Category: প্রশাসন

  • রিফাত হত্যা: চার্জশিট দাখিল ২২শে আগস্ট

    রিফাত হত্যা: চার্জশিট দাখিল ২২শে আগস্ট

    বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় আজও চার্জশিট দিতে পারেনি পুলিশ। নতুন করে আগামী ২২ আগস্ট পুলিশের প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে গেপ্তারকৃত ১৪ জন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। যশোরের শিশু-কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে থাকায় রাতুল সিকদারকে আদালতে হাজির করা হয়নি।

    রিফাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গেপ্তার করেছে পুলিশ। আসামিরা হচ্ছেন: রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজী, চন্দন সরকার, রাব্বি আকন, হাসান, অলি, টিকটক হৃদয়, সাগর, কামরুল ইসলাম সাইমুন, আরিয়ান শ্রাবন, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, তানভীর, নাজমুল হাসান, রাতুল সিকদার ও আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। মামলার এজাহারভুক্ত ৫ নম্বর আসামি মুসা বন্ড, ৭ নম্বর আসামি মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, ৮ নম্বর আসামি রায়হান ও ১০ নম্বর আসামি রিফাত হাওলাদারকে এখনো পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড গত ২রা জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

    গত ২৬শে জুন, সকালে প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল নেওয়ার পর তিনি মারা যান। এ ঘটনায়, রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

    মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা থানার পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, প্রতিবেদন তৈরী করতে না পারায় আজ তিনি আদালতে দাখিল করতে পারেননি। তবে, পরবর্তী তারিখে তিনি প্রতিবেদন দাখিল করতে পারবেন বলে আশাবাদী।

    আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল বারী আসলাম জানিয়েছেন, গত ৩০শে জুলাই তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিলো। ওই তারিখে তিনি প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। আজকেও পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। তিনি জানিয়েছেন, রিফাত হত্যার সাথে জড়িত থাকা আসামিদের নাম উল্লেখ করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন করলে এবং বিচারক তা গ্রহন করলে সেটিই চার্জশিট হিসেবে গন্য হবে।

    মামলার প্রধান সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গত ১৬ই জুলাই রাতে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরের দিন তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। তার দুদিন পরে মিন্নিকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। গত ৩১শে জুলাই সেই স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের জন্য মিন্নি কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বরগুনার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে আবেদন করেন। বিচারক তার আবেদন গ্রহন করে নথিভূক্ত করেছেন।

    মিন্নিকে গ্রেপ্তারের পরে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেছিলেন, রিফাত হত্যার পরিকল্পনার সাথে মিন্নি জড়িত। পরবর্তীতে বলেছেন, হত্যাকারী অনেকের সঙ্গে মিন্নির আগে ও পরে কথা হয়েছে। তাই, হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে মিন্নির নাম চার্জশিটে যুক্ত হবে, এটা অনেকটা নিশ্চিত।

  • হাজতে নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ওসিসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

    হাজতে নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ওসিসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

    অনলাইন ডেস্ক ::

    থানা হাজতে এক নারীকে গণধর্ষণ ও মারধরের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে খুলনা জিআরপি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে শনিবার রাতে জিআরপি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং ০৩।

    রেলওয়ে পুলিশের কুষ্টিয়া সার্কেলের এএসপি ফিরোজ আহমেদ জানান, মামলায় ওসি উছমান গণি, ঘটনার রাতের ডিউটি অফিসার ও অজ্ঞাত তিনজন পুলিশ সদস্যকে আসামি করে ওই নারী মামলা করেছেন। খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে ২০১৩ সালের ‘হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু নিবারণ আইনে’ মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।

    গত ২ আগস্ট রাতে এক নারীকে জিআরপি থানার মধ্যে ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য গণধর্ষণ ও মারধর করে বলে ওই নারী আদালতে অভিযোগ করেন। ৩ আগস্ট আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং তার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে গত ৫ আগস্ট তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। তবে পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও তৈরি হয়নি।

  • কাশ্মীর নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিলেন র‌্যাব মহাপরিচালক

