Category: প্রচ্ছদ

  • মাঝরাতে নদীবন্দরে মে‌ডিক্যাল বুথ, মিলছে করোনার ভ্যাক‌সিনও

    মাঝরাতে নদীবন্দরে মে‌ডিক্যাল বুথ, মিলছে করোনার ভ্যাক‌সিনও

    আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য ব‌রিশাল নদীবন্দরে মে‌ডিক্যাল বুথ খোলা হয়েছে।

    এ মেডিক্যাল বুথের অধীনে করোনার তৃতীয় ডোজ ভ্যাক‌সিন গ্রহণের পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা নেওয়া যাচ্ছে।

    সেই সঙ্গে গুরুত্বর রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য সর্বাধুন‌কি এক‌টি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে।
    অপর‌দিকে অসুস্থ ও চলাচলে অক্ষমদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে সেচ্ছাসেবকসহ হুইলচেয়ার।

    মাঝরাতে ঢাকা থেকে ব‌রিশালে আসা যাত্রীরা এরইমধ্যে মে‌ডিক্যাল বুথ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মী প‌রিচা‌লিত সে‌চ্ছাসেবকদের সহায়তা নিচ্ছেন।

    মে‌ডিক্যাল বুথের সহায়তা নেওয়া এক যুবক জানান, সময়ের সল্পতায় তৃতীয় ডোজের টিকা নিতে পারেন‌নি তিনি।

    কিন্তু ব‌রিশাল নদী বন্দরে মাঝরাতে নেমে টিকা নেওয়ার সু‌বিধার কথা জানতে পেরে, তাৎক্ষ‌নিক মে‌ডিক্যাল বুথ থেকে কোন ঝামেলা ছাড়াই নিয়ে টিকা নিয়েছেন তিনি।
    অপর‌দিকে জিয়া নামের এক ব্যক্তি বলেন, চলাচলে অক্ষম অসুস্থ ভাইকে নিয়ে ব‌রিশালে আস‌ার পথে চিন্তা কর‌ছিলাম কিভাবে গা‌ড়ি পর্যন্ত পৌঁছাবো।

    তবে এখানে এসে দেখলাম হুইল চেয়ার নিয়ে কিছু তরুণ দাঁড়িয়ে আছে। তাদের সহযোগীতা চাইতেই, কে‌বিন থেকে ভাইকে না‌মিয়ে হুইল চেয়ারে করে গা‌ড়ি পর্যন্ত পৌঁছে তাতে আবার তুলেও দিলেন। পরে জানলাম এরা ছাত্রলীগের কর্মী, মেয়রের আহ্বানে তারা সেচ্ছাশ্রমে এ কাজ করছেন।
    সি‌টি করপোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, সি‌টি করপোরেশনের স্টাফদের বা‌হিরে ছাত্রল‌ীগের দুইশত নেতাকর্মী ব‌রিশালে এসে পৌঁছানো যাত্রীদের সেবায় নিয়ো‌জিত রয়েছে।

    অপর‌দিকে মাঝরাতে নদী বন্দ‌র এলাকায় কার্যক্রম প‌রিদর্শনে এসে সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সের‌নিয়াবাত সা‌দিক আব্দুল্লাহ বলেন, ঘরমুখো মানুষের বি‌ভিন্ন সেবায় নদী বন্দর ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বা‌হিনীর পাশাপা‌শি আমাদের সেচ্ছাসেবকরা কাজ করছে। এছাড়া সি‌টি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যাত্রীদের জন্য ফ্রি বাস সা‌র্ভিস, অসুস্থ যাত্রীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ও হুইল চেয়ার সা‌র্ভিস রয়েছে।

  • শেরে বাংলা ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী নেতা: কাদের

    শেরে বাংলা ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী নেতা: কাদের

    শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী নেতা ছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

    তিনি বলেছেন, আজকের বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে আছে। সেই বিষবাষ্প থেকে আমরা বাংলাদেশকে এখনো উদ্ধার করতে পারিনি।

    বুধবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৮টায় অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৬০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লড়াই চলছে। আজকের এ দিনে আমরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার শপথ করছি।

    শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘রাজনৈতিক গুরু’ ছিলেন উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেরে বাংলা সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষের অত্যন্ত আপনজন ছিলেন। বাংলার কৃষক সমাজকে অত্যাচার-শোষণ থেকে রক্ষা করেছেন। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন সরকারি ছুটি তিনি শুরু করেছেন।

