Category: প্রচ্ছদ

  • সরকার উৎখাতে ব্যস্তদের ‘কর্মসূচি’ তুলে ধরতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    সরকার উৎখাতে ব্যস্তদের ‘কর্মসূচি’ তুলে ধরতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ যখন বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেল, তখন আমাদের দেশের কিছু মানুষ বিদেশের কাছে নানাভাবে অপপ্রচার চালিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ব্যস্ত। সরকার উৎখাতে ব্যস্ত। খুব ভালো কথা। তারা তাদের কর্মসূচি দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরুক, তারা দেশের জন্য কী করতে চায়। আমরা তো আমাদের কর্মসূচি তুলে ধরেছি।

    বুধবার (২০ এপ্রিল) কৃষক লীগের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রাম পর্যায়ে মানুষ এই সরকারের মাধ্যমে উপকার পাচ্ছে, তারা যে সরকার উৎখাত করতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য কী? আমার একটা প্রশ্ন- আমাদের অপরাধটা কী?

    এসময় প্রধানমন্ত্রী কৃষিখাতে তার সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃষিক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করেছি। পাঁচ বছর (২০২০-২৫) মেয়াদে ৩ হাজার ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি।

    এই প্রকল্পের আওতায় ১২ ক্যাটাগরিতে ৫১ হাজার ৩০০টি কৃষিযন্ত্র বিতরণ করা হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি আরও বলেন, কৃষক বন্ধু ফোন সেবা (৩৩৩১), কৃষকের জানালা, কৃষি কল সেন্টার (১৬১২৩) ইত্যাদির মাধ্যমে কৃষকদের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা করেছি। কৃষি সেবাকে সহজে পৌঁছে দিতে ‘কৃষি বাতায়ন’ তৈরি করা হয়েছে। ৪৯৯টি কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র (এআইসিসি) স্থাপন, কৃষি কমিউনিটি রেডিও চালু, ই-কৃষি সেবায় ফসলের মাঠ থেকে ছবি তুলে অ্যাপের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিলেই সমস্যা চিহ্নিত করে সঙ্গে সঙ্গেই সমাধান দেওয়া হচ্ছে।

    কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন- সাবেক সভাপতি এম এ জলিল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মানু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ হাওলাদার, সাবেক সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি প্রমুখ।

  • ক্যাম্পাসে ফিরে গেলেন শিক্ষার্থীরা, যান চলাচল স্বাভাবিক

    ক্যাম্পাসে ফিরে গেলেন শিক্ষার্থীরা, যান চলাচল স্বাভাবিক

    রাজধানীর নিউমার্কেট খুলে দেওয়ার খবরে ঢাকা কলেজের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করা শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে গেছেন। বুধবার (২০ এপ্রিল) শিক্ষক ও পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে ক্যাম্পাসে ফেরত পাঠায়। ফলে ওই এলাকার সব সড়কে বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিউমার্কেট জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহেন শাহ বলেন, ‘কিছু উৎসুক জনতা নিউমার্কেটের সামনে জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা উৎসুক জনতাকে ধাওয়া করেন। শিক্ষক ও আমরা তাদের বুঝিয়ে ক্যাম্পাসে ফেরত পাঠিয়েছি। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক।’

    এদিকে, রাত ৮টার দিকে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। সেখানে তাদের দাবি-দাওয়া ও কর্মসূচি তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

    এর আগে বুধবার বিকেলে রাজধানীর নিউমার্কেটের সামনে দোকান কর্মচারীরা এবং ঢাকা কলেজের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। ফলে ওই এলাকায় ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় সেখানে ১০-১২টি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দুই পক্ষ আবারও মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ায় ওই এলাকার সব সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    জানা গেছে, বুধবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে নিউমার্কেট খুলে দেওয়া হয়েছে- এমন খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা কলেজের ফটকের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা নিউমার্কেট খোলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেন। একই সময়ে নিউমার্কেটের সামনেসহ আশপাশের এলাকায় ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীরাও অবস্থান নেন।

    ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের দাবি, দুদিন ধরে চলা সংঘর্ষের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত নিউমার্কেটের কোনো দোকান খোলা যাবে না।

