Category: প্রচ্ছদ

  • আসুন ত্যাগের চেতনায় দেশের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করি

    আসুন ত্যাগের চেতনায় দেশের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করি

    ত্যাগের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদুল আজহা মানে ত্যাগের উৎসব। আসুন, ত্যাগের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করি।’

    রোববার (১০ জুলাই) পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এক ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভ্রাতৃত্বের বন্ধন বজায় রেখে সবার সঙ্গে ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

    তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেও সবার প্রতি অনুরোধ জানান।

    প্রধানমন্ত্রী ‘সকলেই সুস্থ ও নিরাপদ থাকুন, ঈদ মোবারক’ বলে তার ভিডিও বার্তা শেষ করেন।

  • দেশে করোনায় আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৯৩৯

    দেশে করোনায় আরও ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৯৩৯

    গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও একই সময়ের মধ্যে আরও ৯৩৯ জন করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ হাজার ২৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ

  • বরিশাল শহর ৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কারের ঘোষণা মেয়রের

    বরিশাল শহর ৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কারের ঘোষণা মেয়রের

    বরিশালের ঈদের প্রধান জামাতের প্রস্তুতি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন বরিশালে সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। এসময় তিনি ঈদুল আযহায় বরিশাল শহরের কোরবানির বর্জ্য ৪ ঘণ্টার মধ্যে পরিষ্কারের ঘোষণা দেন।

    শনিবার (০৯ জুলাই) বিকেল ৪ টায় বরিশাল নগরের হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে সিটি করপোরেশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ঈদের প্রধান জামাত আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন তিনি।
    এ সময় বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, বরিশাল নগরবাসী যাতে ঈদগাহে ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করতে পারেন, সেই আয়োজন আমরা সম্পন্ন করেছি।

    ঈদের প্রধান ঈদ জামাতের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে চলেছে। এর মাধ্যমে আমরা একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করছি। যাতে করে নগরবাসী ঈদগাহে এসে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিতে পারেন।

    এছাড়া আমাদের সিটি করপোরেশনের যত পরিছন্নতাকর্মী আছে সবাই কাল কাজ করবে। মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যে পুরো শহর আমরা পরিষ্কার করবো আশা করি।

  • বরিশালে ঈদ আনন্দে বাগড়া দিতে পারে বৃষ্টি

    বরিশালে ঈদ আনন্দে বাগড়া দিতে পারে বৃষ্টি

    মৌসুমি বায়ুর কারণে দেশে এখন হুটহাট বৃষ্টি হচ্ছে। ঝড় কিংবা ভারি বৃষ্টির আভাস না থাকলেও ঈদুল আজহার দিনে কোথাও কোথাও ভোগাতে পারে হালকা বৃষ্টি। পাশাপাশি গরম তো থাকছেই।আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (বর্ষা) নিষ্ক্রিয় থাকায় কিছু কিছু স্থানে খুব সামান্য বৃষ্টি হচ্ছে। রোববার (১০ জুলাই) ঈদের দিনও আবহাওয়া মোটামুটি এমনই থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, রাজধানীতে সকালে বৃষ্টি না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। রোদেলা আবহাওয়া থাকতে পারে। দুপুরের পর হালকা বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকার বাইরে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির আভাস রয়েছে। কোথাও তাপপ্রবাহ বিরাজ করলেও বৃষ্টির পর গরম কমতে পারে বলে জানান তিনি।মনোয়ার হোসেন বলেন, কোরবানির দিন ভারি বর্ষণের আভাস নেই। তবে বিক্ষিপ্তভাবে ঈদের দিন কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হতে পারে। ১০ জুলাইয়ের পর বৃষ্টি বাড়তে পারে।আগামী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট অঞ্চলের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা বিভাগের দুই এক জায়গায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কিছু কিছু স্থানে (১ থেকে ২৫ শতাংশ এলাকা) খুবই হালকা (সর্বোচ্চ ১০ মিলিমিটার) বৃষ্টি হতে পারে। তবে বেশিরভাগ সময় আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। সারা দেশে ঈদের দিনের তাপমাত্রা ৩৫-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় সারা দেশে গরমের অনুভূতি থাকবে। রাজশাহী ও নীলফামারীতে যে মৃদু তাপপ্রবাহ চলছে তা রোববারও থাকতে পারে।

