Category: ক্রিকেট

  • চলে গেলেন গেইল-ম্যাককালাম

    চলে গেলেন গেইল-ম্যাককালাম

    শুধু বিপিএল কেন, বিশ্বের যে কোনো ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের সেরা আকর্ষণ থাকেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল। বরাবরের মত এবারও বিপিএলে তিনি খেলেছেন। প্রথম থেকে না হলেও টুর্নামেন্টের কয়েক ম্যাচ যাওয়ার পরই তিনি এসে যোগ দেন রংপুর রাইডার্সের সঙ্গে।

    শুধু ক্রিস গেইলই নন, এবারের বিপিএলে অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান কাইরন পোলার্ড, এভিন লুইস, পাকিস্তানি আফ্রিদি, মোহাম্মদ আমির কিংবা হাসান আলিরা।

    শেষ পর্যন্ত ক্রিস গেইলই হলেন নায়ক। শেষ তিন ম্যাচে ২টি সেঞ্চুরিসহ মোট ৪৮৫ রান করে টুর্নামেন্টের সেরা ব্যাটসম্যান এবং সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ফাইনালের মত মহা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে একা ক্রিস গেইলের হাতেই শেষ হয়ে গেছে আগেরবারের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটস। ৬৯ বলে ১৪৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে রেকর্ড গড়লেন ১৮টি ছক্কা মেরে।

    গেইলের একার রানই কেবল করতে পেরেছিল ঢাকা। তাদের ইনিংস শেষ হয়েছিল ১৪৯ রানে। গেইল তাণ্ডবের সামনেই উড়ে গেলো ঢাকা। চ্যাম্পিয়ন হলো রংপুর রাইডার্স।

    রংপুরকে চ্যাম্পিয়ন করার পর একদিনও ঢাকায় থাকলেন না ক্রিস গেইল। আজই চলে গেলেন তিনি। রংপুর রাইডার্সের লজিস্টিক ম্যানেজার রনি জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, আজ দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে একই ফ্লাইটে নিউজিল্যান্ডে উড়ে গেলেন ক্রিস গেইল।

    গেইল কেন নিউজিল্যান্ডে গেলেন? ২০ ডিসেম্বর থেকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শুরু হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে সিরিজ। সেই সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে স্কোয়াডে রয়েছেন গেইল। এ কারণেই তিনি সোজা নিউজিল্যান্ডে উড়ে গেলেন। রংপুরের আরেক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান খেলোয়াড়, জনসন চার্লস দেশে ফিরে গেছেন আজ সকালেই।

  • দুর্দান্ত জয়ে চ্যাম্পিয়ন রংপুর

    দুর্দান্ত জয়ে চ্যাম্পিয়ন রংপুর

    ঢাকা ডায়নামাইটসকে ৫৭ রানে হারিয়ে বিপিএলের পঞ্চম আসরের শিরোপা ঘরে তুলেছে রংপুর রাইডার্স। এদিন প্রথমে ব্যাট করে ক্রিস গেইলের ১৪৬ রানের টর্নেডো ইনিংসের ওপর ভর করে ২০৬ রান করে ঢাকা। জবাব দিতে নেমে ১৪১ রানে গুটিয়ে যায় বিপিএলের চতুর্থ আসরের চ্যাম্পিয়নরা।

    মঙ্গলবার দুপুরে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে রংপুর রাইডার্স। শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি রংপুরের। দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলেই গত ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান জনসন চার্লসকে ফিরিয়ে দেন ঢাকার অধিনায়ক সাকিব। যদিও এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি রংপুরের। ব্র্যান্ডন ম্যাককালামকে নিয়ে পুরো ২০ ওভার খেলেন গেইল। একই সঙ্গে চলে চার ও ছক্কার ফুলঝুড়ি। ৩৩ বলে অর্ধশতকের পর ৫৭ বলে সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ১৬৯ বলে ১৮ ছক্কা এবং ৫ চারে ১৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন গেইল।

  • মাশরাফি যেন পরশ পাথর!

    মাশরাফি যেন পরশ পাথর!

