Category: প্রশাসন

  • ফেসবুকে গুজবের নিউজ শেয়ার করলে মামলা

    ফেসবুকে গুজবের নিউজ শেয়ার করলে মামলা

    ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেলে ধরা বা পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে এমন গুজবের নিউজ কেউ শেয়ার করলে তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) নগরের দুই নম্বর গেইট এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানান তিনি।

    পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা বলেন, পদ্মাসেতু প্রজেক্টে দায়িত্বরত একজন কর্মকর্তা সেতু নির্মাণে অতিরিক্ত লোকবল লাগবে এমন সাক্ষাতকার দিয়েছিলেন। সেটাকে বিকৃত করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে কয়েকজন ‘ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শী’ প্রবাসী ছেলে ধরা ও পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা ও রক্ত লাগবে এমন গুজব ছড়ায়।

    তিনি বলেন, যারা এসব গুজব ছড়িয়েছে তাদের সনাক্ত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    পুলিশ সুপার নুরেআলম মিনা বলেন, ছেলে ধরা গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনির ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। মোটা সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    তিনি বলেন, গুজব প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার, কমিউনিটি পুলিশিং সভা, স্কুল-মাদ্রাসায় প্রচার, এলাকায় মাইকিং ও মসজিদে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

    সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) একেএম এমরান ভূঁঞা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দৌলা রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আফরুজুল হক টুটুল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি), চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ উপস্থিত ছিলেন।

  • পুলিশি জবানবন্দি প্রত্যাহার চান মিন্নি

    পুলিশি জবানবন্দি প্রত্যাহার চান মিন্নি

    রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত তাঁর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি আদালতে যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সেটা প্রত্যাহার করতে চান। এ বিষয়ে আইনজীবীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে।

    গতকাল বুধবার বরগুনা জেলা কারাগারে আয়শা সিদ্দিকার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এই কথা বলেছেন মিন্নি আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম। তিনি জানান, মিন্নি বলেছেন, পুলিশ ‘জোরপূর্বক, শেখানো মতে’ তাঁর জবানবন্দি নিয়েছে।

    এদিকে বরগুনা প্রেসক্লাবে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, পুলিশ শুরু থেকেই একটি প্রভাবশালী মহলকে বাঁচাতে মিন্নিকে ফাঁসাচ্ছে। তবে এই প্রভাবশালী কারা, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। তবে এর আগে ২০ জুলাই তিনি বরগুনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‌‘এসব শম্ভু (সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু) বাবুর খেলা।’ এ ঘটনার তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান তিনি।

    গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে আহত করা হয়। একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মিন্নি রিফাতকে বাঁচানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল নেওয়ার পর রিফাত মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করনে। মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকাকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান সাক্ষী করা হয়। ঘটনার ১৯ দিন পর ১৩ জুলাই রিফাতের বাবা আবদুল হালিম সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার সঙ্গে আয়শা সিদ্দিকা জড়িত বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরদিন ১৪ জুলাই মিন্নি গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়, যেখানে সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।

    এই ঘটনার দুই দিনের মাথায় ১৬ জুলাই মিন্নিকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। দুই দিন রিমান্ডে থাকার পর তাঁকে আদালতে পাঠিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ানো হয়। পরে আয়শার বাবা মেয়ের সঙ্গে কারাগারে দেখা করে এসে বলেন, জোরজবরদস্তি করে পুলিশ আয়শাকে যা বলতে বলেছে, তা–ই তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন।

    রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত মিন্নিসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ ওরফে নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে তথাকথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। তবে মামলার এজাহারভুক্ত ১২ আসামির মধ্যে এখনো ৪ জন গ্রেপ্তার হননি।

    আয়শার সঙ্গে আইনজীবীর সাক্ষাৎ বুধবার (২৪জুলাই) বেলা সোয়া একটায় বরগুনা জেলা কারাগারে আয়শা সিদ্দিকার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তাঁর আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম ও সাইফুর রহমান। ১টা ৪০ মিনিটে বের হয়ে এসে প্রধান ফটকের সামনে মাহবুবুল বারী সাংবাদিকদের বলেন, মিন্নিকে কিছু আইনি পরামর্শ দেওয়ার জন্য তিনি গিয়েছিলেন। জেল সুপারের উপস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে ১০ মিনিটের মতো কথা হয়েছে। মিন্নি জানিয়েছেন, তাঁর শরীরের অবস্থা ভালো নয়।

