Category: প্রচ্ছদ

  • সুন্নত নামাজ বাড়িতে, মসজিদে যেতে পারবে না শিশু-বৃদ্ধ-অসুস্থরা

    সুন্নত নামাজ বাড়িতে, মসজিদে যেতে পারবে না শিশু-বৃদ্ধ-অসুস্থরা

    করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ে নয়টি নির্দেশনা মানতে হবে। এছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ক্ষেত্রেও অনুসরণীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৮ জুন) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনার কথা জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

    এতে বলা হয়, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবজনিত কারণে সারাদেশে করোনায় আক্রান্তের হার দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের গত ২৬ জুনের ডিওপত্রে কতিপয় বিধিনিষেধ আরোপ করে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ধর্ম মন্ত্রণালয় সব ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও মসজিদে জামাতে নামাজের জন্য আবশ্যিকভাবে নয়টি নির্দেশনা পালনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে।

    ১. মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে এবং আগত মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।

    ২. প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওজু করে, সুন্নত নামাজ ঘরে আদায় করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

    ৩. মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসতে হবে।

    ৪. কাতারে নামাজে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

    ৫. শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি জামাতে অংশগ্রহণ করা হতে বিরত থাকবে।

    ৬. সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতে মসজিদের ওজুখানায় সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

    ৭. সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

    ৮. করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে খতিব, ইমাম ও মুসল্লিরা দোয়া করবেন।

    ৯. খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন।

    অন্যান্য সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান/উপাসনালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার/সাবান দিয়ে হাত ধোয়াসহ ব্যবহারসহ স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব যথাযথভাবে অনুসরণ করবেন।

    এসব নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

    এদিকে করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে মাস্ক পরা, যথাসম্ভব জনসমাগম বর্জন, কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি পালনসহ ছয়টি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এ ছয়টি নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সব মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে মঙ্গলবার চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৯ হাজার ১৪৫ জনে। একই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ৮৭ জনের। এ নিয়ে শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬১ জনে। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

  • সেরনিয়াবাত মঈন আব্দুল্লাহর নাম ভাঙ্গিয়ে চাদা দাবি; কোতোয়ালি থানায়  মামলা দায়ের

    সেরনিয়াবাত মঈন আব্দুল্লাহর নাম ভাঙ্গিয়ে চাদা দাবি; কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক সেরনিয়াবাত মাঈনউদ্দিন আবদুল্লাহসহ তিনজনের নাম ব্যবহার করে ত্রিশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করায় মাইনুল ইসলাম রুমান নামে একজনের বিরুদ্ধে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নগরীর সাগরদী দরগাহবাড়ী এলাকার বাসিন্দা, স্কুল শিক্ষক আলী হায়দার বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার এ মামলা দায়ের করেন। যার জিআর কেস নং ৫১২/২২ ধারা ৩৮৫/৩৮৬।একমাত্র আসামি রুমান নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ডের সিএন্ডবি এলাকার বাসিন্দা। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বাদীর মেয়ে জামাইয়ের সিএন্ডবি রোডের পূর্ব পাশে একটি ভবন নির্মান কাজ শুরু হলে আসামি রুমান কাজে বিঘ্ন সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশনে অভিযোগ দায়ের করেন। এ প্রেক্ষিতে বিসিসি থেকে লোকজন গিয়ে কাজে কিছু ত্রুটি পেয়ে জরিমানা করেন। এরপর জরিমানার টাকা পরিশোধ করে বিসিসির মৌখিক নির্দেশে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়। এরপর আসামি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এর মধ্যে অভিযুক্ত রুমান বাদী অালী হায়দারকে গত ১৮ জুন রাত ১০ টা নাগাদ ফোন করে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে আসতে বলে। বাদী সেখানে যেতে রাজি না হলে পরে তাকে বিবির পুকুর সংলগ্ন এলাকায় আসতে বলে। আলী হায়দার সেখানে আসলে রুমান তার কাছে ত্রিশ লাখ টাকা দাবি করে বলে ওই টাকা সেরনিয়াবাত মাঈনউদ্দিন আবদুল্লাহ, মোস্তফা জামান মিলন ও ইমরান শহীদ চপলকে দিলে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে। বাদী টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে প্রাননাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়া হয়। পরবর্তীতে চাঁদা দাবির বিষয়টি বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে অবগত করা হয়। মেয়র বিষয়টি যাচাই বাছাই করে জানতে পারে যাদের নাম ব্যবহার করে চাঁদা চাওয়া হয়েছে তাদের কেউই এ বিষয়ে কিছুই জানেনা।স্কুল শিক্ষক চাঁদা দাবির বিষয় টি নিশ্চিত হয়ে মামলা দায়ের করেন।