  • ক্রেতা-বিক্রেতাদের সব বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি: আইজিপি

    ক্রেতা-বিক্রেতাদের সব বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি: আইজিপি

    গরু ব্যবসায়ীদের হাসিল, খাওয়াদাওয়া, স্বাস্থ্যবিধিসহ সব বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ।

    তিনি বলেন, আগের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, অনেক ব্যাপারী খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই তাদের সঙ্গে কথা বলে খাবারের বিষয়টিও জেনেছি। এছাড়াও ব্যাপারীদের টাকা-পয়সা নিয়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি-না খোঁজ নিয়েছি।

    শনিবার (৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কমলাপুর কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আইজিপি।

    তিনি বলেন, আমি ক্রেতা ও বিক্রেতা সবার সঙ্গে কথা বলে তাদের সব বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি।

    পুলিশের মহাপরিদর্শক ছাড়াও এ সময় অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

    গত ৬ জুলাই পশুবাহী পরিবহনে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না বলে জানান পুলিশের মহাপরিদর্শক। রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে সারাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে ত্রৈমাসিক অপরাধ সভা হয়।

    সেখানে পশুর হাটে পোশাকের পাশপাশি সাদাপোশাকে পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়ে আইজিপি বেনজীর আহমেদ বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কোরবানির পশুবাহী যানবাহন থামানো বা চেক করা যাবে না। তিনি কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শনের জন্যও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

    আইজিপি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে হবে। মহাসড়কে করিমন, নসিমন, ভটভটি ইত্যাদি যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। দূরবর্তী স্থানে মোটরসাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনের জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন আইজিপি।

  • বিক্ষোভের মুখে পালালেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া

    বিক্ষোভের মুখে পালালেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া

    জনসাধারণের বিক্ষোভের মুখে সরকারি বাসভবন থেকে পালিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। খবর এএফপি’র।

    শনিবার (৯ জুলাই) রাজধানী কলম্বোতে বিক্ষোভ-সমাবেশে জন্য জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ঘিরে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা।

    দেশটির শীর্ষ এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে আন্দোলনের মুখে কার্যালয় ছেড়ে পালিয়েছেন। তবে তিনি ভালো আছেন বলে জানা গেছে।

    দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে থাকা শ্রীলঙ্কার জনগণ আবারও ফুঁসে উঠেছে। অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার ঢেউ আছড়ে পড়েছে রাজনীতিতেও। এর আগে জনগণের ক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। তাতেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।

    এবার দেশটির প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসেরও পদত্যাগ চাইছেন তারা।

  • স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    আল্লাহ বিপদে মানুষের ধৈর্য পরীক্ষা করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস আবার মাথাচাড়া ‍দিয়ে উঠেছে।  এসময় সবাইকে অসীম ধৈর্য নিয়ে সহনশীল ও সহানুভূতিশীল মনে একে অপরকে সাহায্য করে যেতে হবে।

    ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী করোনা মহামারিতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করার জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানান।

    পবিত্র ইদুল-আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং ঈদ মোবারক জানিয়ে বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেন ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করি এবং আল্লাহতায়ালার দরবারে বিশেষ দোয়া করি, যেন এই সংক্রমণ থেকে সবাই দ্রুত মুক্তি পাই।’

    সরকার প্রধান বলেন, ‘হযরত ইব্রাহিম (আ.) মহান আল্লাহর উদ্দেশে প্রিয় বস্তুকে উৎসর্গের মাধ্যমে তার সন্তুষ্টি লাভে যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, তা বিশ্ববাসীর কাছে চিরকাল অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। প্রতিবছর এ উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে স্বচ্ছল মুসলমানরা কোরবানিকৃত পশুর গোশত আত্মীয়স্বজন ও গরিব-দুঃখীর মধ্যে বিলিয়ে দিয়ে মানুষে-মানুষে সহমর্মিতা ও সাম্যের বন্ধন প্রতিষ্ঠা করেন। শান্তি, সহমর্মিতা, ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয় ইদুল-আজহা।’

    প্রতিবারের মতো এবারও ঈদ ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জীবনে সুখ ও আনন্দের বার্তা বয়ে আনবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই পবিত্র ইদুল-আজহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কাজে অংশ নিয়ে বৈষম্যহীন, সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’

