Category: প্রচ্ছদ

  • শর্মিলী আহমেদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

    শর্মিলী আহমেদের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

    জনপ্রিয় অভিনেত্রী শর্মিলী আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শুক্রবার (৮ জুলাই) এক শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, মঞ্চ, টিভি ও চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্যপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। বরেণ্য এই শিল্পীর মৃত্যুতে বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্রে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হল।

    প্রধানমন্ত্রী মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

    জনপ্রিয় অভিনেত্রী শর্মিলী আহমেদ (৭৫) শুক্রবার (৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

  • ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণে শীর্ষে ফ্রান্স, মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র

    ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণে শীর্ষে ফ্রান্স, মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র

    মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে এক হাজার ৫৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৭ হাজার ৭৬২ জন। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৮১৫ জন।

    এ নিয়ে বিশ্বে সংক্রমণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ কোটি ৮৪ লাখ ৩৩ হাজার ৫৬২ জনে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ছয় কোটি ৩৬ লাখ ৮ হাজার ৭৭০ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৫৩ কোটি ১৯ লাখ ৮৫ হাজার ৯৫৭ জন।

    শুক্রবার (৮ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ফ্রান্সে। আর দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মৃত্যুর তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে ব্রাজিল, তাইওয়ান, কানাডা, ইতালি, ফ্রান্সের মতো দেশগুলো

    গত ২৪ ঘণ্টায় ফ্রান্সে করোনা সংক্রমিত হয়েছেন এক লাখ ৬১ হাজার ২৬৫ জন এবং মারা গেছেন ৮৯ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত ৩ কোটি ১৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬০৭ জন এবং মারা গেছেন এক লাখ ৪৯ হাজার ৯৪৩ জন। এছাড়া করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ২ কোটি ৯৯ লাখ ২৯ হাজার ৬০৪ জন।

    শনাক্তের দিক থেকে তৃতীয় ও মৃত্যুর সংখ্যার তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন ২০৭ জন এবং নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৭৩ হাজার ৩৬৫ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত ৩ কোটি ২৭ লাখ ৬১ হাজার ৪৫ জন এবং মারা গেছেন ৬ লাখ ৭৩ হাজার ১২৬ জন।

    গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে শনাক্ত ৯১ হাজার ৪৭২ জন এবং মারা গেছেন ৩২০ জন। করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এ দেশটিতে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত ৮ কোটি ৯ কোটি ৬৫ হাজার ১৬৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১০ লাখ ৪৫ হাজার ৮০ জনের। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন ৮ কোটি ৫৬ লাখ ২৪ হাজার ৯৮২ জন।

    ইতালিতে একদিনে শনাক্ত আরও এক লাখ ৭ হাজার ২৪০ জন এবং মারা গেছেন ৯৪ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত এক কোটি ৯১ লাখ ৫৭ হাজার ১৭৪ জন এবং মারা গেছেন এক লাখ ৬৮ হাজার ৮৬৪ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন এক কোটি ৭৭ লাখ ৮৯ হাজার ৬১৩ জন।

    তাইওয়ানে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন ১০৫ জন এবং নতুন শনাক্ত হয়েছেন ৩১ হাজার ৪৬২ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত ৩৯ লাখ ৯৫ হাজার ৬২১ জন এবং মারা গেছেন ৭ হাজার ৩২৮ জন। সুস্থ হয়েছেন ৩১ লাখ ৮৩ হাজার ৫২৩ জন।

    করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় এবং মৃত্যুর সংখ্যার তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা প্রতিবেশী দেশ ভারতে ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত হয়েছেন ১৮ হাজার ৪১৮ জন। দেশটিতে মহামারি শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার ৩০২ জন এবং মারা গেছেন ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩০৫ জন।

    এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় কানাডায় ১০৩ জন, অস্ট্রেলিয়ায় ৬০ জন, মেক্সিকোতে ৬০ জন, চিলিতে ৬৮ জন, রাশিয়ায় ৫২ জন, জাপানে ১৫ জন, পর্তুগালে ২০ জন, থাইল্যান্ডে ২০ জন, গ্রিসে ২৯ জন, ফিনল্যান্ডে ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • বরিশাল-ঢাকা নৌপথে ঈদ সার্ভিস শুরু আজ, কমেছে লঞ্চ

    বরিশাল-ঢাকা নৌপথে ঈদ সার্ভিস শুরু আজ, কমেছে লঞ্চ

    পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে শুরু হচ্ছে লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস। আজ ৭ জুলাই বুধবার রাতে ঢাকা থেকে এই সার্ভিস শুরু হবে। তাই বিশেষ সার্ভিসে যোগদিতে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে ছয়টি লঞ্চ।

    এদিকে, ঈদকে ঘিরে ৯ জুলাই পর্যন্ত বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটের লঞ্চগুলোর সকল কেবিন আগাম বুকিং হয়ে গেছে। ডেকেও যাত্রীদের চাপ পূর্বের থেকে বেড়েছে। চাপ সামলাতে বিশেষ সার্ভিসে যুক্ত হচ্ছে ইতিপূর্বে বন্ধ রাখা দুটি লঞ্চ।

    এর পরেও এবারের ঈদ সার্ভিসে লঞ্চের সংখ্যা কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যাত্রী সংকটের শংকায় কীর্তনখোলার মতো বিলাশবহুল লঞ্চ বিশেষ সার্ভিসে থাকছে না। তারা ঈদের আগে এবং পরে স্বাভাবিক নিয়মেই তাদের কোম্পানির দুটি লঞ্চে যাত্রী পরিবহন করবে বলে জানিয়েছেন কীর্তনখোলা লঞ্চের সুপারভাইজার বেল্লাল হোসেন।