  • বরিশালে এক দিনের ব্যবধানে করোনা শনাক্তের হার বেড়ে ৩২.১৪ শতাংশ

    বরিশালে এক দিনের ব্যবধানে করোনা শনাক্তের হার বেড়ে ৩২.১৪ শতাংশ

    বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের আরটি পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্তের হার এক দিনের ব্যবধানে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। মঙ্গলবার মেডিকেল কলেজের আরটি পিসিআর ল্যাবে ২৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯ জনের করোনা পজেটিভ হয়েছে। শনাক্তের হার ৩২.১৪ ভাগ।

    এর আগে সোমবার পিসিআর ল্যাবে শনাক্তের হার ছিলো ১৫.১৫ ভাগ, রবিবার ২৩.০৭ ভাগ, শনিবার ৩৫.২৯ ভাগ, শুক্রবার ২০ ভাগ, বৃহস্পতিবার ৪৪.৪৪ ভাগ, বুধবার ১৬.৬৬ ভাগ এবং গত মঙ্গলবার ৩০.৭৬ ভাগ।

    গত এপ্রিলের পর ১৯ জুন (রবিবার) থেকে ফের করোনা শনাক্ত হচ্ছে পিসিআর ল্যাবে।
    এদিকে, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে গত মধ্য এপ্রিলের পর ১৯ জুন ভর্তি হওয়া এক নারী রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন এখনও। নমুনা পরীক্ষায় ওই নারীর করোনা নেগেটিভ হলেও চিকিৎসকদের সন্দেহ তিনি করোনায় আক্রান্ত। তার চিকিৎসা চলছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

    ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ড চালুর পর এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৬শ’ ৭৩ রোগী করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ৬ হাজার ১শ’ ৯৭ জন বাড়ি ফিরেছেন। করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ হাজার ৪শ’ ৭৫ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ৪শ’ ৩৯ জনের করোনা ছিলো পজেটিভ।

  • শৃঙ্খলা ফেরাতে অ্যাকশন শুরু

    শৃঙ্খলা ফেরাতে অ্যাকশন শুরু

    স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে শৃঙ্খলা আনতে অ্যাকশন শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল দিনভর সেতুতে চালানো হয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষের সমন্বিত অভিযান। প্রতি ২০০ গজ দূরত্বে সেনাবাহিনীর একজন করে সদস্যকে টহল দিতে দেখা গেছে। সেতুতে গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলতে দেখলেই ধাওয়া দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    গাড়ি থামিয়ে টিকটক ভিডিও বানানোয় কয়েকজনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। কাউকে কাউকে সতর্ক করে ছেড়েও দেওয়া হয়েছে। পদ্মা সেতু পারাপারে যাত্রীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
    অন্যদিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল ভোর থেকে সেতুর দুই প্রান্তেই মোটরসাইকেল প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    এ নিয়ে সকালে মাওয়া প্রান্তে মোটরসাইকেলচালকদের কেউ কেউ বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেও তাদের ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। দুপুরে সেতু পার হওয়ার দাবিতে জাজিরা প্রান্তে মোটরসাইকেলচালকরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। ২০ মিনিটের বেশি সময় রাস্তা অবরোধ থাকায় সেতুর প্রবেশমুখে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের তৎপরতায় অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
    সেতুতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। গতকাল সেতুতে গিয়ে দেখা গেছে, যান চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।
    ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরদিন যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিনই নাটবল্টু খুলে নেওয়া, মূত্র বিসর্জন, সেতুতে গাড়ি থামিয়ে টিকটক ভিডিও বানানোর মতো বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটেছে। কেউ কেউ সেতুতে শুয়ে-বসে, নাচানাচি করে ভিডিও বানিয়েছেন।

