Category: আন্তর্জাতিক

  • ‘চা ওয়ালা’ কটাক্ষের জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদী

    ‘চা ওয়ালা’ কটাক্ষের জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদী

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, আমি চা বিক্রি করলেও দেশ বিক্রি করিনি। গুজরাটের বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষ্যে গতকাল সোমবার প্রথম দিনের প্রচারণায় এই মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি বিরোধী কংগ্রেসেরও সমালোচনা করেন। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার
    গতকাল সোমবার সকালে কচ্ছের ‘আশাপুরা মাতা’ মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রচারাভিযান শুরু করেন। আগামী ৯ এবং ১৪ ডিসেম্বর গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে আগামী দু’সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী মোদী ৩০টিরও বেশি নির্বাচনী সভা করবেন বলে বিজেপি সূত্রে জানা গেছে।
    প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, এবারের লড়াই উন্নয়ন বনাম পরিবারতন্ত্রের। ‘চা ওয়ালা’ কটাক্ষের জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদী সৌরাষ্ট্রের জনসভায় বলেন, ‘হ্যাঁ আমি চা বিক্রি করতাম। কিন্তু দেশকে বিক্রি করিনি। এভাবে আমার দারিদ্র নিয়ে কটাক্ষ করবেন না’।
    তিনি বলেন, ‘আসলে কংগ্রেস আমাকে অপছন্দ করে। কীভাবে একটা দল এতটা নীচে নামতে পারে? হ্যাঁ, দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে আমার মতো একজন দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এজন্য গোপন করার কিছু তো নেই’।
  • অবশেষে সুচির সম্মান প্রত্যাহার করল অক্সফোর্ড

    অবশেষে সুচির সম্মান প্রত্যাহার করল অক্সফোর্ড

    মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে দেয়া সম্মান প্রত্যাহার করে নিয়েছে ব্রিটেনের অক্সফোর্ড শহরের নগর কাউন্সিল। এ বিষয়ে নগর কর্তৃপক্ষের দাবি, মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রতি যে আচরণ করছে, তাতে মিজ সুচি আর ‘ফ্রিডম অব দি সিটি’ নামের ওই পুরস্কারের যোগ্য নন।
    মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান, বৌদ্ধ এবং হিন্দু ঘরবাড়ি ছেড়ে রাখাইন রাজ্যের ভেতরেই সাময়িক আশ্রয়ে রয়েছে। ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এরপরই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অং সান সুচির বিরুদ্ধে সরব হয়। তার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাকে দেয়া সম্মাননা বাতিল করার দাবি ওঠে।
    অক্টোবরে তার এ খেতাব প্রত্যাহারের পক্ষে ভোট দেয়া কাউন্সিল। অক্সফোর্ড শহরের সাথে নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী অং সান সুচির নাম জড়িয়ে আছে, কারণ তিনি সেখানে পড়াশোনা করেছিলেন
  • মিস ইউনিভার্স মুকুট জিতলেন ডেমি পিটার্স

    মিস ইউনিভার্স মুকুট জিতলেন ডেমি পিটার্স

    মিস ইউনিভার্স-২০১৭ এর মুকুট জিতলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেমি লেই নেল পিটার্স। লাস ভেগাস স্ট্রিপের প্লানেট হলিউড ক্যাসিনো রিসোর্টের এক্সিস থিয়েটারে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

    ২২ বছর বয়সী নেল পিটার্স মিস ইউনিভার্সের মুকুটের সাথে পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন নিউইয়র্ক সিটিতে একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট। সম্প্রতি পিটার্স বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

    http://bangla.earthtimes24.com

    এবারের মিস ইউনিভার্সের ফার্স্ট রানার আপ কলোম্বিয়ার লরা গনজালেজ এবং সেকেন্ট রানার আপ হয়েছেন জ্যামাইকার ডেভিনা বেনেট। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৯২ জন প্রতিযোগী এবারের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

    http://bangla.earthtimes24.com

    গত বছর এই মুকুট জিতেছিলেন ফ্রান্সের ইরিশ মিতনেয়ার।

  • গুজরাট বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে কথার লড়াই ,মোদি চা-ওয়ালা, রাহুল বার-ওয়ালা