    এসময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল, আফজাল হোসেন, আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

    অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের ৬০তম মৃত্যুবার্ষিকী বুধবার। ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ৮৮ বছর বয়সে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। শিক্ষানুরাগী ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জীবন্ত প্রতীক হিসেবেও ইতিহাসের পাতায় তার রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থান। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

    শেরে বাংলার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

    ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামের মিঞা বাড়িতে জন্ম শেরে বাংলার। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং আইনসভার সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

    ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও তার অবদান ছিল। ১৯৪০ সালে তিনি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

  • এসএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ, মানতে হবে ১৪ নির্দেশনা

    এসএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ, মানতে হবে ১৪ নির্দেশনা

    ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয়ক কমিটি। আগামী ১৯ জুন সকাল ১০টায় বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হবে পরীক্ষা। চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত।

    বুধবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকা শিক্ষাবোর্ড থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে সই করেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর এস এম আমিরুল ইসলাম।

    এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীকে ১৪টি নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে। সেগুলো হলো-

    ১. পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার কক্ষে আসন গ্রহণ করতে হবে।

    ২. প্রশ্নপত্রের উল্লিখিত সময় অনুযায়ী শুরু হবে পরীক্ষা।

    ৩. প্রথমে বহুনির্বাচনি ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা হবে। উভয় পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। বহুনির্বাচনি পরীক্ষার ক্ষেত্রে সময় ২০ মিনিট এবং সৃজনশীল পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট।

    ৪. পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান প্রধানের কাছ থেকে পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে তিনদিন আগে সংগ্রহ করবে।

    ৫. সব শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়সমূহ এনসিটিবি’র নির্দেশনা অনুসারে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রাপ্ত নম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রকে সরবরাহ করবে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে ধারাবাহিক মূল্যায়নে প্রাপ্ত নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে পাঠাবে।

    ৬. পরীক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ উত্তরপত্রে (ওএমআর) রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড ইত্যাদি যথাযথভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করবে। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।

    ৭. পরীক্ষার্থীকে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।

    ৮. প্রত্যেক পরীক্ষার্থী কেবল নিবন্ধনপত্রে বর্ণিত বিষয়সমূহের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।

    ৯. কোনো পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা (সৃজনশীল/রচনামূলক, বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক) নিজ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে না। পরীক্ষার্থী স্থানান্তরের মাধ্যমে আসন বিন্যাস করতে হবে।

    ১০. পরীক্ষায় নন-প্রোগ্রামাবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে।

    ১১. কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে মোবাইল আনতে এবং ব্যবহার করতে পারবে না।

    ১২. সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়), বহুনির্বাচনি ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উপস্থিতির জন্য একই উপস্থিতিপত্র ব্যবহার করতে হবে।

    ১৩. ব্যবহারিক পরীক্ষা স্ব স্ব কেন্দ্ৰ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

    ১৪. পরীক্ষার ফল প্রকাশের সাতদিনের মধ্যে পুনর্নিরীক্ষার জন্য অনলাইনে এসএমএসের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।

  • নিউমার্কেটে সংঘর্ষ: বিএনপি নেতা মকবুল কারাগারে

    নিউমার্কেটে সংঘর্ষ: বিএনপি নেতা মকবুল কারাগারে

    বুধবার (২৭ এপ্রিল) তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিউমার্কেট থানার পুলিশ পরিদর্শক হালদার অর্পিত ঠাকুর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অপরদিকে তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে জামিন শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) দিন ধার্য করেন।

    এর আগে শনিবার (২৩ এপ্রিল) তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন নিউমার্কেট থানার পুলিশ পরিদর্শক হালদার অর্পিত ঠাকুর। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    তারও আগে শুক্রবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে মকবুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রাতে তাকে নিউমার্কেট থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

    গত ১৮ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সংঘর্ষ হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলে এ সংঘর্ষ। এরপর রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও ১৯ এপ্রিল সকাল ১০টার পর থেকে ফের দফায় দফায় শুরু হয় সংঘর্ষ, যা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

    এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হন। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাদের একজন ডেলিভারিম্যান, অন্যজন দোকান কর্মচারী।

