Category: প্রশাসন

  • যে দুটি বিষয়ে মিন্নির সঙ্গে কথা বলেছেন আইনজীবী

    যে দুটি বিষয়ে মিন্নির সঙ্গে কথা বলেছেন আইনজীবী

    বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার আসামি তাঁর স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। এর ফলে জামিনে মুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বরগুনা আদালতে মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম। আজ শনিবার দুপুরে বরগুনা কারাগারে মিন্নির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ কথা বলেন তিনি।

    আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ যদি আপিল করে এবং আপিলের শুনানি হতে যদি সময় লাগে তাহলে আদালত মিন্নির জামিনের আদেশ স্থগিত করতে পারে অথবা যদি আপিল করার সঙ্গে সঙ্গে শুনানি হয় তাহলে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নামঞ্জুরও করতে পারেন। এ ছাড়া মিন্নির জামিনে মুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আদালত কোনো আদেশ না দিয়ে শুনানির দিন ধার্য করতে পারেন। এটা সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়।’

    কারাগারে মিন্নির সঙ্গে কী ধরনের কথা হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, ‘কারাগারে মিন্নির সঙ্গে আমার দুটি বিষয়ে কথা হয়েছে। এক হলো, উচ্চ আদালত মিন্নির জামিনের আদেশ দিয়েছেন। এই আদেশে অনুযায়ী কারাগার থেকে মিন্নির মুক্ত হতে আরো কয়েকটি আইনি প্রক্রিয়া ও দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এর জন্য আরো দুই থেকে চারদিন সময় লাগবে। এজন্য মিন্নি যাতে হতাশ না হন, এটা আমি মিন্নিকে বুঝিয়ে বলেছি।’

    ‘মিন্নির জামিন আদেশে গণমাধ্যমে কথা না বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মিন্নি যাতে কোনোভাবেই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলে, এ বিষয়টি আমি তাঁকে বুঝিয়ে বলেছি।’ বলেন মাহবুবুল বারী আসলাম।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে স্থায়ী জামিন দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালত আদেশে বলেন, এই সময়ে মিন্নি তাঁ বাবার জিম্মায় থাকবেন এবং তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না।

    মিন্নির জামিনের পর সংশ্লিষ্ট কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সরোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিন্নি জামিন পাওয়ায় আমরা মর্মাহত। এই জামিনের রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

    ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, ‘যেহেতু মিন্নি মহিলা এবং তাঁর বাবার জিম্মায় থাকবেন, তাই তাঁকে জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে এ জামিনের তিনি অপব্যবহার করবেন না এবং মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। কিন্তু তিনি যদি জামিনের শর্ত অপব্যবহার করেন, তাহলে বিচারিক আদালত তাঁর জামিন বাতিল করতে পারবেন।’

    সরোয়ার হোসেন বলেন, মিন্নির বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ ছিল। তিনি যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন, সেখানে নিজে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির ঘটনার আগে পরে ১৩ বার ফোনালাপও হয়েছে। যাই হোক, আদালত তবু তাঁকে জামিন দিয়েছেন। আমরা হাইকোর্টে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

    এর আগে আজ দুপুর ২টার দিকে বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তাঁর স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে স্থায়ী জামিন দেন হাইকোর্ট। আদালত আদেশে বলেন, এই সময়ে তিনি বাবার জিম্মায় থাকবেন এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না। আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই আদেশ দেন।

    বুধবার আলোচিত এই মামলাটির শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজকে দিন নির্ধারিত ছিল। মিন্নির পক্ষে জামিন শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না, এম আমিন উদ্দিন ও মনসুর হক চৌধুরী। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারোয়ার হোসেন।

    রায় শেষে আইনজীবী জেড আই খান পান্না আদালত চত্বরে গণমাধ্যমের কাছে এ ব্যাপারে ব্রিফ করেন। তখন তিনি জানান, এই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার আগেই মিন্নিকে নিয়ে পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলনের ব্যাপারেও আদালত নির্দেশনা দিয়েছেন। তাতে আদালত বলেছেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা আইনসম্মত নয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্রিফিং নিয়ে নীতিমালা তৈরির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    পাশাপাশি মামলাটি তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় মিন্নির বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ায় পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে বিভাগীর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