  • আমরা অর্থহীন সংলাপ করছি না: সিইসি

    আমরা অর্থহীন সংলাপ করছি না: সিইসি

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, একটা সুন্দর গ্রহণযোগ্য সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবাইকে চেষ্টা করতে হবে। আমরা অর্থহীন সংলাপ করছি না।

    সোমবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাওঁয়ে নির্বাচন ভবনে দেশের জ্যেষ্ঠ ইলেকট্রনিক্স সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে এদিন বেলা ১১টায় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রধান নির্বাহীসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের নিয়ে ইসির চতুর্থ ধাপের সংলাপ শুরু হয়।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, সংলাপে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা এরই মধ্যে এ নিয়ে কয়েকটি মিটিং করেছি। যেহেতু বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু ইভিএমের যে সুবিধাটা সেখানে পেশিশক্তির ব্যবহার হ্রাস করতে পারে, যেখানে সিল দিয়ে ব্যালট বাক্স পূরণ করা যায় না। কাজেই ইভিএমের ভালো দিক আছে।

    হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমরা ইভিএম নিয়ে স্টাডি করছি, যেটা জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেছেন। নির্বাচনে কেউ আসল, কী আসল না এটা আমাদের দায়িত্ব নয়। কেউ কেউ বলেছেন- দলগুলো যদি তাদের লোকবল দিয়েই ভারসাম্য করতে পারে, নির্বাচনে যদি দুপক্ষ থাকে, তবে দুপক্ষকে খেলতে হবে, তাহলে নির্বাচনটা ওইদিক থেকে সহজ হয়।

    স্বচ্ছতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রের ভেতরে ক্যামেরা ও বাইরের মনিটরে দেখা যায়- এগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। এগুলো নিয়ে আমার সহকর্মীরাও বিশ্বাস করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বিচরণ যদি থাকে, তারাও রিপোর্ট করতে পারবেন। একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য এই সমস্ত বিষয়ের প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি। আমাদের সাধারণভাবে ওপেন হতে হবে। তথ্য দিতে হবে বলে মনে করি।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের সৎভাবে দায়িত্ব পালনের স্প্রীহা ও চেষ্টা আছে, থাকবে। ব্যাপক অনিয়মের তথ্য আমাদের কাছে আসলে সাহস নয়, আমাদের দায়িত্ব হয়ে যাবে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়ার। অনেক বিধান আমাদের অনুকূলে থাকলেও তা প্রয়োগের হার বাড়াতে হবে। নির্বাচনকে হস্তক্ষেপ মুক্ত রাখতে যা যা করতে হয়, তা তা করতে হবে।

    সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে যেন ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, তা নিশ্চিত করা। অনেক সময় কারচুপির হয়, সেটা রোধ করতে হবে। আমরা আমাদের সামর্থ্য, দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টা করবো- যোগ করেন তিনি।

    সিইসি বলেন, কে নির্বাচনে অংশ নেবে, কে নেবে না সেটা ফোর্স (জোর) করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। তবে দায়িত্ব থাকবে আহ্বান করা যে- আপনারা আসেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচনে অংশ না নিলে কিন্তু গণতন্ত্র বিকশিত হবে না। গণতন্ত্র বিকশিত হয় কিন্তু নির্বাচনের মাধ্যমেই।

    আজকের সংলাপে উপস্থিত ছিলেন- জাগো নিউজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কে এম জিয়াউল হক, এনটিভির বার্তা প্রধান জহিরুল আলম, এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ ই মামুন, চ্যানেল আইয়ের প্রধান বার্তা সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, আরটিভির সিইও সৈয়দ আশিক রহমান, একুশে টিভির হেড অব নিউজ রাশেদ চৌধুরী, বাংলাভিশনের হেড অব নিউজ আব্দুল হাই সিদ্দিক, মাইটিভির হেড অব নিউজ শেখ নাজমুল হক সৈকত, সময় টিভির হেড অব নিউজ মুজতবা দানিশ, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির চিফ নিউজ এডিটর আশিস সৈকত, মাছরাঙ্গা টিভির হেড অব নিউজ রেজোয়ানুল হক রাজা, একাত্তর টিভির প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের নির্বাহী পরিচালক তালাত মামুন, দেশ টিভির চিফ নিউজ এডিটর বোরহানুল হক সম্রাট, নিউজ ২৪’র এক্সিকিউটিভ এডিটর রাহুল রাহা, ডিবিসি নিউজের সিইও মঞ্জুরুল ইসলাম, বাংলা ট্রিবিউনের বার্তা প্রধান মাসুদ কামাল, গ্লোবাল টিভির এডিটর সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ, নাগরিক টিভির হেড অব নিউজ দীপ আজাদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, যমুনা টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদ এবং স্পাইস টিভির এডিটরিয়াল হেড তুষার আব্দুল্লাহ।