    গুজরাট বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে কথার লড়াই ,মোদি চা-ওয়ালা, রাহুল বার-ওয়ালা

    গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জয়ে উঠেছে ভারতের দুই শীর্ষ রাজনৈতিক দলের কথার লড়াই। এরই জের ধরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চা-ওয়ালা বলে খোঁচা দিয়ে বিতর্কিত ট্যুইট করেছিল কংগ্রেসের অনলাইন ম্যাগাজিন ‘যুবাদেশ’।

    তার পাল্টা জবাবে রাহুল গান্ধীর দলকে আক্রমণ করতে গিয়ে আমেদাবাদ পূর্বের বিজেপি সাংসদ পরেশ রাওয়াললের ট্যুইট, ”আপনাদের বার-ওয়ালার চেয়ে অনেক ভাল আমাদের চা-ওয়ালা। ”

    জি নিউজের খবর, পরেশ রাওয়ালের ট্যুইটকে হাতিয়ার করে আবারও কথার লড়াইয়ে নামে কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, চা-ওয়ালার চেয়েও এটা অত্যন্ত কুরুচিকর ট্যুইট। সমালোচনার মুখে ক্ষমা চেয়ে পরে অবশ্য ট্যুইটটি মুছে দেন পরেশ রাওয়াল। ওদিকে, গোটা দেশজুড়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার পর ‘যুবাদেশ’ও তাদের ট্যুইটটি মুছে দিয়েছে।

    গুজরাট ভোটের আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই দলের লড়াই জমে উঠেছে। ভার্চুয়াল জগতে একে অপরের বিরুদ্ধে তোপ দাগছেন কর্মীরা। তেমনই মঙ্গলবার একটি মিম ট্যুইট করেছিল যুবাদেশ। যা নিয়ে চারদিকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে কংগ্রেস।

    গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি বলেন, ”কংগ্রেসের গরিব বিরোধী ও অভিজাত মানসিকতারই প্রকাশ ঘটেছে এই এতে। ”

  • ঢাকা-নেপিডো সমঝোতা সই ,দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু

    ঢাকা-নেপিডো সমঝোতা সই ,দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু

    বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার একটি সমঝোতা সই করেছে মিয়ানমার। ‘রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের ফেরার ব্যবস্থা’ শীর্ষক এই সমঝোতার বিষয়ে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, দুই মাসের মধ্যে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত লোকজনের ফিরে যাওয়া শুরু হবে।

    প্রত্যাবাসনের জন্য ভৌত ব্যবস্থাবিষয়ক একটি সুনির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় দলিল দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মূলত আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর চেষ্টার অংশ হিসেবেই মিয়ানমার এই সমঝোতা সই করেছে।

    যদিও মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তর এই সমঝোতাকে উভয় দেশের জন্য জয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। ওই দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এবার ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থার ভিত্তি হবে ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সই করা যৌথ বিবৃতি। সেখানে রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের ধারাবাহিকভাবে পরিচয় যাচাই ও মিয়ানমারের গ্রহণ করার বিষয়ে সাধারণ নীতি ও নির্দেশিকা রয়েছে।

    নেপিডোতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে গতকাল সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর বৈঠকের পর দুই দেশ ওই সমঝোতায় সই করে।

    উল্লেখ্য, গত অক্টোবরে মিয়ানমার ১৯৯২ সালের যৌথ বিবৃতির আলোকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের প্রস্তাব দিলেও বাংলাদেশ এর বিরোধিতা করে বলেছিল, ১৯৯২ সালের চেয়ে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। তাই রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন সমঝোতা প্রয়োজন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীও এ বিষয়ে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের অবহিত করেছিলেন।

    বাংলাদেশের মূল যুক্তি ছিল, ১৯৯২ সালের যৌথ বিবৃতিতে যেভাবে রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাই করার কথা বলা হয়েছিল সেটি এবার করা হলে এ দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগের মিয়ানমারের বাসিন্দা হিসেবে প্রমাণ করা কঠিন হতে পারে। কেননা রাখাইন রাজ্যে এবার তাদের বাড়িঘর এমনভাবে পোড়ানো হয়েছে যে সেখানে তাদের কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।

    গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমঝোতার বিষয়ে যতটুকু জানা গেছে তাতে যে খুব নতুন কিছু আছে এমন নয়। কেবল একটি বিষয় নতুন রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী নেপিডোতে সাংবাদিকদের বলেছেন এবং পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম আগামী দুই মাসের মধ্যে শুরু করা হবে। এটি কবে নাগাদ শেষ হবে সেটি বলা হয়নি। এর আগে মিয়ানমার বলেছিল, তারা যাচাই-বাছাই করেই রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে। মিয়ানমার গতকাল যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে সেখানেও তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    রোহিঙ্গারা কিভাবে যাবে, তাদের যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া কী হবে—এসব বিষয় নির্ধারণ করবে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ। মিয়ানমারের একজন কর্মকর্তা একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাকে বলেছেন, কিভাবে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে তার একটি নমুনা ফরম বা তালিকা তারা বাংলাদেশকে দিয়েছেন। বাংলাদেশ যদি তাতে রাজি হয় তবে সেটির ভিত্তিতেই কাজ করা হবে।

    বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমার তার পুরনো অবস্থান থেকে সরে আসেনি। মিয়ানমার বলছে, যারাই মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায় তাদের নাগরিক প্রমাণ দিতে হবে। সেই প্রমাণ নিশ্চিত হওয়ার জন্য যা কিছু করা দরকার মিয়ানমার করবে।

    বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা হলো, মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অতীতে তেমন একটা ফল আসেনি। ২০০৫ সাল থেকে মিয়ানমার একতরফাভাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বন্ধ রেখেছে। দ্বিপক্ষীয় বিষয় হলে মিয়ানমার নানা টালবাহানা করে বিষয়টি পিছিয়ে দেয়। কিন্তু গতকাল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিজ্ঞপ্তি থেকে বোঝা যাচ্ছে এখানে কোনো বহুপক্ষীয় উদ্যোগ হচ্ছে না। এটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের বিষয় হিসেবেই থাকছে। মিয়ানমার তার বিজ্ঞপ্তিতে রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিকীকরণের বিরোধিতা করেছে।

    বিবিসি বাংলা জানায়, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে গতকাল সমঝোতা সইয়ের পেছনে আন্তর্জাতিক চাপ বা সমঝোতা কাজ করেছে। মিয়ানমারে সরকারি মহলে জানাশোনা আছে—এমন কয়েকজন সাংবাদিক বলেছেন, সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের পর মিয়ানমারে গেছেন। গতকাল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে তাতে চীন ভূমিকা রেখেছে।

    বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুকে যেভাবে আন্তর্জাতিকীকরণ করেছে বা করতে চেয়েছিল মিয়ানমার তা পছন্দ করছে না। বিবৃতিতে তারা বলেছে, বিষয়টি দ্বিপক্ষীয়ভাবেই সমাধান করতে হবে।

    তবে অন্য আন্তর্জাতিক চাপগুলোও এখানে কাজ করেছে বলে ধরে নেওয়া যায়। যেমন—গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের কথা বিবেচনার কথা বলেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে খুব তড়িঘড়ি করেই মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বার্তা দিতে চাচ্ছে যে তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে, যাতে তাদের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ কিছুটা হলেও লাঘব হয়।

    মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ইসলামী সহযোগিতা সংস্থাসহ (ওআইসি) পশ্চিমা দেশগুলো জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ ও সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব গ্রহণ করে বিষয়টিকে (রোহিঙ্গা সংকট) আন্তর্জাতিক ইস্যু হিসেবে দেখিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদও এ ইস্যুতে একটি প্রেসিডেনশিয়াল বিবৃতি ইস্যু করেছে। ’

    ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘মিয়ানমারের নীতিগত অবস্থান হলো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উদ্ভূত ইস্যুগুলো অবশ্যই দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে সমাধান করতে হবে। বন্ধুত্ব ও ভালো প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তিতে উভয় দেশের সম্মত এ ব্যবস্থায় (সমঝোতা) মিয়ানমারের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন এবং উভয় দেশের জন্য লাভজনক পরিস্থিতি এনে দিয়েছে। ’

    কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, প্রত্যাবাসনবিষয়ক সমঝোতা হলেও রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়া নির্ভর করছে পুরোপুরি তাদের ইচ্ছার ওপর। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় চায় না রোহিঙ্গাদের জোর করে ফেরত পাঠানো হোক। বাংলাদেশের এমন পরিকল্পনা নেই। বাংলাদেশ চায়, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন। এর জন্য মিয়ানমার সরকারকেই রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে। আর এটি রাতারাতি বা দুই মাসে সম্ভব নয়।

    বাংলাদেশি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নেপিডো থেকে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, গত বুধবার নেপিডোয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে সমঝোতায় একটি সময়সীমা রাখার কথা মিয়ানমারকে বলেছিল। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাইয়ে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও সম্পৃক্ত করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ।

    জ্যেষ্ঠ এক কূটনীতিক বলেন, মিয়ানমার বাংলাদেশের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করেনি। মিয়ানমার দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা বললেও শেষ করার সময়সীমা দেয়নি। বাংলাদেশ এক বছরের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শেষ করতে চেয়েছিল। কিন্তু মিয়ানমার কোনো সময়সীমা না দিয়ে বিষয়টি উন্মুক্ত রেখেছে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা বিষয়ে মিয়ানমার আগের চেয়ে নমনীয় হলেও এ বিষয়টি সমঝোতা দলিলে উল্লেখ করতে রাজি হয়নি।

    বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের পক্ষে স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের মন্ত্রী কিয়াও তিন সুয়ে ওই সমঝোতায় সই করেন। এ সময় তাঁরা ১৯৯৮ সালে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সীমান্ত চুক্তি অনুস্বাক্ষর দলিল বিনিময় করেন। তাঁরা ২০০৭ সালে সম্মত ‘নাফ নদীতে সীমান্ত নির্ধারণী অতিরিক্ত প্রটোকল’ও সই করেন।

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী নেপিডোতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে বহুল প্রত্যাশিত ঐকমত্যে পৌঁছার পর তাঁরা সমঝোতা সই করেছেন। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হবে। সমঝোতা সই করা প্রথম ধাপ। এখন আমরা দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু করব। ’

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল সকালে নেপিডোয় মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ইউন মিয়াত আয়ের সঙ্গে দেখা করে রাখাইন রাজ্যের জন্য উপহার হিসেবে তিনটি অ্যাম্বুল্যাসও দিয়েছেন।

    গতকাল বিকেলে ঢাকায় একটি সম্মেলন শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রথম ধাপ। এটি গুরুত্বপূর্ণ। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার ঢাকায় এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন।

    জানা গেছে, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার খসড়া ছয় দফা চালাচালির পর গত বুধবার বৈঠকে তা চূড়ান্ত হয়। বৈঠকে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহিদুল হক, মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম সুফিউর রহমানসহ এ দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কার্যালয়গুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    সমঝোতা সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেন, ‘যতটুকু খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে বাংলাদেশের আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই। মিয়ানমার বারবার কালক্ষেপণ করেছে এবং তাদের লোকদের ফিরিয়ে নেওয়ার যে দায় রয়েছে তা অস্বীকার করার চেষ্টা করেছে। সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না থাকাকে তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। আমরা যদ্দূর জানি, বাংলাদেশ এক বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করতে চেয়েছিল। সেটি অর্জিত হয়নি। ’

    পরিচয় যাচাই ও প্রত্যাবাসনের পর তৃতীয় কোনো পক্ষের সম্পৃক্ততার বিষয়টি আরো উদ্বেগের উল্লেখ করে সি আর আবরার বলেন, রোহিঙ্গারা কতটা স্বেচ্ছায়, মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে ফিরে যেতে পারবে তার কোনো ইঙ্গিত এখানে নেই।

    এদিকে রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সচেতন করা অব্যাহত রেখেছে। ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী গতকাল নয়াদিল্লিভিত্তিক বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপ, আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া, মধ্য পূর্ব ও পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর ৭৭ জন রাষ্ট্রদূতকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি অবহিত করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ও মানবাধিকার পরিষদে আগামী মাসেই রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ মিয়ানমারকে এ সংকট সমাধানে বাধ্য করতে বৈশ্বিক সমর্থন প্রত্যাশা করছে।

