Category: প্রচ্ছদ

  • বরিশালে বহিরাগত প্রবেশ বন্ধে সড়কে কঠোর অবস্থায় ডিসি খাইরুল আলম

    বরিশালে বহিরাগত প্রবেশ বন্ধে সড়কে কঠোর অবস্থায় ডিসি খাইরুল আলম

    শামীম আহমেদ ॥ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খানের নির্দেশে কোভিড -১৯ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বরিশাল নগরীতে বহিরাগত প্রবেশ বন্ধে ডিসি (উত্তর) খাইরুল আলম সড়কে কঠোর অবস্থান গ্রহন করে চেকপোস্ট বসিয়ে নজরদারী করে যাচ্ছেন।

    রবিবার সকাল থেকে শুরু করে দিনভর বেলতলা ফেরীঘাট,চাঁদপাশা বটতলা,রামপট্রি বাজার,রায়পাশা কড়াপুর এলাকার প্রবেশ মুখে বরিশালের বাহির থেকে প্রবেশ বন্ধে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।

    এ সময় উপ-পুলিশ কমিশনার(উত্তর) মোঃ খাইরুল আলম বলেন, প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস এখন আর এক যায়গায় সীমাবদ্ধ নেই।দেশের সব যায়গায় ছড়িয়েছে।এ পরিস্তিতিতে আমাদের সকলের নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেদের ঘরে থেকে প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।আপনারা বিনা প্রয়োজনে বাহিরে ঘোরাফিরা করে নিজেদের বিপদ ডেকে আনবেন না। আমরা সবাই শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে নিজে সচেতন হয়ে অন্যকে সচেতন করে তুলতে পারলে ভয়াবহ এ রোগের হাত থেকে নিজেরা রক্ষাপাব। ভাল থাকবে আমাদের দেশ ও জাতি।

  • বরিশালে করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন আরেক যুবকের মৃত্যু

    বরিশালে করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন আরেক যুবকের মৃত্যু

    মাত্র ৯ ঘন্টার ব্যবধানে বরিশাল শেল-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে আইসোলেশনে থাকা বেদে যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

    মৃত্যু হওয়া যুবক লিটন (২৫) গত ১৭ এপ্রিল রাত ৯টায় জ্বর, সর্দি এবং কাশিসহ করোনার উপসর্গ থাকা সত্যেও তথ্য গোপন করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী ইউনিট-৩ এর ওয়ার্ডে ভর্তি হয়।

    বিষয়টি প্রকাশ পেলে ওইদিন রাত রাত ১০টার দিকে লিটন নামের ওই যুবককে করোনা ওয়ার্ডে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে লিটনের।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেবাচিম হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম। তিনি বলেন, মৃত যুবক লিটন মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সুলতানী গ্রামের আব্দুল সরদারের ছেলে। সে একজন বেদে ছিলেন বলে তার স্বজনদের কাছ থেকে জানাগেছে।

    এর আগে আজ রোববার সকাল পৌনে ৮টার দিকে শেবাচিমের করোনা ওয়ার্ডে আইসোলেশনে মৃত্যু হয় জাহাঙ্গির হোসেন নামের অপর এক ব্যক্তির। তার বাড়ি মঠবাড়িয়ায়। তিনিরও করোনাভাইরাসের উপসর্গ ছিল।

    ১৮ এপ্রিল রাত ৯টা ৫০ মিনিটে তিনি শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হন। মৃতব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর পাশাপাশি মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এছাড়া বিকেল সাড়ে ৫টায় মৃত্যু হওয়া যুবকের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করা হলেও রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।

  • বরিশালে দোকান খোলা রেখে জমসমাগম করার অপরাধে ২৯ হাজার টাকা জরিমানা

    বরিশালে দোকান খোলা রেখে জমসমাগম করার অপরাধে ২৯ হাজার টাকা জরিমানা

    বরিশালে জেলা প্রশাসনের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজও বরিশাল নগরীতে মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত আছে। আজ ১৯ এপ্রিল রবিবার সকাল থেকে বরিশাল মহানগরীর চৌমাথা মোড়, নথুল্লাবাদ, কাশিপুর বাজার, বাংলা বাজার, আমতলার মোড়, সাগরদী, রুপাতলী, পুলিশ লাইন, কাউনিয়া, কাটপট্টি, বাজার রোড, লাইন রোড, ভাটিখানা, বিসিক নগরীর, নতুনবাজার ও ফলপট্টি এলাকায় জেলা প্রশাসন বরিশাল এর পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    জনসমাগম করে অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রেখে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বরিশাল জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে ১২ টি দোকান এবং এক জম ব্যক্তিকে মোট ২৯ হাজার টাকা জরিমানা অাদায় করা হয়। নগরীর বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস, এম, অজিয়র রহমানের নির্দেশনায় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বরিশাল মোঃ নাজমূল হুদা এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আতাউর রাব্বী।

    করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে গণসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এ সময় বিভিন্ন টি-স্টল, মুদি দোকান ও এলাকার মোড়ে মোড়ে যেখানেই জনসমাগম দেখা গেছে তা ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং নিরাপদ দূরত্বে চলার নির্দেশনা, মাক্স পরার নির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে মাক্স বিতরণ করা হয়। এসময় সবাইকে যৌক্তিক প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে আসতে নিষেধ করা হয় এবং সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে জরুরি ঔষধ ব্যতীত সকল প্রকার দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

    এসময় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনায় করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নাজমূল হুদা।

    অভিযান পরিচালনাকালে নগরীর কাউনিয়া এলাকায় ইসমাইল ও জাহিদ লকডাউন অমান্য করে বিনা প্রয়োজনে বাইরে ঘোরাঘুরি করার অপরাধে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮ এর ২৫ (১) ধারা মোতাবেক ৫০০ টাকা করে মোট ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এসময় মোঃ রনি নামে এক ব্যক্তি মোবাইল কোর্টের কার্যকর ভিডিও করার অপরাধে একই আইনে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ইউনুস নামে এক ব্যক্তিকে অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রেখে জনসমাগম করে পণ্য বিক্রয় করায় অপরাধে একই আইনে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    নতুনবাজার এলাকায় অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রেখে জনসমাগম করায় ৩ দোকান কে মোট ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। চৌমাথা এলাকায় কয়েকটি অপ্রয়োজনীয় দোকান ইলেকট্রনিকস দোকান খোলা রেখে ব্যাপক জনসমাগম করায় ৩ টি দোকান কে একই আইনে ৭৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। কাঠপট্টি এলাকায় বারবার সতর্ক করার পর ও অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রেখে ব্যাপক জনসমাগম করায় মামুনকে ৫ হাজাট টাকা ও ফোরকান কে ৮ হাজার টাকা একই আইনে জরিমানা করা হয়। অন্য একটি দোকানে অধিক জনসমাগম ছিল কিন্তু আইন শৃঙ্খলা বাহিনী গেলে দোকান খোলা রেখে পালিয়ে যায়।

    তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয় কিন্তু না আসায় বাজার কমিটির মৌখিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে সিলগালা করা হয়। এছাড়াও বেশ কয়েকটি স্পটে টিসিবির পণ্য বিক্রয়ে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইনে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হয়। অভিযানের পাশাপাশি সচেতনামূলক কার্যক্রম হিসেবে বেশ কয়েকটি স্থলে মাস্ক বিতরণ করা হয়।এসময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সহযোগিতা করেন র‍্যাব ৮ এর এএসপি মুকুর চাকমাসহ একটি টিম। অপরদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আতাউর রাব্বী এর নেতৃত্বে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন।

    এ সময় নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় সরকারি নির্দেশ অমান্য করে আড্ডাবাজি করে করোনার ঝুঁকি বৃদ্ধি করার দায়ে একজনকে দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারা মোতাবেক ৫০০ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি টিম। অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয় বলেন, জনগণকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা এবং করোনা ভাইরাসের বিস্তার এবং এটিকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ীদের বাজার অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রোধকল্পে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস, এম, অজিয়র রহমান সদা সচেষ্ট এবং তাঁর নির্দেশনায় নিয়মিত এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • ভোলায় চাল চুরির আসামিকে মুক্তি, ইউএনও-ওসির বিরুদ্ধে মামলা

    ভোলায় চাল চুরির আসামিকে মুক্তি, ইউএনও-ওসির বিরুদ্ধে মামলা

    ভোলার বোরাহানউদ্দিনে সরকারি চাল চুরি করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করে আসামি মুক্তি দেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ওসির বিরুদ্ধে সুয়োমোটো মামলা করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ভোলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে এ মামলা করেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফরিদ আলম।

    মামলার আসামিরা হলেন- বোরাহানউদ্দিন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. বশির উদ্দিন গাজী ও ওসি এনামুল হক।

    মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে জানা যায়, ‘করোনা দুর্যোগের পরিস্থিতিতে ত্রাণের চাল আত্মসাৎ ও কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদের ঘটনায় ইউএনও মো. বশির গাজী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন। এসময় তিনি আসামি আব্দুল মান্নানের নিকট হতে ২৫ হাজার টাকা এবং সেলামতকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে মুক্তি প্রদান করেন।’

     

     

    বিবরণীতে আরো বলা হয়, ‘বিদ্যমান ঘটনার সংবাদে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এটা ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ ধারার (১) ও (২) ধারার অপরাধ, যা স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক বিচার্য এবং যার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত।’

    ‘একই সঙ্গে বর্ণিত ঘটনা যদি Penal Code এর ১৮৬০ এর ৩৭৯ ধারা (যার সর্বোচ্চ সাজা ৩ বছর কারাদণ্ড), ৪০৩ ধারা যার (সর্বোচ্চ সাজা ২ বছর কারাদণ্ড), ৪১১ ধারা যার (সর্বোচ্চ সাজা ৩ বছর কারাদণ্ড), ৪১৪ ধারা ( যার সর্বোচ্চ সাজা ৩ বছর কারাদণ্ড) সহ আরো অন্যান্য ধারায় অপরাধ মর্মে গণ্য করা যায়।’

     

    ‘একই সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী হলে এই ত্রাণের চাল দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় মর্মে প্রতীয়মান হয়। দুর্নীতি দমন বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক তদন্ত এবং স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক বিচার্যের অপরাধ।’

    ‘ভারপ্রাপ্ত ইউএনও বশির গাজী এখতিয়ার বিহীন অর্থদণ্ড আরোপের মাধ্যমে অপরাধীকে দায়মুক্তি প্রদান করেছেন এবং রাষ্ট্রীয় আইন, ফৌজদারি বিচার কাঠামো ও বর্তমান সরকারের নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করা হয়েছে মর্মে সংবাদ দৃষ্টে প্রতীয়মান হয়। অপরাধের প্রকৃত বিচারের পথ রুদ্ধ করে তাকে নামমাত্র শাস্তি তথা জরিমানা করে দায়মুক্তি দেয়ায় ইউএনওর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুয়ামোট মামলাটি রুজু করে আগামী ২৮ এপ্রিল মোবাইল কোর্ট পরিচালনার যাবতীয় ডকুমেন্ট ও আইনানুগ ব্যাখ্যাসহ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফরিদ আলমের কোর্টে উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন।’

    বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও একই নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

     

    উল্লেখ্য, বুধবার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা নতুন বাজারে মো. ছেলামত নামের এক ব্যবসায়ীর দোকান হতে ৯ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করেন ইউএনও। পরে মোবাইল কোর্টে ব্যবসায়ী ছেলামতকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। আর ছেলামত যার কাছ থেকে চাল ক্রয় করেছেন ডিলার আ. মান্নানকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করে তাদের ছেড়ে দেন।

  • বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন নৌ পথে করোনা প্রতিরোধে ১৯ জাহাজ মোতায়েন

    বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন নৌ পথে করোনা প্রতিরোধে ১৯ জাহাজ মোতায়েন

    নৌ পথের নিরাপত্তা ও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে নদীতে জনসাধারণের অবাধে চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য ১৯টি জাহাজ মোতায়েন করেছে নৌ পুলিশ।

    দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নদীতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জাহাজ, স্পিড বোট ও অস্ত্রশস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। ৬ টি অঞ্চল ভাগ করে ৬ জন পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ৫৩৫ জন সদস্য ডিউটি করছেন।

    গতকাল নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরিদা পারভীন জানান, জাহাজগুলো মোতায়েনের পর থেকে ৩১০ জন বিভিন্ন পেশার শ্রমিকদের পুশব্যাক করা হয়েছে। তারা দেশের বিভিন্ন নদী বন্দর বা ঘাট থেকে ট্রলারে গাদাগাদি করে বাড়ির পথে রওনা হয়েছিলেন। তাদের দ্বারা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশংকা ছিল।

    নৌ পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, ঢাকা অঞ্চলের নৌপথে ৯টি জাহাজ ও ১০টি স্পিড বোট মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকাগুলো হলো মীর কাদিম, গজারিয়া, নারায়ণগঞ্জ নৌ বন্দর, লৌহজং, সদরঘাট, হাসনাবাদ, মুক্তারপুর ব্রিজ ও আরো আশপাশ এলাকা।

