Category: প্রশাসন

  • ডিসির সঙ্গে অপকর্মে লিপ্ত সেই নারীর আকুতি

    ডিসির সঙ্গে অপকর্মে লিপ্ত সেই নারীর আকুতি

    জামালপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর ও অফিস সহকারী সানজিদা ইয়াসমিন সাধনার আপত্তিকর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ভাইরাল হয়ে যায়।

    ওই ঘটনার পর থেকে সাধনাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া না গেলেও হঠাৎ করে আজ সোমবার সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে জেলা প্রশাসকের অফিসে হাজির হন তিনি।

    এদিন সকালে বোরখা এবং হিজাব পরিবর্তন করে হঠাৎ করে অফিসে হাজির হন। এ সময় তার হাতে একটি ছুটির দরখাস্ত দেখা যায়। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে অফিসে হাজির হলেও সাংবাদিকদের চোখ ফাঁকি দিতে পারেননি সাধনা।

    এ সময় সাধনা সাংবাদিকদের নিকট আকুতি-মিনতি করে জানান, ‘আমি বাঁচতে চাই না, আমার সন্তানের জন্য আমাকে বাঁচান। এসব কিভাবে হল আমি কিছুই জানি না।

    বিচার চান কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সাধনা বলেন, আমি বিচার চাই তবে স্যারের কোনো দোষ নাই।

    এরপর সাধনা অফিসে একটি ছুটির দরখাস্ত দিয়ে চলে যান।

    এরআগে জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর ও অফিস সহকারী সানজিদা আফরিন সাধনার আপত্তিকর ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ডিসি আহমেদ কবীরকে ওএসডি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে এবং মো. এনামুল হককে নতুন ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গত ১৫ আগস্ট বিকেলে ‘খন্দকার সোহেল আহমেদ’ নামের একটি পাবলিক ফিগার ফেসবুক পেজ থেকে জেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চপদধারী এই সরকারি কর্মকর্তা তার অফিসেই একজন নারীর সঙ্গে অবৈধ মেলামেশার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করা হয়। ফেসবুক আইডি থেকে এটি ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ব্যাপক হারে নজরে আসতে থাকে ফেসবুক আইডি ব্যবহারকারীদের কাছে। এদিকে শুক্রবার ভোররাত থেকে রহস্যজনক কারণে ওই আইডির ওয়াল থেকে ভিডিও লিংকটি সরিয়ে নেয়ায় সন্দেহ আরো দানা বেঁধে উঠেছে।

    এমন ভিডিও প্রকাশ পাওয়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে। ওই ভিডিওটিতে যে কক্ষটি দেখা যাচ্ছে সেটি জামালপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীরের অফিস কক্ষে তার চেয়ারের ঠিক ডান পাশের ছোট একটি কক্ষ। ছোট এই কক্ষটিতে একটি ছোট খাট বসানো হয়েছে। কক্ষটি বেশ পরিপাটি দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটিতে পুরুষ ব্যক্তিটিই জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর। আর যে নারীকে দেখা যাচ্ছে তিনি এই জেলা প্রশাসকের মাধ্যমেই সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া একই অফিসের অফিস সহায়ক সানজিদা ইয়াসমিন সাধনা।

  • চাকরিচ্যুত হতে পারেন জামালপুরের সেই ডিসি

    চাকরিচ্যুত হতে পারেন জামালপুরের সেই ডিসি

    নারী অফিস সহকর্মীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণের ঘটনায় বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হওয়া জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীর তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুত হতে পারেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

    রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

    মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ওএসডি হওয়া জামালপুরের ডিসির বিরুদ্ধে সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করা হবে। দোষী প্রমাণিত হলে তার পদাবনতি বা চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হতে পারে।

    গত বৃহস্পতিবার জামালপুরের সাবেক ডিসি আহমেদ কবীরের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে ডিসি আহমেদ কবীরের সঙ্গে তার অফিসের এক নারীকর্মীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়।

    বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে খন্দকার সোহেল আহমেদ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে জেলা প্রশাসকের আপত্তিকর ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। যদিও বিষয়টি অস্বীকার করে ঘটনাটি ‘সাজানো’ বলে দাবি করেন ডিসি আহমেদ কবীর। ওই ঘটনায় জামালপুরসহ সারা দেশের মানুষের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

