Category: প্রচ্ছদ

  • বরিশালে প্রায় একশো কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া,সরকারি ৬ দপ্তরেই পাওনা ৬৩ কোটি টাকার বেশি

    বরিশালে প্রায় একশো কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া,সরকারি ৬ দপ্তরেই পাওনা ৬৩ কোটি টাকার বেশি

    বকেয়া পরিশোধ না করায় পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ সরকারি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে বকেয়া আছে প্রায় একশো কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল। বেসরকারি এবং ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ বিল আদায়ে কঠোর হলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে তেমন ভূমিকা নেই বিদ্যুৎ বিভাগের। ফলে দিনে দিনে সরকারি প্রতিষ্ঠানে বকেয়া বিলের পরিমাণ পাহাড় সমান হচ্ছে।

    বরিশাল ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) তথ্য মতে, বিভাগের ছয়টি জেলার সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে গত এপ্রিল পর্যন্ত বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ ৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৯২ হাজার ৪২৬ টাকা। তবে পরবর্তী মে মাসে বিলের পরিমাণ বেড়ে কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানির বরিশাল সার্কেলের সত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এটিএম তারিকুল হাসান।

    এদিকে, শুধু বরিশাল সিটি করপোরেশনের ছয়টি দপ্তরেই বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ ৬৩ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- বরিশাল সিটি করপোরেশন, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ, সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল জেলা পুলিশ এবং বরিশাল সদর হাসপাতাল।

    বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলোতে বছর বছর ধরে বিল পরিশোধ না করায় সারচার্জসহ বকেয়ার পরিমাণ বাড়ছে। বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে দফায় দফায় নোটিশ দেয়া হয়েছে। জেলা এবং বিভাগীয় প্রশাসনের সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এরপরেও বকেয়া পরিশোধে আগ্রহী হচ্ছে না দপ্তরগুলো।
    তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা বলছেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ পেলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে শতভাগ বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে না। তার পরেও বিল পরিশোধের জন্য স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

    ওজোপাডিকো বরিশাল পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক এটিএম তরিকুল হাসান জানিয়েছেন, ‘তাদের অধীনে বরিশাল, ঝালকাঠি এবং পিরোজপুর জেলা। এই তিনটি জেলায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে চলতি বছরের গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ ৬৬ কোটি ৫৪ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩৭ টাকা। এছাড়া পটুয়াখালী সার্কেলের আওতাধীন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বকেয়া বিলের পরিমাণ ২৩ কোটি ২৯ লাখ ২২ হাজার ৭৮৯ টাকা। এরমধ্যে বরিশালের দুটি বিক্রয় ও বিতরণকেন্দ্রের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে বকেয়া বিলের পরিমাণ ৭০ কোটি টাকার বেশি।

    বরিশাল বিক্রি ও বিতরণ কেন্দ্র-১ এর তথ্যমতে এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী রুবেল কুমার দে জানান, গত এপ্রিল পর্যন্ত বরিশাল সিটি করপোরেশন বাদে তাদের আওতায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ কোটি ৫২ লাখ ৭ হাজার ১৯৪ টাকা। আর বরিশাল সিটি করপোরেশনের কাছে বকেয়া বকেয়া বিলের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩৬ কোটি টাকার বেশি।

    এছাড়া বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাছে ৪৮ লাখ টাকা, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের কাছে ৩৬ লাখ টাকা এবং বরিশাল জেলা পুলিশের কাছে বকেয়া বিলের পরিমাণ ৭০ লাখ টাকা। হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজের বকেয়া তিন মাসের হলেও বরিশাল জেলা পুলিশের বকেয়া দেড় বছরের।

    অপরদিকে, বরিশাল বিক্রি ও বিতরণ কেন্দ্র-২ এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক হোসেন জানান, ‘তাদের অধিনে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বকেয়া সিটি করপোরেশনের কাছে। তাদের কাছে ২৫ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া। এর বাইরে সরকারি ব্রজমোহন কলেজে গত এক বছরে ৫০ লাখ টাকা বিল বকেয়া রয়েছে।

    এছাড়া বরিশাল জেনারেল ও টিবি হাসপাতালের কাছে ১২ লাখ, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে ৫ লাখ, ধর্মীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৬ লাখ, ভূমি অফিসের কাছে ২ লাখ এবং কৃষি বিভাগের বকেয়া বিল ২ লাখ টাকা। তবে চলতি জুন এবং জুলাইয়ের মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান তাদের বকেয়া পরিশোধের কথা জানিয়েছেন বলেও জানান প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রকৌশলী।
    এ প্রসঙ্গে সরকারি ব্রজমোহন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা চাইলেই বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারছি না। কেননা বিদ্যুৎখাতে বরাদ্দ দেয়া সরকার। যতটুকু বরাদ্দ পাই তা দিয়ে বিল পরিশোধের চেষ্টা করি। চলতি জুনে বরাদ্দ পেলে আবারও এক দফা বকেয়া বিল পরিশোধ করা হবে।