    কাশ্মীর নিয়ে যে সতর্কবার্তা দিলেন র‌্যাব মহাপরিচালক

    অনলাইন ডেস্ক :

    কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাদের নিজস্ব বিষয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। তবে দেশে আল্ট্রা ইসলামিস্টের সংখ্যা বেশি নয়। যারা রয়েছে তারাও ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে রয়েছে। আশা করবো ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয় কিংবা কাশ্মীর নিয়ে দেশে পানি ঘোলা করার চেষ্টা করবেন না। এরপরও যদি কেউ সে চেষ্টা করে তবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    শুক্রবার (৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে ঈদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

    র‌্যাব ডিজি বলেন, কাশ্মীর দেশের সমস্যা নয়, বিষয়ও নয়, সেটি নিয়ে দেশে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে, অযাচিতভাবে ঝামেলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    সম্প্রতি র‌্যাব-৭ এর সাবেক অধিনায়ক (সিও) হাসিনুর রহমানকে ডিবি পরিচয়ে পল্লবীর বাসা থেকে তুলে নেয়ার অভিযোগ করেছে পরিবার। পরিবারের পক্ষ থেকে এ অভিযোগে গত বুধবার রাত ১টায় পল্লবী থানায় জিডি করা হয়েছে। হাসিনুর এক সময় র‌্যাব-৫ ও র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক ছিলেন। তিনি বিজিবিতেও বেশকিছু দিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

    হাসিনুরকে খুঁজে বের করার বিষয়ে পদক্ষেপ জানতে চাইলে র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘অনেক মানুষকেই তো খুঁজে পাওয়া যায় না। খুঁজে না পাওয়াটা শুধু বাংলাদেশে নয়, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ইউরোপেও মানুষ নিখোঁজ হয়। একজনকে খুঁজে না পাওয়াটা কোনো বাহিনীর ব্যর্থতা নয়। আমাদের পক্ষ থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আমরা জ্ঞাত আছি। এ বিষয়ে কাজ করছি। যদি কারো কাছে কোনো তথ্য থাকে তাহলে জানালে আমরা ব্যবস্থা নিব।

  • মিন্নির পরকীয়ার বর্ণনা শুনে আদালতে মাথা নিচু করলেন বাবা ও শ্বশুর

    মিন্নির পরকীয়ার বর্ণনা শুনে আদালতে মাথা নিচু করলেন বাবা ও শ্বশুর

    নিউজ ডেস্ক :

    ‘আমাদের কাছে ভিডিও রয়েছে, অনেক কিছুই রয়েছে। আপনাকে আমি জানাচ্ছি। আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ছিলেন রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড। মিন্নির সঙ্গে নয়ন বন্ডের দীর্ঘ দিনের শারীরিক সম্পর্ক ছিল। স্বামীর পাশাপাশি প্রেমিক নয়নের সঙ্গেও শারীরিক সম্পর্ক রাখতেন। মিন্নি রিফাত শরীফের আগে নয়ন বন্ডকে বিয়ে করেছেন। মিন্নি সেই বিয়ের কথা গোপন রেখে রিফাতের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন। নয়ন বন্ড যখন জেলে থাকে তখন মিন্নি তথ্য গোপন করে রিফাতকে বিয়ে করেন। আমাদের কাছে সেই বিয়ের কাবিননামা আছে। এখানেই শেষ নয়, নয়ন বন্ড জেল থেকে মুক্তি পেলে একসঙ্গে দুই সম্পর্ক বজায় রাখেন মিন্নি। স্বামী রিফাতের পাশাপাশি নয়নের সঙ্গেও নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক করে গেছেন। কলেজে যাওয়ার নামে নয়নের বাসায় গিয়ে মেলামেশা করতেন। মিন্নি নিজেই তদন্ত কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়গুলো স্বীকার করেছেন। নিম্ন আদালতে মিন্নির রিমান্ড আবেদনে এ বিষয়গুলোর সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলেছে।’

    বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেফতার নিহতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিনের বিরোধীতা করে হাইকোর্টে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির। এই আইজীবী পরকীয়া বর্ণনা করার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মিন্নির শ্বশুর অর্থ্যাৎ রিফাত শরীফের বাবা আ. হালিম দুলাল শরীফ এবং মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর। আদালতে আইনজীবী মিন্নির পরকীয়ার বর্ণনা করার সময় মাথা নিচু করে তারা।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, দুইজনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখায় এক পর্যায়ে রিফাত ও নয়নের মধ্যে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। পরে মিন্নি ও নয়ন মিলে রিফাতকে হত্যার ছক কষে। মিন্নি রিফাতকে হত্যার উদ্দেশে কলেজে নিয়ে যান। এরপর তার সামনে রিফাতকে ধরে নিয়ে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে নয়ন ও তার সঙ্গীরা কোপাতে শুরু করলে মিন্নি বাঁচানোর অভিনয় করেন।

    বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চে বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) মিন্নির জামিন আবেদনের শুনানি হয়। এ সময় আদালতে আরও উপস্থিত ছিলেন- মিন্নির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্না ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী। বিকাল তিনটায় আদালত শুরু হলে প্রথমে জামিনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন মিন্নির আইনজীবী জেডআই খান পান্না। জামিনের বিরোধিতা করে যুক্তি উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির। এ সময় আদালত জানতে চান, আপনি কী বক্তব্য দিতে চান, আপনার কাছে কী রয়েছে? জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার আগে-পরে নয়নের সঙ্গে মিন্নির ফোনালাপের রেকর্ড আমাদের কাছে আছে। সেই রেকর্ডে বলা আছে, তারা রিফাত শরীফকে হত্যার ছক কষেছিলেন। মিন্নি ও নয়নের ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে আলাপের রেকর্ডও আমাদের হাতে আছে।

    এরপর আদালতে মিন্নির আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এমন ডকুমেন্ট ও ভিডিও চাইলেই তৈরি করা সম্ভব। এগুলো ভেরিফায়েড কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। এগুলো তো মামলার মেরিটের অংশ নয়। আপনাকে মূল জায়গায় আসতে হবে। এ সময় মিন্নি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মাঝে বাদানুবাদ হয়।

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন ফকির বলেন, আপনারা পত্রিকার সংবাদ উপস্থাপন করেছেন। তা কি মামলার নথি? প্লিজ, সাইড টক করবেন না। কোনো কিছু কি জোরপূর্বক আদায় করবেন?

    এ সময় আদালত বলেন, কেউ কোনো কিছুই জোরপূর্বক আদায় করতে পারবে না। ফেসবুকের আইডি সঠিক কি না, তার তো সার্টিফায়েড লাগবে।

    বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

    এ হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। পরে দ্বিতীয় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হত্যায় মিন্নির সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

    ২৭ জুন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা থানায় ১২ জনের নামে এবং চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই ভোরে পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়।

  • ওসি একাই ৩ বার আমাকে ধর্ষণ করেছেন, তারপর এসআই

    ওসি একাই ৩ বার আমাকে ধর্ষণ করেছেন, তারপর এসআই

    অনলাইন ডেস্ক :

    খুলনার জিআরপি থানায় আটকে গৃহবধূকে পরপর তিনবার ধর্ষণ করেছেন জিআরপি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গনি পাঠান। ধর্ষণের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করেন ওসি। ওসির পর গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন মুখে দাগওয়ালা ডিউটি অফিসার (এসআই)। এরপর বাকি তিনজন পুলিশ সদস্য গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। ওসির মতো তারা সবাই ধর্ষণের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করেছেন।

    থানায় পুলিশের হাতে থানায় গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর দায়ের করা মামলায় এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সেদিন রাতে থানায় যেভাবে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন তা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন গৃহবধূ। গণধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ হলে গৃহবধূর পরিবারের সদস্যদের একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দিয়েছেন ধর্ষকরা।

    এদিকে, গণধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পরও গৃহবধূর পরিবারের সদস্যদের একের পর এক হুমকি দিচ্ছে ধর্ষকরা। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত আসামিদের গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

