Category: আন্তর্জাতিক

  • মোশাররফ-জিয়ার মার্শাল ল-ই ভালো ছিল, কেন বললেন ইমরান খান

    মোশাররফ-জিয়ার মার্শাল ল-ই ভালো ছিল, কেন বললেন ইমরান খান

    পাকিস্তানের বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার তুলনায় সাবেক সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফ এবং জিয়া-উল-হকের মার্শাল ল বিধি-ব্যবস্থা ভালো ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান।

    শনিবার সংবাদ মাধ্যম দ্য নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

    ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি। শুক্রবার ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ড দুর্নীতি মামলার শুনানির সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রকে সম্মান করেন এবং ভোটাধিকারকে মূল্য দেন, তারা একপাশে দাঁড়িয়েছেন। আর যারা কেবল ক্ষমতার অন্ধভক্ত, তারা অন্যপাশে।

    তিনি শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসনকে বৈধ শাসক হিসেবে মানতে অস্বীকৃতি জানান এবং নির্বাচন পরিচালনায় দুর্নীতি ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন।

    ইমরান খান সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বারবার সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে তিনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সামরিক বাহিনীর বেসরকারি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকার কারণে এমন সম্পর্ক গড়ে তোলা বোকামি হবে না।

    তার মতে, সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংলাপে কোনো ক্ষতি নেই।

    এদিকে লাহোরে পিটিআই দলের শনিবারের সমাবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইমরান খান প্রশ্ন তোলেন- কেন তার দলকে মিনার-ই-পাকিস্তানে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। যেখানে অতীতে একই স্থানে জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলাম (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

    লাহোর জেলা প্রশাসন পিটিআইকে মিনার-ই-পাকিস্তানে সমাবেশ করার অনুমতি না দিয়ে কঠোর শর্তের অধীনে কাহনা এলাকায় সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে।

    এছাড়াও, ইমরান খান বর্তমান সরকারের পরিকল্পিত সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রসঙ্গে বলেছেন, এ সংশোধনীতে প্রধান বিচারপতি সরাসরি সুবিধাভোগী হবেন।

    এর আগে, ইসলামাবাদের বিশেষ অ্যাকাউন্টেবিলিটি কোর্টের বিচারক নাসির জাভেদ রানা আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবির বিরুদ্ধে মামলা ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেন।

    শুনানিতে দুজন অভিযুক্ত এবং তাদের আইনজীবীসহ ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরোর (ন্যাব) আইনজীবীও উপস্থিত ছিলেন। বুশরা বিবির আইনজীবী উসমান গুল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিয়ান উমর নাদিমকে জেরা শুরু করেন। সূত্র: জিও নিউজ

  • ভারতে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ‘লেডি ডন’ গ্রেফতার

    ভারতে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ‘লেডি ডন’ গ্রেফতার

    এয়ার ইন্ডিয়ার একজন ক্রুকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলে থাকা কুখ্যাত গ্যাংস্টার কপিল মানের বান্ধবী কাজল খত্রীকে গ্রেফতার করেছে ভারতীয় পুলিশ। দেশটির গণমাধ্যম কাজলকে ‘লেডি ডন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

    কাজল খত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত জানুয়ারিতে দিল্লির নয়ডা এলাকার একটি জিম থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন এয়ার ইন্ডিয়ার ক্রু ৩০ বছর বয়সী সুরজ মান। পরে ধাওয়া করে তাকে তার গাড়ির ভেতরেই গুলি করে হত্যা করা হয়। খুনিরা বাইকে করে এসে সুরজকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। এই খুনের পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন লেডি ডন কাজল খত্রী।

    এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলে থাকা গ্যাংস্টার কপিল মানের নির্দেশেই তার প্রেমিকা কাজল সুরজ মানকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিলেন। নিহত সুরজ মান ছিলেন অপর গ্যাংস্টার পারভেশ মানের ভাই। পারভেশ মানও এখন দিল্লির মান্ডোলি জেলে বন্দি।

    জানা গেছে, কাজল খত্রী শুটার পাঠিয়ে সূরজ মানকে হত্যা করেছেন। ‘লেডি ডন’ হিসেবে পরিচিত কাজল নয়ডা এবং দিল্লি পুলিশের কাছে ওয়ান্টেড ছিলেন। এবার দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ তাকে গ্রেফতার করেছে।