    এ ঘটনায় রোববার জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরকে ওএসডি করা হয়। তার বদলে নতুন ডিসি হিসেবে নিয়োগ পান পরিকল্পনামন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ এনামুল হক। ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

    পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখা) মুশফিকুর রহমানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনারের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) একজন প্রতিনিধি। কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

    আদেশে কমিটিকে প্রকাশিত ভিডিওটির সঠিকতা যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া কমিটি প্রয়োজনে সরেজমিন পরিদর্শন করবে এবং ভিডিওটি যাচাইয়ের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেবে। কমিটিতে প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট মতামত দিতে হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    অভিযোগ প্রমাণিত হলে জামালপুরের ডিসি থেকে ওএসডি হওয়া আহমেদ কবীরের বিরুদ্ধে ‘উদাহরণ সৃষ্টির মতো’ শাস্তির ব্যবস্থা হবে বলে জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

    রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই উদাহরণ সৃষ্টি করার মতো পানিশমেন্ট হবে। আমাদের চাকরির বিধানে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়ে গেছে। সেটিই হবে।

    আমরা খুব দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারব। সেখানে কী ঘটেছে, কতটুকু ‘অনৈতিকতা’ সেখানে হয়েছে, সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করেই তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেবে। আর তার ভিত্তিতেই সরকারব্যবস্থা নেবে।’

    বিষয়টি অনেকের ‘দৃষ্টিগোচর’ হয়েছে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি অনৈতিক কর্মকাণ্ড। একজন ডিসি হিসেবে তার যে দায়দায়িত্ব আছে, সেখান থেকে সরে গিয়ে যে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা আমরা দেখেছি।

    এটি আমাদের কাছে লিখিত এসেছে এবং আমরা খুব ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আমরা তাকে ওএসডি করেছি। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে আমরা সেটি করেছি আপাতত।

  • ধোঁয়াশায় কেটে গেল ৬০ দিন

    ধোঁয়াশায় কেটে গেল ৬০ দিন

    বরগুনা সদরে রাস্তায় ফেলে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ৬০ দিন পূর্ণ হলো আজ। গত ২৬ জুন নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রকাশ্যে একজনকে কুপিয়ে খুনিদের ‘বীরদর্পে’ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে। নাড়া দেয় বিবেক।

    দুই মাস অতিবাহিত হলেও এই মামলার এজাহারভুক্ত ৪ আসামিকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এখনও স্পষ্ট হয়নি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ। এক ধরনের ধোঁয়াশা কেটে গেছে ৬০টি দিন। রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। দ্বিতীয় আসামি রিফাত ফরাজী হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

    ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে। ওই ঘটনার দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী তাকে রামদা দিয়ে কোপাচ্ছে।

    ঘটনার দিন থেকেই নিখোঁজ হয় এ দুই যুবক। এর ছয় দিন পর ২ জুলাই নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। ওই দিন রাতেই রিফাত ফরাজীকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

    গ্রেফতার হওয়া রিফাত ফরাজী বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে। তার ছোট ভাই রিশান ফরাজীও এই মামলায় গ্রেফতার হয়ে রিমান্ডে আছেন।

    এই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে রিফাত হত্যার প্রধান সাক্ষী ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে। পুলিশের দাবি, মিন্নি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে মিন্নির পরিবারের দাবি তাকে জোর করে জবানবন্দি নেয়া হয়েছে।

    হত্যাকাণ্ডের পর দিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ছাড়া সন্দেহভাজন অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জনই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

    এ হত্যাকাণ্ডের ৬০ দিন কেটে গেলেও ধোঁয়াশা কাটেনি। হত্যার নেপথ্য কারণ এখনও উদ্ঘাটিত হয়নি। একেকবার একেক দিকে মোড় নিচ্ছে। মামলার বেশিরভাগ আসামি ধরা পড়লেও মামলার অগ্রগতি খুব একটা দৃশ্যমান হচ্ছে না।