    প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে ইদুল-আজহা’র এ দিনে  মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম উম্মাহর উত্তরোত্তর উন্নতি, সমৃদ্ধি ও অব্যাহত শান্তি কামনা করেন।

  • করোনায় একদিনে ৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৬১১

    করোনায় একদিনে ৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৬১১

    করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।এই সময়ে নতুন শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৬১১ জন নতুন রোগী।

    শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়, নতুন সাতজন নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনায় ২৯ হাজার ১৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার ৯ হাজার ৫৮০টি নমুনা পরীক্ষা করে ১ হাজার ৬১১ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।তাদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৮৮ হাজার ১০১ জনে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৯০ জন কোভিড রোগীর সেরে ওঠার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হলেন ১৯ লাখ ১১ হাজার ৩৬৭ জন।

    এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন শনাক্ত ২ হাজার ২৮৫ জনের মধ্যে ৯৫৮ জনই ঢাকা জেলার বাসিন্দা। দেশের মোট ৫৬টি জেলায় গত এক দিনে নতুন রোগী ধরা পড়েছে।

    দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের। 

    ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় গত বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল। 

    ২০২১ সালের ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এরপর বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়। 

    এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।

    গত ২০ এপ্রিল করোনায় মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর টানা ৩০ দিন করোনায় মৃত্যুশূন্য দিন পার করে বাংলাদেশ। সম্প্রতি করোনায় মৃত্যু বেশি না হলেও আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে।

  • বরিশালে যানবাহন চলাচলে ধীরগতি, থেমে থেমে যানজট

    বরিশালে যানবাহন চলাচলে ধীরগতি, থেমে থেমে যানজট

    নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: ঢাকা-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের বরিশাল শহরাংশের ৫ কিলোমিটারে যানবাহন চলাচলে ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। দূরপাল্লার পরিবহন চালকরা বলছেন, থ্রি-হুইলারসহ সব ধরনের যানবাহনের চাপে বরিশাল নগরের কাশিপুর বাজার থেকে রুপাতলী বাস টার্মিনাল পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচলে ধীরগতি রয়েছে।

    এতে করে দীর্ঘ তিনঘণ্টার যাত্রা শেষে ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার যাত্রীদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আর রোদ ঝলমলে আবহাওয়ায় তীব্র গরম যেন যাত্রীদের কষ্টের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

    ঢাকা থেকে পটুয়াখালীগামী বাসের যাত্রী নুসরাত জানান, উদ্বোধনের পর ঠিক করেছেন পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে সড়ক পথে ঢাকা থেকে বরিশালে আসবেন। তবে আজ সায়েদাবাদে যাত্রীর চাপ থাকায় ব্যাপক ভোগান্তির পর বাসে উঠতে পেরেছেন।

    পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজাসহ বিভিন্ন জায়গায় যানজট ও যানবাহনের ধীরগতির কারণে ৫ ঘণ্টার মতো সময় ব্যয় করে বরিশালে পৌঁছেছেন। আর এখন নথুল্লাবাদ থেকে রুপাতলী পর্যন্ত মাত্র কয়েক কিলোমিটার পথ যেতে প্রায় আধঘণ্টা বাসের ভেতর গরমে বসে থাকতে হচ্ছে তাকে।

    তিনি বলেন, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের জট ঠেলে বাসটি চৌমাথা এলাকায় এসে আটকে যেতে হলো। সেখান থেকে কোনোভাবে পার হয়ে সাগরদী ব্রিজ পর্যন্ত এসে এখন যানবাহনের এতই ধীরগতি যে পিপড়াও হয়তো আমাদের আগে যাচ্ছে।

    ট্রাকচালক মজিবর রহমান বলেন, সাগরীদ ব্রিজ থেকে রুপাতলী পর্যন্ত মহাসড়কের অংশটি সরু। তার ওপর সড়কের পাশে নেই কোনো সাইড সোল্ডার। যেখানে সড়ক শেষ তার পর মাটি এতোটাই নীচে যে কোনোভাবে সড়ক থেকে একটি চাকা পরে গেলে সঙ্গে সঙ্গে আমার লোড ট্রাকটি উল্টে যাবে।

