Category: প্রচ্ছদ

  • রহমত শেষ হয়ে মাগফিরাতের বৃষ্টি ঝরবে আজ

    রহমত শেষ হয়ে মাগফিরাতের বৃষ্টি ঝরবে আজ

    মাহে রমজানের রহমতের দশক শেষ আজ। সন্ধ্যা থেকেই শুরু হবে মাগফিরাতের দশক। দুনিয়ার সব গোনাহগার মানুষের জন্য চিরস্থায়ী শান্তি ও মুক্তির দিশারী এ মাগফিরাতের দশক। এ দশকে বান্দার ক্ষমা লাভ আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘রমজানের প্রথম ১০ দিন রহমতের, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত লাভের এবং তৃতীয় ১০ দিন জাহান্নাম থেকে নাজাত প্রাপ্তির।’ (মিশকাত)।

    ক্ষমা লাভের আবেদন
    মোমিন ব্যক্তি সারা বছরের নেকি ও পুণ্যের ঘাটতি পূরণের জন্য প্রানান্তকর চেষ্টা-সাধনা করেন এ রমজান মাসে। যে চেষ্টা সাধনায় যাবতীয় পাপ-পঙ্কিলতা, অন্যায়, অপরাধমূলক চিন্তাভাবনা ও অসৎ কাজকর্ম থেকে ক্ষমা লাভ হয় এ দশকে। এ জন্য মোমিন বান্দা প্রথম ১০ দিন সব ধরনের অন্যায় থেকে নিজেকে মুক্ত করে আল্লাহর রহমত কামনায় অতিবাহিত করে। ফলে সে আল্লাহর রহমত তথা দয়া, করুণা ও অনুগ্রহ লাভে ধন্য হয়। এমনিভাবে রমজান মাসের দ্বিতীয় ১০ দিন অতিবাহিত করে গোনাহ থেকে ক্ষমা লাভের আবেদন নিয়ে। তখন আল্লাহ রহমতপ্রাপ্তদের গোনাহ মাফ করে দেন।

    মাগফিরাত লাভে করণীয়
    হাদিসে বর্ণিত আছে, রমজান মাসের প্রতি রাতেই একজন ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন, ‘হে পুণ্য অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে পাপাচারী! থামো, চোখ খোলো।’ তিনি আবার ঘোষণা করেন, ‘ক্ষমাপ্রার্থীকে ক্ষমা করা হবে। অনুতপ্তের অনুতাপ গ্রহণ করা হবে। প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুল করা হবে।’ সুতরাং মাগফিরাত বা ক্ষমা লাভে প্রত্যাশী এ দশকের প্রতি রাতেই গোনাহ মাফে রোনাজারি করবে। আশা করা যায়, রমজানে হাদিসের আমল আল্লাহতায়ালা কবুল করবেন।

    মাগফিরাত পেতে আমল
    মাগফিরাত প্রত্যাশী মোমিন বান্দার উচিত, আজ সন্ধ্যা থেকেই তারাবির নামাজ যথাযথ আদায় করে চোখের পানি ফেলে আল্লাহর কাছে রোনাজারি করা, অসহায় ব্যক্তিদের ইফতার করানোর মাধ্যমে গোনাহ মাফের চেষ্টা করা, রাতের ইবাদত-বন্দেগির সঙ্গে সঙ্গে রাতে আল্লাহর সাহায্য কামনায় হাদিসের ওপর আমল করা। তবেই মাগফিরাত বা গোনাহ থেকে ক্ষমা লাভ করা সম্ভব। আল্লাহতায়ালা মুসলিম উম্মাহকে মাগফিরাতের দশকে ক্ষমা লাভ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

    যাদের জন্য ধ্বংস অনিবার্য
    রমজানের রোজা হলো, গোনাহ মাফ এবং মাগফিরাত লাভের মধ্য দিয়ে চিরশান্তি, চিরমুক্তির একটি সুনিশ্চিত ব্যবস্থা, অতি নির্ভরযোগ্য এক সুযোগ। কিন্তু যে বা যারা এ সুযোগের সদ্ব্যবহার না করে, তার ধ্বংস অনিবার্য; তার বিপদ অবশ্যম্ভাবী। কেননা, ইমাম বোখারি (রহ.) রচিত আল মুফরাদ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, জিবরাইল (আ.) এসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, ‌ধ্বংস হোক ওই ব্যক্তি, যে রমজান মাস পাওয়ার পরও নিজের গোনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারল না। তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমিন’। আরেক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস পেল, কিন্তু এ মাসেও তাকে ক্ষমা করা হলো না; সে আল্লাহতায়ালার রহমত থেকে চিরবঞ্চিত ও বিতাড়িত।’ (মুসতাদরাকে হাকিম)।