    শুক্রবার রাতে (৯ আগস্ট) থানায় দায়ের হওয়া মামলায় গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ উল্লেখ করেছেন, আটকের পর ডিউটি অফিসারের সহায়তায় আমার ওপর ব্যাপক নির্যাতন করেন ওসি ওসমান গনি পাঠান। ঘটনার দিন রাত দেড়টার দিকে আমাকে অপর একটি কক্ষে নিয়ে যান ডিউটি অফিসার। ওসি ওই কক্ষে প্রবেশ করে ভেতর থেকে দরজা আটকে দেন।এরপর মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে পরপর তিনবার আমাকে ধর্ষণ করেন ওসি। ধর্ষণের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করেন ওসি। ওসির পর আমাকে ধর্ষণ করেন মুখে দাগওয়ালা ডিউটি অফিসার। এরপর বাকি তিনজন পুলিশ সদস্য আমাকে ধর্ষণ করেন। তারা সবাই ধর্ষণের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহার করেছেন।

    মামলার এজাহারে গৃহবধূ আরও উল্লেখ করেছেন, ধর্ষণের সময় আমাকে মারপিট করা হয়। পরদিন শনিবার পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ আমার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আদালত আমাকে কারাগারে পাঠায়। পরে আইনজীবীর মাধ্যমে রোববার আমাকে আদালতে আনা হয়। তখন আদালতে বিচারকের সামনে নেয়ার পর জিআরপি থানায় গণধর্ষণের বর্ণনা দেই আমি। আদালতের বিচারক বক্তব্য শুনে আমার ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেন। সোমবার দুপুরে আমার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এ বিষয়ে মামলা দায়ের করার জন্য আদালত থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়ার পর শুক্রবার আমার মামলা নেয় পুলিশ।

    এরই মধ্যে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনা তদন্তে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম গত সোমবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত কমিটি।

    ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে গঠন করে দেয়া তদন্ত কমিটির প্রধান এসপি সেহেলা পারভীন ওই থানার পুলিশ সদস্য ও ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ এবং তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এখনো কিছুই জানায়নি এ তদন্ত কমিটি।

    এর আগে এসপি সেহেলা পারভীন বলেছিলেন, গৃহবধূর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, তাকে কোথা থেকে কীভাবে আটক করা হয়েছিল, থানায় কি ঘটেছিল। সে বিষয়সহ আরও বেশকিছু বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে তার কাছে। ওই গৃহবধূ আমাদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তবে ওই গৃহবধূ কি বলেছেন তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন এসপি সেহেলা পারভীন।

    তবে এসপি সেহেলা পারভীন এও বলেছিলেন, ওই দিন রাতে থানায় যাদের ডিউটি ছিল তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে ব্রিফ করা হবে। তখন বিষয়টি জানতে পারবে সবাই।

    এর আগে গত রোববার খুলনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামানের আদালতে দাঁড়িয়ে থানার ভেতরে আটকে পাঁচ পুলিশের গণধর্ষণের বর্ণনা দেন ওই গৃহবধূ। জিআরপি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমান গনি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য থানায় আটকে তাকে ধর্ষণ করেছেন বলে বিচারককে জানান তিনি।

    তার বর্ণনা শুনে আদালতের বিচারক ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে রোববার রাতে তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলেও সময় স্বল্পতার কারণে তা হয়নি। ফলে সোমবার দুপুরে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।

    থানায় গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর বড় বোন বলেছেন, আমার বোনের শ্বশুরবাড়ি সিলেটে। আমার মা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি থাকায় দেখতে খুলনায় আসে বোন। বোন নিজে অসুস্থ থাকায় গত বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) যশোরে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিল। ২ আগস্ট (শুক্রবার) যশোর থেকে আসার সময় ফুলতলা এলাকায় জিআরপি পুলিশ প্রথমে তাকে মোবাইল চুরির অপরাধে থানায় ধরে নিয়ে যায়।