    তিনি বলেন, ‘৭ জুলাই ঢাকা থেকে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ সার্ভিস শুরু হচ্ছে। তবে আমাদের দুটি লঞ্চ এবারের বিশেষ সার্ভিসে থাকছে না। পূর্বের সময়সূচি অনুযায়ী লঞ্চে যাত্রী পরিবহন করা হবে জানিয়ে বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘এবারের বিশেষ সার্ভিসে কীর্তনখোলা না থাকার পেছনে বিশেষ কোন কারণ নেই। তবে কিছুটা শংকা রয়েছে। পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়েছে।

    এ কারণে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে যাত্রী কমেছে। ঈদে কেমন যাত্রী হবে সেটা নিয়ে শংকা রয়েছে। তাই বিশেষ সার্ভিসে না গিয়ে নিয়মিত সময়সূচিতেই কীর্তনখোলা লঞ্চ চলবে। তবে ঈদের আগেই ৯ জুলাই পর্যন্ত দুটি লঞ্চে থাকা প্রায় পাঁচশত কেবিন সবই আগাম বুকিং হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

    অপরদিকে, ‘দুর্ঘটনার কারণে ইতিপূর্বে বন্ধ ছিল এ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চ। তাছাড়া পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরে যাত্রী কমে যাওয়ায় চলাচল বন্ধ রাখা হয় এমভি আওলাদ লঞ্চটি। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্ধ থাকা দুটি লঞ্চই বিশেষ সার্ভিসে যুক্ত করা হয়েছে। সার্ভিস শুরুর আগেই বুধবার রাতে ঢাকা সদরঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে লঞ্চ দুটি।

    মেসার্স নিজাম শিপিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে আমাদের দুটি লঞ্চ চলাচল করতো। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি বন্ধ ছিলো। ঈদ উপলক্ষে ৬ জুলাই থেকে লঞ্চটি পুনরায় চলাচল শুরু করেছে। এখন এ্যাডভেঞ্চার-১ এবং ৯ বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটে বিশেষ সার্ভিস দিবে। এর বাইরে ঢাকা-চাঁদপুর এবং ঢাকা-ইলিশা রুটে কোম্পানির আরও দুটি লঞ্চ চলাচল করছে।

    হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচলকারী দুটি লঞ্চে বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় দেড়শর মতো কেবিন রয়েছে। আগামী ৮ জুলাই পর্যন্ত সবগুলো কেবিন বুকিং হয়ে গেছে। ঈদের আগেরদিন হওয়ায় ৯ জুলাই কেবিনের চাপ একটু কম থাকতে পারে। তবে ধারনা করা হচ্ছে এদিনও লঞ্চে যাত্রী ভালো হবে। ফিরতি যাত্রী অর্থাৎ ঈদ পরবর্তী যাত্রার টিকিট এখনো বিক্রি শুরু হয়নি। তবে কেবিনের চাহিদা আছে। আমরা যাত্রীদের কাছ থেকে চাহিদা নিয়ে রাখছি। পরবর্তীতে টিকিট প্রদান করা হবে।

    এদিকে, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের যাত্রা নিরাপদ রাখতে বরিশাল নদী বন্দরে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নৌপথে টহল বৃদ্ধি করেছে নৌ পুলিশ এবং কোস্টগার্ড। নৌপথ নিরাপদ রাখতে রাত্রিকালীন এবং দিনে বাল্কহেড চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। চলাচল নিষিদ্ধ এসব নৌযানের কারণে কোন দুর্ঘটনা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সে দায়ভার নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডকে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল নদী বন্দরের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা (নৌ-নিট্রা) বিভাগের পরিদর্শক মো. কবির হোসেন।

    তিনি জানান, ‘ঈদের পূর্বে বরিশাল নদী বন্দরে তেমন চাপ থাকে না। ঈদ পরবর্তী ফিরতি যাত্রায় বরিশাল বন্দরে যাত্রীর প্রচুর চাপ বাড়ে। তার পরেও পূর্বে থেকেই আমাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করা। সে অনুযায়ী আমারা কাজ শুরু করেছি। নৌ বন্দরে নৌ-পুলিশ, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের টিম কাজ করবে। আনসারের পাশাপাশি মেরিন একাডেমির শিক্ষার্থীরা যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিতে কাজ করবে।
    ট্রাফিক বিভাগের এই পরিদর্শক বলেন, ‘বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটে কাগজে কলমে ২১টি লঞ্চের সময়সূচি রয়েছে আমাদের কাছে। কিন্তু বাস্তবে রাত্রিকালীন সার্ভিসে চলাচল করছে ১৪টি এবং দিনে ১টি। ভায়াসহ ইতিপূর্বে বরিশাল হয়ে চলাচল করেছে ২৪টি লঞ্চ। যার মধ্যে গত ঈদে বিশেষ সার্ভিসে ছিল ১৬টি লঞ্চ। কিন্তু এবারের সার্ভিসে কতটা লঞ্চ যুক্ত হলো সেটার তালিকা এখনো আমরা পাইনি।

