Category: প্রশাসন

  • মিন্নির জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

    মিন্নির জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন

    বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার আসামি ও নিহতর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

    রোববার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সুফিয়া খাতুন এ আবেদন দাখিল করেন।

    সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে মিন্নির জামিন স্থগিতের আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।

    এর আগে গত ২৯ আগস্ট আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে স্থায়ী জামিন দেন হাইকোর্ট। তবে জামিনে থাকাকালে গণমাধ্যমের সাথে কোনো কথা বলা যাবে না বলে শর্ত দেন আদালত।

    এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

    আদালত বলেছেন, জামিনে থাকা অবস্থায় মিন্নি তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের জিম্মায় থাকবেন।

    গত ২৮ আগস্ট আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন প্রশ্নে জারিকৃত রুলের ওপর হাইকোর্টে চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়।

    গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। রিফাতকে ওই দিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    ১৬ জুলাই সকালে মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা-মাইঠা এলাকা থেকে পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়। এরপর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৯ টায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

  • বরগুনায় রিফাত হত্যা : স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

    বরগুনায় রিফাত হত্যা : স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

    বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ।

    রোববার বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হয়।

    চার্জশিটে রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার ১নং আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

    এর আগে গত ২৯ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দুই শর্তে মিন্নির জামিন মঞ্জুর করেন।

  • মেয়র কতৃক সহসী পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা স্বারক প্রদান করা হচ্ছে না আজ

    মেয়র কতৃক সহসী পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা স্বারক প্রদান করা হচ্ছে না আজ

    বরিশাল মেট্টোপলিটন পুলিশের সফল অভিযানে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক করাবারী আটক হওয়ায় বিএমপির কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খানসহ অভিযানে অংশ নেয়া সকল পুলিশ সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

    এক অভিনন্দন বার্তায় সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরুল ইসলামসহ অভিযানে অংশ নেয়া পুলিশ সদস্যদেরকে আগামী রোববার ১ সেপ্টেম্বর বেলা তিনটায় শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করার  ঘোষনা দেওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারনে আগামীকাল এই সম্মাননা স্বারক প্রদান করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বাবলু।

    এ অনুষ্ঠান এ্যানেক্স ভবনে মেয়রের দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে।

    মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশকে জিরো টলারেন্স দেখিয়ে এর সাথে জড়িত কাউকে ছাড় না দেয়া আহবান জানিয়ে চলমান মাদক বিরোধী অভিযান আরো জোরদার করার আহবান জানান।

  • নতুন আইনে জরিমানা বাড়ানোর খবর ‘গুজব’

    নতুন আইনে জরিমানা বাড়ানোর খবর ‘গুজব’

    পরিবহন সেক্টরে নতুন একটি আইন প্রণয়ন ও জরিমানা বাড়ানোর যে খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রটানো হচ্ছে তা বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য চক্রান্ত বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    সম্প্রতি ফেসবুকে ‘নতুন মোটরযান আইন (সংশোধনী)’ নিয়ে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে পরিবহন সেক্টরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

    এ নিয়ে রোববার (০১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, মোটরযান আইন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটা গুজব রটানো হচ্ছে যে এখানে বিভিন্ন বিষয়ে জরিমানা বাড়ানো হয়েছে। আসলে এটা তো মোটরযান আইন না, এটা সড়ক পরিবহন আইন।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, নতুন মোটরযান আইন তৈরিই হয়নি। আমাদের আইন হচ্ছে ‘সড়ক পরিবহন আইন’। এটার নামই তো ভুল। এগুলো অহেতুক, নামটা যেমন ভুল, তেমনি এসব জরিমানার হারও মনগড়া। স্বার্থান্বেষী মহল বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য মালিক-শ্রমিককে উস্কে দেওয়ার জন্য চক্রান্ত ও পায়তারা করেছে।

    পরে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে সড়ক পরিবহন সেক্টরে ‘নতুন মোটরযান আইন (সংশোধনী) ২০১৯’ নামে কোনো আইন নেই। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর করতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে বিধিমালা প্রণয়নের কাজ করছে।

    ‘নতুন মোটরযান আইন (সংশোধনী) ২০১৯’ কে গুজব উল্লেখ করে অপপ্রচার ও গুজরে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

    অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে ২৬ সিটের মিনিবাস ৪১ সিট করা নিয়ে এক প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখানে যে একটা ফাঁকি আছে এবং এ ধরনের অপকর্ম হয়ে আসছে। সর্ষের মধ্যেও ভূত আছে। বিষয়গুলো বন্ধ করার জন্য শক্তিশালী একটা টাস্কফোর্স করার জন্য প্রস্তাব আছে।