    অপরদিকে, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুৎখাতে মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের যে বরাদ্দ দেয়া হয়, তার শতভাগ খরচের অনুমোদন দেয়া হয় না। সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করা যায়। যে কারণে ওই ৭৫ শতাংশ বিল দেয়ার পরেও বকেয়া থেকে যায়। বকেয়ার সাথে সারচার্জ বাড়তে থাকে। আমরা শতভাগ বিদ্যুৎবিল পরিশোধের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছি। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে বাকি ২৫ শতাংশ দিয়ে বিল পরিশোধ করা হবে। না হলে ২৫ শতাংশ টাকা ফেরত যাবে। পরবর্তী অর্থ বছরে বরাদ্দ পেলে আবার বিল দেয়া হবে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘ইতিপূর্বে বরিশাল সিটি করপোরেশনের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে নগরীর সড়ক বাতি এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। পরবর্তীতে বিভাগীয় কমিশনারের মধ্যস্ততায় কিস্তিতে বিল পরিশোধের শর্তে বিদ্যুৎসংযোগ পুন:স্থাপন করা হয়। এক কিস্তি বিল পরিশোধ করা হলেও পরবর্তীতে আবার বিল দেয়া বন্ধ করে দেয় সিটি করপোরেশন। এ কারণে দ্বিতীয় দফায় আবার সড়ক বাতি এবং পানির পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। পরবর্তীতে আর সমঝোতা না হলেও সিটি করপোরেশন নিজস্ব ক্ষমতায় সড়ক বাতির সংযোগ দিয়েছে বলে দাবি বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের। যদিও এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    এদিকে, ‘ওজোপাডিকো’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বরিশাল বিক্রি ও বিতরণ কেন্দ্র-১ এর অধিনে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১ কোটি ৯২ লাখ ৩ হাজার ৯৭১ টাকা, কৃষি বিভাগের কাছে এক কোটি ৭৯ লক্ষ ৭ হাজার ৩৯৮ টাকা, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কাছে ৮ কোটি ৪৮ লাখ ৩৫৪ টাকা, বাড়ির বিল ৪ কোটি ৪২ লাখ ৭ হাজার ৬৫ টাকা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের কাছে সর্বোচ্চ ১ কোটি ১৫ হাজার ৭৭৮ টাকা।

    বরিশাল বিক্রি ও বিতরণ কেন্দ্র-১ এর অধীনে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার মধ্যে শিক্ষা দপ্তরগুলোতে ৫ কোটি ১৫ লাখ ২২৬ টাকা, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কাছে ১ কোটি ১৮ লাখ ৭ হাজার ২৪৯ টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ বকেয়া। তবে দুটি বিভাগের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বকেয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কম নয়।

    অপরদিকে, বরিশাল সার্কেলের অধিনস্ত পিরোজপুর জেলা সদর কেন্দ্রের আওতায় প্রতিষ্ঠানে বকেয়ার পরিমাণ ৩৯ লাখ ৭৮ হাজার ৮৫৯ টাকা। এর মধ্যে সরকারি বাসার বিদ্যুৎবিল বকেয়া সর্বোচ্চ ১১ লাখ ১৩ হাজার ৮৩১ টাকা। এছাড়া অন্যান্য বিভাগগুলোতে এক থেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত বিল বকেয়া রয়েছে।

    একই জেলার ভা-ারিয়ায় বাকি ৫৭ লাখ ১ হাজার ১৩ টাকা, ঝালকাঠি জেলা সদরে ৬৬ লাখ ১৩ টাকা, একই জেলার নলছিটি উপজেলায় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৮০৫ টাকা এবং কাঁঠালিয়া উপজেলায় বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ ৯ লাখ ৫৬ হাজার ১৯০ টাকা।

    এছাড়া ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানির পটুয়াখালী সার্কেল কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী গত মার্চ মাস পর্যন্ত তাদের আওতাধীন সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ ছিলো ২৩ কোটি ২৯ লক্ষ ২২ হাজার ৭৮৯ টাকা। পরবর্তী মার্চ এবং এপ্রিল মাসে সেই বকেয়ার পরিমাণ আরও বেড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দেশের বৃহৎ কয়লাভিত্তিক পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে কয়লার অভাবে। কয়লা ক্রয়ের বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় সংশ্লিষ্ট অংশীদার প্রতিষ্ঠান কয়লা সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত বিল পরিশোধ করলে বিদ্যুৎখাতে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরতো।