    মাহবুবুল বারী বলেন, মিন্নি বলেছেন তাঁকে জোরপূর্বক শেখানোমতে পুলিশ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বলেছে। তিনি এটা প্রত্যাহার করতে আগ্রহী। তিনি তখন তাঁকে প্রত্যাহারের পদ্ধতির কী হবে, তা শিখিয়ে দিয়ে এসেছেন।

    রিফাত ও রিশান ফরাজী হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী বরগুনা প্রেসক্লাবে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন দাবি করেছেন, রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের আগে রিফাতের সঙ্গে বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী শামসুন্নাহারের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। শামসুন্নাহার তাঁর বোনের ছেলে রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজীর কাছে এ বিষয়ে নালিশ করেন। রিফাত ও রিশান ফরাজী তাঁকে মা বলে ডাকতেন। যেদিন হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল, সেদিন হত্যাকারীরা বলেছিল, ‘তুই আমার মাকে গালাগাল করেছিস। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বল।’

    মোজাম্মেল হোসেন বলেন, তাঁর ধারণা, এই ঘটনা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রিফাত-রিশানের আগ্রাসী ভূমিকার কারণ। মাকে গালাগাল করার প্রতিশোধ নিতে গিয়েই রিফাত ও রিশান ফরাজী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অগ্রভাগে ছিলেন।

    তবে দেলোয়ার হোসেন গতকাল পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছেন, তাঁর স্ত্রী শামসুন্নাহারের সঙ্গে রিফাতের এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। রিফাতের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীরও ব্যক্তিগত কোনো পরিচয় নেই।

  • ঢাকায় পুলিশ চেক পয়েন্টে বোমা: আইএসের দায় স্বীকার

    ঢাকায় পুলিশ চেক পয়েন্টে বোমা: আইএসের দায় স্বীকার

    রাজধানী ঢাকায় পুলিশের দুটি চেক পয়েন্টের সামনে বোমা পুঁতে রাখার ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইট ইন্টেলিজেন্স এক টুইট বার্তায় এই তথ্য জানিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে বিবিসি। আইএস দাবি করেছে যে ঢাকার দুটি পুলিশ চেক পয়েন্টে হামলার উদ্দেশ্যে এই বোমা দুটি স্থাপন করা হয়েছিল।

    তবে এ ঘটনায় আইএসের সম্পৃক্ততার তথ্যের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন পুলিশ। বিস্ফোরণের আগেই গত বুধবার রাতে খামারবাড়ি ও পল্টন এলাকা থেকে বোমা দুটি উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

    পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের উপকমিশনার মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন বলেন, এর পেছনে আইএস, জেএমবি বা কোনো সংঘবদ্ধ দল জড়িত কিনা- তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

    তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন কাউকেই চিহ্নিত করা যায়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। সানোয়ার হোসেন বলেন, “আগে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা কিছু ধরন দেখেই বলে দিতে পারতাম যে এটা কাদের কাজ হতে পারে। কিন্তু এবারের ঘটনাগুলো আইডেন্টিক্যাল না।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা বিভিন্ন তথ্য, সংগঠনগুলো কার্যক্রম সেগুলো অ্যানালাইসিস করছি। কিন্তু আমাদের হাতে আসা তথ্যের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা প্রশ্নে অনেক অসামঞ্জস্যতা আছে।”

    তিনি বলেন, “তাই আমরা পুরো বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই গণমাধ্যমকে সব জানাবো।” তার মতে, আইএস যে ধরনের বিস্ফোরক ডিভাইস ব্যবহার করত সেগুলোর ‘মেকানিক্যাল ফিচারে বেশ মিল থাকত। কিন্তু এবারে তেমনটা দেখা যায়নি।

    গত ২৪শে জুলাই রাত ১২টার দিকে খামারবাড়ি মোড়ের পুলিশ চেকপোস্টের কাছে থেকে এই বোমা সদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করা হয়। সেখানকার মেট্রোরেল কর্মীরা সন্দেহজনক এই বস্তুটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তুটি উদ্ধার করে।