  • তিব্বত আর স্বাধীন হতে চায় না : দালাই লামা

    তিব্বত আর স্বাধীন হতে চায় না : দালাই লামা

    তিব্বতের নির্বাসিত আধ্যাত্মিক নেতা দালাইলামা চীনের হাত থেকে স্বাধীন হতে চেয়েছিলেন আগে। কিন্তু এবার দীর্ঘদিনের সে স্বাধীনতার দাবি ত্যাগ করে চীনের অধীনে থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে দালাইলামা বলেন, আমরা স্বাধীনতা চাইব না। আমরা চীনের সঙ্গে থাকতে চাই। আমরা আরও উন্নয়ন চাই।

    গতকাল বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি তিব্বতের স্বাধীনতার দাবি ত্যাগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন।

    দালাইলামা বলেন, দুটি আলাদা দেশ হলেও চীন-তিব্বতের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে, যদিও মাঝে মধ্যে লড়াই হয়।

    তিনি আরও বলেন, অতীত অতীতই। আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চাই। স্বাধীনতার দাবি ত্যাগ করলেও তিব্বত ও তিব্বতিদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার প্রতি জোর দিয়েছেন স্বেচ্ছায় ভারতে নির্বাসিত এই আধ্যাত্মিক নেতা।

    তিনি বলেন, তিব্বতের আলাদা সংস্কৃতি আছে এবং পৃথক জীবনপ্রণালি আছে।

    চীনারা তাদের দেশকে ভালোবাসে এবং আমরাও আমাদের দেশকে ভালোবাসি।

    দালাইলামার দাবি, কোনো চীনাই ঠিকমতো জানেন না গত কয়েক দশকে কী কী ঘটে গেছে। বৌদ্ধ ধর্মের এ আধ্যাত্মিক নেতা তিব্বত মালভূমির বাস্তুসংস্থান রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    সূত্র : এনডিটিভি