    রিফাত হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার প্রধান সাক্ষী তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। তাকেই এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। রিমান্ড চলাকালীন মিন্নি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মিন্নির গ্রেফতারের পরেই মামলা ভিন্ন দিকে মোড় নেয়।

    মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোরের দাবি, মিন্নির কাছ থেকে জোর করে জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। তিনি এ হত্যা মামলার এক নম্বর সাক্ষীকে (মিন্নি) আসামি করা ও রিমান্ডে নেয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুকে দায়ী করে আসছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সবকিছুই শম্ভু বাবুর খেলা। তার ছেলে সুনাম দেবনাথকে রক্ষা করার জন্য আমার মেয়েকে বলি দেয়া হচ্ছে।’ শম্ভুর ছেলে সুনামের বিরুদ্ধে কিশোরের অভিযোগ, তার জন্যই প্রথম দিকে মিন্নির পক্ষে আদালতে দাঁড়াননি আইনজীবীরা। এ নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু সমালোচনার পর বরগুনা ও ঢাকার আইনজীবীদের একটি অংশ মিন্নির পক্ষে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

    নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক সাব্বির আহমেদ নয়ন বন্ড। তাকে এ মামলার প্রধান আসামি করা হয়। নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। নয়নের মায়ের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে।

    এদিকে নয়ন বন্ড কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় ও রিফাতের স্ত্রীকে এ ঘটনায় গ্রেফতার করায় স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন মিন্নিকে এ মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন মিন্নি এ ঘটনায় দায় এড়াতে পারেন না। কারণ রিফাতের সঙ্গে বিয়ের আগে নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির যোগাযোগ ছিল। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই প্রাণ হারাতে হয় রিফাতকে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরগুনার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর এ মামলার তদন্ত কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন করেছে পুলিশ। এ মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সময় উদ্ধার করা বেশ কিছু আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিশেষজ্ঞদের মতামতের জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছে পুলিশ। এসব আলামতের মধ্যে নয়ন বন্ডের বাসা থেকে জব্দ করা মেয়েদের একটি জামা, একটি চিরুনী খোদাই করে শামুকের গায়ে এন+এম লেখা একটি শামুক, নয়ন ও মিন্নির একসঙ্গে একটি ছবি রয়েছে।

    ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও পুলিশ মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করেছে। আর মোবাইল ফোনসহ কয়েকটি ইলেকট্রনিক উপকরণ মামলার জব্দ তালিকায় রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।

    এদিকে মিন্নির বাবার অভিযোগ মিন্নিকে জোর জবরদস্তি করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হয়েছে। প্রভাবশালী মহলকে বাঁচাতে পুলিশ এ ঘটনায় মিন্নিকে ফাঁসাতে এমনটি করেছে। গ্রেফতারের পর মিন্নির ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। তার সারা শরীরে ব্যথা। রাতে ঘুমাতে পারেন না তিনি। প্রসঙ্গত বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

    এ হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। রিফাত হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতার এবং রিমান্ডে গিয়ে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর থেকে মামলা ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। ১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনা পুলিশলাইনসে নিয়ে যায় পুলিশ। এর পর দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯টায় মিন্নিকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

  • মিন্নিকে নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পুলিশ

    মিন্নিকে নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পুলিশ

    বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার ব্যাপারে পুলিশের তড়িঘড়ি মনোভাব এখন অনেকটা সংযত। মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখন আর গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চান না। উচ্চ আদালত এই মামলার বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার পর পুলিশ এখন সতর্ক রয়েছে।

    রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার সময় স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা যেভাবে স্বামীকে রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন, তা সিসিটিভিতে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে। কিন্তু হামলাকারীদের বাদ দিয়ে পুলিশ কেন আয়শাকে ফাঁসানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে, তা কারও কাছেই স্পষ্ট নয়। এখন আয়শাকে মামলার প্রধান আসামি না হুকুমের আসামি করা হবে, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