    মাশরাফি যেন পরশ পাথর! যেখানেই তার হাতের স্পর্শ পড়ে, সেখানেই সোনা ফলে। বিশেষ করে দেশের সবচেয়ে জমজমাট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট বিপিএল মানেই এখন মাশরাফি বিন মর্তুজা। বিপিএল আর মাশরাফি এখন সমোচ্চারিত শব্দ। বিপিএলের ইতিহাসে একমাত্র অধিনায়ক মাশরাফি, যিনি পাঁচ আসরের চারটির ফাইনাল খেলছেন এবং শিরোপা জিতেছেন প্রথম তিনটিতে। আজ রংপুর রাইডার্সকে চ্যাম্পিয়ন করালেই লিখে ফেলবেন ইতিহাস। হ্যাটট্রিক শিরোপা জিতে এমনিতেই বিপিএলের ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন মাশরাফি। এখন অপেক্ষা শুধু সংখ্যাটাকে তিন থেকে চারে উন্নীত করা। আজ সেই ইতিহাস গড়ার হাতছানি। যদি ঢাকা ডায়নামাইটসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় রংপুর রাইডার্স, তাহলেই মাশরাফি হবেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একমাত্র বা অদ্বিতীয় ক্রিকেটার, যার নামের পাশে লেখা থাকবে বিপিএলের প্রথম পাঁচ আসরের চারটির চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক। তার অধিনায়কত্বে বিপিএলের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স এবং তৃতীয় আসরে চ্যাম্পিয়ন করান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে। চার নম্বর আসরে শুধু ফাইনাল খেলতে ব্যর্থ হন।

    এক আসর বিরতি দিয়ে এবার ফের ফাইনাল খেলছেন মাশরাফি। অমায়িক অথচ পর্বতের মতো দৃঢ় চরিত্রের মাশরাফি রংপুরের ফাইনাল খেলাকে দলের সতীর্থদের কৃতিত্ব দিয়েছেন পুরোটা, ‘টুর্নামেন্টের মাঝপথে কখনই মনে হয়নি আমরা ফাইনাল খেলব। কিন্তু এখন আমরা ফাইনাল খেলছি একটি দল হয়ে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, আমাদের ড্রেসিং রুমে বাড়তি কোনো চাপ নেই। সবাই খুব এনজয় করে মুহূর্তগুলো। ’ রংপুর রাইডার্স সিলেট পর্বে বিপিএল শুরু করেছিল জয় দিয়ে। কিন্তু টুর্নামেন্টের মাঝপথে কক্ষচ্যুত হয়ে পড়ে। তখন মনে হয়েছিল সুপার ফোর খেলা কঠিন হবে। যদিও দলের টার্গেট ছিল সুপার ফোর খেলা। লিগ পর্বের শেষ দিকে দারুণ ক্রিকেট খেলে জায়গা নেয় সুপার ফোরে।

    সুপার ফোরে টানা দুই ম্যাচে ক্রিস গেইল ও জনসন চার্লসের সেঞ্চুরিতে যথাক্রমে খুলনা টাইটানস ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেয় ফাইনালে। রংপুরকে ফাইনালে টেনে নিয়ে যান দুরন্ত নেতৃত্ব দিয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজা। দেশের সবচেয়ে সফল ক্রিকেটার এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়ও। শুধু তার খেলা দেখতেই মাঠে হাজির হন হাজারো ক্রিকেটপ্রেমী। এমনটা আর কোনো ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।

  • বিপিএলে মাশরাফির আরেকটি মাইলফলক

    বিপিএলে মাশরাফির আরেকটি মাইলফলক

    বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন লিজেন্ড ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজা। বিপিএলের পঞ্চম বোলার হিসেবে ৫০ উইকেটে নেওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করলেন ম্যাশ।

    দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে কুমিল্লার বিপক্ষে বোলিংয়ে নেমে একটি উইকেট নিয়ে এ মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। এর আগে ৫৮ ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ছিল ৪৯টি। সোমবার তামিম ইকবালকে আউট করে ৫০ উইকেট শিকারিদের তালিকায় নাম লেখান মাশরাফি।

    বিপিএলে সর্বপ্রথম ৫০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেভিন কুপার। পরবর্তীতে এই রেকর্ডে ভাগ বসান বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সাকিব অবশ্য বর্তমানে ৮২ উইকেট নিয়ে কুপারকে টপকে সবার শীর্ষে রয়েছেন।

    ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি এ টুর্নামেন্টের এবারের আসরে আফগানিস্তানের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী  ও বাংলাদেশের শফিউল ইসলাম তৃতীয় ও চতুর্থ বোলার হিসেবে ৫০ উইকেট নিয়েছিলেন। শফিউল বর্তমানে ৫৪ ও নবী ৫০ উইকেটের মালিক।

  • আজ খেলা না হলে কি হবে?

    আজ খেলা না হলে কি হবে?

