Category: প্রচ্ছদ

  • করোনায় আরও ১০ জনের মৃত্যু , নতুন শনাক্ত ৩৯০ জন

    করোনায় আরও ১০ জনের মৃত্যু , নতুন শনাক্ত ৩৯০ জন

    দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৩৯০ জন। ফলে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্ত হয়েছেন তিন হাজার ৭৭২ জন।

     

    বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, অধিদফতরের কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. শহীদুল্লাহ।

     

    বুলেটিনে বলা হয়, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় তিন হাজার ৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩২ হাজার ৬৭৪টি। নতুন যে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে তার মধ্যে আরও ৩৯০ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৭৭২-এ। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ১০ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১২০ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও পাঁচজন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৯২।

     

    শুরুতে ডা. মো. শহীদুল্লাহ পিপিইসহ চিকিৎসা সামগ্রী গ্রহণ ও বিতরণের তথ্য তুলে ধরেন।

     

    বুলেটিন উপস্থাপনকালে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

     

    গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বে তাণ্ডব চালাচ্ছে। চীন পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিয়ে উঠলেও এখন মারাত্মকভাবে ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এক লাখ ৭৭ হাজার ছাড়িয়েছে মৃতের সংখ্যা। তবে প্রায় সাত লাখ রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

     

    গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। সবশেষ হিসাবে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ৭৭২। মারা গেছেন ১২০ জন। সুস্থ হয়েছেন ৯২ জন।

     

    প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। নিয়েছে আরও নানা পদক্ষেপ। এসব পদক্ষেপের মূলে রয়েছে মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, বিশেষত ঘরে রাখা। কিন্তু সশস্ত্র বাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের টহল জোরদার করেও মানুষকে ঘরে রাখা যাচ্ছে না বিধায় করোনাভাইরাসের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

  • করোনায় আরও ৯ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৪৩৪

    করোনায় আরও ৯ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৪৩৪

     

    মহামারি করোনাভাইরাস দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৪৩৪ জন। এতে করোনায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন তিন হাজার ৩৮২ জন।

     

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। 

     

    বুলেটিনে বলা হয়, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় তিন হাজার ১২৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে দুই হাজার ৯৭৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৯ হাজার ৫৭৮টি। নতুন যে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে তার মধ্যে আরও ৪৩৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৩৮২-এ। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও নয়জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১১০ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও দুজন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৮৭ জন।

     

    বুলেটিন উপস্থাপনকালে করোনার বিস্তাররোধে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

     

    চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস এখন গোটা বিশ্বে তাণ্ডব চালাচ্ছে। চীন পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিয়ে উঠলেও এখন ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের প্রায় ২৫ লাখ। এক লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে মৃতের সংখ্যা। তবে সাড়ে ছয় লক্ষাধিক রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

     

    গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। সবশেষ হিসাবে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ৩৮২। মারা গেছেন ১১০ জন। সুস্থ হয়েছেন ৮৭ জন।

     

    প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে; যার মূলে রয়েছে মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। মানুষকে ঘরে রাখতে রাজপথের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ।

  • মতলব উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন বেদে সম্প্রদায়

    মতলব উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন বেদে সম্প্রদায়

    চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার খাদ্য সামগ্রী পেলেন বেদে সম্প্রদায়। সোমবার (২০ এপ্রিল) সুজাতপুর বাজার এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার খাদ্য সামগ্রী বেদে পরিবারের মাঝে পৌঁছে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএম জহিরুল হায়াত।

    প্রতিটি প্যাকেটে খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ ভোজ্য তেল, গুড়া দুধ। এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আওরঙ্গজেব, সিএ আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

    উপহার বিতরণকালে ইউএনও এএম জহিরুল হায়াত বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সরকারি নির্দেশনা মেনে ঘরে থাকা মানুষদের কথা ভেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার (খাদ্য সামগ্রী) যাতে উপজেলায় যোগ্য পরিবারের মাঝে পৌঁছানো যায় এ কারণেই নিজ গাড়িতে করে প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে প্রাপ্য যোগ্য পরিবারের কাছে উপহার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