    শুক্রবার বিকেলে জিআরপি পুলিশ প্রথমে বলেছে আমার বোন মোবাইল চুরি করে ধরা পড়েছে। পরে জানায় তাকে ছাড়াতে এক লাখ টাকা লাগবে। টাকা না দিলে কি করে আদায় করা যায় তা নাকি পুলিশ জানে। পরে টাকা না দিয়ে থানা থেকে চলে আসি আমরা। আমরা থানা থেকে বের হয়ে আসার পর ওই দিন রাতে থানা হাজতে আমার বোনকে বিবস্ত্র করে ওড়না দিয়ে হাত-মুখ বেঁধে ফেলা হয়। এরপর ওসি ওসমান গনির নেতৃত্বে আরও চার পুলিশ আমার বোনকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় তাকে মারপিটও করা হয়। পরদিন শনিবার পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ আমার বোনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।

  • ঝিনাইদহে স্ত্রী সন্তানের স্বীকৃতি দিয়ে অবশেষে কারামুক্ত হলেন আলোচিত ইসলাম মৃধা

    ঝিনাইদহে স্ত্রী সন্তানের স্বীকৃতি দিয়ে অবশেষে কারামুক্ত হলেন আলোচিত ইসলাম মৃধা

    ঝিনাইদহ প্রতিনিধি//জান্নাতুল ফেরদৌস:

    স্ত্রী ও সন্তানের স্বীকৃতি দিয়ে ১৪ বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেলেন ঝিনাইদহর আলোচিত মোহাম্মদ ইসলাম মৃধা। স্ত্রী ও ছেলেকে স্বীকৃতি না দেয়ায় তার যাবজ্জীবন সাজা হয়। ইসলাম মৃধা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ মৃধার ছেলে। শুক্রবার দুপুরে ইসলাম মৃধা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। এসময় কারাফটকে উপস্থিত ছিলেন তার পিতা, দুই বোন ও এক ভাই। তবে পিতার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা ইসলামের ছেলে মিলন ও স্ত্রী মালা উপস্থিত ছিলেন না। ইসলাম মৃধার মুক্তির সময় তার স্ত্রী মালা এবং মিলন উপস্থিত থাকবেন এমনটা আশা করেছিলেন কারাকর্তৃপক্ষ এবং মিডিয়াকর্মীরা। ইসমাইলের পিতা আব্দুল আজিজ বলেন, মিলন ও তার মা ঢাকায় থাকায় তারা আসতে পারেনি। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু তালেব বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে ১৪ বছর ৬ মাস ২৯দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেলেন ইসলাম মৃধা। তার সাজা হয়েছিল ৩০ বছরের। সন্তান ও স্ত্রীকে মেনে নেয়ার শর্ত সাপেক্ষে আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন। এর আগে যশোর কারাগারে গত ৩১ জুলাই তাদের ফের বিয়ে দেয়া হয়। এরপর ঝিনাইদহ কারাগারে ইসলামের জামিন আদেশ পৌঁছুলে সেখান থেকে যশোর কারাগারে পাঠানো হয়। সে অনুযায়ী শুক্রবার তাকে মুক্তি দেয়া হল। ছেলেকে নিতে কারাফটকে আসা ইসলামের পিতা আব্দুল আজিজ মৃধা অশ্রুনয়নে বলেন, ছেলেকে মুক্ত করতে পেরে তিনি অনেক খুশি। ইসলামের ছেলেকে তারা অনেক আগেই মেনে নিয়েছেন। তিনি পুত্রবধূ মালার পরিবারকে দায়ি করে বলেন, তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এত কিছু হতো না। মিলন তার পিতাকে কেন নিতে আসেনি জানতে চাইলে আজিজ বলেন, সে তার মায়ের সাথে ঢাকায় রয়েছে। তারা ঢাকা থেকে বাড়িতে আসবে। জামিনে কারামুক্ত ইসলাম বলেন, তিনি খুব খুশি। সন্তান পরিবারসহ তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চান। কারাগার থেকে বের হয়ে ইসলাম তার পিতা ও ভাই-বোনদের সাথে যশোর থেকে বাড়ি ঝিনাইদহের উদ্দেশে রওনা হন। ২০০০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ইসলাম মৃধা প্রেম করে একই গ্রামের মালাকে বিয়ে করে। এরপর মালা অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়লে ইসলাম তাকে অস্বীকৃতি জানায়। সন্তানের পিতৃপরিচয় দাবি নিয়ে মালা ইসলামের বাড়ি গেলে তাকে বের করে দেয়া হয়। ২০০১ সালের ২১ জানুয়ারি স্বাভাবিক নিয়মে মালার পুত্রসন্তান প্রসব করে। নাম রাখেন মিলন। মিলন ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মালার পিতা ইসলামের বিরুদ্ধে ২০০১ সালে ধর্ষণের একটি মামলা করেন ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে। আদালতের নির্দেশে পুলিশ ইসলামকে আটক করে। কিন্তু ইসলাম আদালতেও মালা ও তার সন্তানকে অস্বীকার করেন। এসময় মালার আবেদনের প্রেক্ষিতে পুত্র মিলনের ডিএনএ টেস্ট করা হলে তার পিতৃপরিচয় নিশ্চিত হয়। আদালত ওই মামলায় ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদন্ডদেশ দেয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে ইসলাম আপিল করলে রায় বহাল রাখেন উচ্চ আদালত। উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করলে সেখানেও ইসলামের সাজার রায় বহাল থাকে। পরে আপিল রিভিউ আবেদন করেন যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত ইসলাম। ইসলামের করা রিভিউ শুনানিতে আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে মালা ও মিলনের স্বীকৃতির বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি তখন বলেন, বর্তমানে ইসলাম মালাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে চায়। মিলনকে সন্তানের স্বীকৃতি দিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে সে নিজ বাড়িতে তুলে নিতে চায়। ইসলামের আইনজীবীর এই বক্তব্য শোনার পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এক আদেশে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষকে কারাভ্যন্তরে ইসলাম ও মালার আবারও বিয়ে পড়ানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলারকে আগামী ২৯ আগস্ট এ বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু তালেব বলেন, আদালতের নির্দেশে জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে ৩১ জুলাই কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত সুপার, দু’পক্ষের আত্মীয়স্বজন ও তাদের ছেলে মিলনের উপস্থিতিতে ইসলাম ও মালার বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের কাবিন উচ্চ আদালতে জমা দেয়ার পর তার জামিন আবেদন মঞ্জুর হয়।