    দিন শেষে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু ছিল আলোচনার শীর্ষে। এসব ঘটনার পর রবিবার রাতেই সেতুতে শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সেতু কর্তৃপক্ষ। এর অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ করা হয় মোটরসাইকেল চলাচল। শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়ে সেতু কর্তৃপক্ষ থেকে চিঠিও দেওয়া হয়।

    সেতুমন্ত্রীর আহ্বান : পদ্মা সেতু পারাপারে যাত্রীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু অবকাঠামো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনা এবং দেশের এক বড় সম্পদ। এর নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। ’ সেতু পারাপারে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ যেসব নির্দেশনা জারি করেছে, তা যথাযথভাবে পালন করে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা : পদ্মা সেতুতে অবৈধভাবে প্রাইভেটকার পার্কিং ও গাড়ি থেকে নেমে ভিডিও বানানোর দায়ে চার জনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে পদ্মার মাঝামাঝিতে কর্তৃপক্ষের নিয়ম ভাঙার দায়ে ফখরুল আলম নামে একজনকে ১ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল কবীর। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সেতুর সার্বিক নিরাপত্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযান চলমান থাকবে। এ সময় আরও পাঁচটি গাড়িকে সতর্ক করা হয়েছে।

    সেতুতে যানবাহন না থামানোর আহ্বান সেনাবাহিনীর : পদ্মা সেতুতে যানবাহন থামানো ও যানবাহন থেকে নামা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে। গতকাল বিকালে সেতুর জাজিরা প্রান্তে টোলপ্লাজায় এক ব্রিফিংয়ে এমন আহ্বান জানান পদ্মা সেতু ইঞ্জিনিয়ারিং সাপোর্ট ও সেফটি কমান্ডিং টিমের সমন্বয়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রবিউল আলম। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সেফ কমান্ডিং টিমের সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফাহিম মাহবুব। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রবিউল আলম বলেন, ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেছেন। ২৬ জুন ভোর ৬টা থেকে সর্বসাধারণের জন্য যান চলাচলে সেতু উন্মুক্ত করা হয়। উদ্বোধনের পর থেকে নিরাপদে যান চলাচলের জন্য বাংলাদেশ ব্রিজ অথরিটি এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা পদ্মা সেতু ইঞ্জিনিয়ারিং সাপোর্ট ও সেফটি টিম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেতুর উপরিভাগে এবং মাওয়া-জাজিরা প্রান্তে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ও যন্ত্রপাতি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও হেঁটে সেতুর ওপর ওঠার চেষ্টা করছে এবং সেতুর ওপর থেকে যানবাহনেও উঠছে। অনেকে যানবাহন থেকে নেমে সেতুর সৌন্দর্য অবলোকন ও ছবি-ভিডিও ধারণ করছে। এতে সেতুর ওপর তীব্র যানজটসহ দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। শুধু তা-ই নয়, সেতুর ওপর রক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ও যন্ত্রপাতির ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। এ অবস্থায় সেতু কর্তৃপক্ষের অনুরোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পদ্মা সেতুর ওপর মোবাইল টহল জোরদার করা হয়েছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল রবিউল বলেন, পদ্মা সেতুর উভয় প্রান্তের টোলপ্লাজায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সেতুর ওপর গাড়ি থামানো ও গাড়ি থেকে না নামার ব্যাপারে অবহিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া ডিউটি পোস্টের মাধ্যমে সেতুর ওপর কেউ যেন হেঁটে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