    নৌ-নিট্রার পরিদর্শক কবির হোসেন বলেন, ‘৭ জুলাই ঢাকা থেকে বিশেষ সার্ভিস শুরু হচ্ছে। তবে তার আগে ৬ জুলাই ৭টি লঞ্চ ঢাকা থেকে ছেড়ে আসছে। পদ্মা সেতু চালুর পরে নিয়মিত চারটি লঞ্চ চলাচল করতো। তাছাড়া বিশেষ সার্ভিসে যুক্ত হতে বরিশালে যাত্রী নিয়ে আসা ৬টি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে বুধবার। বরিশাল প্রান্তে যাত্রীর সংকটের কারণে রাতে লঞ্চগুলো অনেকটা যাত্রী শূণ্য অবস্থাতেই ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় বলে জানান, নৌ বন্দরের এই কর্মকর্তা।

  • যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যারা

    যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যারা

    অর্ধশতাধিক দলীয় মন্ত্রীর সমর্থন হারানোর পর অবশেষে পদত্যাগে রাজি হয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সরকারপ্রধানের পাশাপাশি দলীয়প্রধানের পদ থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। তবে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতাগ্রহণ না করা পর্যন্ত অন্তবর্তী সরকারপ্রধানের দায়িত্বে থাকছেন জনসনই। এ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় উঠে এসেছে- কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ বলছে, এই দৌড়ে এককভাবে কেউই এগিয়ে নেই। তবে আলোচনায় রয়েছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির একাধিক নেতা। চলুন দেখে নেওয়া যাক কে হতে পারেন পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী-

    লিজ ট্রাস
    দলের তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে ৪৬ বছর বয়সী এ নেতার। গত সেপ্টেম্বর থেকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে লিজ ট্রাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য।

    নাদিম জাহাবী
    যুক্তরাজ্যের নতুন এ চ্যান্সেলরের জন্ম বাগদাদের একটি কুর্দি পরিবারে। সাদ্দাম হুসেইনের শাসনামলে ইরাক ছেড়ে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যখন পাড়ি জমান, তখন ঠিকমতো ইংরেজিও বলতে পারতেন না। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম আর বুদ্ধিমত্তার জোরে আজ তিনি মিলিয়নিয়ার। ২০১০ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রবেশের আগে পাঁচ বছর পোলিং ফার্ম ইউগভের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। তেল শিল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে ৫৫ বছর বয়সী এ নেতার।

    ঋষি সুনাক

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত ৪২ বছর বয়সী এ নেতা একসময় বরিস জনসনের উত্তরসূরী হওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। করোনাভাইরাস মহামারির সময় শিল্প প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কর্মীদের জন্য হাজার কোটি পাউন্ডের প্রণোদনা দেওয়ায় ঘরে ঘরে পৌছে গিয়েছিল সদ্য পদত্যাগকারী ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রীর নাম। তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে স্ত্রীর নন-ডোম ট্যাক্স স্ট্যাটাস, নিজে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনকার্ড নেওয়া এবং যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিতে প্রতিক্রিয়া জানানোয় অতি ধীরগতি বিতর্ক সুনাকের খ্যাতি অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। এরপরও বরিস জনসনের উত্তরসূরী হওয়ার প্রতিযোগিতায় তার নাম আসছে জোরেশোরেই।

    বেন ওয়ালেস
    কনজারভেটিভ পার্টির শীর্ষ নেতাদের কাতারে বেন ওয়ালেসের নাম উঠে এসেছে বেশি দিন হয়নি। তবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া এবং আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর লোকজন সরিয়ে আনার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। সাবেক আর্মি ক্যাপ্টেন ওয়ালেস ২০০৫ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হন, এর আগে অবশ্য স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন। ২০১৫ সালে ডেভিড ক্যামেরনের সরকারের জুনিয়র মন্ত্রী থেকে ২০১৯ সালে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদে পদোন্নতি পান ৫২ বছর বয়সী এ নেতা।

    সাজিদ জাভিদ
    ব্রিটিশ সরকারের হাল ধরার মতো আরেকজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক হলেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাজিদ। সদ্যই যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। সরকারের ছয়টি বিভাগে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার, এর মধ্যে ২০১৯ সালে লিডারশিপ কন্টেস্টে চতুর্থও হয়েছিলেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী সুনাকের সঙ্গে সাজিদের বন্ধুত্ব সর্বজনবিদিত। ফলে তাদের একজন প্রধানমন্ত্রী এবং আরেকজন চ্যান্সেলর হওয়ার সম্ভাবনা এখন বেশ আলোচিত। সুনাক আগে রাজস্ব মন্ত্রণালয়ে সাজিদের সহযোগীও ছিলেন।

    পেনি মর্ডান্ট
    বর্তমান মন্ত্রিসভার বাইরে থেকে কেউ যদি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, তবে তার এক নম্বর দাবিদার পেনি। ৪৯ বছর বয়সী এ নেতা কনজারভেটিভ পার্টির সবচেয়ে জনপ্রিয় এমপিদের একজন। বেটিং কোম্পানি ল্যাডব্রোকসের নজরে জনসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার দৌড়ে যৌথভাবে শীর্ষস্থান দখলকারী পেনি। তাছাড়া, চলতি সপ্তাহে কনজারভেটিভহোমের জরিপে সম্ভাব্য দলীয়প্রধান হিসেবে ওয়ালেসের কাছে সামান্য ভোটে হেরেছেন বর্তমানে বাণিজ্যমন্ত্রী।

    অন্যান্য
    এছাড়াও যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান টম টুগেনধাট, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল, জ্বালানি মন্ত্রী কোয়াসি কোয়ার্টেং, আবাসন মন্ত্রী মাইকেল গভ প্রমুখ।