  • মহামারির গ্লানি ভুলে সুসময়ের বার্তা দিলো মঙ্গল শোভাযাত্রা

    মহামারির গ্লানি ভুলে সুসময়ের বার্তা দিলো মঙ্গল শোভাযাত্রা

    দুই বছর পর বাংলা বর্ষবরণে হাজারো মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হলো মঙ্গল শোভাযাত্রা। মহামারির গ্লানি ভুলে সুসময়ের বার্তা দিলো এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা। বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক ছাত্রকেন্দ্রের (টিএসসি) সামনে থেকে বের হয় শোভাযাত্রাটি। ‘নির্মল করো, মঙ্গল করে মলিন মর্ম মুছায়ে’ প্রতিপাদ্যে বের হওয়া শোভাযাত্রার গন্তব্য ছিল ঢাবি ভিসির বাসভবন। ভিসির বাসভবনের সামনে স্মৃতি চিরন্তন ঘুরে শোভাযাত্রাটি আবার টিএসসিতে ফিরে যায়।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, মেট্রোরেলের কাজ চলায় শাহবাগ থেকে টিএসসি পর্যন্ত সড়ক সঙ্কুচিত হয়ে পড়ায় এবার শোভাযাত্রার গতিপথে পরিবর্তন আনা হয়।

    শোভাযাত্রা ঘিরে ছিল কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো শোভাযাত্রার চতুর্দিকে সোয়াট, ডিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও স্কাউট সদস্যদের কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী চোখে পড়ে। এছাড়াও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের টিমও তৎপর ছিল।

    শোভাযাত্রার পুরো পথে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। পথে কেউ মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারেননি। কারণ চতুর্দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে মানবপ্রাচীর গঠন করা হয়। নিরাপত্তার জন্য রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় কেন্দ্রীয় রাস্তা বন্ধ করে রাখা হয়।

    শোভাযাত্রা বেরোনোর আগেই টিএসসি থেকে নীলক্ষেত যাওয়ার পথটি লোকারণ্য হয়ে পড়ে। যদিও সকাল থেকেই রং-বেরঙের মাছ, পাখি, ঘোড়া, টেঁপা পুতুল, ঢাকঢোল-বাঁশি নিয়ে চারুকলা অনুষদের সামনের সড়কে অপেক্ষায় ছিলেন শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা।

    শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে খুন, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে জেগে ওঠার প্রত্যয়। অতীতের গ্লানি মুছে দিয়ে অনাগত সুদিনের পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনে ফেরার তাড়না ছিল শোভাযাত্রার শিল্পকাঠামোয়।

    প্রতিবারের মতো মঙ্গল শোভাযাত্রায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকলেও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের কমতি ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের প্রতিটি প্রবেশ মুখে ছিল পুলিশের চেকপোস্ট। এছাড়া পুরো বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ছিল পুলিশ, র্যাব, সোয়াতসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল।

    ঢাকঢোলের বাদ্যি আর তালে তালে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের ছন্দোবদ্ধ নৃত্যে আনন্দ-উৎসবমুখর হয়ে ওঠে শোভাযাত্রা। বাংলাদেশে কাজ করেন এমন অনেক বিদেশি বর্ণিল পোশাকে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

    ঢাবি ভিসি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, দুই বছর পর মঙ্গল শোভাযাত্রা করতে পেরে আমরা আনন্দিত। দুই বছর পর এবার পহেলা বৈশাখ প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে। মানুষের প্রাণের উচ্ছ্বাসে জায়গা পহেলা বৈশাখ। এটি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রাণের একটা উৎসব।

    jagonews24

    তিনি বলেন, সব সম্প্রদায়ে মানুষ মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারে বলেই এই উৎসবটি অসম্প্রদায়িক মানবিক চেতনা জাগ্রত করে। ধর্ম যার যার কিন্তু উৎসব সকলের। মানুষের মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রতি, মানবিক কল্যাণ সুদৃঢ় হোক সেটা প্রত্যাশা করি।