    প্রথমে বৃষ্টি। তারপর খেলা শুরু নিয়ে নানা ঘটনা, নাটকীয়তা আর গুঞ্জন। শেষ পর্যন্ত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স আর রংপুর রাইডার্সের কোয়ালিফাইয়ার ২ গতকাল রোববার শেষ হয়নি। বৃষ্টিতে ৭ ওভার খেলা হওয়ার পর রাতে বৃষ্টি কমলেও তা আর শুরু হয়নি। নানা ঘটনার পর রাত ১০.১০ মিনিটে জানানো হয়েছে খেলা যেখানে বন্ধ হয়েছে ঠিক সেখান থেকেই শুরু হবে পরের দিন সোমবার।

    সেই মতে আজ সন্ধ্যা ৬ টায় খেলা শুরুর কথা। যেথেতু ৭ ওভার হয়ে গেছে তাই রংপুর পাবে আর ১৩ ওভার ব্যাট করার সুযোগ। জবাবে পাল্টা ব্যাটিংয়ে নামবে কুমিল্লা। এটা হল স্বাভাবিক সমীকরণ বা হিসেব নিকেশ। কিন্তু যদি আজও খেলা না হয় তাহলে কি হবে? এমন প্রশ্নও কিন্তু আছে অনেকের মনে। আজ (সোমবার) দ্বিতীয় দিনের অত যদি বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়ায়, আর একটি বল মাঠে না গড়ায়, তাহলে পয়েন্ট টেবিলের উপরে থাকার সুবাধে কুমিল্লা ফাইনালে চলে যাবে।

    সোমবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিপিএল টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। বিপিএল টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যানের এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কেন গতকাল (রোববার) খেলা না হওয়ার পর কুমিল্লাকে জয়ী ঘোষণা করা হল না। যদিও আজ দ্বিতীয় দিনের মত খেলা না হওয়ায় কুমিল্লাকে জয়ী ঘোষণা করা যায়, তাহলে কাল কেন গেল না? কিসের ভিত্তিতে ম্যাচ দ্বিতীয় দিনে গড়াল?

    এ প্রশ্ন করা হলে জালাল ইউনুস বলেন, ‘বাইলজে পরিষ্কার লেখা আছে যদি কোন ম্যাচ টাই হয় কিংবা ‘নো রেজাল্ট থাকে’ তাহলে সুপার ওভারে ম্যাচ ভাগ্য নিশ্চিত করা হবে।’

    bpl

    জালালের ধারণা বেশিরভাগ ক্রিকেট অনুরাগী ও কুমিল্লা ম্যানেজমেন্ট ধরে নিয়েছিলেন শুধু টাই হলেই কেবল সুপার ওভারেই ম্যাচ ভাগ্য করা যাবে কিন্তু ‘নো রেজাল্ট’ থাকলেও যে সুপার ওভারে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করা যাবে এটা অনেকে লক্ষ্য করেননি।

    জালালের কথা, ‘খোদ কুমিল্লা ম্যানেজমেন্ট ও বিষয়টি ভুল বুঝেছিলেন। পড়ে কথার এক পর্যায়ে সুপার ওভার যে প্লেয়িং কন্ডিশনে আছে তা নিশ্চিত করার পর কুমিল্লা সুপার ওভার খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন কুমিল্লাকে কয়েকটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়।’

    জালালের ভাষ্য মতে, ‘টুর্নামেন্ট কমিটি ওই সব বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার অধিকার রাখে। আর বাই লজে ছিল যে, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় টুর্নামেন্ট কমিটি যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সে কারণেই হয় ৫/৭ ওভার কিংবা সুপার ওভারে ম্যাচ নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছিল কুমিল্লাকে। এমনকি আজ নতুন করে ম্যাচ শুরুর প্রস্তাবও নাকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনটাই মনভূত হয়নি কুমিল্লার। অবশেষে তারা যেখানে খেলা বন্ধ হয়েছে সেখান থেকেই খেলতে রাজি হয়।’

  • কুমিল্লার শোচনীয় হারে ফাইনালে ঢাকা

    কুমিল্লার শোচনীয় হারে ফাইনালে ঢাকা

    মাহামুদ হাসান

    বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ঢাকা ডায়ানামাইটসের কাছে শোচনীয়ভাবে হেরেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস।   আর তামিমদের বিপক্ষে ৯৫ রানের বড় জয় পেয়ে এবারের আসরের ফাইনালে ওঠে গেল ঢাকা।