  • একদিকে তীব্র দাবদাহ, সমান তালে চলছে লোডশেডিং

    একদিকে তীব্র দাবদাহ, সমান তালে চলছে লোডশেডিং

    এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা দাবদাহের সঙ্গে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে নগরবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। প্রচ- গরমে শিশু ও বয়স্করা চরম বিপাকে পড়েছে। দিনে তীব্র গরমের পর রাতেও প্রচ- গরম ও লোডশেডিং।

    আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আকাশে মেঘ না থাকা এবং বাতাসের আদ্রতা কম থাকায় তাপমাত্রা বেড়েছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বন্ধ থাকায় বেড়েছে লোডশেডিং।

    বিদ্যুৎ গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলছেন, তীব্র দাবদাহ অন্যদিকে অস্বাভাবিক লোডশেডিং দিনকে দিন পরিস্থিতি দুর্বিসহ করে তুলছে। প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে প্রভাব পড়ছে ব্যবসা বাণিজ্যে।

    বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সাজিদ বলেন, ‘প্রতিদিনই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তীব্র দাবদাহ। এর মধ্যে রাতদিনের বেশির ভাগ সময় থাকে না বিদ্যুৎ। এতে জনজীবনে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা।’

    নগরীর বটতলা এলাকার বাসিন্দা আফজাল ও সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘সারাদিনে কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ বার লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ এসে আধাঘণ্টা থাকে আবার চলে যায়। এভাবে আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। গরমের কারণে বাসায় শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।

        অন্যদিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, প্রতিদিন চার থেকে পাঁচবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের সমস্যা হচ্ছে। নগরীর চকবাজারের একাধিক পোশাক ব্যবসায়ীরা বলেন, আমাদের ব্যবসায় মূল আকর্ষণ হলো ক্রেতা আকর্ষণ করা। কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে ক্রেতাও আসেনা মার্কেটে। বিক্রি করবো কার কাছে?

    ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ.টি.এম তারিকুল ইসলাম জানান, বরিশালে দৈনিক ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এর চাহিদা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট। এ কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে।

    তিনি জানান, পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ পরিস্থিতি থেকে কবে নাগাদ উত্তরণ সম্ভব, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, পায়রা বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে এ পরিস্থিতি আর থাকবে না।

    এদিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক মাসুদ রানা রুবেল বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গরমের এ তীব্রতা আরও কিছুদিন থাকবে বলে জানান তিনি।

  • ২৬ নং ওয়ার্ডে জনপ্রিয়তার শীর্ষে কবির-লিনা দম্পতি

    ২৬ নং ওয়ার্ডে জনপ্রিয়তার শীর্ষে কবির-লিনা দম্পতি

    আগামী ১২ জুন বরিশাল সিটি নির্বাচন। দিনটি যত এগিয়ে আসছে জমে উঠছে প্রচার-প্রচারণা।

    ভোটের মাঠে মেয়র-কাউন্সিলর মিলিয়ে ১৬৮ জন প্রার্থী; সবাই ব্যস্ত ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে নিজের জন্য ভোট চাইতে। নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির ও নাজনীন আক্তার (লিনা কবির) দম্পতিও ভোট চাইছেন। তবে, একে অপরের জন্য নয়, শুধু নিজেদের জন্য।

    এ নির্বাচনে সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর আসনে লড়বেন এ দম্পতি। হুমায়ুন কবির সাবেক ৬ নম্বর জাগুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে তিনি নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান। তার স্ত্রী নাজনীন আক্তার (লিনা) একই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। হুমায়ুন এ ওয়ার্ডে ভোটে দাঁড়ানোয় লিনা সংরক্ষিত-৯ (২৪-২৬) নম্বরে ওয়ার্ডে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সংরক্ষিত-৯ আসনের বর্তমান নারী কাউন্সিলর সেলিনা বেগম। এবারও তিনি সেখানে প্রার্থিতা করছেন।

    লোকমুখ থেকে জানা গেছে, সাধারণ থেকে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনী এলাকা বড় হওয়ায় হুমায়ুনের চেয়ে বহুগুণ বেশি কষ্ট করছেন লিনা। তাই তাকে নিয়ে জনমনে আলোচনা বেশি। কিন্তু তারা এও বলছেন, যিনি ওয়ার্ডবাসীর উন্নয়ন করতে পারবেন; বিপদে-আপদে পাশে থাকবেন- তাকেই তারা ভোট দেবেন; বিজয়ী করবেন।

    নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার কালাম মিয়া বলেন, শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পর গত ১০ বছরে বর্ধিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত আমাদের এ ওয়ার্ডে হাতে গোনা দুয়েকটি সড়ক সংস্কার ছাড়া কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। আমারা এখনও বাঁশের সাঁকোই বাদ দিতে পারলাম না, হঠাৎ করে কেউ এখানে এসে সিটি এলাকা নাও বলতে পারে। সুতরাং ভোট দিতে চাই চিন্তা-ভাবনা করে।

    নির্বাচিত হলে অসম্পূর্ণ কাজগুলো আগে শেষ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও আসন্ন সিটি নির্বাচনের প্রার্থী হুমায়ুন কবির।

    তিনি বলেন, শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পর বিএনপির দলীয় প্রার্থী প্রয়াত আহসান হাবিব কামাল এবং তার পরে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ মেয়র হলেও এ অঞ্চলে কার্যকর উন্নয়ন হয়নি।

    আমি মানুষের পাশে নিজের সামর্থ্য ও সাধ্য অনুযায়ী থেকেছি। করোনাকালসহ যেকোনো বিপদে মানুষের পাশে ছিলাম এবং আছি। গত দুই আমলে বরিশাল নগরে কি হয়েছে তা সাধারণ মানুষও জানে। আর তারাই তো আমাকে ভালোবাসে চেয়ারম্যান থেকে কাউন্সিলরও বানিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি মানুষ আমাকে ভোট দেবে।

    তিনি বলেন, নারীর স্বাধীনতা রয়েছে। আমি আমার মতো করে সাধারণ আসনে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি আর আমার স্ত্রী লিনা তার ইচ্ছায় সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন।

    যে আসনটি নগরের ২৪, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড মিলিয়ে। আর ওই এলাকা জুড়েই সাবেক জাগুয়া ইউনিয়ন ছিল, তাই ২৪-২৫ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষও আমাদের চেনেন। আমরা দুজন প্রার্থী হওয়ার পেছনে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বেশি ছিল। আমরা মানুষের সেবা করতে চাই।

    এদিকে সাধারণ মানুষের আগ্রহে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুনের স্ত্রী লিনা কবির। তিনি বলেন, মানুষ না চাইলে আমি প্রার্থী হতাম না।

    আর এখন প্রার্থী হয়ে মানুষের ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি। আমার এ কাজে পরিবার থেকে কোনো বাধাও নেই, প্রার্থী হওয়া থেকে এখন পর্যন্ত সকল কাজে আমার স্বামী ও পরিবার আমাকে সহযোগিতা করছে। আমরা নির্বাচিত হলে শুধু ২৬ নম্বর ওয়ার্ড নয়, তিনটি ওয়ার্ডের উন্নয়ন ও মানুষের সেবায় কাজ করবো।

  • গাজীপুরে ব্যবহৃত ইভিএমে ভোট হবে বরিশালে নির্বাচন

    গাজীপুরে ব্যবহৃত ইভিএমে ভোট হবে বরিশালে নির্বাচন

    গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ব্যবহৃত এক হাজার ৫০০ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বরিশাল এসে পৌঁছেছে। সোমবার (২৯ মে) বিকেলে ইভিএম মেশিনগুলো বরিশালে শিল্পকলা একাডেমিতে রাখা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসার মনিরুল ইসলাম জানান, গাজীপুরে যে ইভিএম দিয়ে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে, বরিশালেও একই মেশিনে ভোট নেয়া হবে।

    এদিকে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে ইতিমধ্যে প্রায় দেড়শতাধিক ব্যক্তিকে ইভিএমের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ জুন বরিশাল সিটি নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

    এ নির্বাচনে মেয়র পদে ৭ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১১৬ এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৪২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
    মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস ও ইসলামী আন্দোলনের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম ইভিএমের পরিবর্তে ব্যালটে ভোটের দাবি জানিয়েছিলেন।

    তবে সম্প্রতি বরিশালে প্রার্থী নিয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল জানান, ইভিএম বাতিল করা সম্ভব নয়। কারণ বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন সন্নিকটে।

    প্রসঙ্গত, আগামী ১২ই জুন বরিশাল সিটি কপোরেশন নির্বাচনে ১২৬টি কেন্দ্রের ৮৯৪ কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৭৬ হাজার ২৯

  • ‌‌‍‌‌‍‍’নির্বাচিত হলে সব মানুষদের প্রত্যাশা পুরণে সর্বাত্তক চেষ্টা করা হবে’

    ‌‌‍‌‌‍‍’নির্বাচিত হলে সব মানুষদের প্রত্যাশা পুরণে সর্বাত্তক চেষ্টা করা হবে’

    আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশনের আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত বলেছেন নির্বাচিত হতে পারলে আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই এখানকার মানুষ অর্থাৎ ধনী-গরীব সবাই মুল্যায়িত হবে। যা এতোদিন হয়নি। মহৎ কাজ সবাই করতে পারেনা। আমি যেখানেই কাজ করেছি সুনামের সাথে করেছি।