    জেলা পুলিশের সূত্র জানায়, উচ্চ আদালত থেকে এই মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পর অভিযোগপত্র (চার্জশিট) তৈরির ক্ষেত্রে বুঝে–শুনে এগোচ্ছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। আয়শাকে কোন ধরনের আসামি করা হবে, সে ব্যাপারে আইনি মতামত নেওয়ারও প্রক্রিয়া চলছে।

    রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তাকে মামলার নথিপত্রসহ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    জামিন প্রশ্নে রুল শুনানির জন্য ২৮ আগস্ট দিন ধার্য রেখেছেন আদালত। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত মঙ্গলবার দুপুরে এই আদেশ দেন।

    আয়শা সিদ্দিকা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার আগে বরগুনার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন গত ১৮ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে আয়শার সংশ্লিষ্টতার কথা জানান। সে বিষয়েও এসপির লিখিত বক্তব্য চেয়েছেন আদালত।

    জেলা পুলিশের সূত্রটি জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক হুমায়ন কবির ২৮ আগস্ট উচ্চ আদালতে মামলার নথি উপস্থাপনের জন্য বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাঁর সঙ্গে আছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহানও। এর আগে পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির অভিযোগপত্র তৈরির ব্যাপারে উচ্চপর্যায়ের মতামত নিতে বেশ কিছুদিন ঢাকায় ছিলেন। তাঁরা বরগুনায় ফিরে যখন অভিযোগপত্র প্রস্তুতের উদ্যোগ শুরু করেন, তখনই উচ্চ আদালত রুল দেন।

    আয়শার হয়ে আইনি সহায়তা দেওয়া জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বিভিন্ন চাপে আয়শা ও তাঁর পরিবার প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে ছিল। স্থানীয় আদালতে আয়শার পক্ষে কোনো আইনজীবীও ছিলেন না। এই অবস্থায় ঢাকা ও বরিশাল থেকে আইনজীবী পাঠিয়ে আয়শাকে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

    অভিযোগপত্রে আয়শাকে আসামি করার ব্যাপারে জেড আই খান বলেন, রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার প্রধান সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকাকে আসামি করা হলে মামলার মান নষ্ট হয়ে যাবে।

    আয়শার পক্ষে লড়াই করা এই আইনজীবী মনে করেন, মামলায় আয়শাকে আসামি করার জন্য পুলিশ তড়িঘড়ি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার ব্যাপারে প্রস্তুতি নিলেও সম্প্রতি উচ্চ আদালত বিষয়টি নিয়ে তদন্তসংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা তলব করায় পুলিশ বিষয়টি নিয়ে এখন অনেকটা সংযত।

    জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, মামলার তদন্তে যেভাবে আসবে সেভাবেই তাঁর (আয়শা) নাম অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন রিফাত শরীফকে। পরে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয় রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শাকে। কিন্তু আয়শার শ্বশুর মামলা দায়েরের ১৮ দিন পর গত ১৩ জুলাই এই হত্যাকাণ্ডে আয়শা জড়িত—এমন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করার পর মামলার তদন্ত নাটকীয় মোড় নেয়। সংবাদ সম্মেলনের পরদিন আয়শার গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন তাঁরা। সমাবেশে রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম শরীফ ছাড়াও বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ও স্থানীয় সাংসদের ছেলে সুনাম দেবনাথ বক্তৃতা দেন। ১৬ জুলাই আয়শাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

    এই মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। মামলার দুই নম্বর আসামি রিফাত ফরাজীকে পুলিশ ৩ জুলাই গ্রেপ্তার দেখায়।

    পুলিশ জানায়, এই মামলায় এ পর্যন্ত ১৫ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত ৮ জন এবং সন্দেহভাজন ৭ জন। তাঁরা সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আয়শা তাঁর জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য যে আবেদন করেছেন, তা শুনানির অপেক্ষায় আছে।

  • দ্বিতীয় দফায়ও রিফাত হত্যার চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি পুলিশ

    দ্বিতীয় দফায়ও রিফাত হত্যার চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি পুলিশ

    বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় বৃহস্পতিবারও চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি পুলিশ। নতুন করে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর চার্জশিট দাখিলের তৃতীয় দফায় তারিখ ধার্য করেছে আদালত। এদিকে হাইকোর্টের নির্দেশে কেস ডকেট নিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শুক্রবার ঢাকায় গিয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার সকালে বরগুনার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে গ্রেফতারকৃত ১৪ আসামিকে হাজির করা হয়। যশোরের শিশু-কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে থাকায় রাতুল সিকদারকে আদালতে হাজির করা হয়নি।

    রিফাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামি আরিয়ান শ্রাবণ, কামরুল ইসলাম সাইমুন ও সাগরের পক্ষে জামিন আবেদন করা হলেও আদালতে কেস ডকেট না থাকায় জামিন শুনানি হয়নি। আসামি পক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা কাদের জানিয়েছেন, আগামী তারিখে তাদের জামিন শুনানি হবে।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির জানান, চার্জশিট তৈরি করতে না পারায় বৃহস্পতিবারও তিনি আদালতে তা দাখিল করতে পারেননি। তবে পরবর্তী তারিখে দাখিল করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। মো. হুমায়ুন কবির শুক্রবার কেস ডকেট নিয়ে ঢাকা গিয়েছেন। আগামী ২৮ আগস্ট হাইকোর্টে কেস ডকেট উপস্থাপন করবেন। তা ছাড়া পুলিশ সুপার মারুফ হোসেনও বর্তমানে ঢাকা অবস্থান করছেন। হাইকোর্ট তার কাছে যে ব্যাখ্যা চেয়েছেন, তিনি তার প্রতিবেদন তৈরি করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

  • ২৪ বছর ধরে কাঁদছেন ইয়াসমিনের মা

    ২৪ বছর ধরে কাঁদছেন ইয়াসমিনের মা

     

    আজ ২৪ আগস্ট ইয়াসমিন ট্র্যাজেডি দিবস। ১৯৯৫ সালের এই দিনে কিশোরী ইয়াসমিনকে (১৪) তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে কিছু বিপথগামী পুলিশ সদস্য। এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে দিনাজপুরের মানুষ। বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। গুলিতে নিহত হন পাঁচজন। ওই সময় থেকেই প্রতিবছর সারাদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে। তবে ঘটনার ২৪ বছর পার হলেও একমাত্র মেয়েকে হারানোর বেদনা আর দুঃখ নিয়ে কাঁদছেন ইয়াসমিনের মা শরিফা বেগম। আর কোনও মায়ের কোল যাতে এভাবে খালি না হয়, সেই কামনা করেন তিনি। নারী নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন সন্তানহারা এই মা।

    দীর্ঘদিন পর মা’কে দেখার জন্য আকুল হয়ে ঢাকা থেকে দিনাজপুরে বাড়ি ফিরছিল গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত ইয়াসমিন। দিনটি ছিল ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট। কিন্তু দিনাজপুরের কোচে না উঠতে পেরে সে পঞ্চগড়গামী একটি কোচে উঠে পড়ে। কোচের লোকজন তাকে দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় নামিয়ে সেখানকার একটি চায়ের দোকানে জিম্মায় দিয়ে যায়। ওই চায়ের দোকানে একটি পুলিশের ভ্যান এসে জোর করে তুলে নিয়ে যায় ইয়াসমিনকে। দিনাজপুর শহরে মায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে পুলিশের সদস্যরা তুলে নেয় তাকে। কিন্তু ভ্যানের মধ্যেই কিশোরী ইয়াসমিনকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করে তারা। পরে তার লাশ রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পরের দিন লাশ পেয়ে প্রথমে দশমাইল এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। পরে তা ধীরে ধীরে আন্দোলনে রূপ নেয়। পুলিশের এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে দিনাজপুরের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে দমাতে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে নিহত হন পাঁচজন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন অনেকে। পরে আন্দোলনের মুখে বিচার শুরু হয়। জড়িত তিন পুলিশ সদস্যের ফাঁসির রায় হয় ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট। ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে রায় কার্যকর হয়।
    ইয়াসমিনের মা শরিফা বেগম