  • বসনিয়ার কসাইয়ের বিচারের সময় পরিক্রমা

    বসনিয়ার কসাইয়ের বিচারের সময় পরিক্রমা

    নেদারল্যান্ডসের হেগে জাতিসংঘের ট্রাইব্যুনালে রাদকো ম্লাদিচের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের  মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ ২২ বছর অপেক্ষার পরে বিচার পেল বসনিয়ার স্রেব্রেনিকা ও সারায়েভোতে গণহত্যার শিকার হওয়া মুসলিমরা। বসনিয়ার কসাই বলে খ্যাত ম্লাদিচের বিচারের সম্মুখীন হওয়ার সময় পরিক্রমাটা সংক্ষেপে পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল-
    জুন ১৯৯১, যুগোস্লাভিয়ায় ভাঙন
    স্লোভেনিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্যে যুগোস্লাভিয়ার ভাঙনের শুরু হয়। সার্ব নেতৃত্বাধীন যুগোস্লাভিয়ান সেনাবাহিনী ১০ দিনের যুদ্ধ শেষে স্লোভেনিয়া ত্যাগ করে, তবে ক্রোয়েশিয়ার যুদ্ধটি ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
    এপ্রিল ১৯৯২, বসনিয়ায় যুদ্ধ শুরু
    বসনিয়ার দুই তৃতীয়াংশ এলাকার দখল নেয়ায় বসনিয়ায় থাকা সার্বীয়রা এবং রাদকো ম্লাদিচের নেতৃত্বে সারায়েভো অবরোধ শুরু হয়। এর এক মাস পরেই বসনিয়াতে সার্ব বাহিনীর কমান্ডার হন ম্লাদিচ। ৪ বছরব্যাপী অবরোধে ১১ হাজার ৫শ মানুষের মৃত্যু হয়।
    জুলাই ১৯৯৫, স্রেব্রেনিকা গণহত্যা
    ম্লাদিচের নেতৃত্বে তার সেনাবাহিনী স্রেব্রেনিকা দখল করে। সেখানে ৭ হাজারেরও বেশি মুসলিম পুরুষ ও কিশোরকে স্রেফ হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে সার্ব বাহিনীর উপর বিমান হামলা করে ন্যাটো। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ফরমার যুগোস্লাভিয়া ম্লাদিচ ও সাবেক বসনীয়-সার্ব নেতা রাদোভান কারাদিচের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ গঠন করে।
    ১ নভেম্বর, ১৯৯৫ ডেটন চুক্তি সাক্ষর
    ১৯৯৫ সালে ডেটন চুক্তির মাধ্যমে বসনিয়া যুদ্ধের অবসান হয় এবং সেখানে দুটি রাষ্ট্র সৃষ্ট হয়। একটি বসনীয় ও সার্বদের নিয়ে, আরেকটি মুসলিম ও ক্রোয়েশীয়দের নিয়ে।
    ১৯৯৭, ম্লাদিচের পলায়ন
    ম্লাদিচের সন্ধানে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা এবং ন্যাটোর শান্তিরক্ষী বাহিনীর অভিযান জোরদার হয়। কিন্তু পরিবার ও সার্বিয়ায় তার সমর্থকদের সহায়তায় তাদের চোখে ফাঁকি দিয়ে পলাতক থাকেন ম্লাদিচ। তাকে ফুটবল খেলার মাঠে দেখা যায়, এমনকি সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডের জনপ্রিয় রেস্তোরাতে তোলা তার ছবিও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
    ২৬ মে, ২০১১ ম্লাদিচ গ্রেফতার
    সার্বিয়ার উপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে ম্লাদিচ গ্রেফতার হন। ওই বছরের জুনে জাতিসংঘ ট্রাইবুনালের সম্মুখীন হন তিনি।
    ১ ডিসেম্বর, ২০১৬ অভিযোগের শুনানির সমাপ্তি
    ইউরোপে ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালের পরে সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ গণহত্যা বিষয়ক অভিযোগের শুনানির শেষ হয়। জাতিসংঘ ট্রাইব্যুনাল ৫৩০ দিনব্যাপী শুনানিতে ৫৯১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে এবং ১০৬টি ভিন্ন অপরাধের ১০ হাজার প্রমাণ যাচাই বাছাই করে।
    ২২ নভেম্বর, ২০১৭ ম্লাদিচ দোষী সাব্যস্ত
    স্রেব্রেনিকা হত্যাকাণ্ডের ২০ বছর পর ৭৪ বছর বয়সী ম্লাদিচকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়।
  • রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে চলতি সপ্তাহে ‘চুক্তি’: সু চি

    রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে চলতি সপ্তাহে ‘চুক্তি’: সু চি

    রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে ঢাকার সঙ্গে চলতি সপ্তাহে একটি চুক্তি সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারের বেসামরিক সরকারের প্রধান অং সান সু চি। মঙ্গলবার এশিয়া-ইউরোপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন আসেমের দ্বিতীয় দিনে তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।

    এ সময় সু চি বলেন, গত তিন মাসে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের ‘স্বেচ্ছায় ও নিরাপদে ফেরাতে’ চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তি সই হবে।

    এদিকে, রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে নিরাপদে ফেরাতে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার শিগগিরই একটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তিতে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেন ইইউ’র পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি।

    মঙ্গলবার সকালে বৈঠক শুরুর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র এবং নিরাপত্তা নীতিমালা সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে রাখাইন সঙ্কট নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেন।

    আলোচনায় মিয়ানমার, বাংলাদেশ, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, এস্তোনিয়া, জার্মানি, মাল্টা, রাশিয়া, লুক্সেমবার্গ, ফ্রান্স, থাইল্যান্ড, হাঙ্গেরি, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা অংশ নেন।

    সূত্র: রয়টার্স

  • শেখ হাসিনা, সিনহা’র প্রসঙ্গ টেনে নওয়াজ কন্যা’র ট্যুইট

    শেখ হাসিনা, সিনহা’র প্রসঙ্গ টেনে নওয়াজ কন্যা’র ট্যুইট

    পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের সমালোচনা করতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার উদাহরণ টেনেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের কন্যা মরিয়ম নওয়াজ শরীফ। টেলিভিশনে দেখানো শেখ হাসিনার একটি ছবি যুক্ত করে গত ১৬ নভেম্বর ট্যুইট করেন মরিয়ম।