    সোমবার (২৯ মে) সকাল ১১ টার দিকে নগরীর ঈশ্বরবসু রোড ও সদর রোডের কাকলী মোড় থেকে অশ্বিনী কুমার টাউন হল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পথচারীদের মাঝে গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন বলেন, আপামর মানুষ নৌকাকে সমর্থন জানাচ্ছেন। তারা উন্নয়নের জন্য আবারও নৌকাকে বিজয়ী দেখতে চান। নির্বাচিত হলে এই সব মানুষদের প্রত্যাশা পুরণে সর্বাত্তক চেষ্টা করবেন। তাই নগরীর উন্নয়ন ধারাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আগামী ১২ জুন নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট গোলাম মাসউদ বাবলু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম তোতা, মহানগর যুবলীগের আহবায়ক নিজামুল ইসলাম নিজাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি তিলোত্তমা শিকদার ও আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন বাবুলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

  • ব‌রিশালে কখনও ব্যবসার প‌রি‌বেশ তৈরি করা হয়‌নি : খোকন সেরনিয়াবাত

    ব‌রিশালে কখনও ব্যবসার প‌রি‌বেশ তৈরি করা হয়‌নি : খোকন সেরনিয়াবাত

    বরিশাল সিটি নির্বাচনের নৌকার প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত) বলেছেন, ব‌রিশালে কখনও ব‌্যবসার প‌রি‌বেশ তৈরি করা হয়‌নি। অথচ ব‌্যবসা হ‌চ্ছে অর্থনী‌তির মূল চা‌লিকা শ‌ক্তি।

    বিগত দি‌নের এ ব‌্যর্থতা আমি নির্বা‌চিত হ‌লে ঘোচানোর চেষ্টা করবো। ব‌রিশা‌লে শিল্প এলাকা আছে কিন্তু শিল্প কারখানা নেই। অথচ সরকার ব‌্যবসার জন‌্য বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থা‌কে। যার প্রমাণ দেশে এখন চার‌টি পোর্ট র‌য়ে‌ছে।
    তিনি বলেন, ব‌রিশা‌লের ব্যবসায়ীরা নানা প্রতিকুলতার শিকার হ‌চ্ছেন। বি‌শেষ করে বি‌সি‌কের ব‌্যবসায়ীরা। যা এক‌টি সভ‌্য দে‌শে কাম‌্য নয়। আমি নির্বা‌চিত হ‌লে ব‌্যবসা বান্ধব নগরী গড়া হবে।

    তিনি আরও সম্ভাবনার কথা জানিয়ে বলেন, আল্লাহর রহমতে বরিশালে কীর্তনখোলার মত একটি গভীর নদী আছে। এখানে ইপিজেড নির্মানও সম্ভব। তার ও সাধারণ মানুষের এসব সপ্ন পুরনের জন্য আগামী ১২ জুন নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

    ব‌রিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি ও ব‌রিশাল উই‌মেন্স চেম্বার অব কমার্স ইন্ডা‌স্ট্রির যৌথ আ‌য়োজ‌নে রোববার (২৮ মে) দুপুরে নগরের একটি আবাসিক হোটেলের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

    বরিশাল মে‌ট্রোপ‌লিটন চেম্বার অব কমা‌র্স ইন্ডা‌স্ট্রির সিআইপি প্রেসি‌ডেন্ট মো. নিজাম উদ্দিনের সভাপ‌তি‌ত্বে সভায় বক্তব‌্য রা‌খেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার ও ম‌শিউর রহমান, মহানগর যুবলী‌গের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন, চট্রগ্রাম পোর্টল‌্যান্ড গ্রুপের চেয়ারম‌্যান মিজানুর রহমান, ব‌রিশাল উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রির সভাপ‌তি বিল‌কিস আহ‌মেদ লি‌লি, প‌রিচালক নাজমুন নাহার রিনা, সার‌বিন ফের‌দৌ‌সি ও রোকসানা আইভি, ব‌রিশাল চেম্বার অব কমার্স ইন্ডা‌স্ট্রির প‌রিচালক রে‌জিন উল ক‌বির ও নোমান ম‌ল্লিক।

    সভায় বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার ৫২ বছরেও বরিশাল ব্যবসাবান্ধব নগরী হতে পারেনি। এখানকার বিসিক শিল্প নগরীর কোনো প্রতিষ্ঠানকে সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন দিচ্ছেন না। এমনকি নারী ব্যবসায়ীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মেয়রের দেখা পান না, বলতে পারেন না তাদের সমস্যা।

    বক্তারা বরিশালকে নারীবান্ধব ব্যবসায়ীক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানান।