  • ভয় এখন ৯৭ কিমি নিয়ে

    ভয় এখন ৯৭ কিমি নিয়ে

    বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু উদ্বোধনে বেজায় খুশি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। সায়েদাবাদ থেকে মাওয়া এক্সপ্রেস হয়ে পদ্মা পাড়ি দিয়ে একটানে ভাঙ্গা পৌঁছে খুশিতে উদ্বেলিত মানুষের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ৯৭ কিলোমিটার সিঙ্গেল লেন মহাসড়ক। সায়েদাবাদ থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার মহাসড়ক পৌঁছাতে এক ঘণ্টা সময় লাগলেও ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ৯৭ কিলোমিটার পৌঁছাতে লাগছে আড়াই থেকে ৩ ঘণ্টা। এ অবস্থায় পদ্মা সেতুর সুফল পুরোপুরি পেতে বরিশাল পর্যন্ত ফোর লেন মহাসড়ক নির্মাণ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

    সার্চ ইঞ্জিন গুগলের হিসাবে বরিশাল থেকে পদ্মা পার হয়ে সড়কপথে ঢাকার দূরত্ব ১৭৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে বরিশাল থেকে ভাঙ্গার দূরত্ব ৯৭ কিলোমিটার এবং ভাঙ্গা থেকে ঢাকার দূরত্ব ৮২ কিলোমিটার। ভাঙ্গা থেকে ঢাকা পর্যন্ত পুরো সড়কটি ফোর লেন এক্সপ্রেসওয়ে। আগে সড়কপথে ঢাকা-বরিশাল যাতায়াতে সময় লাগত ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা।

    পদ্মার দুই তীরে ফেরিঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অলস সময় কাটত যানবাহনের। ২৬ জুন পদ্মা সেতু চালুর মধ্য দিয়ে নতুন দিগন্তের সূচনা হওয়ায় এখন পৌঁছানো যাচ্ছে সাড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টায়। ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেসওয়েতে ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতে চলে যানবাহন। কিন্তু ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ৯৭ কিলোমিটারে তাদের গড় গতিসীমা ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার।
    এই ৯৭ কিলোমিটার সিঙ্গেল লেন মহাসড়ক পাড়ি দিতে সময় লাগছে ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা। এই রুটের বাস চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ফোর লেন মহাসড়কে গতি নিয়ে নিশ্চিন্তে গাড়ি চালানো যায়। ভাঙ্গার পর বরিশাল পর্যন্ত সড়কে প্রতিটি মুহূর্ত দুশ্চিন্তা ভর করে। সরু এই রাস্তায় পথচারীসহ বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন গতির যান চলাচল করে। যানাবাহনের অধিক চাপ।
    ওভারটেকিং কিংবা ক্রসিং করা ঝুঁকিপূর্ণ। সড়কের পাশে মাটি নেই। একটি রিকশা অতিক্রম করতে গেলেও দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে মহাসড়কে গতি নিয়ে চলা যায় না। বরিশাল-চট্টগ্রাম রুটের সৌদিয়া পরিবহনের স্থানীয় কাউন্টার ইনচার্জ মো. ইমাম হোসেন বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে অবশ্যই বরিশালের মানুষ খুশি।সেতুর সুফল পুরোপুরি পেতে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ফোর লেন মহাসড়ক নির্মাণ করতে হবে। বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি মো. সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, পদ্মা সেতু বরিশালের মানুষের নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। সড়কপথে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে সময় অনেক কমেছে। বরিশাল থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ফোর লেন মহাসড়ক নির্মিত হলে ঢাকা যাতায়াতে আরও এক ঘণ্টা সময় কমবে। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী এই ফোর লেন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলবাসীর স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন দাবি করেন তিনি। ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা সিক্স লেন প্রকল্পের বরিশাল অংশের মুখপাত্র এবং বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেড়েছে। চাপ সামলাতে সড়কের বাঁক-বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফোর লেনের ভূমি অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
    ভূমি অধিগ্রহণের পর অর্থের জোগান পাওয়া গেলে টেন্ডারিং শুরু হবে।