    ৮০ এর দশকে সামরিক শাসনের শেকল ভাঙার আহ্বানে বৈশাখ মাসের প্রথম দিনে চারুকলা থেকে শোভাযাত্রা বের হয়। পরে তা মঙ্গল শোভাযাত্রা নাম ধারণ করে। ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও পায় এই কর্মসূচি।

    মহামারি হানা দেওয়ার পর ২০২০ সালে বর্ষবরণের আয়োজন ছিল সংক্ষিপ্ত, সে বছর মঙ্গল শোভাযাত্রাও হয়নি। ২০২১ সালে মঙ্গল শোভাযাত্রা হলেও তা ছিল প্রতীকী, সেখানে সবার অংশগ্রহণের সুযোগও ছিল না।

  • আজ পহেলা বৈশাখ, বাঙালির মহামিলনের দিন

    আজ পহেলা বৈশাখ, বাঙালির মহামিলনের দিন

    যাত্রা শুরু হলো নতুন আরেকটি বাংলা বছরের। পঞ্জিকার পালাবদলে শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ। মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে যা ছিল খাজনা উপলক্ষ, তা এখন উদ্যাপনের উৎসব।

    এ নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে, উদ্যাপন করতে সমগ্র বাঙালি জাতি আজ এক কাতারে। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে বাঙালির একমাত্র অসাম্প্রদায়িক উৎসবের দিন এটি।বিশিষ্টজনদের মতে, আমাদের এখানে ধর্ম নিরপেক্ষ আর কোনো জাতীয় উৎসব নেই। অসাম্প্রদায়িকতার দিক থেকে বিবেচনা করলে পহেলা বৈশাখ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রকৃতিগতভাবেও বৈশাখ গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে ফসলি মাস, অন্যদিকে কালবৈশাখী। সব মিলিয়ে বৈশাখ উদ্দীপনামূলক এক মাস, যা আমাদের জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে।

    আবহমানকাল বাংলার গ্রামীণ জনপদে উদ্যাপিত হওয়া নববর্ষের আয়োজন এখন ছুঁয়েছে নগর জীবনে এবং নতুন মাত্রায়। সর্বত্র উদযাপিত হচ্ছে বাংলার উৎসব, উচ্চারিত হচ্ছে বাঙালিয়ানার জয়গান। কণ্ঠে কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে, ‘সবার ওপরে মানুষ সত্য। ‘

    প্রকৃতপক্ষে পহেলা বৈশাখ শুধু আমাদের একার উৎসব নয়। গোটা অঞ্চলেই বৈশাখ উদ্যাপিত হয়। সেই সঙ্গে পুরো অঞ্চলেই প্রকৃতির বদল হয়। আমরা নিজস্ব সংস্কৃতির কথা বলি, সেটার সঙ্গে প্রকৃতির সংলগ্নতা রয়েছে। এটাই আমাদের সংস্কৃতির অন্যতম উপাদান।

    বর্তমানে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে মুখ্য হয়ে উঠেছে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, যা প্রবর্তনের কৃতিত্ব প্রায় পুরোটুকুই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। তিনি শান্তিনিকেতনে প্রথম ঋতুভিত্তিক উৎসবের আয়োজন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলার প্রান্ত থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়ে বর্ষবরণের আয়োজন। ১৯৬১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্রচর্চা নিষিদ্ধ করার চেষ্টা হয়েছিল, সেই চেষ্টা প্রতিরোধেরও অংশ হয়ে গিয়েছিল বর্ষবরণের আয়োজন।

    এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম জানান, বৈশাখ প্রকৃতিতে সব রঙ নিয়ে আসে। বৈশাখ মানেই রঙের মেলা। যদিও এ সময় প্রকৃতি খুব কঠোর থাকে, যার মাধ্যমে বৈশাখ আমাদের মধ্যে সুদৃঢ় এক শক্তি তৈরি করে দেয়। বৈশাখে প্রকৃতির বৈপরীত্য থাকে। একটি কোমল, আরেকটি রূঢ় রূপ। এটা ঠিক বাঙালিদের চরিত্রের মতো। সব মিলিয়ে আমার কাছে বৈশাখ মানে আত্মআবিষ্কারের মাস। যেখানে আমাদের মেধা-মনীষার সৃজনশীল সব উপাদানই রয়েছে।

    গ্রামীণ জীবন থেকে শহুরে জীবনে বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের ব্যাপকতা লাভ করে ১৯৬৭ সালে রমনা উদ্যানের অশ্বত্থমূলে ছায়ানটের প্রভাতি আয়োজনের মধ্য দিয়ে। এ পথচলা এত সহজ ছিল না। পাকিস্তান আমলে তো বটেই, স্বাধীন বাংলাদেশেও আক্রমণের শিকার হয়েছে এ উৎসব। ২০০১ সালে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের বোমায় রক্তাক্ত হয়েছে। রমনায় বোমা হামলা করেও সংস্কৃতির অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি ধর্মীয় উগ্রবাদীরা। পরের বছর থেকে বিপুল উৎসাহে মানুষ বর্ষবরণের আয়োজনে যোগ দিয়ে আসছেন। এর সঙ্গে রয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রাও।

    সেই বার্তা নিয়েই আজ দেশব্যাপী উদ্যাপিত হবে বাংলা নববর্ষ। কায়মনে বাঙালি প্রার্থনা করবে- ‘মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা…। ‘

  • বিশ্বে করোনায় আরও ৩১৪৭ মৃত্যু, শনাক্ত ১০ লাখ

    বিশ্বে করোনায় আরও ৩১৪৭ মৃত্যু, শনাক্ত ১০ লাখ

    বিশ্বে মহামারি করোনাভাইরাসে দৈনিক শনাক্ত ও মৃত্যু দুটোই বেড়েছে। একদিনে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। দৈনিক মৃত্যুতে তালিকার শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩ হাজার ১৪৭ জন। আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে এক হাজারেরও বেশি। এতে বিশ্বজুড়ে মোট মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬২ লাখ ৯ হাজার ২০৩ জনে।

    একই সময়ে বিশ্বজুড়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১০ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪ জন। আগের দিনের তুলনায় শনাক্ত বেড়েছে প্রায় ৫ লাখ। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার ৬৫৬ জনে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় দৈনিক সংক্রমণে শীর্ষে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ২ লাখ ১০ হাজার ৬৭৬ জন এবং মারা গেছেন ১৭১ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে পূর্ব এশিয়ার এ দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৫৬ লাখ ৩৫ হাজার ২৭৪ জন শনাক্ত এবং মৃত্যু হয়েছে ১৯ হাজার ৫৮০ জনের।

    দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৯৮৯ জন। করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এ দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৮ কোটি ২১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪২ জন শনাক্ত এবং মারা গেছেন ১০ লাখ ১৩ হাজার ৪৪ জন।

    রাশিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন ২৮১ জন এবং নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ১০ হাজার ৯১০ জন। এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত ১ কোটি ৮০ লাখ ১৮ হাজার ৮২৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ লাখ ৭২ হাজার ২৪৫ জনের।

    জার্মানিতে গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬২৮ জন এবং মারা গেছেন ২৮৮ জন। এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত ২ কোটি ২৯ লাখ ৩৬ হাজার ৫১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৯৯ জনের।

    সংক্রমণের দিক থেকে তৃতীয় ও মৃত্যুর সংখ্যার তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মারা গেছেন ১৬৩ জন এবং নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ২২ হাজার ৭২৪ জন। এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ কোটি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৯২৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ৬১ হাজার ৫৫২ জনের।

    সংক্রমণের দিক থেকে দ্বিতীয় ও মৃত্যুর সংখ্যার তালিকার তৃতীয় অবস্থানে থাকা প্রতিবেশী দেশ ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত ৪৬০ জন এবং মারা গেছেন ২৩ জন। মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত ৪ কোটি ৩০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৮৮ জন এবং মারা গেছেন ৫ লাখ ২১ হাজার ৭৪৬ জন।