  • তল্লাশির পর জাতীয় ঈদগাহে ঢুকবে জায়নামাজ-ছাতা

    তল্লাশির পর জাতীয় ঈদগাহে ঢুকবে জায়নামাজ-ছাতা

    অনলাইন ডেস্ক :

    পবিত্র ঈদুল আজহার জামাতে আগত মুসল্লিরা জায়নামাজ ও বৃষ্টি হলে ছাতা সঙ্গে নিয়ে ঈদগাহে আসতে পারবেন। এর বাইরে কোনো কিছু সঙ্গে নিয়ে আসা যাবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ মুসল্লিদের জায়নামাজ ও ছাতা তল্লাশির পর সেগুলো নিয়ে ঈদগাহে প্রবেশের অনুমতি দেবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

    শনিবার জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে তিনি একথা বলেন।

    ডিএমপি কমিশনার বলেন, জামাতে দাহ্য পদার্থ থেকে শুরু করে ব্যাগ, ছুরি, দিয়াশলাই নিয়ে আসা যাবে না।

    তিনি বলেন, ঈদের জামাতের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ ময়দান। ঈদ জামাতকে ঘিরে জাতীয় ঈদগাহ ও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ৫ স্তুরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ডিএমপি। এর মধ্যে পোশাকধারী পুলিশ, সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ, সোয়াট, সিটিটিসি, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ওয়াচ-টাওয়ার, আর্চওয়ে ও সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে। এর মধ্য দিয়েই মুসল্লিদের ঈদ জামাতে প্রবেশ করতে হবে।

    ঈদ জামাতে প্রবেশে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে আব্দুল গণি রোড, দোয়েল চত্বর, মৎস্যভবন মোড়সহ কয়েকটি বেরিকেড থাকবে। এসব রাস্তা দিয়ে ঈদগাহের দিকে পায়ে হেঁটে আসতে হবে। এই বেরিকেডের ভেতর ভিভিআইপি ছাড়া কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারবে না বলে জানান কমিশনার।