    সংঘর্ষের সূত্রপাত নিউমার্কেটের ভেতরে থাকা ওয়েলকাম ও ক্যাপিটাল ফাস্টফুড নামের দুই দোকান কর্মচারীর দ্বন্দ্ব থেকে। সেই দোকান দুটি সিটি করপোরেশন থেকে মকবুলের নামে বরাদ্দ রয়েছে। তবে কোনো দোকানই নিজে চালাতেন না মকবুল। রফিকুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম নামে দুজনকে ভাড়া দিয়েছেন দোকান দুটি। রফিকুল ও শহিদুল পরস্পর আত্মীয়।

    সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করে। একটি মামলা বিস্ফোরক আইনে এবং অন্যটি পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে করা হয়। দুই মামলায় নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীসহ মোট ১২০০ জনকে আসামি করা হয়।

    এছাড়া সংঘর্ষে নিহত নাহিদের বাবা মো. নাদিম হোসেন ও মুরসালিনের ভাই নুর মোহাম্মদ বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় দুটি হত্যা মামলা করেন। এই চার মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে প্রায় এক হাজার ৪০০ জনকে। তবে তিনটি মামলার মধ্যে শুধু পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় বিএনপি নেতা মকবুলসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলার বাদী নিউমার্কেট থানার পুলিশ পরিদর্শক ইয়ামিন কবীর।

    মকবুল হোসেন ছাড়াও এ মামলায় আরও যাদের নাম রয়েছে, তারা হলেন আমির হোসেন আলমগীর, মিজান, টিপু, হাজি জাহাঙ্গীর হোসেন পাটোয়ারী, হাসান জাহাঙ্গীর মিঠু, হারুন হাওলাদার, শাহ আলম শন্টু, শহিদুল ইসলাম শহিদ, জাপানি ফারুক, মিজান বেপারী, আসিফ, রহমত, সুমন, জসিম, বিল্লাল, হারুন, তোহা, মনির, বাচ্চু, জুলহাস, মিঠু, মিন্টু ও বাবুল।

    শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার জামিন শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) দিন ধার্য করেছেন আদালত।

    বুধবার (২৭ এপ্রিল) তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিউমার্কেট থানার পুলিশ পরিদর্শক হালদার অর্পিত ঠাকুর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অপরদিকে তার আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত জাহান তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে জামিন শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) দিন ধার্য করেন।

    এর আগে শনিবার (২৩ এপ্রিল) তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন নিউমার্কেট থানার পুলিশ পরিদর্শক হালদার অর্পিত ঠাকুর। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ তার তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    তারও আগে শুক্রবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে মকবুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রাতে তাকে নিউমার্কেট থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

    গত ১৮ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সংঘর্ষ হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলে এ সংঘর্ষ। এরপর রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও ১৯ এপ্রিল সকাল ১০টার পর থেকে ফের দফায় দফায় শুরু হয় সংঘর্ষ, যা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

    এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হন। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাদের একজন ডেলিভারিম্যান, অন্যজন দোকান কর্মচারী।

    সংঘর্ষের সূত্রপাত নিউমার্কেটের ভেতরে থাকা ওয়েলকাম ও ক্যাপিটাল ফাস্টফুড নামের দুই দোকান কর্মচারীর দ্বন্দ্ব থেকে। সেই দোকান দুটি সিটি করপোরেশন থেকে মকবুলের নামে বরাদ্দ রয়েছে। তবে কোনো দোকানই নিজে চালাতেন না মকবুল। রফিকুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম নামে দুজনকে ভাড়া দিয়েছেন দোকান দুটি। রফিকুল ও শহিদুল পরস্পর আত্মীয়।

    সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা করে। একটি মামলা বিস্ফোরক আইনে এবং অন্যটি পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে করা হয়। দুই মামলায় নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীসহ মোট ১২০০ জনকে আসামি করা হয়।

    এছাড়া সংঘর্ষে নিহত নাহিদের বাবা মো. নাদিম হোসেন ও মুরসালিনের ভাই নুর মোহাম্মদ বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় দুটি হত্যা মামলা করেন। এই চার মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে প্রায় এক হাজার ৪০০ জনকে। তবে তিনটি মামলার মধ্যে শুধু পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় বিএনপি নেতা মকবুলসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলার বাদী নিউমার্কেট থানার পুলিশ পরিদর্শক ইয়ামিন কবীর।