    যুক্তরাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত ২৪ হাজার ১৫১ জন এবং মারা গেছেন ২৮৮ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট শনাক্ত বেড়ে ২ কোটি ১৬ লাখ ৭৯ হাজার ২৮০ জন এবং মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৯৫ জনে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ইতালিতে নতুন সংক্রমণ ৮৩ হাজার ৬৪৩ জন এবং মারা গেছেন ১৬৯ জন। একই সময়ে ফ্রান্সে নতুন শনাক্ত ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৬২ জন এবং মারা গেছেন ১৫৯ জন। এছাড়া গত একদিনে জাপানে নতুন শনাক্ত ৩৩ হাজার ১৩৬ জন এবং মারা গেছেন ৩৭ জন। পোল্যান্ডে নতুন শনাক্ত ১ হাজার ৬২৩ জন এবং মারা গেছেন ৬১ জন।

    অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় তুরস্কে নতুন শনাক্ত ৬ হাজার ৬৩৫ জন এবং মারা গেছেন ২৫ জন; ইন্দোনেশিয়ায় শনাক্ত ১ হাজার ৪৫৫ জন এবং মারা গেছেন ৪৩ জন; ভিয়েতনামে নতুন শনাক্ত ২২ হাজার ৮০৪ জন এবং মারা গেছেন ২৮ জন।

    এসময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হংকংয়ে ৫৯ জন, ইরানে ২৮ জন, ডেনমার্কে ১১ জন, গ্রিসে ৬৯ জন, মেক্সিকোতে ২ জন, থাইল্যান্ডে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

  • রেলের রানিং স্টাফদের ধর্মঘট, সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ

    রেলের রানিং স্টাফদের ধর্মঘট, সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ

    বেতন-ভাতা (মাইলেজ) সংক্রান্ত দাবি মেনে না নেওয়ায় সারাদেশে ধর্মঘট পালন করছেন ট্রেন চালকরা। বুধবার (১৩ এপ্রিল) ভোর ৬টা থেকে তারা সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ রেখেছেন।

    রেলওয়ের রানিং স্টাফ (চালক-গার্ড) ও শ্রমিক-কর্মচারী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের দাবি মেনে না নেওয়ায় চালকরা কমলাপুর রেলস্টেশনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। ট্রেনের লোকো মাস্টার ও রানিং স্টাফ কর্মচারীরাও কর্ম বিরতিতে গেছেন।

    দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে বলেও জানান তিনি।

    এদিকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ধর্মঘট ডাকায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। হুট করে ট্রেন চলাচল বন্ধ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কমলাপুর রেলস্টেশনে আগত যাত্রীরা।

    জানা গেছে, রেলের চাকা সচল রাখতে একজন চালককে দিনে গড়ে ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা ট্রেন চালাতে হয়। এজন্য তাদের বাড়তি মজুরি ও পেনশনে ৭৫ শতাংশ টাকা দেওয়া হয়। বেতনের বাইরেও যত মাইল দায়িত্ব পালন করেন এবং অতিরিক্ত সময় কাজ করেন, তার জন্য নির্দিষ্ট হারে ভাতা পেয়ে থাকেন তারা। এটা রেলে ‘মাইলেজ ভাতা’ হিসেবে পরিচিত।

    সম্প্রতি রেলের অতিরিক্ত এ সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে ক্ষুব্ধ হন রেল চালকরা। এর আগে আট ঘণ্টার বেশি কাজ না করার ঘোষণাও দেন। এ কারণে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কাও দেখা দেয়।

    রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, সার্বক্ষণিক হিসেবে আখ্যায়িত করে ব্রিটিশ আমল থেকে চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালন করা চালক, গার্ড ও টিকিট চেকারদের বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়। অতিরিক্ত সময়ে প্রতি ১০০ কিলোমিটার ট্রেন চালালে দেওয়া হয় মূল বেতনের একদিনের সমপরিমাণ টাকা। পেনশনের সঙ্গে দেওয়া হয় বাড়তি ৭৫ শতাংশ টাকা।