    এর আগে রাত ১১টার দিকে ঢাকার পল্টন মোড় এলাকার ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছ থেকে আরেকটি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়। একটি বাদামি কার্টনে বোমাটি ঢাকা অবস্থায় ছিল। পরে দুটি বোমারই ‘নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ’ ঘটান বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সদস্যরা।

    পুলিশের চেক পয়েন্টের বাইরে থেকে এই বোমা পুঁতে রাখার বিষয়ে আইএস দায় স্বীকার করেছে বলে সাইট ইন্টেলিজেন্সের টুইট বার্তায় দাবি করেছে।

  • গুজবের কবর রচিত করতে হবে -ডিআইজি শফিকুল

    গুজবের কবর রচিত করতে হবে -ডিআইজি শফিকুল

    বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম (বার) পিপিএম বলেছেন, গুজব সন্ত্রাসীদের নির্মূল করে সকল গুজবের কবর রচিত করতে হবে।

    বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটায় জেলার গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছেলে ধরা, গুজব ও গণপিটুনির বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক প্রচারণা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগে এটা একটি গুজব ও অলীক মিথ্যা কথা। এগুলো যারা সমাজে ছড়িয়ে দিচ্ছে তারা দেশের শত্রু। তাই গুজবকারীদের চিহ্নিত করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। এজন্য তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিজের সচেতনতার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন করে তোলার আহবান জানান।

    গৌরনদী থানা মডেল থানার আয়োজনে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিয়া আকবর আলীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম বিপিএম (বার)। এসময় গৌরনদী সার্কেল এএসপি আব্দুর রব হাওলাদার, গৌরনদী মডেল থানার ওসি গোলাম ছরোয়ার উপস্থিত ছিলেন।

    একইদিন মাহিলাড়া এ এন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে পৃথক সচেতনতামূলক প্রচারণা সভা করা হয়। শেষে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

  • ‘গুজব ছড়াবেন না, গুজবে কান দেবেন না’

    ‘গুজব ছড়াবেন না, গুজবে কান দেবেন না’

    ‘গুজব ছড়াবেন না, গুজবে কান দেবেন না, গুজবে বিভ্রান্ত হবে না’ স্লোগানে বরিশালে গণসচেতনতা সপ্তাহ-২০১৯ উদ্বোধন করা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) বিকেল ৫টায় নগরের অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে গণসচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধন করেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান।

    তিনি বলেন, আধুনিক যুগেও গুজবে বিশ্বাস করা কি সম্ভব? যে সেতু মানুষের কল্যাণে নির্মাণ করা হচ্ছে, সেখানে মানুষের জন্য অকল্যাণকর কিছু করতে হবে, সেটা আমরা বিশ্বাস করতে পারি না, সম্ভবও না। বরিশালের মানুষ গুজবে বিশ্বাস করে না। কেউ গুজবে কান দেবেন না, বিভ্রান্ত হবেন না।

    এসময় গণসচেতনতা সপ্তাহজুড়ে পুলিশের কর্মসূচি তুলে ধরে বিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা গুজবের মতো খারাপ কাজ প্রতিহত করতে চাই। জনগণ, পুলিশ প্রশাসন, সরকার- সবাই গুজবের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে।

    প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে গণসচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি নগরের প্রধান প্রধান সড়ক হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিরা।

  • বরিশালে হাত পা বেঁধে পুলিশের বাড়ীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি!

    বরিশালে হাত পা বেঁধে পুলিশের বাড়ীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি!

    বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শিকারপুরে পুলিশ সদস্য’র বাড়ীতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘঠিত হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের হাত, পা বেঁধে হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ, স্বর্নালংকারসহ ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে নিয়ে যায় ডাকাত চক্র।

    ভূক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) রাত আনুমানিক দেড় টায় উপজেলার দক্ষিণ শিকারপুর গ্রামের ঝালকাঠীতে কর্মরত পুলিশ সদস্য আঃ ছালাম খাঁনের ভবনের কেসিগেটসহ ৩টি দরজার লক তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে রুমে থাকা ৪ সদস্যকে বেধে অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে ২ টি স্বর্নের চেইন, ২ জোড়া কানের দুল, নগদ ৫ হাজার টাকাসহ ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে নিয়ে যায় ডাকাত চক্র।