    ওয়েজবোর্ড
    সাংবাদিকদের নবম ওয়েজ বোর্ডের সুপারিশ মন্ত্রিসভায় কেন পাস হচ্ছে না- এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা ক্যাবিনেটে পাস করার কোনো বিষয় নয়। এটা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সামারি আকারে যাবে, সেটা রেডি হচ্ছে। যে কোনো দিন প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেতে পারে। সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত আসবে।

    কাউন্সিল
    আওয়ামী লীগের কাউন্সিল নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের জাতীয় সম্মেলন অক্টোবরেই হওয়ার কথা। নিয়মানুযায়ী তিন বছরে ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। অক্টোবরে এখনও ঠিক আছে। আমরা তো পরিবর্তন করিনি। পরিবর্তন করলে ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং ডেকে তা করার বিষয় আসবে। সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। হবে না এ মুহূর্তে বলা যাবে না। আমরা এক মাসের নোটিশ দিয়েও জাতীয় সম্মেলন অতীতে করেছি। তবে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।

    ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনৈতিক দলের পুনর্বাসনের কোনো বিষয় নেই। ছাত্রলীগের কমিটিকে বলা হয়েছে রিভিজিট করার জন্য, যদি কেউ রিয়েলি বঞ্চিত হয়ে থাকে। আর ছাত্রলীগের কমিটিতে যদি কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকে, ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন নেতা আছেন, আমাদের নেত্রী দায়িত্ব দিয়েছেন। তারা বিষয়টি বিবেচনা করবে। যারা পদবঞ্চিত বলে পরিচিত তারা তো রাস্তায় এখন আন্দোলন করছে না, কাজেই নিশ্চয়ই এটার একটা প্রক্রিয়া চলছে, এটা সমাধানের একটা পথ, হয়তো তারাও আশ্বস্ত হয়েছে সমাধানের ব্যাপারে। সে কারণে তারাও কোনো বিক্ষোভ দেখাচ্ছে না।

    বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে শুভ কামনা
    আজকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, এত বছরে বিএনপিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন- প্রশ্নে কাদের বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাদের শুভ কামনা করি। তারা নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করে ইতিবাচক রাজনীতিকে আলিঙ্গন করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

  • জামিন পেল সেই পুলিশ কনস্টেবল মিমি

    জামিন পেল সেই পুলিশ কনস্টেবল মিমি

    পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রতারণার মাধ্যমে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় মিমি আক্তার (২০) নামের এক পুলিশ সদস্যের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। বাদী ও আসামী পক্ষের মিমাংসা সাপেক্ষে মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের ম্যাজিস্ট্রট আল ফয়সাল আহমেদ জামিন মঞ্জুর করেন।

    মিমি আক্তার কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি গ্রামের আঃ মান্নান শিকদারের মেয়ে। মঠবাড়িয়া উপজেলার বেতমোর গ্রামের নুরুল ইসলাম ফরাজী বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া কোর্টে একটি মামলা (সি. আর. ১৬৯/১৯) দায়ের করলে গত বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) বিজ্ঞ আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
    মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়িত্বরত সি.এস.আই. শাহানাজ পারভিন  রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদস্য মিমির জামিন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
  • অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বরিশালের ডিসি

    অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বরিশালের ডিসি

    ডিসিদের বিষয়ে নানান কাহিনী শোনা যায়। এ বিষয়ে পত্রপতিকায় খবর আসে প্রায়ই। এরমাঝে পরকীয়া প্রেমের বৃন্দাবন বানিয়ে জামালপুরের ডিসি তো কেলেংকারীর এক মনুমেন্ট বানিয়ে ফেলেছেন। রসালো আলোচনায় বলা হয়, ‘পুলিশের ডিআইজি মিজান এবং জনপ্রশাসনে ডিসি কবীর সেরা।’ জামালপুরের আলোচিত ডিসি’রর মতো বরিশালের দুইজন সাবেক ডিসি সম্পর্কে আমি মোটামুটি জানি। হয়তো এ রকম আরো অনেকে আছেন। না থাকলেও এ রকম একটি অশ্বস্তিকর পাবলিক পরসেপশন আছে। এই অবস্থার বিপরিতে দাঁড়িয়ে বিশেষ উচ্চতায় অনুকনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বরিশালের জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের স্মৃতিচারণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন বরিশালের ডিসি।

    ১৫ আগস্টের নৃশংসতার স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানটি গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে বরিশালে। ডিবিসি’র দুপর ১২টার নিউজে অপূর্ব অপুর লাইভ-এ জানলাম, এধরনের আয়োজন ৪৪ বছরের ইতিহাসে বরিশালে এবারই প্রথম। এদিকে আমার ধারণা, এ ধরণের আয়োজন এর আগে বরিশালে তো দূরের কথা, দেশের কোথাও হয়েছে বলে আমার মনে হয় না। এবং আমি নিশ্চিত, বরিশালে গতকালের এই আয়োজন পচাত্তরের থিংকট্যাক-এর পায়ের নীচের মাটিতে বড় ধরনের কম্পন ধরিয়েছে।

    ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকান্ড চালানো হয়েছে। এটি হয়েছে পরিকল্পিত এবং নির্ভুল ব্লুপ্রিন্ট অনুসারে। কিন্তু এমন একটি কৌশলী প্রচারণার আশ্রয় নেয়া হয়েছে, কতিপয় সামরিক অফিসার মাথা গরম করে কান্ডটি ঘটিয়ে ফেলেছেন এবং তার পর পরিস্থিতি সামাল দেবার জন্য নিরুপায় হয়েই বিষয়টি হজম করেছেন তৎকারীন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সামরিক কর্মকর্তারা। কিন্তু বাস্তবতা মোটেই এমন নয়। বরং পরিকল্পিভাবে জাতির পিতাকে হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরী করা হয়েছে। ১৫ আগস্টের নিখুঁত পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং হত্যাকান্ডের পর করনীয়ও আগেভাবে নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। মোদ্ধাকথা, পুরো বিষয়ের পিছনে পচাত্তরের থিংকট্যাংক নিপুনভাবে কাজ করেছে। যে বিষয়ে আমার প্রাথমিক ধারণা ১৯৮০-৮১ সালের দিকে সাপ্তাহিত জনকথায় কাজ করার সুবাদে। তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ছাত্র রাজনীতিতে বেশ সক্রিয়।

    পরবর্তীতে পেশাগত কারণে অধিকতর জেনেছি, ১৫ আগস্টেরর নেপথ্যের নানান ঘটনা। এ সময় কর্নেল ফারুক ও মেজর শাহরিয়ারের মুখেও নানান ঘটনার বিষয়ে শুনেছি। সাংবাদিক হিসেবে আমিই প্রথম গণমাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরেছি, ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের শিকার আবুল হাসানাতের পরিবারের কথা। বিষয়টি পাঠকদের বিস্তারিত জানিয়েছি, শাহানারা আবদুল্লাহ শানুর সাক্ষাৎকার আকারে। তখন আমি সাপ্তাহিক সুগন্ধার ভারপ্রাপ্তা সম্পাদক কাম রির্পোটার। শাহানারা আবদুল্লাহ শানুর বক্তব্য আমি প্রথম টেলিভিশনে প্রচার করার ব্যবস্থা করেছি বাংলাভিশনের মাধ্যমে। তখন আমি বাংলাভিশনের কান্ট্রিএডিটর, জেলা ডেক্সের প্রধান।

    ঘটনাচক্রে ১৫ আগস্টের বিষয়ে মূল সূত্র পাবার কারণে এ বিষয়ে এক ধরনের গভীর বোধ সৃষ্টি হয়েছে আমার। ফলে অনেক আগে থেকেই বুঝতে পেরেছি, জাতির পিতাকে হত্যা করা হঠাৎ কোন ঘটনা নয়। ইতিহাস বলে, ১৯৭৫ সালে যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে তারা ৭২-৭৩ এটি করার সাহস পেতো না। এ জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকেই। এদিকে সরকারের মধ্যেই সরকারের শত্রু লুকিয়ে ছিলো। এদের প্রভাবে তাজউদ্দিন আহমদ বরখাস্ত হলেন, প্রভাব বাড়লো আমেরিকার এজন্টে হিসেবে পরিচিত খন্দকার মোশতাকের। নানান ভাবে সম্মিলতভাবে ট্রাজিক ঘটনা ঘটানোর প্রেক্ষাপত তৈরী করা হয়েছে। এ মূল্যায় প্রবীন রাজনীতিক হায়দার আকবর খান রনোর। তার মতে ক্ষেত্র প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে জাসদ, ভাসানী ন্যাপসহ বিভিন্ন বাম ধারা সহায়ক ছিলো। হায়দার আকবর খান রনো আমার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকতারে সরল স্বীকারুক্তি করেছেন, ‘ক্ষেত্র প্রস্তুতের ধারায় আমি নিজেও পড়ি!’

    কেবল কেন্দ্র কেন্দ্রিক ছিলো না ১৫ আগস্টের ষড়যন্ত্র। গ্রাসরুটেও ষড়যন্ত্রের শক্ত নেটওয়ার্ক ছিলো। এর প্রমান মেলে বরিশালেই। ইতিহাসের ঘৃন্যতম ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের দেড় ঘন্টার মধ্যেই কাকডাকা ভোরে বরিশাল শহরে ‘আনন্দ মিছিল’ বের হয়েছিলো। সেদিন একই রকম ‘আনন্দ মিছিল’ হয়েছিলো বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ সদরে এবং পটুয়াখালী শহরসহ অরো অনেক এলাকায়। এ থেকে প্রমানিত হয়, ১৫ আগস্টের ষড়যন্ত্রের খলনায়করা গ্রাসরুট পর্যায়ে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলো।