  • বরিশালে দোকান খোলা রাখার ১৯ দোকানিকে সাড়ে ৭১ হাজার টাকা জরিমানা

    বরিশালে দোকান খোলা রাখার ১৯ দোকানিকে সাড়ে ৭১ হাজার টাকা জরিমানা

    মোঃ শাহাজাদা হিরা: বরিশাল জেলা প্রশাসনের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজও বরিশাল নগরীতে মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত আছে। আজ ২০ এপ্রিল সোমবার সকাল থেকে বরিশাল মহানগরীর চৌমাথা মোড়, নথুল্লাবাদ, কাশিপুর বাজার, বাংলা বাজার, আমতলার মোড়, সাগরদী, রুপাতলী, পুলিশ লাইন, বাজার রোড, কাঠপট্টি, পোট রোড, ফলপট্টি, গীর্জা মহল্লা, বান্দ রোড, চকবাজার, হাসপাতাল রোড, নতুন বাজার এবং লাকুটিয়া সড়ক এলাকায় জেলা প্রশাসন বরিশাল এর পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। জনসমাগম করে অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রেখে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বরিশাল জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে ১৯ টি দোকান কে মোট ৭১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা অাদায় করা হয়।

    নগরীর বিভিন্ন স্থানে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস, এম, অজিয়র রহমানের নির্দেশনায় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বরিশাল মোঃ জিয়াউর রহমান এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুল ইসলাম। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে গণসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এ সময় বিভিন্ন টি-স্টল, মুদি দোকান ও এলাকার মোড়ে মোড়ে যেখানেই জনসমাগম দেখা গেছে তা ছত্রভঙ্গ করা হয় এবং নিরাপদ দূরত্বে চলার নির্দেশনা, মাক্স পরার নির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন এর পক্ষ থেকে মাক্স বিতরণ করা হয়। এসময় সবাইকে যৌক্তিক প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে আসতে নিষেধ করা হয় এবং সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে জরুরি ঔষধ ব্যতীত সকল প্রকার দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়।

    এসময় মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনায় করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জিয়াউর রহমান। অভিযান পরিচালনাকালে নগরীর পোর্ট রোড এলাকায় বেশ কয়েকটি জুতার দোকান ও মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরন জাল বিক্রি করার দোকান খোলা রেখে জনসমাগম করে পণ্য বিক্রয় করছে পাশাপাশি সরকারি আদেশ অমান্য করে দোকান খোলা রেখে রোগের বিস্তারে ঝুঁকি বৃদ্ধি করার কারণে পোর্ট রোডের ৬ টি দোকানকে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন ২০১৮ এর ২৫ (১) ধারায় বিভিন্ন অংকে মোট ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এরপর নগরীর গির্জা মহল্লা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মার্কেটের বাইরের অর্ধ শাটার খোল রেখে দোকানকে সংকেত দেয়ার জন্য বাইরে লোক দাঁড় করিয়ে রেখে ভেতরে স্বাভাবিকভাবেই দোকানের অভ্যন্তরে কাস্টমার রেখে কয়েকটি দোকানকে কার্যক্রম চালু অবস্থায় পাওয়া যায়। বিভিন্ন মোবাইল ও ইলেকট্রনিকস এর দোকান খোলা রেখে জনসমাগম করে দোকান পরিচালনা করছে তার এমন অভিযোগ আমলে নিয়ে গির্জা মহল্লা এলাকার ৯ টি দোকানকে একই আইনে মোট ৩৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এসমসয়, বেশ কয়েকটি স্পটে টিসিবির পণ্য বিক্রয়ে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইনে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হয়।

    অভিযানের পাশাপাশি সচেতনামূলক কার্যক্রম হিসেবে বেশ কয়েকটি স্থলে মাস্ক বিতরণ করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা সহযোগিতা করেন এএসপি মুকুর চাকমার নেতৃত্বাধীন র‍্যাব-৮ এর একটি টিম। অপরদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুল ইসলাম এর নেতৃত্বে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় নগরীর চকবাজার এবং বাজার রোডে অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রেখে জনসমাগমের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরীর অপরাধে দন্ডবিধির ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারা মোতাবেক চারটি দোকানকে মোট ৩ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানে আইনানুগ সহযোগিতা প্রদান করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি টিম। অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয় বলেন, জনগণকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা এবং করোনা ভাইরাসের বিস্তার এবং এটিকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ীদের বাজার অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রোধকল্পে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস, এম, অজিয়র রহমান সদা সচেষ্ট এবং তাঁর নির্দেশনায় নিয়মিত এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বিকল্প পথ খুঁজছে আইসিসি