    পরে পরিবারের সদস্য আরিফ খাঁন(২৬), সিয়াম(১২), ফুল বানু(৭০) ডাকচিৎকার করলে তাদেরকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত যখম করে। এসময় ডাক চিৎকার শুনে পার্শ্ববতী বাড়ীর মহিউদ্দিন খাঁন(৪২) ছুটে আসলে ডাকাতরা তাকে কুপিয়ে যখম করে। এতে তার মাথায় গুরুতর যখম হয়। এছাড়াও একই গ্রামের মৃত বিনয় ভূষন চক্রবর্তীর ছেলে বিরাজ চক্রবর্তীর ভবনেও দরজা ভেঙ্গে ডাকাতির চেষ্টা চালায়। পরে থানা পুলিশকে অবহতি করলে তারা ঘটনাস্থল পৌছার পূর্বেই ডাকাতরা চলে যায়।

    এ ঘটনায় উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পাল ২৪ জুলাই সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

  • ‘বরিশালের মানুষ গুজবে কান দেয় না’ : বিএমপি কমিশনার

    ‘বরিশালের মানুষ গুজবে কান দেয় না’ : বিএমপি কমিশনার

    বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেছেন, গুজব ঢেউয়ের মতো মাঝে-মধ্যে আসে। জনগণকে সচেতন করা গেলে তা আর টিকতে পারবে না।

    বুধবার (২৪ জুলাই ) সন্ধ্যায় বিএমপি হেডকোয়ার্টারের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

    শাহাবুদ্দিন খান বলেন, চলমান গুজব নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে, যা আইন অনুযায়ী অপরাধ। আমাদের অঞ্চল অনেকটাই শান্তিপূর্ণ। বরিশালবাসী গুজবে কান না দেওয়ায় তেমন কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। গুজব নিয়ে এখানে যে কয়টা ঘটনা ঘটেছে, তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ নিয়ে বরিশালবাসী বাহবা পাওয়ার যোগ্য। অন্য অঞ্চলের থেকে আমাদের এখানে গুজবের বিষয়টা আগে ছড়ালেও, কেউ তা আমলে নেয়নি বলে গণপিটুনি কিংবা হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

    তিনি বলেন, আমরা এ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে বরিশালের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে খুব দ্রুত ক্রাশ প্রোগ্রাম করতে যাচ্ছি। সেখানে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা থাকবেন। যদিও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমাদের সচেতনতামূলক প্রচারণা কর্মসূচি আগে থেকেই চলছে।

    বিএমপি কমিশনার বলেন, নগরে গুজব নিয়ে বিভ্রান্তি না হওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে, লিফলেট বিতরণ হচ্ছে। পাশাপাশি, আগামী জুমার খুতবায় এ নিয়ে ইমাম সাহেবরা বয়ান দেবেন।

    তিনি বলেন, মানুষের কল্যাণে ব্রিজ করতে মানুষের ক্ষতি করতে হবে, এটা কেন বিশ্বাস করতে হবে? বরিশালের মানুষ গুজবে কান দেয় না। তারা শান্তির পক্ষে, বিভ্রান্তির বিপক্ষে থাকবে, এটাই কামনা করি।

  • রিফাত হত্যা : আরিয়ানের জামিন আবেদন নাকচ করল আদালত

    রিফাত হত্যা : আরিয়ানের জামিন আবেদন নাকচ করল আদালত

    অনলাইন ডেস্ক :

     বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার আরিয়ান শ্রাবণের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার সকাল ১০টার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইয়াসিন আরাফাত শ্রাবণের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

    এ বিষয়ে আরিয়ান শ্রাবণের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা কাদের বলেন, সকাল ১০টার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আরিয়ান শ্রাবণের জামিন শুনানি করেন তিনি। পরে শুনানি শেষে আদালতের বিচারক ইয়াসিন আরাফাত শ্রাবণের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

    এর আগে গত ৮ জুলাই আরিয়ান শ্রাবণকে রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে দুই দফার রিমান্ড শেষে গত গত ১৮ জুলাই রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আরিয়ান শ্রাবণ। পরে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজী তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই বরগুনা জেলা কারাগারে অবস্থান করছে আরিয়ান শ্রাবণ।

  • ‘মিন্নির পুরো শরীরে ব্যথা, রাতে ঘুমাতে পারে না’