  • যুদ্ধের মধ্যে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা মানবাধিকার লঙ্ঘন: প্রধানমন্ত্রী

    যুদ্ধের মধ্যে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা মানবাধিকার লঙ্ঘন: প্রধানমন্ত্রী

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আমেরিকার স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    তিনি বলেন, আমি মনে করি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কখনো কোনো দেশ বা জাতিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সেটা নিশ্চয়ই এখন দেখতে পাচ্ছেন। তার প্রভাব তার নিজেদের দেশের ওপরও পড়ে। কাজেই এই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া এবং পণ্য পরিবহন (স্বাভাবিক রাখা দরকার), আর যুদ্ধ যাদের করার করতে থাকেন। কিন্তু পণ্য পরিবহন বা আমদানি-রপ্তানি এটা তো সহজভাবে হওয়াই উচিত, সাধারণ মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কারণ খাদ্যটা মানুষের সব থেকে বড় চাহিদা। আর সেখানেই সমস্যায় পড়ে গেছে অনেক উন্নত দেশও।

    বৃহস্পতিবার (৭ জুলঅই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নবনির্মিত ৮ তলা অফিস ভবন উদ্বোধন এবং বঙ্গবন্ধ কূটনৈতিক উৎকর্ষ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন তিনি।

    শেখ হাসিনা বলেন, আজকে আমাদের দুর্ভাগ্য যে যখন সারাবিশ্ব করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে অর্থনৈতিকভাবে বিরাট ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে, ঠিক সেই সময়ে ইউক্রেন এবং রাশিয়া যুদ্ধে জড়ায়। এতে বিশ্বব্যাপী মানুষের অবস্থাটা আরও করুণ হয়ে যাচ্ছে। মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার ওপর আমেরিকা যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, এর ফলে আমাদের পণ্য প্রাপ্তিতে বা যেগুলি আমরা আমদানি করি সেখানে বিরাট বাধা আসছে। শুধু বাধাই না, পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে এবং আমরা যেখানে প্রয়োজনীয় পণ্য পাবো সে প্রাপ্তির ক্ষেত্রটাও সংকুচিত হয়ে গেছে। এই প্রভাবটা শুধু বাংলাদেশে না, আমি মনে করি আমেরিকা, ইউরোপ থেকে শুরু করে সারাবিশ্ব প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    তিনি বলেন, মানুষ কিন্তু কষ্ট ভোগ করছে। এটা আসলে সবার, অন্তত উন্নত দেশগুলির বিশেষভাবে বিবেচনা করা উচিত। আমেরিকাকেই বিবেচনা করা উচিত তারা যে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে তাতে তাদের দেশের লোকও যে কষ্ট পাচ্ছেন। সেদিকেও তাদের দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) যাদের বিরুদ্ধে দিচ্ছেন তাদেরকে আপনারা ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাচ্ছেন। কিন্তু কতটুকু তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে? তার থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। উন্নত দেশ, উন্নয়নশীল দেশ- সব দেশের মানুষই, যারা নিম্ন আয়ের সব দেশগুলি কিন্তু কষ্ট পাচ্ছে।

    সরকার প্রধান বলেন, করোনা মহামারি থেকে কেবল আমরা একটু উদ্ধার পাচ্ছিলাম। তখনই এই যুদ্ধ আর নিষেধাজ্ঞা। এটা সত্যি আমাদের জন্য বিরাট একটা চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

    তিনি বলেন, আমরা যেটা খবর পাই বিভিন্ন দেশ থেকে, আমাদেরও অনেক লোক সেখানে বসবাস করেন। প্রত্যেকের জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে যাচ্ছে। এভাবে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার কী অর্থ থাকতে পারে আমরা ঠিক জানি না। এখানে আমি বলবো, একদিক থেকে বলতে গেলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। মানুষের যে অধিকার আছে সে অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা ঠিক নয়। আমরা আশা করি যে একটি দেশকে শাস্তি দিতে গিয়ে বিশ্বের মানুষকে শাস্তি দেওয়া- এখান থেকে সরে আসাটাই বোধহয় বাঞ্চনীয়। সবাই সেটাই চাইবে- আমি এটা মনে করি।

    এ সময় করোনাভাইরাসের কারণে প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে বলে জানান সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ, তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আমাদের যথেষ্ট সমস্যার সৃষ্টি করছে। আশা করি এই বিষয়টা উন্নত দেশগুলি একটু দেখবে। জলবায়ুর অভিঘাত ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলি- আমরা যাতে বাঁচতে পারি সেটাও সবাই দেখবেন সেটাই আমরা চাই।

    শেখ হাসিনা বলেন, একটা বিষয় আমি একটু না বললে নয়, সেটা হচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যুটা। আমরা মানবিক কারণে এই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু তিনটা বছর পূর্ণ হয়ে গেছে। আমাদের জন্য আসলে এটা একটা বিরাট বোঝা। একে তো এই করোনাভাইরাস, তার ওপরে যুদ্ধ- এই পরিস্থিতিতে উন্নত দেশগুলি যেখানে অর্থনৈতিক ক্ষেতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে আমাদের এই সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের ওপরে এই আরেকটা বোঝা টানা যে কত কষ্টকর- সেটা সবার উপলব্ধি করা উচিত।