    এ‌ছাড়া সভায় দুই চেম্বা‌রের অন‌্যান‌্য নেতারা উপ‌স্থিত ছি‌লেন।

  • নজরদারি বাড়ছে, বিধি মানাতে হুঁশিয়ারি প্রশাসনের

    নজরদারি বাড়ছে, বিধি মানাতে হুঁশিয়ারি প্রশাসনের

    সিটি নির্বাচন ঘিরে নগরের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা চলছে। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার খবর না পাওয়া গেলেও, মোটরসাইকেল মহড়া দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে আচরণবিধি ভঙ্গ করার অভিযোগ রয়েছে।

    তবে নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের তৎপরতা বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সেইসঙ্গে নির্বাচনী বিধি মেনে চলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

    জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, সবাই নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে চলবেন। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে সচেষ্ট থাকবো। যেটা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

    তিনি বলেন, নির্বাচনে অপরাধ রোধ এবং আচরণ বিধি প্রতিপালনের জন্য ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠ পর্যায়ে এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। যারা ভোট নেওয়ার দিন পর্যন্ত তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।

    তিনি প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দেয়াল লিখন বা দেয়ালে পোস্টার লাগানো আচরণ-বিধি লঙ্ঘন। এরকম অভিযোগ আমাদের কাছে আসছে, অতিসত্বর সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা এগুলো অপসারণ করুন, নয়তো বিপুল পরিমাণ অংকের জরিমানা গুনতে হবে।

    এদিকে বহিরাগতদের নির্বাচনী কাজের অনুমতি দেওয়া হবে না জানিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা এরইমধ্যে চেকপোস্ট বসিয়েছি, সেখান থেকে বেশ কিছু যানবাহন আটক করেছি। দুইএক দিনের মধ্যে চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হবে। যারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ বা মাস্তানি করতে পারে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    মাঠে আমাদের বিশেষ শাখার পুলিশ সদস্যরাও কাজ করছেন। তাই সবাইকে বিধি মেনে চলার জন্য বলছি, বিশেষ করে টাকা-পয়সা দিচ্ছে এমন কাউকে পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে প্রার্থীদের অপমানজনক অবস্থায় পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

    নির্বাচনকে ঘিরে চাহিদার থেকে ফোর্স বেশি রাখা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি মোবাইল টিম রাখার কথা বলেছে নির্বাচন কমিশন। সেই অনুযায়ী ৩০ ওয়ার্ডে ৩০টি মোবাইল টিমের প্রয়োজন হলেও আমরা বাড়িয়ে ৪৮টি করেছি। যাতে সবাই নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসতে পারে। বেশ কয়েকটি কেন্দ্র রয়েছে যেখানে আমাদের গাড়ি যাবে না, সেখানে মোটরসাইকেলে মোবাইল টিমের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    ১২৬ কেন্দ্রের মধ্যে ১০৬টি কেন্দ্রকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে চারজন ফোর্সের জায়গায় সাতজন দেওয়া হচ্ছে। শুধু সাতজন পুলিশ সদস্যই নয়, আনসার সদস্য মিলিয়ে এসব কেন্দ্রে ১৮-১৯ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া ১৫-২০ জন পুলিশ সদস্যকে মিলিয়ে পর্যাপ্ত স্ট্রাইকিং ফোর্স রাখা হবে। সেইসঙ্গে থাকবে স্ট্যান্ডবাই ফোর্সও।

    তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রতিটি কেন্দ্রে আমাদের অফিসাররা গিয়েছেন, আমরা নিজেরা ম্যাপ তৈরি করেছি এবং আমাদের কার্যক্রম সাজিয়েছি। যাতে সবাই নিশ্চিন্তে কেন্দ্রে যেতে পারেন।

    এদিকে নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হা‌বিব খান বলেন, আমার দায়িত্ব হচ্ছে ভোটারকে কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া এবং তার ভোট নিজের ইচ্ছে মতো যাকে খুশি তাকে দিতে পারে। সেই নিশ্চয়তা আমরা আজ দিয়ে যাচ্ছি। আমরা গাইবান্ধা, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর ও গাজীপুরে ইতোমধ্যে এটা করে দেখিয়েছি।

    তিনি বলেন, বরিশালসহ আসন্ন চার সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি টিভি ক্যামেরা লাগানো হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএন, আনসারদের পাশাপাশি বিজিবি থাকবে।

  • মাত্র একদিনেই পোস্টারে ছেয়ে গেছে নগরী

    মাত্র একদিনেই পোস্টারে ছেয়ে গেছে নগরী

    বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৬৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের মাঝে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে গত ২৬ মে। এদের মধ্যে সাতজন মেয়র প্রার্থী, ১১৬ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং ৪২ জন সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর।