    এই ধারার বিপরিতে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ চেষ্টাও হয়েছে বরিশার-পটুয়াখলী-বরগুণাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। এমনকি প্রতিরোধ যুদ্ধও হয়েছে। কিন্তু পচাত্তরের থিকংট্যাকেং-এর পরিকল্পনা এতোটাই নিখুঁত ছিলো যে বহু বছর দেশের মানুষ জেনেছে, বঙ্গবন্ধু হত্যার কোন প্রতিবাদই হয়নি। এই ধারনা সৃষ্টি করা হয়েছে নানান কৌশলে।

    এই কৌশলের কারণেই মাওলানা ভাসানী মোশতাক সরকারকে ‘দোয় করেন।’ অথচ স্বাভাবিক ছিলো, বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিরুদ্ধে ‘খামোশ’ বলে রুখে দাড়াবেন মাওলানা ভাষানী। যা তিনি কারণে অকারণে বহুবার করেছেন। কিন্তু এমনটা ঘটেনি ১৫ আগস্টের বিরুদ্ধে। ঘটেছে উল্টোটা। ১৫ আগস্ট দুপুরে টাঙ্গাইল থেকে টেলিগ্রামে খুনী খন্দকার মুশতাককে স্বীকৃতিসহ দোয়া পাঠান মাওলানা ভাষানী। এরপর ১৭ আগস্ট সকালে মোশতাক টাঙ্গাইলের সন্তোষে পাঠান মন্ত্রী তাহেরউদ্দিন ঠাকুর ও শাহমোয়াজ্জেম হোসেনকে। সে সময় ভাসানীর বাসগৃহে ঢাকা থেকে নানা পদ পদবীর দেশী-বিদেশীরা যাচ্ছেন-আসছেন। মাওলানা ভাষানীর ধারায় যুক্ত হন আরো অনেক রাজনীতিক।

    কেবল রাজনীতিকরা আর সামরিক ব্যক্তিত্ব নয়, শিল্পী ও সংবাদ পত্রও সরব করা হলো খুনি মোশতাকের পক্ষে। পটভূমি তৈরীতেও ভুমিকা ছিলো তাদের। ১৯৭৫এর ১৫ আগষ্ট দুপুরে ঢাকা বেতারে বীরদর্পে ঢুকলেন খান আতাউর রহমান। হারমোনিয়াম তবলা নিয়ে বসে গেলেন। খান আতাউর রহমান রচনা করলেন “এদেশ ধ্বংস হলো কাহাদের জন্য…।” পুরুষ ও নারী কন্ঠের দুজন বেশ দ্রুত সুর তুলে লাইভ গাইলেন। এরপর ক্রমাগত রেকর্ড গানটি বাজতে থাকে এরপরই রচিত হলো আরেকটি গান, ‘অলিআল্লাহর বাংলাদেশ. পীরমুর্শিদের বাংলাদেশ ..’ গানটি। খান আতা প্রতি রাতে ঢাকা বেতার থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী গীতিনাট্য প্রচার করতেন। নির্ধারিত গায়ক-গায়িকা ছিল লাভলী ইয়াসমীন, মিলি জেসমিন ও নাজমুল হুদা। খান আতা ১৯৭৬ সালে সরকারি অর্থে নির্মাণ করলেন প্রামাণ্যচিত্র “ওয়াটার অব গ্যাঞ্জেস”। ভারত ও শেখ মুজিব শাসনবিরোধী আধা ঘন্টার চিত্রটি টিভি ও সিনেমা হলে প্রদর্শন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে মানুষের মন বিষিয়ে তোলার ব্যবস্থা করা হলো।

    ইত্তেফাক বাসন্তীর জাল পরা ‘জাল ছবি’ ছেপেছিলো ৭৪ সালে। ইত্তেফাকের ফটো সাংবাদিক আফতাবের ক্যামেরায় পোজ দেয়া জালপরা ছবিটির ‘মডেল’ গরীব বাসন্তী পেয়েছিলো পঞ্চাশ টাকা। কিন্তু বিলিয়ন ডলার সর্বনাশ হলো বঙ্গবন্ধু সরকারের। বঙ্গবন্ধু হত্যার পটভূমি নির্মাণে দৈনিক ইত্তেফাকের অই ছবিটি অকল্পনীয় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন গবেষকরা। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর ২৮ আগস্ট ইত্তেফাকে মানিক মিয়া পুত্র আনোয়ার হোসেন স্বনামে লিখলেন “মারহাবা সোবহানাল্লাহ” গোছের আর্টিকেল। তিনি লিখলেন, ‘বাঙ্গালী জাতি নব পর্যায়ে নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নের একটা সুযোগ লাভ করিয়াছে।’