    তিনি বলেন, আমি মনে করি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি এবং দেশগুলি যদি আর একটু সক্রিয় হয়ে এই রোহিঙ্গারা যেন তাদের নিজের দেশে ফিরে যেতে পারে, তাদের ছেলে-মেয়েরা যেন তাদের নিজের দেশে মানুষ হতে পারে, তারা একটা ভালো পরিবেশে চলে যেতে পারে, এভাবে ক্যাম্পের জীবন-যাপন যেন না করতে হয়। তাদেরও তো একটা মানবাধিকার আছে। কাজেই সে ব্যাপারে সবাই একটু সক্রিয় হবেন সেটাই আমি আশা করি।

    কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে সমস্যাগুলো ছিল সবার সঙ্গে আলোচনা করে দেশের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করেছি বলে জানান সরকার প্রধান।

    তিনি বলেন, শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক কূটনীতিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। পৃথিবীটা একটা গ্লোবাল ভিলেজ। আমরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। সেভাবেই আমাদের কাজ করতে হবে যে সবার সঙ্গে মিলে আমরা কাজ করবো যাতে মানুষের উন্নতি হয়। আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। আমার কাছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আমার দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি। সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখে আমরা আমাদের উন্নয়নটা ত্বরান্বিত করতে চাই।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নিজস্ব সামর্থ্য যতটুকু আছে আমরা সেইভাবেই চলতে চাই। আমরা অহেতুক কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত পয়সা নেই না। একটা কাজ করলে মানুষ কতটা লাভবান হবে, আমরা যেন কারও ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়ি। আমরা যেন আত্মনির্ভরশীল থাকতে পারি, আত্মমর্যাদাশীল থাকতে পারি এবং আমরা যেন বিশ্ব দরবারে মাথা উচুঁ করে চলতে পারি, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। এটা গুরুত্ব দিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।

  • পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

    পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

    পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। নিজ দলের মন্ত্রীদের গণপদত্যাগ ও এমপিদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) সরকারপ্রধানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। খবর রয়টার্সের।

    এদিন ডাউনিং স্ট্রিটে সরকারি বাসভবনের দরজায় দাঁড়িয়ে জনসন জানান, সহকর্মীদের মতামতকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। তবে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধানের দায়িত্ব সামলাবেন এ কনজারভেটিভ নেতা।

    এর আগে অবশ্য পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছিলেন বরিস জনসন। বলেছিলেন, একজন প্রধানমন্ত্রীর কাজ হচ্ছে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করা। তাই আমি পদত্যাগ করবো না। তাছাড়া আমার প্রতি বড় ম্যানডেট রয়েছে।

    তবে এরপর একযোগে ৫৪ মন্ত্রী পদত্যাগ করলে জনসন সরকারের পতন কেবল সময়ের অপেক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। শেষপর্যন্ত দলীয় মন্ত্রী-এমপিদের অনুরোধে ক্ষমতা ছাড়তে রাজি হন তিনি।

    সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছেন বরিস ও তার সরকার। করোনা লকডাউন চলাকালে সরকারি বাসভবন ডাউনিং স্ট্রিটে একাধিক মদের আসর বসিয়ে তিনি সমালোচনার জন্ম দেন। গত মাসে তার বিরুদ্ধে দলীয় আস্থাভোট আনা হলেও তাতে পার পেয়ে যান বরিস।

    তবে দলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয় ডেপুটি চিফ হুইপ হিসেবে ক্রিস পিনচারকে নিয়োগের ঘোষণা দেওয়ার পর। সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বরিস স্বীকার করেন, ক্রিস পিনচারের অসদাচরণের অভিযোগের বিষয়টি তার জানা ছিল। তারপরও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাকে ডেপুটি চিফ হুইপ করেন তিনি। এটি ছিল তার একটা ‘বাজে ভুল’। বরিসের এই স্বীকারোক্তি তাকে চাপে ফেলে দেয়।

    বৃহস্পতিবার সরকারি বাসভবনের দরজায় দাঁড়িয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, তিনি পদত্যাগ করেছেন। এ কারণে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া এখনই শুরু করা উচিত।

    জনসন বলেন, পৃথিবীর সেরা চাকরি ছেড়ে দিতে হওয়ায় আমি দুঃখিত। তবে এটি বিরতি।

    তিনি বলেন, আমরা এত কিছু দিচ্ছি, এত বিশাল ম্যান্ডেট রয়েছে, যখন অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিকভাবে অর্থনীতির পরিস্থিতি ভালো নয়, তখন সরকার পরিবর্তন করা উদ্ভট ব্যাপার। আমার আফসোস হচ্ছে, বিতর্কে জিততে পারিনি।

    জনসন আরও বলেন, রাজনীতিতে কেউই অপরিহার্য নয়। আমাদের উজ্জ্বল এবং ডারউইনীয় ব্যবস্থা অন্য নেতা তৈরি করবে।

  • ঈদে মোটরসাইকেল চলাচলের বিষয়ে যা বললেন আইজিপি

    ঈদে মোটরসাইকেল চলাচলের বিষয়ে যা বললেন আইজিপি

    বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ঈদের আগে ও পরে দূরবর্তী স্থানে মোটরসাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

    বুধবার (৬ জুলাই) বিকেলে রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে দুই দিনব্যাপী (৫-৬ জুলাই) ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার শেষ দিন সভাপতির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি।

    আইজিপি বলেন, ঈদ কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে করিমন, নসিমন ও ভটভটি ইত্যাদি যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

    এ সময় ঈদের আগে ও পরে দূরবর্তী স্থানে মোটরসাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।