    প্রতীক পাওয়ার পর পরই আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভোট চেয়ে চলছে মাইকিং। এক প্রার্থীর প্রচার গাড়ি না যেতেই হাজির হচ্ছে আরেক প্রার্থীর প্রচার মাইক। প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।

    শুধু তাই নয়, প্রতীক প্রদানের একদিনের মধ্যেই প্রার্থীদের পোস্টার আর ব্যানারে ছেয়ে গেছে শহরের প্রতিটি অলিগলি। এক প্রকার পোস্টারের শহরে রূপ নিয়েছে বরিশাল। পোস্টার-ব্যানার প্রার্থীদের পরিচয় যেমন তুলে ধরছে, তেমনি নগরজুড়ে নির্বাচনের অবয়ব সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

    সরেজমিনে নগর ঘুরে দেখা গেছে, ‘শহরের সদর রোডের রাজপথসহ প্রতিটি অলিগলিতে মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের সাদা-কালো পোস্টার সাটানো হয়েছে। দড়ি দিয়ে পোস্টার বেঁধে তা ঝুলানো হয়েছে রাস্তার ওপর। আবার নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রার্থীদের সাদা-কালো ব্যানার লাগানো হয়েছে রাস্তার পাশে। লেমিনেটিং করা হয়েছে ঝুলন্ত পোস্টারগুলো। এর ফলে বৃষ্টির পানিতেও নষ্ট হচ্ছে না পোস্টারগুলো।

    নগরবাসী জানিয়েছে, ‘২৬ মে শুক্রবার সকাল ১১টার পর থেকেই প্রধান সড়কসহ প্রতিটি অলিগলিতে পোস্টার-ব্যানার লাগানো শুরু হয়। এ ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে ছিলো ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী। তাঁর অনুসারীরা প্রতীক বরাদ্দের পর পরই নগরজুড়ে পোস্টার সাটিয়েছেন। তবে সন্ধ্যার মধ্যেই সকল প্রার্থীর ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে নগরী। আর একদিনের মাথায় পোস্টারের নগরীতে পরিণত হয়েছে বরিশাল শহর।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, ‘প্রতিটি ওয়ার্ডে মেয়র পদপ্রার্থীসহ অন্তত ১২-১৬ জন প্রার্থী পোস্টার সাটিয়েছেন। এর ফলে রাস্তা-ঘাটে নতুন করে পোস্টার সাটানোর জয়গা খুঁজে পাওয়াটা এখন দুস্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
    যদিও সব মেয়র প্রার্থীর পোস্টার-ব্যানারের দেখা মেলেনি। দলীয় মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত, জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর পোস্টার-ব্যানারই দৃষ্টি কাড়লেও জাকের পার্টির মো. মিজানুর রহমানের গোলাপ ফুলের পোস্টার চোখে পড়ছে না।

    আবার ‘টেবিল ঘড়ি’ প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সাবেক ছাত্রদল নেতা কামরুল আহসান রূপন এবং হরিণ প্রতীকের মো. আলী হোসেন হাওলাদারের পোস্টার-ব্যানার দেখা গেলেও ‘হাতি’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মো. আসাদুজ্জামানের পোস্টার দেখা যাচ্ছে না।

    সিটি করপোরেশনের ভোটাররা বলছেন, ‘পোস্টারে থাকা অনেকেই প্রার্থীই ভোটারদের কাছে অপরিচিত। ছবিতেই তাদের প্রথম দেখা যাচ্ছে। তবে পোস্টার-ব্যানার নয়, যোগ্য প্রার্থী দেখেই ভোট দিবেন ভোটাররা। এমনটিই দাবি ভোটারদের।

  • ‌’মোবাইল ব্যাংকিং সেবাকে কেন্দ্র করে প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে’

    ‌’মোবাইল ব্যাংকিং সেবাকে কেন্দ্র করে প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে’

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেছেন বর্তমান সময়ে ডিজিটালাইজেশনের যুগে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। যার ফলে এ মোবাইল ব্যাংকিং সেবাকে কেন্দ্র করে কিছু প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। যারা সাধারণ মানুষের সাথে বিভিন্ন ভাবে প্রতারণা করছে। তাই এই কর্মশালা পুলিশ সদস্যদেরকে বিকাশের মাধ্যমে সংঘটিত আর্থিক প্রতারণা বিষয়ক মামলার তদন্ত ও অনুসন্ধানে সহায়তা করবে। এসময় তিনি কর্মশালা আয়োজন করার জন্য বিকাশ লিমিটেডের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