    প্রথম দশকের আমলে নির্ভর ক্ষমা
    মাগফিরাত মানে ক্ষমা। নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাওয়া। খারাপ কাজগুলো পরিহার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। নিয়মকানুন মেনেই আমরা রোজা পালন করে আসছি। কিন্তু মিথ্যা কথা, কুটনামি করা, গিবত বা পরনিন্দা করা, মিথ্যা কসম খাওয়া, কুনজর বা কামুক দৃষ্টিতে তাকানো—এসব খারাপ দিকগুলো কি পরিহার করতে পেরেছি? এ খারাপ বিষয়গুলো রোজাকে ধ্বংস করে দেয়। রমজানের প্রথম দশকে আমল শুদ্ধ করার ওপর নির্ভর করে ক্ষমার সুসংবাদ।

    ক্ষমা লাভের বিশেষ দোয়া
    মাগফিরাতের দশকে ক্ষমা লাভের একটি দোয়া আমরা বেশি বেশি করতে পারি। তা হলো—
    আল্লাহুম্মা হাব্বিব ইলাইয়্যা ফি-হিল ইহসান; ওয়া কাররিহ ফিহিল ফুসুক্বি ওয়াল ই’সইয়ান; ওয়া হাররিম আলাইয়্যা ফি-হিস সাখাত্বা ওয়ান নিরানা বিআ’ওনিকা ইয়া গিয়াছাল মুসতাগিছিন।
    অর্থ : হে আল্লাহ! এ দিনে সৎ কাজকে আমার কাছে প্রিয় করে দাও। আর অন্যায় ও নাফরমানিকে অপছন্দনীয় করো। তোমার অনুগ্রহের উসিলায় আমার জন্য তোমার ক্রোধ ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হারাম করে দাও। হে আবেদনকারীদের আবেদন শ্রবণকারী!

    আল্লাহতায়ালা রমজান মাসের রোজা পালন, ইবাদাত-বন্দেগি ও দোয়া-ইস্তিগফারের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে ক্ষমা করে তাঁর আনুগত্যশীল বান্দাদের মধ্যে শামিল হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।

  • বরিশাল নগরীতে ছোট যানে বড় জট

    বরিশাল নগরীতে ছোট যানে বড় জট

    ঈদের বাজার জমে ওঠার আগেই বরিশাল নগরের সড়কে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর, আবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত দুঃসহ যানজটে নাকাল নগরবাসী।

    নগরের এক ডজন জায়গায় এই যানজট রোধে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক বিভাগকে। অবৈধ যানের কারণেই ছোট্ট এ নগরে এত জট বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

    ট্রাফিক বিভাগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঈদের আগেই বাণিজ্যিক এলাকার কয়েকটি সড়ক ব্লক করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, নগরে প্রায় ১০ হাজার অবৈধ থ্রি হুইলার রয়েছে।

    নগরীর বিএম কলেজের ছাত্রী তানজির মোস্তফা সিম্মী বগুড়া রোড থেকে চকে এসেছেন মায়ের জন্য শাড়ি কিনতে। তিনি জানান, ‘যা ভিড় বাপরে। গরম আর যানজটে দুঃসহ অবস্থা।

    তিনি বলেন, ঈদবাজারে ঢুকতে সড়কের অলিগলি কোনো জায়গা খালি নেই। গরমে যেন সিদ্ধ হওয়ার জোগাড়।

    গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় বটতলা মোড়ে গিয়ে দেখা যায় যানজট তীব্র হচ্ছে। সেখান থেকে কাকোলির মোড় পর্যন্ত ১১টার দিকে আরও বাড়ে যানজট।

    দুপুর ১২টা পার হলে ফলপট্টির মোড়, নগরভবন, জেলখানার মোড়, সদর রোড, লঞ্চঘাট, পোর্টরোড, নতুন বাজার, চৌমাথা, নথুল্লাবাদ, রুপাতলী যানজট তীব্রতর হয়ে ওঠে। ইফতারের আগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

    বরিশাল সিটি করপোরেশনের যানবাহন শাখার তথ্যমতে, ৩ বছর আগে নগরে ২ হাজার ৬৯০টি থ্রি হুইলারের লাইসেন্স দেওয়া হয়।

    বর্তমানে শহরে চলাচলরত থ্রি হুইলারের সংখ্যা ১৫ হাজারের মতো। তবে বিআরটিএ জানিয়েছে, নগরে বৈধ থ্রি হুইলার ৫ হাজারের নিচে।

    সে অনুযায়ী প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অটোরিকশা, মাহিন্দ্রা, ইঞ্জিনচালিত রিকশা এই নগরে চলাচল করছে। এতে যানজট ক্রমশই বাড়ছে। আসন্ন ঈদে এই অবস্থা আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক আ. রহিম বলেন, নগরে যানজটের অন্যতম সমস্যা পার্কিং।

    বিশেষ করে গির্জা মহল্লা, লঞ্চঘাট, সদর রোডে পার্কিং করা হয় বেশি। অবৈধ অটোরিকশার কারণে যানজট আরও বাড়ছে।

    তাঁরা চিন্তা করছেন ঈদের আগে কয়েকটি সড়ক ওয়ানওয়ে এবং চকের মতো কোনো কোনো বাণিজ্যিক সড়কে যানবাহন ঢুকতে দেবেন না।

    সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে এই নৈরাজ্যের পেছনে সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক বিভাগ এবং অবৈধ যানবাহন মালিক-চালকেরা দায়ী।

    ঈদ আসার সঙ্গে সঙ্গে চিন্তা বাড়ছে সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু বছরের পর বছর কী করে অবৈধ যান চলাচল করছে, সড়ক দখল করে পার্কিং সৃষ্টি করছে।

    তিনি মনে করেন, প্রায় ১০ হাজার অবৈধ যান নগরে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছে মালিক সমিতি।

    মধ্য রমজানের আগেই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা না হলে ঈদবাজারে আসা জনদুর্ভোগ ভয়াবহ হবে বলে তিনি মনে করেন।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, ঈদে যানজট রোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

    এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, কোনো কোনো সড়কে যান চলাচল বন্ধ করা, একমুখী যান চলাচল, সড়কে পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিকের অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন।

    এ ব্যাপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) এস এম তানভীর আরাফাত বলেন, নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া দরকার।

    নগরের ঈদবাজারে মানুষের ভিড় বাড়বে। মানুষ যেন ভোগান্তি ছাড়া কেনাকাটা করতে পারেন, সে জন্য নগরের চকবাজার, কাটপট্টি, লাইন রোড, গির্জা মহল্লার কিছু অংশে যানবাহন চলাচল বন্ধের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    এ ছাড়া ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি সংখ্যায় ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন হচ্ছে। এ জন্য যানজট পরিস্থিতি তদারকি শুরু করেছেন।

  • জনগণের টাকা লুটপাট বিএনপি-জামায়াতের বৈশিষ্ট্য: জয়

    জনগণের টাকা লুটপাট বিএনপি-জামায়াতের বৈশিষ্ট্য: জয়

    জনগণের টাকা লুটপাট এবং ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা বিএনপি-জামায়াত শাসনের বৈশিষ্ট্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

    তিনি বলেন, জনগণের টাকা লুটপাট, অসম্পূর্ণ নির্মাণ কাজ এবং ইশতেহারে দেওয়া অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ২০০১ থেকে ২০০৬ বিএনপি-জামায়াত সরকারের বৈশিষ্ট্য। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের ১০০টিরও বেশি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির মধ্যে মাত্র কয়েকটি বাস্তবতার মুখ দেখেছে।

    সোমবার (১১ এপ্রিল) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘বাংলাদেশের পিছিয়ে যাওয়ার ৫ বছর, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সবকিছু ছিল হাওয়া ভবনের দখলে’ শিরোনামের একটি পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

    সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে সব নির্মাণ প্রকল্প যেমন রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট, সরকারি ভবনের সব কাজ থেকেছে অসম্পূর্ণ। কাজের নামে হয়েছে হরিলুট আর ভাগাভাগি।

    পোস্টের সমর্থনে একটি ভিডিও যোগ করে তিনি বলেন, এই ভিডিওটির মাধ্যমে আমি দেখানোর চেষ্টা করেছি যে হাওয়া ভবন কীভাবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সব সরকারি প্রকল্প বিতরণ করতো। কীভাবে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা দুর্নীতির মাধ্যমে রাতারাতি অঢেল অর্থের মালিক হয়েছিল। কথাগুলো শুনবেন সাধারণ মানুষের মুখেই, যারা ওই সময় বিএনপি জামায়াতের এই সিন্ডিকেট বাণিজ্যের ভুক্তভোগী ছিলেন।

    ২০০১-২০০৬ মেয়াদকে ‘বাংলাদেশের পিছিয়ে যাওয়ার পাঁচ বছর’ হিসেবে উল্লেখ করে সজীব ওয়াজেদ জয় সেই সময়ের কিছু গুরুতর সমস্যার কথা বলেন। যার মধ্যে রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অত্যধিক মূল্য, ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি।

    সজীব ওয়াজেদ জয় তার পোস্টের শেষে লিখেন, আমাদের ফেসবুক পেজে, আমি পর্যায়ক্রমে, বিএনপি-জামায়াত জোটের দুঃশাসন সম্পর্কে তথ্য এবং পরিসংখ্যান জানাবো। অনুগ্রহ করে আমাদের পেজে আপনার চোখ রাখুন। মন্তব্য বক্সে আপনার মতামত শেয়ার করতে মিস করবেন না।

  • করোনা সংক্রমণ ৫০ কোটি ছুঁই ছুঁই, একদিনে মৃত্যু ২ হাজার

    করোনা সংক্রমণ ৫০ কোটি ছুঁই ছুঁই, একদিনে মৃত্যু ২ হাজার

    করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে দুই হাজার দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ লাখ পাঁচ হাজার ৮৮৮ জনে। নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার ১০৫ জন। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ কোটি ৯৯ লাখ ৭৭ হাজার ২০ জনে।

    এছাড়া একদিনে সুস্থ হয়েছেন ১১ লাখ ৭৫ হাজার ৫২৩ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থতা দাঁড়ালো ৪৪ কোটি ৯৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৪ জনে।

    মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) সকালে আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়, ২৫৮ জনের। এ নিয়ে দেশটিতে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬৭৯ জনে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৯০ হাজার ৯২৮ জনের শনাক্তের মধ্য দিয়ে তা বেড়ে হয়েছে এক কোটি ৫৪ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৮ জন।

    দৈনিক মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাশিয়া। এ সময়ে দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ২৪৮ জনের। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে তিন লাখ ৭১ হাজার ৯৬৪ জনের। ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৮৫৫ জনের। এ নিয়ে শনাক্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৮০ লাখ সাত হাজার ৯১৫ জনে।

    করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৩ হাজার ১২৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছেন ১৪৯ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো আট কোটি ২১ লাখ তিন হাজার ৬৭ জনে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ১০ লাখ ১২ হাজার ৪৬১ জন। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন সাত কোটি ৯৯ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫৬ জন।

    ভারতে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৪১ জনের এবং মারা গেছেন একজন। এ নিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো চার কোটি ৩০ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭৩ জনে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন পাঁচ লাখ ২১ হাজার ৭২২৩ জন। করোনা থেকে সেরে উঠেছেন চার কোটি ২৫ লাখ তিন হাজার ২৮৩ জন।

    এছাড়া ব্রাজিলে একদিনে মারা গেছেন ৮০ জন, ইতালিতে ১১৫ জন, জাপানে ৩৮ জন, মেক্সিকোতে পাঁচজন, থাইল্যান্ডে ১০৫ জন এবং হংকংয়ে মারা গেছেন ৫৭ জন।

    এদিকে ছয়দিন পর করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৯ হাজার ১২৪ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪৪ জন।

  • ব্যর্থ নেতৃত্ব থেকে মুক্তি চায় বিএনপি: কাদের

    ব্যর্থ নেতৃত্ব থেকে মুক্তি চায় বিএনপি: কাদের

    আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা এখন তাদের শীর্ষ নেতাদের ব্যর্থ নেতৃত্ব থেকে মুক্তি চায়।

    সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, সম্প্রতি পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো না বুঝলে, ধারণ না করলে নাকি বিএনপি নেতাদের মুক্তি হবে না। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে এখনো তারা পাকিস্তানি ভাবধারার রাজনীতি থেকে বের হতে পারেননি। বিএনপি নেতাদের অন্তরে এখনো পাকিস্তান রয়ে গেছে।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়, বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখন মিমাংসিত একটি বিষয়। কাজেই নতুন করে এ বিষয়ে কোনো দুঃস্বপ্ন দেখে লাভ নেই।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে

  • করোনায় আরও ১৬৭৪ মৃত্যু, শনাক্ত ৬ লাখ ৩০ হাজার

    করোনায় আরও ১৬৭৪ মৃত্যু, শনাক্ত ৬ লাখ ৩০ হাজার

    করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে ১৬৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৩১ হাজার ৯৪৬ জন। এছাড়া একদিনে সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৪ হাজার ২৮০ জন।

    এ নিয়ে করোনায় বিশ্বে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬২ লাখ ২ হাজার ৯৩৭ জনে। মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ কোটি ৮৯ লাখ ৭৭ হাজার ৭৫৪ জনে। এছাড়া করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৪৪ কোটি ৮১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৭৪ জন।

    রোববার (১১ এপ্রিল) সকাল আটটায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯ হাজার ৭৪৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছেন ২০ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো আট কোটি ২০ লাখ ৬২ হাজার ৯৮৯ জনে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ১০ লাখ ১২ হাজার ১৫১ জন। এছাড়া সুস্থ হয়েছেন সাত কোটি ৯৯ লাখ ৮ হাজার ৫২০ জন।

    ভারতে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৭৯৯ জনের এবং মারা গেছেন ২৭ জন। এ নিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো চার কোটি ৩০ লাখ ৩৬ হাজার ৭০ জনে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন পাঁচ লাখ ২১ হাজার ৭২২ জন। করোনা থেকে সেরে উঠেছেন চার কোটি ২৫ লাখ ২ হাজার ৪৫৪ জন।

    ওয়ার্ল্ডোমিটারসের হিসাব অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়, ৩২৯ জনের। এ সময়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে রাশিয়ায়, ২৫৯ জনের।

    গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্তও হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়, ১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৮১ জন। এ সময়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছে ফ্রান্সে, ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫৪ জন।

    এছাড়া ব্রাজিলে একদিনে মারা গেছেন ৩৯ জন, ইতালিতে ৯০ জন, জাপানে ৫৬ জন,মেক্সিকোতে ১২৫ জন, থাইল্যান্ডে ১০৮ জন এবং হংকংয়ে মারা গেছেন ৬৫ জন।

    এদিকে টানা ৬ দিন ধরে ভাইরাসটিতে মৃত্যুশূন্য দেশ। সবশেষ গত ৪ এপ্রিল দেশে করোনায় একজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

  • আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসছে বড় পরিবর্তন

    আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসছে বড় পরিবর্তন

    করোনার ধকল কাটিয়ে এবার সংগঠন গোছানোয় ব্যস্ত হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। গত দুই বছরের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে মরিয়া দলটির নেতারা। এরই মধ্যে জেলা-উপজেলা সফর করে তৃণমূল চাঙা করছেন তারা। টার্গেট সারাদেশে দলের শাখা সম্মেলন শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠান। একই সঙ্গে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বৈতরণী পার করা।

    চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে দুর্বল হতে থাকে করোনাভাইরাস। স্বাভাবিক হতে থাকে জনজীবন। এরই মধ্যে সাংগঠনিক কাজে মনোনিবেশ করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলটির বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। টিম এরই মধ্যে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সফর করছে। বেশ কিছু জেলায় সম্মেলন, বর্ধিত সভা ও কমিটি করা হয়েছে। কিছু জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের কোন্দল নিরসনে উভয়পক্ষের সঙ্গে কেন্দ্রীয় টিম বসে আলাপ-আলোচনা করেছে, নানা দিক নির্দেশনা দিয়ে শাখা সম্মেলন আয়োজনের তাগিদ দিচ্ছেন।

    আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, তাদের টার্গেট স্বল্প সময়ের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ শাখাগুলোর সম্মেলন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা। এজন্য তারা তৃণমূলে সফর করছেন। যথাসময়ে সম্মেলন হবে এবং আওয়ামী লীগ নতুন নেতৃত্ব পাবে বলেও তাদের বিশ্বাস।

    তবে তড়িঘড়ি করে কেন্দ্র থেকে কোথাও সম্মেলন, কোথাও বর্ধিত সভা বা সমাবেশ করে কমিটি গঠনের বিপক্ষে তৃণমূল। তারা বলছেন, ‘এগুলো তো সম্মেলন হচ্ছে না। সমাবেশ করে কমিটি দেওয়া হচ্ছে। নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রাধান্য পাচ্ছে জেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নেতারা। তৃণমূলের কর্মীদের মতামত তো নেওয়া হচ্ছে না।’

    তৃণমূলের নেতারা মনে করছেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় ত্যাগীরা মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। দল ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে।’

    গত কয়েকদিনের মধ্যে হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভা, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভা, ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা, খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল প্রতিনিধি সভা ও বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভাসহ কিছু শাখায় কেন্দ্রীয় নেতাদের বিচরণ ছিল।

    এরই মধ্যে সম্মেলন হয়েছে পঞ্চগড়, রাজবাড়ী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলার। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা, নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা, পঞ্চগড় সদর উপজেলা, গাজীপুরের শ্রীপুর, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট, রাজশাহীর পবা, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার, জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল, কক্সবাজার পৌর শাখা, রাজশাহীর পুঠিয়া, কিশোরগঞ্জের নিকলী, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, রাজশাহীর বাঘা, দিনাজপুরের হাকিমপুর ও চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলাসহ বেশ কিছু উপজেলা শাখার সম্মেলন হয়েছে।

    আরও সম্মেলন হয়েছে বগুড়ার শেরপুরের বিশালপুর ইউনিয়ন, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়ন, রাজনগর ইউনিয়ন ও রাজশাহী জেলা দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের।

    এছাড়াও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় বর্ধিত সভা, বরিশালের উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, রাজশাহী মহানগর বোয়ালিয়া থানা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, সিলেট বিয়ানীবাজার উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা ও হবিগঞ্জ চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা হয়েছে।

    আসন্ন জাতীয় সম্মেলন ঘিরে আওয়ামী লীগের কর্মব্যস্ততার পাশাপাশি টেবিলটকে উঠে আসছে নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি। আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে দীর্ঘদিন আছেন শেখ হাসিনা। তিনি প্রকাশ্যে বেশ কয়েকবারই নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের জন্য নেতাকর্মীদের বলেছেন। তবে গত দুই সম্মেলনে নেতাকর্মীদের দাবির মুখে ফের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

    সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েও রয়েছে আলোচনা। টানা দুবার দায়িত্ব পালন করছেন ওবায়দুল কাদের। টানা তিনবার সাধারণ সম্পাদক রাখার নজির আওয়ামী লীগে নেই। পাশাপাশি ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থাও বেশ খারাপ। যে কারণে কে হচ্ছেন নতুন সাধারণ সম্পাদক- এমন প্রশ্ন ক্ষমতাসীন দলের চায়ের টেবিলে কমন প্রশ্ন।

    সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য আলোচনায় যারা

    দলটির নেতাকর্মীদের আলোচনায় বেশ কয়েকটি নাম উঠে আসছে। তারা হলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ, ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান। এছাড়াও টানা তিনবারের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বেশ কয়েকবার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মাহবুবউল আলম হানিফের নামও আসছে জোরালোভাবে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও ড. হাছান মাহমুদও আছেন সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আলোচনায়।

    তবে আওয়ামী লীগের রেওয়াজ হচ্ছে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম প্রস্তাব করা হয় কাউন্সিলে। আর এটি হ্যাঁ/না ভোটে পাস হয়। যে কারণে প্রস্তাবনার ওপর নির্ভর করছে, কে হচ্ছেন আগামীর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও বেশ কয়েকটি পদে রদবদলসহ নতুন যুক্ত হবেন ৮-১০ জন।

    এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ বলেন, আমাদের সম্মেলন সময়মতো হবে। আমরা সেজন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। এরই মধ্যে অনেক জেলায় সম্মেলন করেছি। ডিসেম্বর বা জানুয়ারির ভেতরেই আমরা দলীয় সম্মেলন করে সব সময়মতো শেষ করবো।

    নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সব সময় সম্ভাবনা থাকে।’

    এ নিয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ একমাত্র রাজনৈতিক দল যার ভেতরে সবচেয়ে বেশি গণতান্ত্রিক চর্চা হয়। এই দলে কথা বলা যায়। নেতাকর্মীদের মতপ্রকাশের অধিকারসমৃদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। এই দলটির কাউন্সিলও যথাসময়ে হয়, হবে।

    কাউন্সিলে কাউন্সিলররা আসবেন, সেখানে আলাপ-আলোচনা হবে। মতবিনিময় হবে। কাউন্সিলররা মতামত ব্যক্ত করবেন। কাউন্সিলরদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নেতা নির্বাচিত হবেন।’

    দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘আমরা এখন তৃণমূল, উপজেলা, জেলা সম্মেলন নিয়ে কাজ করছি। আমাদের টার্গেট স্বল্প সময়ের মধ্যে সব পর্যায়ের মেয়াদোত্তীর্ণ সম্মেলন সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা। আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন যেহেতু নিয়মিত হয়, নির্ধারিত সময়ে জাতীয় সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, করোনা পরিস্থিতির ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।’

    আসছে সম্মেলনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের পরিবর্তন নিয়ে এই নেতা বলেন, ‘মূল নেতৃত্ব যেহেতু সর্বজনশ্রদ্ধেয়, সর্বজন আকাঙ্ক্ষিত এবং অপরিহার্য, সেহেতু বাকি পদগুলো পরিবর্তন বা ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ থাকা সম্পর্কে এত আগে বলার মতো কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি।’

    এ নিয়ে ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আজাদ জাহান শামীম বলেন, ‘তৃণমূলের কর্মী হিসেবে আমার জেলায় যা হচ্ছে তা কোনো সম্মেলন নয়। সমাবেশ করে কমিটি দেওয়া হচ্ছে। নেতৃত্ব নির্বাচনে ভূমিকা রাখছেন জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কমিটি। এতে তৃণমূল ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। নেতা নির্বাচনে পদবাণিজ্যেরও অভিযোগ উঠছে। দল ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে।’

    ৬৪টি জেলা ও ১২টি সিটি করপোরেশনসহ আওয়ামী লীগের মোট সাংগঠনিক জেলা কমিটি ৭৮টি। এসব জেলার আওতায় ৬২২টি উপজেলা কমিটি, ৫ হাজার ৬৪৩টি ইউনিয়ন কমিটি ও ৪৩ হাজার ৫৯৬টি ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে।

  • ১১২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের পাসপোর্ট এখন ১০৪তম

    ১১২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের পাসপোর্ট এখন ১০৪তম

    বিশ্বের মোট ১১২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান এখন ১০৪তম, যা দুর্বলতম পাসপোর্টের দিক থেকে নবম। বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ২২৭ দেশের মধ্যে মাত্র ৪০টিতে ভ্রমণ করা যায়। এর আগে ২০২০ সালে এই পাসপোর্ট নিয়ে আগে থেকে ভিসা ছাড়াই ৪১টি দেশ ভ্রমণ করতে পারতেন বাংলাদেশিরা।

    বিশ্বে পাসপোর্টের মান নির্ধারণকারী সূচক ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স-২০২২’ এর সর্বশেষ সংস্করণে এই তথ্য উঠে এসেছে। সর্বশেষ সূচকে বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে আছে কসোভো ও লিবিয়া। এতে বাংলাদেশের এক ধাপ অবনমন হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১০৩তম।

    সূচক অনুসারে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, ভূটান, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কার পাসপোর্ট বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। দেশগুলোর অবস্থান যথাক্রমে ৮৫, ৯১, ৯৮ ও ১০৩তম।

    অন্যদিকে সূচকে নেপাল, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। এই দেশগুলোর পাসপোর্টের অবস্থান যথাক্রমে ১০৬, ১০৯ ও ১১২তম।

    আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) ভ্রমণ বিষয়ক তথ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স এ সূচক তৈরি করে থাকে। পাসপোর্টের মান নির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশভিত্তিক স্কোর দেওয়া হয় এই সূচকে। একটি দেশের পাসপোর্টধারীরা আগে থেকে ভিসা ছাড়াই বিশ্বের কতটি দেশে যেতে পারেন, তার ওপর নির্ভর করে এই স্কোরিং করা হয়।

    সর্বশেষ প্রকাশিত এই সূচকে যৌথভাবে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে সিঙ্গাপুর ও জাপান। দেশ দুটির নাগরিকরা মোট ১৯২টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পান।