    গত ২০ আগস্ট হাইকোর্টের এই বেঞ্চ আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে এক সপ্তাহের রুল জারি করেছিলেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ২৮ আগস্ট কেস ডকেট নিয়ে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

    এ ছাড়া বরগুনার পুলিশ সুপারকে মামলার তদন্ত চলার সময়ে মিন্নি দোষ স্বীকার করেছেন মর্মে মিডিয়ার সামনে বক্তব্য দেওয়ায় এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

    গত ৮ আগস্ট আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন আবেদন ফেরত দেন বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। ওই দিন হাইকোর্ট বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে জামিন দেননি। জামিন আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল দিতে চাইলে মিন্নির আইনজীবীরা তাতে সম্মত হননি। পরে আদালত জামিন আবেদন ফেরত দেন।

    এর আগে গত ৫ আগস্ট মিন্নির জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। গত ৩০ জুলাই মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

    ২২ জুলাই বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে প্রথমবার মিন্নির জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মো. মাহবুবুল বারী আসলাম। ওই দিনই শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

    পরদিন ২৩ জুলাই ‘মিস কেস’ দাখিল করে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামানের আদালতে ফের জামিনের আবেদন করেন মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম। পরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের নথি তলব করে ৩০ জুলাই জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।

    সেদিন তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে উভয় পক্ষের শুনানি চলতে থাকে। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির আদালতে উপস্থিত হলে এ হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়া হয়। সবার উপস্থিতিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ল্যাপটপে হত্যাকাণ্ডের আগের ও পরের ভিডিও ফুটেজ দেখান। এ ছাড়া মিন্নির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিসহ হত্যার আগে ও পরে প্রধান আসামি নয়ন বন্ডসহ অন্যান্য আসামির সঙ্গে মিন্নির কললিস্টের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

    গত ২৬ জুন বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে নিয়ে বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে ফেরার পথে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ একদল যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালায়। তারা ধারালো দা দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় মিন্নি হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন; কিন্তু তাদের থামানো যায়নি। খুনিরা রিফাত শরীফকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে চলে যায়। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিফাতের মৃত্যু হয়।

    এ হত্যার ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ পরের দিন সকালে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় মামলা করেন। মিন্নি ছিলেন সেই মামলার এক নম্বর সাক্ষী। পরে ১৬ জুলাই রাতে এ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। পরদিন বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী মিন্নির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

  • বরিশালে ধর্ষণ মামলার আসামী থেকে নান্টুর ইয়াবা ডন হবার কাহিনী

    বরিশালে ধর্ষণ মামলার আসামী থেকে নান্টুর ইয়াবা ডন হবার কাহিনী

    গত বুধবার বিশ হাজার পিস ইয়াবাসহ দু’জন মাদক কারবারীকে আটক করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ। এরমধ্যে চরমোনাইর গাজী মাকসুদুল আলম নান্টু হচ্ছে বরিশালের ইয়াবা ডন। শধু তাই নয়। বিএম কলেজের ছাত্রী ধর্ষন মামলায় গাজী নান্টু দশ বছর সাজাও ভোগ করেছে। বনেদী পরিবার এবং ধনাঢ্য বাবার সন্তান নান্টু সব সময়ই বেপরোয়া ছিলো।