    ঢাকার দেওয়া ১৯২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে কুমিল্লা।   প্রথম ওভারেই শূন্যরানে ফিরেন আগের ম্যাচে অর্ধশতক করা লিটন দাস।   এরপর একই পথে হাটেন জস বাটলার(৫), ইমরুল কায়েস(৯), মারলন স্যামুয়েলস(৬), শোয়েব মালিক (৭), ডিজে ব্রাভো (০) ও সাইফুদ্দিন (০)।   যা একটু প্রতিরোধ গড়েছেন শুধু তামিম ইকবাল ২৮ বলে ১ ছক্কা ও ৩ চারে করেছেন ৩১ রান।   কুমিল্লা ৯৬ রানে অলআউট হয়েছে।

    ঢাকার হয়ে আফ্রিদি ৩টি, সাকিব, মোসাদ্দেক, ২টি এবং আবু হায়দার রনি ও সুনীল নারিন ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।

    এর আগে বিপিএলের পঞ্চম আসরের ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে এভিন লুইস, আফ্রিদি ও কাইরন পোলার্ডের ঝড়ো ইনিংসের ভর করে ৭ উইকেটে ১৯২ রান সংগ্রহ করে ঢাকা ঢায়নামাইটস।   এভিন লুইস ৪৭, কাইরন পোলার্ড ৩১ শহীদ আফ্রিদি ৩০ ও ডেনলি ৩২ রান সংগ্রহ করেন।   কুমিল্লার হয়ে হাসান আলী ৩টি, ডিজে ব্রাভো ২টি ও শোয়েব মালিক ১টি উইকেট নেন।

    এদিকে টুর্নামেন্টের এলিমিনেটর ম্যাচে খুলনার বিপক্ষে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে রংপুর রাইডার্স।   গেইলের সেঞ্চুরিতে ২৮ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মাশরাফির দল।

    আর ঢাকার বিপক্ষে কুমিল্লার হার ও খুলনার বিপক্ষে রংপুরের জয়ের ফলে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ফের মুখোমুখি হবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ও রংপুর রাইডার্স।

  • ঢাকাকে আন্ডারডগ ভাবছেন সুজন!

    ঢাকাকে আন্ডারডগ ভাবছেন সুজন!

    পয়েন্ট টেবিলে সবার ওপরে কুমিল্লা; কিন্তু সর্বাধিক তারকার দল ঢাকা ডায়নামাইটস। এক ঝাঁক নামি-দামি ক্রিকেটারের ছড়াছড়ি। কুমারা সাঙ্গাকারা, এভিন লুইস, শহিদ আফ্রিদি, সুনিল নারিন, কাইরন পোলার্ড, কেভিন কুপার, মোহাম্মদ আমির ও জো ড্যানলি- কত নাম।

    মাঠের পারফরমেন্সে এখন পর্যন্ত কুমিল্লা সেরা; কিন্তু কাগজে-কলমে ঢাকা এখনো এক নম্বর দল। তবে তারকাভর্তি দল ঢাকা ডায়নামাইটস কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন কোয়ালিফায়ারের লড়াইয়ে কুমিল্লাকেই এগিয়ে রাখতে চান। খালেদ মাহমুদের চোখে, শুক্রবারের ম্যাচে ফেবারিট কুমিল্লা। আর ঢাকা হলো আন্ডারডগ।

    ঢাকা সন্দেহাতীতভাবেই সর্বাধিক তারকায় ঠাসা দল; এতে কোনো সন্দেহ নেই। যে কোন দলের চেয়ে তাদের রিজার্ভ বেঞ্চ অনেক বেশি সমৃদ্ব। কুমারা সাঙ্গাকারা, শহিদ আফ্রিদি, মোহাম্মদ আমির আর কেভিন কুপারের মত ক্রিকেটারও যে দলের হয়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ পান না। যাদের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের মত টি টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। সেই দলকে কোয়ালিফায়ার পর্বে আন্ডারডগ ভাবা হবে না কেন?

    এ নিয়ে নিশ্চয়ই প্রশ্ন উঠছে। তার ব্যাখ্যাও অবশ্য দিয়েছেন ঢাকার কোচ। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স তাদের দু’বার হারিয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে ভাল পারফরম্যান্স করেছে। তাই ঢাকা ডায়নামাইটস কোচের মন্তব্য, ‘প্রথম কথা হচ্ছে কাল আমরা আন্ডারডগ হিসেবে খেলব। কুমিল্লা আমাদের সাথে দুটি ম্যাচই জিতেছে। দারুণ খেলেছে তামিমের দল।’