    এ বিষয়ে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. আমিন-উল আহসান বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর যানবাহনের চাপ বাড়বে তা আগেই অনুমেয় ছিল। এই চাপ সামাল দেওয়ার জন্য ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা ফোর লেন বাস্তবায়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সড়ক বিভাগ প্রকল্প বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছে। বিভাগীয় প্রশাসনও বিষয়টি মনিটর করছে।

  • নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা সেতুতে ট্রাক উল্টে আহত ৩

    নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা সেতুতে ট্রাক উল্টে আহত ৩

    মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উত্তর ভায়াডাক্টে পেঁয়াজবাহী ট্রাক উল্টে ৩ জন আহত হয়েছেন।আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রাকটি জাজিরা প্রান্ত থেকে পদ্মা সেতু পার হয়ে মাওয়া প্রান্তে নামার পথে সেতুর ঢালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিংয়ে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। ট্রাকটিতে ১৩৬ বস্তা পেঁয়াজ ছিল। আহতদের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি টহল দল আহতদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে আরেকটি ট্রাক তাদের গাড়িতে ধাক্কা দিলে সেই ট্রাকটিও আটক করা হয়।

  • সাংবাদিক লিটন বাশারের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা

    সাংবাদিক লিটন বাশারের মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা

    বেলায়েত বাবলু : আজ ২৭ জুন। দক্ষিণাঞ্চলের সাহসী সাংবাদিক ও জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকের বরিশাল অফিস প্রধান লিটন বাশারের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৭ সালের আজকের এইদিনে সকলকে কাঁদিয়ে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
    প্রয়াত লিটন বাশার সাহসী সাংবাদিকতার পাশাপাশি একজন দূরদর্শী সম্পন্ন সাংবাদিক নেতাও ছিলেন। তিনি বরিশালের ঐতিহ্যবাহী শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি তাঁর নেতৃত্বগুণে অনেকেই ক্লাবের নেতৃত্ব দিতে পেরেছেন।
    তাঁকে বরিশাল প্রেসক্লাবের নির্বচনের বিজয়ের মহানায়ক অথবা বিজয়ের নেপথ্য নায়ক হিসেবে সকলে অভিহিত করতেন। তিনি নির্বচনে যে প্যানেলের দায়িত্ব নিতেন সেই প্যানেলের বিজয় অনেকটা সুনিশ্চিত এটাই মানতো সবাই।
    ২০১৭ সালের নির্বাচনে সাহস করেই তিনি সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনিসহ তাঁর প্যানেলের ১৭ জনকে বিজয়ী করতে তিনি নির্বাচনের মাঠে নেমে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছিলেন। মাত্র ১ ভোটে তিনি পরাজিত হলেও তাঁর নেতৃত্বের গুনে প্যানেলের ১৩ জন বিজয়ের স্বাদ গ্রহণ করেছিলেন। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে অন্যকে জিতাতে তিনি ছিলেন অনেক পারদর্শী।
    লিটন বাশার পেশাদার সাংবাদিকদের সংগঠন বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকেরও দায়িত্বে ছিলেন কয়েকবছর। তাঁর সময়ে সংগঠনের কার্যক্রমে গতি ফিরে এসেছিলো। অভিভাবকের ন্যায় তিনি অনেক সাংবাদিককে আগলে রেখেছিলেন।
    অনেকেরই অভিভাবকতূল্য ছিলেন। তিনি সহজেই মানুষদের আপন করে নিতে পারতেন। তাঁর কারণে অনেক অনুষ্ঠানই হয়ে উঠতো প্রাণবন্ত। লিটন বাশার কয়েকটি পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন। বরিশাল প্রতিদিন, ভোরের আলো ও দখিনের মুখ তার মধ্যে অন্যতম। বরিশালের একমাত্র মাসিক পত্রিকা আনন্দ লিখনের সাথেও যুক্ত ছিলেন তিনি।
    দীর্ঘদিন তিনি বরিশালের অন্যতম নাট্য সংগঠন প্রজন্ম নাট্যকেন্দ্রের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় তিনি সবসময় ছিলেন অগ্র সৈনিক। এর জন্য তাঁকে নির্যাতনের শিকারও হতে হয়েছে।
    তবুও তিনি সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে কখনো পিছপা হননি। সময়ের বির্বতনে আজ পাঁচ বছর হলো লিটন বাশার আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁর অকাল চলে যাওয়ায় আমার মতো অনেকেই অভিভাবক শূন্য হয়েছেন।
    তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেও আজো শ্রদ্ধার সাথে তাঁর নাম উচ্চারিত হয়। অনেকেই আফসোস করে বলে থাকেন আজ যদি লিটন ভাই বেঁচে থাকতেন,,,,। আজ মৃত্যুবার্ষিকীর এই দিনে লিটন বাশারকে শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করি। দয়ালু সৃষ্টিকর্তা তাঁকে জান্নাতবাসী করুন এই দোয়া করি।