    গত ১৯ জানুয়ারি এয়ার ইন্ডিয়ায় কাজ করা সুরজ মানকে দুই বন্দুকধারী গুলি করে হত্যা করেছিল। এই হত্যার তদন্ত করতে গিয়ে জানা যায়, কাজল খত্ৰী নামে এক লেডি ডন দুই শুটারকে ভাড়া করেছিলেন।

    কাজলের প্রেমিক কুখ্যাত গ্যাংস্টার কপিল মানের সঙ্গে অপর গ্যাংস্টার পারভেশ মানের চলমান শত্রুতার জেরেই পারভেশের ভাই সুরজকে হত্যা করা হয়। কপিল মান জেলে থাকার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য কাজলকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন তিনি।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার কাজল নিজেকে জেলে থাকা গ্যাংস্টার কপিল মানের স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। কারাবন্দি কপিল মানকে খুন করার পরিকল্পনা করছিলেন পারভেশ মান। তাই পারভেশের ভাইকে খুন করে এর প্রতিশোধ নিয়েছেন কপিল।

    পুলিশ আরও জানিয়েছে, জেলে থাকায় কপিলের মানের পুরো গ্যাং পরিচালনা করছিলেন কাজ খত্রী। এবার তাকে গ্রেফতার করে নয়ডা পুলিশের কাছে সমর্পণ করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের সিনিয়র অফিসার সঞ্জয় ভাটিয়া জানিয়েছেন, ক্রাইম ব্রাঞ্চের নর্দান রেঞ্জের দল কাজলকে গ্রেফতার করেছে।

    সূত্র: এনডিটিভ

  • তুরস্কের বিমান হামলায় ইরাকে ২৪টি পিকেকের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস

    তুরস্কের বিমান হামলায় ইরাকে ২৪টি পিকেকের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস

    তুরস্কের বিমান হামলা উত্তর ইরাকে পিকেকে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত ২৪টি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছে দেশটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

    বুধবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর ডেইলি সাবাহার।

    এতে বলা হয়েছে, বিমান অভিযানটি ইরাকের পার্বত্য হাকুরক, গারা, কান্দিল এবং তুর্কি সীমান্তের কাছে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি, আশ্রয়কেন্দ্র ও ডিপোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নিয়েছিল। পিকেকে তুর্কি সীমান্তের কাছে উত্তর ইরাককে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে এবং প্রায়ই তুর্কি ও উত্তর সিরিয়ার স্থানীয়দের ওপর আক্রমণ চালায়।

    কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার (কেআরজি) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত উত্তর ইরাকে পিকেকের উপস্থিতি দৃঢ়, যেখানে কেন্দ্রীয় ইরাকি সরকারের প্রভাব সীমিত।

    তুর্কি অভিযানগুলো পিকেকের অভ্যন্তরীণ উপস্থিতিকে প্রায় বিলুপ্তির দিকে নিয়ে গেছে, ফলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটি তাদের অপারেশনগুলোর একটি বড় অংশ উত্তর ইরাকে স্থানান্তরিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মাউন্ট কান্দিল অঞ্চলের একটি শক্তিশালী ঘাঁটি, যা ইরবিল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।

    গত ২৫ বছরে তুর্কি সরকার উত্তর ইরাকে পিকেকের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। ২০২২ সাল থেকে সন্ত্রাসীদের আস্তানা ধ্বংস এবং সন্ত্রাসী করিডোর নির্মাণ রোধে ‘ক্লো’ অপারেশনের অংশ হিসেবে বিমান হামলা চালাচ্ছে।

    তুর্কির ক্রসবর্ডার অপারেশনগুলো বছরের পর বছর ধরে উত্তেজনার কারণ হয়েছে। আঙ্কারা ইরাকের কাছে পিকেকে মোকাবিলায় সহযোগিতা চাইছে এবং বাগদাদ মার্চ মাসে এই গোষ্ঠীটিকে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

    প্রায় ৪০ বছরের সন্ত্রাসী অভিযানে থাকা পিকেকে—যা তুর্কি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বারা গঠিত একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত। সংগঠনটি নারী এবং শিশুসহ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী।

  • হঠাৎ ভবনে ধস, একই পরিবারে প্রাণ গেল ৯ জনের

    হঠাৎ ভবনে ধস, একই পরিবারে প্রাণ গেল ৯ জনের

    ভবনধসের ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনই একই পরিবারের সদস্য। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশে।

    এছাড়া উদ্ধারকাজ এখনো চলছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েকজন আটকে থাকে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার বিকালে ভবনধস ও হতাহতের এই ঘটনা ঘটে।

    রোববার পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই এবং সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