    সেখানে তিনি বাংলাদেশের বিচার বিভাগে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ টানায় নিজের দেশকে ছোট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে বলেন, এভাবেই অন্য দেশ আপনাদের বিচার বিভাগকে দেখছে। একটি খারাপ সিদ্ধান্ত ন্যায় বিচারের সব সুনাম ক্ষুন্ন করে।

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি আপিল বিভাগে এক শুনানিতে পাকিস্তানের বিচার বিভাগের উদাহরণ টানেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। তার এই বক্তব্যের পরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এস কে সিনহার নাম উল্লেখ না করে সমালোচনা করে বলেন, তার পদত্যাগ করা উচিত। পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করা সবচেয়ে অপমানজনক বিষয়। এটি সহ্য করা হবে না।

  • হিজাব পরায় ভারতে চাকরি মিলল না মুসলিম নারীর!

    কাজের সন্ধানে ভারতের পাটনা থেকে দিল্লি এসেছিলেন নেডাল জোয়া (২৭)। একটি ভাল চাকরিও প্রায় জুটিয়ে ফেলেছিলেন।

    হিজাব পরার কারণেই শেষ পর্যন্ত চাকরিটি দেওয়া হল না জোয়াকে। গোটা বিশ্বের পাশাপাশি ভারতেও ইসলামোফোবিয়া যে কতটা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে এই ঘটনাই তার উদাহরণ।

    মুম্বাইয়ের টাটা ইন্সিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস (টিস) মাস্টার্স করেছেন জোয়া। গত অক্টোবরে আবেদন করেন দিল্লির কোটলা মুবারকপুরে অবস্থিত একটি নারী অরফানেজ হোমের সোশ্যাল ওয়ার্কার পদে। শর্ট লিস্টের পর ওই অরফানেজ হোমের সিইও হরিশ ভার্মা আবেদনকারী জোয়াকে অনলাইন টেস্টে বসার জন্য বলেন। তার একটি ছবি পাঠানোর কথাও বলা হয়। নিয়োগের একটি প্রাথমিক শর্ত হিসাবে জোয়াকে তার হিজাবটি খুলে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    তা করতে অস্বীকার করায় জোয়াকে একটি মেইল পাঠান সিইও হরিশ ভার্মা। সেখানেই ভার্মা জানান, আমি সত্যিই হতবাক যে জোয়া মানবিকতাকে অগ্রাধিকার না দিয়ে কট্টর ইসলামকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

    জোয়ার সমস্ত উচ্চশিক্ষাই নর্দমায় চলে গেছে। তার ওই অরফানেজের ভিতর কোনরকম ধর্মমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ওই পদের জন্য অন্য একজন মুসলিম নারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যিনি ‘আধুনিক এবং ধর্ম মুক্ত চিন্তাধারার’।

    এ ব্যাপারে ভার্মা জানান, আমরা একটি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র, আমরা কখনওই ধর্মের ওপর ভিত্তি করে কোন ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দিতে চাই না। সেই কারণেই আমি আমার অরফানেজটিকে ধর্ম-মুক্ত করতে চাই। আমার ধর্ম হল মানবিকতা এবং অবশ্যই আমার প্রতিষ্ঠানে কোন ধর্মকেই কোনরকম প্রাধান্য দেওয়া হবে না।

    জোয়া জানান,  আমার স্কার্ফ আমার সাহস ও আত্মবিশ্বাস যোগায় এবং আমার মাথায় আবরণ দেওয়াটা সম্পূর্ণভাবে আমার ব্যক্তিগত পছন্দ। ইমেইলে আমাকে বলা হয়, ‘এক কিলোমিটার দূর থেকেও আপনাকে একজন মুসলিম নারীর মতো দেখতে লাগে এবং সেটা আপনার বাহ্যিক পোশাকের কারণে। ‘

    এ ব্যাপারে দিল্লির শাসক দল আম আদমি পার্টি (আপ)’র স্থানীয় বিধায়ক সৌরভ ভরদ্বাজ জানান,  জোয়া যদি কোন অভিযোগ জানায় তবে সেক্ষেত্রে তার সরকার অভিযুক্ত ভার্মার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। ভারতীয় সংবিধান কখনই কারও বিশ্বাসের ভিত্তিতে বৈষম্য করার অনুমতি দেয়নি।