    এরই ধারাবাহিকতায় গাজী মাকসুদুল আলম নান্টু জড়িয়ে যায় মাদক ব্যবসায় এবং হয়ে ওঠে ইয়াবা ডন! মূল ব্যবসা আড়াল করার জন্য গাজী নান্টু কড়াপুর ইউনিয়নে মাছের ঘের এবং বরিশাল থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকার সঙ্গেও জড়িত হয়েছে।
    বরিশালের ইয়াবা ডন গাজী মাকসুদুল আলম নান্টুর পৈত্রিক বাড়ী বরিশাল সদর উপজেলার ডিঙ্গামানিক গ্রামে, বুখাইনগর স্কুলের পশ্চিম পাশে। তারা তিন ভাই ও চার বোন। তার মৃত বাবা গাজী আব্দুল মান্নান প্রথম জীবনে তহসীলদার হিসেবে চাকুরী করেছেন। এ সময় তিনি বিপুল পরিমান নগদ টাকা এবং জমির মালিক হয়েছেন। এক পর্যায়ে চাকুরী ছেড়ে তিনি ঠিকাদারী ব্যবসা শুরু করেন। সুইজ গেট নির্মানের ক্ষেত্রে গাজী আবদুল মান্নান ছিলেন নামকরা ঠিকাদার। গ্রামের বাড়ি ছাড়াও মহানগরীর নতুন বাজার এলাকায় রয়েছে তার বিশাল বাড়ি।

    দুই বছর আগ পর্যন্ত শহরের এই পৈত্রিক বাড়িতেই থাকতো ইয়াবা ডন গাজী মাকসুদুল আলম নান্টু। এ সময় সে মেয়েদের উত্যক্ত করতো। এক পর্যায়ে বিএম কলেজের ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় আসামী হয় গাজী নান্টু। চাঞ্চল্যকর এমামলায় তার দশ বছরের সাজা হয়। এবং কোন আদালতই তাকে আর রেহাই দেয়নি। ফলে তাকে দশ বছর কারাভোগ করতে হয়েছে। কলেজ ছাত্রী ধর্ষন মামলার প্রাথমিক বিচারক ছিলেন ম্যাজিষ্ট্রেট স্মৃতিরানী ঘরামী।

    ইয়াবা ব্যবসা রমরমা হবার পর প্রায় দুই বছর আগে গাজী মাকসুদুল আলম নান্টু শহরের বাড়ী থেকে গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। সেখানে সে একটি দৃষ্টিন্দন ছোট ভবনও নির্মান করে। এই ভবনেই সে থাকতো। তাকে কেউ বাড়ির বাইরে বের হতে দেখেনি। সূত্র মতে, বুখাইনগর লঞ্চঘাট থেকে মেেিহন্দিগঞ্জ, ভোলা এবং রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ করা সুবিধার জন্যই সে শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে আস্তানা গেড়েছিল গাজী নান্টু। তারই এই আস্তানায় গভীর রাতে অনেকের আনাগোনা ছিলো।
    সূত্রমতে, তার মাদকের প্রধান চালান আসতো নবগ্রাম সড়ক হয়ে। মাদকের চালান আসার সুবিধার জন্য সে কড়াপুর ইউনিয়নে একটি মাছের ঘেরও গড়ে তুলেছে। অনেক সময় মাছের এই ঘেরেই মাদক মজুদ করা হতো। এই মাছের ঘের দেখাশুনার দায়িত্বে রয়েছেন গাজী নান্টুর ভগ্নিপতি।

    মাদক ব্যবসা আড়াল করার জন্য মাছের ঘের করা কেবল নয়, বরিশাল থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকার সঙ্গেও জড়িত হয়েছে গাজী নান্টু। আবার এ পত্রিকার মালিকেরও আলাদা মাদক ব্যবসা রয়েছে। বরিশালের পুলিশ ও প্রশাসেনের বিভিন্ন অফিসে এই পত্রিকাটি বেশ চোখে পড়ে। শুধু গাজী নান্টু নয়, এই দৈনিক পত্রিকাটির সঙ্গে কড়াপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা জড়িত। এ পত্রিকার মালিকের কুয়াকাটা এলাকায়ও অনেক বিনিয়োগ আছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। সূত্রমতে, এ পত্রিকাটি কেন্দ্র করে অনেক মাদক ব্যবসায়ীর শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।