  • পদ্মাসেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বিএমপির বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালী

    পদ্মাসেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বিএমপির বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালী

    স্বপ্নের পদ্মাসেতু উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালী করেছে বরিশাল মেট্টোপলিটন পুলিশ।

    আজ শনিবার ২৫ জুন সকাল সাড়ে ৮ টায় র‍্যালীটি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্স থেকে শুরু করে বরিশাল সার্কিট হাউজ গিয়ে শেষ হয়।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) প্রলয় চিসিমের নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়।

    এসময় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা ও অন্যান্য অফিসারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলবে রোববার থেকে

    স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলবে রোববার থেকে

    দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আগামীকাল (রোববার) থেকেই পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলবে, সেজন্য সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে কর্তৃপক্ষ।রোববার সকাল ৬টা থেকেই সব ধরনের যানবাহন সেতুতে চলতে পারবে।

    পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। শনিবার সেতু উদ্বোধনের পর বিকালে শফিকুল ইসলাম বলেন,‘আজ সেখানে কোনো যানবাহন চলাচল করবে না। রোববার সকাল ৬টা থেকে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘শুরুর দিন যানবাহন ব্যাপক চাপ হবে বলে আমরা ধারণা করছি। আমাদের টোলপ্লাজার কর্মীদেরও সেভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, তারা ভিড় সামলাতে পারবে। এ ছাড়া সেতু রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তার জন্যও সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে।’

    বাংলাদেশের অহংকার আর আত্মমর্যাদার প্রতীক বহুল প্রতীক্ষার পদ্মা সেতু আজ (শনিবার) উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এর মধ্যদিয়ে স্বপ্নের পূর্ণতা পেল।

    প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন ঘোষণা করেই সেতু পাড়ি দিয়েছেন তার গাড়ির টোল দিয়ে।বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে টোল গুনতে হয়েছে ৭৫০ টাকা।

    সেতুতে টোলের হার ইতোমধ্যে নির্ধারিত হয়েছে।মিনিবাসে ১৪০০ টাকা, মাঝারি বাসে ২০০০ টাকা এবং বড় বাসে ২৪০০ টাকা টোল দিতে হবে। ছোট ট্রাকের টোল ১৬০০ টাকা, মাঝারি ট্রাকে ২১০০-২৮০০ টাকা, বড় ট্রাকে ৫৫০০ টাকা। পিকআপের টোল ১২০০ টাকা।

    কার ও জিপের টোল ধরা হয়েছে ৭৫০ টাকা, মাইক্রোবাসে ১৩০০ টাকা। মোটরসাইকেল নিয়ে পদ্মা সেতু পার হতে চাইলে টোল দিতে হবে ১০০ টাকা। পদ্মা সেতু হয়ে যাতায়াতকারী বেশিরভাগ পরিবহণের বাস ঢাকার সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাবে।