    এদিন একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশের মিরাটে ভবন ধসে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আহত আরও পাঁচজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, ভবনধসের পর ঘটনাস্থলটি সিল করে দেওয়া হয়েছে, তবে ‘ধ্বংসাবশেষে কোনও জীবিত মানুষ যেন আটকে না থাকেন’ তা নিশ্চিত করতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

    পাঁচজন আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, এবং উদ্ধারকৃত মৃতদেহ ময়নাতদন্তসহ আরও মেডিকেল প্রক্রিয়ার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তার মতে, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মিরাট শহরের জাকির কলোনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    অন্যদিকে পৃথক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, শনিবার উত্তরপ্রদেশের মিরাটে একটি তিনতলা বাড়ি ধসে একই পরিবারের অন্তত নয়জন সদস্য নিহত এবং চারজন আটকা পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে জাকির নগর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

    উদ্ধার কাজের জন্য জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, ফায়ার ব্রিগেড এবং পুলিশের দল তৎপরতা চালাচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, ভবনের মালিক সেখানে একটি ডেইরি চালাতেন এবং দুই ডজনেরও বেশি মহিষও সেখানে আটকে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ভবনটিতে প্রাথমিকভাবে ১৫ জন আটকা পড়েছিল, যাদের মধ্যে ১১ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদের মধ্যে ৯ জন মারা যায়। নিহতরা হলেন- সাজিদ (৪০), তার মেয়ে সানিয়া (১৫), ছেলে সাকিব (১১), সিমরা (দেড় বছর), রিজা (৭), নাফো (৬৩), ফারহানা (২০), আলিসা (১৮) এবং আলিয়া (৬)।

  • ভয়াবহ বন্যার কবলে গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমার, নিহত ৩৩

    ভয়াবহ বন্যার কবলে গৃহযুদ্ধে জর্জরিত মিয়ানমার, নিহত ৩৩

    ঘূর্ণিঝড় ইয়াগির আঘাতে লণ্ডভণ্ড ভিয়েতনাম। এটিকে এশিয়ায় চলতি বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় বলা হচ্ছে। ইয়াগির আঘাতের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রতিবেশী মিয়ানমারও। একদিকে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত, এরমধ্যে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে গৃহযুদ্ধে জর্জরিত দেশটি।

    চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বন্যায় মিয়ানমারে অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং দুই লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নে পাই তাওসহ মিয়ানমারের মোট ৩৪টি অঞ্চল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেখানে ৫৯ হাজার পরিবারের অন্তত দুই লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১৮৭ বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

    এদিকে মিয়ানমার নিহতের সংখ্যা ৩৩ জানালেও, এই সংখ্যা আরও বেশি বলে এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে রেডিও ফ্রি এশিয়া। তাদের প্রতিবেদনে যে সব ছবি প্রকাশ পেয়েছে, তাতে চলমান বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ মনে করা হচ্ছে।

    মার্কিন সমর্থিত সংবাদমাধ্যমটি শুক্রবার জানিয়েছে, চলমান বন্যা ও ভূমিধসে মিয়ানমারে অন্তত ১৬০ জন নিহত হয়েছে। এতে যুদ্ধ এবং স্থবির অর্থনীতিতে জর্জরিত দেশটিতে ব্যাপক দুর্ভোগের জন্ম দিয়েছে।

    জাতিগত সংঘাত এবং গণতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহীগোষ্ঠীর আক্রমণের মুখে অঞ্চল ধরে রাখতে লড়াই করছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এরমধ্যে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি সামরিক জান্তাকে আরও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। দুর্যোগ মোকাবিলা এবং ত্রাণ সংস্থান কীভাবে সামলাবে জান্তা সরকার, তা নিয়ে গুরুতর বিপর্যয় ধারণা করা হচ্ছে।

    জাতিসংঘের মতে, গত তিন বছরের গৃহযুদ্ধের কারণে মিয়ানমারে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং ২৬ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়ের কার্যালয় (ওসিএইচএ) বলছে, মিয়ানমারে বর্তমানে প্রায় এক কোটি ৮৬ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন রয়েছে।

    এদিকে বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন জানিয়েছেন, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, চীন, থাইল্যান্ড, লাওস এবং ফিলিপাইনসহ ঘূর্ণিঝড় ইয়াগির ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত দেশটির বেসামরিক সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডি।