    ফরিদপুর অঞ্চলে ১টি জাহাজ ও ১টি স্পিড বোট মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকাগুলো হলো পাটুরিয়া, চর শিবালয়, আলোক দিয়ার চর, দৌলতদিয়া, ঢালারচর, কলাবাগান ও আরিচা সংলগ্ন পদ্মানদী ও তার আশপাশ এলাকা।

    কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে ২টি জাহাজ ও ২টি স্পিড বোট, চাঁদপুর অঞ্চলে ৪টি জাহাজ ও ৭টি স্পিড বোট, বরিশাল অঞ্চলে ৩টি জাহাজ ও ৩টি স্পিড বোট এবং খুলনা অঞ্চলে ১টি জাহাজ ও ৩টি স্পিড বোড মোতায়েন করা হয়েছে।

  • বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়লেন ৩০০ অস্ট্রেলিয়ান

    বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকা ছাড়লেন ৩০০ অস্ট্রেলিয়ান

    করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ঢাকা ছেড়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৩০০ নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দা।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে তাদের ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নিয়ে যায় শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের বিশেষ একটি ফ্লাইট।

    বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জেরেমি ব্রুয়ার ফ্লাইটটির যাত্রীদের বিদায় জানান।

    গত সপ্তাহে বিশেষ ফ্লাইটটিতে সিট পেতে নিবন্ধন করার জন্য হাইকমিশন আহ্বান জানালে ৩৩৯ জন আবেদন করেন।

    নাগরিকদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিতে পেরে বাংলাদেশ সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেবিচক, বাংলাদেশ পুলিশ ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশন।

    করোনার কারণে গোটা বিশ্বজুড়ে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রাণঘাতী ভাইরাসটির বিস্তাররোধের পদক্ষেপের কারণে বেশিরভাগ দেশের সঙ্গেই অন্য দেশের বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশেও কেবল চীন ছাড়া অন্য কোনো দেশের ফ্লাইট আসছে না এখন।

    বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, রাশিয়া, যুক্তরাজ্যসহ অনেক রাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে শুরু করে। এজন্য চার্টার্ড বা ভাড়া করা ফ্লাইটই আনতে হয়েছে কিছু দেশকে। সবশেষ এই সারিতে যোগ হলো অস্ট্রেলিয়া।

  • সরকারের চেয়ে শক্তিশালী কেউ নয়, ত্রাণ চুরি বন্ধে ব্যবস্থা নিন

    সরকারের চেয়ে শক্তিশালী কেউ নয়, ত্রাণ চুরি বন্ধে ব্যবস্থা নিন

    করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে কর্মহীন ও দুস্থদের দেয়া সরকারি ত্রাণ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সরকারের চেয়ে শক্তিশালী কেউ নেই, আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি।’

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী টেলিফোনে জাগো নিউজকে এ কথা বলেন।

    করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে দেশে প্রথমে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষিতে কয়েক দফায় ছুটি ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। জরুরি সেবামূলক সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব বন্ধ ঘোষণা করা হয়, বন্ধ করে দেয় সব ধরনের গণপরিবহনও। এ সময়ে সরকার সবাইকে ঘরে অবস্থানের পরামর্শ দেয়।

    এমন পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ। এসব কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষ ও দুস্থদের সহায়তায় সরকার ত্রাণসহায়তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে ১০ টাকা কেজি দরে বিশেষ ওএমএস এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চালও দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ত্রাণ ও এসব কর্মসূচির চাল আত্মসাৎ এবং চুরির ঘটনা ঘটে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তৎপরতায় এসব উদঘাটিও হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিরা এসবের সঙ্গে জড়িত বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

    ত্রাণ আত্মসাতের ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকায় ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বেশ কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সাময়িক বরখাস্ত করে আদেশ জারি করেছে। কেন তাদের স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে না- সেই বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কার্যক্রমের বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার এই সময়ে যে মাঠে যে টিমটা কাজ করছে, জেলা প্রশাসক (ডিসি) হচ্ছেন প্রধান সমন্বয়ক। তার নেতৃত্বেই কাজ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ নিয়ে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ৬১ হাজার ৫৫৭ জনপ্রতিনিধি সারাদেশে আছেন। এরমধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন অনিয়ম করছেন।’

    সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তাদের ভয় পাওয়ার মতো কিছু নেই। সরকারের চেয়ে শক্তিশালী কেউ নেই। আপনারা অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন, আমরা উপরে আছি, আমরা এটাকে কঠোরভাবে দেখছি।’

    ‘অপরাধী অপরাধীই, সে কোনো দলের না। তাকে ধরে ফেলুন। যারা এই সময়ে এই রকম কাজ করতে পারে, তাদের কোনো ছাড় নেই, কোনো মাফ নেই।’

    ফরহাদ হোসেন আরও বলেন, ‘আমি মনে করি সরকারি-কর্মকর্তাদের নিজের দায়িত্ব মনে করে যেভাবে ত্রাণ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা চালিয়ে যাবে। আমাদের সম্পূর্ণ সমর্থন তাদের প্রতি রয়েছে।’

    সরকারি কোনো কর্মকর্তা এরসঙ্গে জড়িত থাকলে তাদেরও ক্ষমা নেই বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

  • ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

    ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ

    আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে সে সময়ের মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ নেয়। মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    দিবসটি উপলক্ষে প্রতিবার বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও এবার করোনাভাইরাসের কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সংক্ষিপ্তভাবে মুজিবনগর দিবস পালন করবে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে বাইরে থেকে লোক না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি ভিডিও কনফারেন্সে কুষ্টিয়া জেলার সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

    ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা চালানোর পর ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়েছিল। জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী অস্থায়ী সরকারের মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।

    ওই সরকারের শপথগ্রহণের স্থান বৈদ্যনাথতলাকে মুজিবনগর নামকরণ করা হয়। মুজিবনগরে ১২ জন আনসার সদস্য বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। মুজিবনগর সরকারের সফল নেতৃত্বে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হয়।

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর তৎকালীন পাকিস্তানের শাসকচক্র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বেআইনিভাবে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ন্যায়নীতিবহির্ভূত এবং বিশ্বাসঘাতকতামূলক যুদ্ধ শুরু করলে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওয়ারলেসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

    তারই ধারাবাহিকতায় ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকার মুক্তাঞ্চলে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এক বিশেষ অধিবেশনে মিলিত হন এবং স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করেন।

    এদিকে ঘরে বসেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালনের জন্য আওয়ামী লীগের সকল স্তরের নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে সৃষ্ট সংকটের কারণে মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহীদ, দুই লক্ষ নির্যাতিত মা-বোন, মুক্তিযুদ্ধের সকল সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ঘরে বসেই ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালনের জন্য আওয়ামী লীগের সকল স্তরের নেতাকর্মী এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহসহ সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

  • চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প

    চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প

    চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা ৫০ মিনেট এই ভূকম্পন অনুভূত হয় বলে ইউরোপীয় ভূমধ্যসাগরীয় ভূমিকম্প কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে।

    ইএমএসসি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল মিয়ানমারের ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্ব এবং ভারতের আইজল থেকে ১৬৮ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে ছিল। এটি পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার নিচে ছিল। উৎপত্তিস্থলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯।

     

    চট্টগ্রাম জেলা ছাড়াও রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারে একই সময়ে ভূমিকম্প হয়। এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি।

  • সবাইকে নিজ নিজ ঘরে থাকার অনুরোধ-বিসিসি মেয়র

    সবাইকে নিজ নিজ ঘরে থাকার অনুরোধ-বিসিসি মেয়র

    দিন যতো সামনে এগুচ্ছে বরিশাল সিটি করপোরেশেনর ত্রাণ সহায়তার ব্যপ্তি ততোই ঘটছে। নগরের ছোট-বড় বস্তি বা কলোনিগুলোতে বসবাসকারী কর্মহীন অসহায় ও ‍দুস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে, এবারে নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভেতরে বসবাসকারী কর্মহীন অসহায় ও ‍দুস্থ মানুষদের তালিকা করে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