    তবে সন্তানের ওপর নৃশংসতা ও তাকে হারানোর কথা মনে করে এখনও প্রতিনিয়ত কেঁদে চলেছেন তার মা শরিফা বেগম। তিনি বলেন, ‘আমার সারাজীবন জুড়ে মেয়েকে নিয়েই কষ্ট। এই দুঃখ ভোলার মতো না। আর যাতে কোনও মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়, সেই কামনা করি। এখনও যেসব নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে, সেসব ঘটনার যেন সুষ্ঠু বিচার হয়। যাতে করে কেউ নারী নির্যাতন করতে সাহস না পায়।’ মেয়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করবেন বলেও জানান তিনি।

    সেদিনে আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছিল মহিলা পরিষদ। দিনাজপুর মহিলা পরিষদের সভাপতি কানিজ রহমান জানান, ‘ইয়াসমিনের ওই ঘটনার পরও এখনও এই জেলায় নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে, শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে, শিক্ষকের হাতে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। একের পর এক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে পূর্বের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায়। আমরা চাই ইয়াসমিনের ঘটনার মতো সব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক। প্রশাসনের পাশাপাশি সব স্তরের মানুষ এসবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে নারী নির্যাতন শব্দটিও একদিন হারিয়ে যাবে।’

  • পাপের প্রায়শ্চিত্ত করছেন বেগম জিয়া: হানিফ

    পাপের প্রায়শ্চিত্ত করছেন বেগম জিয়া: হানিফ

    একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নাটক করার জন্য সিএমএইচে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।

    শনিবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর পুরান ঢাকার নয়াবাজারে একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন।

    মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপি অফিস থেকে আজ সংবাদ সম্মেলন করেন, নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেন। আপনাদের মধ্যে বিবেকে বাধে নাই? বেগম খালেদা জিয়া নাটক করার জন্য সিএমএইচে গিয়েছিলেন। উনি দেখতে গেলেন আইভী রহমানকে, মৃত্যুর পথযাত্রী। খালেদা জিয়া আসবেন এই কারণে তার ছেলে এবং মেয়েকে পাশের একটা রুমে নিয়ে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখা হলো প্রায় দুই ঘণ্টা। এত নিষ্ঠুর অমানবিক আচরণ, এটা আল্লাহপাক সহ্য করেননি।

    তিনি বলেন, সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত আজ বেগম খালেদা জিয়ার করতে হচ্ছে। ভেবেছিলেন এতিমের টাকা আত্মসাৎ করে বা এই সব অপরাধ করে কোনো দিন আপনার বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে না। আল্লাহর বিচার আছে। অপরাধ করলে যে তার শাস্তি হয়, বিচার হয় আজ দেখুন।

    আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে, ইন্ধন নিয়ে একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় আপনার সন্তানকে দিয়ে হামলা করিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে আপনারা আজীবন ক্ষমতায় থাকবেন। সেই স্বপ্ন আপনাদের পূরণ হয়নি। আজ আপনারাই নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। আপনি আছেন কারাগারে, আপনার সন্তান আছে পলাতক হিসেবে দেশের বাইরে। এখনও ওখানে থেকে ষড়যন্ত্র করছেন।

    একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আদালত কর্তৃক কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির বিধান করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    হানিফ বলেন, গোটা দেশবাসীর পক্ষ থেকে ওই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের কাছে অনুরোধ করব, ব্রিটিশ সরকার বা মার্কিন সরকার আপনারা কথায় কথায় মানবতার কথা বলেন, গণতন্ত্রের কথা বলেন। আজ একজন কুখ্যাত অপরাধী, যিনি হত্যাকারী হিসেবে আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত তাকে শেল্টার দিয়ে, তার বিচারের রায় কার্যকর করতে আপনারা সহায়তা না করে কোন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করছেন সেটাই আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন।

    তিনি বলেন, আপনারা মানবাধিকারের কথাই তো বলেন, সত্যিকারের মানবাধিকার যদি চান তাহলে এই সব দণ্ডপ্রাপ্ত, কুখ্যাত আসামিদের অবিলম্বে আমাদের দেশে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করুন। আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রায় কার্যকর করার মাধ্যমে, আইনের শাসনের মাধ্যমে আমরা এই দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যেতে পারব।