  • একটি শেখের বেটি এবং একটি যাদুর সেতু

    একটি শেখের বেটি এবং একটি যাদুর সেতু

    তানজিম হোসাইন রাকিবঃ গোটা বাংলাদেশকে আমূল বদলে দেওয়া পদ্মা সেতু মাথা তুলে দাড়িয়ে শুভ উদ্ভোদন হয়েছে আজ।একটি পদ্মাসেতু গোটা দেশ ও জাতির জন্য যে কত বড় আশীর্বাদ তা বাঙালি জাতি ছাড়া অনুমান করা অসম্ভব। তবে এই যাদুময় সেতু উপহার দেওয়া যে কত বড় চ্যালেঞ্জিং ছিল সেটা শেখের বেটি হাসিনা ছাড়া আর কারো পক্ষে অনুমান করা সম্ভব নয়। তাই একটি শেখের বেটি এবং একটি যাদুর পদ্মা সেতু দুটোই বাংলাদেশের সব থেকে বড় সম্পদ।

    এ সেতুকে যাদুর সেতু বলার পিছনে কারন রয়েছে অহর অহর। পদ্মা সেতুর বদৌলতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের সঙ্গে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চল ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরও মনোযোগ কাড়বে, গড়ে উঠবে এসব জেলায় নতুন নতুন শিল্প কারখানা। এ সেতু দিয়ে বাংলাদেশ যুক্ত হতে পারবে এশিয়ান হাইওয়েতে। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির চাকা ঘোরার পাশাপাশি বাড়বে কর্মসংস্থান। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের সঙ্গে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা যুক্ত হবে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের ২১টি জেলার সঙ্গে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে। ২১ টি জেলাগুলো হলো- খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা। বরিশাল বিভাগের বরিশাল, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ঝালকাঠি এবং ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী।

    বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য পদ্মা সেতু হতে যাচ্ছে এর ইতিহাসের একটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প। দুই স্তরবিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির ওপরের স্তরে আছে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরটিতে আছে একটি একক রেলপথ। এছাড়াও রয়েছে এই যাদুর সেতুর অসংখ্য সুযোগ সুবিদা।

    এ হলো পদ্মা সেতুর সুযোগ সুবিধার কথা। তবে পদ্মা সেতু কেন এতটা চ্যালেঞ্জিং? কি আছে এমন যার জন্য এত ব্যায় এই সেতুতে? কেন এই সেতু তৈরীতে এত বেগ পোহাতে হয়ছে এই হাসিনা সরকারকে? চলুন এক নজরে একটু দেখে আসার চেষ্টা করি।

    ২০০৬-০৭ সালে প্রকল্প প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত কিছু লোকের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় বিশ্বব্যাংক তার প্রতিশ্রুতি প্রত্যাহার করে নেয় এবং অন্যান্য দাতারা সেটি অনুসরণ করে। এই ঘটনায় তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে নেয়া হয় ও সচিব মোশারেফ হোসেন ভূঁইয়াকে জেলেও যেতে হয়েছিল। পরবর্তীতে এমন কোনো অভিযোগ প্রমাণ না পাওয়ায় কানাডিয়ান আদালত মামলাটি বাতিল করে দেয়। দুর্নীতির অভিযোগ পরবর্তীতে আদালতে খণ্ডিত হয়। বর্তমানে প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব সম্পদ থেকে অর্থায়ন করা হয়েছে।

    বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য পদ্মা সেতু ইতিহাসের একটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প। দুই স্তরবিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাস ব্রিজটির ওপরের স্তরে আছে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরটিতে আছে একটি একক রেলপথ।

    আমাদের মনে রাখতে হবে, সেতুটি এমন এক নদীর ওপর হয়েছে, যা পৃথিবীর অন্যতম খরস্রোতা নদী। পদ্মা এমন এক নদী, যেটি একেক সময় একেক রূপ ধারণ করে। ফলে নদী শাসন করে পদ্মা সেতু করতে গিয়ে মানের বেলায় কোনো ধরনের আপস করা হয়নি। পদ্মা সেতু তৈরি হয়েছে মূলত দেশীয় উপকরণ দিয়ে। সেতু তৈরিতে সবচেয়ে বেশি লাগে দু’টি উপকরণ। একটি হলো স্টিল, অন্যটি সিমেন্ট। আমাদের দেশে যথেষ্ট ভালো মানের সিমেন্ট ও স্টিল তৈরি হয়। শুধু স্টিল আর সিমেন্টই নয়, রড, বালু, পাথরসহ অন্য যেসব উপকরণ পদ্মা সেতুতে ব্যবহৃত হয়েছে, সব উপকরণই ছিল সর্বোচ্চ মানের। যারা এসব উপকরণ সরবরাহ করেছে, তারা সবাই ছিল সতর্ক। তাই পদ্মা সেতুতে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের কোনো সুযোগই ছিল না।