    তবে কি ঢাকা ভাল খেলেনি? এ প্রশ্নের জবাবে খালেদ মাহমুদ সুজনের ব্যাখ্যা, ‘আমরাও ভাল খেলছি। তবে আমাদের ধারাবাহিকতার একটু অভাব ছিল। যদিও দুই ভেন্যুতে আমরা দুশো রানের উপরে করছি, আবার কিছু ম্যাচে দেড়শ রানের কমে থেমে গেছি। তো ওই জায়গায় একটু ধারাবাহিকতার অভাব ছিল।’

    ঢাকা কোচের মূল্যায়ন, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সঠিক সময় জ্বলে ওঠা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। শুক্রবার কুমিল্লার সাথে ম্যাচে তার দলের ক্রিকেটাররা ওই সময় মত জ্বলে উঠবেন- এমনটাই আশা খালেদ মাহমুদের।

    Dhaka-comilla

    তাই তো মুখে এমন কথা, ‘এই ফরম্যাটে যেটা হয় যে, রাইট টাইমে মোমেন্টাম পিক করা। আমার মনে হয় সেই হিসাবে আমরা কালকে একটা দারুণ ম্যাচ (রংপুরের বিপক্ষে) জিতছি অল্প রান করেও। আমাদের বোলিং অসাধারণ ছিল, সাকিব ক্যাপ্টেনের ভূমিকা দারুণভাবে পালন করেছে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। আমাদের লোকাল স্টার যারা আছে তারাও ভাল টাইমে পিক করছে।’

    কোয়ালিফয়ার ম্যাচে খুব গুরুত্বপূর্ণ গেম অভিহিত করে ঢাকা কোচ বলেন, ‘খুব টাইট গেম হবে। মনে হয় দারুণ লড়াই হবে।’

    প্রতিপক্ষ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ফেবারিট মানলেও তাদের নিয়ে বেশি ভাবতে নারাজ ঢাকার কোচ। তার চিন্তা-ভাবনার বড় অংশ জুড়ে আছে নিজ দল। তার মূল্যায়ন, ‘প্রতিদ্ব›িদ্ব হচ্ছে প্রতিপক্ষ। যাকে আপনি নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন না। কেবল নিজেদেরটাই করতে পারবেন। যখন টপ অর্ডার পারফর্ম করে তখন বেশি কিছু লাগে না। মূল কথা হচ্ছে আমাদের টপ অর্ডার কেমন করছে সেটা। আমাদের টপ অর্ডারে দারুণ কিছু খেলোয়াড় আছে। যেমন লুইস, নারিন। এরা প্রমাণ করেছে তারা বড় ইনিংস খেলতে পারে। জো ড্যানলি শেষ ম্যাচ ছাড়া ভাল করেছে। টপ অর্ডারে রান পেলে আমার মনে হয় আমরা বড় স্কোর ছুঁড়ে দিতে পারব।’

    যেহেতু দুপুরে খেলা। তাই টসের তেমন কোন কার্যকর প্রভাব পড়বে না। খালেদ মাহমুৃদ সুজনেরও মনে হয় না টসের তেমন কোন গুরুত্ব আছে। তার কথা হলো, গেম প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ। আপনার প্রতিপক্ষকে, কতটা রিড করতে পারছেন সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আগে কিংবা পরে ব্যাটিং নয়, মোমেন্টামটা গুরুত্বপূর্ণ। শুরুটা ভাল না হলে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়তে হয়। এ কারণে এখানে শুরুটা গুরুত্বপূর্ণ। গতকালকের শুরুটা আমাদের ভাল ছিল না; কিন্তু পরের দিকে সাকিব ও মারুফ ভাল জুটি করেছে- এটা একটা ভাল উদাহরণ। তাতে অন্তত একটা পুঁজি দিতে পেরেছিলাম যাতে লড়াই করা যায়। আমাদের বোলিং শক্তিশালী ছিল। তারা তাদের ভূমিকা পালন করছে বলে ইজি ছিল। শুরটা খুব দরকারি, প্রথম ছয় ওভার খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

    ঢাকা কোচের শেষ বক্তব্য, ‘আমি সব সময়ই বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্ট জেতার যথেষ্ঠ সামর্থ আছে আমাদের।’ তাহলে সেই সামর্থ্যরে যথাযথ প্রয়োগ ঘটছে না কেন?