    পুলিশ প্রধান বলেন, মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে তদারকি বাড়াতে হবে। মামলা তদন্ত দ্রুততম সময়ে শেষ করতে হবে। সেই সঙ্গে তদন্তের মান বাড়াতে হবে। নিবিড় তদারকির মাধ্যমে মামলা তদন্তের জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশের অব্যবহৃত জমিতে ফসল উৎপাদন ও জলাশয়ে মাছ চাষ করার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান বেনজীর আহমেদ।

    সভায় বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি, সব রেঞ্জের ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ও জেলার পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য ইউনিটের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

    সভার প্রথমদিন (৫ জুলাই) অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এম খুরশীদ হোসেন স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) এ ওয়াই এম বেলালুর রহমান চলতি বছরের এপ্রিল-জুন মাসের খুন, ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি ও ছিনতাইসহ সামগ্রিক অপরাধের চিত্র তুলে ধরেন। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা অপরাধের গতিপ্রকৃতি নিয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।

    সভায় জানানো হয়, জানুয়ারি-মার্চ ২০২২ সময়ের তুলনায় এপ্রিল-জুন ২০২২ সময়ে ডাকাতির মামলা হ্রাস পেয়েছে। আবার, এপ্রিল-জুন ২০২১ সময়ের তুলনায় এ বছরের একই সময়ে খুন, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা কমেছে।

    সভায় কোরবানির পশু পরিবহন ও পশুর হাটের নিরাপত্তা; শপিংমল, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা; বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেলস্টেশনের নিরাপত্তা; ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও বন্যাকবলিত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

    দ্বিতীয় দিনে পুলিশের সব ইউনিটের সঙ্গে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর প্রেজেন্টেশন দেন টেলিকম অ্যান্ড ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট (টিঅ্যান্ডআইএম) ইউনিটের ডিআইজি এ কে এম শহীদুর রহমান। পুলিশ সদস্যরা সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে কাঙ্খিত স্থানে যোগাযোগ করতে পারবেন।

    সভায় অতিরিক্ত আইজি (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, এসবি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম, সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) এস এম রুহুল আমিন, অতিরিক্ত আইজি (ডেভেলপমেন্ট) মো. আতিকুল ইসলাম, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপ্যাল (অতিরিক্ত আইজি) আবু হাসান মোহম্মদ তারিক, এপিবিএনের অতিরিক্ত আইজিপি ড. হাসান উল হায়দার, অতিরিক্ত আইজিপি (অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন) ব্যারিস্টার মো. হারুন অর রশিদ ও অতিরিক্ত আইজি (ফিন্যান্স) মো. শাহাবুদ্দীন খান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ নয়, টিকায় জোর দেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ নয়, টিকায় জোর দেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

    দেশে করনো সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, ১২ বছরের নিচে শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদানে জোর দেওয়া হচ্ছে। তাদের টিকার আওতায় আনতে না পারলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের চিন্তা করা হবে।

    বুধবার (৬ জুলাই) নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণায় আয়োজিত সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, হঠাৎ করে আবারও করোনা পরিস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় আমরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি। তবে আপাতত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে না। এরই মধ্যে আমাদের ১২ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা হয়েছে। ১২ বছরের নিচে যেসব শিক্ষার্থী রয়েছে তাদেরও টিকা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তাদের টিকার আওতায় আনা সম্ভব হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে না। যদি সেটি সম্ভব না হয় তাহলে ভিন্ন চিন্তা করা হবে।

    এর আগে দুপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের আওতায় ২ হাজার ৭১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের উদ্বোধনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এবছর আমি ঘোষণা (এমপিওভুক্তির) দিচ্ছি, এরপর আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ২০২২ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতায় নতুন ২ হাজার ৫১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার ঘোষণা দিচ্ছি। এর মধ্যে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৬৬৬টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১ হাজার ১২২টি, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৩৬টি, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ ১০৯টি, ১৮টি ডিগ্রি কলেজ রয়েছে।

    একইভাবে কারিগরি এবং মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাভুক্ত ৬৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার ঘোষণা দিচ্ছি। এর মধ্যে রয়েছে এসএসসি ভোকেশনাল অথবা দাখিল ভোকেশনাল ৯৭টি, এইচএসসি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি ২০০টি, ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার দুটি, দাখিল মাদরাসা ২৬৪টি, আলিম মাদরাসা ৮৫টি, ফাজিল মাদরাসা ৬টি, কামিল মাদরাসা ১১টি।

    প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় উভয় বিভাগের আওতায় ২ হাজার ৭১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করবে সেই ঘোষণা আমি দিচ্ছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

  • বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলোকসজ্জা না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আলোকসজ্জা না করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

    বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার, বিপণি-বিতান, দোকানপাট, অফিস-আদালত এবং বাড়িঘরে আলোকসজ্জা না করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    বুধবার (৬ জুলাই) সকালে নির্ধারিত অনুষ্ঠান শেষে গণভবনে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস রানা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বাস্তবতায় সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকট পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানিয়েছেন।

    বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করতে রাত ৮টার পর থেকে দোকান, বিপণি-বিতানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার বিষয়ে গত ১৯ জুন সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল সরকার। ২০ জুন থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হয়।

    তবে ঈদুল আজহা সামনে রেখে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত দোকানপাট, মার্কেট, বিপণি-বিতান বন্ধের সময় দুই ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়। ২২ জুন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়। তবে ১০ জুলাইয়ের পর রাত ৮টায় দোকানপাট-বিপণি-বিতান বন্ধ করতে হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