    মকবুল হোসেন ছাড়াও এ মামলায় আরও যাদের নাম রয়েছে, তারা হলেন আমির হোসেন আলমগীর, মিজান, টিপু, হাজি জাহাঙ্গীর হোসেন পাটোয়ারী, হাসান জাহাঙ্গীর মিঠু, হারুন হাওলাদার, শাহ আলম শন্টু, শহিদুল ইসলাম শহিদ, জাপানি ফারুক, মিজান বেপারী, আসিফ, রহমত, সুমন, জসিম, বিল্লাল, হারুন, তোহা, মনির, বাচ্চু, জুলহাস, মিঠু, মিন্টু ও বাবুল।

  • ঈদের চেয়ে বেশি খুশি তারা

    ঈদের চেয়ে বেশি খুশি তারা

    সারাদেশে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ভূমির মালিকানাসহ সেমিপাকা ঘর দিচ্ছে সরকার। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে এই ঘর পেয়ে ঈদের চেয়ে বেশি খুশি উপকারভোগীরা। তারা বলছেন, আমাদের ভাসমান জীবনে এটি বড় আশ্রয়। মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।

    প্রধানমন্ত্রী তার এই ঈদ উপহার মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হস্তান্তর করবেন। ৪৯২টি উপজেলা ভিডিও কনফারেন্সে এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হবে। চারটি উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কথা বলবেন। সেগুলো হলো-ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার পোড়াদিয়া বালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প, বরগুনা সদরের খাজুরতলা আশ্রয়ণ প্রকল্প, সিরাজগঞ্জ সদরের খোকশাবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাজীগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্প।

    এরই মধ্যে এই চার স্পটে ঢাকা থেকে গণমাধ্যমের চারটি দল একদিন আগেই পরিদর্শনে গেছে। পরিদর্শক গণমাধ্যমকর্মীরা জানিয়েছেন, এ নিয়ে মানুষের মাঝে বেশ উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট সবাই এ কর্মসূচিকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। সবাই বলছেন, এটি অভাবনীয় উদ্যোগ। উপকারভোগীদের মধ্যে ঈদের চেয়ে বেশি খুশি দেখা গেছে। তারা বলছেন, এমন জমি কেনা ও ঘর তৈরি করা তাদের পক্ষে কখনই সম্ভব ছিল না। স্বপ্নেও তারা এটি ভাবেননি। তাই পরিচয়, নিরাপদ আশ্রয় ও মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ায় তারা বেজায় খুশি।

    বরগুনা সদরের খাজুরতলা আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে সাংবাদিক ফারজানা শোভা বলেন, আসলেই মানুষের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। তারা স্বপ্নেও দেখেননি এটি। কখনো ভাবেননি এমন জমি ও সেমিপাকা ঘর পাবেন। একজন প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকের মুখে যে হাসি দেখলাম, ভাষায় বোঝানো যাবে না। খুশিতে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষগুলো প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গান লিখেছেন- ‘তুমি ছাড়া মা, আমাদের কেউ নেই’।

    তিনি বলেন, বরগুনা তো উপকূলীয় জেলা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা। এখানে ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভিকটিম আছে। তাদের জন্য এই আশ্রয়ণ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বরগুনা সদরের খাজুরতলা গ্রামের আশ্রয়ণ প্রজেক্ট দেখেছি। সেখানে ২৬৯টি পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। মূলত এখানে মোট ৫০১টি পরিবারের জন্য ঘর করা হবে।

    ফারজানা শোভা বলেন, সেখানে ১০ জন ভিক্ষুক, তৃতীয় লিঙ্গের ২২ জন, পাশে আবার হিন্দু-মুসলিম এক লাইনে, এভাবে নানা জাতের লোক আছে। তারাই আমাকে বলেছেন, এই যে নানা জাতপাতের লোক আমরা থাকি। কখনো ঝগড়া হয় না। একটা মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে।

    অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের যে উদাহরণ আমরা দেই, যে সম্প্রীতির কথা বলি, খাজুরতলা আশ্রয়ণ আসলেই সম্প্রীতির উদাহরণ।’ যোগ করেন শোভা।