    এদিকে, সূচকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন রয়েছে ৩৪তম অবস্থানে। ১৪৩টি দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার রয়েছে দেশটির। অন্যদিকে, ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানো রাশিয়া আছে ৪৯তম অবস্থানে। রাশিয়ানরা ১১৭টি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন।

  • রোদে পুড়ে অপেক্ষা, তবুও মেলে না টিসিবির পণ্য

    রোদে পুড়ে অপেক্ষা, তবুও মেলে না টিসিবির পণ্য

    রামপুরা বাজারে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গাড়ি এসেছে ঠিক দুপুর ১টায়। তখন সেখানে উত্তপ্ত রোদ। সুবিধাজনক জায়গা না পেয়ে রোদের মধ্যেই দাঁড়িয়েছে গাড়িটি।

    সেখানে পণ্য নিতে আসা সালেহা বেগম বলেন, ‘এখানে কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার উপায় নেই। রোজা থেকে খুব কষ্ট হয়ে যায়। তারপরও পণ্য পাওয়া গেলে খুব উপকার হবে। কয়েকদিন দাঁড়িয়ে সিরিয়াল পাইনি।’

    ট্রাকসেল পরিচালনা করছে শেখ জেনারেল স্টোর। ডিলারের কর্মী জাহিদ আগেই ২৫০ জনকে হাতে কালি দিয়ে সিরিয়াল দিয়েছেন। ভিড়ের কারণে এখন রাজধানীর অধিকাংশ টিসিবির ট্রাকসেলে ক্রেতাদের হাতে অমোচনীয় কালি ব্যবহার করা হচ্ছে। এরপর সে অনুযায়ী পণ্য দেওয়া হয়। কিন্তু ট্রাক আসার কিছুক্ষণের মধ্যে বরাদ্দের ২৫০ জনের সিরিয়াল শেষ।

    সরেজমিনে দেখা যায়, যারা হাতে এ সিরিয়াল পেয়েছেন তারা কিছুক্ষণ লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, আবার রোদের কারণে পাশের জনকে দাঁড় করিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করছেন। রোজাদাররা এ লাইনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।

    জাহিদ বলেন, টিসিবির বরাদ্দ অনুযায়ী একটি ট্রাকসেল থেকে ২৫০ জন ক্রেতা সব ধরনের পণ্য পান। এরপরও প্রচুর মানুষ আসছে। রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। কিন্তু তাদের পণ্য দেওয়া সম্ভব হবে না। বললেও শুনছে না। বারবার পণ্যের জন্য তাগাদা দিচ্ছে।

    এখন রমজানে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় টিসিবির পণ্য কিনতে স্বল্প আয়ের মানুষের লাইন দীর্ঘ হয়েছে বেশ আগে থেকেই। চাহিদার চেয়ে কয়েকগুণ মানুষের ভিড় ও ডিলারের বরাদ্দ স্বল্পতার কারণে দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে পণ্য না পাওয়ার উৎকণ্ঠায় বিশৃঙ্খলাও দেখা দেয় এসব লাইনে। তখন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ক্রেতাদের হাতে অমোচনীয় কালিতে নম্বর বসিয়ে দেন ডিলারের কর্মীরা। ফলে সিরিয়াল শেষ হওয়ার পরও এসে অনেকে পণ্য পাচ্ছেন না।

    ভিড়ের কারণে পরপর কয়েক দিন লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে অনেক ক্রেতার। এখন অনেকে এসে নম্বর পাচ্ছেন না। পেলেও শেষ দিকে আগের নম্বরের ক্রেতারা একাধিকবার পণ্য নেওয়ায় গরমিল হয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ অপকৌশলে পণ্য নিয়ে নিচ্ছেন। ফলে শেষে নম্বর পেয়েও খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে।

    এদিকে রমজানে প্রত্যেক ডিলারকে ৫০০ লিটার তেল, ৫০০ কেজি করে চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা একজন ক্রেতার কাছে সবোর্চ্চ দুই লিটার তেল, দুই কেজি করে অন্যান্য পণ্য কিনতে পারছেন। বর্তমানে টিসিবির প্রতি কেজি ছোলা ৫০ টাকা, প্রতি লিটার তেল ১১০ টাকা, প্রতি কেজি চিনির দাম ৫৫ এবং খেজুর ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

  • রমজানে রোজাদারের নিয়মিত ৬ কাজ

    রমজানে রোজাদারের নিয়মিত ৬ কাজ

    রমজান মাসজুড়ে রোজাদারের জন্য সব সময় ৬ কাজ করা জরুরি। কারণ এটি রহমত, বরকত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসটি রোজদারের জন্য নেয়ামতে ভরপুর। প্রতিটি কাজের ব্যাপারে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যার বিনিময়ে রয়েছে গুনাহ মাফ ও সওয়াবের হাতছানি। কী সেই ৬ কাজ?

    নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসজুড় রোজাদারের জন্য ৬টি কাজ করার বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। তাহলো-

    ১. তারাবি নামাজ পড়া

    রমজানে রাতের বেলা তারাবি নামাজ পড়া। চাই খতম তারাবি, সুরা তারাবি কিংবা ঘরে একা একা আদায় করা। হাদিসে পাকে এসেছে-

    হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রমজান সম্পর্কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি রমজানে ঈমানের সঙ্গে সওয়াব আশায় ‘কিয়ামে রমজান’ অর্থাৎ তারাবির নামাজ আদায় করবে, তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।’ (বুখারি)

    ২. শেষ রাতে সেহরি খাওয়া

    রমজানের রোজা পালনের জন্য শেষ রাতে সেহরি খাওয়া আবশ্যক। এটি নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ। অনেকেই তারাবি পড়ে গভীর রাতে কিছু খেয়ে শুয়ে পড়ে। সকালে ওঠে ফজর নামাজ আদায় করে। এমনটি করলে সেহরির বরকত অর্জিত হবে না। সেহরির বরকত সম্পর্কে হাদিসে একাধিক বর্ণনা এসেছে-

    > হজরত আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা শেষ রাতে খাবার খাও। তাতে বরকত রয়েছে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

    > হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,নিশ্চয়ই আল্লাহ ও ফেরেশতারা সেহরি গ্রহণকারীর জন্য প্রার্থনা করেন।’ (তাবারানি ও ইবনে হিব্বান)

    > হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সেহরি খাওয়ায় বরকত আসে। সুতরাং তোমরা তা (সেহরি) খেতে ছেড়ো না; যদিও তোমরা তাতে এক ঢোক পানিও খাও। কেননা যারা সেহরি খায়, তাদের জন্য আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা দোয়া করতে থাকেন।’ (মুসনাদে আহমাদ)

    > হজরত আমর বিন আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমাদের এবং আহলে কিতাবের (আমাদের আগে আসমানি কিতাব পাওয়া ইয়াহুদি-খ্রিষ্টান) মধ্যে পার্থক্য হলো- সেহরি খাওয়া। আর আমাদের তো ভোর (সোবহে সাদেক) হওয়ার আগ পর্যন্ত খাওয়া ও পান করার অনুমতি রয়েছে।’ (মুসলিম)

    ৩. খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা

    ইফতারের সময় হলে খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করা। খেজুর না পেলে সাদা পানি পান করে ইফতার শুরু করা। হাদিসে এসেছে-

    > ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেজুর খেয়ে (মাগরিবের) নামাজের আগে রোজা ভঙ্গ করতেন।’ (আবু দাউদ)

    > নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে; সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেননা তাতে বরকত (কল্যাণ) রয়েছে। আর যদি খেজুর না পাওয়া যায় তবে সে যেন পানি দ্বারা ইফতার করে। কেননা তা পবিত্রকারী। (তিরমিজি, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারেমি, মিশকাত)

    ৪. ইফতারে দেরি না করা

    ইফতারের সময় হওয়ার পর ইফতার করতে দেরি না করা। অর্থাৎইফতারের সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করা। হাদিসে পাকে এসেছে-

    নবিজী সাল্লাল্লাহু আলঅইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মানুষ ততদিন কল্যাণের পথে থাকবে, যতদিন তারা (সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে) তাড়াতাড়ি ইফতার শুরু করবে।’ (মুসলিম)

    ৫. মিথ্যা ও মন্দ পরিহার করা

    রোজাদার ব্যক্তির জন্য মিথ্যা কথা বলা এবং মন্দ কাজ পরিহার করা জরুরি। রোজা রেখে মিথ্যা কথা পরিহার ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা ঈমানের অন্যতম দাবি। হাদিসে পাকে এসেছে-

    নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকে না, তার পানাহার ত্যাগ করায় (রোজা রাখায় আল্লাহর) কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বুখারি)

    ৬. মন্দ কথার উত্তম জবাব দেওয়া

    যে কোনো মন্দ কথায় উত্তম জবাব দেওয়া। আল্লাহ তাআলা নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ আমলের নির্দেশ দিয়েছেন এভাবে-

    اِدۡفَعۡ بِالَّتِیۡ هِیَ اَحۡسَنُ السَّیِّئَۃَ

    ‘(হে রাসুল!) আপনি ভালো দ্বারা মন্দের মুকাবিলা করুন।’ (সুরা মুমিনুন : আয়াত ৯৬)

    রোজাদারের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি মন্দ কথার জবাবে ভালো কথায় উত্তর দেয়া। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

    ‘কেউ যদি মন্দ কথা বলে, (কোনো রোজাদারকে) রাগানোর চেষ্টা করে, তখন তাকে এ কথা বলা যে, ‘আমি রোজাদার।’ (নাসাঈ)

    সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত রমজানব্যাপী এ কাজগুলো যথাযথভাবে আদায় করে রমজানের অবিরত রহমত বরকত, মাগফেরাত ও নাজাত পাওয়ার চেষ্টা করা। কোরআন-সুন্নাহর উপর যথাযথ আমল করা।

    আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত আমলগুলো যথাযথভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।