    এ প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে খালেদ মাহমুদ সুজন জাগো নিউজকে জানান, দলে উঁচু মানের বিদেশি ক্রিকেটার বেশি থাকাটা প্লাস পয়েন্টের পাশাপাশি ‘মধুর সমস্যা’ হয়েও দেখা দিয়েছে। কাকে রেখে কাকে খেলাবেন? চিন্তায় পড়ে গেছেন তিনি। তারচেয়ে বড় কথা, সঠিক কম্বিনেশন তৈরি করাটাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

    তারপরও বিদেশিদের কাছ থেকে দায়িত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সের আশায় ঢাকা কোচ, ‘আমি চাই যে আমার বিদেশি খেলোয়াড়রা এমন দায়িত্ব নিয়ে খেলুক। আমি বলছি না যে আলাদা বাড়তি দায়িত্ব। আমি চাই তারা খেলা উপভোগ করুক। মাঠে রেজাল্ট কি হয় না হয় সেটা পরের ব্যাপার; কিন্তু উপভোগ করুক এটা চাই। লুইসের স্টাইল বদলাতে বলব না, পোলার্ডের স্টাইলও বদলাতে বলব না। চাইব তারা তাদের মতই খেলুক। দেখি কি হয়!’

  • উইকেট ভালো হলেই জমবে ফাইনালে ওঠার লড়াই

    উইকেট ভালো হলেই জমবে ফাইনালে ওঠার লড়াই

    সেরা চার দলের লড়াই; কিন্তু সেমিফাইনাল নয়। শুধু ক্রিকেটে নয়, যে কোন খেলায় সেমির যুদ্ধ মানেই কারো মতে নক আউট, নিশ্চিত বিদায়। আবার কারো মতে ‘সাডেন ডেথ’ বা নিশ্চিত মৃত্যু।

    কিন্তু বিপিএলে তেমনটা হবে না। আগামীকাল শুক্রবার শেরে বাংলায় যে চার দলের লড়াই হবে, সেটাকে তাই সেমিফাইনাল বলা হচ্ছে না। বলার সুযোগও নেই। সাধারনতঃ সেমিফাইনালের বিজয়ী দল সরাসরি ফাইনালে চলে যায়। আর পরাজিত দল ছিটকে পড়ে।

    কিন্তু বিপিএলে তা হবে না। এখানে সেরা চার দলের মধ্যে হবে তিনটি ম্যাচ। মানে একটি ম্যাচ বেশি হবে। তাই নামকরণ পাল্টে সেমিফাইনালের বদলে রাখা হয়েছে ‘কোয়ালিফায়ার’ ও ‘ইলিমিনেটর’। এর কোনটাই অঘোষিত সেমিফাইনাল নয়।

    তবে এর মধ্যে কোয়ালিফায়ার-১ ‘এ’ যারা খেলবে তাদের জন্য থাকছে ডাবল সুযোগ। জয়ী দল সোজা চলে যাবে ফাইনালে। আর পরাজিত দলের বিপিএল শেষ হয়ে যাবে না। তারা আরও একটি সুযোগ পাবে। সেই দল ১০ ডিসেম্বর খেলবে কাল ইলিমিনেটরে বিজয়ী দলের সাথে।

    শুক্রবার দুপুরে ইলিমিনেটর রাউন্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হবে তৃতীয় স্থান পাওয়া খুলনা টাইটান্স এবং চার নম্বর দল হিসেবে সেরা চারে জায়গা করে নেয়া রংপুর রাইডার্স। এই খেলার বিজয়ী দল টিকে থাকবে। যদিও কোয়ালিফায়ার-১ বিজয়ীর মত সরাসরি ফাইনাল নিশ্চিত হবে না দলটির। তাদের খেলতে হবে কোয়ালিফায়ার-২। কোয়ালিফায়ার-১ এ পরাজিত দলের বিপক্ষে। আর ইলিমিনেটরে পরাজিত দল বিদায় নেবে।

    কাজেই আগামীকাল কোয়ালিফায়ার পর্বে মুখোমুখি হচ্ছে দুই বন্ধু সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবাল। সাকিবের ঢাকা ডায়নামাইটস আর তামিমের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। আর ইলিমিনেটর পর্বের প্রথম ম্যাচে লড়বে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খুলনা টাইটান্স ও মাশরাফি বিন মর্তুজার রংপুর রাইডার্স। সাত দলের আসরে চিটাগং ভাইকিংস, রাজশাহী কিংস এবং সিলেট সিক্সার্স আগেই বিদায় নিয়েছে। এবার ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে চার দলের লড়াই।

    অনেক আসর বা টুর্নামেন্টেই কাগজে-কলমের হিসেবের সাথে মাঠের হিসাব-নিকাশ মেলে না। তবে এবারের বিপিএলে কাগজে কলমের সাথে মাঠের চালচিত্রর অনেকটাই মিলে গেছে। মাঠের লড়াই শেষে সেরা চার দলই সেরা চারে জায়গা করে নিয়েছে।