    তাই পণ্য ও যাত্রী পরিবহনসহ যানবাহনগুলোকে বাম পাশে জায়গা রেখে এগুতে হচ্ছে। এদিকে এটুকু সড়কজুড়ে ব্যাটারি রিক্সা, হলুদ অটো রিক্সা, মাহিন্দ্রা, মোটরসাইকেলের চাপ থাকায় কচ্ছপ গতিতে এগুতে হচ্ছে।

    যদিও বরিশাল সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সভায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনা রোধে কোরবানির ঈদের আগে সাগরদী ব্রিজ থেকে রুপাতলী শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতুর ঢাল পর্যন্ত সরু মহাসড়কের পাশে অস্থায়ীভাবে সাইড সোল্ডার বানিয়ে দেওয়ার জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছিলো। কিন্তু এ অব্দি সেটা তারা করেনি।

    এদিকে সোলাইমান নামে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী বাসের হেলপার জানান, বরিশাল শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশ রয়েছে। তবে থ্রি-হুইলারের জন্য তাদের মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

    বড় বড় মোড়গুলোর বাহিরে মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত রাস্তাগুলো থেকে হঠাৎ হঠাৎ গাড়ি উঠে পুরোই ব্লক করে দিচ্ছে। এসব কারণে বরিশাল শহরের মধ্যদিয়ে গত কয়েকদিন ধরে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে যানজটে পরতেই হচ্ছে। কিন্তু রুপাতলী বাস টার্মিনাল পার হয়ে গেলে পিরোজপুর বা কুয়াকাটা পর্যন্ত কোথাও তেমন কোনো যানজট নেই।

    এদিকে থ্রি হুইলার চালকদের দাবি, এ অংশ মহাসড়কের হলেও, শহরের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের নাগরিকদের যোগাযোগ স্থাপনের প্রধান সড়কই এটি। তাই দূরপাল্লার পরিবহনের সঙ্গে তাদেরও এ সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। নথুল্লাবাদ থেকে আমতলা পানির ট্যাংকির মোড় পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে আরও দুটি লেন থাকলেও সেটি ভাঙ্গাচোরা থাকায় বর্তমানে কেউ সেটি ব্যবহার করছে না।

    আর আমতলা পানির ট্যাংকির মোড় থেকে রুপাতলী বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সড়কটি সরু। সেই সঙ্গে সাগরদী ব্রিজের পর সড়কের পাশের মাটির অংশ এতোটাই নিচে যে সেই অংশ দিয়ে বাই সাইকেল ছাড়া আর কিছুই চলাচল করতে পারেনা।

    এসব কারণে গত কয়েকদিন ধরে বিশেষ করে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের নথুল্লাবাদ, চৌমাথা ও সাগরদী ব্রিজ এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া দিনের মধ্যে প্রায়সময়ই সাগরদী বাজার থেকে রুপাতলী বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচলে ধীরগতি থাকে বলে জানিয়েছেন অটোরিক্সা চালক সাগর ও আলামিন। তবে এ সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা।

  • বিসিসি মেয়র’র ফ্রি সার্ভিসের অভাব টের পাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলবাসী

    বিসিসি মেয়র’র ফ্রি সার্ভিসের অভাব টের পাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলবাসী

    নদীবন্দরে নেমে বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছাতে ক্ষুদ্র পরিবহনের সংকটে পড়েছে যাত্রীরা। যাত্রীর তুলনায় অল্পসংখ্যক থ্রি-হুইলার। তার ওপর পূর্বের তুলনায় পাঁচগুণ ভাড়া বেশি আদায় ও ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করায় বিপাকে পড়েছে ঘরমুখো মানুষ। অনেকে লঞ্চ টার্মিনাল থেকে বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত তিন কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেঁটেই রওয়ানা দিয়েছেন। এ সময়ে ঘরমুখো মানুষের মুখে সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর সৌজন্যে বিনাভাড়ায় বাস সার্ভিস না দেওয়ায় আক্ষেপ করতে শোনা গেছে।

    শুক্রবার (৮ জুলাই) ভোরে এমনই চিত্র দেখা গেছে বরিশাল নদী বন্দর থেকে রূপাতলী ও নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল সংযুক্ত সড়কে।

