়েছেন ভারতের এক নারী। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় তেলেঙ্গনা রাজ্যে সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটেছে।

    পুলিশের বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, অস্ত্রোপচারের পর স্বামীর চেহারা বদলে গেছে- একথা পরিবারের সদস্যদের বোঝাতে পরিকল্পিতভাবে প্রেমিক যুবকের মুখে এসিড নিক্ষেপ করা হয়।

    চিকিৎসার পর দুজনে এসে একথা বললে গল্পটি বিশ্বাস করেন ওই নারীর স্বামীর বাবা-মা, হাসপাতালের বিলও পরিশোধ করেন তারা।

    এক পর্যায়ে নিহতের ভাই ওই হাসপাতালে গেলে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয় তার। পুলিশে অভিযোগ করেন তিনি। এরপর পুলিশ আঙুলের ছাপ নিয়ে পরীক্ষা করলে বেরিয়ে আসে আসল কাহিনী।

    এ ঘটনায় ওই নারী ও তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের ভাই।

    আসামি স্বাতী রেড্ডি ও তার প্রেমিক রাজেশ আজাকোলুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    পুলিশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি লিখেছে, দুজনে মিলে স্বামী সুধাকর রেড্ডিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন স্বাতী। ২৬ নভেম্বর রাতে তাকে হত্যা করা হয়।

    তবে মরদেহ এখনও পাওয়া যায়নি।

    হত্যাকাণ্ডের দুদিন পর ২৮ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন রাজেশ। একই দিন স্বামীর ওপর ‘এসিড হামলার’ কথা তার স্বজনদের জানান স্বাতী।

    এই কথা বিশ্বাস করে সুধাকরের বাবা-মা প্রায় পাঁচ লাখ রুপি হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেন। তাদের আরেক ছেলে ৯ ডিসেম্বর পুলিশের অভিযোগ করার আগে সব কিছু পরিকল্পনা মতো চলছিল স্বাতী-রাজেশের।

    সূত্র : বিবিসি

  • রাখাইনের সামরিক তথ্য সংগ্রহ : রয়টার্সের দুই সাংবাদিক গ্রেপ্তার

    রাখাইনের সামরিক তথ্য সংগ্রহ : রয়টার্সের দুই সাংবাদিক গ্রেপ্তার

    মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারের এক মুখপাত্র। তাদের কাছ থেকে রাখাইন রাজ্যে মোতায়েন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তথ্য ও মানচিত্র পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।

    দুই সাংবাদিকের একজনের নাম কো ওয়া লোন এবং অপরজন কায়াও সোয়ে ও। ইয়াঙ্গনের উপকন্ঠে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশী হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

    স্থানীয় পত্রিকা ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমার জানিয়েছে, দুই সাংবাদিকের কাছে সামরিক প্রতিবেদন এবং উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের একটি মানচিত্র পাওয়ার পর তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    তাদের সঙ্গে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সরকারের মুখপাত্র জ হাতায়।

    ইয়াঙ্গনের মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, “গতরাতে দুই সাংবাদিককে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে বলার পর তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ”

    ২০১৬ সালে রয়টার্সে যোগ দেওয়া সাংবাদিক ওয়া লোন রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটসহ আরও বিভিন্ন ধরনের সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। অন্যদিকে, কায়াও সোয়েও গত সেপ্টেম্বর থেকে রয়টার্সের প্রতিবেদক হিসাবে কাজ করছেন।

    মিয়ানমার দিন দিনই সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর খড়গহস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী নিয়ে কোনও সংবাদ, প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে মিয়ানমার।

    স্থানীয় কয়েকটি খবরে বলা হচ্ছে, দুই সাংবাদিককে ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ এর আওতায় আটক করা হয়েছে। তাদের ১৪ বছরের জেল হতে পারে বলে জানিয়েছেন এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এক আইনজীবী।

    সূত্র : গার্ডিয়ান ও রয়টার্স