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে বিকল্প পথ খুঁজছে আইসিসি

    প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে আগামী অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে শঙ্কা জাগছে। বর্তমান পরিস্থিতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে বিশ্বকাপ এক বছর পিছিয়ে দেয়ার পরামর্শ ইতোমধ্যেই দিয়ে রেখেছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু এখনই বিশ্বকাপ পিছিয়ে দেয়া নিয়ে ভাবতে রাজি নয় ক্রিকেটের প্রধান সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বিশ্বকাপ আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদী তারা। পাশাপাশি বিশ্বকাপের জন্য বিকল্প চিন্তা-ভাবনা করছে আইসিসি।

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১৮ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসের কারণে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া আরও অন্যান্য ইভেন্টও সমস্যায় পড়তে পারে। তবে বিশ্বকাপ নিয়ে আইসিসির হাতে এখনো কিছুটা সময় আছে এবং নির্ধারিত সময়ে শুরুর জন্য প্রস্তুত তারা। কিন্তু পরিকল্পনা পরিবর্তন হতে পারে।

    আইসিসির এক মুখপাত্র বলেন, ‘আইসিসির ইভেন্টগুলো নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আয়োজনে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। যে অবস্থায় আছে, তা চালিয়ে যাবার জন্য আমরা পরিকল্পনা করছি। তবে দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে একটি বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীল জরুরী পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করেছি।’

    ‘মহামারীর উপর ভিত্তি করে আমাদের কাছে সকল বিকল্প পথ আছে। আমরা বিশেষজ্ঞ ও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়ার কাজটি চালিয়ে যাবো। এটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার উপযুক্ত সময়ে সিদ্ধান্ত নিবে।’

  • রংপুর থেকে সরকারিভাবে ৫ হাজার শ্রমিক ধান কাটতে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলে

    রংপুর থেকে সরকারিভাবে ৫ হাজার শ্রমিক ধান কাটতে যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলে

    নভেল করোনা ভাইরাস আতঙ্ক উপেক্ষা করে রংপুর জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কৃষি শ্রমিক ধান কাটতে যাচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে গতকাল রবিবার (১৯ এপ্রিল) গঙ্গাচড়া উপজেলা থেকে ৮০ জন কৃষি শ্রমিক কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় বাসযোগে সরকারিভাবে পাঠানো হয়েছে।

    ইতিমধ্যে তাদের ডাক্তারি পরীক্ষাসহ যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকারি খরচে বাসযোগে তারা সেখানে যাচ্ছেন বলে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরিচালক কৃষিবিদ আশরাফ আলী জানান।

    রংপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রংপুরে কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় দুই লাখ। প্রতি বছর ধান কাটা মৌসুমে হাজার হাজার কৃষি শ্রমিক অর্থ উপার্জন করে সংসার চালাতে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যায় ধান কাটতে। রংপুর অঞ্চলে বোরো ধান কাটতে আরও অন্তত ২৫ দিন সময় প্রয়োজন। দক্ষিণাঞ্চলে ধান ইতিমধ্যে পেকে যাওয়ায় কৃষি শ্রমিকের অভাবে ধান কাটা মাড়াই করা যাচ্ছে না। এবার করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ায় এবং সড়কপথে যান চলাচল বন্ধ থাকাসহ বিভিন্ন কারণে রংপুর থেকে কৃষি শ্রমিকরা যেতে পারছে না। এমনি অবস্থায় কৃষি শ্রমিক সংকট দূর করতে এবং কৃষি শ্রমিকদের দক্ষিণাঞ্চলে পাঠাতে কৃষি মন্ত্রণালয় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    গত শনিবার কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক রংপুর থেকে জরুরি ভিত্তিতে কৃষি শ্রমিক পাঠাতে প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং তাদের উৎসাহিত করে সরকারি খরচে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। কৃষিমন্ত্রী নিজেই রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আশরাফ আলীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে।