  • পেঁয়াজ রপ্তানিতে শর্ত শিথিল ও শুল্ক কমাল ভারত

    পেঁয়াজ রপ্তানিতে শর্ত শিথিল ও শুল্ক কমাল ভারত

    ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান পেঁয়াজ রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশসহ অনেক দেশ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে। বাংলাদেশের আমদানিকারকেরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে আগ্রহী থাকেন। কারণ, প্রতিবেশী দেশটি থেকে দ্রুত পণ্য আনা যায়। আর বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের চেয়ে বেশি।

    পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপের চার মাস পর তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করেছে ভারত। শনিবার থেকে এ হার কার্যকর হয়েছে বলে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে।

    শুক্রবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পণ্যটির ন্যূনতম রপ্তানি মূল্যের শর্ত প্রত্যাহার করে, যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় শুল্ক কমানোর ওই নির্দেশনা জারি করে।

    প্রতি টন পেঁয়াজ রপ্তানির ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৫৫০ ডলার মূল্যের যে শর্ত ছিল, দেশটির সরকার তা প্রত্যাহার করেছে। পাশাপাশি কমানো হয়েছে রপ্তানি শুল্ক। গুরুত্বপূর্ণ পেঁয়াজ উৎপাদান অঞ্চল মহারাষ্ট্র রাজ্যে নির্বাচনের আগে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপরে থাকা কঠোর শর্ত শিথিল করা হলো।

    টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড শুক্রবার পেঁয়াজের সর্বনিম্ন রপ্তানিমূল্য বা ‘মিনিমাম এক্সপোর্ট প্রাইস’–সংক্রান্ত শর্ত বাতিল করার সিদ্ধান্ত জানায়। এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বের কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়। এর ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা এখন যেকোনো দামে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারবেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু লিখেছে, বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী রাজ্য মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকার বিধিনিষেধ শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    এ সিদ্ধান্তের কারণে পেঁয়াজ রপ্তানি বেড়ে যাবে, তাতে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় বিধানসভা নির্বাচনের আগে চাষিরা ভালো মুনাফা পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    অনাবৃষ্টির পর অভ্যন্তরীণ ঘাটতির আশঙ্কায় গেল ডিসেম্বরে ‘রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর’ রান্নাঘরের প্রধান এ পণ্যের রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছিল ভারত। এরপর মার্চে কয়েকটি দেশের কূটনৈতিক অনুরোধে কিছু চালান রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়।

    এরইমধ্যে বিশ্বজুড়ে পেঁয়াজের উচ্চমূল্য দেখা দেয়, কিন্তু রপ্তানি বন্ধ থাকায় ভালো দাম না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন পেঁয়াজ চাষিরা।

    তখন রাজনৈতিক কারণে সিদ্ধান্ত বদলাতে হয় কেন্দ্র সরকারকে। লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৪ মে পণ্যটির রপ্তানি ক্যাটাগরি ‘নিষিদ্ধ’র পরিবর্তে ‘ফ্রি’ করা হয়।

    ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভারত থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানি করা হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ১৭ হাজার টন। ভারতে এপ্রিল থেকে অর্থবছর শুরু হয়।

    সর্বনিম্ন রপ্তানিমূল্য বাতিলের সিদ্ধান্তের কারণে ভারতীয় পেঁয়াজচাষিরা লাভবান হবেন। কারণ, তারা স্থানীয় বাজারের তুলনায় বেশি দামে বিশ্ববাজারে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারবেন।

    ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, দিল্লি পেঁয়াজ রপ্তানির শর্ত কঠোর করার পর মহারাষ্ট্রের পেঁয়াজচাষিরা ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন। তবে দেশটির সাধারণ নির্বাচনের আগে সরকার বাজারে পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর থাকা বিধিনিষেধ শিথিল করতে চায়নি।

  • প্রথমবার মহাশূন্যে হাঁটলেন বেসামরিকরা

    পৃথিবীর বাইরের জগত নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। অনেকেই জীবনে একবার হলেও পৃথিবীকে বাইরে থেকে দেখতে চান। কিন্তু এ ধরনের অভিযানে কেবল মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় কর্মরত বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা অংশ নেন। ফলে চাইলেও সাধারণ কোনো ব্যক্তির মহাশূন্যে যাওয়ার সুপ্ত ইচ্ছা পূরণ হয় না। তবে এই প্রথমবারের মতো মহাশূন্যে হাঁটলেন বেসামরিকরা।