  • কারাগারে যেভাবে কাটছে মিন্নির সময়

    কারাগারে যেভাবে কাটছে মিন্নির সময়

    প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি বনে যাওয়া রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি রয়েছেন বরগুনা জেলা কারাগারে। গত ১৯ জুলাই শুক্রবার রিফাত হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর থেকে বরগুনা জেলা কারাগারে রয়েছেন মিন্নি।

    কারাগারে যাওয়ার পর থেকে নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে পার হতে হয়েছে মিন্নিকে। তবে বর্তমানে কারাগারে অন্য কয়েদীদের সাথে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করছেন মিন্নি। এমনটা জানিয়েছে বরগুনা জেলা কারাগারের একটি সূত্র।

    সূত্র জানায়, মিন্নি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছেন, তবে মাঝে মাঝে বেশ উদাসীনতায় বসে থাকেন। জেলখানার স্বাভাবিক কাজ কর্ম শেষে তিনি বই ও পড়েন। মিন্নির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মিন্নিকে কিছু বই দেয়া হয়েছে। মিন্নি সেই বইগুলোই পড়ে। তবে অধিকাংশ সময় তিনি চুপচাপই থাকেন। খুব একটা কথা বলতে দেখা যায় না তাকে। বইকে সঙ্গী করেই কেটে যায় তার বেশিরভাগ সময়।

    সূত্র আরও জানিয়েছে, মিন্নি কারাগারের যে কক্ষে থাকে সেই কক্ষ থেকে মাঝে মাঝেই ফুঁপিয়ে কান্নার আওয়াজ শোনা যায়। তবে প্রকাশ্যে কখনো মিন্নিকে কাঁদতে দেখা যায়নি। শুরুতে খাবার নিয়ে সমস্যা জানালেও এখন জেলখানার খাবারে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন মিন্নি। আগের চেয়ে স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে মিন্নির বলেও দাবি করেছে এই সূত্র।

    এদিকে জেলা পুলিশের সূত্র জানায়, উচ্চ আদালত থেকে এই মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পর অভিযোগপত্র (চার্জশিট) তৈরির ক্ষেত্রে বুঝে–শুনে এগোচ্ছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। মিন্নিকে কোন ধরনের আসামি করা হবে, সে ব্যাপারে আইনি মতামত নেয়ারও প্রক্রিয়া চলছে।

    রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকাকে কেন জামিন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তাকে মামলার নথিপত্রসহ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

    জামিন প্রশ্নে রুল শুনানির জন্য ২৮ আগস্ট দিন ধার্য রেখেছেন আদালত। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত মঙ্গলবার দুপুরে এই আদেশ দেন।

    আয়শা সিদ্দিকা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার আগে বরগুনার পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফ হোসেন গত ১৮ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে আয়শার সংশ্লিষ্টতার কথা জানান। সে বিষয়েও এসপির লিখিত বক্তব্য চেয়েছেন আদালত।

    জেলা পুলিশের সূত্রটি জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক হুমায়ন কবির ২৮ আগস্ট উচ্চ আদালতে মামলার নথি উপস্থাপনের জন্য বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে আছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহজাহানও।

    এর আগে পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির অভিযোগপত্র তৈরির ব্যাপারে উচ্চপর্যায়ের মতামত নিতে বেশ কিছুদিন ঢাকায় ছিলেন। তারা বরগুনায় ফিরে যখন অভিযোগপত্র প্রস্তুতের উদ্যোগ শুরু করেন, তখনই উচ্চ আদালত রুল দেন।

    আয়শার হয়ে আইনি সহায়তা দেয়া জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বিভিন্ন চাপে আয়শা ও তার পরিবার প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে ছিল। স্থানীয় আদালতে আয়শার পক্ষে কোনো আইনজীবীও ছিলেন না। এই অবস্থায় ঢাকা ও বরিশাল থেকে আইনজীবী পাঠিয়ে আয়শাকে আইনি সহায়তা দেয়া হয়েছে।

    অভিযোগপত্রে আয়শাকে আসামি করার ব্যাপারে জেড আই খান বলেন, রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার প্রধান সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকাকে আসামি করা হলে মামলার মান নষ্ট হয়ে যাবে।