    এসব চালক ও গার্ডদের বেতন-ভাতা দেওয়া হতো রেলওয়ের স্বতন্ত্র কাঠামোয়। কিন্তু গত বছরের ৩ ডিসেম্বর সফটওয়্যার ‘আইবাস প্লাস প্লাস’র মাধ্যমে রেলের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের (রানিং স্টাফ) আগের সেই ‘মাইলেজ’ সুবিধা থাকছে না।

    অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই সিদ্ধান্ত জানার পর মাইলেজ সুবিধা চালুর দাবিতে নিয়মিত বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সভা করেন চালক, গার্ড (ট্রেন পরিচালক) ও টিকিট চেকারেরা। তারা রেলমন্ত্রী, রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক সভাও করেন।

    jagonews24

    দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা/ছবি: সংগৃহীত

    গত ১০ এপ্রিল সিনিয়র সহকারী সচিব শামীম বানু শান্তি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপর্যুক্ত বিষয় ও সূত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, বেসমারিক কর্মচারীদের পেনশন ও আনুতোষিক হিসাবের ক্ষেত্রে মূল বেতনের সঙ্গে কোনো ভাতা যোগ করে সুযোগ নেই বিধায় রেলওয়ের রানিং স্টাফদের মূল বেতনের সঙ্গে ‘রানিং ভাতা’ পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা প্রদানের প্রস্তাবে নির্দেশক্রমে পুনরায় অর্থ বিভাগের অসম্মতি জ্ঞাপন করা হলো।

    এমন ঘোষণার পর, ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন রেলের রানিং স্টাফরা। এর প্রতিবাদে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেন তারা।

  • দুই বছরে সর্বনিম্ন শনাক্ত

    দুই বছরে সর্বনিম্ন শনাক্ত

    রাজধানীসহ সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। ফলে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২৯ হাজার ১২৪ জনই রয়ে গেছে।

    একই সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২২ জন। যা দেশে দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন শনাক্ত। এর আগে ২০২০ সালের ৫ এপ্রিল একদিনে শনাক্ত ছিল ১৮ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১৯ লাখ ৫২ হাজার ১৩১ জন।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি ও বেসরকারি ৮৭৯টি ল্যাবরেটরিতে পাঁচ হাজার ৮০০টি নমুনা সংগ্রহ ও পাঁচ হাজার ৮৬১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়ালো এক কোটি ৩৯ লাখ ২৭৪ জনে।

    নমুনা পরীক্ষার হিসাবে শনাক্তের হার শূন্য দশমিক ৩৮ শতাংশ। ২০২০ সালের ৮ মার্চ থেকে আজ মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) পর্যন্ত নতুন রোগী শনাক্তের হার ১৪ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।

    গত বছরের ১৮ মার্চ থেকে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত করোনায় মোট মৃত ২৯ হাজার ১২৪ জনের মধ্যে পুরুষ ১৮ হাজার ৫৯৪ জন ও নারী ১০ হাজার ৫৩০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুহার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

    ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৩৭৫ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে সুস্থ রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ালো ১৮ লাখ ৮৯ হাজার ৬০৫ জন। সুস্থতার হার ৯৬ দশমিক ৮০ জন।

  • বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা হেয় করার শামিল

    বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা হেয় করার শামিল

    বাংলাদেশের অর্থনীতির যে অবস্থা তাতে শঙ্কার কিছু নেই। সব সূচকে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশ কখনোই শ্রীলঙ্কার মতো হবে না। বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা হেয় করার শামিল।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এর আগে সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সামনে ‘অফশোর ট্যাক্স অ্যামনেস্টি’ ও ‘শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক প্রেজেন্টেশন তুলে ধরা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অর্থ বিভাগ উপস্থাপন করে এই প্রেজেন্টেশন।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন- অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরসহ অর্থ সচিব, ইআরডি সচিব এবং ব্যাংকিং সচিবসহ সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    বৈঠকে শ্রীলঙ্কার চলমান সংকটের কারণ ও এর প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে পর্যালোচনা করে দেখা হয় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক। প্রায় সব সূচকেই বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল আছে বলে মত প্রকাশ করা হয় বৈঠকে।

    তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ায়, দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে একটি সমন্বিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।

    সভায় উপস্থিত বক্তারা জানান, অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের বড় কোনো ঝুঁকির আশঙ্কা নেই। বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ এখনো ঝুঁকি সীমার অনেক নিচে।