    সিটি করপোরেশন সূত্রে জানাগেছে, গেলো মার্চের শেষদিকে নগরের ৪০ হাজার অসহায় ‍ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ নেন বরিশাল সিটি করপোরেশেনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। তার এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথমদিকেই নগরের প্রায় ১৬ টি ছোট-বড় বস্তিতে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান শুরু করা হয়। বস্তিতে খাদ্য সহায়তা প্রদানের পর এখন ওয়ার্ডপর্যায়ে খাদ্য সহায়তা কর্মহীন অসহায় মানুষদের বাড়িতে পৌছে দেয়া হচ্ছে। যার তালিকাও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করে মাঠ পর্যায়ে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওয়ার্ড কাউন্সিলরা। কাউন্সিলররা জানান, মেয়রের নির্দেশনা মোতাবেক প্রকৃত অসহায়দের তালিকা করা হয়ে থাকে। মেয়রের নির্দেশনা অনুযায়ী জনসমাগম এড়াতে ওই তালিকা অনুযায়ী পরবর্তীতে সিটি করপোরেশেন কর্মীরা এসে খাদ্য সহায়তার প্যাকেট ঘরে ঘরে পৌছে দিচ্ছেন। এসময় সার্বিক কাজ দেখভালের জন্য কাউন্সিলরদের সাথে ওয়ার্ড আওয়মীলীগের নেতারা উপস্থিত থাকেন। আর এভাবে গতকাল রোববার পর্যন্ত বরিশাল নগরের প্রায় ১৬ হাজার পরিবারের কাছে এ খাদ্য সহায়তা পৌছে দেয়া হয়েছে বলে সিটি করপোরেশন সূত্রে জানাগেছে।

    আর এ খাদ্য সহায়তার প্যাকেটগুলো গত ২৯ মার্চ থেকে নগরের কালিবাড়ি রোডস্থ সেরিনয়াবাত ভবন অর্থাৎ মেয়রের বাসভবনের পেছনের মাঠে বসে প্রস্তুত করা হচ্ছে। যারমধ্যে ১০ কেজি করে চাল, ৫ কেজি আলু ও ২ কেজি মসুর ডাল থাকছে। এদিকে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতিতে সরকার কর্তৃক সরকারি ছুটি ঘোষনা করার পর বরিশাল সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি হটলাইন ব্যবস্থা চালু করেন। নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার কেন্দ্রিক চালু করা হয়েছে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা।

    এর পাশাপাশি নগরকে নিয়মিতো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি শুরু থেকেই নগরের অলিতে-গলিতে জীবানুনাশক স্প্রে করার কার্যক্রম হাতে নেয়। এরপর পাশাপাশি মশক নিধনেও মশার ওষুধ (স্প্রে) ও নগরজুড়ে ফগার মেশিন দিয়ে ধোয়া দেয়ার ব্যবস্থা চলমান রাখে। আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ যেসব নির্ধারিত জনবলের মাধ্যমে সম্পাদন করা হচ্ছে সেইসব কর্মীদের নিরাপত্তায় বুট জুতো, গ্লোবস ও মাস্ক দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ও ভ্যাটেনারি চিকিৎসক ডাঃ রবিউল ইসলাম। আর এসব কাজ সমন্বয় করার পাশাপাশি ওয়ার্ড ভিত্তিক কাজগুলো আরো বেগবান করার লক্ষ্যে সম্প্রতি ভিডিও কনফারেন্সে কাউন্সিলরসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় ও আলোচনা কার্যক্রম শুরু করেন মেয়র।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র গাজী নঈমুল হোসেন লিটু বলেন, গত ১৪ দিন ধরে যে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে তাতে কোন অভিযোগ, অনিয়ম, ত্রুটি কিংবা সমস্যার কথা কেউ বলতে পারবে না। কারণ মেয়র এ কাজের তদারকি নিজেই সবসময় করছেন। আমরা যারা মেয়রের সহযোগী হিসেবে কাজ করছি নিয়মিতো ভিডিও কনফারেন্সটা তাদের জন্য অনেক বাস্তবমুখি পদক্ষেপ। কোন কাজটি কিভাবে করা উচিত এবং কোন সমস্যা হলে কি পদক্ষেপ নেয়া উচিত সে বিষয়ে সরাসরি মেয়রের সাথে যোগাযোগ স্খাপন করে কথা বলছি। ফলে সভা সমাবেশের মতো জনসমাগম এরিয়ে মেয়রের পরামর্শ ও দিক নির্দেশনাও সরাসরি পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

    সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ জানান, বরিশাল নগরের ৩০টি ওয়ার্ডের কর্মহীন ৪০ হাজার মানুষের তালিকা করে সবার ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৬ হাজার পরিবারে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল ওয়ার্ডে অন্যান্যদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষ ছাড়াও যারা হাত পারতে পারেন না সেইসব মানুষের তালিকা তৈরী করে তাদের ঘরেও খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শুরু হয়েছে বলে জানান সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ। পাশাপাশি তিনি সবাইকে নিজ নিজ ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।