    সবচেয়ে বড় কথা দেশের চার সেরা ও শীর্ষ তারকা মাশরাফি, তামিম, সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর দলই শেষ চারে। এছাড়া দেশের যে দুই সময়ের সেরা কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন ও মোহাম্মদ সালাউদ্দীনের দলও সেরা চারে। আর যে দুই বিদেশি প্রশিক্ষক মাহেলা জয়বর্ধনে আর টম মুডি- তাদের দলও সেরা চারে।

    বলার অপেক্ষা রাখে না, কোচ সালাউদ্দীনের প্রশিক্ষণে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ধারাবাহিকভাবে সবচেয়ে ভাল খেলেছে। এবং সর্বাধিক ৯ ম্যাচেও জয়ী হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিদেশি ক্রিকেটার দলে থাকা যেমন প্লাস পয়েন্ট, আবার বেশি বিদেশি তারকা দলে থাকার অসুবিধাটাও ভোগ করেছে ঢাকা ডায়নামাইটস। তারপরও খালেদ মাহমুদ সুজনের প্রশিক্ষণে সাকিব আল হাসানেনর দল ঢাকা ডায়নামাইটস বিড়ম্বনার শিকার হয়েছে।

    টি-টোয়েন্টির দুই বিশ্ব সেরা ব্যাটিং পারফরমার ক্রিস গেইল এবং ব্রেন্ডন ম্যাককালামের দল রংপুর তাদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নৈপুন্য পায়নি; কিন্তু মধ্য তিরিশে পা রাখা অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার গতিশীল ও উজ্জিবীত নেতৃত্বে রংপুর উঠল সেরা চারে।

    অন্যদিকে তেমন নামী ও দামি বিদেশি তারকা দলে না থাকলেও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর তরুণ আরিফুলের ব্যাটিং এবং পেসার শফিউলের কার্যকর নৈপুন্যে খুলনাও ফাইনালের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছে।

    চার দলের শক্তির ফারাক খুব বেশি নয়। ঢাকা-কুমিল্লা আর খুলনা-রংপুর কাছাকাছি শক্তির দল। কাজেই সবার ধারণা, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে কোয়ালিফায়ার আর ইলিমিনেটর রাউন্ডে; কিন্তু তারপরও উইকেটের কারণে মাঠে যত ভাল ও আকর্ষণীয় ক্রিকেট হবার কথা ছিল তা কিন্তু হচ্ছে না

    এখন শেষ পর্বে খেলা জমবে কি না, বিগ স্কোরিং গেম হবে কি না- সেটা একটা বড় প্রশ্ন। এসই নির্ভর করছে উইকেটের ওপর। উইকেট নিয়ে নানা কথা। রাজ্যের সমালোচনা। বাংলাদেশের মাশরাফি-তামিম থেকে শুরু করে বিদেশি তারকা ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও সুনিল নারিনও উইকেটের সমালোচনা করেছেন। উইকেট সত্যি ভাল নয়। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট উপযোগি নয়। সবাই বলছেন- শেরে বাংলায় যে সব পিচে বিপিএল হচ্ছে সেগুলো ঠিক টি-টোয়েন্টির জন্য আদর্শ নয়।

    উইকেটের গতি ও বাউন্স ঠিক নয়। বল কখনো থেমে আসে। আবার কোন সময় ঠিক গতিতে ব্যাটে যাচ্ছে। তার চেয়েও বড় কথা, বেশিরভাগ সময় বল নিচে থাকছে। আবার কিছু কিছু ডেলিভারি লাফিয়ে উঠছে। এমনকি স্পিন ও স্লো মিডিয়াম পেসারদের বলও ব্যাটসম্যানের মাথার ওপর দিয়ে চলে গেছে। যে কারণে ব্যাটসম্যানদের স্বচ্ছন্দে খেলা কঠিন হচ্ছে। ব্যাটসম্যানরা হাত খুলতে খেলতে গিয়ে উল্টো বিপদে পড়ছেন।