    শনিবার সকাল সাড়ে ১‌০ টায় বিএমপি সদর দপ্তর সম্মেলন কক্ষে মেট্রোপলিটন পুলিশের আয়োজনে ও বিকাশ লিমিটেডের সহযোগিতায় “মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) এর অপব্যবহার, তদন্ত ও প্রতিরোধ” সংক্রান্ত কর্মশালা প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিকাশ লিমিটেডের এক্সটার্নাল অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের উপদেষ্টা অতিরিক্ত আইজিপি (অবঃ) মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, এনডিসি, পিএইচডির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু আহাম্মদ আল মামুন, উপ-পুলিশ কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার, উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার, উপ-পুলিশ কমিশনার খাঁন মুহাম্মদ আবু নাসের, ইভিপি ও হেড অব এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স মেজর (অবঃ) এ কে এম মনিরুল করিম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রুনা লায়লা, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ফজলুল করিম সহ বিএমপি’র অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ।

    কর্মশালায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যগনকে বিকাশের মাধ্যমে সংঘটিত আর্থিক প্রতারণা বিষয়ক মামলার তদন্ত, অনুসন্ধান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এ সময় প্রশ্নোত্তর পর্বে পুলিশ সদস্যগণ তাদের পেশাগত ও বাস্তব জীবনের ঘটনা তুলে ধরেন।

  • ১০ বছরে বরিশালবাসী নানা বঞ্চনার শিকার হয়েছেন: খোকন সেরনিয়াবাত

    ১০ বছরে বরিশালবাসী নানা বঞ্চনার শিকার হয়েছেন: খোকন সেরনিয়াবাত

    আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত বলেছেন সারাদেশে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের যে কর্মযজ্ঞ চালাছেন তা থেকে বরিশালবাসী বঞ্চিত। বিগত ১০ বছরে বরিশালবাসী নানা বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। এখানকার মানুষের রয়েছে ট্যাক্সের বিরম্বনা।

    এখানে রাস্তাঘাটের যেরকম খারাপ অবস্থা তেমনি রয়েছে পানি সরবারহে সংকোট। এই সংকোট থেকে উত্তরনের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বরিশালের মানুষের জন্য কাজ করতে পাঠিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ মে) দুপুর ১২ টায় নগরের বগুড়া রোড ক্রাউন কনভেশন হলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় ও ব জেলা-মহানগরের আয়োজনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি ‍এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন মুক্তিযুদ্ধ বার বার হয়। একেক সময় একেক রকম মুক্তিযুদ্ধ হয়। এখন আমাদের সময় বরিশাল সিটি কর্পোরেশন থেকে সকল অনিয়ম দুর করে উন্নয়নের যুদ্ধ করা। বরিশাল মানুষ যেমনিভাবে দীর্ঘদিন নিগৃহীত ছিলো আমিও তেমনি ১৫ আগষ্টের পরে দূর্বীসহ, নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছি। ১৫ আগষ্ট আমি আমার চোখের সামনে ভাই বোনকে নিহত হতে দেখেছি। আমি মানুষের কষ্ট, যন্ত্রনা অনুভব করতে পারি। সুযোগ পেলে সততার সাথে বরিশাল নগরীকে পুনঃগঠিত করবো। সিটি কর্পোরেশন চলবে সচ্ছতার মধ্য দিয়ে। তাই আগামী ১২ জুন ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করে আপনারা সেই সুযোগ সৃষ্টি করে দিবেন।

    মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড জেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মেজবাহ উদ্দিন শাহিনের সভাপতিত্বে ও মহানগর কমিটির সদস্য সচিব এহসান রাব্বীর সঞ্চালনায় সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদী হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এ্যাডভোকেট আফজালুুুুুুল করিম, এ্যাডভোকেট আনিচ উদ্দিন শহিদ, আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা আমিন উদ্দিন মোহন, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান হাওলাদার, এবিএম মহিউদ্দিন মানিক বীরপ্রতিক, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক এমজি কবির ভুলু, বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মঈন তুষারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    বক্তারা বলেন, আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর ভাই ও শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের ছেলে। অথচ তাকে বরিশালবাসী সবাই চেনেন না। এর অর্থ দ্বারায় তিনি নিতান্তই একজন ভদ্র মানুষ। তিনি কোথাও ক্ষমতার প্রয়োগ করেননা। মুক্তিযুদ্ধকালীন জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন খোকন সেরনিযাবাত। তিনি একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। এরকম একজন ব্যাক্তিকে নির্বাচিত করতে না পারলে নগরী আবারো ড্রাগনের হাতে পরবে। খোকন সেরনিয়াবাত নির্বাচিত না হলে আমরা নগরবাসী ক্ষতিগ্রস্থ হবো। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড খোকন সেরনিয়াবাতের নির্বাচনে একাত্বতা প্রকাশ করেছেন।