    গ্যাস ও জ্বালানি তেল সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটায় চলমান লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ বেশিদিন থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করে মঙ্গলবার রাতে বিবৃতি দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এতে সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী গ্যাস-বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দেন।।

    এদিকে বুধবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম বাড়ছে। ভোজ্য ও জ্বালানি তেল ছাড়াও বিদ্যুৎ, সার, গমসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। ডিজেলের ওপর আমাদের আমদানি নির্ভরতা রয়েছে। আগামী দিনে ডিজেলের দাম আরও বাড়তে পারে। ভবিষ্যত ফাইন্যান্সিয়াল মেকানিজম কী হবে, এটার উত্তর কেউ দিতে পারছে না।

    করোনা মহামারির ধকল কাটিয়ে ওঠার আগেই রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব এখন ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    শেখ হাসিনা বলেন, সবকিছুর দাম এমনভাবে বেড়ে গেছে যে এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখতে আমাদের নিজস্ব সীমিত গ্যাসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এমনকি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখাটাই একটা কষ্টকর ব্যাপার হয়ে গেছে। এটা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষিতে আমাদের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, বিদ্যুতে ভর্তুকি দিচ্ছি। তারপরও আমরা সাধারণ মানুষকে নগদ অর্থ দিচ্ছি।

    উপকারভোগীদের কার্ড করে দিচ্ছি, রেশন কার্ডের মতো পারিবারিক কার্ড দিচ্ছি। যেখানে স্বল্পমূল্যে প্রায় এক কোটি মানুষের জন্য কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। যেন তারা কম দামে খাদ্যপণ্য কিনতে পারে। মানুষের কল্যাণে যা যা করার সব ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি।

    তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যে যুদ্ধ পরিস্থিতি একটা বিশ্ব সংকট তৈরি করেছে। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ও ইউরোপের রাশিয়ার ওপর দেওয়া বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার ফলাফলটা এমন দাঁড়িয়েছে, এখন তেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে, ডিজেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে। প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে। এলএনজির দাম বেড়ে যাচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা না থাকলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও চলতো এবং একইসঙ্গে তেল, গ্যাস, সার, গম এগুলোর সরবরাহ ঠিক থাকতো। যদিও জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে একটা চ্যাম্পিয়ন গ্রুপ হয়েছে। সেখানে আমি সদস্য হিসেবে আছি। সেখানে আলোচনা হয়েছে- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য এবং সার যেন আনতে দেয়া হয় সে বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে এবং সুইফট বন্ধ করার কারণে আমরা ডলার দিয়ে রাশিয়া বা ইউক্রেন থেকে পণ্য কিনতে পারছি না। কাজেই ফাইন্যান্সিয়াল মেকানিজম যে কী হবে, এটার উত্তর কেউ দিতে পারছে না।

    শেখ হাসিনা বলেন, আমদানি পণ্যে আমরা বিশাল অংকের ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছি, এটা কতদিন দিতে পারবো। কারণ, আমাদের মানুষকে খাদ্য দিতে হবে, চিকিৎসা দিতে হবে। গৃহহীনদের ঘর দিতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের মানুষের প্রতি নজর দিতে হবে।

    সরকারপ্রধান বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৮৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বাজেট ধরা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ভর্তুকি না কমাই সরকারের টাকা আসবে কোত্থেকে। তার মানে যুদ্ধের কারণে আমাদের সবকিছুই এখন…। বিদেশেও সব পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। যেগুলো আমাদের কিনে আনতে হয়। ভোজ্যতেলও আমাদের বাড়তি দামে কিনে আনতে হচ্ছে।

    ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এক্ষেত্রে সবাইকে আহ্বান করেছি, প্রত্যেককে নিজ নিজ সঞ্চয়টা বাড়াতে হবে। খরচের ক্ষেত্রে মিতব্যয়ী হতে হবে। যতটুকু পারা যায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হতে হবে। বিদ্যুতের ব্যবহার কমাতে হবে। আমাদের এখন একটাই উপায় কখন কোন এলাকায় লোডশেডিং হবে সেটার একটা রুটিন তৈরি করা। যেন মানুষ প্রস্তুত থাকতে পারে। মানুষের কষ্টটা যেন আমরা লাঘব করতে পারি। সে বিষয়ে আমাদের এখন নজর দিতে হবে। আমি আশা করি, দেশবাসী আমাদের সহযোগিতা করবেন।

  • দেশের প্রথম আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের উদ্বোধন

    দেশের প্রথম আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের উদ্বোধন

    তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের বিকাশ এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির প্রসারের লক্ষ্যে দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসভিত্তিক ব্যবসায়িক ইনকিউবেটর ‘শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    বুধবার (৬ জুলাই) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) স্থাপিত এ ইনকিউবেটরের উদ্বোধন করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ‘শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর’ আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো।

    একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এ আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর সেন্টারে নির্মিত মাল্টিপারপাস হল, শেখ জামাল ডরমেটরি ও রোজী জামাল ডরমেটরিরও উদ্বোধন করেন।

    এতে স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। আইসিটি মন্ত্রণালয় প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

    চুয়েট প্রান্তে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, চুয়েট ভিসি, চুয়েট আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর প্রকল্প পরিচালক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, চুয়েট ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে প্রায় ৫ একর (৪.৭ একর) জমির ওপর ৫০ হাজার বর্গফুট আয়তনের ১০ তলাবিশিষ্ট একটি ইনকিউবেশন ভবন এবং ৩৬ হাজার বর্গফুটের ৬ তলাবিশিষ্ট একটি মাল্টিপারপাস প্রশিক্ষণ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