    নদীবন্দর এলাকায় সপিরবারে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ড্রাইভার নাসির উদ্দিনের সঙ্গে তর্ক করতে দেখা যায় সরকারি একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম সালেহর। তিনি জানান, সাধারণত লঞ্চঘাট থেকে রূপাতলী ১৫/২০ টাকা ভাড়া। ঈদে জনপ্রতি ৫০ টাকা নিতে পারে। কিন্তু গাড়ি চালক ১০০ টাকা করে দাবি করছে। মেয়রের ফ্রি বাস সার্ভিস নাই অমনি অটো, আলফাচালকরা (থ্রি-হুইলার) জুলুম শুরু করেছেন।

    থ্রি-হুইলার চালক নাসির উদ্দিন দাবি করেন, অন্য সব গাড়িতে ১২০ টাকা করেও নিচ্ছে। আমি কমিয়ে ১শ টাকা চেয়েছি। এই ভাড়ায় গেলে যাবে, না গেলে কোনো তর্ক নেই। অনেক যাত্রী রাস্তায় হাঁটছে। এবার ফ্রি বাস নাই, যাত্রী পাবই।

    নথুল্লাবাদের গাড়ি না পেয়ে হাঁটতে শুরু করা আলেয়া বেগম জানান, স্বরূপকাঠি পর্যন্ত যাবেন। সঙ্গে ছোট দুটি সন্তান রয়েছে। অটো রিকশায় যে ভাড়া চাইছে সে টাকা খরচ করে ঢাকা থেকেও আসিনি। এখন নিরুপায় হয়ে পায়ে হেঁটে যাচ্ছি। সব গাড়িগুলো দূরের ভাড়া নিয়ে যাচ্ছে। অল্প দূরের ভাড়ায় কোনো গাড়ি পাচ্ছি না।

    ইমি নামে আরেক কলেজছাত্রী জানান, ঢাকা থেকে লঞ্চে দাঁড়িয়ে আসতে যে কষ্ট না হয়েছে লঞ্চঘাট থেকে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে যেতে সেই কষ্ট হচ্ছে। আমরা ভেবেছিলাম এবারও বরিশালের মেয়র ফ্রি বাস দিবে। কিন্তু তা দিলেন না। কেন দিলেন না জানি না। তবে তার বাস সার্ভিস দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ মিস করছে। তার উচিত ছিল এবারও ব্যবস্থা করা। তাতে হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি কমত।

    সাইদুর রহমান নামে এক যাত্রী জানান, ১৩ জনে মিলে ২০০ টাকা জনপ্রতি ভাড়া চুক্তিতে আলফা ভাড়া করেছি। এর মধ্যে ১০ জন বসে যাচ্ছেন। বাকি তিনজন গাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। এবারের ঈদ যাত্রার অভিজ্ঞতা খুব বাজে হচ্ছে।

    আলফার চালক মাইনুল ইসলাম বলেন, গাড়ির তুলনায় যাত্রী অনেক বেশি। বিগত দিনের ঈদের মতোই লঞ্চে যাত্রী এসেছে। এত যাত্রী যাওয়ার পরিবহন বরিশালে নেই। এ জন্য একটু ঝুঁকি হলেও বেশি যাত্রী নিয়ে যাত্রা করতে হচ্ছে।

    বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লোকমান হোসেন বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তায় কোতয়ালী থানা পুলিশ তৎপর রয়েছে। তাছাড়া নদীবন্দর এলাকায় পরিবহনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে যাত্রাবাহী ছাড়া অন্য পরিবহনগুলো চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। প্রথম দিনেই যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখছি।

    প্রসঙ্গত, এর আগে ঈদে ঘরমুখো মানুষদের ভোগান্তি লাঘবে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর উদ্যোগে লঞ্চঘাট থেকে রূপাতলী ও নথুল্লাবাদে বিনা ভাড়ায় বাস সার্ভিস চালু ছিল। তখন বিনা ভোগান্তিতে মানুষ বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছাতে পারত। সাদিক আব্দুল্লাহর এই সেবা দক্ষিণাঞ্চলব্যাপী ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।

    বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক কবির হোসেন জানিয়েছেন, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঢাকা-বরিশাল নৌ-রুটে আজই প্রথম স্পেশাল সার্ভিস শুরু হয়েছে। এই দিনে সরাসরি রুটের ১০টি এবং ভায়া রুটের ৪টিসহ মোট ১৪ টি লঞ্চ এসেছে।

    প্রতিটি লঞ্চেই কেবিন, সোফা, ডেক পূর্ণ করে ছাদেও যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। তবে তা ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন নয় বলে দাবি করেছেন এই পরিদর্শক।