    সাংবাদিক অমরেশ রায় বলেন, ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার বালিয়া আশ্রয়ণ প্রজেক্টে গিয়েছিলাম আমরা। সেখানে ১১০টি পরিবারকে জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা ঘর করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪/৫ জন জেলে, বেশিরভাগ দিনমজুর, রিকশাচালক-কারোরই ঘর ছিল না। ভাড়া থাকতেন বা আত্মীয়ের বাড়ি থাকতেন। মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থাকতেন, এমনও পেয়েছি। তাদের মাঝে আনন্দ ও উৎসব দেখেছি। তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একজন তো বলেই ফেললেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হলেন আমাদের আঁধার রাতের পরশপাথর’।

    চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাজীগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে সাংবাদিক রবিউল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, চট্টগ্রামের এই অঞ্চল ঘূর্ণিঝড় প্রবণ এলাকা। এখানে আশ্রয়ণের গুরুত্ব অনেক। ৯১ এর সাইক্লোনে এখানকার এক কোটি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। নানা দুর্যোগে তারা গৃহসহ সহায়-সম্বল হারান। এই মানুষগুলো যখন আশ্রয় পান, তখন মূলত তারা জীবনের নিরাপত্তা পান, মাথা গোঁজার ঠাঁই পান।

    তিনি বলেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাজীগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্প দেখেছি। সেখানে ১২০টি পরিবারকে আশ্রয় দেওয়া হবে। এরই মধ্যে ৩২টি পরিবারের জন্য বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। আজ হস্তান্তর হচ্ছে। চট্টগ্রাম জেলায় তৃতীয় ধাপে প্রায় ১ হাজার ৪০০ পরিবার পাচ্ছে আশ্রয়। এর আগে দুই হাজার পরিবারকে দেওয়া হয়েছে এই উপহার।

    সাংবাদিক রবিউল বলেন, মানুষের মুখে মুখে এই উদ্যোগের সুনাম শুনেছি। সবাই বলছেন, এটি ভালো উদ্যোগ। উপকারভোগীরা তো ঈদের চেয়ে বেশি খুশি। এখানে জমির শতক ১৫-১৬ লাখ টাকা। সেক্ষেত্রে দুই শতকের দাম ৩২ লাখ টাকা। তারওপর পাকা ঘর। এটা তো এদের স্বপ্নেও ছিল না। তারা ঘর পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করছেন। এক বৃদ্ধা তো খুশিতে কেঁদে দিয়েছেন। এই বৃদ্ধা বলেন, ‘আমার বাকি জীবনটা নিশ্চিত ও নিরাপদ হয়ে গেলো। তার (প্রধানমন্ত্রী) জীবনটাও নিরাপদ হোক’।

    সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ ঘুরে সাংবাদিক স্বপ্নীল শাহরিয়ার শিশির বলেন, যে মানুষগুলোকে নিয়ে কেউ ভাবে না, তাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভেবেছেন, তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিলেন, এটা অভাবনীয়। এটা কিন্তু শুধু জমি বা ঘর দেওয়া নয়, তাদের কর্মসংস্থানসহ এগিয়ে নেওয়ারও পক্রিয়া। আমরা যেটা দেখেছি, তাতে সেখানে উপকারভোগীদের নিয়ে সমবায় সমিতিও করা হয়েছে। তাদের নানা কাজে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, ঈদের আগে জমিসহ সেমিপাকা এই ঘর পেয়ে মানুষের মাঝে ঈদের চেয়ে বেশি খুশি দেখেছি। নদীর ভাঙনে ঘরবাড়ি হারা মানুষগুলোর যে উপার্জন, তাতে তাদের জীবনধারণই কঠিন, বাড়ি করা তো আরও দুরূহ। তাদের জন্য এই ঘরবাড়ি স্বপ্নের চেয়েও বেশিকিছু। অনেকে তো নিজের গল্প বলতে গিয়ে কেঁদেও দিয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের পরিচালক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানিয়েছেন, ঈদের আগ মুহূর্তে পবিত্র ঈদুল ফিতরের উপহার হিসেবে দেশের ৪৯২টি উপজেলায় একযোগে ৩২ হাজার ৯০৪টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে ভূমিসহ সেমিপাকা ঘর। তৃতীয় ধাপে মোট ৬৫ হাজার ৬৭৪টি ঘর দেওয়া হবে। এর আগে দুই ধাপে এক লাখ ১৭ হাজার ৩২৯টি পরিবারকে দেওয়া হয়েছে এই ঘর।

  • দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো রাজনীতিকের জীবনে বড় পাওয়া

    দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো রাজনীতিকের জীবনে বড় পাওয়া

    দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটানো একজন রাজনীতিবিদের জীবনে সবচেয়ে বড় পাওয়া বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এজন্য তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের দুঃখী মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

    মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) ভিডিও কনফারেন্সে একযোগে দেশের ৪৯২টি উপজেলায় ছিন্নমূল মানুষকে ভূমি ও গৃহদান অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শুরুতেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বার বার মনে পড়ছে আমার বাবার কথা। তিনি শুধু ভাবতেন, কীভাবে দেশের মানুষ অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান পাবে। কীভাবে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। জাতির পিতার পথ ধরে আমরা মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছি। এটা দেখে নিশ্চয়ই জাতির পিতার আত্মা শান্তি পাবে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সবসময় বলতেন, ‘আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য পাবে, আশ্রয় পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে, এই হচ্ছে আমার স্বপ্ন।’ জাতির পিতা স্বাধীনতার পর দেশের ভূমিহীন-গৃহহীন, ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি সংবিধানের ১৫(ক) অনুচ্ছেদে দেশের প্রতিটি নাগরিকের বাসস্থান পাওয়ার অধিকারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেন।

    শেখ হাসিনা বলেন, আমিও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে কাজ করে যাচ্ছি। কুষ্ঠুরোগী, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, চা শ্রমিক, ছিন্নমূলসহ সমাজের প্রতিটি অবহেলিত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের বসস্থানের ব্যবস্থা করছি। এটা জাতির পিতার আদর্শের আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীরও দায়িত্ব।

    শেখ হাসিনা বলেন, সারাদেশে ৮ লাখের ওপর মানুষ পেয়েছি, যারা ছিন্নমূল। আমরা প্রতিটি মানুষকে ঘরবাড়ি করে দেবো। শুধু খাস জমি নয়, জমি কিনেও ঘর করে দিচ্ছি বিনামূল্যে। জানি না পৃথিবীর কেউ এই উদ্যোগ নিয়েছে কি না। আমি জাতির পিতার আদর্শের কর্মী, শুধু তার কন্যা নয়। আমরা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জন্য ঘরবাড়ি নিশ্চিত করবো।

    তিনি বলেন, সবচেয়ে ভালো লাগে ঘর পাওয়া মানুষের মুখের হাসি। জাতির পিতা তো দুঃখী মানুষের মুখেই হাসি ফোটাতে চেয়েছেন। এই বাংলাদেশ যেন বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করছি। ‍উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। যে জাতি রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করে, সে জাতি পিছিয়ে থাকতে পারে না।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা শেখ মুজিব যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তুলছিলেন, তার চলার পথ বাধাগ্রস্ত করতে অনেক চেষ্টা হয়েছে। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিতে তাকে তো সপরিবারে হত্যাই করলো। আমরা কিন্তু খুনি দুষ্কৃতকারীদের মুখে ছাই দিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছি। আমি জানি, দুঃখী মানুষের মুখের এই হাসি দেখে আমার বাবার আত্ম শান্তি পাবে। আপনারা দোয়া করবেন, এই দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াবেন, তাদের মুখে হাসি ফোটাবেন। এটাই একজন রাজনীতিকের জীবনে সবচেয়ে বড় পাওয়া। টাকা-পয়সা কোনো কাজে আসবে না। করোনায় তো প্রমাণ পাইছেন। ধন, সম্পদ, অর্থ কিছু না। সম্পদের পেছনে ছুটে নিজেকে মানুষের কাছে অসম্মানিত করার অর্থ হয় না। বরং মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে সেটা বড় পাওয়া।

    তিনি বলেন, আমরা আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করি। বাংলাদেশের মতো দেশ, যেখানে অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, যেখানে অনেক বড় দেশ কল্পনাও করতে পারে না, আমরা কিন্তু করেছি। করোনার টিকা থেকে শুরু করে সবকিছু। করোনার টিকা কেনার টাকা হিসেব শুধু তার করলে হবে না। এটা দেওয়ার পক্রিয়ায় কত হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আমরা কিন্তু বিনা পয়সায় দিয়েছি। অনেক উন্নত দেশ এটা দিতে পারে নাই।