    গভীরভাবে একটু চিন্তা করলেই বুঝাযাবে, পচাত্তরের থিংকট্যাংকের পরিকল্পনা কতটা সর্বগ্রাসী ছিলো। এর বিপরিত ধারা ছিলো খুবই সাধারণ। বাঘের হুকংকারে বিরীতে বিড়ালের মিউমিইর মতো! যদিও ২০০৮ সার থেকে এ ধারারার অনেক পরির্তন হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। এই ধারায় গতকাল শনিবার বরিশাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান আয়োজনে ১৫ আগস্টের প্রত্যদর্শীদের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করেন অনেকে। এ বিশ্বাসের সঙ্গে আমি একমত।

    লেখাটি শেষ করার আগে, আমার একধরণের অতৃপ্তির কথা উল্লেখ করতে চাই। তা হচ্ছে, জীবিকার প্রয়োজনে আমাকে শুক্রবার রাতে বরিশাল ছেড়ে ঢাকা আসতে হয়েছে। যে কারণে কেবল বরিশাল নয়, বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হতে পারলাম না, অল্পের জন্য। দৈনিক দখিনের সময়-এর প্রকাশক, সম্পর্কে আমার বড় ভাই, খন্দকার রফিকুল ইসলাম কি ভেবেই যেনো শুক্রবারে পরির্তে শনিবার ঢাকার পথ ধরতে বলেছিলেন। এ কথা তিনি একাধিকবার বলেছেন। কিন্তু জীবিকা প্রশ্নে ঝুকি নেইনি। তখন অমি শনিবারের আয়োজন সম্পর্কে জানতাম না। এই অজ্ঞতার কারণে পেশাগত এবং ব্যক্তিগত অনুভূতি ও বিশ্বাস প্রশ্নে অপুরনীয় ক্ষতি হলো অমার। নিশ্চিভাবে বলতে পারি, সাংবাদিকতা জীবনে এর চেয়ে বড় মিস আমার আর ঘটেনি, এখন পর্যন্ত। উল্লেখিত ইভেন্ট সম্পর্কে জানলে নিশ্চয়ই আমি জীবিকার চাপ উপেক্ষা করতাম। শুক্রবার ঢাকা আসতাম না। ইভেনটি কাভার কলে শনিবার রাতে ঢাকা যাত্রা করতে পারতাম। উল্লেখ্য, চাপ উপেক্ষা করার এক ধরণের ইনবিল্ড প্রবনতা আমার আছে।

  • সেই ডিসির বিরুদ্ধে এবার ভিক্ষুকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    সেই ডিসির বিরুদ্ধে এবার ভিক্ষুকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

    অনলাইন ডেস্ক :

    জামালপুরে ভিক্ষুকমুক্ত কর্মসূচির ঘোষণা পুরোটাই ভেস্তে গেছে।এই কর্মসূচির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে নারী কেলেঙ্কারিতে আলোচিত সদ্য ওএসডি হওয়া সেই ডিসি আহমেদ কবীরের বিরুদ্ধে। অনিয়ম-দুর্নীতি দুদককে খতিয়ে দেখে আহমেদ কবীরকে বিচারের মুখোমুখি করতে দাবি জানিয়েছেন জামালপুরবাসী।

    শনিবার (৩১ আগস্ট) চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমুহের অগ্রগতি নিয়ে জামালপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদ এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    তিনি বলেন, ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হলেও প্রকৃতপক্ষে ভিক্ষুকমুক্ত হয়নি জামালপুর। সেই আগের অবস্থায় রয়েছে ভিক্ষুকের চিত্র। আমি জামালপুর আসলে পথে-ঘাটে, অফিস-আদালতে এখনো ভিক্ষুকদের আনাগোনা চোখে পড়ে।

    সত্যিকার অর্থে জামালপুরকে ভিক্ষুকমুক্ত করার জন্য নবাগত জেলা প্রশাসক এনামুল হককে তাগিদ দেন তিনি।

    জানা গেছে, ২০১৮ সালে ভিক্ষুকমুক্ত জামালপুর গড়ার কর্মসূচি হাতে নেয় জেলা প্রশাসন। কর্মসূচি সফলে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ৫০ লাখ, জেলার সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একদিনের বেতন থেকে ৫০ লাখসহ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ অনুদান নেয়া হয়। অনুদানের টাকায় শুরু হয় ভিক্ষুকমুক্ত জামালপুর কর্মসূচি। সারা জেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ভিক্ষুকের তালিকা করা হয়। তালিকায় প্রকৃত ভিক্ষুকদের নাম উঠেনি বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিছু ভিক্ষুককে ভ্যানগাড়ি, ছাগল ও নগদ অর্থ দেয়া হলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