    এদিকে রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসন ও তাদের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে ধান কাটা শ্রমিক সংকট দূর করতে রংপুর থেকে দ্রুত কৃষি শ্রমিক পাঠানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। সে কারণে কৃষি শ্রমিকদের করোনার মধ্যেও উদ্বুদ্ধ করতে নানানমুখী উদ্যোগ নেয়েছে রংপুর কৃষি বিভাগ হয়েছে। যারা যেতে রাজি হয়েছেন তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সনদপত্র সিভিল সার্জেন দফতর থেকে গ্রহণ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে যারা যাবেন তাদের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এজন্য বাস ভাড়া করা হচ্ছে কৃষি শ্রমিকদের যাওয়ার জন্য কোন খরচ বহন করতে হবে না। সরকারি খরচে তাদের স্ব স্ব জেলা উপজেলায় পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

     

    কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রংপুরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আশরাফ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রংপুর থেকে কৃষি শ্রমিক পাঠানোর কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, রংপুরে প্রায় দুই লাখেরও বেশি কৃষি শ্রমিক আছে যাদের অনেকেই প্রতি বছর ধান কাটার মৌসুমে ধান কাটতে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলাসহ হাওর অঞ্চলে যায় ধান কাটতে। সেখানে তাদের মজুরি বেশি পাওয়ায় তারা প্রতিবছরই যায়। কিন্তু এবার করোনার কারণে কৃষি শ্রমিকরাও আতঙ্কিত। তারপরেও তাদের সঙ্গে কথা বলে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে তারা কর্মহীন আর রংপুরে ধান কাটা মাড়াই আরও ১৫-২৫ দিন সময় লাগবে। কারণ রংপুরে আলু উত্তোলন করার পরেই ধানের চারা রোপণ করায় দেরিতে ধান পাকে।

    তিনি জানান, গতকাল রবিবার জেলার গঙ্গাচড়া থেকে ৮০ জন কৃষি শ্রমিক কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। তাদের যাবার জন্য বাস ভাড়া করা হয়েছে। জ্বালানিসহ যাবতীয় খরচ আমরাই বহন করব। সেই সঙ্গে যারাই যেতে চান তাদের সরকারি খরচে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

  • করোনা আক্রান্ত রোগীর রক্ত দিয়ে চিকিৎসার পরিকল্পনা

    করোনা আক্রান্ত রোগীর রক্ত দিয়ে চিকিৎসার পরিকল্পনা

    করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত যেসব রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন তাদের রক্ত ব্যবহার করে চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ জন্য এই রোগ থেকে সেরে উঠা ব্যক্তিদের রক্ত দেওয়ার আহবান জানানো হয়েছে।

    পরিকল্পনাটি করেছে ব্রিটেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে বড় ধরনের গবেষণা শুরু হয়েছে। তাতে অংশ নিচ্ছে দেড় হাজারেরও বেশি হাসপাতাল।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এনএইচএস ব্লাড এন্ড ট্রান্সপ্ল্যান্ট বলছে, এই রক্ত দিয়ে চিকিৎসার বিষয়ে তারা পরীক্ষা চালাবে। এই চিকিৎসা পদ্ধতিকে বলা হয় কনভালেসেন্ট প্লাজমা থেরাপি।

    বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় সেটা দিয়ে তারা রোগীর শরীরে থাকা ভাইরাসটি নির্মূল করতে পারবেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, যখন একজন ব্যক্তি কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হন, তখন তার শরীরের রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করতে এন্টিবডি তৈরি করে। এই এন্টিবডি করোনা ভাইরাসকে আক্রমণ করে। ফলে সময়ের সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের তরল পদার্থ প্লাজমায় প্রচুর পরিমাণে এন্টিবডি তৈরি হয়।

    এনএইচএস ব্লাড এন্ড ট্রান্সপ্ল্যান্ট বলছে, তারা এখন প্লাজমার এই এন্ডিবডি ব্যবহারের পদ্ধতিটি কাজে লাগাতে চায়।

    সংস্থাটির দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা মনে করি করোনা রোগীদের সম্ভাব্য চিকিৎসায় এটি হবে প্রাথমিক এক গবেষণা।

    এই পরীক্ষায় দেখা হবে কনভালেসেন্ট প্লাজমা কোভিড-১৯ রোগীর শরীরে সঞ্চালিত করার পর সেটি কতো দ্রুত তাকে সারিয়ে তুলতে পারে। তবে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির মধ্যে মানুষের দেহে এই পরীক্ষা চালানো হবে।