    তিনি আরও বলেন, আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াবো। কারো কাছে ভিক্ষা চেয়ে নয়। আত্মমর্যাদা নিয়ে বিশ্বে উন্নত সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে আমরা চলবো।

    প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এবং সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

    ৪৯২টি উপজেলায় একযোগে যুক্ত ছিল এই অনুষ্ঠানে। ভিডিও কনফারেন্সে চারটি উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগীরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। সেগুলো হলো- ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার পোড়াদিয়া বালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প, বরগুনা সদরের খাজুরতলা আশ্রয়ণ প্রকল্প, সিরাজগঞ্জ সদরের খোকশাবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাজীগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্প।

    এদিন সারাদেশে ৩২ হাজার ৯০৪টি পরিবারকে একটি সেমিপাকা ঘরসহ দুই শতক জমির দলিল হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী।

  • বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

    বরিশালে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে এক ইফতার মাহফিল এর আয়োজন করা হয়। সোমবার ২৫ শে এপ্রিল বরিশাল ক্লাব প্রাঙ্গণে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরিশালে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল সিটি করপোরেশন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, বরিশাল ৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য, মাননীয় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল অবঃ জাহিদ ফারুক শামীম এমপি, অতিরিক্ত আইজিপি শাহাবুদ্দিন খান সহ মহানগর ও জেলা আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ সহ অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

  • ২৩ শে রমজানে আজমির শরীফে নিজ হাতে ইফতার বিতরন করেন মন্ত্রী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ

    ২৩ শে রমজানে আজমির শরীফে নিজ হাতে ইফতার বিতরন করেন মন্ত্রী আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ

    নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গরীবে নেওয়াজ হজরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহ) এর মাজার শরীফে নিজ হাতে ইফতার বিতরন করেন দক্ষিন বাংলার রাজনৈতিক অভিভাবক, পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক, বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, মাননীয় মন্ত্রী জননেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি। আজ ২৫ শে এপ্রিল সোমবার এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র পুত্র,বরিশাল মহানগর আওয়ামীলীগ এর সাধারন সম্পাদক এবং বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র ছোট ভাই, বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য সেরনিয়াবাত আশিক আব্দুল্লাহ’। বানাড়ীপারার উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক এবং তার পিএস খায়রুল ইসলাম সহ অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

    উল্লেখ্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ প্রতি বছর ঈদুল ফিতর হজরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহ) এর মাজার শরীফে কাটান। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (রহঃ) বাবার অনেক বড় একজন ভক্ত।

  • কোতয়ালী মডেল থানার এসআই মেহেদীর সফল অভিযানে ৫ কেজি গাঁজাসহ আটক ২

    কোতয়ালী মডেল থানার এসআই মেহেদীর সফল অভিযানে ৫ কেজি গাঁজাসহ আটক ২

    নিজস্ব প্রতিবেদক :;
    বরিশাল নগরীতে ৫ কেজি গাঁজাসহ ২ জনকে আটক করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। আটককৃতরা হলেন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পূর্ব ডুমুরিয়া বেপারিবাড়ির বাসিন্দা মো. আলমগীর (২৫) ও খুলনা দৌলতপুর রেলগেটের বাসিন্দা সুধীর চন্দ্র শীল (৩২)।

    শুক্রবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ব‌রিশাল মেট্রোপলিটন পু‌লিশের মিডিয়া সেল কর্তৃপক্ষ।

    পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী জানান, বরিশাল নগরীর অক্সফোর্ড মিশন রোড এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৫ কেজি গাঁজাসহ দুই জনকে আটক করা হয়।

    এসময় তাদের অপর সহযোগীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।

    কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তদন্ত লোকমান হোসেন বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হবে।

  • ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু নেই, শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ

    ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু নেই, শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ

    করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। ফলে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ১২৭ জনই রয়েছে।

    তবে একই সময়ে করোনা আক্রান্ত হিসেবে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২১ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৫২ হাজার ৫০৬ জনে। শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ।

    শুক্রবার (২২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি-বেসরকারি ৮৭৯টি ল্যাবরেটরিতে ৩ হাজার ৯১৬টি নমুনা সংগ্রহ ও নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৩ হাজার ৯২১টি। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৫৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৪ শতাংশ।

    ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩৭৩ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৮ লাখ ৯২ হাজার ৮১৬ জন।

    ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।