    জামালপুরের একাধিক ভিক্ষুক জানান, জেলা প্রশাসন থেকে কোনও অনুদান পায়নি তারা। তালিকা করতে তাদের কাছে কেউ আসেনি। তারা বলেন, ‘অনুদানও পেলাম না অথচ দোকানপাট বাসাবাড়িতে ভিক্ষা করতে গেলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিচ্ছে। ভিক্ষা করতে গেলে বলে ডিসি ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করেছে, তোমরা ভিক্ষা করতে এসেছো কেন? রাস্তায় বের হলেও পুলিশেও ধরে।’

    জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রাজু আহমেদ বলেন, ভিক্ষুকমুক্ত জামালপুর কর্মসূচি সমাজসেবা থেকে করা হয়নি। সাবেক ডিসি আহমেদ কবির নিজে এ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। এই অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে আমাদের সম্পৃক্ততা নেই।

    জামালপুরের নবাগত জেলা প্রশাসক মো. এনামুল হক চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমুহের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা সভায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভের কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

    অনিয়ম-দুর্নীতি হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

  • যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ‌‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

    যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ‌‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

    অনলাইন ডেস্ক : কক্সবাজারের টেকনাফে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদ (৩৪) পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। আজ রোববার ভোরে তাকে নিয়ে উপজেলার হ্নীলা জাদিমুরা ২৭নং ক্যাম্পের পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে গেলে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, নুর চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তিনি নুর আলম নাম নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রও নিয়েছিলেন।

    নিহত রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদ প্রকাশ নুর আলম মিয়ানমারের আকিয়াব এলাকার কালা মিয়ার ছেলে। তিনি বর্তমানে টেকনাফের ২৭ নম্বর শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, গতকাল শনিবার ভোরে সহযোগীসহ আটক হন রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার নুর মোহাম্মদ। সারা দিন তাকে নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আজ রোববার ভোরে টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) এবিএমএস দোহার নেতৃত্বে পুলিশ নুর মোহাম্মদকে নিয়ে উপজেলার হ্নীলা জাদিমোরা ২৭নং ক্যাম্পের পাহাড়ি জনপদের বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র ভান্ডার উদ্ধার অভিযানে যায়।

    এসময় রোহিঙ্গা উগ্রপন্থী সংগঠন এবং মাদক কারবারী সিন্ডিকেটের সশস্ত্র সদস্যরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে নুর মোহাম্মদকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে ওসি (তদন্ত) এবিএমএস দোহা (৩৬), কনস্টেবল আশেদুল (২১) ও অন্তর চৌধুরী (২১) আহত হন। পরে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী ৪০-৫০ রাউন্ড পাল্টা গুলিবর্ষণ করার পর হামলাকারীরা গভীর পাহাড়ের দিকে চলে যায়।

    সন্ত্রাসীরা পিছু হটলে সেখান থেকে নুরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে টেকনাফ হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছে। তারা হলেন, থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) এবিএমএস দোহা (৩৬), কনস্টেবল আশেদুল (২১), অন্তর চৌধুরী (২১) আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে চারটি এলজি, একটি থ্রি কোয়াটার, ১৮ রাউন্ড গুলি, ২০ রাউন্ড খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

    টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শংকর চন্দ্র দেব নাথ বলেন, রোববার সকালে পুলিশ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ এক রোহিঙ্গাকে নিয়ে আসেন। তার বুকে ও পেটে ছয়টি গুলির চিহ্ন রয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

    নিহতের বিরুদ্ধে থানায় মাদক ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। নুর মোহাম্মদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান প্রদীপ কুমার দাশ।

    উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাত পৌনে ১১টার দিকে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে তার বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে রোহিঙ্গা ডাকাতরা। ওই মামলার প্রধান আসামি ছিলেন নুর মোহাম্মদ।

  • ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ কমাতে পারে পুলিশের অপরাধ

    ‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি’ কমাতে পারে পুলিশের অপরাধ

    অনলাইন ডেস্ক :

    ১৮ বছর থেকে পুলিশে নিয়োজিত কনস্টেবল সোহেল। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে কর্মরত সোহেল গত ১৬ আগস্ট এক সহকারী কমিশনারের (এসি) অফিসের ড্রয়ারের তালা ভেঙে অভিযানে জব্দ করা পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা চুরি করেন। পরে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়।

    জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াবা চুরির বিষয়টি স্বীকারের পর তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় চুরি যাওয়া ইয়াবা। ওই ঘটনায় ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. শাহাবুদ্দিন খলিফা ইয়াবা চুরির অভিযোগে রমনা থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

    অন্যদিকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা করতে গেলে ঘুষ হিসেবে বাবা মোজাম্মেল হাওলাদারের কাছ থেকে কাফরুল থানার দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কুদ্দুস বেপারি চার হাজার টাকা নেন। পরে এক নারী মানবাধিকার নেত্রীর চাপে সে টাকা ফেরত দেয়া হয়। তাদের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