    করোনা রোগের চিকিৎসায় রক্তের প্লাজমার ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন গ্রুপ কাজ করছে।

    কার্ডিফে ইউনিভার্সিটি হসপিটাল অব ওয়েলস ঘোষণা করেছে যে, তারাও এই পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখতে চায়।

    অ্যাকাডেমি অব মেডিকেল সায়েন্সেসের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর স্যার রবার্ট লেচলার বলেছেন, তিনি চান করোনা ভাইরাসে গুরুতর অসুস্থ রোগী, যাদের আর কোনো চিকিৎসার উপায় নেই, তাদের শরীরে এই কনভালেসেন্ট প্লাজমা চিকিৎসা চালানো হোক।

    এদিকে এই পরীক্ষার জন্য রক্ত দিতে যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যেই বহু মানুষ এগিয়ে এসেছে।

    নিউইয়র্ক ব্লাড সেন্টারের প্রধান মেডিকেল অফিসার ব্রুস সাচিয়াস বলেছেন, শত শত মানুষ আসছে রক্ত দিতে। আমরা মাত্র এক হাজার ইউনিট সংগ্রহ করতে পেরেছি।

    যুক্তরাষ্ট্রের মায়ো ক্লিনিকের প্রফেসর মাইকেল জয়নার বলেছেন, এই পদ্ধতিতে এখানে বড় ধরনের কোন স্বাস্থ্য ঝুঁকি চোখে পড়েনি। রোগীর শরীরে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়নি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অক্সিজেনের মাত্রার উন্নতি হওয়ার খবর পেয়েছি।

    ১০০ বছর আগে স্প্যানিশ ফ্লু মহামারির সময়েও এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিলো। এবোলা ও সার্স রোগের চিকিৎসাতেও এই পদ্ধতি কাজে লাগানো হয়। সূত্র: বিবিসি

  • গত দুই দিনে চীনে করোনায় কেউ মারা যায়নি

    গত দুই দিনে চীনে করোনায় কেউ মারা যায়নি

    গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনার প্রকোপ দেখা দেয়। এরপর থেকেই উহানে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। কয়েক মাসেই করোনা মহামারি পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

    চীনে করোনায় আক্রান্ত ও মারা যাওয়াদের মধ্যে বেশিরভাগই উহানের নাগরিক। তবে গত কয়েক মাসের প্রচেষ্টায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি চীনের। তারা এই বিপর্যয় অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে।

    অন্যান্য দেশে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকলেও চীনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। এরই মধ্যে উহান থেকে লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে উহানে আটকা পড়া হাজার হাজার মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে।

    এদিকে, সবচেয়ে বড় সুখবর হচ্ছে গত দুদিনে চীনের কোথাও করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। নতুন করে করোনায় আক্রান্তের ঘটনা ঘটলেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

    চীনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন জানিয়েছে, রোববার নতুন করে কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়নি। আগের দিনও করোনায় নতুন করে কারো মৃত্যু হয়নি।

    তবে রোববার নতুন করে ১২ জন প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে আটজনই বহিরাগত। গত কয়েক সপ্তাহে স্থানীয়দের তুলনায বহিরাগতদের আক্রান্তের হার বেশি।

  • দেশে করোনায় মৃত্যু ১০০ ছাড়ালো, নতুন আক্রান্ত ৪৯২ জন

    দেশে করোনায় মৃত্যু ১০০ ছাড়ালো, নতুন আক্রান্ত ৪৯২ জন

    করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃত্যু দাঁড়ালো ১০১ জনে। ২৭৭৯ নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের পর নতুন করে ৪৯২ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে আক্রান্ত বেড়ে হয়েছে ২৯৪৮ জন।

    সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, তার সঙ্গে ছিলেন অধিদফতরের কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদুল্লাহ।

     

    হেলথ বুলেটিনে আরও জানানো হয়, নতুন করে মৃত ১০ জনের মধ্যে পুরুষ আটজন এবং নারী দুজন। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ ১০ জনের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব চারজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব চারজন এবং চল্লিশোর্ধ্ব দুজন। তাদের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় মারা গেছেন পাঁচজন, নারায়ণগঞ্জে চারজন এবং নরসিংদীতে একজন মারা গেছেন।