    বৃহস্পতিবার বিলিয়নিয়ার ব্যবসায়ী জ্যারেড আইজ্যাকম্যান (৪১) প্রথমবার অপেশাদার নভোচারী হিসাবে মহাশূন্যে যাত্রা করেন। মহাকাশ অভিযানের পুরো বিষয়টি লাইভ স্ট্রিমের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।

    চার সদস্যের একটি দল ৫ দিনের জন্য মিশনটিতে অংশগ্রহণ করেছিল। ব্যতিক্রমী মিশনটির নাম ছিল ‘পোলারিস ডন মিশন’। মঙ্গলবার ভোরে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এ অভিযানের জন্য যাত্রা শুরু করে দলটি। স্পেএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটে চড়ে রওনা হন চার নভোচারী। মহামূন্যে পৌঁছে স্পেসএক্সের ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলে সওয়ার হন তারা।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা ৫২ মিনিটে নভোযান থেকে বেরিয়ে আসেন জ্যারেড। এ সময় তার ক্যাপসুলটি পৃথিবী থেকে শত শত মাইল দূরে ৩০,০০০ কিমি./ঘণ্টা বেগে প্রদক্ষিণ করছিল। পৃথিবীর পৃষ্ঠের দিকে তাকিয়ে আইজ্যাকম্যান বলছিলেন, ‘বাড়িতে আমাদের সকলেরই অনেক কাজ আছে। কিন্তু বাইরে থেকে সত্যিই পৃথিবীকে এক নিখুঁত বিশ্বের মতো দেখায়।’

    এরপর আইজ্যাকম্যানকে অনুসরণ করে বের হয়ে আসেন মিশন বিশেষজ্ঞ সারাহ গিলিস। এ সময় তাদের অন্য দুই সঙ্গী স্কট পোটিট ও আনা মেনন মহাকাশযানের মধ্যে ছিলেন।

    মহাকাশ বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, এই অভিযানটি নতুন এক দিগন্তের সূচনা করবে। এমনকি এরই মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিকভাবেও ব্যাপক অগ্রগতি হবে মহাকাশ শিল্পে। সূত্র: এএফপি, দ্য গার্ডিয়ান।

  • বিচ্ছেদের পর ‘ডিভোর্স’ নামের সুগন্ধি নিয়ে হাজির রাজকুমারী

    বিচ্ছেদের পর ‘ডিভোর্স’ নামের সুগন্ধি নিয়ে হাজির রাজকুমারী

    স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর নতুন করে আলোচনায় দুবাইয়ের রাজকুমারী শেখ মাহরা বিনতে মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। গত জুলাইয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিচ্ছেদের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। এবার নতুন এক সুগন্ধি বাজারে আনার ঘোষণা দিয়ে শিরোনাম হলেন এই রাজকুমারী। মূলত নামের কারণেই আলোচিত হচ্ছে এই সুগন্ধি।

    টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, মাহরার প্রসাধনী সংস্থা ‘মাহরা এম১’ এর তৈরি করা নতুন সুগন্ধির নাম ‘ডিভোর্স’। এখনও পর্যন্ত এই সুগন্ধি বাজারে আসেনি। তবে সংস্থাটি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, শিগগিরই দুবাইয়ের বাজারে এই সুগন্ধি পাওয়া যাবে।

    সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, সুগন্ধির কালো বোতলের গায়ে ইংরেজি হরফে সাদা কালিতে লেখা ‘ডিভোর্স’। তবে সুগন্ধির গোটা প্যাকেজিং এমনই হবে কি না, সেটা অবশ্য নিশ্চিত করে কোথাও উল্লেখ করা নেই।

    অনেকেই এই সুগন্ধির দাম জানতে কৌতূহল প্রকাশ করেছেন। তবে দামের বিষয়েও আপাতত কিছু জানায়নি মাহরা এম১।

  • সেফ জোনে ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, নিহত ৪০

    সেফ জোনে ঘুমন্ত ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, নিহত ৪০

    ফিলিস্তিনের নিরীহ মানুষদের ওপর ইসরাইলের হত্যাযজ্ঞ চলছেই। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে খান ইউনিসের আল মাওয়াসি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরাইল। এই হামলায় কমপক্ষে ৬০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তুর্কি সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ।

    আল মাওয়াসি অঞ্চলের যে জায়গায় এই হামলা চালানো হয়, সে জায়গাটিকে সেফ জোন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। তাই সেখানে শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছিলেন বহু ফিলিস্তিনি।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যমতে, ক্যাম্পের তাঁবুগুলোকে লক্ষ্য করে ৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে ইসরাইল। এতে ঘটনাস্থলেই অনেকে প্রাণ হারান।