    হয় প্রত্যাশার চেয়ে দেরিতে বল এসে মিসটাইমড হচ্ছে। না হয় স্বাভাবিকের চেয়ে নিচু কিংবা লাফিয়ে উঠে বিপদেও কারণ ঘটাচ্ছে। সে কারণেই ফ্রি স্ট্রোক প্লে বা চার ও ছক্কার ফুলঝুরিও ছিল তুলনামুলক কম। দর্শক বিনোদনের খোরাক গেছে কমে। বিগ স্কোরিং গেমও হচ্ছে না। দর্শক, সমর্থক ও ভক্ত সবার প্রত্যাশা- কোয়ালিফায়ার, ইলিমিনেটর ও ফাইনালে শেরে বাংলার উইকেটের চেহারা ও চরিত্র পাল্টাবে। না হয় মূল আয়োজনটাই ফিকে হয়ে যাবে।

  • আউট হওয়া ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে আনলেন তামিম

    আউট হওয়া ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে আনলেন তামিম

    রাকিব সিকদার

    কেভিন কুপার মাঠ থেকে বেরিয়েই যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁকে ফিরিয়ে আনলেন তামিম ইকবাল। অনিন্দ্য সুন্দর এক দৃশ্য দেখা গেল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। ১৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রান নিতে গিয়ে বোলার ডিজে ব্রাভোর সঙ্গে কুপারের সংঘর্ষ! পিচের ওপর ছিটকে পড়লেন ব্রাভো! দৌড়ানোর চেষ্টা না করে নিজ থেকেই থেমে গেলেন কুপার।

    অন্য প্রান্তে রানআউট ঢাকা ডায়নামাইটসের টেল এন্ডের ব্যাটসম্যান! রানআউট ভেবে কুপার হাঁটা ধরেছিলেন ড্রেসিংরুমের দিকে। ইচ্ছাকৃত নয় তবুও অপ্রত্যাশিত সংঘর্ষ। তামিম ছুটে গিয়ে তাঁকে থামালেন। আম্পায়ার ও ঢাকা কোচ খালেদ মাহমুদের সঙ্গে কথা বলে আবারও কুপারকে উইকেটে ফিরিয়ে আনলেন। শূন্য রানে আউট হতে পারতেন। কিন্তু তামিমের ঔদার্যে সেই কুপার শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৫ বলে ৯ রান করে।

    সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা কোচ সালাউদ্দিন মনে করেন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তামিম, ‘অামরা চাইলে তাকে (কুপার) নাও ফেরাতে পারতাম। তামিম গ্রেট স্পোর্টসম্যানশিপ দেখিয়েছে। এটা তামিমের মহানুভবতা। ক্রিকেটে একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে এটা।’ ম্যাচটা জেতা তখন কঠিন হলে অসম্ভব নিশ্চয়ই ছিল না। যদি কুপারই ম্যাচটা জিতিয়ে ফিরতেন! যদিও তা হয়নি। শেষ পর্যন্ত কুমিল্লারই জয় হয়েছে। শুধু কুমিল্লা কেন, তামিমের সৌজন্যে জিতেছে ক্রিকেটের চেতনা! এই ম্যাচ হারলেও অধিনায়ক তামিমকে বিজয়ী ঘোষণা করতেই হতো।

  • বিপিএলের শীর্ষ দশে দেশি বোলারদের দাপট

    বিপিএলের শীর্ষ দশে দেশি বোলারদের দাপট

    চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরের ম্যাচগুলো। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৩০ টি ম্যাচ খেলা হয়েছে।

    আর বিপিএলে বোলিংয়ে দাপট চলছে দেশি বোলারদের।  শীর্ষ দশজনের মধ্যে বর্তমানে ৬ জনই দেশি।   ৪ জন বিদেশি ক্রিকেটার।

    উইকেট শিকারের দিক দিয়ে ৮ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে সবার উপরে আছেন খুলনার আবু জায়েদ রাহি।  সেরা বোলিং ফিগার ৩৫ রানে ৪ উইকেট।

    দ্বিতীয় স্থানে আছেন ঢাকার আবু হায়দার রনি তার উইকেট সংখ্যা ১২টি।  তৃতীয় স্থানে চিটাগাংয়ের তাসকিন আহমেদ তার উইকেট সংখ্যা ১২।   আর সমান ১১ উইকেট নিয়ে যথাক্রমে চতুর্থ স্থানে বিদেশি ক্রিকেটার পাকিস্তানি আফ্রিদি, পঞ্চম স্থানে সাকিব আল হাসান ও ছয়ে শফিউল ইসলাম ,

    ১০ উইকেট শিকার করে সাতে জেমস ফ্রাঙ্কলিন।   আর সমান ৯ উইকেট নিয়ে যথাক্রমে আটে পাকিস্তানি বোলার মোহাম্মদ সামি, নয়ে সুনীল নারিন এবং দশে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।