    এসময় প্রধানমন্ত্রী এ ধারা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেন।

  • ২০২৩ সালের এসএসসি এপ্রিলে, এইচএসসি জুনে

    ২০২৩ সালের এসএসসি এপ্রিলে, এইচএসসি জুনে

    চলতি বছরের মতো সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নেওয়া হবে। এসএসসি-সমমান পরীক্ষা আগামী বছরের এপ্রিল মাসে এবং এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা জুনে অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৩ সালের এ দুই পাবলিক পরীক্ষা সব বিষয়ে পূর্ণ নম্বর ও সময়ে আয়োজন করা হবে।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক প্রেস কনফারেন্সে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি এসব তথ্য জানান।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ২০২৩ সালে এসএসসি/দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এসব পরীক্ষার্থী নবম শ্রেণিতে ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি। ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৪ মার্চ পর্যন্ত সপ্তাহে দুদিন করে সরাসরি ক্লাস করার সুযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে ২০ জানুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ওমিক্রনের সংক্রমণে আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। তবে গত ১৫ মার্চ থেকে তারা সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রমে সপ্তাহে ৬ দিন করে অংশগ্রহণের সুযােগ পাচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে এসব পরীক্ষার্থী নবম ও দশম শ্রেণি মিলে ১৬২ কর্মদিবস শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযােগ পাবে। (স্বাভাবিক অবস্থায় তাদের ৩১৬ কর্মদিবস ক্লাস করার কথা)।

    দীপু মনি বলেন, তারা ২০২০ সালের ৮ম শ্রেণির ফাইনাল ও জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা দিতে পারেনি। নবম শ্রেণিতেও পরীক্ষা দিতে পারেনি। পুরো সময়টা তারা টেলিভিশনের ক্লাসে এবং অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছে, অ্যাসাইনমেন্ট করেছে। এসব ক্লাস এবং অ্যাসাইনমেন্টগুলো ২০২২ সালের জন্য পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ১৫০ কর্মদিবসের পরিমার্জিত পাঠ্যসূচি অনুসারে পরিচালিত হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বর্তমানে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ২০২৩ সালের এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এই শিক্ষার্থীরা গত ৮ মাস ক্লাস করার সযোগ পায়নি। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্লাস চালু রাখা সম্ভব হলে তারা মোট ২০০ কর্মদিবস শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে (স্বাভাবিক অবস্থায় ৩৩০ দিন ক্লাস নেওয়া হয়)।

    মন্ত্রী আরও বলেন, এ সমস্ত দিক বিবেচনায় ২০২৩ সালের এসএসসি/দাখিল ও সমমান এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২২ সালের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুসারে অনুষ্ঠিত হবে। এসএসসি-সমমান পরীক্ষা এপ্রিলে এবং এইচএসসি-সমমান পরীক্ষা জুন মাসে আয়োজন করা হবে।

    তবে এসএসসি-সমমান পরীক্ষার্থীদের শ্রেণিকার্যক্রম ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ও এইচএসসি-সমমান পরীক্ষার্থীদের শ্রেণিকার্যক্রম ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত চলবে। এ বছরের উভয় পরীক্ষায় সব বিষয়ের পূর্ণ নম্বরে এবং পূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

    এসময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব ছিদ্দীকুর রহমান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক তপন কুমার সরকার, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান (রুটিন) অধ্যাপক মশিউজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

    ২০২৩ সালের এসএসসি এপ্রিলে, এইচএসসি জুনে

    এদিকে আগামী ১৯ জুন ২০২২ সালের এসএসসি ও সমমান এবং ২২ আগস্ট এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড।

    গত ১ মার্চ বোর্ডের ওয়েবসাইটে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে সই করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) তপন কুমার সরকার।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৩ এপ্রিল থেকে রেজিস্ট্রেশনধারী এসএসসি শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে অনলাইনে পরীক্ষার ফরম পূরণ করবে। প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা শুরু হতে পারে ১৯ মে থেকে।

    অপরদিকে এইচএসসি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফরম পূরণের সম্ভাব্য তারিখ ৮ জুন। এদের প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা শুরু হতে পারে ১৪ জুলাই থেকে।