    ‘মিন্নির পুরো শরীরে ব্যথা, রাতে ঘুমাতে পারে না’

    নিউজ ডেস্ক ::

    বরগুনার রিফাত হত্যাকাণ্ডের প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি বনে যাওয়া নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির সঙ্গে জেলহাজতে দেখা করেছেন তার আইনজীবী। বুধবার দুপুরে মিন্নির সঙ্গে দেখা করেন আইনজীবী মো. মাহবুবুল বারী আসলাম।

    এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন এ মামলার অপর আইনজীবী সাইফুর রহমান সোহাগ। বরগুনা জেলা কারাগারে মিন্নির সঙ্গে তারা ১০ মিনিটের মতো কথা বলেছেন বলে জানান আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম।

    জেলা কারাগার থেকে বের হয়ে মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, ‘মিন্নির খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি তাকে কিছু আইনি পরামর্শ দেয়ার জন্য মিন্নির সঙ্গে দেখা করতে জেলা কারাগারে যাই।’
    মিন্নির উদ্ধৃতি দিয়ে আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, ‘মিন্নির পুরো শরীরে ব্যথা আছে। মিন্নি রাতে ঘুমাতে পারে না। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত সে।’

    ‘মিন্নি রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে যে জবানবন্দি দিয়েছে তা পুলিশ শিখিয়ে দিয়েছে। সেই জবানবন্দি মিন্নি প্রত্যাহার করতে চাচ্ছে। তাই আমি মিন্নিকে এই স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদনের প্রক্রিয়া শিখিয়ে দিয়েছি।’

    মিন্নি জেলহাজতে থাকা অবস্থায় পড়াশোনা করতে চায় জানিয়ে আইনজীবী আরও বলেন, মিন্নির পড়াশোনার বিষয়ে আবেদন করা হলে জেলার আবেদন মঞ্জুর করবেন বলে জানিয়েছেন।

    মিন্নি একটু খুড়িয়ে হাঁটছে জানিয়ে আইনজীবী আরও বলেন, মিন্নির চিকিৎসার দরকার হলে কারা কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে বলে জেলার জানিয়েছেন।

    এর আগে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরসহ মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তার বক্তব্য রেকর্ড করতে বরগুনার পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ ও পুলিশের কৌশলী এবং বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে আটকে যান মিন্নি। বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ। এরপরই মিন্নিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

  • মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

    মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার যাবজ্জীবন

    অনলাইন ডেস্ক :

    গাজীপুরের টঙ্গীতে নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার মামলায় ধর্ষক বাবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে রায়ে মামলার আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

    দণ্ডপ্রাপ্ত মো. আইনাল মিয়া (৩৯) শরীয়তপুর জেলার গোসাইরহাট থানার কোদালপুর গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে। বুধবার সকালে গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ এ রায় দেন।

    গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি মো. শাহজাহান জানান, গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদ নগর তালতলা এলাকায় স্ত্রী ও তিন মেয়ে নিয়ে বসবাস করতেন আইনাল মিয়া। তার স্ত্রী বানু বেগম মারা যাওয়ার পর আইনাল দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বনিবনা না হওয়ায় দ্বিতীয় স্ত্রীও আইনালকে ছেড়ে চলে যান। এরই মধ্যে ২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল মধ্যরাতে আইনাল তার বড় মেয়েকে (১২) প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন।

    একইভাবে দিনের পর দিন ধর্ষণের ফলে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার সাড়ে ৫ মাস পর তার শারীরিক গঠন বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার লোকজনের চোখে পড়ে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর জিজ্ঞাসাবাদে ভিকটিম স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়।

    ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রতিবেশী রেখা বেগম বাদী হয়ে ধর্ষক বাবা আইনাল মিয়াকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গত ২০১৫ সালের ৩১ আগস্ট টঙ্গী থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় আইনাল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর আইনাল মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ২ মার্চ চার্জ গঠন করা হয়। ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী আদালতে জবানবন্দি প্রদান করে।

    ৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ বুধবার এ রায় দেন।এ সময় মামলার আসামি আইনাল মিয়া আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

    আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি মো. শাহজাহান এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী জাকির উদ্দিন মামলা পরিচালনা করেন।