    নতুন আক্রান্ত ৪৯২ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ রোগী গাজীপুরের।কিশোরগঞ্জের ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নরসিংদীর রোগী ৬ শতাংশ। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে আগের মতোই বেশি আছে রোগী।

    বুলেটিনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদুল্লাহ পিপিইসহ চিকিৎসা সামগ্রী গ্রহণ এবং তা চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে বিতরণের তথ্য তুলে ধরেন। এছাড়া করোনার বিস্তাররোধে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

  • বরিশালে কড়াকড়ির মধ্যেও লকডাউন উপেক্ষার প্রবণতা বাড়ছে

    বরিশালে কড়াকড়ির মধ্যেও লকডাউন উপেক্ষার প্রবণতা বাড়ছে

    প্রশাসনের কড়াকড়ির পরও বরিশালে লকডাউন উপেক্ষার প্রবণতা বাড়ছে। সোমবার অষ্টম দিনেও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাস্তায় বেড়িয়েছেন প্রচুর সংখ্যক মানুষ।
    মুদি এবং ওষুধের দোকান ব্যতিত অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ থাকলেও ক্রমান্বয়ে এই মুহূর্তে অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলার হিরিক পড়েছে। বিশেষ করে নগরীর বাজার রোডে অপ্রয়োজনীয় এবং কাঠপট্টিতে প্রচুর সংখ্যক ইলেক্ট্রনিক্স দোকান খোলা রাখতে দেখা গেছে। সরকারি নির্দেশ বাস্তবায়নে জেলা প্রশসনের ভ্রাম্যমান আদালত এবং সেনাসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকলেও লকডাউন পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না বরিশালে।

    এদিকে জেলা প্রশাসন জনগণের শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে নগরীর ৯টি বাজার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠসহ খোলা জায়গায় স্থানান্তর করেছে। গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসন এক গণবিজ্ঞপ্তিতে নগরীর ৯টি বাজার স্থানান্তরের ঘোষণা দেয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই ঘোষনা বলবৎ থাকবে বলে গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

    গত ১২ এপ্রিল বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই রোগীর দেহে প্রথমবারের মতো করোনা সনাক্ত হওয়ায় ওইদিন রাতেই নগরীসহ পুরো জেলা লকডাউন ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। প্রথমদিকে মানুষের মধ্যে আইন মান্য করার প্রবণতা থাকলেও আস্তে আস্তে তারা অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বিনা কারণে রাস্তাঘাটে বেড়িয়ে পড়েন। মুদী এবং ওষুধের দোকান ব্যতিত অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও নগরীর বিভিন্ন স্থানে এই মুহূর্তে অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রাখার হিরিক পড়েছে।

    গত রোববার এবং গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত অপ্রয়োজনীয় দোকান খোলা রাখায় নগরীর বিভিন্ন স্থানে ২৯টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। এরপরও গতকাল সোমবার বাজার রোডে সুতার দোকানসহ নানা অপ্রয়োজনীয় দোকান এবং কাটপট্টিতে প্রচুর সংখ্যক ইলেক্ট্রনিক দোকান খোলা রাখতে দেখা গেছে।
    এছাড়াও বাজারঘাট, রাস্তা এবং ব্যাংকেও গতকাল অনেক মানুষ দেখা গেছে। রিক্সা, মোটর সাইকেল, বাই সাইকেল এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। টিসিবি পন্য বিক্রির প্রতিটি পয়েন্টেও ছিলো দীর্ঘ লাইন। এসব স্থানে শারীরিক দূরত্ব অনুসরণের কোন বালাই ছিল না। নগরীর অনেক এলাকায় প্রায় স্বাভাবিক সময়ের মতো চিত্র দেখা গেছে।

    দিনের প্রথমভাগে এই চিত্র থাকলেও দুপুরের পর রাস্তাঘাটে মানুষ কমতে থাকে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অনেকটাই কার্যকর হয় লকডাউন।
    এদিকে জনসমাগম রোধ ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে নগরীতে ভ্রাম্যমান আদালত এবং র‌্যাব-পুলিশের পাশাপাশি গতকাল সেনা বাহিনীকে টহল দিতে দেখা গেছে।
    করোনা এড়াতে জনগণকে সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজ নিজ ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান। জনগণের সুবিধার জন্য নগরীর ৯টি বাজার খোলা জায়গায় এবং বিভিন্ন মাঠে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।