  • কারাগারে মিন্নির সাথে দেখা করলেন তার আইনজীবী

    কারাগারে মিন্নির সাথে দেখা করলেন তার আইনজীবী

    মিন্নির সাথে দেখা করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারী আসলাম। মিন্নির সাথে দেখা করে এসে তিনি বলেন, কারাগারে মিন্নির সাথে তাঁর দুটি বিষয়ে কথা হয়েছে। উচ্চ আদালত মিন্নির জামিনের আদেশ দিয়েছেন। এই আদেশে অনুযায়ী কারাগার থেকে মিন্নির মুক্ত হতে আরো কয়েকটি আইনি প্রক্রিয়া ও দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এই আইনি প্রক্রিয়া ও দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন হতে আরো দুই থেকে চার দিন সময় লাগবে। এ জন্য মিন্নি যাতে হতাশাগ্রস্ত না হয়, এটা তিনি মিন্নিকে বুঝিয়ে বলেছেন।

    তিনি আরো বলেন, মিন্নির জামিন আদেশে গণমাধ্যমে কথা না বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে কথা বললে মিন্নির জামিন বাতিল হয়ে যাবে। তাই জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মিন্নি যাতে কোনোভাবেই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলে, এ বিষয়টি তিনি মিন্নিকে বুঝিয়ে বলেছেন।

    তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ যদি আপিল করেন এবং আপিলের শুনানি হতে যদি সময় লাগে তাহলে আদালত মিন্নির জামিনের আদেশ স্থগিত করতে পারেন অথবা যদি আপিল করার সাথে সাথে শুনানি হয় তাহলে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নামঞ্জুরও করতে পারেন। অথবা মিন্নির জামিনে মুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আদালত কোনো আদেশ না দিয়ে শুনানির দিন নির্ধারণ করতে পারেন এবং এটা সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়।

  • মিন্নির কারামুক্ত হতে দু-চারদিন সময় লাগবে : আইনজীবী

    মিন্নির কারামুক্ত হতে দু-চারদিন সময় লাগবে : আইনজীবী

    বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সঙ্গে কারাগারে দেখা করেছেন তার আইনজীবী। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মিন্নির সঙ্গে দেখা করার জন্য আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম কারাগারে প্রবেশ করেন। এরপর মিন্নির সঙ্গে দেখা করে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি কারাগার থেকে বের হন।

    মাহবুবুল বারী আসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মিন্নির সঙ্গে আমার দুটি বিষয়ে কথা হয়েছে। উচ্চ আদালত মিন্নির জামিনের আদেশ দিয়েছেন। এ আদেশ অনুযায়ী কারাগার থেকে মিন্নির মুক্ত হতে আরও কয়েকটি আইনি প্রক্রিয়া ও দাফতরিক কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এ আইনি প্রক্রিয়া ও দাফতরিক কাজ সম্পন্ন হতে দু-চারদিন সময় লাগবে। এজন্য মিন্নি যাতে হতাশাগ্রস্ত না হন, এটা আমি মিন্নিকে বুঝিয়ে বলেছি।

    তিনি আরও বলেন, মিন্নির জামিন আদেশে গণমাধ্যমে কথা না বলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গণমাধ্যমে কথা বললে মিন্নির জামিন বাতিল হবে। তাই জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মিন্নি যাতে কোনোভাবেই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলেন, বিষয়টি আমি মিন্নিকে বুঝিয়ে বলেছি।

    আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ যদি আপিল করেন এবং আপিলের শুনানি হতে যদি সময় লাগে তাহলে আদালত মিন্নির জামিনের আদেশ স্থগিত করতে পারেন অথবা যদি আপিল করার সঙ্গে সঙ্গে শুনানি হয় তাহলে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নামঞ্জুরও করতে পারেন। আবার মিন্নির জামিনে মুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আদালত কোনো আদেশ না দিয়ে শুনানির দিন নির্ধারণ করতে পারেন। এগুলো সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় দুই শর্তে স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। যে দুই শর্তে মিন্নিকে জামিন দেয়া হয়েছে তা হলো- মিন্নি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না এবং তাকে তার বাবার জিম্মায় থাকতে হবে। জামিনে থাকা অবস্থায় মিন্নি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললে তার জামিন বাতিল হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করেন হাইকোর্ট।

    গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। যার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে দেশে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

    এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয় রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে। কিন্তু মিন্নির শ্বশুর মামলার ১৮ দিন পর গত ১৩ জুলাই এই হত্যাকাণ্ডে মিন্নি জড়িত এমন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করার পর মামলাটির তদন্ত নাটকীয় মোড় নেয়। পরে এ মামলায় গ্রেফতার করা হয় মিন্নিকে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত ২ জুলাই এ মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।

  • বরিশালে এসআই ও তার ছেলের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা

    বরিশালে এসআই ও তার ছেলের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা

    বরিশালে চেক দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে পুলিশের এসআই ও তার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

    পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের স্টেনোগ্রাফার দীপক চন্দ্র গাইন বৃহস্পতিবার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক দুটি মামলা করেন। আদালতের বিচারক কবির উদ্দিন প্রামাণিক মামলা দুটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দেন।

    সমনপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম জালাল নগরীর রূপাতলী আদর্শ সড়কের বাসিন্দা এবং মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কাজীরহাট থানায় কর্মরত আছেন। তার ছেলে ইমরান মাসুদ।

    আদালত সূত্র জানায়, চাকরির পাশাপাশি ব্যবসায়িক কাজের জন্য ফেরত দেওয়ার শর্তে দীপক চন্দ্র গাইনের কাছ থেকে সিরাজুল ইসলাম জালাল পাঁচ লাখ ও তার ছেলে ছয় লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ টাকা ধার নেন। পরে টাকা ফেরত চাইলে জালাল গত ৭ জানুয়ারি এবং তার ছেলে ১৫ এপ্রিল উল্লিখিত টাকার বিপরীতে পৃথক দুটি চেক দেন দীপক চন্দ্র গাইনকে। ২৬ জুন চেক দুটি ব্যাংকে জমা দেওয়া হলে পর্যাপ্ত আমানত না থাকায় তা প্রত্যাখ্যাত হয়। গত ১৮ জুলাই ওই দু’জনকে আইনি নোটিশ দেওয়ার পরও টাকা পরিশোধ না করলে আদালতে মামলা করেন দীপক চন্দ্র গাইন।

  • বরিশালে ইয়াবাসহ মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার

    বরিশালে ইয়াবাসহ মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার

    বরিশাল নগরীতে অভিযান চালিয়ে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ নাসির উদ্দিন সোহেল ওরফে মীর সোহেল নামে এক মাদক বিক্রতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (৩০ আগস্ট) গভীর রাতে তাকে শহরের নতুন বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

    পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার নাসির উদ্দিন সোহেল ওরফে মীর সোহেল চিহ্নিত একজন মাদক বিক্রেতা। সম্প্রতি পুলিশের হাতে ২০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার নান্টুর সহযোগী এই সোহেল।

    এই সফল অভিযানে নেতৃত্ব দেন বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সমিরণ মণ্ডল, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শরিফ, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সুমন এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বিধান চন্দ্র গণপতি।

    এসআই সমিরণ মণ্ডল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর নতুন বাজার এলাকা থেকে নাসির উদ্দিন সোহেল ওরফে মীর সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ৩০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

    এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, সোহেল সম্প্রতি অভিযানে ২০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতারকৃত নান্টুর সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছিল।

    এই মাদক উদ্ধারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কোতয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।

  • কাঁদলেন শাহান আরা কাঁদালেন সবাইকে

    কাঁদলেন শাহান আরা কাঁদালেন সবাইকে

    শোকাবহ আগষ্টের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে এই প্রথম বরিশালের ইতিহাসে বৃহত স্মরণ সভার আয়োজন করেছে বরিশাল জেলা প্রশাসন। আজ শনিববার সকাল ১১টায় নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে এ দোয়া মোনাজাত, স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    বরিশাল জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমানের সভাপতিত্বে স্মৃতিচারণমূলক সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও শহীদ আঃ রব সেরনিয়াবাতের পুত্র আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি।

    অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আঃ রব সেরনিয়াবাতের গুলিবিদ্ধ হওয়া পুত্রবধূ ও বরিশাল জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহান আরা বেগম।

    এসময় স্মৃতিচারণমূলক সভায় প্রধানন আলোচকের বক্তব্যে শাহান আরা বেগম নিজে কাঁদলেন এবং উপস্থিত সবাইকে কাঁদালেন। তিনি বললেন সে দিনের সেই স্মৃতি আজও আমাকে কাঁদায়। এক মুহুর্তের জন্য সে দিনের সেই নির্মম সেই হত্যাকাণ্ডের কথা ভুলতে পারিনা।

    তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের সেই নির্মম হত্যাকাণ্ড চালানোর সময় আমার গায়ে ৩টা গুলি লাগে যা এখনও আমি শরীরে বহন করে চলছি। হত্যাকারীদের গুলিতে আমর শিশু সন্তান সুকান্ত বাবু মারা গেলেও আমার কোলে থাকা আজকের বরিশালি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বেঁচে যায়। আমার গায়ে গুলি লাগায় আমি রক্তাক্ত হয়ে পড়ে থাকার কারনে হত্যাকারীরা বুজতে পেরেছিলো আমি মারা গেছি। কিন্তু আপনাদের দোয়ায় আমি আজও বেঁচে আছি। বেচে আছে আমার সন্তান সাদিক আবদুল্লাহ।

    এসব কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। দীর্ঘ সময় বক্তব্য থামিয়ে কান্না শেষ করে আবার বক্তব্য শুরু করেন। আবার কাঁদেন। কান্না যেন থামাতে পারছিলেন না তিনি। তার কান্না দেখে উপস্থিত সকলের চোঁখ থেকে পানি পড়তে শুরু করে। উপস্থিত কেউই চোঁখের পানি ধরে রাথতে পারলেন না। সবাই যেন স্তব্ধ হয়ে গেছিলেন। কোন সাড়া শব্দ ছিলোনা। সবাই সুনছিলেন তার কথা। এমন নির্মমতার কথা যেন কেউ এর আগে কখনও শোনেন নি।

  • ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত খালেদা জিয়ার বিচার চাইলেন হাসানাত আবদুল্লাহ

    ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত খালেদা জিয়ার বিচার চাইলেন হাসানাত আবদুল্লাহ

     

    স্টাফ রিপোর্টার//রেজয়ানুর রহমান সফেন:

    ১৫ আগস্টের সেই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া জড়িত ছিলেন বলে জানান স্মৃতিচারণমূলক সভা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী পদমর্যাদা) আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের জন্য খালেদা জিয়ার বিচারও চাইলেন তিনি।

    তিনি বলেন, বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সবাইকে হত্যা। ঘাতকেরা চেয়েছিলো বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে। কিন্তু অলৈকিকভাবে বেচে যাই আমারা কয়েকজন। পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যদেরকেই হত্যা করা হয় সেদিন।

    তিনি আরও বলেন, সেদিনের সেই হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা সরাসরি জড়িত ছিলো তাদের নিয়ে মন্ত্রীসভা কারা গঠন করেছে সেটা আপনারাই জানেন। হত্যাকাণ্ডের পর আওয়মী লীগের সকল সভা সমাবেশ বন্ধেরও ঘোষনা দিয়েছিলেন তারা। বঙ্গবন্ধুর পরিবাবের সকল সদস্যকে হত্যা করতে পেরেছ ভেবে তখন ঘাতকরা উল্লাসে মেতে ওঠে।

    শোকাবহ আগষ্টের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে এই প্রথম বরিশালের ইতিহাসে বৃহত স্মরণ সভার আয়োজন করেছে বরিশাল জেলা প্রশাসন। আজ সকাল ১১টায় নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে দোয়া মোনাজাত, স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    বরিশাল জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমানের সভাপতিত্বে স্মৃতিচারণমূলক সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও শহীদ আঃ রব সেরনিয়াবাতের পুত্র আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি।

    অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আঃ রব সেরনিয়াবাতের গুলিবিদ্ধ হওয়া পুত্রবধূ ও বরিশাল জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহান আরা বেগম।

    এসময় স্মৃতিচারণমূলক সভায় প্রথান আলোচকের বক্তব্যে শাহান আরা বেগম নিজে কাঁদলেন এবং উপস্থিত সবাইকে কাঁদালেন। তিনি বললেন সে দিনের সেই স্মৃতি আজও আমাকে কাঁদায়। এক মুহুর্তের জন্য সে দিনের সেই নির্মম হত্যা কাণ্ডের কথা ভুলতে পারিনা।

    তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের সেই নির্মম হত্যাকাণ্ড চালানোর সময় আমার গায়ে ৩টা গুলি লাগে যা এখনও আমি শরীরে বহন করে চলছি। হত্যাকারীদের গুলিতে আমর শিশু সন্তান সুকান্ত বাবু মারা গেলেও আমার কোলে থাকা আজকের বরিশালি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বেঁচে যায়। আমার গায়ে গুলি লাগায় আমি রক্তাক্ত হয়ে পড়ে থাকার কারনে হত্যাকারীরা বুজতে পেরেছিলো আমি মারা গেছি। কিন্তু আপনাদের দোয়ায় আমি আজও বেঁচে আছি। বেচে আছে আমার সন্তান সাদিক আবদুল্লাহ।

    এসব কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। দীর্ঘ সময় বক্তব্য থামিয়ে কান্না শেষ করে আবার বক্তব্য শুরু করেন। আবার কাঁদেন। কান্না যেন থামাতে পারছিলেন না তিনি। তার কান্না দেখে উপস্থিত সকলের চোঁখ থেকে পানি পড়তে শুরু করে। উপস্থিত কেউই চোঁখের পানি ধরে রাথতে পারলেন না। সবাই যেন স্তব্ধ হয়ে গেছিলেন। কোন সাড়া শব্দ ছিলোনা। সবাই সুনছিলেন তার কথা। এমন নির্মমতার কথা যেন কেউ এর আগে কখনও শোনেন নি।

  • বঙ্গবন্ধু উদ্যানে শোকাবহ আগস্ট স্মরনে দোয়া স্মৃতিচারন সভা অনুষ্ঠিত হয়

    বঙ্গবন্ধু উদ্যানে শোকাবহ আগস্ট স্মরনে দোয়া স্মৃতিচারন সভা অনুষ্ঠিত হয়

    তানজিম হোসাইন রাকিব:

    শোকাবহ আগষ্টের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে এই প্রথম বরিশালের ইতিহাসে বৃহত স্মরণ সভার আয়োজন করেছে বরিশাল জেলা প্রশাসন। আজ সকাল ১১টায় নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে দোয়া মোনাজাত, স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    বরিশাল জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমানের সভাপতিত্বে স্মৃতিচারণমূলক সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও শহীদ আঃ রব সেরনিয়াবাতের পুত্র আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি।

    অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আঃ রব সেরনিয়াবাতের গুলিবিদ্ধ হওয়া পুত্রবধূ ও বরিশাল জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহান আরা বেগম।

    গেষ্ট অব অনার হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীম, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, পানিসম্পদ মন্ত্রনালয় ও সংসদ সদস্য, বরিশাল ৫( বরিশাল সদর )।

    বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ,জনাব পংকজ নাথ, মাননীয় সংসদ সদস্য (বরিশাল ৪)। জনাব গোলাম কিবরিয়া টিপু, মাননীয় সংসদ সদস্য,  (বরিশাল ৩) ।বেগম নাসরিন জাহান রত্না,সংসদ সদস্য (বরিশাল ৬)। এড: সৈয়দা রুবিনা আক্তার মিরা, সংসদ সদস্য মহিলা সংরক্ষিত আসন। জনাব মুহম্মদ ইয়াসিন চৌদুরী, বিভাগীয় কমিশনার, বরিশাল বিভাগ বরিশাল।জনাব মো: শফিকুল ইসলাম, বিপিএম, পিপিএম, (বার),উপ মহা পুলিশ পরিদর্শক বরিশাল রেন্জ বরিশাল। জনাব মো: শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম (বার), পুলিশ কমিশনার বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ, বরিশাল।

    উক্ত দোয়া ও স্মৃতিচারনমূলক সভায় মুখ্য আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন , জনাব সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, মাননীয় মেয়র,বরিশাল সিটি কর্পোরেশন।

    এসময় স্মৃতিচারণমূলক সভায় প্রথান আলোচকের বক্তব্যে শাহান আরা বেগম নিজে কাঁদলেন এবং উপস্থিত সবাইকে কাঁদালেন। তিনি বললেন সে দিনের সেই স্মৃতি আজও আমাকে কাঁদায়। এক মুহুর্তের জন্য সে দিনের সেই নির্মম হত্যা কাণ্ডের কথা ভুলতে পারিনা।

    তিনি বলেন, ১৫ আগস্টের সেই নির্মম হত্যাকাণ্ড চালানোর সময় আমার গায়ে ৩টা গুলি লাগে যা এখনও আমি শরীরে বহন করে চলছি। হত্যাকারীদের গুলিতে আমর শিশু সন্তান সুকান্ত বাবু মারা গেলেও আমার কোলে থাকা আজকের বরিশালি সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বেঁচে যায়। আমার গায়ে গুলি লাগায় আমি রক্তাক্ত হয়ে পড়ে থাকার কারনে হত্যাকারীরা বুজতে পেরেছিলো আমি মারা গেছি। কিন্তু আপনাদের দোয়ায় আমি আজও বেঁচে আছি। বেচে আছে আমার সন্তান সাদিক আবদুল্লাহ।

    এসব কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। দীর্ঘ সময় বক্তব্য থামিয়ে কান্না শেষ করে আবার বক্তব্য শুরু করেন। আবার কাঁদেন। কান্না যেন থামাতে পারছিলেন না তিনি। তার কান্না দেখে উপস্থিত সকলের চোঁখ থেকে পানি পড়তে শুরু করে। উপস্থিত কেউই চোঁখের পানি ধরে রাথতে পারলেন না। সবাই যেন স্তব্ধ হয়ে গেছিলেন। কোন সাড়া শব্দ ছিলোনা। সবাই সুনছিলেন তার কথা। এমন নির্মমতার কথা যেন কেউ এর আগে কখনও শোনেন নি।

  • মাদকের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সকলকে কাজ করতে হবে : মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

    মাদকের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সকলকে কাজ করতে হবে : মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ

    বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সর্বনাশা মাদকের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন তাতে আমাদের সকলকে অংশ নিয়ে সমাজ থেকে চিরতরে মাদক নিমূর্লে একযোগে কাজ করতে হবে।

    শুক্রবার রাতে এক বার্তায় এ প্রেস বিজ্ঞতিতে এসব কথা বলেন তিনি।

    মেয়র আরো বলেন, বরিশাল নগরীকে একটি সুন্দর মাদক মুক্ত বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে দলমত নির্বিশেষে আমাদের সকলকে ভয়াল মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে।

    মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ মাদকের পথ ছেড়ে দিয়ে যারা এর সাথে জড়িত আছেন তাদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহবান জানিয়ে বলেন, যারা মাদকের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে আসতে চাইবে তাদের সম্ভব সব ধরনের সহায়তা করা হবে। কিন্তু দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অথবা প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে কেউ জড়িত থাকার চেষ্ঠা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশকে জিরো টলারেন্স দেখিয়ে এর সাথে জড়িত কাউকে ছাড় না দেয়া আহবান জানিয়ে চলমান মাদক বিরোধী অভিযান আরো জোরদার করার আহবান জানান।