    পদ্মা সেতুর পাইল বা মাটির গভীরে বসানো ভিত্তি এখন পর্যন্ত বিশ্বে গভীরতম। সর্বোচ্চ ১২২ মিটার গভীর পর্যন্ত গেছে সেতুর অবকাঠামো। ১০ই ডিসেম্বর বহুল কাক্সিক্ষত এ সেতুর সর্বশেষ স্টিলের কাঠামো (স্প্যান বসানো হয়। ৪১তম স্প্যান বসানোর পর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার পদ্মা সেতুর পুরোটাই দৃশ্যমান হয়। ২০১৭ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমানতা শুরু হয় স্বপ্নের পদ্মা সেতুর। বাকি ৪০টি স্প্যান বসাতে তিন বছর দুই মাস লাগে।

    পদ্মা বহুমুখী সেতুর সম্পূর্ণ নকশা এইসিওএম’র নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরামর্শকদের নিয়ে গঠিত একটি দল তৈরি করে। বাংলাদেশের প্রথম বৃহৎ সেতু প্রকল্প যমুনা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল তৈরি করা হয়। অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীকে ১১ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সভাপতি নিযুক্ত করা হয়। এ প্যানেল সেতুর নকশা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে প্রকল্প কর্মকর্তা, নকশা পরামর্শক ও উন্নয়ন সহযোগীদের বিশেষজ্ঞ পরামর্শ প্রদান করেন।

    পদ্মা সেতুর ভৌত কাজকে মূলত কয়েকটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে যথা- (ক) মূল সেতু, (খ) নদী শাসন, (গ) জাজিরা সংযোগকারী সড়ক, (ঘ) টোল প্লাজা ইত্যাদি। মাওয়া সংযোগকারী সড়ক, টোল প্লাজা ইত্যাদি এবং মাওয়া ও জাজিরা সার্ভিস এলাকা। প্রকল্পে নিয়োজিত নকশা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘মনসেল-এইকম’ ভৌত কাজের ঠিকাদার নিয়োগের প্রাক-যোগ্যতা দরের নথি প্রস্তুত, টেন্ডার আহ্বানের পর টেন্ডার নথি মূল্যায়ন, টেন্ডার কমিটিকে সহায়তাসহ এ-সংক্রান্ত যাবতীয় কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল নকশা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাজ তদারক করতো। ভৌত কাজের বিভিন্ন প্যাকেজের জন্য দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি।

    সর্বোপরি পদ্মা বহুমুখী সেতু কেবল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নয়, পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতিই বদলে দেবে। আরও বিশদভাবে বলতে গেলে এই সেতু দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যোগাযোগ, বাণিজ্য, পর্যটনসহ অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সব মিলিয়ে এই সেতু আসলেই দেশের মানুষের স্বপ্নের সেতু হয়ে বাস্তবে ধরা দিয়েছে।জাতির জনকের স্বপ্ন পূরণের জন্যই যেন মহান আল্লাহ্তায়ালা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২১ বার হত্যা চেষ্টা সত্ত্বেও বাঁচিয়ে রেখেছেন। শেখ হাসিনা আমাদের আশার বাতিঘর বাংলাদেশের রক্ষাকবচ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বিদ্যুৎ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, যোগাযোগ ও সামাজিক অবস্থান সর্বক্ষেত্রে জননেত্রী শেখ হাসিনা সফলতার সঙ্গে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।