    হামলার পক্ষে সাফাই গেয়ে ইসরাইল দাবি করেছে, সেফ জোনে থাকা শরণার্থী ক্যাম্পে হামাসের কমান্ড সেন্টার ছিল। হামাস এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, ভয়াবহ সব অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার জন্য এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে ইসরাইল।

    গাজার জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এখনো মৃতদেহ উদ্ধার করছি এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য পাঠাচ্ছি। এটা আরেকটা ইসরাইলি হত্যাকাণ্ড’।

    জরুরি সেবাদানকারীদের ধারণা, এখনো অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। তাদের উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের অভ্যন্তরে হামাসের অভিযানের প্রতিশোধ নিতে গাজা এবং পশ্চিম তীরে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে দখলদার ইসরাইল। এই গণহত্যায় এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন অগণিত মানুষ।

  • ড্রোন হামলায় কাঁপল রাশিয়া

    ড্রোন হামলায় কাঁপল রাশিয়া

    ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় কাঁপল রাশিয়া। তরে রাতারাতি হামলায় কিয়েভের ছোড়া ১৪৪টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে মস্কো।

    মঙ্গলবার এই হামলায় রাশিয়ার রামেনস্কয়ি শহরের একটি আবাসিক ভবনে আগুন লেগে যায়। বহুতল ভবনটিতে আগুন লেগে বেশকিছু অ্যপার্টমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আকস্মিক হামলায় ৯ বছর বয়সি একটি শিশু মারা যায়। কিয়েভের এ হামলার জেরে ৩০টি ফ্লাইট স্থগিত করেছে মস্কো। খবর এএফপি, ভয়েস অব আমেরিকার।

    এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ব্রিয়ানস্কে ৭২টি, মস্কোতে ২০টির বেশি, কুরস্ক অঞ্চলে ১৪টির বেশি, তুলা অঞ্চলে ১৩টির বেশি এবং দেশের আরও পাঁচটি স্থানে ২৫টির বেশি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের তিনটি গ্রাম দখল করার দাবি করছে রাশিয়া।

    মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা পূর্ব ইউক্রেনের ক্রাসনোগোরিভকা শহর এবং দোনেৎস্ক অঞ্চলের বিভিন্ন অংশের তিনটি গ্রাম দখল করেছে।

    মন্ত্রণালয় থেকে আরও জানানো হয়েছে, রাশিয়ান সৈন্যরা গ্রিগোরিভকা, গ্যালিসিনিভকা এবং ভোডিয়ানে গ্রামগুলোকে ‘মুক্ত’ করেছে। পাশপাশি এই চারটি বসতির জন্য রাশিয়ান নাম ব্যবহার করা হয়েছে।

    এর আগে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর দখলের দাবি করেছে রাশিয়া। সোমবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে নভোরোদিভকা শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি করেছে রাশিয়া। এ শহরটি কিয়েভের সেনাদের জন্য গুরত্বপূর্ণ একটি রেল ও সড়ক পরিবহণ কেন্দ্র ছিল।

    এ ছাড়া শহরটির অদূরে পোকরোভস্ক নগরীর দিকে রুশ বাহিনীর অগ্রসর হওয়ার কথাও জানিয়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের এক কর্মকর্তা জানায়, গেল সপ্তাহেই নভোরোদিভকা ছেড়ে চলে গেছে দেশটির সেনারা। এর আগে পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চলের ৬টি গ্রাম নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে পুতিন বাহিনী।

    বিশ্লেষকদের মতে, মস্কো আক্রমণের নেশায় কিয়েভের নিয়ন্ত্রণ হারাতে বসেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এদিকে, রাশিয়ার আক্রমণের পালটা জবাব দিতে আরও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এজন্য পশ্চিমা মিত্রদের কাছে অনুমোদনও চেয়েছেন তিনি।

    রুশ হামলাকে প্রতিহত করতে আরও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সহায়তাও প্রয়োজন বলে জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

    উল্লেখ্য, দুই বছর ধরে চলছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। সম্প্রতি রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা দখল করে ইউক্রেনীয় সেনারা। এতে বেশ বিপাকে পড়ে মস্কো। তবে দ্রুতই পালটা জবাব দিয়ে আবারও কিয়েভকে কোণঠাসা করে ফেলতে শুরু করেছে পুতিন বাহিনী। ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। এরইমধ্যে দখল করে নিয়েছে বেশ কিছু এলাকা।