    গত ২১ মে’র ওই ঘটনা জানাজানির পর পুলিশ প্রথমে কাফরুল থানা থেকে উপ-পরিদর্শক আব্দুল কুদ্দুসকে প্রত্যাহার করে মিরপুর ডিসি কর্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। গঠিত তদন্ত কমিটি গত ১০ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্তে টাকা নেয়া ও অপেশাদার আচরণের প্রমাণ মেলায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয় তাকে।

    ওই দুই ঘটনা পুলিশ সদস্যদের অপরাধের খণ্ডচিত্র হলেও প্রায় প্রতিদিনই নানা অভিযোগ উঠছে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে পুলিশ এবার যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও মনিটরিংয়ে স্বচ্ছতার সাথে ১০৩ টাকায় কনস্টেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। কিন্তু এ নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের কারণে ১০০ জনকে বদলি ও স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। এছাড়া টাঙ্গাইলের এক পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অপরাধে জড়ানো, দুর্নীতি ও অপেশাদার আচরণ বন্ধ করা সম্ভব না হলেও পুলিশ সদর দফতর বলছে, অভিযোগ ওঠার পর প্রমাণের ভিত্তিতে শাস্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

    দুর্নীতি কিংবা অপরাধে জড়ালে এবং অপেশাদার আচরণের বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দফতর কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও মাঠ পুলিশের দৃশ্য উল্টো। গরু ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাই, মাদক বহন ও ব্যবসা, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ছাড়াও রয়েছে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ।

    পুলিশ সদর দফতর বলছে, আইনানুগ ব্যবস্থার পাশাপাশি অপরাধ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে। বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত কাউন্সেলিং করা হচ্ছে। শাস্তির কারণে আগের তুলনায় সদস্যদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা কমছে বলেও দাবি পুলিশ সদরের।

    গত ১৮ আগস্ট নানা অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ ফকিরাখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ছানোয়ার ও কনস্টেবল রাশেদকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

    ১৬ জুলাই দুদক পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা ঢাকার এক নম্বর সংবলিত জেলা কার্যালয়ে ডিআইজি মিজানুর রহমান ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ ওঠার পর দুই প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ডিআইজি মিজান এখন কারাগারে।

    ১২ জুলাই এক নারীকে (৪২) থানায় ডেকে এনে এবং পরে হাসপাতালে গিয়ে মারধরের অভিযোগে বগুড়ার ধুনট থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাহানুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ।

    নারী নির্যাতনের অভিযোগে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার হওয়া ডিআইজি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠে। গত ২৪ জুন তিন কোটি সাত লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং তিন কোটি ২৮ লাখ টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ডিআইজি মিজান, তার স্ত্রী, ভাই ও ভাগনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।

    ওই তদন্ত করতে গিয়ে দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন বলে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান। ওই ঘটনায় ঘুষ দেয়া ও গ্রহণে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে দুজনকে বরখাস্ত করা হয়।

    গত ১৩ জুন সোহান বাবু আদর (৩২) নামে এক যুবককে বগুড়া সদর থানা হেফাজতে ঝুলিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানির পর বগুড়া সদর থানার চার পুলিশ সদস্যকে ১৫ জুন বরখাস্ত করা হয়।

    গত ২৪ মে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে জুয়া খেলার কারণে পুলিশি নির্যাতনে আব্দুল হাকিম (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় গোপালপুর থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়।

    সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় ‘নুসরাতের পরিবারকে অসহযোগিতার অভিযোগে’ প্রথমে প্রত্যাহার এবং পরে বরখাস্ত করা হয় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে দায়ের করা এক মামলায় তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

    ওই ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়ী চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। ফেনীর এসপি এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে গত ১২ মে ফেনী থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।

    বিভিন্ন সড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগে গত ১০ মে শরীয়তপুর ট্রাফিক পুলিশের উপ-পরিদর্শক (টিএসআই) গোলাম মোস্তফা, সহকারী টিএসআই আব্দুল কুদ্দুস ও কনস্টেবল সুব্রতকে বরখাস্ত করা হয়।

    গত ২৮ এপ্রিল রামগোপালপুর বাজারে মোবাইল রিচার্জ ব্যবসায়ী খোকন মিয়াকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করায় এসআই আব্দুল আউয়ালসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

    সর্বশেষ ২৫ আগস্ট ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খানকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    ডিসি ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মিথ্যাচার, তদন্তে অসহযোগিতা এবং দায়িত্বে অবহেলা করেছেন। জানা যায়, স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত শহীদ এ কে এম সামসুল হক খানের পরিবারের নামে বরাদ্দ দেয়া পুরান ঢাকার নবাবপুরের একটি সরকারি জমি ২০১৮ সালে জবরদখল ও ভবন ভেঙে ফেলে সন্ত্রাসীরা। এ বিষয়ে বংশাল থানা ও জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে পরিবারটি।