    আয়শার পক্ষে লড়াই করা এই আইনজীবী মনে করেন, মামলায় আয়শাকে আসামি করার জন্য পুলিশ তড়িঘড়ি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়ার ব্যাপারে প্রস্তুতি নিলেও সম্প্রতি উচ্চ আদালত বিষয়টি নিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা তলব করায় পুলিশ বিষয়টি নিয়ে এখন অনেকটা সংযত।

    প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকালে প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল নেয়ার পর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জন ও ৫/৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন। রিফাত হত্যা মামলায় প্রথমে মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করা হলেও পরে মিন্নিকেও এই মামলার আসামি করা হয়।

  • জেএমবির সক্রিয় সদস্য ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ গ্রেফতার

    জেএমবির সক্রিয় সদস্য ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ গ্রেফতার

    ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ (৩২) নামে জেএমবির এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দিবাগত রাতে মাদারীপুরের শিবচরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতার ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ শিবচর উপজেলার খানাকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ হাওলাদারের ছেলে।

    শনিবার দুপুরে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর সদর দফতর থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

    র‌্যাব জানায়, মুফতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ নিষিদ্ধ জেএমবির দাওয়াতি শাখার একজন সদস্য। অন্য পেশার আড়ালে তিনি যুবকদের কাছে গোপনে উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ডের দাওয়াত দিয়ে আসছেন। গোপন সংবাদের শুক্রবার রাতে শিবচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

    র‌্যাব আরও জানয়, ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ ২০১০ সালে ছাত্র থাকাবস্থায় জসীমউদ্দীন রহমানির ওয়াজ শুনে উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হন। এরপর তার সঙ্গে দেখা করেন। পরে দাওয়াতি কাজের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সফর করেন। এ সময় একই মনোভাবাপন্ন আরও কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয় হলে তিনি জেএবমির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ২০১৫ সালে থেকে তারিকুল ইসলাম সাকিবসহ জেএমবির অন্যান্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। ওই সময় থেকে তিনি অনেকের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে গোপনে বৈঠক করেন এবং জেএমবি কার্যক্রম তথা সশস্ত্র উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হন। বর্তমানে ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ ছদ্মবেশে সদস্য সংগ্রহে কাজ করে যাচ্ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

  • রং নাম্বারে পরিচয়, ৬ দিন আটক রেখে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

    রং নাম্বারে পরিচয়, ৬ দিন আটক রেখে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

    অনলাইন ডেস্ক ::

    বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ফুফুর বাড়ি যাওয়ার সময় রাস্তা থেকে তুলে নিয়েএক স্কুলছাত্রীকে ছয়দিন ধরে আটক রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অপহরণের ছয়দিন পর বৃহস্পতিবার বিকেলে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চরদিঘাই মন্ডলপাড়া থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

    এ সময় মামলার প্রধান আসামি অফিল উদ্দিনকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অফিল উদ্দিন লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ উপজেলার রুদ্রস্বর গ্রামের নাজিম উদ্দিনের ছেলে। শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে ধুনট থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

    মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যর মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। প্রায় ছয় মাস আগে মোবাইল ফোনের রং নাম্বার থেকে অফিল উদ্দিনের সঙ্গে মেয়েটির পরিচয় হয়। গত ১৬ আগস্ট দুপুরের দিকে মেয়েটি সোনামুখী গ্রামে তার ফুফুর বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। পথিমধ্যে ভানুডাঙ্গা বাজার এলাকা থেকে অফিল উদ্দিন মেয়েটিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। এরপর ছয়দিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় আটক রেখে একাধিকবার মেয়েটিকে ধর্ষণ করে অফিল উদ্দিন।

    পরে মেয়েটিকে খুঁজে না পেয়ে তার বাবা ১৮ আগস্ট থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন। মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বগুড়া, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের একপর্যায়ে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চরদিঘাই মন্ডলপাড়া যমুনা নদীর দুর্গম চর এলাকা থেকে অফিল উদ্দিনকে গ্রেফতার ও স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

    এ বিষয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অফিল উদ্দিন স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছে। শনিবার মেয়েটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।