    এর আগে তিনি পুলিশের স্পেশাল ওয়েপুন অ্যাড ট্যাকটিক্স-সোয়াট এবং কে-নাইন (ডগ স্কোয়াড) দলের নিরাপত্তা মহড়া দেখেন। গোটা ঈদগাহ এলাকা ঘুরে দেখেন।

    তিনি বলেন, সড়কে তল্লাশির পরও ঈদগাহের মেইন গেটে ঢুকার আছে মুসল্লিদের দৈবচয়নের ভিত্তিতে তল্লাশি করা হতে পারে। গোটা এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে এসব ক্যামেরার ফুটেজ রিয়েল টাইম নজরদারি করা হবে।

  • বরিশাল কারাগারে ঈদেও মুক্তি পাচ্ছেন না ৮১ কয়েদী

    বরিশাল কারাগারে ঈদেও মুক্তি পাচ্ছেন না ৮১ কয়েদী

    বাকী সাজা মওকুফ না হওয়ার কারনে নিজ ঘরে ফিরতে পারছেন না বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের ৮১ জন বন্দি। নানা অপরাধে তাদের সাজা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলেও তাদের মুক্তির বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। কারও দুই বছর আবার কারও ছয় মাস আগে বাকী সাজা মওকুফ করার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষিত হওয়ায় তাদের মুক্তি পেতে বিলম্ব হচ্ছে বলে অেিভাযোগ করেছেন এসব কয়েদীর পরিবার।

    বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বরিশাল,ভোলা,পটুয়াখালী,পিরোজপুর,ঝালকাঠী ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের সাজা মওকুফের অপেক্ষায় ৮১ জন বন্দী রয়েছেন। এর মধ্যে কিছুসংখ্যক নারী রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ৮১ বন্দির সাজা মওকুফের জন্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রলায়ে (সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ) চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, বরিশাল বিভাগের এক বাসিন্দা হত্যা মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে একটি আদালত তাকে সাজা দেন। ২০১৬ সালে তার বাকী সাজা মওকুফ না করার কারনে কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে ওই কয়েদীসহ ৮১ জন বন্দি রয়েছেন। যাদের বাকী সাজা আড়াই বছর থেকে ছয় মাস আগে মওকুফ করার কথা ছিল।

    জানা গেছে,বাংলাদেশ কারা বিধি ১ম খন্ডের ৫৬৯ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন তথা ৩০ বছর সাজাপ্রাপ্ত বন্দীদের রেয়াত সহ ২০ বছর পূর্তীতে ইতোপূর্বে (এ প্রক্রিয়ায়) বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ২০০৯ সালে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ ভূমিকা নেওয়ায় জেল কোড প্রক্রিয়ার গুরুত্ব শুরু হয়। ক্রমান্বয়ে ২০১০ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ওই ধারা অব্যাহত ছিল। ২০১২ সালে এ প্রক্রিয়ায় বন্দীদের মুক্তি দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০১৭ সালে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বাকী সাজা মওকুফ হওয়ায় একজন কয়েদী মুক্ত হন। জেল কোর্ড অনুযায়ী চলমান বন্দী মুক্তি প্রক্রিয়া প্রায় ৬ বছর যাবত বন্ধ হয়ে গেছে। ৫৬৯ ধারা অনুযায়ী মুক্তি না পাওয়ার কারনে কারাগারে বন্দীরা হতাশ জীবন-যাপন করছে। এসব বন্দীরা অনুতপ্ত জীবনের ২০টি বছর পরিবার-পরিজন থেকে অন্ধকার কারাগারে পড়ে রয়েছে। স্বজনদের দাবী বন্দীদের জীবনের শেষ সময়টুকু পরিবারের কাছে থেকে নিজ ভিটেমাটিতে মরতে চায়। আর কিছুদিন পরে পবিত্র কোরবানীর ঈদ। বাকী সাজা মওকুফ না হওয়ায় এবারও বন্দীরা কারাগারে ঈদ করবেন। এসব বন্দীদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ সরকার প্রধান ও “মানবতার জননী” শেখ হাসিনা বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে মূল্যায়ন করবেন।