    জমি ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও আবেদন করেন তারা। তাদের সম্পত্তির দাম ছিল প্রায় ২০ কোটি টাকা। স্থানীয় শেখ জাবেদ উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন ওই জমি আর বাড়ি দখলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। এ ব্যাপারে থানায় একাধিকবার জিডিও করা হয়েছে।

    গত বছর ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাবেদ উদ্দিনের লোকজন জমি দখল করে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ওই ঘটনার পরদিনই তারা এ বিষয়ে বংশাল থানায় মামলা করেন। কিন্তু থানা পুলিশ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পুলিশের আইজি ও লালবাগ জোনের তৎকালীন ডিসি ইব্রাহিম খানের সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করেন। এতেও কোনো কাজ হয়নি। ওই ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরে ডিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে পরিবারটি।

    অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি করে পুলিশ সদর দফতর। তদন্ত কমিটি ডিসি ইব্রাহিম খানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, তদন্তে অসহযোগিতা ও দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ পায়। তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চলতি বছরের ২৩ মে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট -১) আমিনুল ইসলাম তাকে একটি চিঠি দিয়ে এসব অপরাধের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চান। ডিসি ইব্রাহিমকে ১০ কার্যদিবস সময় দেয়া হয়। তার ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করে সদর দফতর।

    পুলিশ অ্যাক্ট- ১৮৬১ অনুযায়ী, কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়ালে তার বিরুদ্ধে দুই ধরনের বিভাগীয় শাস্তির বিধান রয়েছে। এর একটি লঘুদণ্ড, অন্যটি গুরুদণ্ড।

    পুলিশ সদর দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৭ সালে কনস্টেবল থেকে এসআই পর্যন্ত লঘুদণ্ড পান ১২ হাজার ৮৫৮ জন, গুরুদণ্ড দেয়া হয় ৫৬৩ জনকে। এছাড়া বাধ্যতামূলক অবসর সাতজনসহ বরখাস্ত করা হয় ৮২ জনকে। পুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার ৭৩ জনকে লঘুদণ্ড, গুরুদণ্ড ছয়জনকে এবং একজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এএসপি পদমর্যাদার একজনকে লঘুদণ্ড এবং দুজনকে গুরুদণ্ড দেয়া হয়।

    ২০১৮ সালে কনস্টেবল থেকে এসআই পর্যন্ত ১৩ হাজার ৬১৪ জনের বিরুদ্ধে লঘুদণ্ড, ৬০০ জনের বিরুদ্ধে গুরুদণ্ড এবং পাঁচজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোসহ মোট বরখাস্ত করা হয় ৭৪ জনকে। পুলিশ পরিদর্শক ১৪ জনকে লঘুদণ্ড এবং চারজনকে গুরুদণ্ড দেয়া হয়।

    পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা এ প্রসঙ্গে বলেন, পুলিশ সদস্যদের অপরাধপ্রবণতা রোধ বা কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় শাস্তির বিধান রয়েছে। অপরাধের ধরনভেদে বিভাগীয় শাস্তি হতে পারে- লঘুদণ্ড বা গুরুদণ্ড।

    তিনি বলেন, বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরা যেন অপরাধে জড়িয়ে না পড়েন সেজন্য প্রতিনিয়ত কাউন্সেলিং করা হয়। পুলিশের সকল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান যেমন- বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশসহ পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারসমূহে তাদের কাউন্সেলিং করা হয়। এছাড়া, প্রতিনিয়ত সকল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

    এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এমন কোনো অপরাধ নেই, যার সঙ্গে পুলিশের যুক্ত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার ঘটনা ঘটছে। হেফাজতে নির্যাতনসহ অন্যান্য নির্যাতনের ঘটনার অভিযোগ তো আরও পুরনো। বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে অপরাধে জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে যাতে করে অন্যরা অপরাধপ্রবণ না হয়। এক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, বিভাগীয় ব্যবস্থা, শাস্তি কিংবা কাউন্সেলিংসহ অন্যান্য শক্তিশালী উদ্যোগ জরুরি।

  • অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবাসহ শ্রমিকলীগ নেতা গ্রেফতার

    অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবাসহ শ্রমিকলীগ নেতা গ্রেফতার

    অনলাইন ডেস্ক :

    র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবাসহ জহির সর্দার নামে এক শ্রমিক লীগ নেতা গ্রেফতার হয়েছে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে। শনিবার (৩১ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে রায়পুর পৌরসভার পীর ফয়েজ উল্যাহ সড়ক থেকে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    এ সময় জহিরের কাছ থেকে একটি দেশীয় এলজি, এক রাউন্ড গুলি ও ১০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

    জহির রায়পুর পৌর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেনায়েতপুর এলাকার আবদুর করিম বেপারীর ছেলে।

    র‌্যাব-১১ এর লক্ষ্মীপুর ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক নরেশ চাকমা বলেন, জহির সর্দার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।