    ইনকিউবেশন ভবনের মধ্যে রয়েছে- স্টার্টআপ জোন, আইডিয়া/ইনোভেশন জোন, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিক জোন, ব্রেইনস্ট্রর্মিং জোন, ই-লাইব্রেরি, ডাটা সেন্টার, রিসার্চ ল্যাব, বঙ্গবন্ধু কর্নার, এক্সিবিশন/প্রদর্শনী সেন্টার, ভিডিও কনফারেন্সিং কক্ষ, সভাকক্ষ প্রভৃতি। উদ্যোক্তা ও গবেষকদের কাজের সুবিধার্থে একটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ল্যাব, একটি মেশিন লার্নিং ল্যাব, একটি বিগ ডাটা ল্যাব, অপটিক্যাল ফাইবার ব্যাকবোন, একটি সাব-স্টেশন ও সোলার প্যানেল রয়েছে।

    এছাড়া ব্যাংক ও আইটি ফার্মের জন্য পৃথক কর্নার, অত্যাধুনিক সাইবার ক্যাফে, ফুড কোর্ট, ক্যাফেটেরিয়া, রিক্রিয়েশন জোন, মেকার স্পেস, ডিসপ্লে জোন, প্রেস/মিডিয়া কাভারেজ জোন, নিজস্ব পার্কিং সুবিধাও থাকছে। অন্যদিকে মাল্টিপারপাস প্রশিক্ষণ ভবনে ২৫০ জনের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন সুসজ্জিত অডিটোরিয়াম এবং ৩০ জনের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন পৃথক আটটি কম্পিউটার ল্যাব কাম সেমিনার কক্ষ রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ২০ হাজার বর্গফুট আয়তনের চার তলাবিশিষ্ট পৃথক দুটি (একটি নারী ও একটি পুরুষ) আবাসিক ডরমিটরি ভবন নির্মিত হয়েছে। প্রতিটি ডরমিটরিতে ৪০টি কক্ষ রয়েছে।

    এছাড়া ব্যাংক ও আইটি ফার্মের জন্য পৃথক কর্ণার, অত্যাধুনিক সাইবার ক্যাফে, ফুড কোর্ট, ক্যাফেটেরিয়া, রিক্রিয়েশন জোন, মেকার স্পেস, ডিসপ্লে জোন, প্রেস/মিডিয়া কাভারেজ জোন, নিজস্ব পার্কিং সুবিধা প্রভৃতি। অন্যদিকে মাল্টিপারপাস প্রশিক্ষণ ভবনে ২৫০ জনের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন সুসজ্জিত অডিটোরিয়াম এবং ৩০ জনের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন পৃথক ৮টি কম্পিউটার ল্যাব কাম সেমিনার কক্ষ রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ২০ হাজার বর্গফুট আয়তনের ৪ তলাবিশিষ্ট পৃথক দুইটি (১টি নারী ও ১টি পুরুষ) আবাসিক ডরমিটরি ভবন নির্মিত হয়েছে। প্রতিটি ডরমিটরিতে ৪০টি কক্ষ রয়েছে। এছাড়া দুটি মিনি সুপার কম্পিউটার সম্বলিত অত্যাধুনিক গবেষণা ল্যাব শিগগির স্থাপিত হচ্ছে।

    প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং জ্ঞানভিত্তিক কোম্পানি গড়ে তুলতে বিশ্বের স্বনামধন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের বিজনেস ইনকিউবেটর থাকলেও বাংলাদেশে তা এবারই প্রথম। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আইডিয়াগুলো বাস্তবায়ন এবং একজন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ-অবকাঠামো সহায়তা দেওয়া হবে। এ ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ইন্ডাস্ট্রি এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে একটা সেতুবন্ধ তৈরি হবে।

    চুয়েটের এ উদ্যোগটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এ ধরনের বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

    এরমধ্যে আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ বির্নিমাণের যে অঙ্গীকার, সেটি বাস্তবায়নে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের মতো অবকাঠামো অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। আগামীর তরুণ প্রজন্মের মেধা, বুদ্ধি ও জ্ঞানের বিকাশকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    এ বিষয়ে চুয়েট শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের পরিচালক এবং চুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল ও কম্পিউটার প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম মশিউল হক জাগো নিউজকে বলেন, এ আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্ক স্থাপন করবে। উদ্যোক্তা এবং ব্যবসার জন্য সম্পূর্ণ ইকো-সিস্টেম রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পগুলোকে কীভাবে বাস্তব প্রকল্প এবং পণ্যে রূপ দেওয়া যায় আমরা সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।

    তিনি বলেন, চুয়েট শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরে ২২০ জনের প্রশিক্ষণ তথা ইনকিউবেশনের সুযোগ রয়েছে। চুয়েটের এ প্রকল্পটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এ ধরনের আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন করবে সরকার। কারণ, প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ গ্র্যাজুয়েট বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বের হয়। এদের মধ্যে অনেকেই থিসিস, রিসার্চ বা ফাইনাল ইয়ার প্রজেক্টের উদ্ভাবনী আইডিয়া জমা দেন। এর মধ্যে থেকে যেসব থিসিস, রিসার্চ কি ফাইনাল ইয়ার প্রজেক্টের উদ্ভাবনী আইডিয়াগুলোর অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে সেগুলো বাণিজ্যিকীকরণে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক ইউনিবেটর প্রোগ্রাম চালু করা হচ্ছে।