    বরিশাল কারাগারের জেলার ইউনুস জামান বলেন, বরিশাল কারাগারে যেসব বন্দির বাকী সাজা মওকুফ করা হবে তাদের শনাক্ত করার জন্য কারা অধিদফতরের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র দপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছে। ২০১৭ সালে সর্বশেষ বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে একজন কয়েদী মুক্ত হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট দপ্তর তাদের বাকী সাজা মওকুফ করে প্রত্যয়নপত্র পাঠাবে না ততদিন পর্যন্ত তাদের কারাগারে থাকতে হবে।

    এ প্রসঙ্গে বরিশাল বিভাগীয় কারা উপমহাপরিদর্শক(ডিআইজি) মোঃ তৌহিদুল ইসলাম জানান, বন্দির বাকী সাজা মওকুফের জন্যে নিয়মানুযায়ী কারা অধিদফতরকে অবহিত করা হয়েছে। কারা অধিদফতর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে বিশেষ আলোচনা চলছে। ডিআইজি মোঃ তৌহিদুল ইসলাম জানান বন্দীদের মুক্তির পথ বন্ধ হয়নি,এখনও খোলা রয়েছে।

    তবে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব আহমেদ এর মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

    এ প্রসঙ্গে বরিশালের জেলা প্রশাসক এস.এম.অজিয়র রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সাজার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এক মুহুর্তও বন্দীরা কারাগারে থাকবে না।কিন্তু জেল কোড অনুযায়ী বাকী সাজা মওকুফ না হওয়ায় অনেকে কারাগারে রয়েছেন।

  • বরিশালে ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ৩

    বরিশালে ডিবি পুলিশের পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ৩

    নিউজ ডেস্ক :

    বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পৃথক অভিযানে ৩৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবাসায়ীকে আটক করা হয়েছে ।

    আটককৃতরা হল- বাকেরগঞ্জের মো: ইমদাদুল হক (২৯), আগৈলঝাড়ার মনমথ বেপারী (২৮) রাজির (২৫)

    আজ শনিবার সকালে কাউনিয়া স্ব-রোড ও এর আগে শুক্রবার রাতে নথুল্লাবাদ সুরভি পেট্রোল পাম্প এলাকা থেকে তাদের আটক করে।

    বরিশাল মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই দেলোয়যার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন এই দুই এলাকায় মাদক কেনা-বেচা চলছে। এ অবস্থায় দুইটি স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    পুলিশ জানায়, কাউনিয়া স্ব-রোড এলাকার সৈয়দ হাতেম আলীর বাড়ির সৈয়দ বাচ্চু মিয়অর বাসার নিচ থেকে ২৫২ পিস ইয়াবাসহ ইমদাদুলও মনমথকে আটক করা হয়। তারা উভয়েই সৈয়দ বাচ্চু মিয়ার বাসার ভাড়াটিয়া। আটককৃতদের ভাড়াটে ওই বাসায় অভিযান চালিয়েই ২৫২ পিস ইয়াবাসহ তাদের আটক করা হয়।

    অপরদিকে শুক্রবার রাত ৮টায় নথুল্লাবাদ সুরভি পেট্রোল পাম্প এলাকা থেকে রাজিবকে ৮৮ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

    আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

  • বরিশালে র‍্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

    বরিশালে র‍্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

    রাতুল হোসেন রায়হান:

    বরিশালে র‍্যাবের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক মাদক ব্যবসায়ি নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) ভোররাতে নগরীর কালিজিরা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত মালেক ফকির নগরীর কেডিসি এলাকার এন্তাজ ফকিরের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

    র‍্যাব জানায়, মাদক বেচাকেনা হচ্ছে এমন খবরে ভোর রাতে কালিজিরা এলাকায় অভিযানে যায় একটি দল। এসময় তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছোড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা। পাল্টা গুলি করলে পিছু হটে তারা।

    ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ সাইদুজ্জামান মালেক নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। পরে তাকে বরিশাল মেডিকেলে নিলে, চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পরে র‌্যাবের পক্ষ থেকে মাদক ব্যবসায়ী মালেক ফকিরের মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।